বাংলা

বাংলা নিয়ে কি ভাবছো?

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন কোন দেশে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়?

উত্তর দাও (০ টি উত্তর আছে )

*ভারত* *বাংলাদেশ* *ভাষা* *বাংলা* *বাংলাভাষা*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 বিশ্বের কোন কোন দেশের দাফতরিক ভাষা বাংলা?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*ভাষা* *বাংলা* *বাংলাভাষা*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 বাংলা ইশারা ভাষা দিবস কবে? এই দিবসের সূচনা কিভাবে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*বাংলা* *ইশারাভাষা* *ভাষাদিবস*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 আপনার প্রিয় বাংলা লেখক কে? এবং কেন?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*প্রিয়লেখক* *বাংলা* *বাংলালেখক*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 কিভাবে আমি আমার বাংলা শব্দভাণ্ডার বাড়াতে পারি ?

উত্তর দাও (০ টি উত্তর আছে )

*বাংলা* *বাংলাভাষা* *শব্দভাণ্ডার*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণে দুটি 'ব' এর যথার্থতা কী?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*বাংলা* *ব্যঞ্জনবর্ণ* *ব*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইন্টারনেট আর হলিউডি মুভির কল্যাণে ফ্রীম্যাসনারি, ইল্যুমিনাটির মত গুপ্তসংঘ বা কাল্ট সম্পর্কে অনেকেরই জানা আছে। অবাক ব্যপার ১৮ শতকে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে এমনই এক গুপ্তসংঘের অস্তিত্ব ছিল।

'ঠগী', ইংরেজীতে 'Thugee', যে শব্দ থেকে এসেছে এখনকার বাংলায় 'ঠক', 'ঠকানো' শব্দগুলো; আভিধানিক অর্থ হচ্ছে 'প্রতারক'। ঠগী গুপ্তসংঘের সদস্যরা বিচরণ করত উপমহাদেশের পথে-প্রান্তরে; রিচুয়াল বা রীতিনীতি লক্ষ্য করলে এদেরকে আদর্শ কাল্টের উদাহরণ হিসেবে বলা যাবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে ১৭ শতক থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বছরে গড়ে প্রতি বছর ৪০,০০০ পথিকের মৃত্যুর কারণ ঠগীরা।

ঠগীদের নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা ছিল যাকে বলা হয় রামসী (Ramasecane)। জমাদার বা দলপতির মুখে রামসীতে 'ঝিরণী উঠাও' (গলায় ফাঁস লাগানোর সংকেত) কিংবা 'তামাকু লাও' ডাকের সাথেই হতভাগ্য শিকারের গলায় চেপে বসতো ঠগীদের অদ্ভুত মারণাস্ত্র হলুদ একটি রুমাল যার এক প্রান্তে একটি আধুলী, কখনো দুইটি তামার টাকা বাঁধা। শুধু কি হত্যা, এমন শৈল্পিক উপায়ে মৃতদেহগুলো মাটিতে কবর দিত, যার নাম-নিশানা কোন ঠগী না দেখালে কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হত না। ঠগী থেকে কেন আধুনিক 'ঠক' বা 'ঠকানো' শব্দগুলো আসলো? তার কারণ ঠগীদের বিশেষত্ব ছিল পথিক কিংবা পথিকদলের সাথে তারা বন্ধুত্ব করত, পথ চলত একসাথে মাইলের পর মাইল, ক্রোশের পর ক্রোশ, সহযাত্রীরা একসাথে এক পাতেই খেত, তারপর নির্দিষ্ট স্থানে যেয়ে ঠিকই ঝিরনি উঠত, এতটুকু বুক কাঁপত না, পুরো পথিক দল যত বড়ই হোক না কেন ঠিকই হা-পিত্যেশ করে দিত। নিঁখুত প্রতারণার উদাহরণ, দেবী ভবানীর অন্ধভক্ত ঠগীরা নৃশংসতা আর লোমহর্ষক খুনে যাদের জুড়ি ছিল না।

উপমহাদেশে সে-সময় আরো এমন কাল্টের অস্তিত্ব ছিল; যেমন 'ধুতুরিয়া' (ধুতুরার বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করত), 'তুসমাবাজ ঠগ' (দড়ির খেলা দেখিয়ে বাজী ধরত, বাজী হারলে প্রতিপক্ষকে হত্যা করত), 'ম্যাকফানসা' (এরাও ফাঁস দিয়ে হত্যা করত), 'চন্ডাল' (নৌকা করে নদীতে-জলে যাত্রীদের হত্যা করত), 'ভাগিনা' (এরাও নদীতে বিচরণ করত, তবে রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল, রক্তপাতহীন হত্যা করত) - প্রতিটি কাল্টই নিজস্ব রীতিনীতিতে ইউনিক, তবে ঠগীর মত বৃহৎ ও চতুর গুপ্তসংঘ আর কেউই ছিলনা।

ঠগীরা দলবেঁধে বাস করত, কোন এক গ্রামে বসত গড়ে তুলত, সারা বছর সাধারণ গৃহস্থ, ঘরকন্না করত, ভিখারিকে ভিক্ষা দিত, জমিদারকে খাজনাও দিত, কিন্তু বর্ষা শেষে পথে নামলেই তারা ভিন্ন মানুষ, নির্দয়-নির্মম-নিখুঁত খুনী, পুরো দলই। ঠগীদের রিচুয়ালগুলো অদ্ভুত, তাদের সব কাজ দেবী ভবানীকে তুষ্ট করার জন্য; কোন পথিক দলের কাছে অর্থসম্পদ নেই, কিন্তু দেবীর সুলক্ষণ আছে, অতএব পুরো দলকেই খুন করা হবে, লুটের মাল থাকুক বা না থাকুক, নাহলে দেবী রুষ্ট হবেন যে! ঠগীদের মধ্যে মুসলমান ছিল, আবার হিন্দুও ছিল, ঠগী-ধর্ম এক অদ্ভুত সমন্বয়বাদ। এইযে শত শত বছরের কলঙ্কময় ইতিহাসের স্রষ্টা, নির্মম ঠগীরা নির্মূল হয় খুব অল্প সময়ের মাঝে, এক তরুণ কর্নেল উইলিয়াম হেনরী স্লীম্যানের অধ্যবসায়ে।

বাংলায় ঠগীদের নিয়ে কিছু তথ্যবহুল বই আছে। সবচেয়ে ভাল লেগেছে শ্রীপান্থের নন-ফিকশন 'ঠগী', কলকাতার দে'জ পাবলিশিং হতে ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত। এছাড়াও সংগ্রহে আছে নাজিমুদ্দীন আহমেদের 'মৃত্যুদূত-এক দুর্ধর্ষ ঠগের আত্মকাহিনী', ইউপিএল প্রকাশিত -কর্নেল টেলরের 'Confessions of a thug' অবলম্বনে রচিত হয়েছে, যে বইটি এক দুর্ধর্ষ ঠগী জমাদার আমীর আলীর ৭০০ হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি নিয়ে লেখা হয়েছে। এমিলিও স্যালগারির 'থাগস অব হিন্দুস্তান' বইয়ের অনুবাদ সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, এই উপন্যাসটিও বাংলায় সহজলভ্য।

(সূত্র: ঠগী - শ্রীপান্থ)

*ইতিহাস* *গুপ্তসংঘ* *বাংলা* *পথিক*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইয়ো ব্রো, অ্যাডভান্স হ্যাপি ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে। হোয়াট'স আপ, ডুড?

জানোই তো, কালকে টুয়েন্টি ফার্স্ট ফেব্রুয়ারি। সেলিব্রেট না করলে কি হয়? আফটার অল, এই দিনের আলাদা একটা ইম্পরট্যান্স আছে না? আরেহ, ইন দ্য ইয়ার নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ান, এই দিনেই তো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ডার্কনাইটে আর্মস নিয়ে, আমাদের মাম্মি ড্যাডিদের উপর এ্যাটাক করেছিলো। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউল তাদের লাইফ সেক্রিফাইজ করেছিলো। দেশের জন্য ব্লাড দিয়েছিলো।

হোয়াটএভার, বিশেষ দিন, বিশেষ মানুষকে নিয়ে বিশেষ প্ল্যান তো আছেই। ওয়াইট, কালকের সারাদিনের প্ল্যান তোমাকে ডেসক্রাইব করি।

গতকাল আমার গফ আর আমি সারা মার্কেট খুঁজে একুশে ফেব্রুয়ারির শপিং করেছি। লটস অব কেনাকাটা। কাপলদের জন্য বান্ডেল অফার ছিলো। অনেক সুন্দর ম্যাচিং করা পাঞ্জাবি আর শাড়ি। সাদা আর কালো রঙের। বড় বড় করে "অ আ ক খ" লিখা। খুব কিউট ড্রেস।

ও অবশ্য খুব টেনসনে ছিলো যে ওই শাড়ি পরলে ওকে কেমন লাগবে? স্মার্ট লাগবে কিনা? সুন্দর লাগবে কিনা? কারণ ওর বান্ধবীরা অনেকেই অনেক টাকার শপিং করেছে। দামি শাড়ি পরে সুন্দর করে সেজেগুজে ছবি তুলে ফেসবুকে, ইন্সটাগ্রামে আপলোড দিতে হবে। লাইক, কমেন্ট অন্যদের চেয়ে কম পড়লে আবার মান-সম্মানের ব্যাপার। আমি বলে দিয়েছি, "তোমাকেই সবচেয়ে বেশি সেক্সি লাগবে। পুরাই পাপিং হট।" এতে সে খুব খুশি হয়েছে। আমিও খুব এক্সাইটেড, ম্যান।

তো কাল দুপুরে বের হবো। একসাথে লাঞ্চ করবো। তারপর হাত ধরাধরি করে জার্নি বাই রিকসা; হুড তোলা থাকবে, পাশাপাশি এই কিছুক্ষণের জন্য সে লিপস্টিকও মুছে ফেলবে। আমার গায়ে সাদা পাঞ্জাবি; বুঝোই তো। ডেসটিনেসন; পুরো ঢাকা শহর। কুল ম্যান কুল। ও খুব রোমান্টিক তো। আর আজকাল এসব কে না করে, হুম?

অনেকে অবশ্য এইদিনে সকাল সকাল বের হয়ে শহীদ মিনারের দিকে যায়। আমরা যাবো না। আমি আর আমার গফ আবার ভীড় পছন্দ করি না। শহীদ মিনারে খুব ভীড় হবে। এতো ভীড়ের মাঝে ওদিকে যাবার কোন মানেই নেই।

আমাদের অবশ্য একবার শাহবাগ ফুলের দোকানের দিকে যেতে হবে। ওর আবার খুব শখ শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে সাদা-কালো রঙের ফুলের ঝুপড়ি মাথায় পরবে। ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে বলে কথা। সে শহীদ মিনারে যাবে না ঠিকই, তবে নিজেই একটা চলন্ত শহীদ মিনার সেঁজে ঘুরে বেড়াতে চায়।

প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্দ্যান, রমনা-টমনা ঘুরে তারপর কোথাও হ্যাংআউট করবো। ফাস্টফুড বা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বসবো; ঢাকায় আজকাল রুদ্ধদ্বার বৈঠকের অনেক জায়গা হয়েছে। একসাথে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করার প্ল্যান আছে। আমার গাড়ি থাকলে অবশ্য লংড্রাইভে যাওয়া যেতো; জাম্পিং কারের কথা কে বা জানে! হাজার হোক ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে বলে কথা। এছাড়া আজকাল, ভ্যালেন্টাইনস ডে আর একুশে ফেব্রুয়ারি তো একই কথা। একটা রঙ্গিন ভালোবাসা দিবস, আরেকটা সাদাকালো; এইতো পার্থক্য।

ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে যাবো আমার বেস্ট বাডিজের কাছে। ফ্রেন্ডরা মিলে পার্টি করবো, অনেক ফান হবে। সবাই মিলে কোনো একজনের বাসার রুফটপে বিরিয়ানী রান্না করে খাবো বা গ্রিল চিকেন উইথ নান। ইয়াম্মি ম্যান ইয়াম্মি।

সাউন্ড বক্স টক্স সব আগে থেকেই রেডি আছে। ডিজে পার্টি থকবে। আর আজকে থেকেই দেশাত্ববোধক গান, একুশে ফেব্রুয়ারির গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?" পিচ্চি পোলাপান দিয়ে এইসব হাবিজাবি বাজাচ্ছি। এইসব না বাজালে আবার খারাপ দেখা যায়।

ওই মিয়া কই যাও? পার্টি আভি বাকি হে মেরা দোস্ত। আসল জিনিস তো এরপর হবে। দুই বোতল ফরেইন আছে। পুরাই ইন্টারন্যাশনাল জিনিস, ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিটির। ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে বলে কথা।

চিয়ার্স হবে ম্যান, চিয়ার্স।

*ভাষারমাস* *বাংলা* *ইন্টারন্যাশনাল* *বাস্তবতা* *সংগ্রিহীত*

শ্রীলা উমা: আগে চাই *বাংলা* ভাষার গাঁথুনি ,তার পরে ইংরেজি শেখার পত্তন

*ভাষার-জন্য-ভালোবাসা* *বাংলা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পৃথিবীতে এমন অনেক জাতি আছে যারা বৈদেশিক আগ্রাসনের ফলে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি সব হারিয়ে অন্যের ভাষা, সংস্কৃতির উপর ভর করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। ঔপনিবেশিক যুগে যখন ইউরোপিয়ানরা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে শাসন, শোষণ আর আগ্রাসন চালিয়েছিল তখন অনেক জাতি নিজেদের ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য সব ভুলে পুরোদস্তুর দাসে পরিণত হয়েছিল। সামরিক আগ্রাসনের ফলে জাতি বিলুপ্তির ঘটনাও আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই।

কিন্তু যারা একবার জীবন দেওয়া শিখেছে তাদেরকে আর পদানত করে রাখা যায়নি। আমরা সেই গর্বিত জাতি যারা ভাষার জন্য, মাতৃভূমির জন্য, সংস্কৃতির জন্য জীবন দেওয়া শিখেছিলাম। এ কারণেই আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের স্বাধীনতা কেউ চিরতরে কেড়ে নিতে পারেনি। পৃথিবীতে ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার গৌরবোজ্জল ইতিহাস একমাত্র বাঙালি জাতিরই রয়েছে। এদেশের সূর্যসন্তানেরা সেদিন যদি ভাষার জন্য জীবন না দিতেন তবে আমরাও হয়ত আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলতাম। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি আমাদের মাতৃভাষার সেই গৌরবকে পূর্ণরূপে ধরে রাখতে পেরেছি নাকি কেবল দিবসের মধ্যে ভাষাশহীদদের সম্মানকে, বাংলা ভাষার গৌরবকে আবদ্ধ করে রেখেছি?

নিজ বাসভূমে সেই ভাষা এখন পরবাসী, তার অঙ্গে এখন বহুবিধ লজ্জার স্পর্শ। আমরা অধিকাংশই শুদ্ধরূপে বাংলা বলতে ও লিখতে পারি না কিন্তু সেটা সেখার জন্য ন্যুনতম চেষ্টাও করি না অথচ ইংরেজিতে এক লাইন শুদ্ধ বলতে পারাকে খুব গর্বের মনে করি। বাংলা বলার মধ্যেও ইংরেজি শব্দ ব্যবহারকে আধুনিকতা মনে করি। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তি একথা বলার চেষ্টা করেছিল যে বাংলা সাহিত্যের ভাষা, কিন্তু কাজের ভাষা নয়, উচ্চশিক্ষার বাহন নয়-সে কথাই আজ স্বাধীন দেশে যেন কার্যত সত্যে প্রমাণিত হচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কী থাকতে পারে? ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা ভাষার জন্য মায়া কান্না অঝোরে ঝরতে থাকে, কিন্তু এই দিবসেই কেবল আমরা ভাষার কথা স্মরণ করি, সারা বছর পড়ি ইংরেজি মাধ্যমে। উচ্চশিক্ষা, অফিস-আদালত, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারি এক কথায় উচ্চপর্যায়ের প্রায় সব অঙ্গনেই এখন রাজত্ব করছে বিদেশি ভাষা।

*ভাষা* *সংস্কৃতি* *আবেগ* *বাংলা* *স্বাধীনতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রকম নাটক বিভিন্ন চ্যানেল এ এসেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : মোশাররাফ করিম এর অভিনীত নাটকগুলো , লাভ এন্ড কোম্পানি , সাবিলা নূর , তাহসান অভিনীত উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু নাটক যেমন , সে রাতে বৃষ্টি ছিল , কথোপকথন , অপূর্ব , সজল অভিনীত তার বাহুতে মাথা রেখে , গোপন , টোয়েন্টি ওয়ান ২৮ ইত্যাদি।

ওপরের নাটকের নামকরন গুলো দেখলে মনে হবে সবগুলো নাটকের থিম একটাই : পরিণয় , সম্পর্ক। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যতিক্রম মোশাররফ করিমের নাটকগুলো , যার বেশিরভাগই হাস্যরসাত্মক এবং হাসি-তামাশা ভরপুর। পূর্বে , বাংলা নাটকের মধ্যে যেমন সমাজের বিভিন্ন্য দিক হাস্যরসাত্মকতার মধ্যে দিয়ে উঠে আসত , হানিফ সংকেত , ফরিদুর রেজা সাগর , হুমায়ুন আহমেদের পরিচালিত নাটকগুলো উপভোগ করতে মানুষ উঠেপড়ে লাগতো এখন সেটি আর দেখা যায় না। চ্যানেলগুলোর নাটকগুলো দেখলে যে কেউ ভেবে বসবে , এই দেশে প্রেমের জোয়ার বইছে !

এর পেছনে কারণ হতে পারে , বর্তমানের অখাদ্য , যৌন শুড়শুড়ি মূলক নাটক [ কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিনয় দেখলে মনে হবে তাদের উড়িয়ে এনে জুড়ে বসানো হয়েছে ] , গায়ক এবং সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের যখন ঢালাওভাবে নাটকে কাস্ট করা হয় , তখন নাটকের পরিমিতি সহজেই অনুমেয়। দেশে কি ভালো নাট্যাভিনেতার এতটাই অভাব পড়েছে ! আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ না করলেই নয় , প্রতি ঘন্টার খবর এবং নিউজের স্ক্রলিং বার। প্রায় প্রতি চ্যানেলেই খবর একটি নিয়মিত পরিবেশনা , যদিও দেশে ৪-৫ টি খবরের চ্যানেল রয়েছে। নাটক দেখতে বসে খবরের স্ক্রলিং শিরোনামে হঠাৎ-ই Breaking News দেখে চমকে ওঠা দর্শক খুঁজে পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ! আরেকটি দিক , চ্যানেল গুলোর অসম প্রতিযোগিতা , তবু এ প্রতিযোগিতা নাটক নিয়ে নয় ! , পণ্য প্রদর্শনী বা এডভার্টাইসমেন্ট কে পুঁজি করেই এক একটা চচ্যানেলের এ প্রতিযোগিতা , যা তাদের পণ্য প্রদর্শনীর স্থিতি দেখলে বোঝা যায় । নাটক দেখতে বসে একটু বিনোদনের আশায় এডভার্টাইসমেন্টের বদৌলতে ধৈর্য হারা হওয়া দর্শক পরে তার প্রিয় নাটক বাধ্য হয়েই খুঁজে নেয় অনলাইনে। কজনইবা এসব চ্যানেল দেখে ২০ মিনিটের জায়গায় ১ ঘন্টা সময় নষ্ট করবেন !! অনেকে আবার বিটিভির ইত্যাদি ছাড়া কোনো ঈদের অনুষ্ঠান দেখেন না !

নাটক পরিচালনায় পাশের দেশের সংস্কৃতি অনুসরণ , এ দেশের নাটকের সুনাম নষ্ট করছে । অপসংস্কৃতি জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশি নাটকে। জানি না , কবে বাংলা নাটকের সোনালী দিন ফিরে আসবে !

*নাটক* *বাংলা* *ঈদ* *তাহসান* *মোশারফকরিম* *হাসি-তামাশা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: Jhoom | Minar | Blockbuster Hit Song 2016 অসাধারণ একটা গান মিনার এর ।। https://www.youtube.com/watch?v=4hJSP3Q_cQI&feature=youtu.be

*মিনার* *বাংলা* *গান*

প্যাঁচা : বাংলা খুবই কঠিন ভাষা এবং কোন সেন্স মেইক করে না অনেকক্ষেত্রেই।শহীদুল্লাহ সাহেব এবার যতই গালাগালি দিক না কেন?ইংরেজীতে gentle breeze,বাংলায় মৃদুমন্দ হাওয়া...হিন্দী???তার উপর আছে বেশ আঞ্চলিকতার প্রভাব (যদিও আমি এটাই খুব পছন্দ করি)।শুদ্ধবাংলায় খারাপ কথা বলা বেশ কষ্টকর কারণ ঠিক মানায় না যেন কিন্তু ইংরেজিতে একটাই রূপ।তাই কাউকে কেবল শুদ্ধ বাংলা শেখালে,গালাগালি সে ইংরেজীতে করবে সেটাই স্বাভাবিক।হাহাহাহাহাহা...

*ভাষা* *বাংলা* *ইংরেজী* *মাতৃভাষা* *ভাষা-দিবস*
ছবি

Risingbd.com: ফটো পোস্ট করেছে

একটি "বাংলাদেশ"

একটি "বাংলাদেশ" তুমি জাগ্রত জনতার সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

*আড্ডা* *বাংলাদেশ* *বাংলা* *ভাগ্য* *যান্ত্রিকজীবন* *বেশম্ভব*
ছবি

MYandroidBD.com: ফটো পোস্ট করেছে

বাংলা ওয়েবসাইটে যেভাবে গুগল অ্যাডসেন্সের অ্যাড ব্যবহার করবেন! http://myandroidbd.com/adsoid-google-adsense

*বাংলা* *ওয়েবসাইট* *অ্যাডসেন্স*

ঈশান রাব্বি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অনেক আকাশ
- জীবনানন্দ দাশ

গানের সুরের মতো বিকালের দিকের বাতাসে
পৃথিবীর পথ ছেড়ে — সন্ধ্যার মেঘের রঙ খুঁজে
হৃদয় ভাসিয়া যায় — সেখানে সে কারে ভালোবাসে! —
পাখির মতন কেঁপে — ডানা মেলে — হিম চোখ বুজে
অধীর পাতার মতো পৃথিবীর মাঠের সবুজে
উড়ে উড়ে ঘর ছেড়ে কত দিকে গিয়েছে সে ভেসে —
নীড়ের মতন বুকে একবার তার মুখ গুঁজে
ঘুমাতে চেয়েছে, তবু — ব্যথা পেয়ে গেছে ফেঁসেঁ —
তখন ভোরের রোদে আকাশে মেঘের ঠোঁট উঠেছিল হেসে!

আলোর চুমায় এই পৃথিবীর হৃদয়ের জ্বর
কমে যায়; তাই নীল আকাশের স্বাদ–সচ্ছলতা–
পূর্ণ করে দিয়ে যায় পৃথিবীর ক্ষুধিত গহ্বর;
মানুষের অন্তরের অবসাদ — মৃত্যুর জড়তা
সমুদ্র ভাঙিয়া যায় — নক্ষত্রের সাথে কয় কথা
যখন নক্ষত্র তবু আকাশের অন্ধকার রাতে —
তখন হৃদয়ে জাগে নতুন যে — এক অধীরতা,
তাই লয়ে সেই উষ্ণ আকাশের চাই যে জড়াতে
গোধূলির মেঘে মেঘে, নক্ষত্রের মতো রব নক্ষত্রের সাথে!

আমারে দিয়েছ তুমি হৃদয়ের যে — এক ক্ষমতা
ওগো শক্তি, তার বেগে পৃথিবীর পিপাসার ভার
বাধা পায়, জেনে লয় লক্ষত্রের মতন স্বচ্ছতা!
আমারে করেছ তুমি অসহিষ্ণু — ব্যর্থ — চমৎকার!
জীবনের পারে থেকে যে দেখেছে মৃত্যুর ওপার,
কবর খুলেছে মুখ বার বার যার ইশারায়,
বীণার তারের মতো পৃথিবীর আকাঙক্ষার তার
তাহার আঘাত পেয়ে কেঁপে কেঁপে ছিড়ে শুধু যায়!
একাকী মেঘের মতো ভেসেছে সে — বৈকালের আলোয় — সন্ধ্যায়!

সে এসে পাখির মতো স্থির হয়ে বাঁধে নাই নীড় —
তাহার পাখায় শুধু লেগে আছে তীর — অস্থিরতা!
অধীর অন্তর তারে করিয়াছে অস্থির — অধীর!
তাহারই হৃদয় তারে দিয়েছে ব্যাধের মতো ব্যথা!
একবার তাই নীল আকাশের আলোর গাঢ়তা
তাহারে করেছে মুগ্ধ — অন্ধকার নক্ষত্র আবার
তাহারে নিয়েছে ডেকে — জেনেছে সে এই চঞ্চলতা
জীবনের; উড়ে উড়ে দেখেছে সে মরণের পার
এই উদ্বেলতা লয়ে নিশীথের সমুদ্রের মতো চমৎকার!

গোধূলির আলো লয়ে দুপুরে সে করিয়াছে খেলা,
স্বপ্ন দিয়ে দুই চোখ একা একা রেখেছে ঢাকি;
আকাশে আঁধার কেটে গিয়েছে যখন ভোরবেলা
সবাই এসেছে পথে, আসে নাই তবু সেই পাখি! —
নদীর কিনারে দূরে ডানা মেলে উড়েছে একাকী,
ছায়ার উপরে তার নিজের পাখায় ছায়া ফেলে
সাজায়েছে স্বপ্নের পরে তার হৃদয়ের ফাঁকি!
সূর্যের আলোর পরে নক্ষত্রের মতো আলো জ্বেলে
সন্ধ্যার আঁধার দিয়ে দিন তার ফেলেছে সে মুছে অবহেলে!

কেউ তারে দেখে নাই; মানুষের পথ ছেড়ে দূরে
হাড়ের মতন শাখা ছায়ার মতন পাতা লয়ে
যেইখানে পৃথিবীর মানুষের মতো ক্ষব্ধ হয়ে
কথা কয়, আকাঙক্ষার আলোড়নে চলিতেছে বয়ে
হেমন্তের নদী, ঢেউ ক্ষুধিতের মতো এক সুরে
হতাশ প্রাণের মতো অন্ধকারে ফেলিছে নিশ্বাস
তাহাদের মতো হয়ে তাহাদের সাথে গেছি রয়ে;
দূরে প’ড়ে পৃথিবীর ধূলা — মাটি — নদী — মাঠ — ঘাস —
পৃথিবীর সিন্ধু দূরে — আরো দূরে পৃথিবীর মেঘের আকাশ!

এখানে দেখেছি আমি জাগিয়াছ হে তুমি ক্ষমতা,
সুন্দর মুখের চেয়ে তুমি আরো ভীষণ, সুন্দর!
ঝড়ের হাওয়ার চেয়ে আরো শক্তি, আরো ভীষণতা
আমারে দিয়েছে ভয়! এইখানে পাহাড়ের পর
তুমি এসে বসিয়াছ — এই খানে অশান্ত সাগর
তোমারে এনেছি ডেকে — হে ক্ষমতা, তোমার বেদনা
পাহাড়ের বনে বনে তুলিতেছে বিদ্যুতের ফণা
তোমার স্ফুলিঙ্গ আমি, ওগো শক্তি — উল্লাসের মতন যন্ত্রণা!

আমার সকল ইচ্ছা প্রার্থনার ভাষার মতন
প্রেমিকের হৃদয়ের গানের মতন কেঁপে উঠে
তোমার প্রাণের কাছে একদিন পেয়েছে কখন!
সন্ধ্যার আলোর মতো পশ্চিম মেঘের বুকে ফুটে,
আঁধার রাতের মতো তারার আলোর দিকে ছুটে,
সিন্ধুর ঢেউয়ের মতো ঝড়ের হাওয়ার কোলে জেগে
সব আকাঙক্ষার বাঁধ একবার গেছে তার টুটে!
বিদ্যুতের পিছে পিছে ছুটে গেছি বিদ্যুতের বেগে!
নক্ষত্রের মতো আমি আকাশের নক্ষত্রের বুকে গেছি লেগে!

যে মুহূর্ত চলে গেছে — জীবনের যেই দিনগুলি
ফুরায়ে গিয়েছে সব, একবার আসে তারা ফিরে;
তোমার পায়ের চাপে তাদের করেছ তুমি ধূলি!
তোমার আঘাত দিয়ে তাদের গিয়েছ তুমি ছিঁড়ে!
হে ক্ষমতা, মনের ব্যথার মতো তাদের শরীরে
নিমেষে নিমেষে তুমি কতবার উঠেছিলে জেগে!
তারা সব ছলে গেছে — ভূতুড়ে পাতার মতো ভিড়ে
উত্তর — হাওয়ার মতো তুমি আজও রহিয়াছ লেগে!
যে সময় চলে গেছে তাও কাপে ক্ষমতার বিষ্ময়ে — আবেগে!

তুমি কাজ করে যাও, ওগো শক্তি, তোমার মতন!
আমারে তোমার হাতে একাকী দিয়েছি আমি ছেড়ে;
বেদনা — উল্লাসে তাই সমুদ্রের মতো ভরে মন! —
তাই কৌতুহল — তাই ক্ষুধা এসে হৃদয়েরে ঘেরে,
জোনাকির পথ ধরে তাই আকাশের নক্ষত্রেরে
দেখিতে চেয়েছি আমি, নিরাশার কোলে বসে একা
চেয়েছি আশারে আমি, বাঁধনের হাতে হেরে হেরে
চাহিয়াছি আকাশের মতো এক অগাধের দেখা! —
ভোরের মেঘের ঢেউয়ে মুছে দিয়ে রাতের মেঘের কালো রেখা!

আমিপ্রণয়িনী, তুমি হে অধীর, আমার প্রণয়ী!
আমার সকল প্রেম উঠেছে চোখের জলে ভেসে! —
প্রতিধ্বনির মতো হে ধ্বনি, তোমার কথা কহি
কেঁপে উঠে — হৃদয়ের সে যে কত আবেগে আবেশে!
সব ছেড়ে দিয়ে আমি তোমারে একাকী ভালোবেসে
তোমার ছায়ার মতো ফিরিয়াছি তোমার পিছনে!
তবুও হারায়ে গেছ, হঠাৎ কখন কাছে এসে
প্রেমিকের মতো তুমি মিশেছ আমার মনে মনে
বিদ্যুৎ জ্বালায়ে গেছ, আগুন নিভায়ে গেছ হঠাৎ গোপনে!

কেন তুমি আস যাও? — হে অস্থির, হবে নাকি ধীর!
কোনোদিন? — রৌদ্রের মতন তুমি সাগরের পরে
একবার — দুইবার জ্বলে উঠে হতেছ অস্থির! —
তারপর, চলে যাও কোন দূরে পশ্চিমে — উত্তরে —
ইন্দ্রধনুকের মতো তুমি সেইখানে উঠিতেছ জ্বলে,
চাঁদের আলোর মতো একবার রাত্রির সাগরে
খেলা কর — জোছনা চলে যায়, তবু তুমি যাও চলে
তার আগে; যা বলেছ একবার, যাবে নাকি আবার তা বলে!

যা পেয়েছি একবার, পাব নাকি আবার তা খুঁজে!
যেই রাত্রি যেই দিন একবার কয়ে গেল কথা
আমি চোখ বুজিবার আগে তারা গেল চোখ বুজে,
ক্ষীণ হয়ে নিভে গেল সলিতার আলোর স্পষ্টতা!
ব্যথার বুকের’ পরে আর এক ব্যথা — বিহ্বলতা
নেমে এল উল্লাস ফুরায়ে গেল নতুন উৎসবে;
আলো অন্ধকার দিয়ে বুনিতেছে শুধু এই ব্যথা,
দুলিতেছি এই ব্যথা — উল্লাসের সিন্ধুর বিপ্লবে!
সব শেষ হবে — তবু আলোড়ন, তা কি শেষ হবে!

সকল যেতেছে চলে — সব যায় নিভে — মুছে — ভেসে —
যে সুর থেমেছে তার স্মৃতি তবু বুকে জেগে রয়!
যে নদী হারায়ে যায় অন্ধকারে — রাতে — নিরুদ্দেশে,
তাহার চঞ্চল জল স্তব্ধ হয়ে কাঁপায় হৃদয়!
যে মুখ মিলায়ে যায় আবার ফিরিতে তারে হয়
গোপনে চোখের’ পরে — ব্যথিতের স্বপ্নের মতন!
ঘুমন্তের এই অশ্রু — কোন্‌ পীড়া — সে কোন্‌ বিস্ময়
জানায়ে দিতেছে এসে! — রাত্রি — দিন আমাদের মন
বর্তমান অতীতের গুহা ধরে একা একা ফিরিছে এমন!

আমরা মেঘের মতো হঠাৎ চাঁদের বুকে এসে
অনেক গভীর রাতে — একবার পৃথিবীর পানে
চেয়ে দেখি, আবার মেঘের মতো চুপে চুপে ভেসে
চলে যাই এক ক্ষীণ বাতাসের দুর্বল আহ্বানে
কোন্‌ দিকে পথ বেয়ে! — আমাদের কেউ কি তা জানে।
ফ্যাকাশে মেঘের মতো চাঁদের আকাশ পিছে রেখে
চলে যাই; কোন্‌ — এক রুগ্ন হাত আমাদের টানে?
পাখির মায়ের মতো আমাদের নিতেছে সে ডেকে
আরো আকাশের দিকে — অন্ধকারে, অন্য কারো আকাশের থেকে!

একদিন বুজিবে কি চারি দিকে রাত্রির গহ্বর!
নিবন্ত বাতির বুকে চুপে চুপে যেমন আঁধার
চলে আসে, ভালোবেসে — নুয়ে তার চোখের উপর
চুমো খায়, তারপর তারে কোলে টেনে লয় তার —
মাথার সকল স্বপ্ন, হৃদয়ের সকল সঞ্চার
একদিন সেই শূন্য সেই শীত — নদীর উপরে
ফুরাবে কি? দুলে দুলে অন্ধকারে তবুও আবার
আমার রক্তের ক্ষুধা নদীর ঢেউয়ের মতো স্বরে
গান গাবে, আকাশ উঠিবে কেঁপে আবার সে সংগীতের ঝড়ে!

পৃথিবীর — আকাশের পুরানো কে আত্মার মতন,
জেগে আছি; বাতাসের সাথে সাথে আমি চলি ভেসে,
পাহাড়ে হাওয়ার মতো ফিরিতেছে একা একা মন,
সিন্ধুর ঢেউয়ের মতো দুপুরের সমুদ্রের শেষে
চলিতেছে; কোন্‌ — এক দূর দেশ — কোন্‌ নিরুদ্দেশে
জন্ম তার হয়েছিল — সেইখানে উঠেছে সে বেড়ে;
দেহের ছায়ার মতো আমার মনের সাথে মেশে
কোন্‌ স্বপ্ন? — এ আকাশ ছেড়ে দিয়ে কোন্‌ আকাশেরে
খুঁজে ফিরি! — গুহার হাওয়ার মতো বন্দি হয়ে মন তব ফেরে!

গাছের শাখার জালে এলোমেলো আঁধারের মতো
হৃদয় খুঁজিছে পথ, ভেসে ভেসে — সে যে কারে চায়!
হিমেল হাওয়ার হাত তার হাড় করিছে আহত,
সেও কি শাখার মতো — পাতার মতন ঝরে যায়!
বনের বুকের গান তার মতো শব্দ করে গায়!
হৃদয়ের সুর তার সে যে কবে ফেলেছে হারায়ে!
অন্তরের আকাঙ্ক্ষারে — স্বপনেরে বিদায় জানায়
জীবন মৃত্যুর মাঝে চোখ বুজে একাকী দাঁড়ায়ে;
ঢেউয়ের ফেনার মতো ক্লান্ত হয়ে মিশিবে কি সে — ঢেউয়ের গায়ে!

হয়তো সে মিশে গেছে — তারে খুঁজে পাবে নাকো কেউ!
কেন যে সে এসেছিল পৃথিবীর কেহ কি তা জানে!
শীতের নদীর বুকে অস্থির হয়েছে যেই ঢেউ
শুনেছে সে উষ্ণ গান সমুদ্রের জলের আহ্বানে!
বিদ্যুতের মতো অল্প আয়ু তবু ছিল তার প্রাণে,
যে ঝড় ফুরায়ে যায় তাহার মতন বেগ লয়ে
যে প্রেম হয়েছে ক্ষুব্ধ সেই ব্যর্থ প্রেমিকের গানে
মিলায়েছে গান তার, তারপর চলে গেছে রয়ে।
সন্ধ্যার মেঘের রঙ কখন গিয়েছে তার অন্ধকার হয়ে!

তবুও নক্ষত্র এক জেগে আছে, সে যে তারে ডাকে!
পৃথিবী চায় নি যারে, মানুষ করেছে যারে ভয়
অনেক গভীর রাতে তারায় তারায় মুখ ঢাকে
তবুও সে! কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ চোখে ছবি দেখে একা জেগে রয়!
মানুষীর মতো? কিংবা আকাশের তারাটির মতো —
সেই দূর — প্রণয়িনী আমাদের পৃথিবীর নয়!
তার দৃষ্টি — তাড়নায় করেছে যে আমারে ব্যাহত —
ঘুমন্ত বাঘের বুকে বিষের বাণের মতো বিষম সে ক্ষত!

আলো আর অন্ধকারে তার ব্যথা — বিহ্বলতা লেগে,
তাহার বুকের রক্তে পৃথিবী হতেছে শুধু লাল! —
মেঘের চিলের মতো — দুরন্ত চিতার মতো বেগে
ছুটে যাই — পিছে ছুটে আসিতেছে বৈকাল — সকাল
পৃথিবীর — যেন কোন্‌ মায়াবীর নষ্ট ইন্দ্রজাল
কাঁদিতেছে ছিঁড়ে গিয়ে! কেঁপে কেঁপে পড়িতেছে ঝরে!
আরো কাছে আসিয়াছি তবু আজ — আরো কাছে কাল
আসিব তবুও আমি — দিন রাত্রি রয় পিছে পড়ে —
তারপর একদিন কুয়াশার মতো সব বাধা যাবে সরে!

সিন্ধুর ঢেউয়ের তলে অন্ধকার রাতের মতন
হৃদয় উঠিতে আছে কোলাহলে কেঁপে বারবার!
কোথায় রয়েছে আলো জেনেছে তা, বুঝেছে তা মন —
চারি দিকে ঘিরে তারে রহিয়াছে যদিও আঁধার!
একদিন এই গুহা ব্যথা পেয়ে আহত হিয়ার
বাঁধন খুলিয়া দেবে! অধীর ঢেউয়ের মতো ছুটে
সেদিন সে খুঁজে লবে অই দুরে নক্ষত্রের পার!
সমুদ্রের অন্ধকারে গহ্বরের ঘুম থেকে উঠে
দেখিবে জীবন তার খুলে গেছে পাখির ডিমের মতো ফুটে!

*কবিতা* *প্রিয়কবিতা* *বাংলা*

ঈশান রাব্বি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

 আ মরি বাংলা ভাষা

অতুল প্রসাদ সেন 

মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা ।।
মাগো তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা ।।
আ মরি বাংলা ভাষা!
মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা
কি যাদু বাংলা গানে! গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে ।।
গেয়ে গান নাচে বাউল ।। গান গেয়ে ধান কাটে চাষা ||
আ মরি বাংলা ভাষা!
মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা, আনল দেশে ভক্তি-ধারা।।
আছে কৈ এমন ভাষা ।। এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা ||
আ মরি বাংলা ভাষা!
মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন, হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন :
ঐ ফুলেরই মধুর রসে ।। বাঁধলো সুখে মধুর বাসা ||
আ মরি বাংলা ভাষা!
মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
বাজিয়ে রবি তোমার বীণে, আনলো মালা জগত্ জিনে ।।
তোমার চরণ-তীর্থে আজি ।। জগত্ করে যাওয়া-আসা ||
আ মরি বাংলা ভাষা!
মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!

*বাংলা* *বাংলাভাষা* *কখগঘঙ*
ছবি

©The Arafat™: ফটো পোস্ট করেছে

আজ আমরা বাংলা শিখব (ইয়ো)

বাংলা খাতায় অক্ষরের শহীদ মিনার ! (খুশী২)

*সবারজন্যশিক্ষা* *অক্ষর* *অক্ষরজ্ঞান* *শিক্ষা* *বাংলা*
ছবি

Risingbd.com: ফটো পোস্ট করেছে

জন্মভূমির তরে....

এ কান্না কোনো স্বজন হারানোর বেদনার জন্য নয়। এ কান্না জন্মভূমি ছেড়ে দেশান্তরী হওয়ার জন্য (ছবি- মোয়াজ্জেম হোসেন)

*বাংলা* *জন্মভূমি* *সিটমহল* *বাংলা_আমার_মা* *যান্ত্রিকজীবন* *ভাগ্য*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★