ফোর ডাইমেনশন

ফোরডাইমেনশন নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

Four Dimension ডিজাইনার ব্যাগ ও টি-শার্ট বিক্রয়কারী একটি ফ্যাশন রিটেইলার। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও  মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, ২০০৭  সালে তার বন্ধুদের সাথে ডিজাইনার ব্যাগ ও টি-শার্ট বিক্রি করে তার ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেটা মোটেই ট্রেন্ডি ও সহজ কাজ ছিল না।

তাছাড়া, ব্যাগ বিক্রয় একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার ছিল কারণ বাজারে তখন চীনা ও স্থানীয় পণ্যগুলির প্রতিযোগিতার একটা চাপ ছিল। কিন্তু মিঃ রহমান বাজারে ভালো মানের ডিজাইনার ব্যাগের চাহিদা অনুভব করেন।

এই কনটেন্টটি স্পন্সরড করেছে আজকেরডিল

 মিঃ রহমান বলছিলেন...

"Four  Dimension ,  আমি যখন ২০০৭ সালে আমার দুই বন্ধুের সাথে শুরু করেছিলাম, তখনও আমি ফাইন আর্টস ছাত্র ছিলাম, এটি একটি ব্যক্তিগত গল্প। সেই দিনগুলোতে, আমি তরুণদের ফ্যাশন প্রবণতার একটি অনুরাগী অনুসারী ছিলাম। আমি বিশেষ করে ব্যাগের নকশাকে প্রাধান্য দিয়েছি, নানান ডিজাইনের ব্যাগ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি এবং সময়ের পরিসরে আমার সংগ্রহে প্রচুর ব্যাগের সংগ্রহ আছে, এটা আমার ব্যক্তিগত শখ। আর এই শখ থেকেই Four  Dimension এর যাত্রা শুরু।”

বর্তমানে সেই শখ থেকে উঠে আসা প্রতিষ্ঠান Four Dimension  তার একটি সমৃদ্ধ ব্যবসা। ঢাকাতে দুটি রিটেল স্টোর ছাড়াও, এটি তার পণ্য ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং আজকেরডিলের মত প্ল্যাটফর্মেও বিক্রি করে। এখানে ষ্টুডিও ম্যানুফ্যাকচারিং ফেসিলিটি আছে, যেখানে প্রায় ২৫ জনের উপরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে এবং দিনকে দিন এটা বেড়েই চলছে।

গত কয়েক বছরে, আকর্ষণীয় পণ্য এবং চমৎকার গ্রাহক সেবা প্রদানের মাধ্যমে, এটি গ্রাহকদের মনে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করে নিয়েছে । এই কোম্পানি  loyal community of customers তৈরী করে নিয়েছে, যেটা এর ব্যবসাকে দিন কে দিন আরো বেশি প্রসারিত ও স্বনামধন্য করে তুলছে।

আমরা সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছি, আজ তিনি যা, এবং যে কাজ করছেন সে সম্পর্কে,  তার প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা সম্পর্কে, Four Dimension  এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে  এবং স্ক্র্যাচ থেকে একটি ব্যবসা নির্মাণের বিষয়ে তার চিন্তাভাবনা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় এখানে আলোচনা হয়েছে। আবেগ, কঠোর পরিশ্রম এবং উৎসর্গীকরণের এই উজ্জ্বল কাহিনী আপনাদের সাথে  আজকারডিলের মাধ্যমে তুলে ধরছি।

স্পন্সরড বাই আজকেরডিল

 

সিরাজগঞ্জের ছেলে মো : মোস্তাফিজ , যেখানে তিনি তার প্রাথমিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করেছেন। এইচএসসির পরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউটে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেখানে স্নাতক ও সিরামিক পটভূমিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন।

আন্ডারগ্রাজুয়েট থাকাকালীন তিনি নকশা সম্পর্কিত কাজে জড়িত ছিলেন। ডিজাইনিং এর প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল বরাবরই, যা তাকে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা করতে সাহায্য করে থাকে পরবর্তীতে। চারটি মাত্রা নেভিগেশন কাজ করার সময়, নিয়মিত পাশাপাশি নকশা প্রকল্পে কাজ করেছেন। Four Dimension  ছাড়াও তিনি গ্রাফিক ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র ডিজানের সাথে সম্পৃক্ত আছেন।

স্বাভাবিক ভাবে, আমরা দেখি না যে আমাদের সমাজে ছেলেরা সেই অর্থে ফ্যাশন সচেতন । আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে প্রকৃতপক্ষে, ফ্যাশন শব্দটা যেন এক তরফ মেয়েদের মালিকানাধীন। তিনি মনে করেন, নান্দনিক টি শার্ট পরে আর একটি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছেলেরাও ফ্যাশন  সচেতন হয়ে তাদের নান্দনিক অভিব্যক্তি সকলের সামনে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

Four Dimension  এর যাত্রা শুরু হয়েছিল দুটো পণ্য দিয়ে : টি-শার্ট এবং ব্যাগ। ২০০৭ সালে আজিজ সুপার মার্কেটের একটি ছোট্ট কর্নারের দোকান ভাড়া করে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। তখন পর্যন্ত আজিজ সুপার প্রধানত একটি বইয়ের বাজার। বিল্ডিংটি তখন অব্দি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হয়নি। ব্র্যান্ডেড দোকান সংখ্যা মুষ্টিমেয় ছিল। ভাড়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের ছিল। তখন মোস্তাফিজ নিশ্চিত হয় যে তারা এই ব্যবসাটি তাহলে শুরু করতেই পারে। বাঙালির ট্রাডিশনাল উৎসবকে কেন্দ্র করেই মূলত তারা টি শার্টের ডিজাইন করতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এটি সহজ কাজ ছিল না। ব্যাগের চেয়ে টি শার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং করা তাদের জন্য বেশি সহজ ছিল। ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস ভীষণ কঠিন ব্যাপার হয়ে উঠেছিল তাদের জন্য। এর দক্ষ কারিগর ও ম্যাটেরিয়ালস প্রয়োজন ছিল। ২০০৭ তাদের জন্য সব মিলে একটা কঠিন সময় ছিল।

যেহেতু তাদের লক্ষ্য ছিল গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য তারা সুলভ মূল্যে ক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে, তাই ব্যাগ ও টি শার্টই ছিল তাদের জন্য আদর্শ প্রডাক্ট। তখন মার্কেটে চারপাশে চাইনিজ ব্যাগের ছড়াছড়ি, প্রতিযোগিতা যেন ছিল তুঙ্গে। তবে আশার কথা ছিল এটাই যে, চাইনিজ ব্যাগগুলো ছিল নিম্নমানের, তিন চারমাসের ব্যবহারেই এর জেল্লা, চেইন সব আস্তে আস্তে নষ্ট হতে শুরু করে দেয়। আর এই বিষয়কেই Four Dimension অপর্চুনিটি হিসেবে নেয় এবং সেইভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে থাকে। মাত্র ২০০০০০ টাকা দিয়েই তাদের ব্যবসা শুরু হয়েছিল। তারা মোটামোটি বিভিন্ন ডিজানের ৫০০ টি শার্ট ও ৩০০ ব্যাগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান শুরু করে। প্রথম দিকে সেভাবে সাড়া না পেলেও, আস্তে আস্তে এটি ব্যাপকভাবে সাড়া পেতে শুরু করে এবং অনেক ক্রেতা পেতে থাকে। এখন তারা ব্যাগ, টি শার্ট, পাঞ্জাবি, মূলত ছেলেদের হরেকরকম পোশাক সরবরাহ করে থাকে। এখন তাদের ব্যাপ্তি আজিজ সুপার মার্কেটের সেই কোনার দোকান থেকে পুরো ইন্টারনেট দুনিয়ায়। তারা আজকেরডিল, ইকমার্স সাইটের সাথে প্রায় দু বছর ধরে ব্যবসা করছে। তাদের পণ্যগুলো আজকেরডিল থেকে ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে।

আজিজ সুপার মার্কেটে দুটো শো রুম ছাড়াও বেইলি রোড ও ওয়ারীতে তাদের আউটলেট রয়েছে। তারা বিভিন্ন ইভেন্ট ও উৎসবের জন্য আলাদাভাবে কাস্টমারের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী অর্ডারও নিয়ে থাকেন। তাদের লক্ষ্য এখন পাইকারি বাজারে অনুপ্রবেশ। তাদের ইউনিক ডিজাইন ও গুনগত মান সম্পন্ন প্রোডাক্ট তাদেরকে অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম করে তুলেছে।

মোঃ মোস্তাফিজের পরামর্শ : সকলের মধ্যেই উদ্যোক্তার সম্ভাবনা থাকে, সেটি প্রস্ফুটিত করতে দিতে হবে। ইচ্ছা শক্তি, কঠোর পরিশ্রম, সততা ও গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করতে পারলে যে কেউই উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন অনায়াসে। ব্যবসা করতে গেলে উত্থান পতন থাকবেই, তবে সেটিকে আঁকড়ে না ধরে নতুন নতুন কৌশল রপ্ত করে ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারাটাই একজন সফল উদ্যোক্তার সফলতা।

(কনটেন্টটি futurestartup থেকে অনুবাদকৃত)

*ফোরডাইমেনশন* *উদ্দ্যোক্তা* *স্পন্সরডকনটেন্ট*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★