ফ্যামিলিট্রিপ

ফ্যামিলিট্রিপ নিয়ে কি ভাবছো?

nazrul islam : *ফ্যামিলিট্রিপ* (কিমজা) ইচ্ছে করছে কোথও যাই ......

নাবালক: *ফ্যামিলিট্রিপ* অনেক ভাল কিন্তু আমি এখনও ফ্যামিলি নিয়ে কোন ট্রিপ দিতে পারি নাই!!!(ফুঁপিয়েকান্না)

৪/৫

রাজকুমার: *ফ্যামিলিট্রিপ* একা কোথাও বেড়াতে আমার ভাল লাগে না। আমি সবসময়ই ফ্যামিলি ট্রিপ ই উপভোগ করি। সামনে সিলেট যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

প্যাঁচা : *ফ্যামিলিট্রিপ* আমার একদমই ভাল লাগে না যদি সিগারেট খাওয়া নিয়া আপত্তি থাকে বা ঝামেলা পোহাতে হয়।না হলে,ট্রিপ তো ট্রিপই।আর ট্রিপ এডভ্যাঞ্চারাস না হলে আর মজা কিসের,যেখানে কিছুটা অনিশ্চয়তা নাই সেখানে এক্সাইটমেন্ট-ইবা কোথায়?হাহাহা..

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পাহাড়-পর্বত-জঙ্গল-নদী ছেড়ে এবার ‘ডেস্টিনেশন বিচ’। হানিমুন হোক, ফ্যামিলি ট্যুর হোক বা একদল বন্ধুবান্ধব মিলে হুল্লোড়ের অজুহাত-দক্ষিণ ভারতের বিচ ট্যুরিস্ট স্পটগুলির আকর্ষণ অদম্য। সারা ভারতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যদিও, কিন্তু দক্ষিণ ভারতের সমুদ্রসৈকতগুলির আবেদন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে একটু বেশিই। কাচের মতো স্বচ্ছ জল, সোনালি বালুকা বা পাথুরে ঢাকা তটভূমি আর মাঝেমধ্যে পাম গাছের গ্রিন রিলিফ। চোখ ও শরীর-দু’টোর জন্যই পরম প্রশান্তিদায়ক। যান না, কিছুদিনের জন্য একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে দক্ষিণমুখী হন।


মালপে : উদিপী শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে আরবসাগরের নীলচে বাহার। উদিপী থেকে হাত বাড়ানো দূরত্বে রয়েছে সোনা বালুর মালপে সৈকত। হলদে বালিতে আরবসাগর এখানে শান্ত। নারকেল আর ঝাউয়ের ঠাস বুনট। সমুদ্রের বুকে চষে বেড়ানোর সমস্ত আয়োজন রয়েছে। স্পিডবোট, প্যারাসেলিং, কী নেই এখানে! প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে আরবসাগরে ভেসে যাওয়া যায় স্পিডবোটের সঙ্গে। পাখির চোখে মালপের মাদকতায় মুগ্ধ হতে চাইলে অবশ্যই প্যারাসেলিং-এ কয়েক চক্কর কাটা যায়। সৈকতের প্রান্তরেখা সূর্যের নানা রঙের ছটায় মাতোয়ারা, শান্ত বিচের অনেকটা দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ঝাউবনে বাতাসের মাতামাতি। প্রকৃতি আর প্রেমিকের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার সেরা ঠিকানা মালপে সৈকত। মাঝে মাঝেই মাছভাজার তীব্র গন্ধ নাকে আসে। নানান মাছের সম্ভার থেকে পছন্দের মাছভাজা খাওয়ার মজাটাই আলাদা! ফিরে এসে উদিপীর শ্রীকৃষ্ণের নাম-সংকীর্তন না দেখলে অনেক কিছুই অদেখা থেকে যাবে।

কাপু : উদিপী থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে মাঙ্গালোরগামী বাসে কাপু মোড়। গ্রামের রাস্তা ধরে অটো চলতে শুরু করে। লালমাটির রাস্তা ফঁুড়ে, গ্রামজীবনের সরল ছবি পিছনে ফেলে চলে আসা যায় কাপুর কিনারে। সমুদ্রপ্রেমীদের এক অজানা অচেনা সৈকতপ্রান্ত। আরব সাগরের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে জল কোথাও নীল, কোথাও সবুজ। যতদূর চোখ যায়, সোনালি বালির পাড়ে সবুজ নারকেলবীথি, মাঝে মাঝে ঝাউয়ের সমাবেশ, নীল আকাশে সিগালদের ওড়াওড়ি। গাছের ছায়ায় একটা গ্রাম্য রেস্তরাঁ, দেদার সস্তা মাছ। সম্প্রতি এখানেও ওয়াটার স্পোর্টসের নানান আয়োজন রয়েছে। দূরে সমুদ্রের বুকে জেগে আছে পতুগিজদের দুর্গ। ভগ্নপ্রায় দুর্গ নিয়ে নানান কাহিনি-কিংবদন্তির ছড়াছড়ি। পাশের টিলায় কালো-সাদা একটা বাতিঘর।

সেন্ট মেরিজ আইল্যান্ড: যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার ভালবাসেন, উদিপী থেকে একটু ভোরবেলা বেরিয়ে তাঁরা চলে আসুন মালপে বন্দরের বোট অফিসে। হাজার হাজার বোট সাগর ছেঁচে মাছ ধরার প্রহর গুনছে। অশান্ত আরবসাগরের ঢেউয়ের দোলায় দুলতে দুলতে দূরে একটা পাথুরে রেখা চোখে পড়ল। কালিকট যাওয়ার পথে ১৪৯৮ সালে ভাস্কো-দ্য-গামা এই দ্বীপে নামেন। তিনি এই দ্বীপের নাম রাখলেন পাদ্রো-দ্য-সান্তা-মারিয়া। সেই দ্বীপই আজকের সেন্ট মেরিজ আইল্যান্ড। সমুদ্রের নানান ডুবো পাাহাড় মাথা তুলে আছে। সেইসব পাশ কাটিয়ে বড় বোট সমুদ্রের মাঝে নোঙর করল। কালো বিন্দুর মতো দ্বীপভূমিটা জেগে উঠল চোখের সামনে, ৩০০ মিটার লম্বা এবং ১০০ মিটার চওড়া। নারকেল গাছ দিয়ে ঘেরা সবুজের রাজত্ব। ব্যাসল্ট দ্বীপের পাথরে মাঝে মাঝে উত্তাল ঢেউ এসে ঝাপটা মারে, আবার ফিরে যায়। বাড়তে থাকে ঢেউয়ের মাত্রা। বোটের সারেঙ এসে জানান দেয়, এবার ফিরতে হবে।


মুরুডেশ্বর: অশান্ত ঝোড়ো হাওয়াকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গল, পাহাড় পেরিয়ে কোস্টাল কর্ণাটকের আনকোরা সমুদ্রশহর মুরুডেশ্বর। উদিপী থেকে আসার পথে মাঝে মাঝে সমুদ্রটা উঁকিঝুঁকি মারছিল। তারপরই হঠাত্ উধাও! জঙ্গল, পাহাড়কে পিছনে ফেলে হঠাত্ ১২০ ফুট উঁচু শিবমূর্তির দেখা মিলল। টিলার ওপর বিশাল মহাদেবের মূর্তিকে কুর্নিশ জানায় গোপুরম। চালুক্য ও কদম্ব রাজাদের ভাস্কর্যের ছাপ। মন্দির পেরিয়ে বিশাল শিবের মূর্তি, মূর্তির নীচে ভূ-কৈলাস গুহা। তার অনেক নীচে আরবসাগরের ফঁুসে ওঠা। সমুদ্রের পাড়ে প্রচুর স্পিডবোট ওঠানামা করছে ঢেউয়ের সঙ্গে। সমুদ্রের প্রান্তরেখায় পাহাড়ের সীমারেখা। সমুদ্রের পাড় জুড়ে সবুজের সমারোহ। সমুদ্রের গা-ঘেঁষে একটা রেস্তরাঁ। বিচের ওপর আমিষ-নিরামিষ খাবারের অভাব নেই। অভাব নেই বিকিনি-সুন্দরীদেরও।

গোকণর্: এখানেও সমুদ্রতীর বরাবর বিভিন্ন মন্দির এবং তাদের ঘিরে কিংবদন্তির ছড়াছড়ি। আরবসাগর এখানে নীল, ঘন নীল। শুধু সমুদ্রস্নান নয়, এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ওয়াটার স্পোর্টসের আয়োজন। ওয়াটার স্কুটার কিংবা ফড়িং-এর মতো লাফিয়ে লাফিয়ে চলা ব্যানানা কেট চড়ে নেওয়া যেতে পারে। আকাশের বুকে সিগালদের সঙ্গে উড়তে হলে পাখির মতো উড়ে বেড়ানো যায় প্যারাসেলিং নির্ভর করে। গোকর্ণ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আরও নির্জন সৈকত ওম। দূরে লাল পাহাড়ে সবুজের সমাহার। ঘুরে আসতে পারেন ওই সৈকতও।

কারোয়ার: গোয়ার চমত্‌কার সমূদ্রতট কারোয়ার। গোয়া থেকে মাত্র ষাট কিলোমিটার পেরিয়ে কারোয়ার। অনেকেই জানেন না, রবীন্দ্রনাথ মাত্র ২২ বছর বয়সে এই নির্বাক সাগরপারে বসে লিখেছিলেন ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’। তাঁরই নামে ‘টেগোর বিচ’ এক অনবদ্য বালুকাবেলা, কারোয়ারের বুকে। শহরের মধ্যেই রয়েছে অক্টাগোনাল চার্চ, সর্পদেবীর মন্দির, দেভবাগ বিচ। কারোয়ারের দক্ষিণপ্রান্তে আরও নির্জন সৈকতের নাম দেভবাগ। জেলেবস্তির মাঝে সমুদ্রের প্রান্তরেখায় দাঁড়িয়ে আছে ছোট ছোট টিলা। সেই টিলার পাড়ে ঢেউ ভাঙছে অবিরত। কর্ণাটকের দক্ষিণপ্রান্তের এই আনকোরা কোস্টাল সিটিতে মন চায় বারে বারে হারাতে।

কীভাবে যাবেন
মালপে: কলকাতা থেকে বিমানে অথবা ট্রেনে মাঙ্গালোর। মাঙ্গালোর থেকে গাড়িতে বা বাসে চলে আসা যায় ৬০ কিলোমিটার দূরের উদিপীতে। উদিপী থেকে মালপে বিচ মাত্র ৭ কিলোমিটার, বাসে বা অটোতে চলুন। উদিপী থেকে কাপু আসতে হলে গাড়ি বা বাসে চলে আসা যায়।

মুরুডেশ্বর: উদিপী থেকে ১০০ কিলোমিটার। বাস অথবা গাড়িতে চলে আসা যায়।

গোকর্ণ: মুরুডেশ্বর থেকে গোকর্ণের দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। বাসে এলে আঙ্কোলা হয়ে আসতে হয়। গাড়িতে সরাসরি আসা যায়।

কারোয়ার: গোকর্ণ থেকে কোস্টাল সিটি কারোয়ারের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। বাস অথবা গাড়ি ভাড়া করে আসা যায়।

কোথায় থাকবেন
মালপে, সেন্ট মেরি, কাপুতে যেতে হলে উদিপীতে থাকাটাই ভাল। নানান মানের প্রচুর হোটেল। হোটেল সান (০৮২০-২৫২৩৯০১), দূর্গা ইন্টারন্যাশনাল (০৮২০-২৫৩৬৯৭১)।

মুরুডেশ্বর: থাকার প্রচুর হোটেল রয়েছে। বিচের ধারেই নবীন বিচ রিসর্ট (০৮৩৮৫-২৬০৪১৫), মুরুডেশ্বর ইন্টারন্যাশনাল (২৬০২২৩)। সমুদ্রের ধারের ‘খস’ এর টুপি এবং নানান শো-পিস খুবই বিখ্যাত, সংগ্রহ করতে পারেন।

গোকর্ণ: থাকতে পারেন হোটেল গোকর্ণ ইন্টারন্যাশনাল (০৮৩৮৬-২৫৬৬২২), হোটেল শ্রী সাঁইরাম (০৮৩৮৬-২৫৭৭৫৫)। ওম বিচে থাকার জন্য বিলাসবহুল ওম বিচ রিসর্ট (০৮৩৮৬-২৫৭৭১৮)।

কারোয়ার: থাকার হোটেল প্রচুর। হোটেল সুভদ্রা (০৮৩৮২-২৫৪৮৮৩)। শহরের ১০ কিলোমিটার দূরে দেভবাগ বিচ রিসর্ট (০৮০-৪১২৭/৯৭৮৮)।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
*বিদেশভ্রমন* *ভারত* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *হানিমুন* *ফ্যামিলিট্রিপ* *ভ্রমন*
৪/৫

অমৃতা: [এজে-তুইশেষ] National ID card বানাতে গিয়ে যে পরিমান কষ্ট হয়েছে, সেটা আর নতুন করে বললাম না, কিন্তু ওটার ছবিটা, আমি নাকি আমার ভুত, উপরওয়ালাই জানেন। এবার পরীক্ষার পর ইন্ডিয়াতে *ফ্যামিলিট্রিপ* এ, যাবার জন্য *পাসপোর্ট* করতে দিলাম, না জানি এবার আবার কোন খেল দেখতে হয়...

*ফ্যামিলিট্রিপ* *পাসপোর্ট* *অভিজ্ঞতা* *বাস্তবতা* *জীবনেরগল্প* *ফ্যামিলিট্রিপ* *পাসপোর্ট*
৫/৫

বেশতো Buzz: (খুশীতেআউলা)গল্পে গল্পে নতুন কিছু (সারপ্রাইজ) স্টারড ওয়ার্ড নিয়ে হাজির হলাম... হঠাৎ করে *শীতেরবৃষ্টি* পরশ বুলিয়ে দিল(কিমজা) মনে পড়ে গেল *হানিমুন* এ যাবার সেই মজার স্মৃতি গুলো..মনে আছে, তুমি আর আমি মিলে দু’দিন *রিসোর্ট* এ ছিলাম। *পাসপোর্ট* না থাকায় বিদেশ যাওয়া হলনা(মনখারাপ) ভাবছি ছেলে মেয়ে হলে একবারে *ফ্যামিলিট্রিপ* এ বের হব।

*শীতেরবৃষ্টি* *হানিমুন* *রিসোর্ট* *পাসপোর্ট* *ফ্যামিলিট্রিপ* *শীতেরবৃষ্টি* *হানিমুন* *রিসোর্ট* *পাসপোর্ট* *ফ্যামিলিট্রিপ*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি আর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা আটশ বছরের পুরানো একটি দ্বীপ যার নাম মনপুরা। মনপুরা দ্বীপ বাংলাদেশের দ্বীপ জেলা ভোলার মূল ভূখন্ডের বাইরে বিচ্ছিন্ন ভাবে গড়ে ওঠা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যময় স্থান। আপনারা ইচ্ছে করলেই প্রকৃতির সুন্দরতম এই স্থানটিতে ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে চলুন যাই ফ্যামিলি ট্রিপে মনপুরা দ্বীপে...

মনপুরা দ্বীপের সৌন্দর্য্যঃ
মনপুরা দ্বীপটিকে নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে ‘মনপুরা’ নামের চলচ্চিত্র নিমির্ত হওয়ার পর থেকে এই দ্বীপটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পদের বৈচিত্রে ভরপুর এ দ্বীপে না আসলে বোঝাই যাবে না এ দ্বীপ উপেজলায় কি মায়া লুকিয়ে আছে। পর্যটক বা ভ্রমণ পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেয়ার বহু জাদু ছড়ানো আছে এ দ্বীপে। এখানে ভোরের সূর্য ধীরে ধীরে পৃথিবীতে তার আগমনী বার্তা ঘোষণা করে। আবার বিকালের শেষে এক পা-দুপা করে সে আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিমাকাশে মুখ লুকোয়। রাতে নতুন শাড়িতে ঘোমটা জড়ানো বধুর মত সলাজ নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায় পুরো দ্বীপ।

মনপুরা দ্বীপের সংখিপ্ত ইতিহাসঃ

জমির শাহ পূর্ণ সাধকের স্মৃতি বিজড়িত এই মনপুরা দ্বীপের ইতিহাসে বেশ প্রাচীন। সাতশ বছর আগে পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল মনপুরায়। ভোলা জেলার ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, তেরশ শতাব্দীতে এ দ্বীপের উৎপত্তি হয়। তবে মানুষের বসবাস শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। দ্বীপটি বাকলা চন্দদ্বীপের (বরিশালের পূর্ব নাম) জমিদারি প্রথার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় কয়েকজন ইউরোপীয় পরিব্রাজক ডারথেমা লি ব্রাংক, সিজার ফ্রেডরিক ও মউনরিক এই দ্বীপ ভ্রমণে আসেন। এ সময় মি. মউনরিক তৎকালীন দক্ষিণ শাহবাজপুর ও চর মনপুরাকে উদ্ভিদ বৈচিত্র্য পরিপূর্ণ দ্বীপ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

১৫১৭ সালে এই পরিব্রাজকরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মনপুরাকে নির্বাচিত করে বসতি স্থাপন শুরু করেন। তখন এ দ্বীপটির অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী জলাশয়ের মাছ, পশুসম্পদ, মহিষের দুধ, পনির এবং দই যে কোনো আগন্তুকের মন ভরিয়ে দিত বলে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয় মনপুরা। তবে মনপুরার নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

ঐতিহাসিক বেভারিজ মনপুরার নামকরণ নিয়ে লিখেছেন, মনগাজী নামের এক ব্যক্তি সেই সময়ের জমিদারি থেকে মনপুরা চর লিজ নেন অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে। পরবর্তী সময়ে তার নামনুসারে এই দ্বীপটির নামকরণ করা হয় মনপুরা। স্থানীয় লোককাহিনী মতে, মনগাজী নামের এখানকার একজন মাঝি বাঘের আক্রমেণ প্রাণ হারালে এ চরের নাম হয়ে যায় মনপুরা। এই দ্বীপটি এক সময় হাতিয়া-সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং মোঘল শাসনামলে এখানে সন্দ্বীপের লোকেরা বসতি স্থাপন শুরু করে।
১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এর একশ বছর পর ১৯৮৩ সালে মনপুরা উপজেলায় উন্নীত হয়।

নজরকাড়া মনপুরাঃ
মনপুরার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে হাজার হাজার একরের ম্যানগ্রোভ বন। যেখানে জীবিত গাছের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। মাইলের পর মাইল বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যানভাস মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে।

মনপুরার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল চর তাজাম্মুল, চরজামশেদ, চরপাতিলা, চর পিয়াল, চরনিজাম, লালচর, বালুয়ারচর, চর গোয়ালিয়া, সাকুচিয়াসহ ছোট-বড় ১০-১২টি চরে বন বিভাগের প্রচেষ্টায় চলছে নীরব সবুজ বিপ্লব। চোখ ধাঁধানো রূপ নিয়েই যেন এসব চরের জন্ম। চরগুলো কিশোরীর গলার মুক্তোর মালার মতো মনপুরাকে ঘিরে আছে। শীত মৌসুমে হাজার হাজার অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে সমগ্র চরাঞ্চল। চরাঞ্চলের অতিথি পাখির উড়ে বেড়ানো, হরিনের পালের ছোটাছুটি, সুবিশাল নদীর বুক চিরে ছুটে চলা জেলে নৌকা, ঘুরে বেড়নো মহিষের পাল আর আকাশ ছোঁয়া কেওড়া বাগান কঠিন হৃদয়ের মানুষের মনও ছুঁয়ে যায়। চারদিকে নদীবেষ্টিত মনপুরায় নৌকা কিংবা সাম্পানের ছপছপ দাঁড় টানার শব্দ আর দেশি-বিদেশি জাহাজের হুঁইসেলের মিলে মিশে একাকার হলে মনে হয় কোনো দক্ষ সানাইবাদক আর তবলচির মন ভোলানো যুদ্ধ চলছে।

বাহারি সব খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে মনপুরা দ্বীপেঃ
মনপুরায় যে শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্যই দেখা যাবে তা নয়। গতানুগতিক সব খাবার ছাড়াও তিনটি স্পেশাল আইটেম আছে মনপুরার। এগুলো হচ্ছে খাসি পাঙ্গাস, মহিষের দুধের কাঁচা দই ও শীতের হাঁস। নদী থেকে ধরে আনা টাটকা খাসি পাঙ্গাস আর চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়নো মহিষের পাল (বাতান) থেকে সংগৃহিত কাঁচা দুধ বা দইয়ের স্বাদই আলাদা। তাছাড়া মেঘনার টাটকা ইলিশের স্বাদও ভোলা যায় না কখনো।

থাকবেন কোথায়,
যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন
মনপুরার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সরাকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় গড়ে উঠেছে মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড। ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২১০ একর জমিতে গড়ে ওঠা ওই খামারবাড়িতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। এ খামার বাড়িতে রয়েছে বিশাল চার-পাঁচটি পুকুর ও বাগান। সেখানে নারিকেল গাছের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। দৃষ্টিনন্দন এ খামার বাড়িটি হতে পারে পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই মনপুরার প্রধান সমস্যা। মনপুরার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত হলেও বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই করুণ। যখন তখন যে কেউ ইচ্ছে করলেই মনপুরা যেতে-আসতে পারেন না। ঢাকা থেকে সরাসরি লঞ্চে মনপুরায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চ মনপুরায় রামনেওয়াজ ঘাটে প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করে। মনপুরার মানুষও ওই লঞ্চেই ঢাকায় যাতায়াত করেন। আবার ঢাকা থেকে ফেরেন ওই একই লঞ্চে। এছাড়া ঢাকা কিংবা বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে তজুমদ্দিন ঘাটের সি-ট্রাকে মনপুরায় যাওয়া যায়। সি-ট্রাকটি তজুমদ্দিন থেকে ছাড়ে প্রতিদিন বিকাল ৩টায় আর মনপুরা থেকে ছাড়ে সকাল ১০টায়। অপরদিকে চরফ্যাশনের বেতুয়াঘাট থেকে মনপুরার জনতা বাজার রুটে দৈনিক দুটি লঞ্চ চলাচল করে। ওই রুট দিয়েও প্রতিদিন শত শত মানুষ মনপুরায় আসা-যাওয়া করছেন। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ নদীপথটি ডেঞ্জার পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই রুটে তখন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।

মনপুরায় ভালো মানের কোনো পর্যটন হোটেল না থাকায় পর্যকটকরা এখানে আসতে খুব একটা আগ্রহী হন না। তবে মনপুরা প্রেসক্লাব প্রাথমিকভাবে মাঝারি মানের একটি হোটেলের ব্যবস্থা করেছে। মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজির আহমেদ মিয়া বলেন, মনপুরাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথমেই যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যেক্তারাও যদি গুরুত্বের সাথে অবহেলিত এ সম্ভাবনার উপর দৃষ্টি রাখতেন, তবে এখানে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।

সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে তজুমদ্দিন-মনপুরা এবং চরফ্যাশন-মনপুরা রুটে স্পিডবোট সার্ভিস চালু করলে পর্যটকরা কম সময়ে মনপুরায় যেতে পারবেন। তাছাড়া মনপুরায় ভালো মানের হোটেল-মোটেল গড়ে উঠলে এ দ্বীপে পর্যটকদের আগমন বাড়বে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করলে মনপুরা হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আশা রাখি অচিরেই মনপুরা দ্বীপে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে, পাশাপাশি দেশী বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে ভোলার মনুপুরা দ্বীপ।

*ফ্যামিলিট্রিপ* *ভ্রমন* *দ্বীপ* *মনপুরাদ্বীপ* *ভোলা* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *ঘুরেএলাম*

বাংলার বেদুঈন: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বন্ধুরা তোমরা যদি সেন্ট মারটিণ যেতে চাও তবে একটু কষ্ট করে এই লেখাটি পড় হয়তো কাজে লাগতে পারে।
কক্সবাজার থেকে সকাল ৫ টার মধ্যে টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে। টেকনাফ যাওয়ার জন্য সরাসরি বাস আছে, তবে বাসের ধরন বুঝে ভাড়াও ভিন্ন হয়ে থাকে। কক্সবাজার থেকে সেন্টমারটিনের যাওয়ার টিকিট পাওয়া যায়। ভাড়া ৩২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আছে। তবে একট কথা উল্লেখ প্রয়োজন জাহাজে উঠার পড়ে ৩২০ টাকা আর ৮০০ বা ৯০০ টাকার যাত্রীর মাঝে কোন ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ যে যেখানে পারে বসে পড়ে। টেকনাফ থেকে ৬ টি জাহাজ ছেড়ে যায় যেগুলো হচ্ছে  এম ভি কাজল( সরকারী), কেয়ারি সিনবাদ, কেয়ারি ক্রুজ ডাইন, এম ভি কুতুবদিয়া,  এম ভি ফারহান এবং বিলাস বহুল জাহাজ এম ভি গ্রিন লাইন। এইগুলোর মাঝে সবচেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন জাহাজ হচ্ছে গ্রিন লাইন এবং এম ভি ফারহান। এম ভি ফারহান ছাড়ে সবার পড়ে কিন্তু পৌছায় সবার আগে, আর সবচেয়ে ধীরে চলে কাজল। ১০ বছরের নীচে বাচ্চাদের টিকিট লাগে না। জাহাজগুলো সকাল ৯ টা থেকে ৯ টা ৩০ মধ্যে জেটি ত্যাগ করে, এবং সেন্তমারটিন পৌছায় ১১ টা ৩০ থেকে ১২ টার মধ্য। মনে রাখা প্রয়োজন ৩ টার মধ্যে আবার জাহাজে ফিরে আসতে হবে কারন ৩ টার পড়ে সব  জাহাজ ঘাট ছাড়তে শুরু করে। তবে কেউ যদি সেখানে রাত কাটাতে চান তবে বিভিন্ন দামে হোটেল কটেজ পাওয়া যায় ফেরার সময় টিকিট লাগবে না আপনি যে টিকিটে এসেছেন  সেটা দিয়েই  ফিরতে পারবেন তাই টিকিট সংরক্ষন করুন।
এবার আসুন খাওয়া নিয়ে কিছু বলি, ওখানে হোটেলগুলোতে বিভিন্ন জাতের কাঁচা মাছ হলুদ মাখিয়ে রেখে দেয়া আছে আপনি অর্ডার করলে তারা ভেজে দেবে । তবে একটু দামদামি করে নেবেন। সবচেয়ে ভাল হয় প্যাকেজ সিস্টেমে খেলে। তার মানে আপনি বিভিন্ন সেট মেন্যু দেখে খাবার অর্ডার করুন।
আরেকটি কথা অনেকেই টেকনাফ শহরে কেনাকাটা করতে যান যেটা ভুল। কক্সবাজারে সব কিছুই পাওয়া যায় এবং দামে সস্তা। তবে সেন্টমারতিন থেকে শুটকি কিনতে পারেন তুলনামূলক সস্তা দামে।কক্সবাজারেও শুটকি সস্তা। সেন্তমারতিন যাওয়া ও আসার পথের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে, সমুদ্রের বুক চিরে আপনার জাহাজটি যখন এগিয়ে যাবে তখন আপনার যে অনুভূতি হবে সেটা পার্থিব, এই জগতে এমন সুন্দর দৃশ্য খুবই কম আছে । আপনাদের যাত্রা শুভ হোক ।

*ভ্রমন* *কক্সবাজার* *সেন্টমার্টিন* *ফ্যামিলিট্রিপ*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বরফ ঢাকা পাহাড় আর লেক যাদের পছন্দ, তাদের জন্য নেপালের এই ছোট্ট পর্যটন শহর। ফেওয়া লেকে নৌকা চালানো, সকালবেলায় কফির কাপে চুমুক দিয়ে অন্নপূর্ণা, গঙ্গামায়া, কৈলাসের চূড়া দেখা, প্যারাগ্লাইডিং, আল্ট্রা লাইট, অন্নপূর্ণা সার্কিট বা বেজ ক্যাম্প ট্রেক করার মতো অনেক অনেক রোমাঞ্চকর বিনোদন আছে এখানে। কেউ যদি এতটা অ্যাডভেঞ্চারাস না হন, তাও ক্ষতি নেই; ফেওয়া লেকের ধারে বসে যেকোনো ক্যাফেতে সকাল-বিকেল পার করে দেওয়া যায়। সারা দিনের জন্য সাইকেল, মোটরসাইকেল ভাড়া করে ঘুরে বেড়ানো যায় পোখারার যেকোনো জায়গায়। আর নেপালের আদিবাসীদের সংস্কৃতি তো রয়েছেই। পোখারা যাওয়ার সেরা সময় শীতকাল, তবে সে সময় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে যায় তাপমাত্রা। তাই গরম কাপড় সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
*নেপাল* *বিদেশভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *মধুচন্দ্রিমা* *ফ্যামিলিট্রিপ*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বিশ্বের অনেক দেশে সুন্দর সুন্দর দ্বীপ আছে। ছুটির সময় সেসব দ্বীপে অনেকেই বেড়াতে যান। সে এক মজার অভিজ্ঞতা। বেড়ানোর জন্য, থাইল্যান্ডের দ্বীপগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো। ওখানকার পরিবেশ ও খাবার বেশ ভালো। ওখানে গেলেই আপনার মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে; নিজেকে বেশ সুখী মনে হবে। অন্তত একবার বেড়িয়ে আসুন থাইল্যান্ড। আজ থাকছে থাইল্যান্ডের সামুই দ্বীপের বর্ণনা
থাইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় অনেক ছোট ছোট দ্বীপ আছে। দ্বীপগুলোতে নানা ধরনের হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এসব দ্বীপের মধ্যে সামুই দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। রাজধানী ব্যাংকক থেকে আকাশ পথে এক ঘন্টায় দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত এ দ্বীপে পৌঁছানো যায়। দ্বীপের মোট আয়তন ২৪৭ বর্গকিলোমিটার। এটি থাইল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এর আশেপাশে আরো ৮০টি ছোট দ্বীপ রয়েছে। তবে সেগুলোর অধিকাংশই নির্জন। দ্বীপগুলোর মধ্যে মাত্র ৪টিতে মানুষ বাস করে। এখানকার সৈকতের রঙ সাদা, সমুদ্রের পানি সবুজাভ নীল। সমুদ্রের পানিতে নানা ধরনের বহুবর্ণ মাছ ও প্রবাল দেখা যায়। ২০ বছর আগেও সামুই দ্বীপে কোনো লোক বাস করতো না। দ্বীপ থেকে রাজধানীতে নারিকেল পরিবহণের সময় পাশ্চাত্যের একদল পর্যটক সর্বপ্রথম এই দ্বীপের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আবিষ্কার করেন। বর্তমানে দ্বীপটি থাইল্যান্ডের সবচে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্যতম। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০টি বিমান ব্যাংকক, ফুকেট, সিংগাপুর ও হংকং থেকে এ দ্বীপে যাতায়াত করে। সামুই-এর দৃশ্য থাইল্যান্ডের দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচে সুন্দর এবং স্থানীয় অঞ্চলের লোকও খুবই আন্তরিক। এ দ্বীপে নারিকেল গাছের ঘন বন আছে। এখানকার সৈকতের পানি স্বচ্ছ। সামুই দ্বীপে বেশ কয়েকটি সৈকত আছে এবং প্রতি সৈকতের প্রাকৃতিক দৃশ্যই দারুণ সুন্দর। এসব সৈকতের মধ্যে ছাওয়েং (chaweng) আর লামাই (lamai)-এ পর্যটকেদর আনাগোনা সবচে বেশি। দুটি সৈকতই দ্বীপের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ছাওয়েং সৈকতের দৈর্ঘ্য ৬ কিলোমিটার। এর আকার বাঁকা চাঁদের মতো। সবুজ পাহাড় ও রিফের কোলে এ সৈকতের পরিবেশ দারুণ সুন্দর। সামুই দ্বীপে বেশ কয়েকটি পাঁচ তারা হোটেল আছে। এ সৈকতের কাছে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। এখানকার পাব স্ট্রিট ও নাইট বাজারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের দেখা যায়। ছাওয়েং সৈকতের কাছেই লামাই সৈকত। সেখানকার পরিবেশ ছাওয়েংয়ের তুলনায় নিরিবিলি। তবে এখানেও ডাইভিং, নৌকা-ভ্রমণ ও সার্ফিংসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। তা ছাড়া, সামুই বিমান বন্দরের কাছে একটি পাহাড়ে সোনালী রঙয়ের একটি বড় বুদ্ধের মূর্তি আছে। বুদ্ধের মূর্তির কাছে বসে সূর্যাস্তের অনুপম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আমি সেখানে অনেক প্রেমিক ও প্রেমিকা দেখেছি, যারা একসঙ্গে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করে। খুবই রোমান্টিক পরিবেশ সৃষ্টি হয় তখন। Koh-Samuiএক সময় সামুই দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল কৃষিকাজ। এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ আছে। রাস্তায় হাঁটলে নারিকেলের সুগন্ধ পাওয়া যায়। তো, প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ নারিকেল সামুই থেকে রাজধানী ব্যাংককে যায়। সামুইকে ‘নারিকেল দ্বীপ’ নামেও ডাকা হয়। সামুই দ্বীপের সাথে ব্যাংককের অনেক পার্থক্য। ব্যাংককের মতো দ্বীপটি লোকজনে গমগম করে না। এখানে এলে কেমন একটা আদিম গন্ধ পাওয়া যায়। এখানে আসা পর্যটকদের সবচে প্রিয় স্থান সৈকত। আঁকাবাঁকা সৈকত, সমুদ্রের স্বচ্ছ পানি পর্যটকদের বেশ টানে। এখানে সূর্যস্নান করা, সাঁতার কাটা, সমুদ্রের জলে মোটরবোট চালানো, সৈকতে ভলিবল খেলা, সৈকতের কাছাকাছি স্থানে স্পা করা—এ সবকিছুই পর্যটকদের বিনোদনের মাধ্যম। নারিকেলের জ্যুস বা নারিকেলের তৈরী আইসক্রিমও পর্যটকদের বেশ প্রিয়।
আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে আপনি সামুই দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। বাজেটও ঠিক করবেন সেভাবে। আমি মনে করি বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিমান ভাড়া ও হোটেলের খরচ। বিমানের খরচ সম্পর্কেতো ওয়েবসাইট সার্চ করলেই ধারণা পাবেন। আমি জানাচ্ছি হোটেলের খরচ কেমন হবে। সামুই দ্বীপে অনেক সস্তা হোটেলও আছে। এসব হোটেলের প্রতিদিনকার রুম ভাড়া ২০০ ইউয়ান বা ৩৩ ডলারের মতো। আর নাইট বাজারে ৫০ ইউয়ান বা ৮ ডলার খরচ করে আপনি সুস্বাদু খাবার খেতে পারেন। এখানকার এক ধরনের মিষ্টি খাবার এর নাম প্যানকেক। এটা সাধারণত কলা ও আম দিয়ে তৈরী করা হয়। এ ছাড়া, ডিম দিয়ে তৈরী একধরণের হাল্কা প্যানকেকও পাওয়া যায়। এই কেকের মাঝখানে কলা, আম ও অন্যান্য ফলের টুকরা থাকে। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু। প্রতিটি প্যানকেকের দাম মাত্র ৬ ইউয়ান বা এক ডলার।
সূত্রঃ ইন্টারনেট
*থাইল্যান্ড* *ছুটিতেভ্রমন* *ভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ফ্যামিলিট্রিপ*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ঈদের ছুটিতে অনেকেই সপরিবারে বিদেশে বেড়াতে যেতে চায়। অল্প খরচে আর কম সময়ে কোথায় যাওয়া যেতে পারে?

উত্তর দাও (৩ টি উত্তর আছে )

*ছুটিতেভ্রমন* *বিদেশভ্রমন* *অল্পতেভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ফ্যামিলিট্রিপ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★