বৃক্ষ

বৃক্ষ নিয়ে কি ভাবছো?
৫/৫

পায়েল : কখনো আনমনা আমি তাকিয়ে থাকি আকাশ পানে, দেখি খন্ড-বিখন্ড সাদা মেঘের ফাঁকে একটুখানি নীল, কখনো পথ হারিয়ে হাঁটতে থাকি অচিন পথে দেখি দিগন্ত বিস্তৃত হাওড়ের মাঝে শাপলা ফোঁটা ঝিল, কখনো তপ্তক্ষরা রৌদ্রতাপে ঘর্মক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিই চিরসবুজ বৃক্ষের শীতল ছায়াতলে, কখনো ব্যস্ততার প্রহর শেষে নিরানন্দ হৃদয়, ভিজিয়ে দিই শ্রাবণ মেঘের রূপালী বৃষ্টির জলে......

*আকাশ* *মেঘ* *দিগন্ত* *বৃক্ষ* *হৃদয়* *বৃষ্টি* *কবিতা*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শোক শব্দটির অর্থ বীতশোক অর্থাৎ শোকহীন। মানবজন্মের দুঃখ শোক অবসানের জন্য যিনি কঠিন তপস্যায় বোধিসত্ত্ব লাভ করেছিলেন, সেই গৌতম ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন এই অশোক তরুতলে। অনেকেই ভাবতে পারেন, ঘটনাটি কাকতালীয়। কিন্তু সে যা ই হোক, এ ঘটনার পর অশোকতরুর জগৎখ্যাত হতে আর কি কিছু লাগে? উপরন্তু কথিত আছে, এই তরুতলেই তপস্যা করে গৌরি তার শোকতাপ মুক্ত হয়ে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। সেই থেকে নাকি এর নাম হয়েছে অশোক (অমরকোষ)।
অশোকের কীর্তি তো অক্ষয় হয়েই আছে ইতিহাসের পাতায়। অশোক নিয়ে পুরাণ কাব্যে উচ্ছাসের অন্ত নেই। সংস্কৃত কবিরা ভাবতেন, অশোক ফোটে লাস্যময়ী তরুণীর পদস্পর্শে। দেবেন্দ্রনাথ সেন অশোক গুচ্ছ নামে কাব্যই রচনা করেছেন। এতে আছে, 'হে অশোক, কোন রাঙ্গা চরণচুম্বনে মর্ম্মে মর্ম্মে শিহরিয়া হলি লালে লাল।' আর রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'আস্তো তারা কুঞ্জবনে চৈত্র জ্যোৎস্নারাতে, অশোক শাখা উঠত ফুটে প্রিয়ার পদাঘাতে।' প্রিয়ার স্পর্শ পাক আর না-ই পাক বসন্তের স্পর্শে রক্তিম হয় অশোকের শাখা।

অশোক একসময় প্রচুর ছিল এই বঙ্গদেশে। এখন তার দেখা পাওয়া যায় না খুব একটা। ঢাকায় বেশ কিছু অশোক আছে রমনা উদ্যানে, মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও।  
উদ্ভিদ বিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা তার 'শ্যামলী নিসর্গ' বইতে অশোকের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম সারাকা ইন্ডিকা লিন (Saraca Indica Lin)। মাঝারি আকারের ঝাঁকড়া চিরসবুজ গাছ। কান্ড ধূসর, মসৃণ। পাতা লম্বা ধরণের। হালকা তামাটে রঙের অশোকের কচিপাতাও খুব সুন্দর দেখায়। ঘন পাতার সন্নিবেশে থোকায় থোকায় ফুল ফোঁটে। নতুন ফুল কমলা রঙের, দিনে দিনে রক্তিম হয়ে ওঠে। অনেক সময় কান্ডের বাকল ফেটেও থোকা থোকা ফুল ফুটতে দেখা যায়। বাসন্তী হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তার মধুর সৌরভ। দ্বিজেন শর্মা তার বইতে জানিয়েছেন, বসন্ত ও হেমন্তেই অশোকের প্রধান প্রস্ফুটনকাল। তবে সারা বছর অল্প বিস্তর ফুল ফোটে। ফল শিমের মত।
বীজ থেকে সহজেই চারা গজায়, বাড়ে খুবই ধীরে।
অশোক শুধু দর্শনদারিই নয়, ঔষধিগুণেও অনন্য। এর ফুল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এ ছাড়া আন্ত্রিক রোগ, উদরাময়, গর্ভধারণের সমস্যা ও স্ত্রী রোগের চিকিৎসায় এর উচ্চমানের কার্যকারিতা রয়েছে। 
 
বসন্ত যেমন প্রেমের ঋতু, তেমনি অশোক ও প্রেমের ফুল। প্রেমের দেবতা কন্দর্পের পঞ্চশরের অন্যতম রক্তিম অশোক (অরবিন্দ, অশোক, চূত, নবমল্লিকা, নীলোৎপল)।

রমনা পার্কে আমার প্রিয় অশোকের একটা বীথি আছে। পুরো ১৩টা গাছ রাস্তার দুপাশে। রাস্তাটি প্রাতঃভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ ভাবে করা, পাথর এবং কংক্রিটের স্লাব দেয়া। পুরো রমনা পার্ক জুড়ে টুকটাক অশোক গাছ দেখতে পাবেন আপনি। কিন্তু বীথি আছে একটাই।

এছাড়া মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও আপনি অশোকের দেখা পাবেন।
তো, ঘুরে আসুন না একদিন ...
*অশোক* *মহীরুহ* *বৃক্ষরোপণ* *বৃক্ষ*
ছবি

মোঃ রাশেদ: ফটো পোস্ট করেছে

ছবি শেয়ার করেছে

*বৃক্ষ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★