বালিশ মিষ্টি

বালিশমিষ্টি নিয়ে কি ভাবছো?

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 নেত্রকোনার প্রসিদ্ধ বালিশ মিষ্টি ঘরেই কিভাবে বানাতে পারি?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*নেত্রকোনা* *প্রসিদ্ধমিষ্টি* *বালিশমিষ্টি* *রেসিপি*

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কি অদ্ভুত! এতোদিন বালিশ মাথার নিচে দিয়ে ঘুমিয়েছি। কিন্তু আজ শুনলাম বালিশ নামে মিষ্টিও আছে। কেন এই মিষ্টির নাম বালিশ মিষ্টি? উত্তর হয়তবা একটাই, বালিশের মত দেখতে এবং আকৃতিটাও বেশ বড় তাই। মূলত মিষ্টি পাগল বাঙ্গালিদের মিষ্টি লালসার স্বাদ মেটাতেই এই বালিশ মিষ্টির আর্বিভাব। যাদের একটি দুটি মিষ্টিতে হয় না তাদের জন্য একটি বা অর্ধেকটি বালিশ মিষ্টিই যথেষ্ট। বন্ধুরা, আজকের আয়োজন নেত্রকোনার বিখ্যাত  বালিশ মিষ্টি নিয়ে। চলুন বালিশ মিষ্টির খুঁটিনাটি জেনে নেই।


বালিশ মিষ্টির ইতিকথা
নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোডের 'গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার'-এর স্বত্বাধিকারী গয়ানাথ ঘোষ শত বছরেরও বেশি সময় আগে বালিশ মিষ্টি উদ্ভাবন করেন। গোয়ানাথের স্বপ্ন ছিল নতুন কোন ধরনের মিষ্টি আবিষ্কার করে অমর হয়ে থাকা। সে আশায় একদিন বিশাল আকারের মিষ্টি তৈরি করলেন। তা জনপ্রিয় হয়ে উঠতেও খুব বেশি সময় লাগল না। দেখতে অনেকটা বালিশের মতো। স্বাদ দেখে মানুষ মিষ্টির নাম জানতে চাইলে বিড়ম্বনায় পড়েন গয়ানাথ। তিনি তো মিষ্টির কোনো নাম ঠিক করেননি। জানামতে, শেষে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুস সালাম পেয়ার মিয়া বালিশের মতো দেখতে মিষ্টিটির নাম দিলেন ‘বালিশ মিষ্টি’। পরে ধীরে ধীরে এ নামটিই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। লোকমুখে বালিশের নাম হয়ে ওঠে 'গয়ানাথের বালিশ'। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই ভারতে চলে যান গয়ানাথ ঘোষ। চলে যাওয়ার সময় তা শিখে নেন কারিগর ধীরেন্দ্র চন্দ্র মোদক। জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি এ মিষ্টি তৈরির ধারা অব্যাহত রাখেন শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে। ধীরেন্দ্র চন্দ্র মোদকের মৃত্যুর পর তাঁর দুই ছেলে লিটন চন্দ্র মোদক ও দিলীপ চন্দ্র মোদক আজো ‘বালিশ মিষ্টি’র ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন।

বালিশ মিষ্টি তৈরীর উপকরণ
বালিশ মিষ্টি তৈরির মূল উপাদান দুধ, চিনি ও ময়দা। প্রথমে দুধ থেকে তৈরি করা হয় ছানা। পরে ছানা ও ময়দা দিয়ে মণ্ড, আর মণ্ড দিয়ে বানানো হয় বালিশ। সবশেষে চিনির রসে ভাজা হয় বালিশ। এ ছাড়া তৈরির সময় বালিশকে মুখরোচক করতে প্রয়োগ করা হয় বিশেষ কলাকৌশল। পরিবেশনের আগে বালিশের ওপরে এক ধরনের সুস্বাদু ঘন ক্ষীরের (দুধের মালাই) প্রলেপ দেওয়া হয়। 

দরদাম
প্রথমে ছোট ও বড় দুই সাইজের বালিশ তৈরি করা হতো। দাম ছিল ১০ টাকা ও ২০ টাকা। ৫০ টাকা দামের মিষ্টিও অর্ডার দিয়ে বানাতে হতো। এখন বিক্রি হয় ২০ টাকা ও ৫০ টাকা করে। প্রায় এক কেজি ওজনের একটি মিষ্টি ২০০ টাকা এবং আধা কেজি ওজনের এক পিস মিষ্টি ১০০ টাকায় বিক্রি বিক্রি হয়, যা বিশেষ করে অর্ডার দিয়ে বানাতে হয়। 


কোথায় থেকে কিনবেন
নেত্রকোনায় বিশেষ অঞ্চলে এই মিষ্টি বেশি পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এটি তৈরী হচ্ছে। তবে স্বাদ ও আকৃতি কোনটাই নেত্রকোনার সাথে মিলে না। ঢাকা শহরের বেশ কিছু অনলাইন শপ তারা নেত্রকোনা থেকে সরাসরি বালিশ মিষ্টি ঢাকাতে সর্বরাহ করছে। যারা ঐতিহ্য বাহী এই মিষ্টি খেতে ইচ্ছুক তারা অনলাইনে অর্ডার করতে নিয়ে নিতে পারেন। নিচে আপনাদের সুবিধার্থে একটি লিংক দিয়ে দিলোম। 

*মিষ্টি* *বালিশমিষ্টি* *মিষ্টান্ন* *কেনাকাটা* *অনলাইনশপিং*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★