বেশম্ভব

বেশম্ভব নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ছিলেন মু’আয়াদ আল-দিন আল-‘উরদি, নাসির আল-দিন আল-তুসি , কুতুব আল-দিন আল শিরাজি , সাদর আল-শারিয়া আল-বুখারি, ইবনে আল-শাতির , এবং আলি আল-কুশজি ।পঞ্চদশ শতাব্দীতে, তিমুরিয় শাসক সমারকন্দের উলাঘ বেগ তার দরবারকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার এক কেন্দ্রে পরিণত করেন। তিনি নিজে তার যৌবনে তা নিয়ে অধয়ন করেছিলেন, এবং ১৪২০ সালে একটি মানমন্দির প্রতিষ্ঠার আদেশ দেন, যা এক প্রস্থ নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানসংক্রান্ত সারণী তৈরি করে, সাথে সাথে অন্যান্য বৈজ্ঞানিক এবং গাণিতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

 

বেইজিং প্রাচীন মানমন্দিরের একটা অংশ।চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে ইসলামি প্রভাব সর্বপ্রথম লিপিবদ্ধ হয় সং রাজবংশের সময়ে যখন মা ইজ নামের একজন হুই মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী এক সপ্তাহে সাতদিনের ধারণা প্রবর্তন করেন এবং অন্যান্য অবদান রাখেন।মঙ্গোল সাম্রাজ্য এবং পরবর্তী ইউয়ান রাজবংশের সময় চীনে ইসলামি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিয়ে আসা হয়েছিল বর্ষপঞ্জিকা তৈরিতে এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করতে। ১২১০ সালে চৈনিক পণ্ডিত ইয়েহ-লু চু’সাই চেঙ্গিস খানের সঙ্গী হন পারস্য গমনে এবং মঙ্গোল সাম্রাজ্যে ব্যবহারের জন্যে তাদের দিনপঞ্জিকা নিয়ে অধ্যয়ন করেন। কুবলা খান বেইজিংয়ে ইরানিদের নিয়ে আসেন একটি মানমন্দির এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিদ্যার্জনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্যে।

মারাগেহ মানমন্দিরে বেশ কয়েকজন চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী কাজ করেছিলেন, ১২৫৯ সালে পারস্যের হুলাগু খানের পৃষ্ঠপোষকতায় নাসির আল-দিন আল-তুসি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এসব চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একজন ছিলেন ফু মেংচি, অথবা ফু মেজহাই।১২৬৭সালে ফার্সি জ্যোতির্বিজ্ঞানী জামাল আদ-দিন, যিনি আগে মারাগা মানন্দিরে কাজ করতেন, কুবলাই খানকে সাতটি ফার্সি জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত যন্ত্রসমূহ উপহার দেন, যেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল একটি ভূগোলক এবং একটি আরমিলেয়ারি গোলক, সেই সাথে একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত পঞ্জিকা, যা পরবর্তীতে চীনে ওয়ানিয়ান লি নামে পরিচিত হয় (“দশ হাজার বছরের বর্ষপঞ্জি” অথবা “চিরকালের বর্ষপঞ্জি)। চায়নায় তিনি “ঝামালুদিং” নামে পরিচিত ছিলেন, যেখানে, ১২৭১ সালে, তিনি খান দ্বারা বেইজিং-এ ইসলামিক মানমন্দিরের প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান,ইসলামিক জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভাগ নামে পরিচিত, যা চার শতাব্দী ধরে চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভাগের পাশাপাশি কাজ করেছিল। ইসলামিক জ্যোতির্বিজ্ঞান চীনে ভাল সুখ্যাতি অর্জন করে তার গ্রহসংক্রান্ত অক্ষাংশের তত্ত্বের কারনে, সেই সময়ে চৈনিক জ্যোতির্বিদ্যায় যার অস্তিত্ব ছিল না, এবং গ্রহণ সম্পর্কে তার নির্ভুল গণনার কারনে।তার কিছুদিন পরেই বিখ্যাত চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী গুয়ো শাউজিং কর্তৃক গঠিত কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি মারাগেহ’তে তৈরি যন্ত্রপাতির ধরণের অনুরূপ।বিশেষত, “সহজতর যন্ত্র” (জিয়ানি) এবং গাওচেং জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দিরের বিশাল গ্নমন ইসলামিক প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করে।১৮২১ সালে শাউশি বর্ষপঞ্জি তৈরি করার সময়, গোলকাকার ত্রিকোণমিতি নিয়ে রচনায় সম্ভবত কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিল ইসলামিক গণিত দ্বারা, যা কুবলার দরবারে সমাদরে গৃহীত হয়েছিল।এইসব সম্ভাব্য প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করে নিরক্ষসংক্রান্ত এবং গ্রহণের স্থানাঙ্ক রুপান্তরের একটি ছদ্ম-জ্যামিতিক ব্যাবস্থা, মূলগত স্থিতিমাপে দশমিকের প্রণালীবদ্ধ ব্যবহার, এবং গ্রহসমূহের চলনের অনিয়মিত হিসেবে ঘনের ক্ষেপকের প্রয়োগ।

মিং রাজবংশের ১৩২৮ সাল থেকে ১৩৯৮ সাল নাগাদ সম্রাট হংয়ু (রাজত্ব ১৩৬৮ সাল থেকে ১৩৯৮সাল নাগাদ,তার শাসনের প্রথম বছরে ১৩৬৮ সালে সাবেক মঙ্গোলীয় ইয়ুয়ানদের বেইজিং-এর জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানসমূহের হান এবং ও-হান জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞদের বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করেন নানজিং সদ্য প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মানমন্দিরের কর্মকর্তা হতে।

সেই বছরে মিং সরকার প্রথমবারের মত জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মকর্তাদের ঊর্ধ্ব রাজধানী ইয়ুয়ান থেকে দক্ষিণে আসার নির্দেশ জারি করে। তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ। পর্যবেক্ষণ এবং হিসেব পদ্ধতিতে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে, হংয়ু সম্রাট সমান্তরাল বর্ষপঞ্জি ব্যাবস্থা, হান এবং হুই অবলম্বন জোরদার করলেন। পরবর্তী বছরগুলোতে, মিং দরবার সাম্রাজ্যিক মানমন্দিরে বেশ কয়েকজন হুই জ্যোতির্বিদদের উঁচু পদে নিয়োগ দিলেন। তারা ইসলামিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর প্রচুর বই লিখলেন এবং ইসলামি ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিও প্রস্তুত করলেন।দুটো গুরুত্মপূর্ণ রচনা চাইনিজ ভাষায় অনুবাদের কাজ সম্পন্ন হয় ১৩৮৩ সালে জিজ ১৩৬৬ সালে,এবং আল-মাদখাল ফি সিন’আত আহকাম আল-নুজুম, জ্যোতিষবিদ্যার পরিচিতি ১০০৪সালে।

১৩৮৪ সালে, বহু উদ্দেশ্যপূর্ণ ইসলামি যন্ত্র প্রস্তুতির নির্দেশাবলীর উপর ভিত্তি করে একটি চাইনিজ এস্টোলোব প্রস্তুত করা হল নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য । ১৩৮৫ সালে উত্তরদিকের নানজিং-এ এক পাহাড়ে যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়।১৩৮৪ সালের দিকে, মিং রাজবংশের সময়, সম্রাট হংয়ু আদেশ করলেন চাইনিজ অনুবাদ এবং ইসলামি জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত সারণীসমূহের সংকলন করার, একটি কাজ যা পণ্ডিতগণ মাশায়িহেই, একজন মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী, এবং য়ু বোজং, একজন চাইনিজ বিদ্বান-কর্মকর্তা দ্বারা সম্পন্ন হয়েছিল। এইসব সারণী হুইহুই লিফা নামে পরিচিতি লাভ করল, যা চীনে ১৮শ শতক পর্যন্ত বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়, যদিও কিং রাজবংশ ১৬৫৯ সালে চৈনিক-মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ করে।মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়্যাং গুয়াংজিয়ান খ্রিস্টান ধর্মসঙ্ঘের সদস্যদের জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিজ্ঞানের প্রতি তার আক্রমণের জন্য পরিচিত ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা।

*ইসলাম* *ইতিহাস* *মধ্যযুগ* *জ্যোতির্বিদ্যা* *বেশটেক* *বেশম্ভব*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে মুসলিম দেশগুলো পেছনে পড়ে যাওয়ায় পাশ্চাত্য তাদের ভাগ্য নিয়ন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো মুসলমানের কাম্য হতে পারে না। আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি যেখানে একটি মুসলিম শিশু মুসলমানদের দুর্দিন ছাড়া আর কিছু দেখছে না। শুধু শিশু নয়, আবালবৃদ্ধবনিতা সবার মধ্যে এমন একটি ধারনা কাজ করছে যে, বিজ্ঞান মানেই ইউরোপ আর আমেরিকা। তাদের কাছ থেকে আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞান শিখতে হবে। কিন্তু আমাদের অনেকেই জানে না যে, মুসলমানরাই আধুনিক বিজ্ঞানের জন্মদাতা। আজকের এ অধ:পতিত মুসলমানদের পূর্বপুরুষেরা কয়েক শতাব্দি পর্যন্ত বিশ্বে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে গেছেন। আজকের আলোকিত বিশ্ব তাদের কাছে ঋনী। বর্তমান বিশ্ব সভ্যতা মুসলমানদের কাছে ঋনী। মুসলমানরাই বিশ্ব সভ্যতাকে রক্ষা করেছেন। এ ব্যাপারে মুসলিম ঐতিহাসিক মোহাইমিনি মোহাম্মাদের একটি উক্তি উল্লেখযোগ্য। তিনি তার 'গ্রেট মুসলিম ম্যাথমেটিশিয়ান' গ্রন্থের ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন, 'In the Byzantine and Persian empire were manifesly bent upon mutual destruction. Likewise, India was greatly divided. However, China was steadily expanding, the Turkish in central Asia were disposed to work in an accord with China. During this period, the world was saved by the rise of the Islamic civilization.'

অর্থাত, 'সপ্তম শতাব্দিতে পশ্চিম ইউরোপের পতন ঘটেছিল। অন্যদিকে বাইজাইন্টাইন ও পারস্য সাম্রাজ্য একে অন্যের ধ্বংস সাধনে ছিল সুস্পষ্টরূপে বদ্ধপরিকর। একইভাবে ভারত ছিল মারাত্মকভাবে দ্বিধাবিভক্ত। তবে দৃঢ়তার সঙ্গে চীনের সম্প্রসারন ঘটছিল। মধ্য এশিয়ায় তুর্কিরা চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী ছিল। এসময় ইসলামী সভ্যতার উত্থানে বিশ্ব রক্ষা পায়।'

পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে মুসলমানই একমাত্র জাতি যার রয়েছে সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য। জাতি তাদের মহত ব্যক্তিদের কীর্তিসমূহ সম্পর্কে এমনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যা সকল প্রকার সংশয় ও সন্দেহ থেকে মুক্ত। মুসলমানদের হোমারের এলিয়ড অথবা হিন্দুদের রামায়ন, মহাভারতের কল্পকাহিনীর প্রয়োজন নেই। কেননা এসব কল্পকাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়কর ও গৌরবোজ্জ্বল কাহিনীর বাস্তব উদাহরন তাদের ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে, অথচ ঐসব কল্পকাহিনীর মিথ্যাচারিতা ও অবিশ্বস্ততার ছোঁয়াও তাতে লাগেনি। মুসলমানদের ফেরদৌসীর শাহনামা অথবা স্পার্টাবাসীদের কল্পকাহিনীরও কোন প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের ইতিহাসের পাতায় পাতায় রয়েছে রুস্তম ও স্পার্টার ছড়াছড়ি। মুসলমানদের ন্যায়পরায়ন নওশেরওয়া বাদশাহ বা হাতেম তাঈর গল্পেরও কোনই প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের সত্য ইতিহাসের পাতায় পাতায় অসংখ্য হাতেম ও নওশেরওয়া বিদ্যমান। মুসলমানদের এরিস্টটল, বেকন, টলেমী বা নিউটনেরও কোনই প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের পূর্বপুরুষদের মজলিসে এমনসব দার্শনিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিদ্যমান রয়েছেন- যাঁদের পাদুকাবহনকেও উল্লিখিত যশস্বীগন গৌরবের কারন জ্ঞান করতেন।

 

 

 

কতই আক্ষেপ ও বিস্ময়ের ব্যাপার, আজ যখন বিশ্বের তাবত জাতি নিজেদেরকে বিশ্ব দরবারে সমুন্নত করার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, তখনও সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অধিকারী মুসলমানগন নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীন ও নির্বিকার। মুসলমানদের যে শ্রেনিটাকে অনেকটা শিক্ষিত ও সচেতন মনে করা হয়, তারাও তাদের বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রবন্ধাদিতে কোন মহত ঘটনার উদাহরন দিতে চান তখন মনের অজান্তেই তাঁদের মুখ ও কলম দিয়েও কোন ইউরোপিয়ান বা খ্রিষ্টান মনীষীর নামই নির্দ্বিধায় বেরিয়ে আসে। এক্ষেত্রে তার চেয়েও হাজার গুন উল্লেখযোগ্য কোন মুসলিম মনীষীর নাম তাঁদের জানা থাকে না। এ সত্যকে কে অস্বীকার করতে পারে যে, মুসলমানদের শিক্ষিত শ্রেনি বিশেষত নব্য শিক্ষিত শ্রেনির মুসলমানদের বক্তৃতা-বিবৃতি বা রচনাদিতে নেপোলিয়ান, হ্যানিবল, শেক্সপিয়ার, বেকন, নিউটন প্রমুখ ইউরোপীয় মনীষীর নাম যত নিতে দেখি, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, সালাহউদ্দিন আইয়্যুবী, হাসসান ইবনে ছাবিত, ফেরদৌসী, তূসী, ইবন রুশদ, বূ-আলী, ইবন সীনা প্রমুখ মুসলিম মনীষীর নাম ততো নিতে দেখা যায় না। এর একটি মাত্র কারন, আর তা হচ্ছে বর্তমান যুগে মুসলমানরা তাদের নিজ ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ ও নির্বিকার। মুসলমানদের এই অজ্ঞতা ও উদাসীনতার কারন হচ্ছে-

প্রথমত এমনিতেই অন্যান্য জাতির তুলনায় মুসলমানদের জ্ঞানস্পৃহা কম।

দ্বিতীয়ত, জ্ঞানান্বেষনের সুযোগ ও অবকাশও তাদের নেই।

তৃতীয়ত, সরকারি কলেজ ও মাদরাসাগুলো ইসলামী শিক্ষায়তনগুলোকে ভারতবর্ষে প্রায় অস্তিত্বহীন করে দিয়েছে।

চতুর্থত, মুসলমানদের যে শ্রেনিটিকে সাধারনত শিক্ষিত বলা হয়ে থাকে এবং মুসলমানদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় বলে গন্য করা হয় তাঁদের প্রায় সকলেই শিক্ষায়তনসমূহে লেখাপড়া করে এসেছেন - যেগুলোতে ইসলামের ইতিহাস পাঠ্যভূক্ত নয়, আর তা পাঠ্যভূক্ত থাকলেও ইসলামের ইতিহাস পদবাচ্য নয়-অন্য কিছু, অথচ তাকে ইসলামের ইতিহাস বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে এবং সেগুলোকেই মুসলিম সন্তানদের গোগ্রাসে গলধকরনে বাধ্য করা হয়। কলেজ থেকে ডিপ্লোমা হাসিল করার পর না জ্ঞানার্জনের বয়স বাকি থাকে আর না তার তেমন কোন অবকাশ বা সুযোগ থাকে। মোটকথা, আমাদের শিক্ষিত মুসলমানদেরকে সেই ইসলামের ইতিহাসের উপরই নির্ভর করতে হয় যা ইসলামের প্রতিদ্বন্দী ও শত্রুরা বিকৃত করে তাদের ইংরেজি পুস্তকাদিতে লিখেছে।

 

 

 

মুসলমানদের পূর্বে পৃথিবীর অন্য কোন জাতির এ সৌভাগ্য হয়নি যে, ইতিহাসকে একটা সঠিক ভিত্তির উপর রীতিমত একটা শাস্ত্ররূপে দাড় করাবে। তাঁদের কেউই তাদের পূর্বপুরুষদের সঠিক ইতিহাস রচনায় সমর্থ হননি। ইসলামের পূর্বে ইতিহাস রচনার মান যে কেমন ছিল বাইবেলের পৃষ্ঠাসমূহ বা রামায়ন মহাভারতের কাহিনীগুলো পাঠই তা উপলব্ধি করার জন্য যথেষ্ট। মুসলমানরা মহনবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস সংরক্ষন ও বর্ননায় যে কঠোর সতর্কতা ও নিয়মানুবর্তিতার স্বাক্ষর রেখেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তার কোন নযীর নেই। 'উসূলে হাদিস' ও 'আসমাউর রিজাল' এর মত শাস্ত্রগুলো কেবল হাদিসে নববীর হিফাযত ও খিদমতের উদ্দেশ্যে তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন। রিওয়ায়াত বা বর্ননাসমূহের বাছ-বিচার ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে সুদৃঢ় নীতিমালা তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন পৃথিবী তার সুদীর্ঘ আয়ুষ্কালে কোন দিন তা প্রত্যক্ষ করেনি।

মুসলমানদের ইতিহাস সংক্রান্ত সর্বপ্রথম কীর্তি হচ্ছে ইলম হাদিসের বিন্যাস ও সংকলন। ঠিক সেই নীতিমালার ভিত্তিতেই তাঁরা তাঁদের খলীফাগন, আমীর-উমরা ও সুলতানগন, বিদ্বজ্জন ও মনীষীগনের জীবন-চরিত লিপিবদ্ধ করেছেন। এসবের সমাহার হচ্ছে ইসলামের ইতিহাস। দু:খজনক যে, মুসলমানদের ইতিহাস হয় না পৃথিবীর জন্য এক অভাবিত, অভূতপূর্ব অথচ অপরিহার্য উপাদান। অন্যান্য জাতি যেখানে তাদের বাইবেল ও মহাভারত পৃভৃতিকেই তাদের গৌরবজনক 'ঐতিহাসিক' সম্পদ বলে বিবেচনা করতে অভ্যস্ত ছিল, তখন বিশ্বের মানুষ সবিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করল যে, মুসলমানরা খতীবের 'তারীখ' বা ইতিহাস গ্রন্থকে তাদের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থের আলমারী থেকে বের করে সরিয়ে রাখছে।

 

 

 

আজ ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদেরকে ইতিহাস শাস্ত্রের অনেক খুঁটিনাটি তত্ত্ব নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। মুসলমানরা তা দেখে অনেকটা হকচকিয়ে যান এবং পূর্ন আন্তরিকতার সাথে তাদের স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের একথাটিও জানা নেই যে, উত্তর আফ্রিকায় বসবাসকারী জনৈক স্পেনীয় আরব বংশোদ্ভূত মুসলমান ঐতিহাসিক ইবন খালদূনের ইতিহাসের ভূমিকা 'মুকাদ্দামায়ে তারীখ' -এর উচ্ছিষ্ট ভোগই গোটা ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বকে ইতিহাস শাস্ত্র সম্পর্কে এমনি জ্ঞানদান করেছে যে,

ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের সমস্ত ঐতিহাসিক গবেষনাকর্মকে ইবন খালদূনের মাজারের ঝাড়ুদারকে অর্ঘ্য-স্বরূপ বিনীতভাবে পেশ করা চলে। কিন্তু মুসলিম ঐতিহাসিকদের ইতিহাসকর্ম যে কত উঁচুমানের ছিল তা এ থেকেই অনুমিত হয় যে, মুসলিম বিজ্ঞজনের মজলিসে ইবন খালদূনের অনন্যসাধারন 'মুকাদ্দামা' বাদ দিলে তাঁর আসল ইতিহাসের তেমন কোন মূল্য নির্বিবাদে স্বীকৃত হয়নি।

ইবন হিশাম, ইবনুল আছীর, তাবারী, মাসউদী প্রমুখ থেকে নিয়ে আহমদ ইবন খাওন্দশাহ এবং যিয়াউদ্দিন বারনী পর্যন্ত বরং মুহাম্মদ কাসিম ফিরিশতা এবং মোল্লা বদায়ূনী পর্যন্ত হাজার হাজার মুসলিম ঐতিহাসিকের বিপুল গবেষনা কর্ম যে বিশালায়তন ভলিউমসমূহে সংরক্ষিত রয়েছে, এদের প্রত্যেকটি মুসলমানদের বিস্ময়কর অতীত ইতিহাসের এক একটি খন্ডচিত্র এবং এদের প্রত্যেকের লিখিত ইসলামের ইতিহাস এমনি উল্লেখযোগ্য যে, মুসলমানরা তা অধ্যয়ন করে অনেক শিক্ষনীয় বিষয়ের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত অাক্ষেপ ও পরিতাপের বিষয় যে, আজ শতকরা একজন মুসলমানও নিজেদের জাতীয় ইতিহাস জানার জন্য ঐসব মনীষীর রচনাবলী পাঠের এবং তার মর্ম উপলব্ধি করার সামর্থ্য রাখে না। অথচ সেই তুলনায় মিল, কার্লাইল, ইলিয়ট, গিবন প্রমুখের লিখিত ইতিহাস পাঠ করার এবং তার মর্ম উপলব্ধি করার মত যোগ্য মুসলমানের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

 

 

 

মুসলমানদের অবস্থা আজকের মতো এত শোচনীয় অতীতে ছিল না। তারা ছিলেন একসময় বিশ্বের প্রভূ। অতীত নিয়ে একটি মুসলিম শিশু গর্ব করতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকাকে লক্ষ্য করে বুক ফুলিয়ে সে বলতে পারে, আমরাও তোমাদের মতো ছিলাম। জ্ঞান-বিজ্ঞানে আমরা তোমাদের পেছনে নই। এমন কথা বলার পূর্বে তাকে জানতে হবে তার আত্মপরিচয়। নিজের জাতীয় পরিচয়। ইসলামের স্বর্নযুগের ইতিহাস প্রতিটি মুসলিমকে অহেতুক হীনমন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে। মহিমান্বিত সে যুগের আলোচনা সামনে সময়মত পর্যায়ক্রমে করার ইচ্ছে থাকলো। তার পূর্বে আসুন প্রাতস্মরনীয় ক'জন মুসলিমদের নামোচ্চরন করি। দেখি, যাচাই করি, এদের আমরা ইতিপূর্বে চিনতাম কি না-

রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভূগোলবিদ আল বিরুনী, আধুনিক চিকিতসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা, হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল আবিষ্কারক ইবনুন নাফিস, বীজগনিতের জনক আল খাওয়ারিজমি, পদার্থ বিজ্ঞানে শুন্যের অবস্থান নির্নয়কারী আল ফারাবি, আলোক বিজ্ঞানের জনক ইবনে আল হাইছাম, এনালাইটিক্যাল জ্যামিতির জনক ওমর খৈয়াম, সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধারকারী আল কিন্দি, গুটিবসন্ত আবিষ্কারক আল-রাজি, টলেমির মতবাদ ভ্রান্ত প্রমানকারী আল-বাত্তানি, ত্রিকোনমিতির জনক আবুল ওয়াফা, স্ট্যাটিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ছাবিত ইবনে কোরা, পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারনকারী বানু মূসা, মিল্কিওয়ের গঠন শনাক্তকারী নাসিরুদ্দিন তুসি, এলজাব্রায় প্রথম উচ্চতর পাওয়ার ব্যবহারকারী আবু কামিল, ল' অব মোশনের পথ প্রদর্শক ইবনে বাজাহ, এরিস্টোটলের দর্শন উদ্ধারকারী ইবনে রুশদ, ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিষ্কারক ইবনে ইউনূস, পৃথিবীর ব্যাস নির্নয়কারী আল-ফারগানি, পৃথিবীর প্রথম নির্ভুল মানচিত্র অঙ্কনকারী আল-ইদ্রিসী, বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের আবিষ্কারক আল-জাজারি, সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতার গতি প্রমানকারী আল-জারকালি, মানব জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রনেতা আবুল ফিদা, বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের অগ্রদূত ইবনে আল-শাতির, ভূগোল বিশ্বকোষ প্রনেতা আল-বাকরি, প্লানেটরি কম্পিউটার আবিষ্কারক আল-কাশি, বীজগনিতের প্রতীক উদ্ভাবক আল-কালাসাদি, প্রথম এশিয়া ও আফ্রিকা সফরকারী নাসির-ই-খসরু, অঙ্কনে ব্যবহৃত কম্পাসের উদ্ভাবক আল-কুহি, বিশ্ববিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতাসহ এরকম হাজারও প্রাত:স্মরনীয় মুসলিম ব্যক্তিত্বদের এ পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে যাদের অবদান বিশ্ব তার অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে যাবে। বিশ্ব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে যাদের অবদান চিন্তা করলে বিধর্মী পন্ডিতগন পর্যন্ত শ্রদ্ধা-সম্মানে মস্তক অবনত করে দেন।

অধ্যাপক জি. সারটন তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য হিস্টোরি অব সায়েন্স' -এ লিখেছেন, 'It will suffice here to evoke few glorious names without contemporary equivalents in the West: Jabir ibn Haiyan, Al-Kindi, Al-Khwarizmi, Al-Fargani, Al-Razi, Thabit ibn Qurra, Al-Battani, Hunain ibn Ishaq, Al-Farabi, Ibrahim ibn Sinam, Al-Masudi, Al-Tabari, Abul Wafa, Ali ibn Abbas, Abul Qasim, Ibn Al-Jazzari, Al-Biruni, Ibn Sina, Ibn Yunus, Al Kashi, Ibn Al-Haitham, Ali Ibn Al-Ghazali, Al-Zarqab, Omar Khayyam. A magnificent array of names which it would not be difficult to extend. If anyone tells you that the Middle Ages were scientifically sterile, just quote these name to him, all of whom flourished within a short period, 750 to 1100 A.d.'

অর্থাৎ 'এখানে মুষ্টিমেয় কিছু নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে। সমসাময়িককালে পাশ্চাত্বে তাদের সমতুল্য কেউ ছিল না। তারা হলেন:

জাবির ইবনে হাইয়ান, আল-কিন্দি, আল-খাওয়ারিজমি, আল-ফারগানি, আল-রাজি, ছাবিত ইবনে কোরা, আল-বাত্তানি, হুনাইন ইবনে ইসহাক, আল-ফারাবি, ইবরাহীম ইবনে সিনান, আল-মাসউদি, আল-তাবারি, আবুল ওয়াফা, আলী ইবনে আব্বাস, আবুল কাসিম, ইবনে আল-জাজারি, আল-বিরুনি, ইবনে সিনা, ইবনে ইউনূস, আল-কাশি, ইবনে আল-হাইছাম, আলী ইবনে ঈসা আল গাজালি, আল-জারকাব, ওমর খৈয়াম। গৌরবোজ্জ্বল নামের তালিকা দীর্ঘ করা মোটেও কঠিন হবে না। যদি কেউ আপনার সামনে উচ্চারন করে যে, মধ্যযুগ ছিল বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অনুর্বর তাহলে তার কাছে এসব নাম উল্লেখ করুন। তাদের সবাই ৭৫০ থেকে ১১০০ খৃস্ট সাল পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত সময়ে বিশ্বকে আলোকিত করেছিলেন।'

 

 

 

কিন্তু আফসোস, আজকের মুসলিম সন্তানরা বিশ্ব সভার আলোকিত মুকুটধারী এই মহা মনীষীদের অবদানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে থাকেন। কিংবা ইতিহাস না জানার কারনে, মূর্খতার আস্ফালনে স্বজাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্মন্ধে অজ্ঞই থেকে যান তারা। আর এ অজ্ঞতাই তাদের হীনমন্যতার কারন। ভুলে গেলে চলবে না, হীনমন্যতা এমনি দূরারোগ্য এক ব্যধি যে, একটি জাতিকে অকর্মন্য, অথর্ব আর আবর্জনাতুল্য হীন জাতিতে পরিনত করার জন্য এরচে' বড় কোন অস্ত্র নেই।

অফটপিক: এই পোস্টটি প্রিয় ব্লগার রাজীব নূরকে শুভেচ্ছাসহ। তার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই বিষয়ে লেখার কথাটা মাথায় আসে। চেষ্টা থাকবে, ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি পর্বে এই পোস্টটিকে কন্টিনিউ করার। সকলের কল্যান হোক।

তথ্যসূত্র:

১। উইকিপিডিয়া।

২। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ অনূদিত ও প্রকাশিত ইসলামের ইতিহাস, মাওলানা আকবর খান নজিবাবাদী।

৩। Shornojuge Muslim Bigganider Abishkar - Shahdat Hossain Khan

৪। অন্যান্য।

*বিজ্ঞান* *মুসলমান* *ইতিহাস* *গৌরবউজ্জ্বল* *ইবনে-সিনা* *বেশটেক* *বেশম্ভব*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বর্তমানে ক্যামেরা সম্পর্কে ধারনা নেই এমন মানুষ খুব কম।যেকোন মোবাইল অথবা ক্যামেরা কিনতে গেলে আমরা কত কিছুই না দেখি।কিন্তু আপনার চোখ যার অনুকরণে ক্যামেরা তৈরি জানেন কি,বাজারের যেকোন মোবাইল অথবা ক্যামেরার চাইতে কতটা উন্নত অথবা কতটা খারাপ???
চলুন ছোট্ট একটি উদাহরণের মাধ্যমে জেনে নিই আপনার চোখের মান।

মনে করুন,আপনার ক্যামেরা ৯০ডিগ্রি পর্যন্ত সকল দৃশ্য স্পষ্ট ধারন করতে পারে।
সে অনুযায়ী আপনার ক্যামেরার পিক্সেল=
৯০*৯০*৬০*৬০/(০.৩*০.৩)পিক্সেল
=৩২৪০০০০০০পিক্সেল
=৩২৪মেগাপিক্সেল।
এখানে ০.৩হচ্ছে arc minute (এক ডিগ্রির ৬০ভাগের এক ভাগকে আর্ক মিনিট বলে)।
৯০হচ্ছে peripheral vision যার অর্থ আপনার লেন্স কতটুকু জায়গা ফোকাস করতে পারে তার ক্ষমতা।
৬০কে বৃত্তীয় পদ্ধতিতে কোণের একক হিসেবে ধরা হয়েছে।

এবার আসুন আপনার চোখের মেগাপিক্সেল নির্ণয় করি।
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ তার সামনে ঘটে যাওয়া ১২০ডিগ্রি পর্যন্ত যেকোন কিছু সম্পুর্ণ স্পষ্ট দেখতে পায়।
সুতরাং,একজন সুস্থ মানুষের চোখের পিক্সেল =
১২০*১২০*৬০*৬০/(০.৩*০.৩)পিক্সেল
=৫৭৬০০০০০০পিক্সেল
=৫৭৬মেগাপিক্সেল

অর্থ্যাৎ আপনার চোখ ৫৭৬মেগাপিক্সেল ক্যামেরার সমান। কল্পনা করতে পারেন???বাজারে যেকোন ক্যামেরার চাইতে কয়েকগুণ বেশি।
শুধু তাই নয়,মানুষের চোখ উপরনিচে প্রায় ১৩৫-১৪০ডিগ্রি এবং দুই পাশে প্রায় ২০০ডিগ্রি পর্যন্ত দেখতে পারে।

সুতরাং এবার যদি কোন "ব্যাটারি পাবলিক"(চোখে সমস্যা আছে)এমন কেউ তার ক্যামেরা নিয়ে বড়াই করে আপনি,আপনার চোখ নিয়ে বড়াই করুন।

এবার আসুন,আপনার চোখের সম্ভাব্য দাম জেনে নিই।
যেকোন কিছুর মান নির্ণয় করা হয়,উক্ত বস্তুর ফিচারের উপর ভিত্তি করে।মান যত ভালো তার দামও তত ভালো।

সুতরাং,দেখে নিন এক নজরে আপনার চোখের ফিচার:

resolution:576megapixel
bit depth:7.5 bits per second.
frames per second:1000
shutter speed:1/100-1/200
dymaic range:10-14stops
crop factor:X.05
focal length:17mm
angel of view:180degree
ISO:=1000 camera.

একমাত্র ক্যামেরা পাগলা ছাড়া আর বেশিরভাগ মানুষেরই তথ্যগুচ্ছ মাথার উপ্রে দিয়া গেছে।(এমনকি আমারোও)। উক্ত ফিচারের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ক্যামেরা কোম্পানি এবং কিছু বিজ্ঞানী মানুষের চোখের যে দাম নির্ধারণ করেছে তা শুনার পর নিশ্চিত আপনি আপনার এক চোখ বিক্রির জন্য দোকানে দৌড় দিবেন ।আর সেটাই স্বাভাবিক।কারণ বিজ্ঞানীরা আপনার চোখের দাম নির্ণয় করেছে :
(35,268,799)$ dollar
বাংলাদেশি টাকায় যার মুল্য প্রায়
(২৮২,১৫,০৩৯২০)টাকা মাত্র। এই টাকার শেষেও যদি মাত্র লেখা লাগে তাহলে কেমন লাগে??? (এক ডলার=৮০টাকা ধরে)

সূত্রঃ https://www.premiumbeat.com/blog/if-the-human-eye-was-a-camera-how-much-would-it-cost/

*বিজ্ঞান* *চোখ* *বেশম্ভব* *মেগাপিক্সেল* *দাম* *সৃষ্টি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মহাবিশ্বের সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক মজার মজার ঘটনা যা হয়ত অনেকেরই অজানা। গত পর্বগুলোর ধারাবাহিকতায় অাজকের পর্বেও থাকছে কিছু মজার ঘটনা। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সেই ঘটনাগুলো।
১) এটা সবাই জানি যে একটি ফোটনের গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। সেই হিসেবে একটি ফোটনের সূর্য থেকে পৃথিবীতে অাসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। কিন্তু অাপনি কি জানেন এই ফোটনটির সূর্যের কেন্দ্র থেকে তার পৃষ্ঠে অাসতে কত সময় লেগেছে? শুনলে রীতিমত চমকে উঠবেন। একটি ফোটনের সূর্যের কেন্দ্রে উৎপন্ন হয়ে সূর্যের পৃষ্ঠে পৌছতেই সময় লাগে প্রায় ১০,০০০ থেকে ১,৭০,০০০ বছর!!! তারপর এটি প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডে পৃথিবীতে পৌছায়। সূর্যের কেন্দ্রে উৎপন্ন হওয়ার পর ফোটনগুলো সূর্যের প্লাজমা দ্বারা শোষিত হয় এবং অাবার নিন্মশক্তিতে বিকিরিত হয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যা বার বার ঘটতে থাকে, হাজার হাজার এমনকি লক্ষ বছর ধরে। যার ফলে ফোটনের সূর্যের পৃষ্টে পৌছতে এত সময় লাগে।

 

২) অামাদের কাছে ফোটনের গতিবেগ অনেক বেশি মনে হলেও মহাবিশ্বের বিশালতার কাছে তা খুবই সামান্য। উদাহরণস্বরূপ, একটি ফোটন কণার অামাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌছতে প্রায় ১ লক্ষ বছর সময় লাগে! শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে বিজ্ঞানীরা শত শত কোটি অালোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রও পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। মজার বিষয় হলো টেলিস্কোপে নক্ষত্রগুলোর যে চিত্র ধরা পড়ে তা কিন্তু শত শত কোটি বছর অাগের। বর্তমান রূপটি অামাদের কাছে অজানাই। এই দৈর্ঘ্য সময় ফোটনগুলো মহাবিশ্বের দৈর্ঘ্য পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে পৃথিবীতে পৌছছে। প্রতিটি নক্ষত্রের ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটে, শুধু দূরত্বের তারতম্য রয়েছে। কাজেই প্রতি রাতে অামরা নক্ষত্রসজ্জিত যেই সুন্দর অাকাশটি প্রত্যক্ষ করি, তা অতিতের প্রতিচ্ছবি মাত্র।

*জানা-অজানা* *বেশম্ভব* *বেশটেক* *মহাবিশ্ব* *ফোটন* *সূর্য*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইতিহাসবিদগণের মতে যা গ্রহণযোগ্য তা হলো পাঁচ হাজার বছর আগে ঢাকার কাছে দুগ্ধজাত মিষ্টির আবির্ভাব ঘটে। ইতিহাসের সেই ধারায় আজও বলা হয় বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনীর হাটে মেলে খাঁটি মিষ্টি। মিষ্টি এখন দেশজুড়ে। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মিষ্টির দোকান নেই।
বাঙালী সংস্কৃতির মিষ্টিপ্রীতি প্রবাদপ্রতিম। ঘরে বাইরে মুখে যে কোনভাবেই হাসির রেখা ফুটে উঠতেই মিষ্টির আগমনী বার্তা এসে যায়। ঐতিহ্যের এমন মিষ্টি সংস্কৃতি অন্য কোথাও নেই। আর সন্দেশের কথাই আলাদা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সন্দেশের আভিধানিক অর্থ ‘সংবাদ’ (নিউজ, ইনফরমেশন, মেসেজ, রিপোর্ট)। ‘ডেলিশিয়াস সুইটমিট মেড বাই পোসেট’ এ অর্থটি আছে অনেক পরে। হিন্দি ভাষাতেও সংবাদকে বলা হয় সন্দেশ। সেই সন্দেশ কি করে জিভেয় জল আসা মিষ্টান্ন হয়ে গেল এর ব্যাখ্যা পাওয়া বেশ কঠিন। পৌরাণিক কাহিনীতে উল্লেখ আছে কয়েক হাজার বছর আগে গোয়ালারা গাভীর দুধ দুইয়ে সংরক্ষণ করার পর খার হয়ে গেলে তা দিয়ে খারখন্দ বানাত। সেই খারখন্দই শক্ত মিষ্টি হয়ে সন্দেশে পরিণত হয়। বাঙালীর মিষ্টি প্রীতির ধারায় একটা সময় সন্দেশ থেকেই তৈরি হতে থাকে নানা জাতের মিষ্টি। অষ্টাদশ শতকে চিনির সিরায় ছানার মিষ্টি চুবিয়ে রেখে তৈরি হয় রসগোল্লা। কারও বর্ণনায় এসেছে রসগোল্লা মিষ্টির রাজার আসনে বসেছে। বাকিগুলো মন্ত্রী, উজির, নাজির, পাইক ও পেয়াদা। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো মিষ্টি হিসেবে এসেছে লাড্ডুর নাম। কেউ বলেন ভারতবর্ষে প্রায় তিন হাজার বছর আগে এসেছে মতিচুরি লাড্ডু। বেসন দিয়ে ক্ষিরের মতো দানাদার করে বুন্দিয়া বানাবার পর শক্ত গোলাকৃতি করে যা হয় তাকেই বলা হয় মতিচুরি লাড্ডু। এ লাড্ডু ছিল মুঘলদের প্রিয়। এখনও লাড্ডুর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে আছে দিল্লী। হিন্দী প্রবাদে আছে “দিল্লী কা লাড্ডু জো খায়া ওভি পাস্তায়া জো নাহি খায়া ওভি পাস্তায়া।” উৎসব পার্বণ আনন্দের খবরে আনুষ্ঠানিকতায় মিষ্টি নিয়ে এত যে মাতামাতি এ মিষ্টির প্রকৃত উপাদান ছানা উপমহাদেশে তৈরি করা শিখিয়েছে পর্তুগীজরা। প্রাচীন আমলে কোন এক সময়ে দুধের ছানা ছিল পরিত্যাজ্য। ফেলে দেয়া হতো। বৈদিক যুগে দুধ থেকে তৈরি খাবার ছিল পৌরাণিক ধারার অংশ। উপমহাদেশের প্রখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী অনুপ জালোটার কণ্ঠে ননী, মাখন ও ছানার গল্প নিয়ে ভজন আছে। পর্তুগীজদের পর বাঙালীরাই ছানা থেকে একের পর এক দুগ্ধজাতীয় খাবার বানাতে থাকে। শুরুতে এদের বলা হতো হালুইকর। পরে ময়রা। আজও এই নামেই তারা পরিচিতি। বঙ্গদেশে ঠিক কত বছর আগে ময়রারা মিষ্টির ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছিল তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। তবে এখন পর্যন্ত এত মিষ্টির মধ্যে সন্দেশের আভিজাত্য আলাদা। বলা হয়, ছানা আবিষ্কারের আগেই সন্দেশ তৈরি হয়। প্রাচীন আমলে বেসন, নারিকেল, মুগ ও বুটের ডালের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে সন্দেশ বানানো হতো। কালের পরিক্রমায় দুধ ফেটিয়ে ছানা বানিয়ে, ক্ষির দিয়েও তৈরি হয় সন্দেশ। নারিকেলের সঙ্গে চিড়া মিশিয়ে ক্ষিরের প্রলেপেও তৈরি হয়। একটা সময় গ্রামে কোজাগরি পূর্ণিমার রাত উপভোগ করতে উঠানে বসে গীত গাওয়ার পর সন্দেশ খাওয়ার রীতি ছিল। এই রাতে প্রণয়কে পাকাপোক্ত করতে প্রেমিক-প্রেমিকারা সন্দেশ আপ্যায়ন করত। হলুইকরদের পেছনে ফেলে বাঙালী ময়রারা ছানা দিয়ে কত ধরনের সন্দেশ বানানো যায় তার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। নরমপাক, কড়াপাক, শক্তপাক, কাঁচাগোল্লা, চন্দনসহ এমন সব সন্দেশ বানাতে থাকে যার স্বাদ দেশী-বিদেশী মিষ্টিপ্রেমীদের মুখে লেগে থাকে। এরপর ঋতুভিত্তিক সন্দেশও তৈরি হতে থাকে। গ্রীষ্মের সন্দেশ, শীতের সন্দেশ, শরতের সন্দেশ কতই সন্দেশ! এর মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলে শীতের সময়ে পাটালি গুড়ের সন্দেশ আরেক মাত্রা যোগ করে। এত বৈচিত্র্যের সন্দেশ দেখে ও খেয়ে মিষ্টিবিলাসীরা বলতে থাকে এরই নাম বাঙালী ময়রা। একবিংশ শতকে সন্দেশের অগ্রযাত্রা থেমে নেই। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ মিষ্টির প্রতিষ্ঠান বগুড়ার এশিয়া সুইটস দশ রকমের সন্দেশ তৈরি করছে। এদের উল্লেখযোগ্য সন্দেশ হলো, ক্ষির কদম, মনময়ূরী, ইলিশপেটি, প্রাণহারা ও পদ্মসন্দেশ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীদের একজন টুটুল জানালেন, দেশের বিভিন্নস্থান থেকে সন্দেশের ভাল কারিগর আনেন। উন্নতমানের সন্দেশ বিক্রি করেন তাঁরা। এদিকে রসে টইটুম্বুর বাঙালীর রসগোল্লার বৈচিত্র্য কম নয়। রসগোল্লার পুরনো নাম গোপাল গোল্লা। গোপালকে সিরায় ডুবিয়ে হয়েছে রসগোল্লা। এর চারধারে ভিড় করে থাকে পানতোয়া, চমচম, কালোজাম, রসমালাই, রসমঞ্জুরি ও ম-া ইত্যাদি। হালে স্পঞ্জের রসগোল্লা সুনাম কুড়িয়েছে। ইতিহাস বলে ভারতবর্ষের প্রথম দিকের গবর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংয়ের বাসভবনে মিষ্টির স্বাদ দিতে গেলে লর্ডের স্ত্রীর নামেই একটি মিষ্টি বানায় ময়রা। নাম দেয়া হয় লেডিকেনি। বাঙালীর মিষ্টিপ্রেমের কথা ফুরাবে না। আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গেলে এখনও মিষ্টি নেয়া হয় প্যাকেটে করে। আগে নেয়া হতো মাটির হাঁড়িতে করে। মিষ্টির যে কত শ্রেণীভাগ তার ইয়ত্তা নেই। অঞ্চলবিশেষে একেক মিষ্টির খ্যাতিও আছে। হালে বগুড়ার সরার দই ও যশোরের খেজুরের সন্দেশ মিষ্টি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যে জায়গারই মিষ্টি হোক উৎসবে- পার্বণে আনন্দে মিষ্টিমুখ না করালে বাঙালীর আনন্দের ও আতিথ্যের ষোলোকলা পূর্ণ হয় না। মিষ্টির জায়গায় বড় আসন করে নিচ্ছে সন্দেশ। শিশু-কিশোরদের জ্ঞানের ভা-ারে মন যোগাতে এক শ’ বছর আগে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী প্রকাশ করেছিলেন সন্দেশ নামের সাহিত্য পত্রিকা। সেই সন্দেশ আর মিষ্টির সন্দেশের অগ্রযাত্রা থেমে নেই।—সংগ্রহীত

*মিষ্টি* *বিক্রমপুর* *ইতিহাস* *বেশম্ভব* *সংগৃহিত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সামসুর মাথায় বিশাল জট পেকে আছে। যাকে বলে একদম মেয়েদের চুলের মত জট পাকা।
.
তাই সে বাথরুমের কমোডে গিয়ে বসে রইল। এটা তার অভ্যাস। যেকোন চিন্তা সে রুমে বসে করতে পারে না, তার বাথরুমে যেতে হয়।
.
এটা তার প্রায় ছোট বেলা থেকেই অভ্যাস।
.
ছোট বেলায় একবার সে পাশের ঘরের মঞ্জুর সাথে মারামারি করে, তার লুঙ্গি খুলে দিয়ে আসছিলো। সে এক গুরুতর অপরাধ। এটা নিয়ে মঞ্জুর মা বাবা বিচার নিয়ে আসছে। সে তখন ভয়ে বাথরুমে লুকাইছিল। এর মুক্তির উপায় খুজতে ছিল। এবং কি এক অলৌকিক ভাবে সে এই গুরুতর সমস্যার সমাধানও বের করে ফেলছে।
.
সেই থেকে তার এই বাথরুমের কমোডের উপর বিপুল আস্থা।
.
এবারের চিন্তার বিষয়টা আগের সব গুলা সমস্যার চাইতে বেশি জটিল। মেয়েঘটিত সমস্যা। যা সবসময়ই একটু জটিল হয়ে থাকে।
.
সামসু বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সমস্যাটা নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিল। কিন্তু সেখানে যা দেখলো তাতে তার মনে হলো এটা দেখার আগে ম্যানহোলে পড়ে আত্মহত্যা কেন করলো না।
.
যাই হোক, ঘটনাটা শুরু থেকেই বলি সে তার বাসার ছাদ থেকে পাশের বাসার ছাদে দাঁড়ানো এক মেয়েকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়েছিল।
.
কয়েকদিন যাবতই সে এই মেয়েকে দেখতে ছিল। সে একটা ইংরেজি বইতে পড়েছিল মেয়েদেরকে এইভাবে ফ্লাইং কিস দিলে মেয়েরা পটে যায়। কিন্তু সামসু সাব এইটা বুঝে উঠতে পারে নাই যে এটা ইংরেজদের দেশ না।
.
কিন্তু কিস ছুঁড়ছে ওইটা কোন প্রব্লেম না। প্রবলেম হচ্ছে সে ওই মেয়েটাকে কিস ছুঁড়ে নাই যেটাকে সে আগের দিন দেখেছিল।
.
.
.
.
সীমার অভ্যাস প্রতিদিন কিছু সময় ছাদে কাটানো। ভালোই লাগে। কিন্তু তার বাবার জন্য পারে না। সীমার কাছে তার বাবা একটা অদ্ভুত মানুষ। তার কিছু কিছু কাণ্ডকারখানা দেখলে সীমার মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়।
.
এই যেমন তাদের পরিবারের সকল মেয়ে সদস্যের জামা একরকম। তার মায়ের যেই রকম জামা ঠিক সেইম তার নিজেরও সেইরকম জামা, এবার তার বড় বোনেরও সেই রকম জামা।
.
এটা নিয়ে প্রতিবার জামা কিনার সময় তার বাবার সাথে ঝামেলা হয়। কিন্তু শেষে দেখা যায় ঠিকই সবাই একরকম জামাই কিনছে। কারন তারা তাদের বাবার মলিন মুখ দেখতে পারে না।
.
ইদানীং সে ছাদে উঠলে একটা ছেলেকে দেখে, পাশের বাসায়ই থাকে। সীমা বুঝতে পারে ছেলেটা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সে পাত্তা দিল না এতো।
.
পরদিন তার মা সে যেই কালারের জামা পড়েছে সেই কালারের জামা পড়ে ছাদে গেল।
.
আহ!! কি সুন্দর বাতাস, মনে মনে এই সব ভাবতে ভাবতে সীমার মা ঘুরে পাশের ছাদের দিকে তাকাতেই প্রথমে শিহরিত তারপর বিস্মিত, তারপর হতচকিত, অতঃপর রাগান্বিত হল।
.
.

.
.
সামসু কিস ছুঁড়ার পরমুহূর্তেই লক্ষ্য করলো চরম ভুল হয়ে গেছে। এটা তো সেই মেয়ে না, এ তো মেয়েটার মা।
.
কিন্তু বন্দুকের গুলি যেমন ছোঁড়ার পর এর ফেরানো যায় না, ঠিক এইটাও আর ফেরানো যাবে না।
.
আর এই কারনেই সামসু বাথরুমে বসে বসে এটার সমাধান খুঁজছে। কারন সে শুনেছে ওই মহিলার বড় ছেলে নাকি বড় গুন্ডা, নক কাঁটা বদরুল। সে সবার নক কেটে দেয়।
.
সামসু আবার বড় শখ করে তার নক গুলা বড় করছে। এখন যদি তার সব গুলা নক কেটে দেয় তাহলে তো সে হার্টফেল করেই মারা যাবে।
.
সে এক বিশাল ক্রাইসিস।

*সামসু* *রসিকতা* *ফ্লাইংকিস* *কমোড* *জোকস* *বেশম্ভব*
ছবি

খুশি: ফটো পোস্ট করেছে

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

#ভিডিও_কলে আমেরিকান'রা যে ভাবে কথা বলে- - Hi...Honey....!! How are you..?? Miss you so much ..!! You are looking so cute
আর আমরা বাঙ্গালীরা যেভাবে কথা বলি- . - হ্যালো.... হ্যাঅ্যালো... হ্যাঅ্যাঅ্যালো....!! কি রে দেখা যায়..? কি দেখা যায় না..?? আরে আমি তো তোরে দেখি, তুই দেখছ না ক্যা...?? হ্যালো...আরে শালার নেটওয়ার্ক স্লো...!! হ্যালো....হ্যালো..... হ্যা এইবার ঠিক আছে ,আরে নড়াচড়া কম করতে পারছ না...!! . .হ্যালোওওও...... . আচ্ছা এখন রাখিরে,আম্মা খাইতে ডাকে, পরে কথা কমুনে..
*বেশম্ভব*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

আসেন কোলাকুলি করি(কোলাকুলি)

(কোলাকুলি)(কোলাকুলি)(কোলাকুলি)

*বেশম্ভব* *ফটোরঙ্গ*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

(শয়তানিহাসি)(শয়তানিহাসি)(শয়তানিহাসি)(শয়তানিহাসি)(শয়তানিহাসি)
অসম্ভব কে সম্ভব করা ট্রাম্প এর কাজ। অনন্ত জলিলের নয়।
*বেশম্ভব*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

খাঁটি কথা!(শয়তানিহাসি)
ইতিহাস ঘেটে দেখতে পারেন তাসকিন,সাব্বিরদের উপর মেয়েরা গণহারে ক্রাশ খেলেও আমরা ছেলেরা বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের সালমা, রুমানাদের উপর কখনো ক্রাশ খাইনি - কারণ, আমরা ছেলেরা সহজে ক্রাশ খাইনা আমাদের ক্রাশ এতো সস্তা না যে,ডেইলি ক্রাশ খাবো...
*ক্রাশ* *বেশম্ভব*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

খাঁটি কথা

একেবারে খাঁটি কথা(ভালো)

*বেশম্ভব*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

(গুরু)(গুরু)(গুরু)ধন্যবাদ আবার আসবেন(গুরু)(গুরু)(গুরু)

স্যালুট আপনাদের বাংলাদেশে আসার জন্য

*বেশম্ভব* *ফটোরঙ্গ* *ক্রিকেটফান* *ক্রিকেটরঙ্গ*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

(আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি)ওরে তোরা কে কোথায় আছিস বাদ্য বাজা(আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি)

বাংলার নবাব মিরাজ-উদ-দৌলা সোর্স: এটম

*বেশম্ভব* *ফটোরঙ্গ* *ক্রিকেটফান*
ছবি

খুশি: ফটো পোস্ট করেছে

রিয়েল ফ্যাক্ট!

অন্যায়= অন্য আয়

*বেশম্ভব* *অন্যায়*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

ভাল্লাগছে(শয়তানিহাসি)

বোঝো নাই ব্যাপারটা?

*বেশম্ভব*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

শুধুমাত্র কোম্পানির প্রচারের জন্য(শয়তানিহাসি)

দাম মাত্র ১০০ টাকা কোন দামাদামি চলবে না...

*বেশম্ভব*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

নাসির কেন পানি টানবে(প্রশ্ন)(প্রশ্ন)(প্রশ্ন)(প্রশ্ন)

নাসির কে দলে চাই!

*বেশম্ভব*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

ক্রিকেটাররা কে কেমন(শয়তানিহাসি)

(চিন্তাকরি)(চিন্তাকরি)(চিন্তাকরি)

*বেশম্ভব* *ক্রিকেটরঙ্গ* *বাংলাদেশ-না-ইংল্যান্ড*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★