বিশ্বকাপ ভাবনা

বিশ্বকাপ-ভাবনা নিয়ে কি ভাবছো?

খেলার খবর: একটি বেশব্লগ লিখেছে

দরজায় কড়া নাড়ছে আসন্ন ১১তম বিশ্বকাপ ক্রিকেট। তাইতো বিশ্বকাপ নিয়ে চারদিকে জল্পনা কল্পনার কোন কমতি নেই। কোন দল এবারের বিশ্বকাপে শিরোপা জিতবে তা নিয়ে ক্রিকেট বোদ্ধাদের ভাবনার শেষ নেই। তবে সব দিক বিবেচনায় ভক্তরার অবশ্য তাদের পছন্দের দলকেই এগিয়ে রাখছেন । এবারে আসি আমাদের প্রিয় দল বাংলাদেশের কথায়। ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের দেশের ভক্ত দশর্কদের ভাবনাটা একটু বেশিই। কিন্তু কি ভাবছেন বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়া নতুন ক্রিকেটাররা। শুনবো তাদের বিশ্বকাপ ভাবনার কথা....

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য বাংলাদশে দলে রাখা হয়েছে নতুন ৯ জন ক্রিকেটারকে। বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন ক্রিকেটাররা কিভাবে ব্যক্ত করছিলেন তাদের অনুভূতির কথা। চলুন শুনে আসি.. 

সৌম্য সরকার
বিশ্বকাপে ডাক পাবো এ রকম একটা আত্মবিশ্বাস শুরু থেকেই ছিল। ভালো খেলার চেষ্টাও শুরু থেকেই ছিল। যেভাবে খেলা শুরু করেছি এবং এখন যেভাবে খেলছি,  এটা আমার জন্যে অনেক কিছু। এ জন্য পুরো কৃতিত্ব দিতে চাই আমার পরিবারকে। আমার পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছি সেটা আমার জন্যে অনেক কিছু। একাদশে সুযোগ পেলে ভালো কিছু করে দেখাব।
 
সাব্বির রহমান রুম্মান
অনেক ভালো লাগছে। বিশ্বকাপে খেলবো ভেবেই ভালো লাগছে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।  জিম্বাবুয়ে সিরিজে ভালো খেলার পর আশা করেছিলাম, বিশ্বকাপে খেলবো।  আশা তো প্রত্যেকেই করে, আমিও করেছিলাম। এবার বিশ্বকাপে খেলবো এ রকমটা স্বপ্ন ছিল আমার। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ভালো করার পর আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। এরপর প্রিমিয়ার লিগেও বেশ কয়েকটি ম্যাচে ভালো করেছি। সব মিলিয়ে নির্বাচকরা আমার পারফরমেন্স বিবেচনা করেই দলে সুযোগ করে দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়াতে এখনো খেলা হয়নি। নিউজিল্যান্ডে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছি। সেখানকার কন্ডিশন কিছুটা সাহায্য করতে পারে।  ব্যক্তিগত কোন লক্ষ্য নেই; যখন যে রকম ব্যাটিং করা প্রয়োজন সেটা করার চেষ্টা থাকবে। ফিল্ডিং কিংবা বোলিং যেখানেই খেলি না কেন, দলের জন্যে কিছু করার চেষ্টা থাকবে।

এনামুল হক বিজয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমার প্রথম আইসিসির কোন ইভেন্ট। এর আগে অনুর্ধ্ব-১৯ দলে বিশ্বকাপ খেলেছি।  কিন্তু এবারই ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছি। এটা আমার প্রথম বিশ্বকাপ। তাই অনুভূতিটা অন্য রকম।   ছুটি পেয়েছি বলে বাবা-মার কাছে যাচ্ছি। একসঙ্গে আনন্দ করবো। নির্বাচকদের ধন্যবাদ, আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। ভাল খেলে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পুরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

নাসির হোসেন
প্রত্যেক ক্রিকেটারের একটা স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ খেলার। সেই সুযোগটি আসায় খুবই ভালো লাগছে। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট এটা। জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলে ছিলাম না।  জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর বেশ কঠিন সময় পার করেছি। এ সময় আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি। ফর্মে ফেরার জন্যে সব চেষ্টাই করেছি। হার্ডওয়ার্ক করেছি। নেটে সময় দিয়েছি। কীভাবে উন্নতি করা যায়- সে সম্পর্কে কোচ ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের পরামর্শগুলো কাজে লাগিয়েই উন্নতি করেছি। বিশ্বকাপেই ফিরতে হবে এমন কোন টার্গেট ছিল না। আমি আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিংটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। যার কারণে সফল হয়েছি। বেশ কয়েকটা ম্যাচে রান করেছি। এতটুকু বিশ্বাস ছিল যদি ভালো পারফর্ম করি তাহলে দলে অবশ্যই সুযোগ পাবো।

তাসকিন আহমেদ
১৫ জনের দলে সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। এবার ১১ জনের দলে থাকার চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশ দলে খেলার স্বপ্নটা পূরণ হওয়ার পর আস্তে আস্তে সব স্বপ্নই বেড়ে যাচ্ছে। এখন বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। এখানে যদি ভাল করতে পারি অনেক বড় একটা অর্জন হবে। অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলে উইকেট সম্পর্কে কিছুটা ধারনা রয়েছে। এটা আসলে ব্যাটিং ও বোলিং দুইটার জন্যই ভাল।

তাইজুল ইসলাম
বিশ্বকাপ ক্রিকেটে থাকতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। দুটি সিরিজ এবং ঘরোয়া লিগে ভালো খেলে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছি। সে জন্য বেশ ভালো লাগছে।  আসলে ওখানকার কন্ডিশনে কোন সুবিধা পাবো কিনা-  তা নিয়ে কোন চিন্তা করছি না। এখন ভারত-অস্ট্রেলিয়া এবং বিগ ব্যাশের খেলাগুলো দেখছি। স্পিনাররা কি রকম বল করছেন সেগুলোও দেখছি। ওখানে গেলে এবং বল করলে বাকিটা বোঝা যাবে। তারপরও নিজের থেকে ভালো করার জন্যে যতটুকু করার তার সবটুকুই চেষ্টা করবো। বিশ্বকাপে অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে যাবো।  ইনশাআল্লাহ বোলিংয়ে সেরা দশে থাকার চেষ্টা করবো।

আরাফাত সানি
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে এবারই প্রথম খেলবো। এরপর বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে। খুব উৎফুল্ল আমি। সবারই এখানে খেলার স্বপ্ন থাকে। আমারও ছিল; আর সেটা পূর্ণ হয়েছে বলে ভালো লাগছে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কীভাবে বোলিং করতে হবে, সে বিষয়গুলোকে নিয়ে এখন থেকেই কাজ করতে হবে। সাকিব এখন বিগ ব্যাশে খেলবেন। যা আমাদের জন্যে প্লাস পয়েন্ট। উনি (সাকিব) আগেভাগেই কন্ডিশন সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবেন। আমি চেষ্টা করব ওনার কাছ থেকে কন্ডিশন সম্পর্কে ধারনা নিতে। আর এগুলো যদি নিতে পারি, তবে আমাদের দলের জন্যই ভাল হবে।  

আল আমিন হোসেন
৪ বছর পরপর একবার বিশ্বকাপ হয়। এবারে খেলতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। একটু কনফিউজ ছিলাম দলে থাকব কি, থাকবো না। শেষ পর্যন্ত আছি। গত বছর ১১ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়েছি। খুব ভালো একটা সময় কেটেছে। আশা করছি বিশ্বকাপ দিয়ে বছরটা বেশ ভালোমতোই শুরু করতে পারবো। 
*ক্রিকেট* *ক্রিকেটবিশ্বকাপ* *খেলাধুলা* *বিশ্বকাপ-ভাবনা* *বিশ্বকাপ-মিশন*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★