বৃদ্ধাশ্রম

বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে কি ভাবছো?

UMARFARUK: *বৃদ্ধাশ্রম* মা বাবার স্থান হোক আপন ঘর, বৃদ্ধাশ্রম নয়

ইসরাত: *বৃদ্ধাশ্রম* একটা বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করে অসংখ্য অনাথ আশ্রম সেটা বোঝা যায় যে সময় ততদিনে সবকিছু হাতের নাগালের বাইরে চলে যায় তাই নিপাত যাক বৃদ্ধাশ্রম |

♦ মমিতা ♦: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রায় বেশিরভাগ পরিবারে শেষ বয়সে অবহেলার স্বীকার হন মা বাবা। কিন্তু কেন এই অবহেলা কেন তাদের হেয় করা? অতি স্নেহে আদরে যাদের কে বড় করে তুলেন তাঁরাই কেন তাদের দুঃসময়ে বৃদ্ধাশ্রমের ঠিকানা দেখান। নিজে কষ্ট করে যে বাবা তাঁর ছেলের খরচ চালিয়ে যান দিনের পর দিন, সেটাই কি ছিল তার অপরাধ? বছরের পর যে বাবা একটা পুরোনো জুতো পড়ে অফিস করে ছেলের পরিক্ষার খরচ চালিয়ে যেতেন, নিজে না খেয়ে ছেলেকে টাকা পাঠাতেন যাতে সে অন্যান্য বন্ধুদের কাছে ছোট না হয় সেটা হয়তো ছিল তাঁর অপরাধ।

জন্মদাত্রী মা যে কিনা শিশুকাল থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত ছায়ার মতো লেগে থাকতো সন্তানের সেবায় সেই মা ই বা কি এমন ভুল করেছিল? যার প্রতিদানে সেই মায়ের স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে। একজন মা কিনা করে তাঁর সন্তানের জন্য, নিজে না খেয়ে অন্ন তুলে দেন সন্তানের মুখে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে, একটা সন্তানকে বড় করে তুলতে কত কষ্ট ই না করতে হয় মাকে। সেটা শুধুমাত্র একজন মা ই অনুভব করতে পারে, তবুও সেই মা একটু ও ক্লান্ত হন না হাসিমুখে সন্তানের সেবা করে যান দিনের পর দিন। কোন দিন দেখা যায় শেষ রাতে কান্না করে শিশু সন্তানটি, সাথে সাথে মায়ের ঘুম ভেঙ্গে যায়, সন্তান কে জরিয়ে আদর করেন আবার তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেন। শুধু তাই আরো কত কষ্ট করতে হয় মাকে সেটা হয়তো লিখে শেষ করা যাবে না কখনো।

অসহায় মা বাবাকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়, কারণ মানুষ মাত্রই জীবনের কোন না কোন সময় অসহায়তার স্বীকার হবে। আপনি এখন বিয়ে করেছেন আপনার ও ছেলে হবে সে যে আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবেনা সেটার কি কোন নিশ্চয়তা আছে?
দুনিয়ার সব মা বাবার জন্যে শুভকামনা, কোন মা বাবার স্থান যেন বৃদ্ধাশ্রম না হয়।

...

*বৃদ্ধাশ্রম*

রাকিব ইসলাম : আচ্ছা বৃদ্ধাশ্রমে মা বাবা কে কিভাবে তার ছেলে রেখে আসে তাদের মন কি পাথরের নাকি আগুনের তৈরী? খুব দেখতে ইচ্ছে করে সেই সকল পাষান হৃদয়ের মানুষ গুলোকে (ঘৃণা) (ঘৃণা) (বমি) (ঘৃণা) (বমি) আসে আসবে হয়তো তাদের দেখলে

*ছিঃছিঃ* *বৃদ্ধাশ্রম* *ঘৃণা* *মা* *বাবা*

রানা মাসুদ: খোকা আসছে না কেন? আজ প্রায় ৩ মাস হয়ে গেলো, ও কি আর আসবে না। আমাকে ছাড়া ও কি ঠিকঠাকমত চলতে পারছে? ওর শরীর কি ঠিক আছে? আজ কত দিন নাতিটার মুখ দেখিনা। অনেক গোছালো সংসার তাদের তার মাঝে আমি বড় বেমানান। কি করার আছে ? আচ্ছা খোকা কি আমাকে ফোন করার সময়ও পায়না? বড্ড ব্যস্ত জীবন ! ওর কি দোষ ? ভুল বুঝিস না।খোকা তোর বাবার ছবি টা দেয়ালে ঝোলানো আছে, তুমি আসার সময় নিয়ে এসো বাবা।খোকা আমি মরে গেলে অনন্ত প্রতি শুক্রবার জুম্মার পর কবরে গিয়ে দেখা করে আসিস বাবা। “মা”

*বৃদ্ধাশ্রম*
ছবি

শেখ মোঃ সজীব হুসাইন: ফটো পোস্ট করেছে

:::

। = = সংগৃহীত = =

*বৃদ্ধাশ্রম*

অন্তু: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

মা বাবা আমাদের আপন জন বোজা (না)
মা বাবার স্থান হোক আপন ঘর, বৃদ্ধাশ্রম নয়
*বৃদ্ধাশ্রম*

টিএম একরাম: *বৃদ্ধাশ্রম* Chele amar mosto manush mosto Officer Mosto Flate jayna dekha E Paar O Paar [x2] Nanan rokom jinish aar ashbab daami daami Shob cheye kom daami chilam ekmatro ami Cheler amar amar proti ogadh Sombhrom Amar Thikana Tai Briddhashram

অনি: *বৃদ্ধাশ্রম* একজন *সন্তান* হিসেবে কখন ও চাইবো (না) কোন *বাবা* *মা* *বৃদ্ধাশ্রমে* থাকুক। এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্বটুকু পালন করতে সমর্থ হয়েছি, প্রার্থনা করি তা যেন ভবিষ্যতে ও পারি। তবে দেখার বিষয়, বাবা হিসেবে নিজের অবস্থান কোথায় হয়!

রানা মাসুদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

“বৃদ্ধাশ্রম” – নচিকেতা


ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্লাটে যায়না দেখা এপার ওপার
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী
সবচে কমদামী ছিলাম একমাত্র আমি

ছেলের আমার, আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।।

আমার ব্যবহারের সেই আলমারি আর আয়না
সেসব নাকি বেশ পুরনো ফ্লাটে রাখা যায় না
ওর বাবার ছবি ঘড়ি ছড়ি বিদেয় হল তাড়াতাড়ি
ছেড়ে দিল কাকে খেল পোষা বুড়ো ময়না,

স্বামী স্ত্রী আর এলসেশিয়ান জায়গা বড়ই কম…
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।

নিজের হাতে ভাত খেতে পারতো না খোকা
বলতাম আমি না থাকলে কি করবি বোকা
ঠোট ফুলিয়ে কাঁদত খোকা আমার কথা শুনে
খোকা বোধহয় আর কাঁদেনা নেই বুঝি আর মনে,
ছোট্র বেলায় স্বপ্ন দেখে উঠত খোকা কেঁদে
দুহাত দিয়ে বুকের কাছে রেখে দিতাম বেঁধে

দুহাত আজো খোঁজে ভুলে যায়যে একদম
আমার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম।

খোকারও হয়েছে ছেলে দুবছর হল
আরতো মাত্র বছর পচিশ ঠাকুর মুখ তোল
একশ বছর বাঁচতে চাই এখন আমার সাধ
পচিশ বছর পরে খোকার হবে উনষাট

আশ্রমের এই ঘরটা ছোট জায়গা অনেক বেশি
খোকা আমি দুজনেতে থাকব পাশাপাশি

সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষন রকম
মূখোমূখি আমি খোকার বৃদ্ধাশ্রম।

*বৃদ্ধাশ্রম*

rupanzil: *বৃদ্ধাশ্রম* শব্দটাই কিছু কষ্ট মাখা চোখ মনে করিয়া দেয় . যে সব (কু ) সন্তান তার বৃদ্ধ পিতা মাতা কে বোঝা মনে করে আমি তাদের ধংস কামনা করি ,তোমারা জীবনে আর যাই কর বাবা মা কে অবহেলা করো না

POST E-CENTRE COMPUTER TRAINING INSTITUTE: *বৃদ্ধাশ্রম* হলো ধনি ব্যক্তি ও বড়লোেকদের জন্য, গরীবদের জন্য নয়। কারণ ধনি ব্যক্তি ও বড়লোকের ছেলেরা বাবা মা বৃদ্ধ হলেই সেবাযত্ন করার ভয়ে বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে রাখে। গবীরের ছেলেরা এটা করে না।

ইসরাত: *বৃদ্ধাশ্রম* আমাদের মনে রাখা উচিত- আজ যিনি সন্তান, তিনিই আগামী দিনের বাবা কিংবা মা। বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবারা যেহেতু কোমলমতি হয়ে যান, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীবনযাত্রার পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। আর যেন কখনো কোনো বাবা-মার ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম না হয়

ইসরাত: *বৃদ্ধাশ্রম* পৃথিবীর প্রথম বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চীনে। খ্রিষ্টপূর্ব ২২০০ শতকে পরিবার থেকে বিতাড়িত বৃদ্ধদের জন্য আলাদা এই আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করে ইতিহাসে আলাদা জায়গাই দখল করে নিয়েছে শান রাজবংশ।

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

আধুনিক উন্নত সমাজের সবচেয়ে বড় ক্ষত হচ্ছে *বৃদ্ধাশ্রম*
*বৃদ্ধাশ্রম*

ভিনদেশী তারা: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

ভাইভা দিতে গেসি এসএসসি,বায়োলজি স্যার বহুত কিসু জিগাইলো কিন্তু এর মধ্যে বায়োলজির প্রশ্ন মাত্র এক খান,কোষ করে কয়? বাকি সবগুলা তো বুঝতেসেনই,আমার নাম,চৌদ্দগুষ্টির নাম ইত্যাদি লাস্টলি স্যারে কয়"বাবা মা এত কিসু করতেসে.. বাবা মার জন্য কি করবা?
প্রথমে কি ঠিকই শুনসি তো?তাই আবার সরি কইয়া জিগাইয়া লইলাম,নাহ হেইডা ওই! ভাব ধইরা কইলাম হেগোরে *বৃদ্ধাশ্রম* এ পাঠাইতাম না !! স্যারে পুরাই টাশকি !!!!
*বৃদ্ধাশ্রম* *বৃদ্ধাশ্রম*

জিসান জাকারিয়া: একটি বেশব্লগ লিখেছে


আজ পয়লা শ্রাবণ।
খোকন, আজ তোর জন্মদিন।
তুই যখন জন্মেছিলি, আমরা তখন যাদবপুরে
নতুন গড়ে ওঠা কলোনীর টালির ঘরে
তোর ইস্কুল মাস্টার বাবা
সেই হ্যারিকেনের আলো জ্বলা ঘরেই
আনন্দে আর খুশিতে ঝলমলে হয়ে উঠেছিলেন
তুই আসার পর। তোর নাম রেখেছিলেন- সুকল্যাণ।
মানুষটার মনটা ছিল শিশুর মতন
অভাবে অনটনে, বেঁচে থাকার নানা দুর্বিপাকেও
ভেঙ্গে পড়তেন না কখনও। সকলের ভাল চাইতেন মন থেকে।
বলতেন দেখো একদিন এই দেশের মানুষ
ঠিক খুঁজে পাবে মুক্তির পথ। শোষণ থেকে মুক্তি
দারিদ্র থেকে মুক্তি অশিক্ষা থেকে মুক্তি…

আজ পয়লা শ্রাবণ
খোকন, আজ তোর জন্মদিন।
ছোটবেলায়, তোর মনে আছে? আমাদের ভাঙ্গা মেঝেতে
বাক্স থেকে বার করা মেজো-মাসীর হাতে তৈরি আসনটা
পেতে দিতাম। সামনে রাখতাম ঠাকুরের আসনের প্রদীপখানা।
তুই বসতিস বাবু হয়ে চুপটি করে।
তোকে আমরা একে একে ধান দুব্বো মাথায় দিয়ে আশীর্বাদ করতাম।
বাবা বলতেন বড় হও মানুষ হও।
তোর বাবার সেই বন্ধু-ঘোষ কাকা তিনি বলতেন
বেঁচে বর্তে থাকো।
তুই জিগ্যেস করতিস-মা, বর্তে মানে কি মা?
আমি শুধু তোর মাথায় ধান-দুব্বোই দিতাম।
বলতাম না কিছুই। শুধু মনে মনে বলতাম
ঠাকুর, আমার খোকনকে মস্ত বড় মানুষ করে তোলো
আমার খোকন যেন সত্যিই মানুষ হয়।
ওর যেন কখনো কোনো বিপদ না হয় ঠাকুর।
অভাবের সংসারে ওই একটা দিন-পয়লা শ্রাবণ
কষ্টের পয়সায় একটু বাড়তি দুধ নিতাম।
পায়েস রান্না করে দিতাম তোকে।
তুই খুব ভালবাসতিস পায়েস খেতে।
তোর বাবা বাসস্টান্ডের দোকান থেকে নিয়ে আসতেন
তোর প্রিয় মিষ্টি ছানার গজা।
সামান্য ইস্কুল মাস্টারিতে কীই বা আয় হত;
ঘরে বসে ছাত্র পড়িয়ে আসতো কিছু।
দাউ দাউ অভাবের আগুনে সে রসদ পুড়তে সময় লাগত না।
তোর বাবার জামা সেলাই করতাম আর বার বার বলতাম
আসছে মাসে একটা জামা বানিয়ে নিও।
উনি হেসে উঠে বলতেন; বাদ দাও তো, খোকন বড় হচ্ছে।
ওর জন্য ভাবছি দুধ রাখতে হবে আরো আধসের-
দুধে শক্তি বাড়ে। বুদ্ধি বাড়ে। শক্তি আরে বুদ্ধি না হলে
তোমার খোকন মস্ত বড় মানুষ হয়ে উঠবে কি করে?
ভাবছি আরো দুটো টিউশনি নেব।

ছাত্র পড়িয়ে পড়িয়ে মানুষটা দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে যেতেন।
বারান্দার ধার ঘেঁষে যখন রাতের অন্ধকারে জোনাকির ব্যস্ততা,
আর ঘরে তোর পড়া মুখস্থ করার একটানা সুর
আমাদের কলোনীর ভাঙ্গাচূড়া বাড়িটাকে জীবন্ত করে রাখতো-
তখন বলতেন আমায়; খাওয়া দাওয়া একটু করো- তোমার চেহারাটা
বড় ভেঙ্গে পড়ছে দিন দিন… শাড়িটাও তো দেখছি বেশ ছিঁড়েছে-
কালই আমি ফেরার পথে একটা শাড়ি নিয়ে আসব। ধারেই আনব।
আমি বলতাম-ধুর। সামনে খোকনের উঁচু ক্লাস-
কত বই পত্তর কিনতে হবে- কত খরচ।
উনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ করে যেতেন।
জোনাকিরা নিঃশব্দ অদৃশ্য আলোর আলপনা আঁকত
উঠনের আগাছার ঝোপে।
আবহ সঙ্গীতের মত তুই ভেতরে বসে বসে পড়া মুখস্থ করতিস।
ইতিহাস, ভূগোল, গ্রামার।

ঈশ্বর আমাদের নিরাশ করেননি।
তুই কত বড় হলি।
সব পরীক্ষায় কত ভাল ফল হল তোর।
বাবা বললেন; আরও পড়। উচ্চ শিখাই উচ্চ সম্মানের
এক মাত্র পথ। তুই আরও পড়লি।

তারপর…

তোর চাকরি হল কত বড় অফিসে
মনে আছে খোকা? প্রথম মাসের মাইনে হাতে পেয়েই
তুই কত কী কিনে এনেছিলি?
তখন তো আমরা উঠে এসেছি শ্যামবাজারে।
দু’কামরার বেশ সাজানো ঘোচানো গোছানো বড় ফ্লাট।
তোর অফিস থেকেই তো দিয়েছিল।
সেই বাড়ি সেই ঘর সেই বেলকনি- কত স্মৃতি- কত ছবি!
ঐ বাড়িতেই তো
আশ্বিনের ঝড়ো বিকেলে- তোর মনে আছে খোকন?
তোর বাবা যেদিনটাতে চলে গেলেন- মনে আছে?
তুই বাবার বুকের ওপর পড়ে যখন কাঁদছিলি হাপুস নয়নে
সদ্য স্বামীহারা, আমি সেদিন তোর সেই অসহায় মুখ দেখে
আরো বেশি করে ভেঙ্গে পড়েছিলাম।
তোকে বুকে টেনে নিয়েছিলাম ছোটবেলার মত।
বলেছিলাম-
কাঁদিস না খোকা। আমিতো আছি।

আজ পয়লা শ্রাবণ
কলকাতা থেকে অনেক দুরে মফস্বলের এই বৃদ্ধাশ্রমে
আমি একেবারে একা, খোকন।
তোকে বড় দেখতে ইচ্ছে করছে রে।
তোকে, বৌমাকে আর ছোট্ট বিল্টুকে।
তোরা এখন কত দুরে-
সল্ট-লেকের মার্বেল বসানো ঝকঝকে বাড়িতে।
আজ তোর জন্মদিনের নিশ্চয়ই খুব বড় পার্টি হচ্ছে-
তাই নারে খোকন? লোকজন, হৈচৈ, খাওয়া-দাওয়া।
খুব ভাল, খুব ভাল।
খোকন, আজ পয়লা শ্রাবণ
আমার বড় মনে পড়ছে যাদবপুরের ভাঙ্গা ঘরে রাত্রে
তুই আমার পাশে শুয়ে মাঝে মধ্যে হঠাৎ খুব ভয় পেয়ে
জড়িয়ে ধরতিস আমাকে। আমি বলতাম, ভয় কী রে?
আমি তো আছি। মা তো আছে খোকনের। যার মা থাকে
তাকে কী ভুতে ধরে?
তুই নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তিস আমার বুক জুড়ে।
তোর আধুনিক সংসারে
এই বুড়িটার একটু ঠাই হল নারে?
প্রতিমাও তো মা। ওরও তো আছে আমার খোকনেরই মত
কোল আলো- করা এক চাঁদের টুকরো।
কিন্তু সময়ের কী আশ্চর্য পরিবর্তন!

খোকন!
তুই বোধহয় আর এখন পায়েস খাস না- তাই নারে?
তুই জানিস না খোকন
আজ আমি সকালে পায়েস রান্না করেছি। হ্যাঁ
তোরই পাঠানো টাকায়।
সারাদিন সেই পায়েসের বাটি সামনে নিয়ে বসে আছি রে।
এখানে এই বৃদ্ধাশ্রমে
আমার একলা ঘরে
আর কেউ নেই।
তুই একবার আসবি খোকন।
একবার.. শুধু
একবার।

*বৃদ্ধাশ্রম* *সন্তান* *মা* *একাকীত্ব* *অপেক্ষা*

আমিনুল ইসলাম: ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার, মস্ত ফ্ল্যাটে যায়না দেখা এপার ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী, সবচেয়ে কমদামী ছিলাম একমাত্র আমি। ছেলে আবার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম। আমার ব্যাবহারের ই সেই আলমারী আর আয়না, ওসব নাকি বেশ পুরোনো ফ্ল্যাটে রাখা যায়না। ওর বাবার ছবি ঘড়ি ছড়ি বিদেয় হলো তাড়াতাড়ি, ছেড়ে দিলো কাকে খেল পোষা বুড়ো ময়না। স্বামি স্ত্রি আর এলসেসিয়ান যায়গা বড়ই কম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম। নিজের হাতে ভাত খেতে পারতো না কো খোকা, বলতাম আমি না থাকলে রে কি করবিই বোকা। ঠোট ফুলিয়ে কাঁদতো খোকা আমার কথা শুনে, খোকা বুঝি আর কাঁদেনা নেই বুঝি আর মনে। ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখে ওঠতো খোকা কেঁদে, দুহাত দিয়ে বুকের কাছে রেখে দিতাম বেঁধে। দুহাত আজো খুঁজে ভুলে যায় যে একদম, আমার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম। খোকার ও হয়েছে ছেলে দু বছর হলো, আরতো মাত্র বছর পঁচিশ ঠাকুর মুখ তোলো। একশ বছর বাঁচতে চাই এখন আমার ষাট, পঁচিশ বছর পরে খোকার হবে ঊনষাট। আশ্রমের এই ঘরটা ছোট যায়গাও অনেক বেশী, খোকা আমি দুজনে যে থাকবো পাশাপাশি। সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি বিষন রকম, মুখোমুখি আমি খোকার বৃদ্ধাশ্রম, মুখোমুখি আমি খোকার বৃদ্ধাশ্রম

*বৃদ্ধাশ্রম*

সাদাত সাদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বছরখানেক আগের কথা 
বৃদ্ধাশ্রমে অচেনা এক মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ,  আচ্ছা এখানে কেমন লাগে বাড়ীর কথা কি কখনো মনে পড়ে?
তিনি উত্তর টা দেবার সময় কিছুটা সময় নিরব থেকে বললেন,  এখানে একদম ভাল লাগেনা, রাতে দুচোখে ঘুম আসেনা।  ছোট্ট খোকার কথা খুব মনে পড়ে,  কখনো তাঁকে ছাড়া বাহিরে থাকা হয়নি তো তাই
 : আপনার খোকা অনেক ভাল তাইনা?
জননী চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন,  হ্যা অনেক ভাল ওর মতো লক্ষি ছেলে কোথাও নেই।

একবার ভাবলাম বলবো, ছেলেটা এত ভাল তবে আপনি এখানে কেন?  পরক্ষণেই মনে হলো তিনি এম্নিতেই অনেক দুঃখী  ওনার দুঃখ আর দিগুন করার দরকার নেই।  আমার যা বোঝার তা ওনার অশ্রুজলে বুঝে গিয়েছি। ওনার খোকা আসলেই অনেক ভাল, তবে সেই দুঃখী মায়ের চোখে, বাস্তবে নয়। ওনার মতো এমন হাজারো মা বাবা আছেন বৃদ্ধাশ্রমে,  তাদের সবার চোখ হয়তো এমনই। 


 বৃদ্ধাশ্রমে যে সকল হতভাগা  মা বাবা আছেন তাদের কে দেখে খুব  কষ্ট হয় ।  এত কষ্ট বেদনা সহ্য করে ও কেন যে তাঁরা  নিজের সন্তানকে এত ভালবাসে।  হে প্রভু তাদের মনে একটু ঘৃণা দাও, যাতে ঘৃণা করতে শিখে। 

*বৃদ্ধাশ্রম* *মা* *বাবা* *মা-বাবা* *বেশব্লগ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★