বাস্তবতা

বাস্তবতা নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কখনো ভালোবাসি না শোনা মেয়েটাও
বছরের পর বছর
প্রতিক্ষায় থাকে।

তারপর একদিন অপেক্ষার পথ ছেড়ে
সেও হয়তো শক্ত হাতে জীবন গোছায়
বুকের গহীন তিরতিরে বয়ে চলা নদীটা
শুকায়না কখনো
লুকিয়ে থাকে গহীনে, গোপনে

রিমঝিম কাঁচের চুড়িগুলো হয়ত
আর হাতে পড়া হয়না
কিন্তু চুরি ভাঙ্গার যন্ত্রণাটা
মাথার ভেতরে ঠিকি গেঁথে থাকে।

সেই যে সেদিন ভিড়ের ছুতায়
আলতো ছুঁয়ে দিয়েছিলো কেউ
সেই গা ঘিনঘিনে অনুভুতিও
সে মাথায় সাজিয়ে রাখে যত্নে ।

আনমনা কোন বিকেলে
তার ঠিকি ইচ্ছে হয়
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে।
ইচ্ছেগুলো সামনে আসার আগেই
চাপা দিয়ে দেয় খুব গোপনে।

মেয়েরা সব সাজিয়ে রাখে
মনের প্রকোষ্ঠে।
যে আঘাত আপনি মনেও রাখেননি
সে হয়তো এখনো কাঁদে সে কথা ভেবে,
যে হাত সে পায়নি কখনো
হয়তো এখনো হাতড়ে খোঁজে ,
রোজ বিকেলের চায়ের কাপে
হয়তো মিশে থাকে
একটুকরো দীর্ঘশ্বাসের ধোঁয়া ।

*প্রিয়কবিতা* *নারী* *আঘাত* *আবেগ* *বাস্তবতা* *সমাজ*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ, টাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর !!
*টাকা* *স্বাস্থ্য* *বাস্তবতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: আমি ছেলে তাই............... বিয়ের আগে মেয়ের বাড়িতে প্রমান দিতে হয় আমার মাইনে কতো

*ছেলে* *আবেগ* *মাইনে* *বাস্তবতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কাকাকে একটু সাইড দিন

হ্যাঁ এরকম ভাবেই বলতো সুকুমার কাকা। মানে আমাদের খাঁচা গাড়ির চালক আর কি। খাঁচা গাড়ি শুনে ঘাবড়ে যাবেন না। মানে ইশকুল যাওয়া কচিকাঁচাগুলোকে যে টিনের গাড়ি করে আসা যাওয়া করানো হত, দুর থেকে দেখলে মনে হত এক বাক্স মুরগির ছানাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খাঁচায় করে, এই সেই গাড়ি। খাঁচা গাড়ি। টিনের একটা গাড়ি, দুটো কাঠের তক্তা আড়াআড়ি। আর অনর্গল আমাদের দুষ্টুমি, চিৎকার, কাকার সাথে বিচিত্র বিষয়ে কথোপকথন এবং অতি অবশ্যই নানাপ্রকার খেলা। কাকা চালাত নিজের মেজাজে, আমাদের নানা গল্প শোনাত, এবং রাস্তায় ভিড় ভারের মধ্যে সেই হাঁক-‘ কাকাকে একটু সাইড দিন’। আমরা কখনো কুইজ খেলে, কখনো ট্র্যাম্প কার্ড খেলে ( আমাদের সময়ে এই খেলাটির সদ্য আগমন হয়েছে) সময়টা দিব্যি কাটিয়ে দিতাম। মাঝে মাঝে কাকাকে সাহায্য করতে পেছনের টিনের দরজা খুলে নেমে ঠেলতাম। কাকার কাছে আমরা সকলেই বুড়ো। মানে এই ছিল আমাদের ডাকনাম। একটু বেগ পেলেই গাড়ি কাকা বলতো বুড়ো এবার উঠে পড়ো। গাড়ির মধ্যে কাকাকে নকল করে আমরাও মাঝে মাঝে একসাথে বলে উঠতাম-‘কাকাকে একটু সাইড দিন’।

তখন আমার ছিল উদ্ভট মাথা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার বিচিত্র খেয়াল মাথায় চাপত। সবথেকে বেশি আগ্রহ ছিল রেল লাইনের পাথরের প্রতি। সেগুলোকে বাড়ি নিয়ে এসে এক প্লাস্টিকের ম্যাগ্নিফাইং গ্লাস দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কিসব পরীক্ষা করতাম ভগবান জানে। ছোট থেকেই আমার অলৌকিক সবকিছুর প্রতি এক অদ্ভুত বিশ্বাস ছিল, মনে হত কিছু একটা সবকিছুর আড়ালে হচ্ছে, সবাই ঠিক ধরতে পারছে না, আমি ঠিক আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবো। বড় হয়েও সে অভ্যাস যে খুব বেশি গেছে এমনটা হলফ করে বলতে পারি না। যাক গে, যেটা বলছিলাম, একবার লাইন পার থেকে প্রচুর পাথর কুড়িয়ে কাকার গাড়িতে উঠেছি। কাকা ব্যাপারটা খেয়াল করেও একটা কথা আমাকে বলেনি, যদিও কাকা জানত আমি বাড়িতে কেবল একটাই পাথর নিয়ে যেতে পারবো, অতগুল নয়।সেগুলো গাড়ি থেকে কাকাকেই নামাতে হত। সেই প্রশ্রয়ে আমি কাকার ভেতরের পিতৃ সত্তাটাকে চিনে গিয়েছিলাম। এই সুকুমার কাকার বড় মনের পরিচয় আমি শুধু সেদিন পাইনি। একদিন বাড়ি ফেরার সময় বড় রাস্তার মোড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটে আমাদের খাঁচা গাড়ির ঠিক পাশেই। বাইক থেকে পড়ে গুরুতর চোট লাগে এক মহিলার। সবাই এগিয়ে এসে কি হয়েছে, কি হয়েছে বললেও কেউ কাজের কাজটা আর করে না। ‘কাকাকে একটু সাইড দিন’- ভিড়ের মধ্যে থেকে একটা মানুষ এসে বাইক সামলে, সেই মহিলাকে খাঁচা গাড়ি করেই নিয়ে যায় সামনের হাসপাতালে, সঙ্গে তার স্বামীও ছিল, আমরাও ছিলাম। সেইদিন রাস্তায় ‘কাকাকে একটু সাইড দিন’- যেন অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের মতো বাজছিল। ডাক্তার ডেকে পুরো ব্যবস্থা করে তারপর কাকা আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল। কোনও কর্তব্যেই গাফিলতি করেনি।

সুকুমার কাকার সঙ্গে শেষ যে বার দেখা হল বুঝলাম সুকুমার কাকার খাঁচা গাড়ি একটাও আর নেই। খাঁচা গাড়ির চল উঠে গেছে আমাদের এখানে। সুকুমার কাকা এখন ভ্যান চালায়। ব্যাটারি ভ্যান। রোজ আমি যখন রাত করে বাড়ি ফিরি দেখি বড় রাস্তার মোড়ে সুকুমার কাকা ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিন উঠেছিলাম, তারপর থেকে মুখ লুকিয়ে কোনক্রমে অতিক্রম করে চলে আসি কারণ কাকা কিছুতেই পয়সা নেয় না। কিছুতেই না। প্রথম দিনই শুনেছিলাম কথাটা যে কাকার নাকি গভীর অসুখ। কোমরে কি একটা হয়েছে কাকা নাম বলতে পারলো না, গাড়ি চালানো বারণ। কিন্তু আমি বুঝলাম কাকার একটা গাড়িও আর নেই। মেয়ের বিয়ে অনেক আগে হয়ে গিয়েছিল, কথাবার্তায় বুঝলাম ছেলে নিতান্তই অমানুষ হয়েছে। যেটা বুঝলাম না যে কাকার সেই বিখ্যাত- ‘কাকাকে একটু সাইড দিন’ কথাটা বদলে ‘কাকাকে একটু জায়গা দিন’ কেন হয়ে গেছে? এই সংসারের কাছে সারাজীবন খেটে কাকা কি একটুখানি জায়গাই চেয়েছিল, পায়নি, তাই কাকার এই নিদারুণ আকুতি? সে আর সাইড চেয়ে অতিক্রম করতে চায় না, সে এবার বসতে চায়? জায়গা চায়? তাই এ বদল। কাকাকে দেখে ‘ভালো মানুষের সঙ্গে সবসময় ভালো হয়’ –এই উক্তিটাকে লাথি মারতে ইচ্ছে করে। এখনো বড় রাস্তার মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা কাকার চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়- কাকা তোমার আর সাইড লাগবে না, সবাইকে ছাড়িয়ে তুমি সবার আগেই রয়ে গেলে, তোমার জায়গায়। আমরা পুঁথি-পত্র পড়ে, প্রতিদিন একে অপরকে লেঙ্গি মারার ছক কষে বরং এখন সাইড চেয়ে মরি।তারপর বাড়ি এসে অভ্যাস করি আয়নার সামনে রোজ এক বুলি…

‘আমাকে একটু সাইড দিন।’

কাকা আমাকে একটু তোমার বড় মনটা দেবে?

 

চুরি করা পোষ্টঃ https://bibornoaakash.blogspot.com/2018/06/blog-post_3.html

*কাকা* *আবেগ* *গল্প* *বাস্তবতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: আমি যদি মধ্যেবিত্ত না হতাম তাহলে হয়তো সঠিক মানুষ হওয়ার রাস্তা খুঁজে পেতাম না। আমি যদি কষ্টে না থাকতাম , হয়তো আমি জীবন কি বুঝতে পারতাম না আমি যদি ব্যর্থ না হতাম , আমি হয়তো পরিশ্রমী হতাম না। আর আমি যদি অবহেলিত না হতাম তখন হয়তো অপরাধ বোদ আমার মধ্যে জন্ম নিতো না।

*বাস্তবতা* *মধ্যবিত্ত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: ধর্ম ও প্রগতিকে মুখামুখি দাড় না করিয়ে বরং রেললাইনের মতো সমান্তরালে চলতে দেওয়া উচিত। তাহলে এই আস্তিক ও নাস্তিক মার প্যাচ থেকে এই জাতী মুক্তি পাবে।।

*বাস্তবতা* *ধর্ম*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: পৃথিবীর সব থেকে ভয়াবহ অপরাধ, ঘৃনিত কিংবা লজ্জাজনক ঘটনা গুলো ঘটে চার দেয়ালের ভিতর এবং এগুলো ঘটায় পরিবারের কেউ, অতি আপন জন ও বিশ্বাসী মানুষ গুলো।

*বাস্তবতা* *পরিবার* *সম্পর্ক*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: শোন মেয়ে, কতবার তোমার নামে মরে গেলে,তোমার নামে সুখ নিদ্রা গেলে তবে তোমায় আমার পাশে ঘুমরত অবস্থায় পাবো? মেয়ে দেশ ভাল নেই জাতী ভাল নেই,আমি নিশ্চই এর বাইরে নই?তারাতারি চলে আসো।

*মেয়ে* *আবেগ* *ভালোবাসা* *বাস্তবতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: আমি কাউকে ম্যানেজ করে চলতে পারিনি পটাতেও পারিনি তাই বলে কি আমার প্রেম হবে না? আমাকে ও কেউ ম্যানেজ করে চলে না পটাতে ও চেষ্টা করে না করেওনি কোনদিন তাই বলে কি আমার কোন দিন প্রেম হবে না?

*আবেগ* *প্রেম* *বাস্তবতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: [এজে-সবফিনিশ]"বিশ্বাস করুন রুমডেটের পর ছেলেটার সবচেয়ে বিরক্তরি কারন হয় মেয়েটা আর মেয়ে টার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ হয় ছেলেটা "

*বাস্তবতা* *ছেলে* *মেয়ে*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: এই জাফর ইকবাল স্যার কে নিয়ে এতো হই চই হচ্ছে যে কতিপয় মানুষ মৌলবাদীদের দোষ দিচ্ছে সাথে সরকার ও তার নেতৃবৃন্দ ও বাদ জাচ্ছেন না এই দোষ চাপাচপির খেলায় । অথছ ১ বছর পিছনে ফিরে তাকান এই স্যারকে আওয়ামীলীগ এর কর্মীবৃন্দের কাছে মাইর খেতে হয়েছে সাথে তার স্ত্রী ও মাইর থেকে রেহাই পান নি । তখন কেউ প্রতিবাদ করতে আসে নি সরকার ও কিছু বলেনি ।তিনি বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদ করেছেন । এই হচ্ছে মাদের সমাজ সবকিছু ভুলে গিয়ে মৈলবাদীদের নিয়া পড়েছে ।

*বাস্তবতা* *ইতিহাস* *মৌলবাদী*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: জান্মানোর পর অনেক ভুল করেছি ,অনেক ভূলের জন্ম দিয়েছি হয়তো ভূলগুলো বেশি ছিল , তাতে আমার জন্মানোর কোন ভূল ছিল না হয়তো সময়গুলো ভূল ছিল ,তাই আমার কোন ভূল নেই । সব দায় ভার সময়ের ।।

*সময়* *বাস্তবতা* *ভূল*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: বেশতো এর মাঝে কিছু ইউজার আছেন যারা বেশতোকে ফেসবুক ভাবেন।। কারন তারা কোন পোষ্ট পুরটা পড়েন না।। বড় দেখলে তো কথাই নেই।। শুধু ফেসবুক এর মতো একধারে লাইক এর বন্যা বসাইয়া দেন।। আরে ভাই কিছু লেখার মাঝে অনেক কিছু জানতে পারবেন শিখতে পারবেন যেইটা আপনার ইহকাল পার হয়ে গেলেও পারতেন না।। তাই আসুন সব লেখাগুলো পুরটা পড়ার চেষ্টা করি ও অভ্যাস গড়ে তুলি।।

*লেখা* *পড়া* *বাস্তবতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সম্পর্ক কিংবা সংসার; একটা ছেলে যদি উদাসীন কিংবা উড়নচণ্ডী হয়, তবুও টিকিয়ে রাখা সম্ভব। একটা মেয়ে চাইলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে কাজটা সফলতার সাথে করতে পারে, যদি সে কমিটেড হয়। কারন মেয়েদের মধ্যে স্রষ্টা অসাধারণ কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন; দিয়েছেন মায়া। তাই একটা ছেলে সময়ের স্রোতে উপলব্ধি করতে বাধ্য, সে যে ভুল।

.

কিন্তু সংসার কিংবা সম্পর্কে একটা মেয়েই যদি হয় উদাসীন কিংবা উড়নচণ্ডী?

ঐ সংসার কিংবা সম্পর্ক ভাঙ্গতে বাধ্য; লিখে রাখুন। একটা ছেলে যতোই চাক, যে ভাবেই চাক; বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টিকাতে পারবে না বন্ধনটি! কারন পাথরে ফুল ফোটানোর ক্ষমতা হাজারে হয়তো একটা ছেলেকেও দেননি স্রষ্টা; যা প্রতিটা মেয়েকে দিয়েছেন।

.

প্রশ্ন করতে পারেন, কি ভাবে? এসব কথার ভিত্তি কি? আমাদের বাপ-দাদাদের আমল দেখুন। তখন কি সব ছেলে/পুরুষ দুধে ধোয়া তুলসী ছিলো? মোটেই তেমন না। বরং তারা সংসারী হতে বাধ্য হয়েছিলেন ঘরে থাকা লক্ষী প্রতিমা প্রেয়সী মায়ায়। আর এখন কি হচ্ছে? কোর্টের বারান্দায় রিলিফ গ্রহনের মতো ডির্ভোসের লাইন। আর প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক ভাঙ্গাটাতো সকালে উঠে পেট পরিষ্কার করতে টয়লেটে যাবার মতোই। করান কি জানেন? মায়ার যাদুতে সম্পর্কের অপর মানুষ এবং সম্পর্কটি মুগ্ধ করে রাখার কথা ছিলো যার/যাদের, তারাই আজ মায়াহীন হয়ে গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। মায়াবীরা আজ উশৃঙ্খল জীবনকেই কেন যেন বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। তারা আজ মুক্ত-অবাধ স্বাধীনতার জীবন পেতে মরিয়া। তারা ছুটছে তো ছুটছেই, আকাশকে ছুঁয়ে দিতে; শিকড়কে ছাড়িয়ে, শিকড়ের মায়া ছেড়ে!

*বাস্তবতা* *সমাজ* *প্রেম* *মায়া* *মোহ* *আবেগ* *মেয়ে* *স্রষ্টা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রীড্ কলেজে ভর্তি হওয়ার মাত্র ছয় মাস পর ড্রপ আউট হওয়া অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস্ ২৩ বছর বয়সে এক মিলিয়ন ডলার, ২৪ বছর বয়সে দশ মিলিয়ন ডলার এবং ২৫ বছর বয়সে একশ মিলিয়ন ডলার মালিক হয়েছিলেন,

.

কারণ সে তার স্বপ্নের জন্য ড্রপ আউট হয়েছিলেন কম মেধার কারণে না,

.

ইন্ডিয়ার বিরাট কোহলি কিছুদিন আগে বলেছিলেন, আমার জীবন ক্রিকেট আর পরিবার ছাড়া অন্য কোন ভালবাসা ঢুকতে পারেনি বলে আমার সমস্ত ফোকাস আমি ক্রিকেট খেলায় দিতে পেরেছি,

.

আমাদের ইয়া বড় বড় স্বপ্ন ব্লা ব্লা কিন্তু স্বপ্ন পূরণের দন্য কোন সেক্রিপাইস নেই!

.

দেটস্ দি পয়েন্ট!

.

ক্রিকেট খেলায় যে বলিং ব্যাটিং ফিল্ডিং সমভাবে ভালো করে তাকে অলরাউন্ডার বলে,

.

আমাদের অবশ্যই অলরাউন্ডার হতে হবে যার যার ক্ষেত্রের মধ্যে থেকে,

.

সমস্যা আমার একটি খেলা রিলেটেড অলরাউন্ডার না হয়ে ক্রিকেট ফুটবল হকি জকি সব খেলা মিলে অলরাউন্ডার হতে চাই বলে দিন শেষে কোন কিচ্ছু হতে পারিনা!

.

তেনারা একাধারে অর্থনীতি সমাজনীতি রাজনীতি থেকে শুরু করে জগতের সব নীতি নিয়ে চর্চা করে বিশেষজ্ঞ হতে গিয়ে বিশেষ অজ্ঞে পরিণত হয়!

.

বেপারটা আমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধুর মতো সে বিয়ের পর বউ, শালী, প্রেমিকা কাউকে ছাড়তে পারেনি ফলস্বরূপ সে তিনজনকে হারিয়ে বসে আছে! সবার জন্য তার নাকি সমানভাবে ভাললাগা কাজ করতো!

.

একদিন তাকে বলেছিলাম তুই যখন কাউকে ছাড়তে পারিস্ না তখন নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় এমসিকিউ ঘরের চারটা বক্স পূরণ দিয়ে আসিস! চার ডবল মার্কস পাবি!

.

অর্থনীতিতে আমার জীবনের সেরা শিক্ষা হলো 'সুযোগ ব্যয়' অধ্যায়টি,

.

বেশী প্রয়োজনীয় জিনিসটি ক্রয় করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কম প্রয়োজনীয় জিনিসটি ত্যাগ করতে হবে!

.

সেদিন টংয়ের দোকানে সিগারেট টানতে গিয়ে সুযোগ ব্যয় ক্যালকুলেশন করে যখন দেখলাম কলা খাওয়া বেশী উপকারী তখন ধূমপানের পরিবর্তে দুটা কলা খেয়ে চলে এসেছি,

.

জাস্ট নিজেকে নিজে একটি প্রশ্ন জীবন পাল্টে দিতে পারে, হ্যালো মিঃ বার্গার খাবে না তিত্ করলা আর সামুদ্রিক মাছ দিয়ে ভাত খাবে? কোনটা বেশী উপকারী?

.

সময় এখন এক্স এক্স এক্স কাজে খাটাবে?

'নো নো নো'

.

সময় এখন ওয়াই ওয়াই ওয়াই কাজে খাটাবে,

ইয়েস ইয়েস ইয়েস

.

সমজ সমীকরণ, এক্সের(X-জিএফ) চেয়ে ওয়াইফ(Y-এফ) ভালো!

*বাস্তবতা* *সুযোগ* *ব্যয়* *প্রতিষ্ঠান* *স্বপ্ন* *ক্রিকেট*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

১. আমাদের দেশে ধর্মীয়, রাজনীতি কিংবা অন্য বিষয়ে চেতনা খুবই উচ্চমানের। যেমন -

* বই মেলায় লাইন ধরে টিকেট কেটে বই কিনতে যাওয়া (সারা বছর বই না পড়লেও)

* ২১ শে ফেব্রুয়ারীতে প্রভাত ফেরী এবং শহীদ মিনারে খালি পায়ে গিয়ে ফুল দেয়া (সারা বছর ঐসব মিনারে গরু ছাগল হাঁটলেও)

* জুমার নামাজ আর ঈদের নামাজে ব্যপক মানুষের অংশগ্রহণ (সারা বছর নামাজ না পড়লেও)

* ১লা বৈশাখে আড়ম্বরভাবে নতুন বছর শুরু করা (সারা বছর বাংলা সন ব্যবহার না করলেও)

* ক্রিকেটে একটা জয় পেলেই সব অন্যায়, অনাচার ভুলে যাওয়া (সারা বছর কষ্টে থাকলেও)

২. তাহলে দেখা যাচ্ছে, সব ক্ষেত্রেই আমাদের চেতনার লেভেল উপরেই থাকে। কিন্তু -

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক বই পড়ে সে দেশ দুর্নীতিতে উপরের দিকে থাকে!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস, বিজয় দিবস পালন করে সে দেশের পুলিশ, মন্ত্রী, এম পি রা(বেশীরভাগ) দুর্নীতিবাজ হয়!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক নামাজ পড়ে সে দেশে ঘুষ ছাড়া(৯৯%) কোন কাজ হয় না!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক বৈশাখ পালন করে সে দেশের মানুষই আবার পশ্চিমাদের মত ভ্যালেন্টাইনস ডে, থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করে!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক খেলার জন্য এত পাগল, সে দেশের মানুষ খুন, ধর্ষণ করে অবলীলায়!

৩. আসলে সব কিছুই সম্ভব যদি আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকে, যদি আইন সবার জন্য সমান না হয়, যদি সরকার সবাইকে সমান ভাবে না দেখে, যদি একটা দল আরেকটা দলের পেছনে লেগে থাকে, যদি সবাই যার যার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করে। স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেহেতু এখন ব্যবসা হয়ে গিয়েছে সেহেতু এখন দেশপ্রেমের চেতনাতেই উদ্ধুদ্ধ হতে হবে। ঐসব ১ দিনের চেতনা বাদ দিয়ে সৎ ও সুনীতি'র চেতনা জাগ্রত করতে হবে।

*দেশপ্রেম* *চেতনা* *বাস্তবতা* *সমাজ* *সংগৃহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মাত্র বিশ ত্রিশ বছর আগের কথা, চায়নাতেও বিশ্বায়নের ছোঁয়া লেগেছে কিন্তু অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে বাণিজ্যের মহারথীরা চিন্তায় পড়ে গেছে, 'এখন কি হবে রে চান্দু! পুরো বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে! কেমনে কি!'

.

ওয়ার্ল্ড ট্রেড অগ্রানাইজেশনে (WTO) অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু হলো বিতর্ক,

.

একদল বিশ্বায়নের পক্ষে আরেকদল বিপক্ষে! চলছে টক্ শো!

.

মাত্র ত্রিশ বছর পরের ইতিহাস, আমেরিকার পতাকার নিচের স্ট্যান্টে 'মেইড ইন চায়না' খোদায় করা,

.

জনসংখ্যার দিক দিয়ে কেনো বিশ্বে প্রথম চায়না তার উত্তরে মজা করে বলা হয় তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীগুলো 'মেইড ইন চায়না'

.

চীন এমন একটি দেশ যে দেশে বিপ্লবের পর এক যুগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বন্ধ ছিলো কারণ এতো উচ্চশিক্ষিতদের জন্য কর্মসংস্থান কে করবে? তারচেয়ে বরং তাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়েছিলো!

.

তাই হয়তো আজ আমার জাইঙ্গার লেভেলের পিছনেও 'মেইড ইন চায়না' লেখা,

.

২৬ লক্ষ শিক্ষিত বেকার! বেকারত্বের চিপায় প্রেমিকা হাওয়া হয়ে গেছে!

.

প্রতিনিয়ত চার লক্ষ সোনার ছেলে চারশ পোস্টের জন্য যৌবন জীবন পণ রেখে দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে,

.

ভাবা যায়!!!

.

কথায় আছে,

.

জীবন স্বর্গ- যখন আপনার কাছে জার্মান গাড়ি, আমেরিকান সেলারি, চাইনিজ ফুড আর বাঙ্গালী বউ থাকে,

.

জীবন নরক- যখন আপনার কাছে চাইনিজ গাড়ি, জার্মানির খাবার, আমেরিকান ওয়াইফ আর বাঙ্গালী সেলারি থাকে,

.

চায়না পুরো পৃথিবীর এক বিস্ময়কর জাতীর নাম,

.

৯০ দশকের পর যে জাতী মাত্র কয়েক দশকে পুরো বিশ্ব দখল করে নিয়েছে! কম দামে আপনি যা চাইবেন তারা আপনাকে তা ই বানিয়ে দিবে! তাদের তৈরী জিনিসে আপনি আপনার ব্রান্ড লাগিয়ে দিলেও তার কোন আপত্তি নেই!

.

কি এমন আছে চীনে? সহজ উত্তর, ১৩০ কোটি মানুষের ২৬০ কোটি কর্মদক্ষতাসম্পন্ন হাত এবং কর্মমুখী শিক্ষার সাথে সঠিক পরিকল্পনা,

.

এহেন অবস্থায়,

চীন সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজ দেশে ঢুকছেন এমন সময় তাকে বিমান বন্দরে থামিয়ে দেওয়া হলো! তখন তিনি চটে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের সাহস তো কম না! আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে সার্চ করা শুরু করেছো! তখন পাশ থেকে একজন জবাব দিলো, মাননীয় প্রেসিডেন্ট, পরীক্ষা করে দেখছি চীন থেকে প্রকৃত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রেখে কপি কিংবা ক্লোন ট্রাম্পকে পাঠিয়ে দিয়েছে কি না!

*চীন* *আবিষ্কার* *বাস্তবতা* *বেকার*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইয়ো ব্রো, অ্যাডভান্স হ্যাপি ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে। হোয়াট'স আপ, ডুড?

জানোই তো, কালকে টুয়েন্টি ফার্স্ট ফেব্রুয়ারি। সেলিব্রেট না করলে কি হয়? আফটার অল, এই দিনের আলাদা একটা ইম্পরট্যান্স আছে না? আরেহ, ইন দ্য ইয়ার নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ান, এই দিনেই তো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ডার্কনাইটে আর্মস নিয়ে, আমাদের মাম্মি ড্যাডিদের উপর এ্যাটাক করেছিলো। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউল তাদের লাইফ সেক্রিফাইজ করেছিলো। দেশের জন্য ব্লাড দিয়েছিলো।

হোয়াটএভার, বিশেষ দিন, বিশেষ মানুষকে নিয়ে বিশেষ প্ল্যান তো আছেই। ওয়াইট, কালকের সারাদিনের প্ল্যান তোমাকে ডেসক্রাইব করি।

গতকাল আমার গফ আর আমি সারা মার্কেট খুঁজে একুশে ফেব্রুয়ারির শপিং করেছি। লটস অব কেনাকাটা। কাপলদের জন্য বান্ডেল অফার ছিলো। অনেক সুন্দর ম্যাচিং করা পাঞ্জাবি আর শাড়ি। সাদা আর কালো রঙের। বড় বড় করে "অ আ ক খ" লিখা। খুব কিউট ড্রেস।

ও অবশ্য খুব টেনসনে ছিলো যে ওই শাড়ি পরলে ওকে কেমন লাগবে? স্মার্ট লাগবে কিনা? সুন্দর লাগবে কিনা? কারণ ওর বান্ধবীরা অনেকেই অনেক টাকার শপিং করেছে। দামি শাড়ি পরে সুন্দর করে সেজেগুজে ছবি তুলে ফেসবুকে, ইন্সটাগ্রামে আপলোড দিতে হবে। লাইক, কমেন্ট অন্যদের চেয়ে কম পড়লে আবার মান-সম্মানের ব্যাপার। আমি বলে দিয়েছি, "তোমাকেই সবচেয়ে বেশি সেক্সি লাগবে। পুরাই পাপিং হট।" এতে সে খুব খুশি হয়েছে। আমিও খুব এক্সাইটেড, ম্যান।

তো কাল দুপুরে বের হবো। একসাথে লাঞ্চ করবো। তারপর হাত ধরাধরি করে জার্নি বাই রিকসা; হুড তোলা থাকবে, পাশাপাশি এই কিছুক্ষণের জন্য সে লিপস্টিকও মুছে ফেলবে। আমার গায়ে সাদা পাঞ্জাবি; বুঝোই তো। ডেসটিনেসন; পুরো ঢাকা শহর। কুল ম্যান কুল। ও খুব রোমান্টিক তো। আর আজকাল এসব কে না করে, হুম?

অনেকে অবশ্য এইদিনে সকাল সকাল বের হয়ে শহীদ মিনারের দিকে যায়। আমরা যাবো না। আমি আর আমার গফ আবার ভীড় পছন্দ করি না। শহীদ মিনারে খুব ভীড় হবে। এতো ভীড়ের মাঝে ওদিকে যাবার কোন মানেই নেই।

আমাদের অবশ্য একবার শাহবাগ ফুলের দোকানের দিকে যেতে হবে। ওর আবার খুব শখ শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে সাদা-কালো রঙের ফুলের ঝুপড়ি মাথায় পরবে। ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে বলে কথা। সে শহীদ মিনারে যাবে না ঠিকই, তবে নিজেই একটা চলন্ত শহীদ মিনার সেঁজে ঘুরে বেড়াতে চায়।

প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্দ্যান, রমনা-টমনা ঘুরে তারপর কোথাও হ্যাংআউট করবো। ফাস্টফুড বা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বসবো; ঢাকায় আজকাল রুদ্ধদ্বার বৈঠকের অনেক জায়গা হয়েছে। একসাথে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করার প্ল্যান আছে। আমার গাড়ি থাকলে অবশ্য লংড্রাইভে যাওয়া যেতো; জাম্পিং কারের কথা কে বা জানে! হাজার হোক ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে বলে কথা। এছাড়া আজকাল, ভ্যালেন্টাইনস ডে আর একুশে ফেব্রুয়ারি তো একই কথা। একটা রঙ্গিন ভালোবাসা দিবস, আরেকটা সাদাকালো; এইতো পার্থক্য।

ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে যাবো আমার বেস্ট বাডিজের কাছে। ফ্রেন্ডরা মিলে পার্টি করবো, অনেক ফান হবে। সবাই মিলে কোনো একজনের বাসার রুফটপে বিরিয়ানী রান্না করে খাবো বা গ্রিল চিকেন উইথ নান। ইয়াম্মি ম্যান ইয়াম্মি।

সাউন্ড বক্স টক্স সব আগে থেকেই রেডি আছে। ডিজে পার্টি থকবে। আর আজকে থেকেই দেশাত্ববোধক গান, একুশে ফেব্রুয়ারির গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?" পিচ্চি পোলাপান দিয়ে এইসব হাবিজাবি বাজাচ্ছি। এইসব না বাজালে আবার খারাপ দেখা যায়।

ওই মিয়া কই যাও? পার্টি আভি বাকি হে মেরা দোস্ত। আসল জিনিস তো এরপর হবে। দুই বোতল ফরেইন আছে। পুরাই ইন্টারন্যাশনাল জিনিস, ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিটির। ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে বলে কথা।

চিয়ার্স হবে ম্যান, চিয়ার্স।

*ভাষারমাস* *বাংলা* *ইন্টারন্যাশনাল* *বাস্তবতা* *সংগ্রিহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন, আপনি বা আমি নেই,মরে গেছি। কিন্তু চারপাশে সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে। তা মনে করে কি বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো?
এটাই নিয়ম। অর্থ বিত্ত সহায় সম্পদ সন্তান প্রিয়জন সব থেকে যাবে, শুধু থাকবো না আমি বা আপনি।

আমার বা আপনার মৃত্যুর পর প্রিয় মোবাইলটি পড়ে আছে টেবিলে,অনেকটা অযত্নে অবহেলায়।সকালে উঠে কেউ চার্জ দেয়ার তাগিদ অনুভব করে না। রাতে আসা অনেকগুলি মেসেজ আনরিড রয়ে গেছে। আদৌ এগুলি কেউ পড়বে বলে মনে হয় না!

আপনার প্রিয় পড়ার ঘরটি এলোমেলো হয়ে আছে।মেলা থেকে কেনা বইগুলি প্যাকেটবন্দী রয়ে গেছে। কেউ একবারও খুলে দেখেনি, পাতা উল্টেপাল্টে নতুন বইয়ের ঘ্রান শুকেনি।পড়ার টেবিলের এককোনে পড়ে আছে ট্যাব ও ল্যাপটপ। প্রিয় ল্যাপটপের গায় ধুলোর আস্তরন।দুর থেকে সিলভার কালারে dell লেখাটা এখন আর চকচকে করে না।
সকাল ৯টা বেজে গেল। অথচ জানালার ভারীপর্দায় সরিয়ে সকালের মিস্টি রোদ ঘরে প্রবেশের পথ করে দেয়াটা কেউ খেয়াল করলো না।
বারান্দায় ফুলের টবগুলিতে পানি না দেয়ায় গাছের গোড়ার মাটি শুকনো হয়ে গেছে।দু' একটা শুকনোপাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।পরিচর্যাহীন টবগুলি কেমন বিবর্ণ লাগছে।
পাখিদের বিশাল খাচাটা কেউ এখন পরিস্কার করার সময় হয়তো পায় না । পানি, খাবার পড়ে খাচার নীচের ট্রে' টা নোংরা হয়ে আছে।পরিস্কার করার কারো সময় নেই! আহা কিচির মিচির শব্দে এখন কারো ঘুম ভাংগে না।
পিছনের বারান্দায় ইজি চেয়ারটা অযত্নে পড়ে আছে।আমি নেই বলে এখন আর কেউ গভীর রাতে ইজিচেয়ারে বসে পা দুলিয়ে জ্যোৎস্না দেখে না।
ফ্রিজে রাখা মুস্টিগুলি কেউ আগ্রহ দেখিয়ে ডাইনিংয়ে নিয়ে আসে না। সাদা রসগোল্লাগুলি জমে শক্ত হয়ে আছে। ডায়াবেটিক হাউজে আমি ছাড়া আর কেউতো মিস্টি খায় না।
প্রতিবছর বইমেলা হবে। বিকেল হলে মেলায় যাবার জন্য বুকটা কেমন কেমন করে উঠবে না। প্রিয় প্রকশনীগুলি নতুন বই নিয়ে মেলায় অংশ নিবে অথচ আমি বা আপনি নেই!
আহা মনটাই খারাপ হয়ে যাওয়া ভাবনা!
কেউ একজন রুমে এসে মনে করিয়ে দিবে না, আজ কি কি জরুরী কাজ আছে।তাড়াও দিবে না অফিস শেষে দ্রুত বাসায় ফিরে এসো।
-আচ্ছা।
শব্দটি শুনে অগাধ বিশ্বাসে ফিরে যাওয়া মানুষটিও ''আমি বা আপনিহীনা'' সময়ে বেচে আছে।
জগতের সব ঠিকঠাক চলছে, শুধু আমি বা আপনি নেই!
এখনো ডোরবেল বাজলে দৌড়ে কেউ একজন দরোজা খুলবে। কিন্তু দরোজায় দাঁড়ানো মানুষটি আমি বা আপনি নই, অন্যকেউ একজন।

 

*বাস্তবতা* *আবেগ* *মরন* *কষ্ট* *নীলাদ্রি* *আমি*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★