বিদেশী কবিতা

বিদেশীকবিতা নিয়ে কি ভাবছো?

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে



দস্তখত ক’রে হাত ধ্বসালো শহর
স্বয়ম্ভূ পাঁচ আঙ্গুল শ্বাস করলো আঁট,
দ্বিগুণ করলো মৃত, খণ্ডালো দেশ--
রাজা পাঁচজন এরা মারলো সম্রাট।
.
চুক্তি সই ক’রে হাত তাতালো রে জ্বর
জাগালো দুর্ভিক্ষ আর এলো পঙ্গপাল।
প্রবল সে হাত যেই দমালো মানুষ
এঁকে দিয়ে শুধু মাত্র নামাঙ্ক জাল।
.
স্কন্ধে পড়েছে ঢ’লে প্রবল সে হাত
চক-ধুলো সমাকীর্ণ আঙুলের গিরো,
পালক কলম ইতি করেছে যে খুন
সমাপ্ত ক’রে দিয়ে আলোচনা-টিরও।
.
মুর্দা শুমার করে রাজা পাঁচ জন,
ছোঁয় না দগ্ধ ঘা কিম্বা ভুরুকেই -
মমতাকে বাধ্য করে স্বর্গ যেমন,
কেননা হাতের মাঝে অশ্রু মোটে নেই।
.
--অনুবাদ : ওমর শামস।
.
[ ডিলান টমাস, [Dylan Marlais Thomas (1914 - 1953)],
ব্রিটিশ কবি। ‘দস্তখতের হাত’ কবিতাটিতে সম্রাট কিংবা
রাষ্ট্রশক্তির কলমের দস্তখতেই যে যুদ্ধ, সংহার, খুন ঘটে
তার নির্মম প্রতিকৃতি তুলে ধরেছেন।]

*বিদেশীকবিতা*

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে


সারা জীবনে
সে না লিখেছে, না পড়েছে।
সারা জীবনে
সে একটিও গাছ কাটে নি,
একটি বাছুরেরও গলা কাটে নি।
নিউ-ইয়র্ক টাইমস্‌-এর পশ্চাদ্দেশে,
সারা জীবনে,
সে একটা টু বলে নি।
কোন বান্দার বিরুদ্ধে
চড়া গলায় সে চ্যাঁচায় নি,
শুধু এইটুকু বলা ছাড়া:
“আসুন, বসুন -
আল্লার নামে ফেলতে পারবেন না।”
.
তথাপি
তার উদ্ধারের আশা-ভরসা নেই!
তার অবস্থা সঙ্গীন।
আল্লার প্রেরিত তার জন্য সমস্ত অধিকার
এখন সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত এক চিলতে লবণ।
বিচারক ভদ্র ও ভদ্রাগণ,
ফরিয়াদী তার শত্রু সম্বন্ধে এক কণাও সে জানে না।
আমি হলফ্‌ ক’রে বলতে পারি,
যদি বিমান-নৌবাহক এন্টারপ্রাইজের
সকল সেনার সঙ্গে তার দ্যাখা হতো,
তবে সে সকল সৈন্যদের জন্য
সেবন করত বাখরখানি ও ডিম ভাজা--
তাজা তার ঝোলার থেকে।
.
---অনুবাদ : ওমর শামস।
.
[তাহা মুহম্মদ আলী,Taha Muhammad Ali (1931 - 2011)
প্যালেস্টাইনী কবি। শিক্ষা চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত, কিন্তু জীবন ও
আত্মশিক্ষার অভিজ্ঞতায় প্যালেস্টাইনী দুর্দশার কবিতা লিখেছেন।
উদ্ধৃত কবিতাটি মহাপরাশক্তির সঙ্গে ক্ষুদ্র কওম-এর সংগ্রাম
ও অধিকার আদায়ের কবিতা।]

*বিদেশীকবিতা*

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে


আমাকে মরা দেখলে ওরা খুশী হবে,
বলতে যে: ‘ও আমাদের, ও এখন আমাদের।’
কুড়ি বছর ধ’রে আমি ওদের পদধ্বনি শুনেছি রাত্রির দেয়ালে।
কোনো দরোজা খোলে না, অথচ ওরা এখন এখানে।
আমি ওদের তিনজনকে দেখি।
এক কবি, এক খুনী, আর এক কেতাব পড়ুয়া।
.
‘পান করবে?’, আমি জিজ্ঞেস করলাম।
‘হ্যাঁ, ওরা বললো।
‘তোমরা আমাকে কখন গুলি করবে?’
আমি জিজ্ঞেস করলাম।
‘আরে, থিতু হও’, ওরা বললো।
গ্লাসগুলো সাজিয়ে সবার জন্য গান পাওয়া শুরু করলো।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা কখন আমাকে খুন করবে?’
.
‘সে খতম’, ওরা বললো…
‘তুমি তোমার রুহুর আগেই জুতো পাঠিয়েছিলে কেন?’
‘যেন পৃথিবীর মুখের উপর তা ঘুরে বেড়াতে পারে’, আমি বললাম।
‘পৃথিবী তো ভয়ঙ্কর কালো, তোমার কবিতা শাদা কেন?’
‘কেননা আমার হৃদয় তিরিশ সমুদ্র দিয়ে মথিত’, আমি বললাম।
জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি ফরাসী সুরা পছন্দ করো কেন?’
‘কেননা আমার সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ের ভালোবাসা পাওয়া উচিত’,
আমি জবাব দিলাম।
.
‘নীল জানালা দিয়ে প্রবাহিত তারার মতো, – আরো সুরা নেবে?’
‘হ্যাঁ, আমরা গিলবো’, ওরা বললো।
‘অনুগ্রহ ক’রে সময় নাও। যদি তোমরা ধীরে মারতে চাও,
তা-হলে আমি আমার রুহুর বিবির জন্য
অন্তিম কবিতা লিখতে পারি।’
.
ওরা হাসলো, আর
আমার বৌ-র জন্য একান্ত উৎসর্গীকৃত
শব্দগুলো ছিনিয়ে নিলো।
.
---অনুবাদ : ওমর শামস।
.
[মাহমুদ দারবিশ, [Mahmoud Darwish (1941 - 2008)],
প্যালেস্টাইনী কবি, যাঁর কবিতা তাঁর জনগণের স্বর্গস্খলনের
প্রতীক। তিনি ও তাঁর স্বজনরা যে সততই মৃত্যুর মুখোমুখি,
সেই সত্যকে এক অপূর্ব ম্যাজিক রিয়ালিজমের কবিতায়
প্রকাশ করেছেন।]

*বিদেশীকবিতা*

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে


প্রাতঃরাশ গিলিত …… …… কবরখানার
ভেজামাটি প্রিয়জনের রক্তের ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে।
শীতের শহর …… এক ঠ্যালাগাড়ী,
যে টেনে চলেছে বুভুক্ষার জর্জরতা,
সে তার পোড়ানি জ্বেহাদ থেকে ছাড় পায় না।

মনে কয়, আমি সব দরোজায় টোকা দিতে পারতাম,
জিগাইতাম কারুর জন্য; আর তারপর দেখতাম,
গরীব - যখন সে কাঁদতাছে - সবাইকে
টাটকা রুটির টুকরা দিয়ে দিতাম।
লুট করতাম বড়োলোকদের দ্রাক্ষাকুঞ্জ
ঐ দু’হাতে …… যারা আলোর থাবড়ায়
পেরেক ছিঁড়ে ক্রুশকাঠ থেকে উড়ে এসেছে।
প্রাতঃকালের চোখের পাতা,
তুমি তো উঠতেই পাচ্ছো না।
আমাদের দিনকার ভাত দাও, প্রভু!

আমার দেহের প্রত্যেকটি হাড়ই অন্যের,
হয়তো চুরি ক’রে এনেছিলাম;
হয়তো যা অন্য মানুষের জন্য ছিলো,
আমি তাই নিয়ে নিয়েছিলাম।
ভাবি, আমি যদি না জন্মাতাম তা’হলে
অন্য আরেকজন এই কফি পান করতো।
নিজেকে অপরাধী চোরের মতো মনে হয় …
আমার শেষ কোথায়?

আর তাই এই শীত-বেলায়
যখন পৃথিবী
মাটির মধ্যে মানুষের ধুলো নিয়ে বিষণ্ন
মনে কয় যদি সব দরোজায় টোকা দিতে পারতাম,
সবাইকে ডাকতে পারতাম
আর গুচ্ছ-গুচ্ছ রুটি বানাতে পারতাম
এই-খানে, আমার বুকের চুলোয়!

---অনুবাদ : ওমর শামস।

[সেজার ভায়্যেহো, César Abraham Vallejo Mendoza (1892 - 1938), পেরুর বিখাত কবি। সারা জীবন গরীবিয়ানায় কাটিয়েছেন; ১৯২৩ থেকে প্যরিসে। সব অভাগা মানুষের দুর্ভাগ্যকে যেন নিজের কাঁধে নিয়েছেন এবং বলতে পারেন যে, “মনে কয় যদি সব দরোজায় টোকা দিতে পারতাম, সবাইকে ডাকতে পারতাম আর গুচ্ছ-গুচ্ছ রুটি বানাতে পারতাম - এইখানে, আমার বুকের চুলোয়!”.......'আমাদের রুটি' পৃথিবীর সব প্রতিবাদী কবিতার মধ্যে শ্রেষ্ঠ একটি।]

*বিদেশীকবিতা*

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে


পাথরের মধ্যে পাথর - আর মানুষ, সে কোথায় ছিলো?
বাতাসের মধ্যে বাতাস - আর মানুষ, সে কোথায় ছিলো?
সময়ের মধ্যে সময় - আর মানুষ, সে কোথায় ছিলো?
.
তুমিও কি তখন অনিশ্চিত মানবতার ভাঙ্গা কুচো,
শূন্য ঈগল - যে আজ অব্দি রাস্তায়, পদপাতে,
হেমন্তের মৃত পাতাঝরায়, হৃদয় দীর্ণ করে সমাধি অবধি?
গরীব হাত - পা - গরীব জীবন …
যেন বৃষ্টি, উৎসবের চাঁদোয়ায় পাপড়ির পরে পাপড়ি,
বিচূর্ণ আলোর দিন তোমাকে কি দিয়েছিলো
তামস আহার তোমার শূন্য মুখে?
বুভুক্ষা, মানুষের ব্যাধি,
ক্ষুধা - কাঠুরিয়ার মূল, বিসুপ্ত লতা- ক্ষুধা,
তোমার ক্ষয়িষ্ণু ধার কি উঠেছিলো এইখানে
ধ্বংসীভূত মিনারের উচ্চতায়?
.
তোমাকে প্রশ্ন করি পথের লবণ, আমাকে দ্যাখাও ছেনি:
স্থাপত্য: পাথর ঘ’ষতে দাও নুড়ি দিয়ে,
চড়ি প্রতি ধাপ বাতাসের শূন্যতায়, আঁচড়াই জরায়ুরে -
যতোক্ষণ না ছুঁই একটি মানুষ।
.
মাচ্চুপিচু, তুমি কি পাথরের উপর পাথর রেখেছো চটের ভিতরে?
কয়লার উপরে কয়লা, আর সব নিচে অশ্রু?
সোনার ভিতরে আগুন, আর তার ভিতরে -
রক্তের চ্ছটা কম্পমান?
.
আমাকে ফিরিয়ে দাও সমাধিস্থ দাস!
ভূস্তর থেকে খশিয়ে দাও অভাগার রুটি,
আমাকে দ্যাখাও গোলামের জামা, তার জানালা।
বলো, সে কি ক’রে ঘুমোতো, কোথায় থাকতো;
বলো, সে কি নাক ডাকতো ঘুমিয়ে,
দেয়ালের কোনো কালো ক্লান্তিখচা গর্তের মতো।
.
দেয়াল! দেয়াল! তার স্বপ্নের উপর চেপে ছিলো প্রত্যেক
পাথরের থাক; আর যদি সে প’ড়ে থাকে,
যেমন চাঁদের নিচে, স্বপ্নসহ।

সনাতন আমেরিকা, নিমজ্জিত নারী,
আঙ্গুলও তোমার, অরণ্য ছেড়ে দেবতার শূন্যবেদীতে
রোশনাই বিবাহের জলুসে, শ্রদ্ধায়
বর্শা-দামামাসহ গর্জনে মিশে - তোমার, তোমারও আঙুল
যা বিমূর্ত গোলাপ বা তুষারের কূল -
নবান্ন-শস্য-র রক্তাক্ত দেহ উঠিয়েছিলো নির্মম গুহায়,
বিকীরক বস্তুর মায়াজালে -
তুমিও, তুমিও আমেরিকা, নিমজ্জিত - তুমিও কি তোমার
গভীরতম তিতো অন্ত্রে ঈগলের মতো
লুকিয়ে রেখেছিলে ক্ষুধা?
.
অনুবাদ : ওমর শামস।
.
[পাবলো নেরুদা, [Pablo Neruda (1904 - 1973)],
চিলির কবি; গারসিয়া মার্কেজ-এর মতে ২০ শতকের
সব ভাষার শ্রেষ্ঠতম কবি।

*বিদেশীকবিতা*

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে


রোম অথবা প্যারিসে,
নিউইয়র্ক, বুয়েনস আইরেস, মাদ্রিদ,
কোলকাতা, কায়রো, এই সব সমস্ত জায়গায়
ছেঁড়া ছালা আছে
জুতোর ভগ্নাংশ - হাড়-ছোঁয়া -
আবর্জনা - ভস্মীভূত,
গভীর গর্ত - বিশুষ্ক;
পৃথিবীর পরিত্যক্ত - জংধরা,
জমাট রক্তের মানুষী ছাল -
মৃত লাভার মতো ক্ষওয়া,
কোঁচকানো বেদনার্ত চামড়া -
ঘোষণাপত্র যা দোষায়,
চীৎকার করে যদিও তাদের কোন মুখ নেই,
বোবা আর্তনাদ নিঃশব্দতার মতোই বেদনাদায়ক।
.
কোত্থেকে এই সব ধস,
এই সব নির্বাহু পঙ্গু অবশেষ,
গহ্বর যা মুহূর্তে ছিঁড়ে আরো বর্ধিষ্ণু,
মোচড়ানো সিল্কের ছিন্ন সুতোর চট,
বিভ্রান্ত কাদার দলা, লাল গালা
চক-গুঁড়ো - কোত্থেকে?
কি বেরোবে, কি উথ্‌লোবে এখান থেকে?
কি বিস্ফোরিত হবে এইসব সহিংস ভীতির থেকে,
কি ধ্বসবে অন্ধ, তামস বিচ্ছিন্ন ছাল থেকে,
কখন ছিঁড়বে দড়ি, সেলাই খুলে কামড়াবে হঠাৎ,
লৌহ-খনিজ, খড়িমাটি উজ্জ্বলচ্ছটাময়
কি পারে নতুন সৌন্দর্য জাগাতে?
..
কিন্তু, আহ্‌! ইতিমধ্যে একটা
“ছুঁয়ো না, মৃত্যুর শঙ্কা” - সব জোড়াতালি মারা
ছিন্ন-কোণ বাস্তবতার তলে থমকে থাকে!
হটাও, হটাও হাত,
একটি আঙুলও বার ক’রো না, তুমি তোমার
পালিশঅলা নখ শুদ্দো - ছুঁচো,
এ-সব নালায় তুমি ঢুকতে চেষ্টা ক’রো না।
হটো, হটো - তুমি কারবার ক’রে ফ্যাকাশে,
শূন্যতা থেকে ধূসর - এদিকে এক পা-ও না,
এক কদমের ঝুঁকি নয়, নয় চোখের ইশারা !
আলোড়ন - এক বৈদ্যুতিক কম্পন, এখানে
হানতে পারে - এবং কিরণ, অন্তঃস্থিত আলো
এইসব পিণ্ডাকার মানুষী-করুণ ধ্বংস-স্তূপ।
.
---অনুবাদ : ওমর শামস।
.
[রাফায়েল আলবের্তি, Rafael Alberti Merello (1902 - 1999),
স্পেনের ১৯২৭ গোত্রের বিখ্যাত কবি। স্পানীশ সুররিয়ালিস্টদের
অন্যতম পুরোধা যদিও অন্য স্টাইলের কবিতা তিনি বিস্তর লিখেছেন।
১৯৩৯ সনে আর্জেন্টিনা চলে যান। ১৯৬৫ থেকে আমৃত্যু ইতালিতে
স্বেচ্ছা-নির্বাসনে ছিলেন। উদ্ধৃত কবিতাটি স্পেনের ৪০০০-৩০০০
বছরের পুরোনো মানব বসতি, ‘মিয়ারেস’-এর ধ্বংসাবশেষ নিয়ে,
অনেকটা নেরুদার মাচ্চু-পিচুর কবিতার মতো।

*বিদেশীকবিতা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★