বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

বৈজ্ঞানিক-কল্পকাহিনী নিয়ে কি ভাবছো?

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে


ঝামেলাক্কা
(বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী)
----কাজী আবদুল হালিম।

পৃথিবী থেকে জাহাজটা এসে নামার কয়েক ঘণ্টা পরে আমি জীপ নিয়ে মঙ্গল বন্দরে গেলাম। বছর খানেক ধরে তাগাদা দিচ্ছি হীরেমুখী ড্রিলের জন্যে। এবারে আসার কথা। আর কেউ নিয়ে নেয়ার আগেই আমি সেগুলো হস্তগত করতে চাই। অবশ্য এখানে যে কেউ যে কোনো জিনিস চুরি করে নিতে অভ্যস্ত এমন কথা আমি বলছি না। মঙ্গলগ্রহে আমরা যারা আছি তারা সকলেই নেহায়েত ভদ্রলোক এবং বৈজ্ঞানিক। কিন্তু যন্ত্রপাতি পাওয়া খুবই মুশকিল। তাই যা প্রয়োজন তা আগে এসে অধিকার করে নেয়ার রীতি আমরা সবাই মেনে চলি।

জিনিসগুলো আমার জীপে তুলতে না তুলতেই খনি-বিভাগ থেকে কার্টার স্মিথ এসে হাজির। ‘জরুরী চাহিদা’ সীল লাগানো ডাইরেক্টর গরকির সই দেয়া অনুমতিপত্র হাতে নিয়ে। আমার অতিজরুরী চাহিদাটা দেখে স্মিথ এমন ভদ্রভাবে ব্যাপারটা মেনে নিলো যে আমি নিজে থেকেই চারটে ড্রিল দিয়ে দিলাম।

স্কুটার চালিয়ে লাল ধূলো উড়িয়ে দিগন্তের দিকে রওয়ানা হলো স্মিথ। সেদিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম। লাল বালিয়াড়িতে ভরা মঙ্গল-মরুভূমি বিছিয়ে রয়েছে সামনে। এ দৃশ্য রঙিন ছবিতে অদ্ভুত সুন্দর দেখায়। কিন্তু লাল বালু মঙ্গলে বসবাসরত মানুষদের সবচেয়ে বড় শত্রু। বিশেষ করে আঠার মতো আটকে থেকে ইঞ্জিন অচল করে দেয়াতে এর জুড়ি নেই।

পৃথিবীথেকে আসা কার্গো জাহাজটার দিকে এগিয়ে গেলাম। মহাশূন্যযান দেখার অনুসন্ধিৎসা নিয়ে নয়, নেয়ার মতো আরো কিছু আছে কিনা, তাই খুঁজতে।

ঠিক সেই সময়েই দেখতে পেলাম ‘ঝামেলাক্কা’টাকে।

জাহাজটার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। গোলআলুর মতো বড়বড় চোখ। হা করে তাকিয়ে দেখছিলো চারিদিক। মুখের ভাবটা যেন বলছিলো –ওমা! এই নাকি মঙ্গলগ্রহ!
মনেমনে গালাগালি দিলাম কিছুক্ষণ। কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছি, আবার এই উটকো ঝামেলা! কিন্তু সমস্যাটা আমারই। আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব, নিরাপত্তা। মঙ্গলের ‘পার্ট টাইম সিকিউরিটি চীফ’আমি। তার অর্থ ঝামেলাক্কাদের দায়িত্ব আমার।

বয়স বছর বিশেক। অন্ততঃ ছ’ফুট লম্বা। অত্যন্ত রোগা। খাওয়াদাওয়া তেমন জোটে না বলেই মনে হয়। মঙ্গলের স্বাস্থ্যকর বাতাসে তার লম্বা নাকটা নীলাভ হতে শুরু করেছে। লম্বা লম্বা হাত, বড়বড় পা। পানি থেকে তোলা মাছের মতো হাঁফাচ্ছিলো ছেলেটা। স্বভাবতঃই মঙ্গলের বাতাসে শ্বাস নেয়ার বিশেষ ‘রেসপিরেটর’ বা শ্বাস কল তার নেই। ঝামেলাক্কাদের কাছে যন্ত্রটা কখনো থাকে না।

(চলবে)

*বৈজ্ঞানিক-কল্পকাহিনী*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★