বজ্রপাত

বজ্রপাত নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বৈশাখ আসে নববর্ষের খুশির বার্তা নিয়ে। খুশির নিত্যসহচর কাল বৈশাখী আসে তার সাথে সাথে যা হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ। কাল বৈশাখী মানে ঝড় আর বজ্রপাত। কাল বৈশাখীর বজ্রপাত যমদূত হয়ে আসে কারো কারো জীবনে। এজকের লেখা কালীন সময়ে ১০ জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুসংবাদ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ২ দিনে অকালে প্রাণ হারেলেন ৩১জন। গতকাল রোববার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে কালবৈশাখীর তাণ্ডব চলে। সেই সঙ্গে ছিল অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টি ও বজ্রপাত। সকাল থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন মারা গেছেন। মাগুরা ও নওগাঁয় ছয়, নোয়াখালীতে দুই এবং সুনামগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর ও গোপালগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে স্কুলছাত্র, গৃহবধূ, পোশাক শ্রমিক, কৃষক ও যুবক রয়েছেন। এছাড়া বজ পাতে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। এ মৌসুমি বজ্রপাতে ১ দিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। আরও দু-এক দিন কালবৈশাখী সমানতালে আঘাত হানতে পারে। দেশি-বিদেশি গবেষণা অনুযায়ী, দেশে গত কয়েক বছরে কালবৈশাখীর পাশাপাশি বজ্রপাতের হার বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে শুধু এপ্রিল-মে মাসেই বজ্রপাত বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। হাওর এবং উপকূলীয় এলাকায় এর মাত্রা আরও কয়েকগুণ বেশি। বজ্রপাতে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৩০১ জন মারা গেছেন বজ্রপাতে। এভাবে ২০১০ সালে ১২৪ জন, ২০১১ সালে ১৭৯ জন, ২০১২ সালে ৩০১ জন, ২০১৩ সালে ২৮৫ জন, ২০১৪ সালে ২১০ জন, ২০১৫ সালে ২৭৪ জন এবং ২০১৬ সালে প্রায় ৩৫০ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩ হতে ২০১৬ পর্যন্ত সংখ্যার যথাক্রমে ১২৮ জন, ৭৯ জন, ৯১ জন ও ১৩২ জন শুধু এপ্রিল-মে মাসেই বজ্রাঘাতে মারা গেছেন। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাইফুল বলেন, ২০১৬ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর এমন ঘটনার পরই ওই বছর ১৭ মে সরকার বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

বজ্রপাত কী ও কেনঃ মহাভারতের দেবরাজ ইন্দ্রের অব্যর্থ অস্ত্রের নাম ছিল ‘বজ্র’। অসুরদের পরাস্ত করতে দধীচি মুনির বুকের অস্থিতে বানানো হয়েছিল এই অস্ত্র। সেসব পুরাণের কথা। জলবায়ু পরিবর্তন আর দুর্যোগের এই যুগে বজ্রের সংজ্ঞা ‘ঝড়বৃষ্টির সময় আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানির সঙ্গে সৃষ্ট প্রচ শব্দ’। প্রশ্ন ওঠে- কীভাবে হয় এই বজ্রপাত?

প্রাকৃতিকভাবেই বায়ুমণ্ডলে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়ে মেঘে জমা থাকে। এই বিদ্যুৎ মেঘে দুটি চার্জ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক হিসেবে থাকে। বিপরীত বিদ্যুৎশক্তির দুটো মেঘ কাছাকাছি এলেই পারস্পরিক আকর্ষণে চার্জ বিনিময় হয়। ফলে বিদ্যুৎ চমকায়। মেঘের নিচের অংশ ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। আবার ভূপৃষ্ঠে থাকে ধনাত্মক চার্জ। দুই চার্জ মিলিত হয়ে তৈরি করে একটি ঊর্ধ্বমুখী বিদ্যুৎপ্রবাহ রেখা, যা প্রচণ্ড বেগে উপরের দিকে উঠে যায়। ঊর্ধ্বমুখী এই বিদ্যুৎপ্রবাহ উজ্জ্বল আলোর যে বিদ্যুৎপ্রবাহের সৃষ্টি করে তা-ই বজ্রপাত। বজ্রপাতের তাপ ৩০ থেকে ৬০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, আকাশে যে মেঘ তৈরি হয়, তার ২৫ থেকে ৭৫ হাজার ফুটের মধ্যে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে বেশি। বজ্রপাতের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৬০ হাজার মিটার বেগে নিচে নেমে যায়। এই বিপুল পরিমাণ তাপসহ বজ্র মানুষের দেহের ওপর পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যু হয়।


বজ্রপাতের স্থায়িত্বকাল এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ। ঠিক এই সময়েই বজ্রপাতের প্রভাবে বাতাস সূর্যপৃষ্ঠের পাঁচ গুণ বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। শব্দের গতি আলোর গতির থেকে কম হওয়ায় বজ্রপাতের পরই শব্দ শোনা যায়। বজ্রপাত ভূমিকম্পের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। একটি বজ্রপাতে প্রায় ৫০ হাজার অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎশক্তি থাকে। অথচ বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ চলে গড়ে ১৫ অ্যাম্পিয়ারে। একটি বজ্র কখনও কখনও ৩০ মিলিয়ন ভোল্ট বিদ্যুৎ নিয়েও আকাশে জ্বলে ওঠে। বাংলাদেশে বছরের দুটি মৌসুমে বজ্রপাত বেশি হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সাপ্তাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে বজ্রঝড়। কাল বৈশাখীর বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা দুনিয়ার বুকে বাংলাদেশেই বেশি। দুর্যোগের বলয়ে বন্দি বাংলাদেশের বুকে এই বজ্রদুর্যোগ দীর্ঘ করছে মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশে বজ্রপাতের ওপর তেমন কোনো গবেষণা না হলেও ইউরোপ, জাপান ও আমেরিকায় চলছে বিস্তর গবেষণা। ২০০৮ সালে সুইডেনের উপসালায় অনুষ্ঠিত ২৯তম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন লাইটিং প্রটেকশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওফিজিক্স বিভাগের গবেষক কলিন প্রাইস তার ‘থান্ডারস্টর্ম, লাইটিং অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে দেখান, বায়ুদূষণ তথা পরিবেশ দূষণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বজ্রপাতের।

এ নিবন্ধে বলা হয়, বজ্রপাতে একদিকে যেমন বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বায়ুদূষণের ফলে বেড়েছে পরিবেশে বজ্রপাতের হার ও এর তীব্রতা।বজ্রপাতের ভয়াবহতা ও প্রতিকারের উপায় নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গবেষণার জন্য ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সার্ক মিটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (এসএমআরসি)। যোগাযোগ করা হলে এসএমআরসির গবেষণা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান সমকালকে বলেন, ‘বজ্রপাতের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের বজ্রপাতের প্রবণতা নিয়ে সার্ক স্টর্ম প্রজেক্ট নামে আমাদের গবেষণা চলছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বজ্রপাত-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১২০ দিন বজ্রপাত হচ্ছে বলে গবেষণায় প্রকাশ। বজ্রপাতের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ দূষণের কারণেও বজ্রপাতের হার বেড়ে গেছে। হঠাৎ এই বজ্রপাত বৃদ্ধি এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে কেন? আবহাওয়াবিদদের কাছে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলেও নেই কোনো প্রস্তুতি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের মাথাব্যথা না থাকলেও বজ্রপাত গবেষণায় বিশ্ব থেমে নেই। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বজ্রপাতের পেছনে বায়ুদূষণ অন্যতম কারণ। বজ্রপাতকে আবহাওয়া সম্পর্কিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কেউ কেউ।

বজ্রপাত গবেষণায় বাংলাদেশে সর্বাধিক মৃত্যুঃ বুয়েটের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যান তার এক-চতুর্থাংশ মারা যান এ দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির অধ্যাপক ড. টমাস ডবি্লউ স্মিডলিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবেলিটি’ শীর্ষক গবেষণা থেকে দেখা যায়, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়। গবেষণায় তিনি বলেন, বজ্রপাতে বছরে মাত্র দেড়শ’র মতো লোকের মৃত্যুর খবর বাংলাদেশের পত্রিকায় ছাপা হলেও আসলে এ সংখ্যা ৫০০ থেকে এক হাজার। গবেষণায় টমাস দেখান যে, ঝড় ও বজ্রঝড়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে বাংলাদেশে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমস্টেম্ফরিক রিসার্র্চের (এনসিএআর) বিজ্ঞানী ডেভিড এডওয়ার্ডস গবেষণায় খুঁজে পান, বায়ুমতা বাড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি শহরে এ গবেষণা করা হয়। ২০০৪ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক নিউজ বজ্রপাতকে আবহাওয়া সম্পর্কিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে। বিশ্বখ্যাত সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত ‘গ্গ্নোবাল ওয়ার্মিং লাইকলি টু ইনক্রিস স্টর্মি ওয়েদার, স্পেশালি ইন সার্টেন ইউএস লোকেশন’ শীর্ষক পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আবহাওয়া অনুকূল হবে, না তীব্র ঝড়বৃষ্টির মধ্যে প্রতিকূল হবে, তা বজ্রপাতের ধরনের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশে বজ্রপাতে সাম্প্রতিককালে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। এক সেমিনারে তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতিবিদরা মানুষকে মানুষ নয়, ভোটার মনে করি। রাজনীতিবিদরা যদি মনে করেন, আমার ভোটার মারা যাচ্ছে তখন হয়তো বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তবে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হক সমকালকে বলেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই বজ্রপাত হয়। এটা নিয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি জানান, বজ্রপাত নিয়ে অধিদফতরে কোনো গবেষণা বা প্রকল্প নেই। আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ফারাহ দীবা সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে যে দুটি মৌসুমে বজ্রপাত বেশি হয়, এর একটি হলো প্রাইমারি সামার (এপ্রিল থেকে মে)। এ সময় ভার্টিক্যাল ক্লাউড বা স্তম্ভ মেঘ থাকে বলে বজ্রপাত আর কালবৈশাখী হয়। বজ্রপাতে প্রতি বছর গড়ে দুই-তিনশ’ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বজ্রপাত নিয়ে আমাদের অধিদফতরে কোনো জরিপ বা গবেষণা নেই। আমরা শুধু বজ্রপাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের গবেষণা কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা জানান, বজ্রপাত নিয়ে তাদেরও কোনো গবেষণা নেই।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বজ্রপাতের কারণ ও ফলাফল সংক্রান্ত কোনো গবেষণা হয়নি। তবে সম্প্রতি বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন ব্যবহার মানুষের ওপর বজ্রপাতের আশঙ্কা বাড়ায়। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার খুবই বিপজ্জনক। একজন মানুষের সঙ্গে যখন সচল মোবাইল বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থাকে, তখন তা একটি সার্কিট হয়ে যায়। ওই সার্কিটের মধ্য দিয়ে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ প্রবাহ ভেতরে প্রবেশ করে।’ বজ্রপাত বিষয়ে কোনো গবেষণা নেই বলে জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ। পরিবেশ অধিদফতরের হিসাব :বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বাতাসে কার্বনের পরিমাণ চার শতাংশের বেশি বেড়েছে গত কয়েক বছরে। বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রামকে সহনীয় পর্যায়ে ধরা হলেও সেখানে রাজধানীর এলাকাভেদে বাতাসে এ ধরনের উপাদান প্রতি ঘনমিটারে ৬৬৫ থেকে দুই হাজার ৪৫৬ মাইক্রোগ্রাম বা তারও বেশি পরিমাণ পাওয়া গেছে। বজ্রপাতের পরপরই ট্রপোস্টিম্ফয়ার বা বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে নিচের স্তরে নাইট্রোজেন অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে। কার্বন ডাইঅক্সাইড বা কার্বন মনো-অক্সাইডের চেয়ে বেশি বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড রূপান্তরিত হয়ে তা রীতিমতো পরিণত হয় ওজোন গ্যাসে। এ গ্যাস বাতাসের এমন একটি স্থানে ভেসে বেড়ায়, যার ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে বায়ুদূষণের মাত্রা।

বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার কৌশলঃ

বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. সমরেন্দ্র কর্মকার জানান, বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার কৌশল বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশের আগে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। সাধারণত মার্চ থেকে শুরু করে মে পর্যন্ত চলে এ ঝড়। আগেরদিনে গ্রামের মানুষ বলত বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে বেশি কালবৈশাখী ঝড় হয়ে থাকে। কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বেশি বজ্রপাত ঘটে এবং মানুষ বেশি মারা যায়। আবহাওয়া বিজ্ঞানে বলা হয়, গ্রীষ্মকালে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে বাতাস গরম হয়ে উপরে উঠতে থাকে। জলীয়বাষ্পও উপরে উঠে আর মেঘের ভিতর যত বেশি পরিমাণে জলীয়বাষ্প ঢুকবে তত বেশি উলম্ব মেঘের সৃষ্টি হবে। এ সময় ‘আপ ড্রাফ’ এবং ‘ডাউন ড্রাফ’ বাতাসে চলতে থাকে। একে বলা হয় বজ্রমেঘ। মেঘের উপরের অংশে পজেটিভ এবং নিচের ও মধ্য অংশে নেগেটিভ বিদ্যুত্ তৈরি হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘের ভিতরের বিদ্যুত্ আধারে দূরত্ব বেড়ে গেলে প্রকৃতির নিয়মে ভারসাম্য আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘ থেকে বিদ্যুত্ আদান-প্রদান শুরু হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ বিদ্যুত্ সঞ্চালন শুরু হলে বজ্রের সৃষ্টি হয়। আর তখনই বজ্রপাত হতে থাকে। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘ একত্র হলে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের ফলে বাতাসের তাপমাত্রা ২০ হাজার ডিগ্রি থেকে ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে। মেঘের ভিতর থাকা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের সমপ্রসারণ ঘটে। গ্যাসের কম্পনের ফলে মেঘের গর্জন সৃষ্টি হয়। বজ্র সৃষ্টি হয়ে তা পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়াটিও বেশ জটিল বলে জানান ড. সমন্দ্রে কর্মকার। বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাও খুবই কঠিন। তবে সতর্ক হলে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যেতে পারে বলে তিনি জানান ।

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশের আগ মুহূর্তে ঘন কালো মেঘ দেখলেই সাবধান হতে হবে। গুরগুর মেঘের ডাক শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। পাকা বাড়িতে আশ্রয় বেশি নিরাপদ। গাড়ির ভিতরও আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। গাছের নিচে, টেলিফোনের খুঁটির পাশে বা বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের খাম্বার পাশে দাঁড়ানো মোটেই নিরাপদ নয়। ফাঁকা মাঠের মধ্যে অবস্থান সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে তিনি জানান। পানির সংস্পর্শে মোটেই যাওয়া যাবে না। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে কালবৈশাখী দুপুরের পরে হয়ে থাকে। এরপর মে’র শেষ পর্যন্ত সকালেও হয়ে থাকে। পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর আকাশে মেঘের গুরগুর গর্জন শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে বিদ্যুত্ চমকালে বজ্রপাতে মৃত্যুর আশংকা কম থাকে। আর বৃষ্টি ও মেঘের গর্জন না থামা পর্যন্ত নিরাপদে থাকা বাঞ্ছনীয় বলে জানান ড. কর্মকার। বজ্রপাতের আওয়াজ শোনার আগেই তা মাটি স্পর্শ করে। সোজাসুজি মানুষের গায়ে পড়লে মৃত্যু অবধারিত। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করাও বিপজ্জনক। শুকনা কাঠ দিয়ে ধাক্কা দিতে হবে। তিনি জানান, বজ্রপাতের সম্ভাবনা আবহাওয়া বিভাগের রাডারে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘নাউকাস্টনিং’ পদ্ধতিতে মিডিয়াতে প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ স্থানে যেতে পারে। এতে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। ঝড়ের পূর্বাভাস দেখলে কখনো খোলা মাঠ, পাহাড়ের চূড়া, সমুদ্রসৈকতে অবস্থান করবেন না। গাছের নিচে, বিদ্যুতের খুঁটি বা তারের নিচে, পুরনো-জীর্ণ বাড়ির নিচে অবস্থান করবেন না। চলন্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে গাড়িতে অবস্থান করুন। কোনো কর্ডযুক্ত ফোন ব্যবহার করবেন না। মাটির সঙ্গে সংযু্ক্ত ধাতব পদার্থে হাত বা হেলান দিয়ে দাঁড়াবেন না। বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত পানির ফোয়ারায় গোসল করবেন না। মরা কিংবা পচন ধরা গাছ ও খুঁটি কেটে ফেলুন। বাসা, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হলে বিদ্যুতে সব সুইচ বন্ধ রাখুন, দরজা-জানালা ভালোমতো বন্ধ রাখুন। এ সময় সর্তক করার আরেকটি কারণ হচ্ছে, এপ্রিল, মে, জুন, এ তিন মাস আমাদের দেশে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা বেশি থাকে। সবাই সচেতন হই, নিরাপদ থাকি, এটিই প্রত্যাশা।

*বিজ্ঞান* *ঝড়* *বৃষ্টি* *বজ্রপাত* *বাংলাদেশ* *রোধ*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে করণীয় কি?

উত্তর দাও (২ টি উত্তর আছে )

.
*বজ্রপাত* *প্রাকৃতিকদুর্যোগ*
ছবি

হোস্টিং বাংলাদেশ: ফটো পোস্ট করেছে

বজ্রপাত: আতংকিত নয়, সচেতন হোন

*বজ্রপাত* *সচেতনতা* *বর্ষাকাল* *সাবধানতা*

সাদাত সাদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কীভাবে মেঘের মধ্যে এমন তীব্র আলোর ঝলকানি আর কান ফাটানো বুক কাঁপানো শব্দের সৃষ্টি হয়? এ প্রশ্ন হয়তো আমাদের সবারই!

বিজ্ঞানী বেন ফ্রাঙ্কলিন প্রথম এর রহস্য উন্মোচন করেন। রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রমাণ করেন এটা একটা বৈদ্যুতিক ঘটনা। এইটা প্রমাণ করার জন্য তিনি বজ্রপাতের সময় ঘুড়ি উড়িয়েছিলেন। যদিও এসময়টাতে এমন কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত তিনি অক্ষত থেকেই প্রমাণ করেছিলেন বজ্রপাত এক ধরনের বৈদ্যুতিক প্রবাহ।

কীভাবে ঘটে
ভূপৃষ্ঠ থেকে যতো উপরে যাওয়া যাবে তাপমাত্রা ততো কমতে থাকে। এই তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণেই কিন্তু জলীয়বাষ্প জমে বৃষ্টি আকারে ভূপৃষ্ঠে ঝড়ে। এই কারণেই যেখানে মেঘ জমে সেখানে দুইটি স্তর তৈরি হয়: নিচের স্তরে থাকে পানির ফোঁটা সমৃদ্ধ অপেক্ষাকৃত গরম বাতাস আর উপরের স্তরে থাকে বরফের টুকরা সমৃদ্ধ ঠাণ্ডা বাতা। এই দুই স্তর যখন কাছাকাছি আসে, গরম বাতাস উপরের দিকে উঠে যায় তখনই এটি ‘বজ্রমেঘ’ তৈরি করে। ঝড় বা প্রবল বায়ু প্রবাহের সময় পানির ফোঁটা আর বরফের টুকরাগুলোর সংঘর্ষ হয় এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘর্ষণের সময় মেঘের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আধানের সৃষ্টি হয়। যেমন: দুটি বেলুনের মধ্যে, অথবা মাথার চুল আর প্লাস্টিকের চিরুনির মধ্যে সংঘর্ষে স্থির বিদ্যুতের সৃষ্টি হয় ঘটনাটি অনেকটা সেরকমই।

এই স্থির বৈদ্যুতিক চার্জের মধ্যে আবার পজিটিভ (ধনাত্বক) ও নেগেটিভ (ঋণাত্বক) প্রান্ত থাকে, যেমন একটি ব্যাটারিতে থাকে তেমন। ধনাত্বক আধান বিশিষ্ট মেঘ থাকে উপরে আর ঋণাত্বক আধান বিশিষ্ট মেঘ থাকে নিচের দিকে। নিচের এই ঋণাত্বক আধান (চার্জ) যখন যথেষ্ট শক্তিশালী হয় অর্থাৎ বিভব পার্থক্য অত্যন্ত বেড়ে যায় তখনই এই মেঘ শক্তি ক্ষরণ করে।

এই দানবীয় শক্তি প্রবাহিত হয় বাতাসের ভেতর দিয়ে। আধান প্রবাহ (শক্তি) সেদিকেই যায় যেদিকে থাকে এর ঠিক বিপরীত আধান অর্থাৎ ধনাত্বক আধান। পৃথিবীর উপরি অংশ যেহেতু ধনাত্বক আধান সমৃদ্ধ সেকারণে এই আধান প্রবাহ ভূপৃষ্ঠেও চলে আসে। তখনই হয় বজ্রপাত। ভূপৃষ্ঠের ধনাত্বক আধানের সংস্পর্শে এসে এই তীব্র ঋণাত্বক আধান প্রবাহ আধান নিরপেক্ষ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ চমকানো বলতে যেটা বুঝি সেটা হলো বজ্রপাতের আগমুহূর্তের আলোর ঝলকানি। এটা ওই ঋণাত্বক বিদ্যুৎ আধান প্রবাহের ফলেই সৃষ্টি হয়। এটি মেঘ থেকে পৃথিবীতে আসতে পারে আবার অন্য মেঘেও যেতে পারে। তবে এই আলোর ঝলকানি আঁকাবাঁকা কেন হয় তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়।

ঋণাত্বক আধানের প্রবাহ যখন ধনাত্বক আধানের কোনো আধার খুঁজে পায় তখনই এই আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এটা অনেকটা বৈদ্যুতিক স্পার্কের মতো। এই স্পার্ক বাতাসের তাপামাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাতাস দ্রুত প্রসারিত হয়। এই দ্রুত প্রসারণই তীব্র শব্দ বা নিনাদের জন্ম দেয়। তখনই আমরা বাজ পড়ার শব্দ পাই।

বজ্রপাত যেখানে হয় সেখানে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে যায়। এর কারণ হলো ওই বাতাসের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। এই সময় বাতাসের তাপমাত্রা নিমেষের মধ্যে ২০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়!

আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, বজ্রপাতের আলোর ঝলকানি দেখার কিছু সময় পর আমরা শব্দ পাই। এর কারণ হলো আলোর গতি যেখানে সেকেন্ডে ৩০ কোটি মিটার সেখানে শব্দের গতি মাত্র সেকেন্ডে ৩০০ মিটার।

ফলে শব্দ শুনে বজ্রপাতের স্থান নির্ধারণ করতে চাইলে এই গতির পার্থক্যটা হিসাব করতে হয়। আলোর ঝলকানি এবং শব্দ শোনার মধ্যে প্রতি ৪ সেকেন্ড পার্থক্যের কারণে বজ্রপাতের স্থান হয় শ্রোতার কাছ থেকে এক মাইল দূরে

*বজ্রপাত*

নিরাপদ নিউজ: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যু কেন বাড়ছে?
বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টিকে বাংলাদেশে এতদিন তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে বিষয়টিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিস্তারিত পড়ুন - http://www.nirapadnews.com/2016/05/14/news-id:154034/
*বজ্রপাতে_মৃত্যু* *বজ্রপাত* *মৃত্যু* *ভাগ্য* *আড্ডা*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 দুর্ঘটনা এড়াতে বজ্রপাতের সময় আমাদের কি করণীয় আছে?

উত্তর দাও (৮ টি উত্তর আছে )

.
*বজ্রপাত* *প্রাকৃতিকদুর্যোগ*

আমানুল্লাহ সরকার: বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকুন https://www.youtube.com/watch?v=eNxDgd3D_bU

*বজ্রপাত*
ছবি

রনি রহমান: ফটো পোস্ট করেছে

বজ্রপাতের সময় করণীয়

# খোলা বা উঁচু স্থান থেকে দূরে থাকা ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু স্থানে থাকা যাবে না। পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়াই সুরক্ষার কাজ হবে। # উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকা কোথাও বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এসব স্থানে আশ্রয় নেওয়া যাবে না। # জানালা থেকে দূরে থাকা বজ্রপাতের সময় ঘরের জানালার কাছাকাছি থাকা যাবে না। জানালা বন্ধ রেখে ঘরের ভেতর থাকতে হবে। # ধাতব বস্তু স্পর্শ না করা বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করা যাবে না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করা যাবে না। # বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরা যাবে না। চালু থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে, নাহলে নষ্ট হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা। বজ্রপাতের আভাস পেলে প্লাগ খুলে এগুলো বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। # গাড়ির ভেতর থাকলে বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে থাকলে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া যে পারে। গাড়ির ভেতরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। # গগণচুম্বী স্থান থেকে নিজেকে সরাতে হবে এমন কোনো স্থানে যাওয়া যাবে না যে স্থানে নিজেই ভৌগলিক সীমার সবকিছুর উপরে। এ সময় ধানক্ষেত বা বড় মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যেতে হবে। বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু কোনো স্থানে থাকলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে যেতে হবে। # পানি থেকে দূরে থাকা বজ্রপাতের সময় নদী, জলাশয় বা জলাবদ্ধ স্থান থেকে সরে যেতে হবে। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী তাই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। # পরস্পর দূরে থাকতে হবে বজ্রপাতে সময় কয়েকজন জড়ো হওয়া অবস্থায় থাকা যাবে না। ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে সরে যেতে হবে। # নিচু হয়ে বসা যদি বজ্রপাত হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে চোখ বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু এ সময় মাটিয়ে শুয়ে পড়া যাবে না। মাটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। # রবারের বুট পরিধান বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। এ সময় বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাবারের জুতা সবচেয়ে নিরাপদ। # বাড়ি সুরক্ষিত করতে হবে বজ্রপাত থেকে বাড়িকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যব

*বজ্রপাত*

নাহিন: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঝড়ের কবল থেকে বাঁচার সহজ কোন উপায় না থাকলেও কয়েকটি কৌশল প্রয়োগ করে বজ্রপাত থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায়। বজ্রপাত চলাকালে খোলা মাঠে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ মাটির দিকে নেমে আসার সময় তাকে মাধ্যম বানায়। তাই বজ্রপাত চলাকালে কতিপয় সাবধানতা অবলম্বন করুন।

১. উঁচু জায়গায় বা খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

২. খোলা জায়গায় থাকলে ছাতা ব্যবহার করবেন না।

৩. গাছের নীচে আশ্রয় নিবেন না।

৪. বাইরে হাটার সময় বজ্রপাত দেখা দিলে দ্রুত মাটিতে বসে পড়ুন

৫. বাড়িতে আশ্রয় নিন। তবে ঘরের বাইরে উঁচু এন্টেনা থাকলে তা টিভি থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাটির সংস্পর্শে রাখতে হবে। এছাড়া খোলা মাঠে আশেপাশে উঁচু বৃক্ষবিহীন এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করলে সেটিও বজ্রপাতে আক্রান্ত হতে পারে। ভবনের উপরে একটি খুঁটির সাথে লোহার তার স্থাপন করে তা মাটির সাথে সংযুক্ত করে দিলে উঁচু ভবনও বজ্রপাত থেকে রক্ষা পায়। এ পদ্ধতিতে টিভিও চালু রাখা যায়।

৬. আপনার বাসার বিদ্যুৎ নিরোধক যন্ত্রের (Lightning protector ) কার্যকারিতা যাঁচাই করুন (যদি থাকে)। পূর্ব প্রস্তুতি নিন এবং নিরাপদ থাকুন।

৭. বাসা থেকে বের হবার পূর্বে কম্পিউটার, টিভি ও অন্যান্য বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতির, সম্ভব হলে, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।

৮. পরিবারের সকলের মধ্যে বজ্রপাতের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা জাগ্রত করুন এবং বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক ও যোগাযোগ তার সমূহ ( টিভির এন্টেনা, ডিসের এ্যান্টেনা, টেলিফোনের তার ইত্যাদি ) বিচ্ছিন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৯. বিদ্যুৎ চমকানোর কারনে ভোল্টেজ প্রচন্ড ভাবে উঠা-নামা করে। এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য বাসার টেলিফোন সেট, কর্ডলেস ফোন, টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সাউন্ড সিস্টেম, ইন্টারনেট লাইন ইত্যাদির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখুন।

১০. সম্ভব হলে মেইন পাওয়ার সুইচ বন্ধ করুন। কারণ প্রচন্ড বজ্রপাতে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১১. কার বা জীপে আরোহনরত থাকলে গাড়ীর দরজা ও জানালা বন্ধ রাখুন। এটি সরাসরি বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা কমাবে এবং তীব্র শব্দের সরাসরি আঘাত হতে আপনাকে রক্ষা করবে।

১২. মোটরসাইকেল, সাইকেল চালকরা বাইক/সাইকেল থেকে নেমে পড়ুন এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজুন।

১৩. বড় গাছের নিচে কখনও অবস্হান করবেন না কারণ গাছ বিদ্যুৎ সুপরিবাহী ও বিদ্যুৎ আকর্র্ষী।

১৪. ঝড়ের সময় গ্যাসোলিন জাতীয় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার পরিহার করুন।

১৫. শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হোন। কারণ বজ্রপাতের বিকট শব্দে তারা ভীত হতে পারে। বজ্রমেঘ দেখা মাত্র শিশুদের খেলার মাঠ থেকে ডেকে নিন।

১৬. ঘরের সব দরজা জানালা বিশেষ করে কাঁচের জানালা বন্ধ রাখুন এবং লোহার রড, গ্রীল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

১৭. বিদ্যুৎ চমকানোর সময় স্টীলের হাতলের পরিবর্তে কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা বেশী নিরাপদ।

১৮. বজ্রমেঘ দেখে, চিনতে শিখুন। নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহন করুন। নিজের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করুন।

১৯. পুকুর, খাল, নদী বা এ জাতীয় জলাশয়ে অবস্হান করবেন না। কারন এসব জলাশয়ে বজ্রপাত হলে পুরো জলাশয়টি উচ্চ ভোল্টেজ এ পরিনত হবে। আপনি যদি উম্মুক্ত স্হানে নৌকায় অবস্হান করেন তবে যত দ্রুত সম্ভব ভূমিতে নামার চেষ্টা করুন।

২০. তীব্র বজ্রপাতের সময় কেউ ঘরের বাহিরে যাবেন না। আপনি যদি খোলা জায়গায় থাকেন তাহলে তবে দ্রুত নিকটতম যেকোন ঘরে ঢুকে পড়ুন। একান্তই সুযোগ না থাকলে বুকে হাত রেখে মাথা নিচু করে মাটিতে বসে পড়ুন। ( সিরিয়াস )

২১. বজ্রপাতের সময় জনবহুল এলাকা পরিহার করুন কারন আপনার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হলে তার দ্বারা আপনিও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হতে পারেন।

২২. যখন কোন ঘর বা আশ্রয় না থাকলে আপনার গোড়ালি বা পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরে ভর করে দু’হাঁটুর মধ্যে মাথা রেখে মাটিতে বসে থাকতে হবে।

২৩. শুষ্ক কোন গর্ত বা খাদ থাকলে তার মধ্যে ঢুকে পড়তে হবে।

২৪. কখনই কোন বৈদু্যতিক খুঁটির নিচে বা বড় বৃক্ষ অথবা টেলিফোনের খাম্বার নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না।

২৫. মনে রাখতে হবে যে কোন উঁচু অবস্থানের উপরে বজ্রপাত আছড়ে পরে বেশি।

২৬. বজ্রপাতের সময়ে যে কোন ঘরের মধ্যে আশ্রয় নেয়াই সর্বশ্রেয়।

২৭. ঘরে থাকলেও শয়ন অবস্থায় না থাকাই ভাল।

২৮. ঝড় এবং মেঘের গর্জন ও বিদ্যুত চমকানোর আগেই ঘরের মধ্যকার বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখুন।

২৯. মোবাইল ফোন ব্যবহার মানুষের ওপর বজ্রপাতের আশঙ্কা বাড়ায়। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার খুবই বিপজ্জনক। একজন মানুষের সঙ্গে যখন সচল মোবাইল বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থাকে, তখন তা একটি সার্কিট হয়ে যায়। ওই সার্কিটের মধ্য দিয়ে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ প্রবাহ ভেতরে প্রবেশ করে। তাই সতর্কতা জরুরী।

৩০. আগাম আবহাওয়া বার্তা জেনে সময়মতো কাজ সম্পন্ন করে ঘরে ফেরা দরকার।

*বজ্রপাত* *ঠাটা* *বাজপড়া*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★