বিজ্ঞান

বিজ্ঞান নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পবিত্র কুরআন হচ্ছে একমাত্র গ্রন্থ যেটা বিজ্ঞান সম্মত । তাই জেনে নেই আসলে ইসলাম বলেছে দাড়ি রাখার কথা বিজ্ঞান কি বলে দেখিঃ

দাড়ি রাখা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? নাকি আপনার মুখভর্তি দাড়ি আসলে নানারকম রোগ-জীবাণুর এক বিরাট আস্তানা? এ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে বিজ্ঞানী আর গবেষকদের মধ্যে।

বিবিসির এক অনুষ্ঠান, “ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর” সম্প্রতি ঠিক এই প্রশ্নে একটা ছোট্ট পরীক্ষা চালিয়েছিল। তার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লিন শেভড পুরুষের চেয়ে দাড়িওয়ালাদের মুখে রোগ-জীবানু বেশি, এমন কোন প্রমাণ তারা পাননি। যারা দাড়ি রাখেন, তারা এর মধ্যে নানা রোগ-জীবাণু বহন করে চলেছেন এমন ভয় অনেকের মধ্যেই কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতাল সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা চালায়। তাদের গবেষণার ফল অনেককেই অবাক করেছে।

‘জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে’ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই তারা বেশি রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) বলে যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চাইতে দাড়ি কামানোদের মুখে তিনগুণ বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে।

এর কারণ কি?

গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ঘষা লাগে, তা নাকি ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে দাড়ি নাকি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বিবিসির “ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর” অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরুষের দাড়ি থেকে ব্যাকটেরিয়ার নমূনা সংগ্রহ করে একই ধরণের পরীক্ষা চালানো হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ, লন্ডনের গবেষক ড: অ্যাডাম রবার্ট এই গবেষণার ফল দেখে বলছেন, দাড়িতে এমন কিছু ‘মাইক্রোব’ আছে, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে।

*ইসলাম* *বিজ্ঞান* *কুরআন* *দাড়ি* *স্বাস্থ্য*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বৈশাখ আসে নববর্ষের খুশির বার্তা নিয়ে। খুশির নিত্যসহচর কাল বৈশাখী আসে তার সাথে সাথে যা হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ। কাল বৈশাখী মানে ঝড় আর বজ্রপাত। কাল বৈশাখীর বজ্রপাত যমদূত হয়ে আসে কারো কারো জীবনে। এজকের লেখা কালীন সময়ে ১০ জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুসংবাদ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ২ দিনে অকালে প্রাণ হারেলেন ৩১জন। গতকাল রোববার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে কালবৈশাখীর তাণ্ডব চলে। সেই সঙ্গে ছিল অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টি ও বজ্রপাত। সকাল থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন মারা গেছেন। মাগুরা ও নওগাঁয় ছয়, নোয়াখালীতে দুই এবং সুনামগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর ও গোপালগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে স্কুলছাত্র, গৃহবধূ, পোশাক শ্রমিক, কৃষক ও যুবক রয়েছেন। এছাড়া বজ পাতে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। এ মৌসুমি বজ্রপাতে ১ দিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। আরও দু-এক দিন কালবৈশাখী সমানতালে আঘাত হানতে পারে। দেশি-বিদেশি গবেষণা অনুযায়ী, দেশে গত কয়েক বছরে কালবৈশাখীর পাশাপাশি বজ্রপাতের হার বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে শুধু এপ্রিল-মে মাসেই বজ্রপাত বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। হাওর এবং উপকূলীয় এলাকায় এর মাত্রা আরও কয়েকগুণ বেশি। বজ্রপাতে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৩০১ জন মারা গেছেন বজ্রপাতে। এভাবে ২০১০ সালে ১২৪ জন, ২০১১ সালে ১৭৯ জন, ২০১২ সালে ৩০১ জন, ২০১৩ সালে ২৮৫ জন, ২০১৪ সালে ২১০ জন, ২০১৫ সালে ২৭৪ জন এবং ২০১৬ সালে প্রায় ৩৫০ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩ হতে ২০১৬ পর্যন্ত সংখ্যার যথাক্রমে ১২৮ জন, ৭৯ জন, ৯১ জন ও ১৩২ জন শুধু এপ্রিল-মে মাসেই বজ্রাঘাতে মারা গেছেন। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাইফুল বলেন, ২০১৬ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর এমন ঘটনার পরই ওই বছর ১৭ মে সরকার বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

বজ্রপাত কী ও কেনঃ মহাভারতের দেবরাজ ইন্দ্রের অব্যর্থ অস্ত্রের নাম ছিল ‘বজ্র’। অসুরদের পরাস্ত করতে দধীচি মুনির বুকের অস্থিতে বানানো হয়েছিল এই অস্ত্র। সেসব পুরাণের কথা। জলবায়ু পরিবর্তন আর দুর্যোগের এই যুগে বজ্রের সংজ্ঞা ‘ঝড়বৃষ্টির সময় আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানির সঙ্গে সৃষ্ট প্রচ শব্দ’। প্রশ্ন ওঠে- কীভাবে হয় এই বজ্রপাত?

প্রাকৃতিকভাবেই বায়ুমণ্ডলে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়ে মেঘে জমা থাকে। এই বিদ্যুৎ মেঘে দুটি চার্জ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক হিসেবে থাকে। বিপরীত বিদ্যুৎশক্তির দুটো মেঘ কাছাকাছি এলেই পারস্পরিক আকর্ষণে চার্জ বিনিময় হয়। ফলে বিদ্যুৎ চমকায়। মেঘের নিচের অংশ ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। আবার ভূপৃষ্ঠে থাকে ধনাত্মক চার্জ। দুই চার্জ মিলিত হয়ে তৈরি করে একটি ঊর্ধ্বমুখী বিদ্যুৎপ্রবাহ রেখা, যা প্রচণ্ড বেগে উপরের দিকে উঠে যায়। ঊর্ধ্বমুখী এই বিদ্যুৎপ্রবাহ উজ্জ্বল আলোর যে বিদ্যুৎপ্রবাহের সৃষ্টি করে তা-ই বজ্রপাত। বজ্রপাতের তাপ ৩০ থেকে ৬০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, আকাশে যে মেঘ তৈরি হয়, তার ২৫ থেকে ৭৫ হাজার ফুটের মধ্যে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে বেশি। বজ্রপাতের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৬০ হাজার মিটার বেগে নিচে নেমে যায়। এই বিপুল পরিমাণ তাপসহ বজ্র মানুষের দেহের ওপর পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যু হয়।


বজ্রপাতের স্থায়িত্বকাল এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ। ঠিক এই সময়েই বজ্রপাতের প্রভাবে বাতাস সূর্যপৃষ্ঠের পাঁচ গুণ বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। শব্দের গতি আলোর গতির থেকে কম হওয়ায় বজ্রপাতের পরই শব্দ শোনা যায়। বজ্রপাত ভূমিকম্পের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। একটি বজ্রপাতে প্রায় ৫০ হাজার অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎশক্তি থাকে। অথচ বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ চলে গড়ে ১৫ অ্যাম্পিয়ারে। একটি বজ্র কখনও কখনও ৩০ মিলিয়ন ভোল্ট বিদ্যুৎ নিয়েও আকাশে জ্বলে ওঠে। বাংলাদেশে বছরের দুটি মৌসুমে বজ্রপাত বেশি হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সাপ্তাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে বজ্রঝড়। কাল বৈশাখীর বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা দুনিয়ার বুকে বাংলাদেশেই বেশি। দুর্যোগের বলয়ে বন্দি বাংলাদেশের বুকে এই বজ্রদুর্যোগ দীর্ঘ করছে মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশে বজ্রপাতের ওপর তেমন কোনো গবেষণা না হলেও ইউরোপ, জাপান ও আমেরিকায় চলছে বিস্তর গবেষণা। ২০০৮ সালে সুইডেনের উপসালায় অনুষ্ঠিত ২৯তম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন লাইটিং প্রটেকশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওফিজিক্স বিভাগের গবেষক কলিন প্রাইস তার ‘থান্ডারস্টর্ম, লাইটিং অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে দেখান, বায়ুদূষণ তথা পরিবেশ দূষণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বজ্রপাতের।

এ নিবন্ধে বলা হয়, বজ্রপাতে একদিকে যেমন বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বায়ুদূষণের ফলে বেড়েছে পরিবেশে বজ্রপাতের হার ও এর তীব্রতা।বজ্রপাতের ভয়াবহতা ও প্রতিকারের উপায় নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গবেষণার জন্য ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সার্ক মিটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (এসএমআরসি)। যোগাযোগ করা হলে এসএমআরসির গবেষণা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান সমকালকে বলেন, ‘বজ্রপাতের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের বজ্রপাতের প্রবণতা নিয়ে সার্ক স্টর্ম প্রজেক্ট নামে আমাদের গবেষণা চলছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বজ্রপাত-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১২০ দিন বজ্রপাত হচ্ছে বলে গবেষণায় প্রকাশ। বজ্রপাতের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ দূষণের কারণেও বজ্রপাতের হার বেড়ে গেছে। হঠাৎ এই বজ্রপাত বৃদ্ধি এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে কেন? আবহাওয়াবিদদের কাছে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলেও নেই কোনো প্রস্তুতি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের মাথাব্যথা না থাকলেও বজ্রপাত গবেষণায় বিশ্ব থেমে নেই। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বজ্রপাতের পেছনে বায়ুদূষণ অন্যতম কারণ। বজ্রপাতকে আবহাওয়া সম্পর্কিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কেউ কেউ।

বজ্রপাত গবেষণায় বাংলাদেশে সর্বাধিক মৃত্যুঃ বুয়েটের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যান তার এক-চতুর্থাংশ মারা যান এ দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির অধ্যাপক ড. টমাস ডবি্লউ স্মিডলিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবেলিটি’ শীর্ষক গবেষণা থেকে দেখা যায়, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়। গবেষণায় তিনি বলেন, বজ্রপাতে বছরে মাত্র দেড়শ’র মতো লোকের মৃত্যুর খবর বাংলাদেশের পত্রিকায় ছাপা হলেও আসলে এ সংখ্যা ৫০০ থেকে এক হাজার। গবেষণায় টমাস দেখান যে, ঝড় ও বজ্রঝড়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে বাংলাদেশে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমস্টেম্ফরিক রিসার্র্চের (এনসিএআর) বিজ্ঞানী ডেভিড এডওয়ার্ডস গবেষণায় খুঁজে পান, বায়ুমতা বাড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি শহরে এ গবেষণা করা হয়। ২০০৪ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক নিউজ বজ্রপাতকে আবহাওয়া সম্পর্কিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে। বিশ্বখ্যাত সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত ‘গ্গ্নোবাল ওয়ার্মিং লাইকলি টু ইনক্রিস স্টর্মি ওয়েদার, স্পেশালি ইন সার্টেন ইউএস লোকেশন’ শীর্ষক পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আবহাওয়া অনুকূল হবে, না তীব্র ঝড়বৃষ্টির মধ্যে প্রতিকূল হবে, তা বজ্রপাতের ধরনের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশে বজ্রপাতে সাম্প্রতিককালে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। এক সেমিনারে তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতিবিদরা মানুষকে মানুষ নয়, ভোটার মনে করি। রাজনীতিবিদরা যদি মনে করেন, আমার ভোটার মারা যাচ্ছে তখন হয়তো বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তবে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হক সমকালকে বলেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই বজ্রপাত হয়। এটা নিয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি জানান, বজ্রপাত নিয়ে অধিদফতরে কোনো গবেষণা বা প্রকল্প নেই। আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ফারাহ দীবা সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে যে দুটি মৌসুমে বজ্রপাত বেশি হয়, এর একটি হলো প্রাইমারি সামার (এপ্রিল থেকে মে)। এ সময় ভার্টিক্যাল ক্লাউড বা স্তম্ভ মেঘ থাকে বলে বজ্রপাত আর কালবৈশাখী হয়। বজ্রপাতে প্রতি বছর গড়ে দুই-তিনশ’ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বজ্রপাত নিয়ে আমাদের অধিদফতরে কোনো জরিপ বা গবেষণা নেই। আমরা শুধু বজ্রপাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের গবেষণা কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা জানান, বজ্রপাত নিয়ে তাদেরও কোনো গবেষণা নেই।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বজ্রপাতের কারণ ও ফলাফল সংক্রান্ত কোনো গবেষণা হয়নি। তবে সম্প্রতি বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন ব্যবহার মানুষের ওপর বজ্রপাতের আশঙ্কা বাড়ায়। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার খুবই বিপজ্জনক। একজন মানুষের সঙ্গে যখন সচল মোবাইল বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থাকে, তখন তা একটি সার্কিট হয়ে যায়। ওই সার্কিটের মধ্য দিয়ে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ প্রবাহ ভেতরে প্রবেশ করে।’ বজ্রপাত বিষয়ে কোনো গবেষণা নেই বলে জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ। পরিবেশ অধিদফতরের হিসাব :বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বাতাসে কার্বনের পরিমাণ চার শতাংশের বেশি বেড়েছে গত কয়েক বছরে। বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রামকে সহনীয় পর্যায়ে ধরা হলেও সেখানে রাজধানীর এলাকাভেদে বাতাসে এ ধরনের উপাদান প্রতি ঘনমিটারে ৬৬৫ থেকে দুই হাজার ৪৫৬ মাইক্রোগ্রাম বা তারও বেশি পরিমাণ পাওয়া গেছে। বজ্রপাতের পরপরই ট্রপোস্টিম্ফয়ার বা বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে নিচের স্তরে নাইট্রোজেন অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে। কার্বন ডাইঅক্সাইড বা কার্বন মনো-অক্সাইডের চেয়ে বেশি বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড রূপান্তরিত হয়ে তা রীতিমতো পরিণত হয় ওজোন গ্যাসে। এ গ্যাস বাতাসের এমন একটি স্থানে ভেসে বেড়ায়, যার ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে বায়ুদূষণের মাত্রা।

বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার কৌশলঃ

বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. সমরেন্দ্র কর্মকার জানান, বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার কৌশল বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশের আগে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। সাধারণত মার্চ থেকে শুরু করে মে পর্যন্ত চলে এ ঝড়। আগেরদিনে গ্রামের মানুষ বলত বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে বেশি কালবৈশাখী ঝড় হয়ে থাকে। কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বেশি বজ্রপাত ঘটে এবং মানুষ বেশি মারা যায়। আবহাওয়া বিজ্ঞানে বলা হয়, গ্রীষ্মকালে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে বাতাস গরম হয়ে উপরে উঠতে থাকে। জলীয়বাষ্পও উপরে উঠে আর মেঘের ভিতর যত বেশি পরিমাণে জলীয়বাষ্প ঢুকবে তত বেশি উলম্ব মেঘের সৃষ্টি হবে। এ সময় ‘আপ ড্রাফ’ এবং ‘ডাউন ড্রাফ’ বাতাসে চলতে থাকে। একে বলা হয় বজ্রমেঘ। মেঘের উপরের অংশে পজেটিভ এবং নিচের ও মধ্য অংশে নেগেটিভ বিদ্যুত্ তৈরি হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘের ভিতরের বিদ্যুত্ আধারে দূরত্ব বেড়ে গেলে প্রকৃতির নিয়মে ভারসাম্য আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘ থেকে বিদ্যুত্ আদান-প্রদান শুরু হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ বিদ্যুত্ সঞ্চালন শুরু হলে বজ্রের সৃষ্টি হয়। আর তখনই বজ্রপাত হতে থাকে। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘ একত্র হলে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের ফলে বাতাসের তাপমাত্রা ২০ হাজার ডিগ্রি থেকে ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে। মেঘের ভিতর থাকা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের সমপ্রসারণ ঘটে। গ্যাসের কম্পনের ফলে মেঘের গর্জন সৃষ্টি হয়। বজ্র সৃষ্টি হয়ে তা পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়াটিও বেশ জটিল বলে জানান ড. সমন্দ্রে কর্মকার। বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাও খুবই কঠিন। তবে সতর্ক হলে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যেতে পারে বলে তিনি জানান ।

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশের আগ মুহূর্তে ঘন কালো মেঘ দেখলেই সাবধান হতে হবে। গুরগুর মেঘের ডাক শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। পাকা বাড়িতে আশ্রয় বেশি নিরাপদ। গাড়ির ভিতরও আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। গাছের নিচে, টেলিফোনের খুঁটির পাশে বা বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের খাম্বার পাশে দাঁড়ানো মোটেই নিরাপদ নয়। ফাঁকা মাঠের মধ্যে অবস্থান সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে তিনি জানান। পানির সংস্পর্শে মোটেই যাওয়া যাবে না। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে কালবৈশাখী দুপুরের পরে হয়ে থাকে। এরপর মে’র শেষ পর্যন্ত সকালেও হয়ে থাকে। পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর আকাশে মেঘের গুরগুর গর্জন শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে বিদ্যুত্ চমকালে বজ্রপাতে মৃত্যুর আশংকা কম থাকে। আর বৃষ্টি ও মেঘের গর্জন না থামা পর্যন্ত নিরাপদে থাকা বাঞ্ছনীয় বলে জানান ড. কর্মকার। বজ্রপাতের আওয়াজ শোনার আগেই তা মাটি স্পর্শ করে। সোজাসুজি মানুষের গায়ে পড়লে মৃত্যু অবধারিত। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করাও বিপজ্জনক। শুকনা কাঠ দিয়ে ধাক্কা দিতে হবে। তিনি জানান, বজ্রপাতের সম্ভাবনা আবহাওয়া বিভাগের রাডারে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘নাউকাস্টনিং’ পদ্ধতিতে মিডিয়াতে প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ স্থানে যেতে পারে। এতে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। ঝড়ের পূর্বাভাস দেখলে কখনো খোলা মাঠ, পাহাড়ের চূড়া, সমুদ্রসৈকতে অবস্থান করবেন না। গাছের নিচে, বিদ্যুতের খুঁটি বা তারের নিচে, পুরনো-জীর্ণ বাড়ির নিচে অবস্থান করবেন না। চলন্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে গাড়িতে অবস্থান করুন। কোনো কর্ডযুক্ত ফোন ব্যবহার করবেন না। মাটির সঙ্গে সংযু্ক্ত ধাতব পদার্থে হাত বা হেলান দিয়ে দাঁড়াবেন না। বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত পানির ফোয়ারায় গোসল করবেন না। মরা কিংবা পচন ধরা গাছ ও খুঁটি কেটে ফেলুন। বাসা, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হলে বিদ্যুতে সব সুইচ বন্ধ রাখুন, দরজা-জানালা ভালোমতো বন্ধ রাখুন। এ সময় সর্তক করার আরেকটি কারণ হচ্ছে, এপ্রিল, মে, জুন, এ তিন মাস আমাদের দেশে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা বেশি থাকে। সবাই সচেতন হই, নিরাপদ থাকি, এটিই প্রত্যাশা।

*বিজ্ঞান* *ঝড়* *বৃষ্টি* *বজ্রপাত* *বাংলাদেশ* *রোধ*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সম্প্রতি মার্কিন রসায়নবিদ ও গবেষকরা এক ধরনের ‘ট্যাটুর স্টিক’ তৈরি করেছেন যা দিয়ে শারীরিক পরিশ্রম বা ট্রেনিং-এর মাত্রা পরিমাপ করা যায়৷ শুধু তাই নয়, তার পাশাপাশি তৈরি করা যায় বিদ্যুৎও৷ তাও আবার কিনা ঘাম থেকে৷বিশ্বাস না হলেও এটাই সত্যি!
ধরুণ আপনি ‘জগার’ হিসাবে দৌড়াচ্ছেন৷ সেই সঙ্গে শুনছেন এমপিথ্রি প্লেয়ারে গান। আর এই জন্য যে বিদ্যুৎশক্তির প্রয়োজন, তা প্রস্তুত করছেন আপনি নিজেই৷ শুনে অবাক লাগছে? কথাটা কিন্তু সঠিক৷ শুধু ঘামের মাধ্যমেই তৈরি হয় বিদ্যুৎ৷ ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর একদল গবেষক এই মজার আইডিয়াটা বাস্তবায়িত করেন৷ তাঁরা এর নাম দিয়েছেন ‘ট্যাটু বায়োব্যাটারি’৷ ‘‘ঘামের মতো শরীর থেকে নির্গত তরল পদার্থ দ্বারা যে শক্তি উত্পাদন করা যায় তার একটা দৃষ্টান্ত এটা৷”

ল্যাকটেট মাপা হয়

ঘামের ল্যাকটেট মাপা হয় একটি সেন্সর দিয়ে৷ল্যাকটেট হল এক প্রকার অণু, যা গ্লুকোজ থেকে মেটাবলিজমের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়৷ শারীরিক পরিশ্রমের সময় কোষে ল্যাকটেট-এর ঘনত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায়৷ ট্রেনিং-এর সময় শারীরিক অবস্থা কেমন হয় সেটা মাপা যায় ল্যাকটেট-এর পরিমাণ দেখে, জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর ডক্টরেটের গবেষক ভেনঝাউ জিয়া৷ অতিরিক্ত ল্যাকটেট তৈরি হলে দেহে চাপ পড়ে৷

এতদিন চিকিত্সকরা খেলোয়াড়দের দেহে ল্যাকটেট-এর পরিমাণ মাপার জন্য রক্ত পরীক্ষা করতেন৷ এখন তো বেশ সহজ পদ্ধতি বের হলো৷ ত্বকের ওপর ঘামেও থাকে ল্যাকটেট-এর অণু৷ একটি নতুন সেন্সর দিয়ে এটি মাপা যায়৷ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতির চেয়ে এটা বিশদভাবে ফিটনেসের মাত্রা পরিমাপ করতে পারে৷

*বেশটেক* *মোবাইল* *চার্জ* *বিজ্ঞান*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে মুসলিম দেশগুলো পেছনে পড়ে যাওয়ায় পাশ্চাত্য তাদের ভাগ্য নিয়ন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো মুসলমানের কাম্য হতে পারে না। আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি যেখানে একটি মুসলিম শিশু মুসলমানদের দুর্দিন ছাড়া আর কিছু দেখছে না। শুধু শিশু নয়, আবালবৃদ্ধবনিতা সবার মধ্যে এমন একটি ধারনা কাজ করছে যে, বিজ্ঞান মানেই ইউরোপ আর আমেরিকা। তাদের কাছ থেকে আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞান শিখতে হবে। কিন্তু আমাদের অনেকেই জানে না যে, মুসলমানরাই আধুনিক বিজ্ঞানের জন্মদাতা। আজকের এ অধ:পতিত মুসলমানদের পূর্বপুরুষেরা কয়েক শতাব্দি পর্যন্ত বিশ্বে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে গেছেন। আজকের আলোকিত বিশ্ব তাদের কাছে ঋনী। বর্তমান বিশ্ব সভ্যতা মুসলমানদের কাছে ঋনী। মুসলমানরাই বিশ্ব সভ্যতাকে রক্ষা করেছেন। এ ব্যাপারে মুসলিম ঐতিহাসিক মোহাইমিনি মোহাম্মাদের একটি উক্তি উল্লেখযোগ্য। তিনি তার 'গ্রেট মুসলিম ম্যাথমেটিশিয়ান' গ্রন্থের ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন, 'In the Byzantine and Persian empire were manifesly bent upon mutual destruction. Likewise, India was greatly divided. However, China was steadily expanding, the Turkish in central Asia were disposed to work in an accord with China. During this period, the world was saved by the rise of the Islamic civilization.'

অর্থাত, 'সপ্তম শতাব্দিতে পশ্চিম ইউরোপের পতন ঘটেছিল। অন্যদিকে বাইজাইন্টাইন ও পারস্য সাম্রাজ্য একে অন্যের ধ্বংস সাধনে ছিল সুস্পষ্টরূপে বদ্ধপরিকর। একইভাবে ভারত ছিল মারাত্মকভাবে দ্বিধাবিভক্ত। তবে দৃঢ়তার সঙ্গে চীনের সম্প্রসারন ঘটছিল। মধ্য এশিয়ায় তুর্কিরা চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী ছিল। এসময় ইসলামী সভ্যতার উত্থানে বিশ্ব রক্ষা পায়।'

পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে মুসলমানই একমাত্র জাতি যার রয়েছে সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য। জাতি তাদের মহত ব্যক্তিদের কীর্তিসমূহ সম্পর্কে এমনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যা সকল প্রকার সংশয় ও সন্দেহ থেকে মুক্ত। মুসলমানদের হোমারের এলিয়ড অথবা হিন্দুদের রামায়ন, মহাভারতের কল্পকাহিনীর প্রয়োজন নেই। কেননা এসব কল্পকাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়কর ও গৌরবোজ্জ্বল কাহিনীর বাস্তব উদাহরন তাদের ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে, অথচ ঐসব কল্পকাহিনীর মিথ্যাচারিতা ও অবিশ্বস্ততার ছোঁয়াও তাতে লাগেনি। মুসলমানদের ফেরদৌসীর শাহনামা অথবা স্পার্টাবাসীদের কল্পকাহিনীরও কোন প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের ইতিহাসের পাতায় পাতায় রয়েছে রুস্তম ও স্পার্টার ছড়াছড়ি। মুসলমানদের ন্যায়পরায়ন নওশেরওয়া বাদশাহ বা হাতেম তাঈর গল্পেরও কোনই প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের সত্য ইতিহাসের পাতায় পাতায় অসংখ্য হাতেম ও নওশেরওয়া বিদ্যমান। মুসলমানদের এরিস্টটল, বেকন, টলেমী বা নিউটনেরও কোনই প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের পূর্বপুরুষদের মজলিসে এমনসব দার্শনিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিদ্যমান রয়েছেন- যাঁদের পাদুকাবহনকেও উল্লিখিত যশস্বীগন গৌরবের কারন জ্ঞান করতেন।

 

 

 

কতই আক্ষেপ ও বিস্ময়ের ব্যাপার, আজ যখন বিশ্বের তাবত জাতি নিজেদেরকে বিশ্ব দরবারে সমুন্নত করার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, তখনও সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অধিকারী মুসলমানগন নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীন ও নির্বিকার। মুসলমানদের যে শ্রেনিটাকে অনেকটা শিক্ষিত ও সচেতন মনে করা হয়, তারাও তাদের বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রবন্ধাদিতে কোন মহত ঘটনার উদাহরন দিতে চান তখন মনের অজান্তেই তাঁদের মুখ ও কলম দিয়েও কোন ইউরোপিয়ান বা খ্রিষ্টান মনীষীর নামই নির্দ্বিধায় বেরিয়ে আসে। এক্ষেত্রে তার চেয়েও হাজার গুন উল্লেখযোগ্য কোন মুসলিম মনীষীর নাম তাঁদের জানা থাকে না। এ সত্যকে কে অস্বীকার করতে পারে যে, মুসলমানদের শিক্ষিত শ্রেনি বিশেষত নব্য শিক্ষিত শ্রেনির মুসলমানদের বক্তৃতা-বিবৃতি বা রচনাদিতে নেপোলিয়ান, হ্যানিবল, শেক্সপিয়ার, বেকন, নিউটন প্রমুখ ইউরোপীয় মনীষীর নাম যত নিতে দেখি, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, সালাহউদ্দিন আইয়্যুবী, হাসসান ইবনে ছাবিত, ফেরদৌসী, তূসী, ইবন রুশদ, বূ-আলী, ইবন সীনা প্রমুখ মুসলিম মনীষীর নাম ততো নিতে দেখা যায় না। এর একটি মাত্র কারন, আর তা হচ্ছে বর্তমান যুগে মুসলমানরা তাদের নিজ ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ ও নির্বিকার। মুসলমানদের এই অজ্ঞতা ও উদাসীনতার কারন হচ্ছে-

প্রথমত এমনিতেই অন্যান্য জাতির তুলনায় মুসলমানদের জ্ঞানস্পৃহা কম।

দ্বিতীয়ত, জ্ঞানান্বেষনের সুযোগ ও অবকাশও তাদের নেই।

তৃতীয়ত, সরকারি কলেজ ও মাদরাসাগুলো ইসলামী শিক্ষায়তনগুলোকে ভারতবর্ষে প্রায় অস্তিত্বহীন করে দিয়েছে।

চতুর্থত, মুসলমানদের যে শ্রেনিটিকে সাধারনত শিক্ষিত বলা হয়ে থাকে এবং মুসলমানদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় বলে গন্য করা হয় তাঁদের প্রায় সকলেই শিক্ষায়তনসমূহে লেখাপড়া করে এসেছেন - যেগুলোতে ইসলামের ইতিহাস পাঠ্যভূক্ত নয়, আর তা পাঠ্যভূক্ত থাকলেও ইসলামের ইতিহাস পদবাচ্য নয়-অন্য কিছু, অথচ তাকে ইসলামের ইতিহাস বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে এবং সেগুলোকেই মুসলিম সন্তানদের গোগ্রাসে গলধকরনে বাধ্য করা হয়। কলেজ থেকে ডিপ্লোমা হাসিল করার পর না জ্ঞানার্জনের বয়স বাকি থাকে আর না তার তেমন কোন অবকাশ বা সুযোগ থাকে। মোটকথা, আমাদের শিক্ষিত মুসলমানদেরকে সেই ইসলামের ইতিহাসের উপরই নির্ভর করতে হয় যা ইসলামের প্রতিদ্বন্দী ও শত্রুরা বিকৃত করে তাদের ইংরেজি পুস্তকাদিতে লিখেছে।

 

 

 

মুসলমানদের পূর্বে পৃথিবীর অন্য কোন জাতির এ সৌভাগ্য হয়নি যে, ইতিহাসকে একটা সঠিক ভিত্তির উপর রীতিমত একটা শাস্ত্ররূপে দাড় করাবে। তাঁদের কেউই তাদের পূর্বপুরুষদের সঠিক ইতিহাস রচনায় সমর্থ হননি। ইসলামের পূর্বে ইতিহাস রচনার মান যে কেমন ছিল বাইবেলের পৃষ্ঠাসমূহ বা রামায়ন মহাভারতের কাহিনীগুলো পাঠই তা উপলব্ধি করার জন্য যথেষ্ট। মুসলমানরা মহনবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস সংরক্ষন ও বর্ননায় যে কঠোর সতর্কতা ও নিয়মানুবর্তিতার স্বাক্ষর রেখেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তার কোন নযীর নেই। 'উসূলে হাদিস' ও 'আসমাউর রিজাল' এর মত শাস্ত্রগুলো কেবল হাদিসে নববীর হিফাযত ও খিদমতের উদ্দেশ্যে তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন। রিওয়ায়াত বা বর্ননাসমূহের বাছ-বিচার ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে সুদৃঢ় নীতিমালা তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন পৃথিবী তার সুদীর্ঘ আয়ুষ্কালে কোন দিন তা প্রত্যক্ষ করেনি।

মুসলমানদের ইতিহাস সংক্রান্ত সর্বপ্রথম কীর্তি হচ্ছে ইলম হাদিসের বিন্যাস ও সংকলন। ঠিক সেই নীতিমালার ভিত্তিতেই তাঁরা তাঁদের খলীফাগন, আমীর-উমরা ও সুলতানগন, বিদ্বজ্জন ও মনীষীগনের জীবন-চরিত লিপিবদ্ধ করেছেন। এসবের সমাহার হচ্ছে ইসলামের ইতিহাস। দু:খজনক যে, মুসলমানদের ইতিহাস হয় না পৃথিবীর জন্য এক অভাবিত, অভূতপূর্ব অথচ অপরিহার্য উপাদান। অন্যান্য জাতি যেখানে তাদের বাইবেল ও মহাভারত পৃভৃতিকেই তাদের গৌরবজনক 'ঐতিহাসিক' সম্পদ বলে বিবেচনা করতে অভ্যস্ত ছিল, তখন বিশ্বের মানুষ সবিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করল যে, মুসলমানরা খতীবের 'তারীখ' বা ইতিহাস গ্রন্থকে তাদের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থের আলমারী থেকে বের করে সরিয়ে রাখছে।

 

 

 

আজ ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদেরকে ইতিহাস শাস্ত্রের অনেক খুঁটিনাটি তত্ত্ব নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। মুসলমানরা তা দেখে অনেকটা হকচকিয়ে যান এবং পূর্ন আন্তরিকতার সাথে তাদের স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের একথাটিও জানা নেই যে, উত্তর আফ্রিকায় বসবাসকারী জনৈক স্পেনীয় আরব বংশোদ্ভূত মুসলমান ঐতিহাসিক ইবন খালদূনের ইতিহাসের ভূমিকা 'মুকাদ্দামায়ে তারীখ' -এর উচ্ছিষ্ট ভোগই গোটা ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বকে ইতিহাস শাস্ত্র সম্পর্কে এমনি জ্ঞানদান করেছে যে,

ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের সমস্ত ঐতিহাসিক গবেষনাকর্মকে ইবন খালদূনের মাজারের ঝাড়ুদারকে অর্ঘ্য-স্বরূপ বিনীতভাবে পেশ করা চলে। কিন্তু মুসলিম ঐতিহাসিকদের ইতিহাসকর্ম যে কত উঁচুমানের ছিল তা এ থেকেই অনুমিত হয় যে, মুসলিম বিজ্ঞজনের মজলিসে ইবন খালদূনের অনন্যসাধারন 'মুকাদ্দামা' বাদ দিলে তাঁর আসল ইতিহাসের তেমন কোন মূল্য নির্বিবাদে স্বীকৃত হয়নি।

ইবন হিশাম, ইবনুল আছীর, তাবারী, মাসউদী প্রমুখ থেকে নিয়ে আহমদ ইবন খাওন্দশাহ এবং যিয়াউদ্দিন বারনী পর্যন্ত বরং মুহাম্মদ কাসিম ফিরিশতা এবং মোল্লা বদায়ূনী পর্যন্ত হাজার হাজার মুসলিম ঐতিহাসিকের বিপুল গবেষনা কর্ম যে বিশালায়তন ভলিউমসমূহে সংরক্ষিত রয়েছে, এদের প্রত্যেকটি মুসলমানদের বিস্ময়কর অতীত ইতিহাসের এক একটি খন্ডচিত্র এবং এদের প্রত্যেকের লিখিত ইসলামের ইতিহাস এমনি উল্লেখযোগ্য যে, মুসলমানরা তা অধ্যয়ন করে অনেক শিক্ষনীয় বিষয়ের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত অাক্ষেপ ও পরিতাপের বিষয় যে, আজ শতকরা একজন মুসলমানও নিজেদের জাতীয় ইতিহাস জানার জন্য ঐসব মনীষীর রচনাবলী পাঠের এবং তার মর্ম উপলব্ধি করার সামর্থ্য রাখে না। অথচ সেই তুলনায় মিল, কার্লাইল, ইলিয়ট, গিবন প্রমুখের লিখিত ইতিহাস পাঠ করার এবং তার মর্ম উপলব্ধি করার মত যোগ্য মুসলমানের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

 

 

 

মুসলমানদের অবস্থা আজকের মতো এত শোচনীয় অতীতে ছিল না। তারা ছিলেন একসময় বিশ্বের প্রভূ। অতীত নিয়ে একটি মুসলিম শিশু গর্ব করতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকাকে লক্ষ্য করে বুক ফুলিয়ে সে বলতে পারে, আমরাও তোমাদের মতো ছিলাম। জ্ঞান-বিজ্ঞানে আমরা তোমাদের পেছনে নই। এমন কথা বলার পূর্বে তাকে জানতে হবে তার আত্মপরিচয়। নিজের জাতীয় পরিচয়। ইসলামের স্বর্নযুগের ইতিহাস প্রতিটি মুসলিমকে অহেতুক হীনমন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে। মহিমান্বিত সে যুগের আলোচনা সামনে সময়মত পর্যায়ক্রমে করার ইচ্ছে থাকলো। তার পূর্বে আসুন প্রাতস্মরনীয় ক'জন মুসলিমদের নামোচ্চরন করি। দেখি, যাচাই করি, এদের আমরা ইতিপূর্বে চিনতাম কি না-

রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভূগোলবিদ আল বিরুনী, আধুনিক চিকিতসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা, হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল আবিষ্কারক ইবনুন নাফিস, বীজগনিতের জনক আল খাওয়ারিজমি, পদার্থ বিজ্ঞানে শুন্যের অবস্থান নির্নয়কারী আল ফারাবি, আলোক বিজ্ঞানের জনক ইবনে আল হাইছাম, এনালাইটিক্যাল জ্যামিতির জনক ওমর খৈয়াম, সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধারকারী আল কিন্দি, গুটিবসন্ত আবিষ্কারক আল-রাজি, টলেমির মতবাদ ভ্রান্ত প্রমানকারী আল-বাত্তানি, ত্রিকোনমিতির জনক আবুল ওয়াফা, স্ট্যাটিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ছাবিত ইবনে কোরা, পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারনকারী বানু মূসা, মিল্কিওয়ের গঠন শনাক্তকারী নাসিরুদ্দিন তুসি, এলজাব্রায় প্রথম উচ্চতর পাওয়ার ব্যবহারকারী আবু কামিল, ল' অব মোশনের পথ প্রদর্শক ইবনে বাজাহ, এরিস্টোটলের দর্শন উদ্ধারকারী ইবনে রুশদ, ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিষ্কারক ইবনে ইউনূস, পৃথিবীর ব্যাস নির্নয়কারী আল-ফারগানি, পৃথিবীর প্রথম নির্ভুল মানচিত্র অঙ্কনকারী আল-ইদ্রিসী, বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের আবিষ্কারক আল-জাজারি, সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতার গতি প্রমানকারী আল-জারকালি, মানব জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রনেতা আবুল ফিদা, বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের অগ্রদূত ইবনে আল-শাতির, ভূগোল বিশ্বকোষ প্রনেতা আল-বাকরি, প্লানেটরি কম্পিউটার আবিষ্কারক আল-কাশি, বীজগনিতের প্রতীক উদ্ভাবক আল-কালাসাদি, প্রথম এশিয়া ও আফ্রিকা সফরকারী নাসির-ই-খসরু, অঙ্কনে ব্যবহৃত কম্পাসের উদ্ভাবক আল-কুহি, বিশ্ববিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতাসহ এরকম হাজারও প্রাত:স্মরনীয় মুসলিম ব্যক্তিত্বদের এ পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে যাদের অবদান বিশ্ব তার অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে যাবে। বিশ্ব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে যাদের অবদান চিন্তা করলে বিধর্মী পন্ডিতগন পর্যন্ত শ্রদ্ধা-সম্মানে মস্তক অবনত করে দেন।

অধ্যাপক জি. সারটন তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য হিস্টোরি অব সায়েন্স' -এ লিখেছেন, 'It will suffice here to evoke few glorious names without contemporary equivalents in the West: Jabir ibn Haiyan, Al-Kindi, Al-Khwarizmi, Al-Fargani, Al-Razi, Thabit ibn Qurra, Al-Battani, Hunain ibn Ishaq, Al-Farabi, Ibrahim ibn Sinam, Al-Masudi, Al-Tabari, Abul Wafa, Ali ibn Abbas, Abul Qasim, Ibn Al-Jazzari, Al-Biruni, Ibn Sina, Ibn Yunus, Al Kashi, Ibn Al-Haitham, Ali Ibn Al-Ghazali, Al-Zarqab, Omar Khayyam. A magnificent array of names which it would not be difficult to extend. If anyone tells you that the Middle Ages were scientifically sterile, just quote these name to him, all of whom flourished within a short period, 750 to 1100 A.d.'

অর্থাৎ 'এখানে মুষ্টিমেয় কিছু নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে। সমসাময়িককালে পাশ্চাত্বে তাদের সমতুল্য কেউ ছিল না। তারা হলেন:

জাবির ইবনে হাইয়ান, আল-কিন্দি, আল-খাওয়ারিজমি, আল-ফারগানি, আল-রাজি, ছাবিত ইবনে কোরা, আল-বাত্তানি, হুনাইন ইবনে ইসহাক, আল-ফারাবি, ইবরাহীম ইবনে সিনান, আল-মাসউদি, আল-তাবারি, আবুল ওয়াফা, আলী ইবনে আব্বাস, আবুল কাসিম, ইবনে আল-জাজারি, আল-বিরুনি, ইবনে সিনা, ইবনে ইউনূস, আল-কাশি, ইবনে আল-হাইছাম, আলী ইবনে ঈসা আল গাজালি, আল-জারকাব, ওমর খৈয়াম। গৌরবোজ্জ্বল নামের তালিকা দীর্ঘ করা মোটেও কঠিন হবে না। যদি কেউ আপনার সামনে উচ্চারন করে যে, মধ্যযুগ ছিল বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অনুর্বর তাহলে তার কাছে এসব নাম উল্লেখ করুন। তাদের সবাই ৭৫০ থেকে ১১০০ খৃস্ট সাল পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত সময়ে বিশ্বকে আলোকিত করেছিলেন।'

 

 

 

কিন্তু আফসোস, আজকের মুসলিম সন্তানরা বিশ্ব সভার আলোকিত মুকুটধারী এই মহা মনীষীদের অবদানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে থাকেন। কিংবা ইতিহাস না জানার কারনে, মূর্খতার আস্ফালনে স্বজাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্মন্ধে অজ্ঞই থেকে যান তারা। আর এ অজ্ঞতাই তাদের হীনমন্যতার কারন। ভুলে গেলে চলবে না, হীনমন্যতা এমনি দূরারোগ্য এক ব্যধি যে, একটি জাতিকে অকর্মন্য, অথর্ব আর আবর্জনাতুল্য হীন জাতিতে পরিনত করার জন্য এরচে' বড় কোন অস্ত্র নেই।

অফটপিক: এই পোস্টটি প্রিয় ব্লগার রাজীব নূরকে শুভেচ্ছাসহ। তার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই বিষয়ে লেখার কথাটা মাথায় আসে। চেষ্টা থাকবে, ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি পর্বে এই পোস্টটিকে কন্টিনিউ করার। সকলের কল্যান হোক।

তথ্যসূত্র:

১। উইকিপিডিয়া।

২। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ অনূদিত ও প্রকাশিত ইসলামের ইতিহাস, মাওলানা আকবর খান নজিবাবাদী।

৩। Shornojuge Muslim Bigganider Abishkar - Shahdat Hossain Khan

৪। অন্যান্য।

*বিজ্ঞান* *মুসলমান* *ইতিহাস* *গৌরবউজ্জ্বল* *ইবনে-সিনা* *বেশটেক* *বেশম্ভব*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার বলতে আসলে কিছুই নেই !!!

আমরা যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম(আল্ট্রা ভায়োলেট থেকে ইনফ্রারেড) অর্থাৎ আলো দেখতে পাই তার গতি হচ্ছে শূন্যস্থানে ৩ লক্ষ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে।

আমাদের চোখে তাই কোন দৃশ্যমান আলো থেকে প্রতিক্রিয়া হতে ১.৩ ন্যানো সেকেন্ড সময় লাগে। এজন্যই ফ্যানকে বা চাকাকে আমরা ঘূর্ণায়মান দেখতে পাই , রিয়েল টাইমে অর্থাৎ সরাসরি দেখতে পেলে এগুলো স্থির অবস্থায় দেখা যেত ।

আকাশে তাকালেই যে চাঁদের উপরে চোখ যায় সেটা পৃথিবী থেকে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার কিঃমিঃ দূরে কাজেই চাঁদকে আমরা ১.২ সেকেন্ড অতীতে দেখি।

সূর্য পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কোটি কিঃমিঃ দূরে । তাই সূর্যকে আমরা ৮ মিনিট অতীতে দেখি । একইভাবে চাঁদের ঠিক ডানে যে জ্যোতিষ্ক দেখা যায় অর্থাৎ মঙ্গল গ্রহ সেটি আমরা দেখতে পাই ১৫ মিনিট পূর্বের অবস্থায় !!!

যারা সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে গিয়েছেন তারা নিশ্চয়ই আকাশে তারার একটি সারি লক্ষ করেছেন যার নাম মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ । এটি আমাদের মাতৃ গ্যালাক্সি । আমাদের সৌরজগত হলো এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের একটি ! ওটি অর্থাৎ মিল্কিওয়ে আমরা ২৫ হাজার বছর পূর্বের অবস্থায় দেখছি !!!

এতো গেল ধারের কাছের জিনিস এখন যদি সৌরজগতের গ্যালাক্সি অর্থাৎ মিল্কিওয়ের নিকটতম গ্যালাক্সি মানে অ‍্যান্ড্রোমিডা থেকে পৃথিবীর দিকে তাকান হয় তাহলে এখন ডাইনোসর দেখা যাবে অর্থাৎ বর্তমান যুগের আলো এখনো যেয়ে পৌঁছেই নি ওখানে। আরো ৬০ মিলিয়ন বছর পর বর্তমান যুগটাকে দেখা যাবে !!!

কাজেই লাইভ বলতে কিছু নেই । সবই পুরনো

 

*বিজ্ঞান* *বেশটেক* *সরাসরি* *মিল্কওয়ে*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

স্টেভিয়া পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্য মিষ্টি গুল্ম জাতীয় ভেষজ গাছ। এ গাছ শত শত বছর ধরে প্যারাগুয়ের পাহাড়ি অঞ্চল রিওমন্ডে এলাকায় চাষাবাদ হতো। ১৮৮৭ সালে সুইজারল্যান্ডের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. এমএস বার্টনি স্টেভিয়াকে প্রথম বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্যারাগুয়ের গুরানী ইন্ডিয়ান নামক উপজাতীয়রা একে বল- কা-হি-হি অর্থাৎ মধু গাছ। আফ্রিকাতে এটি মধু পাতা বা চিনি পাতা নামে পরিচিত। এছাড়াও থাইল্যান্ডে মিষ্টি ঘাস, জাপানে আমাহা সুটেবিয়া ও ভারতে মধু পারানি নামে স্টেভিয়াকে অভিহিত করা হয়। ১৯৬৪ সালে প্যারাগুয়েতে প্রথম স্টেভিয়ার বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়। জাপানে চাষাবাদ শুরু হয় ১৯৬৮ সালে। তখন থেকে বিভিন্ন দেশে বিশেষত ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, চীন, কোরিয়া, আমেরিকা, কানাডা, ইসরাইল, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড, মালেশিয়াসহ প্রভৃতি দেশে এটি ফসল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্র্যাক নার্সারি ‘ব্র্যাক ঔষধি-১১’ নামে স্টেভিয়ার টিস্যু কালচার চারা বাজারজাত করছে। এর মাতৃগাছটি সংগ্রহ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

স্টেভিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Stevia rebaudiana এবং এটি Compositae পরিবারভুক্ত গাছ। গাছটি বহুবর্ষজীবী এবং ৬০ থেকে ৭৫ সেমি. পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা আকার বর্ষাকৃতি, ফুল সাদা এবং বীজ ক্ষুদ্রকৃতি। স্টেভিয়া গাছের পাতার নির্যাস চিনির চেয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি।

তবে সুখবর হল এর মধ্যে কোনো কার্বোহাইড্রেট কিংবা ক্যালরি নেই, তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক বিকল্প। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস বিনষ্টকারী প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান।

এ গাছের মিষ্টি উপাদানের নাম হল Steviol †lycosides যা সংক্ষেপে Stevioside নামে পরিচিত। এই অগ্নাশয়ের বিটা কোষের সক্রিয়তার মাধ্যমে ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগার লেভেল কমিয়ে রাখে।

স্টেভিয়ার সবুজ ও শুকনো পাতা সরাসরি চিবিয়ে কিংবা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে বোতলে সংরক্ষণ করা যায়। পাতার গুঁড়ো দিয়ে মিষ্টান্ন তৈরি করে ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এ ঔষধি গাছের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জাপানে হালকা পানীয় কোকাকোলাতে স্টেভিয়া ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কনফেকশনারি, ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্যে চিনির বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। চা ও কফিতে স্টেভিয়ার ব্যবহার বিশ্বব্যাপী।

আমেরিকাতে কোকাকোলা কোম্পানি জবনরধহধ নামে স্টেভিয়া বাজারজাত করে থাকে। বিভিন্ন সময় চিনি রফতানিকারক দেশসমূহ ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো স্টেভিয়াতে বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে বলে প্রচারণা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে USFDA (United State Food and Drug Administration) এর গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এর মধ্যে কোনো বিষাক্ত পদার্থ নেই।

স্টেভিয়ার বিশেষ কার্যকারিতা : ডায়াবেটিস তথা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে, উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন প্রতিরোধ করে, যকৃত, অগ্ন্যাশয় ও প্লীহায় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, স্টেভিওসাইড অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়তা করে, ত্বকের ক্ষত নিরাময় ও দাঁতের ক্ষয় রোধ করে, E. colimn বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমন করে, খাদ্য হজমে সহায়তা করে, স্টেভিয়াতে কোনো ক্যালরি না থাকায় স্থূলতা রোধ করে, শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে, মিষ্টি জাতীয় খাবারে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, খাবারে গুণাগুণ বৃদ্ধি করে ও সুগন্ধ আনয়ন করে, শরীরের সুস্থতা ও সতেজতাবোধ সৃষ্টি করে।

উৎপাদন কৌশল : বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু স্টেভিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এদেশে সারা বছরই সফলভাবে স্টেভিয়া চাষ করা সম্ভব।

সুনিষ্কাশিত ও জৈব পদার্থযুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটি স্টেভিয়া চাষের জন্য ভালো। লাল মাটি ও অপেক্ষাকৃত ক্ষারীয় মাটিতে স্টেভিয়া ভালো জন্মে। আমাদের দেশে বৃষ্টির পানি জমে না এরকম উঁচু সুনিষ্কাশিত জমিতে স্টেভিয়া চাষ করতে হবে।

পৃথিবীতে স্টেভিয়ার প্রায় ৯০টির মতো জাত আছে। এর বিভিন্ন জাত বিভিন্ন আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। স্টেভিয়ার গুণাগুণ নির্ভর করে এর পাতায় বিদ্যমান স্টেভিওসাইডের ওপর।

পাতায় স্টেভিওসাইড উৎপাদন একই সঙ্গে গাছের বয়স, জাত ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। স্টেভিয়ার বাণিজ্যিক জাতের পাতায় কমপক্ষে ১০ ভাগ স্টেভিওসাইড থাকতে হয়।

স্টেভিয়া বাণিজ্যিকভাবে সাধারণত বেডে চাষ করতে হয়। বেডের উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি। বেডে সারি থেকে সারি দূরত্ব হবে এক ফুট এবং সারিতে গাছ হতে গাছের দূরত্ব হবে ৬ ইঞ্চি। ৫ থেকে ৬টি চাষ দিয়ে জমিকে ভালোভাবে তৈরি করতে হবে। মই দিয়ে জমির ওপরের ঢেলা ভেঙে মিহি করে নিতে হবে।

দুভাবে স্টেভিয়ার বংশবৃদ্ধি করা যায়। প্রথমত টিস্যু কালচার পদ্ধতি এবং দ্বিতিয়ত স্টেম কাটিং পদ্ধতি। তবে টিস্যু কালচার সবচেয়ে ভালো ও লাভজনক পদ্ধতি। কারণ স্টেম কাটিং এ সফলতার হার খুবই কম এবং কাটিং এ শিকড় গজাতে অনেক বেশি সময় লাগে। বীজ থেকে চারা গজালেও অঙ্কুরোদগমনের হার থাকে খুবই কম।

জমিতে গাছের সংখ্যানির্ভর করে মাটি ও আবহাওয়ার ওপর। তবে লাভজনকভাবে চাষের জন্য একর প্রতি ৪০ হাজার গাছ বা হেক্টরপ্রতি এক লাখ গাছ লাগানো উত্তম।

স্টেভিয়ার সফল চাষনির্ভর করে জমিতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানের ওপর। জমিতে ফসফেট ও পটাশ সারের পরিমাণ ইউরিয়া অপেক্ষা বেশি হতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ইউরিয়া সার স্টেভিয়া পাতার মিষ্টতা কমিয়ে দেয়। তাই স্টেভিয়া চাষের জন্য জৈব সারই সর্বোত্তকৃষ্ট।

স্টেভিয়া চাষের জন্য সারাবছরই মাটিতে পরিমিত আর্দ্রতা থাকতে হবে। তবে গাছ অতিরিক্ত আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে না। সাধারণত শীতকালে একবার এবং গ্রীষ্মকালে ২ থেকে ৩ বার ঝাঁঝরির সাহায্যে হালকা সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। মাসে একবার বেডের আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।

তবে মালচিং করলে একই সঙ্গে আগাছা দমন হয় আবার আর্দ্রতাও সংরক্ষণ হয়। খড়-কুটো, কচুরিপানা বা কম্পোস্ট দিয়ে মালচিং করা যায় যা গাছের শিকড়কে মাটির সঙ্গে সুসংহত করে।

স্টেভিয়ায় পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই কম হয়ে থাকে। কখনও কখন সেপটোরিয়া ও স্কেলেরোটিনিয়াজনিত গোড়া পচা রোগ দেখা যায়।

চারা অবস্থায় অনেক সময় গাছের গোড়া কেটে দেয়। এছাড়া অনেক সময় এপিড ও সাদামাছির আক্রমণও লক্ষ্য করা যায়। নিম ওয়েল স্প্রে করে অর্গানিক উপায়ে একই সঙ্গে পোকামাকড় ও রোগ-জীবাণু দমন করা যায়। এজন্য ৩০ মিলি নিম ওয়েল/লিটার পানি- এ হারে স্প্রে করতে হবে।

ফলন : সাধারণত মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে পাতা সংগ্রহ করা হয়। এ সময় গাছের উচ্চতা হয় ৪০ থেকে ৬০ সেমি.। ফুল আসার ঠিক আগে আগে পাতা সংগ্রহ করতে হয়।

এসময় পাতায় সর্বোচ্চ পরিমাণ স্টেভিওসাইড পাওয়া যায়। সাধারণত মাটি থেকে ১০ থেকে ১৫ সেমি. উপরে প্রুনিং করে ডালসহ পাতা সংগ্রহ করা হয়। হেক্টরপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কেজি শুকনো পাতা পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়াতে জন্মানো স্টেভিয়া পাতায় ১৫ থেকে ২০ ভাগ স্টেভিওসাইড থাকে যা বিশ্বের অন্যত্র জন্মানো গাছের থেকে ১.৫ থেকে ২.০ গুণ বেশি। এজন্য এগুলোর বাজারমূল্য বেশি পাওয়া যায়।

পাতা শুকানো : স্টেভিয়া পাতা সংগ্রহের পর সূর্যালোকে বা ড্রায়ারের মাধ্যমে পাতা শুকাতে হবে। পাতা শুকানোর জন্য কমপক্ষে ১২ ঘণ্টার সূর্যালোক প্রয়োজন হয়।

পাতা শুকানোর পর ক্রাশ করে পাউডারে পরিণত করা হয়। এক্ষেত্রে কফি গ্রাইন্ডার কিংবা ব্লেন্ডার মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে। গরম পানিতে এক চতুর্থাংশ পাউডার মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে স্টেভিয়া সিরাপ তৈরি করা যায়। এ সিরাপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়।

টবে চাষ : বাসাবাড়িতে টবে বা পটে সহজেই স্টেভিয়া চাষ করা যায়। তবে গাছের টব রৌদ্রযুক্ত বারান্দায় বা ছাদে রাখতে হবে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত স্টেভিয়ার ছোট চারা নিষ্কাশনযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে অথবা দো-আঁশ ও জৈব সার মিশ্রিত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি মাটির টবে সারাবছর রোপণ করা যায়। এ গাছের চারা রোপণের ২৫ থেকে ৩০ দিন পর পাতা সংগ্রহ করা যায়।

গাছে ফুল আসার ২৫ থেকে ৩০ দিন পর থেকে ওপরের অংশ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। পরে গাছের গোড়া থেকে একসঙ্গে অনেক চারা বের হতে থাকে এবং ২০ থেকে ২৫ দিন পর পুনরায় পাতা সংগ্রহ করা যায়।

বাংলাদেশে উপযোগিতা : স্টেভিয়া চাষ করে হেক্টরপ্রতি বছরে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। ভারতে বিভিন্ন কোম্পানি চুক্তিভিত্তিক চাষীদের চারা সরবরাহ করে থাকে এবং তাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে স্টেভিয়া পাতা কিনে নেয়।

আমাদের দেশে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুরে একই পদ্ধতিতে তামাক চাষ করা হয়। এসব অঞ্চলে ক্ষতিকর তামাক চাষের পরিবর্তে স্টেভিয়া চাষ হতে পারে একটি লাগসই বিকল্প। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্টেভিয়া চাষ করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

*বিজ্ঞান* *উদ্ভিদ* *মিষ্টি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বছর ঘুরে আবার আমাদের দ্বারপ্রান্তে নতুন বছর। ইচ্ছেঘুড়ির সব বন্ধুদের জানাই ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা। বন্ধুরা, তোমরা জানো বাংলাদেশে তিনটি বর্ষের প্রচলন রয়েছে। হিজরি, ইংরেজি ও বাংলা। প্রত্যেক বর্ষের আছে আবার বিস্তৃত ইতিহাস। সে ইতিহাস আবার একটু জটিল ও বিশাল। আমাদের সামনে এখন ইংরেজি বছর। আজ দিন পেরুলে কালকের সকাল হবে আমাদের সবার নতুন বছর। ইংরেজি ২০১৩ সাল।

নিশ্চয় তোমাদের জানতে ইচ্ছে করছে কীভাবে এলো আজকের এই ক্যালেন্ডার যা দেখে আমরা পালন করতে যাচ্ছি নতুন বছর। তাহলে চলো জেনে নেওয়া যাক ইংরেজি সাল কবে থেকে গণণা করা হয়, এর পেছনের ইতিহাস কী ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়।

আসলে আমরা যে ইংরেজি সাল বা খ্রিস্টাব্দ বলি সেটা হচ্ছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আমরা এখন যে ইংরেজি বর্ষ পালন করি তা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। এর কিন্তু আবার আছে বিশাল ইতিহাস। আগে আমরা জেনে নেই সেটি।

নতুন বছরের কথা জানাতে গিয়ে আমরা কিন্তু চলে যাচ্ছি পুরোনো আমলের ইতিহাসে। গ্রেগরিয়ান আসলে একটি সৌর বছর। এর বর্তমান কাঠামোতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে কয়েকশ বছর। নানা পরিবর্তন পরিমার্জনের ফল আজাকের ক্যালেন্ডার।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানুষ যেদিন বর্ষ গণনা করতে শিখলো সেদিন চাঁদের হিসাবেই শুরু করে বর্ষ গণনা। সূর্যের হিসাবে বা সৌর গণনার হিসাব আসে অনেক পরে। সৌর এবং চন্দ্র গণনায় আবার পার্থক্য রয়েছে। সৌর গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, কিন্তু চান্দ্র গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না।

বর্ষপঞ্জিকা তৈরির বিষয়টি লক্ষ্য করা গিয়েছিল সুমেরীয় সভ্যতায়। মিশরীয় আবার জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিসাব-নিকাশে ছিলো বেশ এগিয়ে। এই মিশরীয় সভ্যতাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার আবিষ্কার করে বলে ধারণা করা হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মিশরীয় সে ক্যালেন্ডার নিয়ে করেছেন বিস্তর গবেষণা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, খ্রিস্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দ থেকে ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে।

ইউরোপকে বলা হয় শিল্প-সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্গ। সভ্যতার সব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কিন্তু তারাই করেছে। আর এদিক দিয়ে এগিয়ে ছিলো গ্রিক ও রোমনরা।

রোমানরা আবার তাদের প্রথম ক্যালেন্ডার লাভ করে গ্রিকদের কাছ থেকে। মজার বিষয় রোমানদের প্রাচীন ক্যালেন্ডারে মাস কিন্তু ১২টি ছিলো না। তাদের মাস ছিলো ১০টি। তাদের বছর ছিলো ৩০৪ দিনে। আরো মজার ব্যাপার শীতের দুই মাস তারা বর্ষ গণনার মধ্যেই আনতো না।

রোমানরা মার্চ মাস থেকে তাদের বর্ষ গণনা শুরু করতো। নববর্ষ উৎসব পালন করতো মার্চ মাসের ১ তারিখে।
বছর গণনায় ৬০ দিন বাদ যাওয়ায় তারা কিন্তু দিন, তারিখ বর্ণিত ক্যালেন্ডার ব্যবহারের কথা ভাবতো না।
রোমের একজন বিখ্যাত সম্রাট রমুলাস। তিনি ছিলেন রোমের প্রথম সম্রাট। তিনিই নাকি আনুমানিক ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু পরবর্তীকালে ১০ মাসের সঙ্গে আরো দুটো মাস যোগ করেন রোমান সম্রাট নুমা। আর মাস দুটো  হচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। তিনিই জানুয়ারিকে বছরের প্রথম মাস হিসাবে যুক্ত করেন।

জানুয়ারি মাস ২৯ দিনে এবং ফেব্রুয়ারি মাস ধার্য করা হয় ২৮ দিনে। আরো মজার ব্যাপার এই বারো মাসের বাইরে  তিনি মারসিডানাস নামে অতিরিক্ত একটি মাসেরও প্রবর্তন করেন। মাসটি গণনা করা হতো আবার ২২ দিনে। এ অতিরিক্ত মাসটি গণনা করা হতো এক বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ ও ২৪ তারিখের মাঝখানে।

নুমা চালু করা মাসের হিসাব পরিবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩২ অব্দে। আমরা এখন যে লিপইয়য়ার পালন করি চার বছর পর পর তার প্রবর্তকও কিন্তু এই রোমানরাই।

রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার রোমে চালু করেন নতুন ক্যলেন্ডার। তিনি মিশরীয় ক্যালেন্ডার নিয়ে আসেন রোমে।  জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সেই বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝখানে ৬৭ দিন এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ২৩ দিনসহ মোট ৯০ দিন যুক্ত করে সংস্কার করেন ক্যালেন্ডার। পরবর্তে এ ক্যালেন্ডার পরিচিত হয় জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে।

জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে মার্চ, মে, কুইন্টিলিস ও অক্টোবর মাসের দিন সংখ্যা ৩১ এবং  জানুয়ারি ও সেক্সটিনিস মাসের সঙ্গে দুইদিন যুক্ত করে ৩১ দিন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাস গণনা হতে থাকে ২৮ দিনেই।

আমরা যাকে এখন লিপইয়ার বলি সেই ফ্রেব্রুয়ারি মাসে প্রতি চার বছর অন্তর যুক্ত করা হয় একদিন। পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম বদলিয়ে রাখা হয় জুলাই।

আরেক বিখ্যাত রোমান সম্রাট ছিলেন অগাস্টাস। তার নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম পাল্টিয়ে করা হয় অগাস্ট।

৩৬৫ দিনে সৌর বর্ষ গণনার কাজটা কিন্তু করতো মিশরীয়রা। কিন্তু জুলিয়াস সিজারের সংস্কারের ফলে তা এসে দাঁড়ায়  তিনশ সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে ।

আমরা যে খ্রিস্ট বছর বা খ্রিস্টাব্দ বলি, তার সূচনা হয় আরো পরে। খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিস্টের জন্ম বছর থেকে গণনা করে ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদরি ৫৩২ অব্দ থেকে সূচনা করেন খ্রিস্টাব্দের।
১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের কথা। রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার সংশোধন করেন। তার নির্দেশে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাস থেকে দেওয়া হয় ১০ দিন। এর ফলে ঐ বছরের ৫ তারিখকে করা হয় ১৫ তারিখ।

পরে পোপ গ্রেগরি ঘোষণা করেন, যেসব শতবর্ষীয় অব্দ ৪০০ দিয়ে বিভক্ত হবে সেসব শতবর্ষ লিপইয়ার হিসেবে গণ্য হবে। পোপ গ্রেগরি প্রববর্তিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মোটামুটি একটি নিখুঁত হিসাবে আমাদের পৌঁছে দেয়। বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। আজ আমরা যে ক্যালেন্ডার দেখে ইংরেজি বর্ষ হিসাব করি, উদযাপন করি নববর্ষ, তা সেই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ফসল।

এভাবেই আমরা পেলাম বছরের হিসাব; দিন, তারিখ সংবলিত ইংরেজি ক্যালেন্ডার

*ক্যালেন্ডার* *ইতিহাস* *বিজ্ঞান* *তথ্যপ্রযুক্তি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বর্তমানে ক্যামেরা সম্পর্কে ধারনা নেই এমন মানুষ খুব কম।যেকোন মোবাইল অথবা ক্যামেরা কিনতে গেলে আমরা কত কিছুই না দেখি।কিন্তু আপনার চোখ যার অনুকরণে ক্যামেরা তৈরি জানেন কি,বাজারের যেকোন মোবাইল অথবা ক্যামেরার চাইতে কতটা উন্নত অথবা কতটা খারাপ???
চলুন ছোট্ট একটি উদাহরণের মাধ্যমে জেনে নিই আপনার চোখের মান।

মনে করুন,আপনার ক্যামেরা ৯০ডিগ্রি পর্যন্ত সকল দৃশ্য স্পষ্ট ধারন করতে পারে।
সে অনুযায়ী আপনার ক্যামেরার পিক্সেল=
৯০*৯০*৬০*৬০/(০.৩*০.৩)পিক্সেল
=৩২৪০০০০০০পিক্সেল
=৩২৪মেগাপিক্সেল।
এখানে ০.৩হচ্ছে arc minute (এক ডিগ্রির ৬০ভাগের এক ভাগকে আর্ক মিনিট বলে)।
৯০হচ্ছে peripheral vision যার অর্থ আপনার লেন্স কতটুকু জায়গা ফোকাস করতে পারে তার ক্ষমতা।
৬০কে বৃত্তীয় পদ্ধতিতে কোণের একক হিসেবে ধরা হয়েছে।

এবার আসুন আপনার চোখের মেগাপিক্সেল নির্ণয় করি।
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ তার সামনে ঘটে যাওয়া ১২০ডিগ্রি পর্যন্ত যেকোন কিছু সম্পুর্ণ স্পষ্ট দেখতে পায়।
সুতরাং,একজন সুস্থ মানুষের চোখের পিক্সেল =
১২০*১২০*৬০*৬০/(০.৩*০.৩)পিক্সেল
=৫৭৬০০০০০০পিক্সেল
=৫৭৬মেগাপিক্সেল

অর্থ্যাৎ আপনার চোখ ৫৭৬মেগাপিক্সেল ক্যামেরার সমান। কল্পনা করতে পারেন???বাজারে যেকোন ক্যামেরার চাইতে কয়েকগুণ বেশি।
শুধু তাই নয়,মানুষের চোখ উপরনিচে প্রায় ১৩৫-১৪০ডিগ্রি এবং দুই পাশে প্রায় ২০০ডিগ্রি পর্যন্ত দেখতে পারে।

সুতরাং এবার যদি কোন "ব্যাটারি পাবলিক"(চোখে সমস্যা আছে)এমন কেউ তার ক্যামেরা নিয়ে বড়াই করে আপনি,আপনার চোখ নিয়ে বড়াই করুন।

এবার আসুন,আপনার চোখের সম্ভাব্য দাম জেনে নিই।
যেকোন কিছুর মান নির্ণয় করা হয়,উক্ত বস্তুর ফিচারের উপর ভিত্তি করে।মান যত ভালো তার দামও তত ভালো।

সুতরাং,দেখে নিন এক নজরে আপনার চোখের ফিচার:

resolution:576megapixel
bit depth:7.5 bits per second.
frames per second:1000
shutter speed:1/100-1/200
dymaic range:10-14stops
crop factor:X.05
focal length:17mm
angel of view:180degree
ISO:=1000 camera.

একমাত্র ক্যামেরা পাগলা ছাড়া আর বেশিরভাগ মানুষেরই তথ্যগুচ্ছ মাথার উপ্রে দিয়া গেছে।(এমনকি আমারোও)। উক্ত ফিচারের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ক্যামেরা কোম্পানি এবং কিছু বিজ্ঞানী মানুষের চোখের যে দাম নির্ধারণ করেছে তা শুনার পর নিশ্চিত আপনি আপনার এক চোখ বিক্রির জন্য দোকানে দৌড় দিবেন ।আর সেটাই স্বাভাবিক।কারণ বিজ্ঞানীরা আপনার চোখের দাম নির্ণয় করেছে :
(35,268,799)$ dollar
বাংলাদেশি টাকায় যার মুল্য প্রায়
(২৮২,১৫,০৩৯২০)টাকা মাত্র। এই টাকার শেষেও যদি মাত্র লেখা লাগে তাহলে কেমন লাগে??? (এক ডলার=৮০টাকা ধরে)

সূত্রঃ https://www.premiumbeat.com/blog/if-the-human-eye-was-a-camera-how-much-would-it-cost/

*বিজ্ঞান* *চোখ* *বেশম্ভব* *মেগাপিক্সেল* *দাম* *সৃষ্টি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

গতকাল সারা দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ গুগলে ঢুকেই  একটা স্পেশাল ডুডল দেখছে। গতকাল  গুগলের লোগোটা উৎসর্গ করা হয়েছে একজন খাঁটি বাংলাদেশীকে উৎসর্গ করে- ফজলুর রহমান খান।

এই মানুষটার নাম আমি অনেক ছোটবেলা থেকে জানি। সম্ভবত ইত্যাদিতে উনাকে নিয়ে ফিচার করেছিলো- আমেরিকার সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং এর আর্কিটেক্ট হিসেবে। কিন্তু আজ উনাকে নিয়ে একটু পড়াশুনা করে চোখ কপালে উঠে গেলো!

উনাকে সারা দুনিয়ায় "আইনস্টাইন অফ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং" সম্মান দেওয়া হয়!

বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবেও তাঁর নাম উচ্চারিত হয়!

শুধু তাই না, "The Council on Tall Buildings and Urban Habitat" তাঁর সম্মানে "Fazlur R. Khan lifetime achievement medal" নামক পুরষ্কার দেয়- অর্থাৎ সারা দুনিয়ায় যত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার আছে তাদের সর্বোচ্চ পুরষ্কার একজন বাংলাদেশীর নামে!

মানুষটা ফরিদপুরের ভান্দারিকান্দি নামক গ্রামে বড় হয়েছিলেন। পড়েছেন আর্মানিটোলা হাইস্কুল, বেংগাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আর বিএসসি ডিগ্রী নিয়েছিলেন বর্তমান বুয়েট থেকে। তারপর দুইটা ফুলব্রাইট স্কলার নিয়ে আমেরিকায় চলে যান এবং মাত্র ৩ বছরে দুইটা আলাদা বিষয়- স্ট্র‍্যাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং আর থিওরিটিকাল ও এপ্লাইড ম্যাকানিক্সের উপর মাস্টার্স করেন! তারপর পিএইচডি- ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে যে সামান্য ধারণা আছে তাতে এই মানুষটার মেধার কথা ভেবে খাবি খাচ্ছি!!

খুব ভালোছাত্র হলে সব কিছু পড়ে বুঝে ভালো রেজাল্ট করা যায়- কিন্তু একদম নতূন কিছু আবিষ্কার করাটা পুরো আলাদা বিষয়! স্কাইস্ক্র‍্যাপার বা আকাশছোঁয়া দালান বানানোর জন্য যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এখন তা তাঁরই অবদান- ১৯৬০ সালের পর আমেরিকায় ৪০ তলার উপর যত বিল্ডিং বানানো হয়েছে তা সব উনার আবিষ্কৃত প্রযুক্তিতেই!

জ্ঞান-বিজ্ঞান-নতুন প্রযুক্তি, আবিষ্কার, উদ্ভাবন- এগুলা ছাড়া এই আধুনিক দুনিয়ায় টিকে থাকা যাবে না। সম্মানও পাওয়া যাবে না। আজকে এক এফ.আর.খানের জন্য সারাদুনিয়ায় উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম- পজিটিভলি! পৃথিবীর বড় বড় পত্রিকাগুলো তাকে নিয়ে ফিচার লিখছে, ফেসবুকে দিদেশি মানুষজন তাঁকে নিয়ে পোস্ট দিচ্ছে! এই মানুষটা কিন্তু এত বিখ্যাত হয়েও জন্মভুমিকে ভুলে যান নি- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জন্য বিশ্বসচেতনতা তৈরী করেছিলেন, ফান্ড রাইজ করেছিলেন। মনে প্রাণে একজন খাঁটি গ্রাম বাংলার মানুষ হয়েও তিনি সারা দুনিয়ার সম্মান আদায় করে নিয়েছিলেন নিজের মেধা দিয়ে!

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ "বাংলাদেশী"দের খুব ছোট্ট তালিকাতেও এই মানুষটার নাম তো উপরেই থাকার কথা! জন্মদিনের সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা হে গুণী!

*বিজ্ঞান* *উচু* *বিল্ডিং* *ফজলুর-রহমান-খান* *গুগল*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ভূমিকম্প বলতে পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনকে বোঝায়।
হঠাৎ বুঝতে পারলেন আপনার ঘরের কোনো জিনিস নড়ছে, দেয়ালের ঘড়ি, টাঙানো ছবিগুলো নড়ছে, আপনিও ঝাঁকুনি অনুভব করছেন, তখন বুঝতে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে।
ভূমিকম্প বা ভূকম্পনঃ ভূ মানে পৃথিবী আর কম্পন হলো কাঁপা; সোজাভাবে ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর কেঁপে ওঠা। তার মানে পৃথিবী যখন কাঁপে তখন আমরা তাকে ভূমিকম্প বলি।
পৃথিবীতে বছরে গড়ে কত ভূমিকম্প হয়, শুনলে কপালে উঠতে পারে চোখ। বছরে গড়ে ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। তবে এগুলোর অধিকাংশই মৃদু যেগুলো আমরা টের পাই না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে- প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু।
আবার উৎসের গভীরতা অনুসারে তিন ভাগে ভাগ করা যায়- অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে মধ্যবর্তী এবং ৩০০ কিলোমিটারের নিচে হলে গভীর ভূমিকম্প বলে।
ভূমিকম্পের কারণ
ছোটবেলায় গল্প শুনতাম, পৃথিবীটা একটা বড় ষাঁড়ের শিংয়ের মাথায়। ষাঁড়টা যখন এক শিং থেকে অন্য শিংয়ে পৃথিবীটা নিয়ে যায় তখন সবকিছু কেঁপে ওঠে। আর ভাবতাম, এজন্যই ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের কারণ এটা নয় বটে, তবে পৃথিবীর গভীরে ঠিকই একটা পরিবর্তন হয়।
সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে…
১. ভূপৃষ্ঠজনিত
২. আগ্নেয়গিরিজনিত
৩. শিলাচ্যুতিজনিত
পরিমাপ
সিসমোগ্রাফ আবিষ্কারের আগে মানুষ শুধু বলতে পারত ভূমিকম্প হয়ে গেছে। কিন্তু কোন মাত্রায় হলো, বলা সম্ভব ছিল না। আধুনিক সিসমোগ্রাফের বয়স প্রায় ১৫০ বছর। ভূমিকম্প মাপা হয় দুইভাবে- তীব্রতা এবং প্রচণ্ডতা বা ব্যাপকতা। ভূমিকম্পের মাত্রা মাপা হয় রিখটার স্কেলে। স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। রিখটার স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা।

*ভুমিকম্প* *জ্ঞ্যান* *বিজ্ঞান*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কয়েকদিন ধরে দুবাইতে টিপ্ টিপ্ বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘলা , মরুভূমির তেজি সূর্যি মামারও তেমন দেখা নাই। মরুভূমিতে এমন আবহাওয়া সত্যিই বিরল। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য সংযুক্ত আরব আমিরাত কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামিয়ে আনছে। বিমানে করে আর্দ্র মেঘাচ্ছন্ন আকাশে লবণ স্ফটিক (salt crystal flares) বাস্ট করানো হয় , এতে মেঘের আদ্রতা বেড়ে যেয়ে বৃষ্টিবিন্দু হয়ে ঝড়ে পরে।

 


কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টি নামানোর এই প্রক্রিয়াকে বলে ক্লাউড সীডিং [Cloud seeding]। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্ত করে দুবাই। এরপর থেকে নিয়মিত কৃত্রিম বৃষ্টিপাত কর্মসূচি চালিয়ে আসছে ।

 


এখন পর্যন্ত এই বছরে ইউএই আবহাওয়া ব্যুরো ৬ টি এয়ারক্রাফ্ট দ্বারা ১০০ বার ক্লাউড মিশন পরিচালনা করেছে। অত্যাধুনিক রাডার দ্বারা ইউএই আকাশে ঘন কালো মেঘ ভেসে যাওয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। আবহাওয়া বুঝে প্লেন থেকে ক্লাউড সীডিং করে ভেসে যাওয়া মেঘগুলোকে বৃষ্টি আঁকারে নামিয়ে আনা হয়। এতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই বলেও মনে করছেন আবহাওয়া ব্যুরো।

*বিজ্ঞান* *দুবাই* *বৃষ্টি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রিয় অপরাজিতা,
জানো তো,কক্ষপথের শেষ ইলেক্ট্রন গুলোও একা থাকতে পছন্দ করে না ।এ দুনিয়াতে কারো একা থাকার নিয়ম নেই । সৃষ্টিকর্তা নিয়মের ব্যতিক্রম পছন্দ করেনা ।
আমি শেষ কক্ষপথে একটি অতিরিক্ত ইলেক্ট্রন নিয়ে বসে আছি, হিমুর নীলপদ্মের মত,ইলেক্ট্রনটা তোমার সাথে শেয়ার করে সৃষ্টিকরাতার নিয়মের মধ্যে আসতে চাই, সৃষ্টিকর্তা নিয়মের ব্যতিক্রম পছন্দ করে না.!
জানো অনেকদিন আগে সাধারন বিজ্ঞানের স্যার ক্লাসে বলেছিল,
বিজ্ঞান নাকি বলে রোজ পৃথিবীর এন্টোপি বেড়ে যাচ্ছে,ধীরে ধীরে এন্টোপি যখন যখন সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে চলে যাবে।তখন নাকি ধ্বংশ হয়ে যাবে সব।
সেদিন হয়তো তোমার চেহারা, বয়সের ভাড়ে বিবর্ন হয়ে যাবে,বয়সের ছাপ পরে যাবে শরীরের প্রতিটা অঙ্গে , কুঁজো হয়ে গুটি গুটি পায়ে বাচ্চাদের মত হাটবে তুমি , সেদিনও বলে যাবো, ভালোবাসি তোমায় বড্ড ভালোবসি ঠিক আগের মতই। ইলেক্ট্রন যুগলের মতই আকড়ে থাকবো আমরা একে অপরের সাথে।
আমি জানি এই সব কথা তোমাকে বলার বলার কোনো অর্থ হয় না তবুও কোনো-কোনো দিন "মায়েরদোয়া স্টোর" থেকে টেলিফোন করে বলি অপরাজিতা, তুমি কি এক্ষুনি নীল রঙের একটা শাড়ি পরে তোমাদের বাসার বারান্দায় রেলিং ধরে নিচের দিকে তাকাবে? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। একটুখানি দাড়াও। আমি তোমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হেটে চলে যাব আমি জানি অপরাজিতা তুমি আমার কথা বিশাস করো না,তবুও যত্ন করে সারি পরে চুল বেধে এসো চোখে কাজলের ছোয়া লাগিয়ে রেলিং ধরে দাড়িও। তুমি অপেক্ষা করো আমি কখনো যদি মারাও যাই তবুও তোমাকে না সেদিন অসাধরণ লাগবে। সারাদিন দাড়িয়ে আমি তোমায় দেখব। আমার দেখা শেষ হয় না।বলেছিলাম না একদিন আমি চাই আমার ছায়টা বিলিন হলে তুমি হাটু মুড়ে কাঁদো,তোমার হাহাকারেই বেঁচে থাকুক আমার ন্যাকা ন্যাকা প্রেম গুলো।
বুঝলে আমি বলছিনা যে পরীই হওয়া লাগবে তোমায়,আমি চাই ছোট্ট একটা নীল টিপ স্থান পাক তোমার কপালে,তুমি কি জানো??টিপরা শহস্র বছর ধরে অপেক্ষা করছে তোমার কপালে স্থান পাওয়ার জন্য।শুধু তোমার কপালের স্থানটার জন্যই !,সাথে নীল রং এর একটা শাড়িতে জড়িয়ে রাখবে তোর সমস্ত শরীর,যার ছায়াতলে ঢেকে যাবে চাঁদেরও সব কলঙ্ক।দুহাত ভর্তি অনেকগুলো কাঁচের চুড়ি পড়তে যেনো ভূল না হয়!.লাল নীল হরেক রং এর কাঁচের চুড়ি।আর ২১ ইঞ্চি টিভির পর্দার ফাঁকে মায়াভারা দুটি কাজলকালো আঁখি!মিষ্টি একটা হাঁসি,যে হাসি হুট করে শুনলে বুকে ধাক্কার মত লাগে।অন্তত কিছুক্ষনের জন্য হলেও না হয় জ্ঞান হারাই !
ইতি,
তোমার বদ্ধপাগল

*প্রেম* *পত্র* *ভালোবাসা* *রসিকতা* *বিজ্ঞান*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

২০১০ সনে যখন ক্রেইগ ভেন্টার এর গ্রুপ একটা ব্যাক্টেরিয়ার জিনোম (ক্রোমোজম যেখানে সব ডিএনএ থাকে) কে ল্যাবে তৈরী করে সেটা একটা ব্যাক্টিরিয়ার 'খোলস' কোষে প্রবেশ করিয়ে দেখান যে ল্যাবে তৈরী করা জিনোম যেভাবে ডিজাইন করা হয়েছে সেই ডিজাইন অনুযায়ী 'কৃত্রিম' ব্যাক্টিরিয়া কাজ করা আরম্ভ করছে, তখন ই পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা নড়ে-চড়ে বসেন। কেননা জিনোমই হল সকল প্রানের ব্লু-প্রিন্ট। আপনার যে জীবন সেটা শুধুই সম্ভব হয়েছে আপনার বাবার কাছ থেকে হাফ আর মায়ের কাছ থেকে আরেক হাফ 'জিনোম' পাওয়ার মাধ্যমেই। এখন যদি এই জিনোম ল্যাবে বানিয়ে কোন ভ্রুনের মাঝের অরিজিনাল জিনোম বের করে ল্যাবে তৈরী করা জিনোম প্রতিস্হাপন করা হয়, তাহলে ই 'ডিজাইনার' মানুষ তৈরী করা সম্ভব হয়ে উঠবে। কিন্তু ব্যাক্টেরিয়াতে করা যত সহজেই সম্ভব সেটা কোন eukaryotic organism- যে গ্রুপ এর মাঝে আছে মানুষ থেকে আরম্ভ করে এককোষী ছত্রাক ইস্ট (যেটা পাউরুটি তৈরী তে ইউজ হয়- উপরের ছবিটা), সেখানে সিনথেটিক জিনোম বানানো এখনও সম্ভব ছিল না (প্রচুর complexity).

গত সপ্তাহে এক সাথে ৭ টা রির্সাচ পেপার বিশ্বখ্যাত সাইন্স জার্নালে প্রকাশ হল যেখানে দেখানো হল এই প্রথম ইস্টের এর জিনোম যেটা ১৬ টা ক্রোমোজম নিয়ে গঠিত, তার মাঝে কৃত্রিম ৭ টা ক্রোমোজম ল্যাবে তৈরী করে ইস্টে (yeast) সফল ভাবে প্রতিস্হাপন করা হয়েছে। তার মানে কৃত্রিম ৭টা ক্রোমোজম ই নেচারাল ভাবে কাজ করছে। এই কৃত্রিম ক্রোমোজম কে আরো ইফিসিয়েন্ট ভাবে কাজ করার জন্য ক্রোমোজমের 'অপ্রয়োজনিয়' অংশ কে বাদ দিয়ে ই তৈরী করা হয়েছে.... Very scary indeed.........Now what will hold them up to synthesize human genome to create/design artificial people in the lab say in 50 years......
Below is the coverpage image of the Science Journal on the artificial chromosome
Science Journal Article Link

 

নিচের ছবিতে দেখানো হচ্ছে কিভাবে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের 'build a genome' course/class এর মাধ্যমে ইস্টের জিনোমের ছোট ছোট টুকরা সিনথেসাইজ করা হয়েছে ২০১৪ সনে। এক বার এই ক্লাশ টাকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল...।

 

After Thoughts: কিছুদিন আগে একজনের ব্লগ পোস্টে বিবর্তন বাদ নিয়ে অনেক কথা বলতে হয়েছিল...এনারা কোন প্রমান ছাড়াই বলবে বিজ্ঞান আজ যা বলছে বিবর্তন নিয়ে তা মিথ্যা..উনার যেটা বিশ্বাস করেন সেটাই সত্য..। প্রমান হিসাবে বলেন ...যেহেতু বানর এখনও বিদ্যমান, সেহেতু বানর থেকে মানুষের উৎপত্তি হয় নাই....এই যদি হয় উনাদের জ্ঞান বিবর্তন নিয়ে তাহলে আলোচনা করাই নিস্ফল। মাত্র একজনের বিজ্ঞান আবিস্কার পুরা পৃথিবীর লোকদের বিশ্বাস এর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল উনি যখন বলেছিল সূর্য না ...পৃথিবীই সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। এক জনের বিজ্ঞান ই সব চেন্জ করেছে। এখন কোর্ট টাই পরা ইভানজেলিক্যাল প্রিস্ট রা টিভি তে এসে বলে ও হ এটা তো বাইবেলের এত তম অহিতে প্রতিকী ভাবে বলাই আছে। গ্যালিলিও বলার আগে সে এটা খুজে পায় নাই। আজ আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে, কট্ররবাদীরা স্কুল/কলেজ এর পাঠ্য-পুস্তক থেকে বিবর্তনবাদ তুলে দিতে চাচ্ছে কিন্তু তারাও একদিন বিজ্ঞানের এমন এমন যুগান্তরী আবিস্কারে স্বীকার করতে বাধ্য হবেন বিবর্তনবাদকে। যেমন স্বীকার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চকে ৩৫০ বছর পরে ১৯৯২ সনে প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়ে।
Roman Catholic church admits Galileo was RIGHT

বিজ্ঞান বসে নাই, কিন্তু চার্চের লোকজন কোন কিছুর চর্চা না করেই তার বিশ্বাসকে আকড়ে ধরে আছে

http://syntheticyeast.org/

*বেশটেক* *বিজ্ঞান* *সিনথেটিক* *ক্রোম* *জিন* *কৃত্তিম* *জীবন*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্র হচ্ছে সূর্য। এটি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম তারা। আসুন, সূর্য সম্পর্কে জেনে নেই কিছু সাধারণ তথ্য।
কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল সূর্য? আমরা জানি, মহাশূন্যে সবসময়ই গ্যাস বা ধূলিকণা ভেসে বেড়ায়। সেই সাথে মৃত নক্ষত্রের কিংবা মৃত তারার অবশিষ্ট শক্তিও তরঙ্গাকারে মহাশূন্যে ভেসে বেড়ায়। সূর্য নামক আমাদের কাছের তারাটি আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো এরকমই কিছু গ্যাসীয় কণা এবং মৃত কোনো তারার অবশিষ্ট তরঙ্গ শক্তি নিয়ে। ভেসে বেড়ানো হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসীয় কণাগুলোকে দূর থেকে ভেসে আসা তরঙ্গ শক্তি ধাক্কা দিয়ে একত্রিত করে। এরপরে সেখানে তৈরি হয় গ্যাসীয় মেঘ। গ্যাসীয় কণাগুলো পরস্পরের নিকটবর্তী হয়ে মাধ্যাকর্ষণ বলের আকর্ষণে এরা পুঞ্জীভূত হয়ে একটি গ্যাসীয় পিণ্ডে পরিণত হয়। মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে কণাগুলোর মধ্যে সংঘর্ষও হয়, যার ফলে কণাগুলো চার্জিত হয়। ফলে এরা আয়নিত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। প্লাজমা মানে হচ্ছে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা। আমরা সাধারণত পদার্থের তিনিটি অবস্থার কথা জানি। এগুলো হল- কঠিন, তরল ও বায়বীয়। এই তিন অবস্থা ছাড়াও চার্জিত বা আয়নিত গ্যাসীয় অবস্থাকে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলে। প্লাজমা অবস্থায় গ্যাসীয় কণাগুলোকে দূর থেকে দেখলে অগ্নিময় দানা দানা রূপে দেখা যায়। যাই হোক, এরপরে সৃষ্ট গ্যাস পিন্ডের চার্জিত গ্যাসীয় কণাগুলোর মধ্যে ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয়। অর্থাৎ হাইড্রোজেন গ্যাস ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে হিলিয়াম গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। এতে শক্তি হিসেবে আলো নির্গত হয়। সূর্যের বেশীর ভাগ অংশ মানে প্রায় ৭৩ ভাগ হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ২৫ ভাগ হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা গঠিত। বাকী অংশগুলো অক্সিজেন, কার্বন,নিয়ন এবং আয়রন দ্বারা গঠিত। তবে এগুলোর সবই জ্বলন্ত এবং আয়নিত অবস্থায় রয়েছে। সূর্যকে বলা হয় সুষম প্লাজমা গোলক।
আগেই বলেছি সূর্যের বয়স ৫০০ কোটি বছর। এটি আয়তনে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৩ লক্ষগুণ বড়। এর ভর পৃথিবীর ভরের চেয়ে ৩৩০০০০ গুণ ভারী। সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৬৫০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০০০০০০ (তিন কোটি) ডিগ্রী সেলসিয়াস। এটি পৃথিবী থেকে গড়ে ১৪ কোটি ৮৮ লক্ষ কিলোমিটার দূরে। তাই সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট সময় লাগে। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন আনুমাণিক আরো ৫০০ কোটি বছরের মধ্যেই সূর্যের হাইড্রোজেন জ্বালানী নিঃশেষ হয়ে যাবে। সূর্যের মধ্যে নিয়ত সঙ্ঘটিত হওয়া ফিউশন বিক্রিয়ায় যে আলো উৎপন্ন হয় তার রং সাদা। আমরা জানি, সাদা রং মৌলিক নয়, যৌগিক। এটি মূলতঃ সাতটি রং-এর সমন্বয়ে গঠিত। সেই সাতটি রং হল- বেগুনী, ঘন নীল, আসমানী নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। সূর্যের আলো হচ্ছে পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল প্রাণের শক্তির একমাত্র উৎস।
সূর্য নামক নক্ষত্র না থাকলে আমাদের এই পৃথিবীতে কোনোদিন প্রাণের উৎপত্তিই হত না।

*সাধারনজ্ঞ্যান* *সূর্য* *তথ্য* *বিজ্ঞান*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অস্ত্র রিভিউ :: Fabrique Nationale FN SCAR (MK16/MK17)
তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে :: মাশুক খান

SCAR বেলজিয়ামে বিখ্যাত Fabrique Nationale কম্পানী তৈরী করে। আগের কোন রাইফেলের উপর নির্ভর করে নয়, সম্পূর্ন নতুন ভাবে এই অস্ত্র ডিজাইন করা হয়। সাধারণ স্কেচ করে থেকে পরিপূর্ণ রূপ। ইসএস স্পেশাল অপারেশন কমান্ড (US SOCOM) এই রাইফেল ইস্যু করে। একই সাথে বিভিন্ন ক্যালিবার ব্যবহারের সুবিধা পাবার জন্য ইস এস স্পেশাল ফোর্স নতুন অস্ত্র দাবি করে যা FN SCAR একমাত্র পূরন করতে সক্ষম হয়। 5.56x45mm NATO, 7.62x51mm NATO, .260 Remington, 5.56x36mm, 7.62x39mm, .300 Blackout ক্যালিবার এই অস্ত্রে ব্যবহার করা যায়। একই রাইফেলে এত ধরনের ক্যালিবার বিষ্ময়কর ! এর জন্য অল্টারনেটিভ ব্যারেল ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। SCAR এর দুইটা ভার্সন দেখা যায় যার একটা MK16 (SCAR-L) যেটাতে 5.56x45mm NATO ক্যালিবারের ত্রিশ রাউন্ডের ম্যাগাজিন ব্যবহার করা হয়। MK-16 বা SCAR-L (Light) মূলত এসল্ট রাইফেল। অন্যদিকে অপর ভার্সন MK-17 (SCAR-H) কে ব্যাটল রাইফেল বলা হয়। SCAR-H (heavy) বিশ রাউন্ডের 7.62x51mm ক্যালিবারের রাউন্ড ব্যবহার করা হয়। আরো ভার্সনের মধ্যে হচ্ছে MK-20 যা একটি স্নাইপার সাপোর্ট রাইফেল (SSR)। এছাড়া রয়েছে পার্সোনাল ডিফেন্স ওয়েপন (PDW) যেটা MK-16 এর উপর বেস করে তৈরী।

SCAR-L ও SCAR-H এর ৯০% জিনিস এক। SCAR এর স্পেশালিটি হচ্ছে একে দ্রুত মডিফাই করার সুবিধা। যুদ্ধক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একে খুব দ্রুত মোডিফাই করা যায়। এই রাইফেলে তিন ধরনের ব্যারেল [ Standard (S), Close Quarter Combat (CQC) এবং Long Barrel (LB) ] ব্যবহার করা যায় যুদ্ধা অবস্থায় পরিবর্তন যোগ্য। যা রাইফেলের ওজন, দৈর্ঘ্য, ভিন্ন ক্যালিবার ব্যবহার, মাজল ভেলোসিটি, ফায়ারিং রেঞ্জ পরিবর্তনে সহায়তা করে। তাছাড়া অল্টারনেট ব্যারেলের মাধ্যমে শত্রুর বুলেট ব্যবহার করার সুবিধা উপভোগ করা যায়, যেটা যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব সুবিধা SCAR কে জনপ্রিয় করে তুলেছে যে কারনে বর্তমানে ২০ এর অধিক দেশে এই রাইফেল ব্যবহার করা হয়। আর স্পেশাল ফোর্স, এলিট ফোর্সের ব্যবহার তো আছেই।

টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেসন ::
Fabrique Nationale FN SCAR (MK16/MK17) ::
Modular Automatic Rifle.
উৎপাদনকারী দেশ :: আমেরিকা
উৎপাদন সাল :: 2004
সার্বিক দৈর্ঘ্য (with stock) :: SCAR-L = CQC 31 ইঞ্চি (787 মি.মি), S 35 ইঞ্চি (889 মি.মি), LB 39 ইঞ্চি ( 990 মি.মি)। SCAR-H = CQC 35 ইঞ্চি ( 889 মি.মি), S 38 ইঞ্চি ( 965 মি.মি), LB 42 ইঞ্চি ( 1067 মি.মি)। SSR 43 ইঞ্চি ( 1080 মি.মি)। PDW 24.9 ইঞ্চি ( 632 মি.মি)
সার্বিক দৈর্ঘ্য (without stock) :: SCAR-L = CQC 21 ইঞ্চি (533 মি.মি), S 25 ইঞ্চি (635 মি.মি), LB 29 ইঞ্চি ( 736 মি.মি)। SCAR-H = CQC 25 ইঞ্চি ( 635 মি.মি), S 28 ইঞ্চি ( 711 মি.মি), LB 32 ইঞ্চি ( 813 মি.মি)। SSR 40.5 ইঞ্চি ( 1029 মি.মি)। PDW 20.5 ইঞ্চি ( 521 মি.মি)
ব্যারেলের দৈর্ঘ্য :: SCAR-L = CQC ১০ ইঞ্চি ( ২৫৪ মি.মি), Standard ১৪ ইঞ্চি ( ৩৫৫ মি.মি), LB ১৮ ইঞ্চি ( ৪৫৭ মি.মি), SCAR-H = CQC ১৩ ইঞ্চি ( ৩৩০ মি.মি), Standard ১৬ ইঞ্চি ( ৪০০ মি.মি), LB ২০ ইঞ্চি ( ৫০০ মি.মি)। SSR ২০ ইঞ্চি (৫০৮ মি.মি)। PDW ৬.৭৫ ইঞ্চি (১৭১.৪৫ মি.মি)
খালি অবস্থায় ওজন :: SCAR-H = Standard ৩.৫৮ কিলোগ্রাম ( ৭.৮৯ পাউন্ড), CQC ৩.৪৯ কিলোগ্রাম ( ৭.৭ পাউন্ড), LB ৩.৭২কিলোগ্রাম ( ৮.২ পাউন্ড)। SCAR-L = Standard ৩.২৯ কিলোগ্রাম ( ৭.৩ পাউন্ড), CQC ৩.০৪ কিলোগ্রাম ( ৬.৭ পাউন্ড), LB কিলোগ্রাম ৩.৪৯ ( ৭.৭ পাউন্ড)। SSR ৪.৮৫ কিলোগ্রাম ( ১০.৭ পাউন্ড)। PDW ২.৫ কিলোগ্রাম (৫.৫ পাউন্ড)।
লোডড অবস্থায় ওজন :: আপনি কি ধরনের ক্যালিবার ও কত রাউন্ডের ম্যাগাজিন ব্যবহার করবেন তার উপর নির্ভরশীল।
ক্যালিবার :: 5.56x45mm NATO, 7.62x51mm NATO, .260 Remington, 5.56x36mm, 7.62x39mm, .300 Blackout।
এ্যাকশন :: গ্যাস ওপারেটেড; রোটেটিং বোল্ট।
ম্যাগাজিন ক্যাপাসিটি :: MK-16 ৩০ রাউন্ড। MK-17 ও SSR ২০ রাউন্ড।
রেট অফ ফায়ার :: 625 রাউন্ড।
ইফেক্টটিভ রেঞ্জ :: SCAR-L : CQC 300 মিটার, S 500 মিটার, LB 600 মিটার। SCAR-H : CQC 300 মিটার, S 600 মিটার, LB 800 মিটার।
মূল্য :: 3200 ডলার। ভার্সন অনুযায়ী দাম পরিবর্তন হয়।

ছবিটি একটি FN SCAR এর SSR (MK-20) ভার্সন।

*বেশটেক* *টেকনোলজি* *বিজ্ঞান* *যুদ্দ্ব*

প্যাঁচা : একটি বেশব্লগ লিখেছে

[চলছে]...

চান্দের দেশে কেন মানুষ আসলে লো আর্ত অরবিট ছাড়া তেমন বেশি দূরেই যায়নি,এই বিশ্বাস থেকেই আমার কাছে যৌক্তিক কারণগুলোর উপস্থাপণ করছি এবং একই সাথে বিশাল একটা সত্য খোজার চেষ্টা করছি,আশা করি কিছুটা হলেও সফল হব।হাহাহাহা...

দ্বিতীয় সমস্যা, "ভ্যান হেলেন রেডিয়েশান বেল্ট" যা ১৯৫৮ সালে ফিজিসিস্ট ভ্যান হেলেন আবিষ্কার করেন। এই রেডিয়েশান বেল্ট আসলে আমাদের পৃথিবীর যে মেগনেটিক ফিল্ড বা শেলের ভেতর আছে তার কারণেই তৈরী হয়েছে। সূর্য রশ্মির সাথে নানা চার্জ পার্টিকাল থাকে আর সেসব পৃথিবীর মেগনেটিক শেলের কারণে আমাদের ক্ষতি করতে পারে না ঠিকই কিন্তু একেবারে চলেও যায় না।কিছু চার্জ পার্টিকাল এই মেগনেটিক ফিল্ডের মাঝে আটকে যায় এবং একটি রেডিও একটিভ জোন তৈরী করে যা ভ্যান হেলেন রেডিয়েশান বেলট নামে পরিচিত।যেহেতু সূর্য রশ্মির চার্জড পার্টিকাল এই বেল্টের খাবার জোগায় তাই সূর্যের একটিভিটির উপর এই বেল্টের ব্যাপ্তি নির্ভর করে।তাই আজকাল সূর্য নিয়ে নানা গবেষণামূলক কাজের কথা শুনে থাকবেন,কোরোনা, ডার্ক স্পট, কোরোনাল ম্যাস ইজেকশান ইত্যাদি ইত্যাদি।

ভেন হেলেন বেল্ট  দুটো ভাগে বিভক্ত, ইনার বেল্ট (পৃথিবী থেকে ১০০০ থেকে ৮০০০ মাইল) ও আউটার বেল্ট (১২০০০ মাইল থেকে ২৫০০০ মাইল)।ইনার বেল্ট প্রোটন সমৃদ্ধ যা ইলেকট্রণ থেকে অনেক ভারী এবং যে কোন ম্যাটারের সংস্পর্শে আসলে বেশি ক্ষতি করতে পারে বলেই বলেন বিজ্ঞানীরা।(আমি নিজে এর আগা মাথা বুঝিনি,তাই বিস্তারিত লিখতে পারছিনা)। তবে প্রোটনের কারণে "Mass" এর তৈরী হয় বলেই শুনেছি। ২০১২ এর অগাস্টে নাসা-র ভ্যান হেলেন প্রোব আরো একটি রেডিয়েশান বেল্ট আবিষ্কার করে। তবে তা সবসময় স্থায়ী হয় না।যেমন যদি সূর্য থেকে কোরোনাল ম্যাস ইজেকশান হয় তাহলে হয়ত  অতিরিক্ত চার্জ পার্টিকেলের কারণে তৃতীয় বেল্টটি তৈরী হয়। যেমন হঠাৎ করে আসে তেমনি হঠাৎ-ই চলে যায়। তবে বিস্তারিত কিছু আমি ঘেটে দেখেনি তাই ভুল হতেই পারে।হাহাহা...

সুতরাং যদি আসলেই আউটার স্পেইসে যেতে হয় তাহলে আগে সূর্যের গতিবিধি এবং নানা কার্যকলাপের প্রভাব সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে যা এখনো পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।আমরা এই তো কিছুদিন আগেই কেবল সূর্যের দিকে তাক করেছি কিছু স্যাটেলাইট কেবল সূর্যের সারফেসের কার্যকলাপ দেখার জন্য।এমনকি তিনটি সার্বক্ষণিক স্যাটেলাইট দিয়ে থ্রি ডিমেনশানে দেখার ব্যবস্থাও হয়েছে শুনেছি।হাহাহাহা...মোদ্দা কথা, চাঁদে যাইলাম কেমনে যদি রেডিয়েশান সিকনেসে এস্ট্রনমারদের কেউ মারাই না গেল বা অসুস্থই না হইল।

সুতরাং, চাঁন্দের দেশে যাই নাই...যদি চান্দের দেশ নিয়ে এত ছলা কলা হয় তাহলে আর কি কি নিয়ে জানি ছলা কলা হয়েছে আল্লাহ ভাল জানেন। পৃথিবী আসলে কেমন আকৃতির? এটা নিয়ে কথা বলতেতো ভয়ই লাগতেছে নাকি ভয় করে...হুমমম...

***ভুল হলে বসে বসে মুখ টিপে না হেসে শুধরে দেবেন।আর আদার বেপারীর জাহাজের খবর নিয়ে কি কাজ ভাববেন না।মনে রাখবেন, যত যা সৃষ্টি তার সবটুকু আপনার জন্য তৈরী এবার আপনি কতটুকু কেটে খাবেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করে।আদার বেপারী, জাহাজী সেসবের উপর নয়...হাহাহাহা...

*বিজ্ঞান* *মহাশূন্য* *চাঁদেঅবতরণ* *চাঁদ*

প্যাঁচা : একটি বেশব্লগ লিখেছে

চান্দের দেশে মানুষ কি গেছে নাকি যায় নাই, তা নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক আছে তবে অনেকেই বিশ্বাস করেন আজকাল যে মানুষ আসলে চান্দের দেশে যায় নাই,আমিও সেই দলের।আপনি হয়ত অনেকের মতই বলবেন,তাহলে মানুষ গেছে বলার কি মানে? কেনই বা এত কষ্ট করে এসব করা? আমি নিজেও মাঝে মাঝে এটা ঠিক বুঝি না তবে এটা বলতে পারি, সব জ্ঞান সবার জন্য না; হয়ত তাই কেন কি হয়েছে বা কেন আসলে জানানো হয়নি সেটা পরিষ্কার বলা যাবে না।তবে এটা বলা যেতে পারে, মানুষ হয়ত চেষ্টা করেই ব্যার্থ হয়েছে আর তা ঢাকতেই এত বড় একটা অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।নিজের মুখো বাচলো,প্রেসিডেন্টের চাপও কমলো।

প্রেসিডেন্ট তো আর বিজ্ঞান নিয়ে ব্যস্ত নন,তিনি কেবল নীতি তৈরী করছেন।বিজ্ঞান চলছে বিজ্ঞানীদের হাত ধরে।এখন আমাকে যদি রকেট তৈরী করতে কি কি চ্যালেঞ্জ আছে তা বিজ্ঞানি সারাদিনো বোঝান আমি বুঝব কোন ছাই।আমি প্রেসিডেন্ট হলে কেবল বলব, "এত কিছু জানি না,বুঝতেও চাই না; আমাদের চাঁদে যেতেই হবে সবার আগে"। হাহাহাহা...ব্যাস, বিজ্ঞানীরা আমাকে আর কি বোঝাবে, তার চেয়ে বরং কিভাবে কি করলে নিজেদের মুখও থাকবে আর দেশের পরিচালকের মুখও বাচবে সেটা নিয়ে ভাবা উচিৎ। যদি পরবর্তীতে পরিচালক সাহেব এমন কিছুর সত্যতা আচঁ করেই ফেলেন তখন দরকার হলে তাকেই সরিয়ে দেয়া যাবে।হাহাহাহা...

কল্পকাহিনী বা সত্যের অনুসন্ধান, যা-ই হোক না কেন; মোদ্দা কথা, চান্দের দেশে মানুষ যায়নি। তবে যেসব যুক্তি বা সমস্যা আমার চোখে ধরা পড়েছে তার সাথে চান্দে দুইটা ছায়া দেখার সম্পর্ক নেই এটা বলতে পারি।হাহাহা...

প্রথম সমস্যা, আপনি বর্তমানে "ORION" স্পেইস্ক্রাফট নিয়ে ভিডিও দেখলেই একটা কথা শুনবেন বারবার, "চাদে যাবার পর থেকে এই পর্যন্ত মানুষ লো আর্ত অরবিট ছাড়া আর কোথাও যায়নি"। এমনকি এটাও শুনে থাকবেন, "মানুষ লো আর্ত অরবিট থেকে বেশি দূরে যায়নি"। "লো আর্ত অরবিট" পৃথিবী থেকে ১৬০কিঃমিঃ - ২০০০কিঃমিঃ উপরের একটি অঞ্চল। তাদের ভাষাতেই যদি বলি, " Low earth orbit is an orbit around the earth with an altitude ranging from 160km to 2000km above the earth".

চাঁদ আমাদের থেকে ৩৮৪,৪০০ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত।আমরা চাঁদে গেছি কবে? ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই...কিন্তু এর থেকেও ১০ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের "লুনা-২" চাঁদে গেছে।জ্বি, ১৯৫৯ সালে এবং অবশ্যই মানূষবিহীন। ১৯৫৯ সালের ১লা ডিসেম্বর আরেকটা বিশাল কাজ হইছিল, তা হচ্ছে  "এন্টার্কটিক ট্রিটি" যা ১২টি দেশ (আর্জেন্টিনা, দঃআফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, চিলি, ফ্রান্স, জাপান, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র) এই বলে সম্মতি দেয় যে কোন দেশ বা গভঃ এন্টার্কটিকা নিয়ন্ত্রণ করে না, এক কথায় "নো মেনস ল্যান্ড" ঘোষণা করা হয় এবং ২০১৬ অবধি মোট ৫৩টি দেশ এই ট্রিটিতে সম্মতি প্রদান করেছে। আজিব, তাই না? যেখানে এক টাকা লাভের জন্য আমরা অন্য দেশ দখল করে ফেলতে চাই এনিওয়েতে সেখানে ট্রিটি করে এত বড় একটা কন্টিনেন্ট আমরা 'নো মেন্স ল্যান্ড' বা সবার জন্য ওপেন করে রেখেছি কিংবা সবার থেকে আড়াল করে রেখেছি।

আমার কথা শুনে কেন কেবল বসে থাকবেন। নিজেই ঘেটে দেখুন, এন্টার্কটিকায় ভ্রমণ করতে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ডলার লাগে এবং আসলে কয়টি প্রতিষ্ঠান এখানে ভ্রমণের ব্যবস্থা রেখেছে এবং তারা কি আসলে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান নাকি একটি প্রতিষ্ঠানই নানা নামে ছড়িয়ে আছে।ভ্রমণে কি কি কাভার করে? হাহাহাহা...এন্টার্কটিকা, আমি বা আপনি যা ভাবি আসলে তা না। নানা থিওরি হয়ত শুনবেন ঘাটাঘাটি করলে তবে আমি প্রথম যা শুনে খুবই অবাক হয়েছিলাম তা হচ্ছে, "এন্টার্কটিকার সমুদ্রে সুপেয় পানি" এই কথা শুনে।হাহাহাহা...বরফ বা আইস শেলফ খুবই অবাক করা বিস্ময় রাখে। রাখে চাঁদের মতই ল্যান্ড স্কেপ যা পৃথিবীর জন্ম থেকে আজ অবধি কোন মানুষের পা পড়েনি। এন্টার্কটিকা এমনই বিস্ময় লালন করে,যার সবটুকু বরফে ঢাকা নয় যেমনটা আমরা কল্পণা করি।হাহাহাহা...ড্রাই ভ্যালের ছবি দিলাম।

The Labyrinth (77°33′S 160°48′ECoordinates: 77°33′S 160°48′E) is an extensive flat upland area which has been deeply eroded, at the west end of Wright Valley, in Victoria Land, Antarctica. It was so named by the Victoria University of Wellington Antarctic Expedition (1958–59) because the eroded dolerite of which it is formed gives an appearance of a labyrinth.

To be continued...

*বিজ্ঞান* *মহাশুন্য* *প্রশ্ন* *এন্টার্কটিকা* *চাঁদেঅবতরণ* *চাঁদ*

প্যাঁচা : পৃথিবীবাসি হিসাবে পৃথিবীর কিছু ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত।তবে পৃথিবীর সামান্য গতিপথের উল্টাপাল্টার কারণে কতকিছুতে যে তারতম্য আসছে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।হাহাহাহা...ভিডিওটি দেখলে ভাল লাগবে যদি আপনার ডিটেইলস জানার ইচ্ছা থাকে... https://www.youtube.com/watch?v=IJhgZBn-LHg

*রেডিও-প্যাঁচা* *পৃথিবী* *সৌরজগত* *বিজ্ঞান* *মহাকাশবিদ্যা*

প্যাঁচা : যদি বলি ধর্মকে যেমন নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করা হয়েছে,এখনো হচ্ছে সেই একই দল এখন বিজ্ঞানকে একইভাবে ব্যবহার করছে,তাহলে আপনার কি আমাকে ধর্মের বিরুদ্ধে বা ধর্মের পক্ষের মনে হবে নাকি বিজ্ঞানের পক্ষে বা বিপক্ষে মনে হবে?নাকি কেবলই রাবিশ কথাবার্তা মনে করে এড়িয়ে যাবেন? যদি বলা হয়,যত কিছু আমরা জানি বা জানার মত আছে,তার সাথে যত বেশি মানুষ জড়িত হয়েছে তত বেশি বিকৃত হয়েছে কিংবা স্বার্থ উদ্ধারে আসল চেহারা পাল্টেছে।একটি হচ্ছে ধর্ম,উদীয়মান তারকা বিজ্ঞান(শয়তানিহাসি)(হাসি২)

*ধর্ম* *বিজ্ঞান* *স্বার্থদ্ধার* *বিকৃত*

প্যাঁচা : একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্ল্যানেট এক্স নিয়ে অনেক কথাই হয়ত শুনে থাকবেন।তবে যত যাই শুনবেন একটা কথা একদমই শুনবেন না তা হচ্ছে,পৃথিবী এবং প্ল্যানেটটি যদি যাত্রাপথে সুর্যের একই দিকে থাকে তাহলেই কেটাক্লিজমিক ঘটনা ঘটতে পারে,না হলে হয়ত যতটা বলা হচ্ছে তেমন কিছু হবে না।তবে প্ল্যানেট এক্স একটি সিস্টেম অর্থাৎ তিনটি celestial body একটি ব্রাউন ডর্ফকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।সবকিছুতে ওপেন থাকাটাই শ্রেয় আর বাকিটা একটু ঘেটে দেখার ব্যাপার কেবল।

মূলত জাকারিয়া সিচিন সুমেরিয়ান ক্লে ট্যাবলেট থেকেই এর কান্ডকীর্তন ও গতিপথ নিয়ে কথা শুরু করেন।আর প্লুটো ও নেপচুনের গতিপথের ডেভিয়াশান দেখেই বিজ্ঞানিরা আরেকটি গ্রহ আমাদের সোলার সিস্টেমে আছে বলে ধারণা করেন এবং পরবর্তীতে জেমস হেরিংটন সিচিনের কথার পক্ষেই কথা বলেন।তিনি মহাশুণ্য পর্যবেক্ষণ কমিশনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন ঐ সময় এবং পরবর্তীতে হঠাৎই ক্যান্সারে মারা যান বলেই প্রচলিত আছে।

এই সিস্টেমটি প্রতি ৩৬০০বছরে একবার তার কক্ষপথ সম্পূর্ণ ঘুরে বলেই ধারণা করা হয়েছে এবং সেই হিসাবে ১৬০০খৃষ্টপূর্বে শেষবার এটি প্রদক্ষিণ করে গেছে বলে ধারণা করা হয় তবে নিশ্চিত হবার যেহেতু উপায় নেই তাই ১৫০০-১৭০০ টাইমফ্রেম কল্পণা করে নেয়া হয়।আর এই হিসাব অনুযায়ী ১৯০০-২১০০সালের মধ্যে আবার আসার কথা আর তাই ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছরই "ইহা আসিচ্ছে, আসিচ্ছে" শুনতে শুনতে কান পচে যাবার কথা।হাহাহাহা...নিশ্চিত করে বলা মুশকিল আসলে কি হচ্ছে তবে হেরিংটনের মত ব্যাক্তি এমনিতে অবাস্তব কল্পকাহিনী নিয়ে কথা বলার মানুষ হবার কথা নন তাই কিছুটা হলেও ভিত্তি আছে বলেই আমার ধারণা।তবে পোলার শিফটের সাথে এর সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না,কারণ পোলার শিফট নেচার সাইকেলেই হয় বলে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন আর এর সাইকেল প্রতি ২৫০,০০০বছর যদিও এর প্রায় দ্বিগুণ সময় গত হয়ে গেছে এখনো তার পুনরাবৃত্তি হয়নি এখনো।তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন,এই প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।এই প্রক্রিয়ার পেছনে হয়ত এমন কোন নেচারাল ফেনোমেনা কাজ করে যা আগে ছিল কিন্তু এখন হচ্ছে না যেমন,আগে পৃথিবীর টোটাল ল্যান্ড ম্যাস একত্রে ছিল ফলে তাপমাত্রাগত ভাবে কিংবা জলবায়ুগত ভাবে পৃথিবীর পরিবেশ বেশ বৈরী হবারই কথা।কিন্তু এখন যেহেতু দুরত্ব বেড়েছে তাই হয়ত তেমনটা হচ্ছে না।হাহাহা...এগুলো আমার উর্বর মস্তিষ্কের কথা,যাহা ভিত্তিহীন।

মোদ্দা কথা,পোলার শিফট এমনিতেও হবে অমনিতেও হবে,আজ বা কাল বা পরশু।কিন্তু প্ল্যানেট সিস্টেমটির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন রয়ে গেছে যেখানে, সেখানে এর প্রভাব নিয়ে কথা বলাটা "গাছে কাঠাল গোফে তেল" দেবার মত শোনালেও নানা উপাত্ত বলে ভিন্ন কথা।সুমেরিয়ান সভ্যতা ৬০০০বছর আগে বর্তমান সোলার সিস্টেমের কথা বিস্তারিত বলে গেছে,এমনকি নেপচুন,প্লুটোর রঙ কি তাও বলে গেছে সঠিক ভাবেই।তারা সোলার সিস্টেমের যে চিত্র রেখে গেছেন ৬০০০ বছর আগে তা ১৯৩০ সালে প্লটো আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞান সম্পন্ন করেছে যদিও শেষ গ্রহটি বা প্ল্যানেট সিস্টেমটি এখনো অনিশ্চিত।

যেসব প্রশ্ন আসলে আমাদের সাধারণ মানুষের মাঝে সবার আগে কাজ করবে তা হচ্ছে,এমন একটা সিস্টেম সৌরজগতের মাঝ দিয়ে যাবে আর আমরা বুঝি দেখবো না আকাশে?হুমম,দেখবেন তবে যেমন তারা বা ধুমকেতু দেখতে পাই সেভাবে নয়।এই সিস্টেমটি ক্লকওয়াইজ প্রদক্ষিণ করে আর এটি এপ্রোচ করবে সূর্যের পেছন থেকে অর্থাৎ সূর্যের কারণে আমরা দেখতে না পাবার সম্ভাবণাই বেশি আর যখন দেখতে পাব তখন অনেক দেরী হয়ে যেতে পারে বলেই অনেকেই ধারণা করেন।তাই নানা স্থান থেকে যারা যা দেখেছেন তার একটি ভিডিও সংযোজন করে দিলাম,নিজে আরো ঘেটে দেখতে পারেন।বিশ্বাস হবার মত কিছু পেলে বাকিগুলো আপনি এমনিতেই খুজে দেখবেন।হাহাহা...

কেন এর কথা প্রকাশ্যে বলা হয় না?স্বাভাবিক কারণ, বিশৃঙ্গখলা বা টোটাল সিস্টেম কলাপসের ভয় বা নিয়ন্ত্রণ হারাবার ভয়।তারপরো গুগল স্কাইয়ে দীর্ঘদিন ব্ল্যাক স্পট থাকার পর বর্তমানে 5h42m21.28s 22 36'46.46" লিখে সার্চ দিলে দেখা যাচ্ছে যদিও আমার সন্দেহ আছে কারণ গুগল স্কাই কোথা থেকে এইসব ইমেজ পায় তা দেখলে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না।চাঁদের অবতরণ যদি হলিউডে হতে পারে তাহলে আরো কি কি যে কেবল লোক দেখানো বিজ্ঞান তা আল্লাহই ভাল জানেন।হাহাহা...

কাকে বিশ্বাস করবেন?যেখানে পৃথিবীর গঠন নিয়ে গত দেড় বছর যাবৎ নতুন তর্কের অবতারণা হয়েছে সেখানে কি ধরবেন কি ছাড়বেন তা বলা বড়ই মুশকিল।কেউই কর্তৃত্ব ছাড়তে নারাজ।আজিব...হাহাহাহা...আইএসএস থেকে যে লাইভ ভিডিও দেখানো হয় তাও নাকি সিজিআই।গত ১৯৭৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত পৃথিবীর যত ছবি পাবলিকের কাছে দেয়া হয়েছে তার মাঝেই এত তারতম্য এবং অসামাঞ্জস্যতা আছে যে নিজেদের আবাসস্থলের গঠন নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে;ফ্ল্যাট নাকি গোলাকার নাকি অর্ধচন্দ্রাকার নাকি কচ্ছপের পিঠে পৃথিবী কে জানে আসলে?হাহাহাহা...

কোন জ্ঞান যে সবার জন্য আর কোনটা সবার জন্য না তা ভেবে যদি সবকিছুকে আটকে রাখা হয় তাহলে ডিসটরশান আসতে কি আর সময় লাগে?যাই হোক,আর কথা বলে মনে হয় না কিছু হবে,এর পর যার যার নিজস্ব অনুসন্ধিতসু মনের উপর ছেড়ে দেয়া ছাড়া কিছু করার নাই।তবে বারবার বলবো,উপাত্ত উপর নির্ভর করে সীদ্ধান্ত নেবার চেষ্টা করবেন;সীদ্ধান্ত আগে নিয়ে পরে উপাত্ত দিয়ে তা প্রমাণ করতে চাইলে পক্ষপাতদুষ্ট সীদ্ধান্তই হবে।তাই সৌরজগতের গঠন থেকে শুরু করে নিজের পৃথিবীর গঠণ পর্যন্ত সবকিছু নিয়ে আবার নতুন করে খোলা মনে ভেবে দেখার সময় এসেছে বলেই মনে হয়।হাহাহা...আদার বেপারীর জাহাজের খবর নেয়ার মত মনে হলেও,সবাই যদি প্রশ্ন করে তাহলে চাঁদের অবতরণের মত হলিউডে বানানো কোন উত্তর আসলেও আসতে পারে।এতে অন্তত আপাত প্রশ্নের উত্তর মিললেও ভবিষ্যত প্রজন্ম ঠিকই এর মোড়ক উন্মোচন করতে পারবে বলেই আশা করা যায় আর এভাবে একটা সময় হয়ত আসল উত্তর বের হয়ে আসবে।ভাল থাকবেন...

সত্য সবসময় চোখের সামনেই থাকে,তাই মিথ্যাটাকে বার বার বলা হয় যাতে চোখের সামনে মিথ্যা ছবিটাই ভেসে থাকে।হাহাহাহা...ঘেটে দেখতে পারেন জাকারিয়া সিচিনের প্রেজেন্টেশান, আর উই এলোন ইন্টারভিউ বাই জাকারিয়া সিচিন,সুমেরিয়ান টেক্সট,সুমেরিয়ান সভ্যতা,পোলার শিফট,blue katchina ইত্যাদি বিষয়গুলো...মনে রাখবেন, একটি মিথ্যাকে সত্যরূপ দেয়া মানেই এই সত্যকে লালন করতে আরো অনেক মিথ্যার আশ্রয় নেয়া।আরো একটি দিক বিবেচনা করবেন,একটি সিস্টেম বা গ্রহ বা ডর্ফ স্টার যদি সৌরজগতে প্রবেশ করে তাহলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে,তাপমাত্রা,এস্টেরয়েড বেল্ট,অন্যান্য গ্রহতে ইত্যাদি দিক গুলোও দেখতে পারেন।যেহেতু প্ল্যানেট সিস্টেম তাই সৌরজগতের তাপমাত্রার পরিবর্তণের কারণে নানা পরিবর্তণ দেখা যেতে পারে তাই ঐদিকগুলোর দিকেও চোখ রাখতে পারেন আর আকাশে চোখ রাখতেই পারেন।সবকিছুর সত্যতা নেই তাই বাছাই করতেই হবে,যা যতবেশি উনমুক্ত তার অপব্যবহারো তত বেশি।হাহাহাহা...


https://www.youtube.com/watch?v=yvnQcDua3Ms

*মহাশূন্য* *সৌরজগৎ* *বিজ্ঞান* *এস্ট্রোলজি* *রেডিও-প্যাঁচা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★