ব্ল্যাক হোল

ব্ল্যাকহোল নিয়ে কি ভাবছো?

গাজী আজিজ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঢাকা: ব্ল্যাকহোল শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। সহজ ভাষায় ব্ল্যাকহোল হলো অধিক ঘনত্ব ও ভর বিশিষ্ট এক প্রকার নক্ষত্র। যখন একটি তারকার জীবনকাল শেষ হয়ে যায়, সেই মুহূর্তে তার অভিকর্ষ শক্তি এতই প্রবল হয় যে আলো ওখান থেকে বের হতে পারে না। এ ধরণের নক্ষত্রকে বলা হয় ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বর।

১৯৬৯ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী জন হুইলার (Jonh Wheeler) কৃষ্ণ গহ্বর শব্দটি সৃষ্টি করলেও এর চিন্তা ধারার বয়স বস্তুত দু’শ বছরের। ভূতত্ত্ববিদ জন মিচেল (John Michell)  তাঁর লেখা একটি চিঠিতে ১৭৮৩ সালে তিনি রয়েল সোসাইটির সদস্য এবং বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিসকে (Henry Cavendish) এ সম্পর্কে জানান যে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বর হলো বিপুল পরিমাণ ভর বিশিষ্ট কোন বস্তু, যার মহাকর্ষের প্রভাবে আলোক তরঙ্গ পর্যন্ত পালাতে পারে না। কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কিত এ ধরনের মতামত ঊনবিংশ শতাব্দিতে প্রকটভাবে উপেক্ষিত হয়। গত এক দশক ধরে এই ব্ল্যাকহোল নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ জ্যোর্তিবিজ্ঞানীই ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব তত্ত্ব মেনে নিয়েছেন।

জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি অনুসারে, কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান থেকে কোন কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না। এটা তৈরি হয় খুবই বেশি পরিমাণ ঘনত্ব বিশিষ্ট ভর থেকে। কোন অল্প স্থানে খুব বেশি পরিমাণ ভর একত্র হলে সেটা আর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারে না। আমরা মহাবিশ্বকে একটি সমতল পৃষ্ঠে কল্পনা করি। মহাবিশ্বকে চিন্তা করুন একটি বিশাল কাপড়ের টুকরো হিসেবে এবং তারপর যদি আপনি কাপড়ের উপর কোন কোন স্থানে কিছু ভারী বস্তু রাখেন তাহলে কি দেখবেন? যেইসব স্থানে ভারি বস্তু রয়েছে সেইসব স্থানের কাপড় একটু নিচু হয়ে গিয়েছে। এই একই ব্যাপারটি ঘটে মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে। যেসব স্থানে ভর অচিন্তনীয় পরিমাণ বেশি সেইসব স্থানে গর্ত হয়ে আছে। এই অসামাণ্য ভর এক স্থানে কুন্ডলিত হয়ে স্থান-কাল বক্রতার সৃষ্টি করে। প্রতিটি গ্যালাক্সির স্থানে স্থানে কম-বেশি কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিতের কথা জানা যায়। সাধারণত বেশিরভাগ গ্যালাক্সিই তার মধ্যস্থ কৃষ্ণ গহ্বরকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান।

ব্ল্যাকহোল ছোট হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাকহোল একটি পরমাণুর সমান হতে পারে। এই জাতিয় ব্ল্যাকহোল গুলো অনেক ক্ষুদ্র কিন্তু তাদের এক একটার ভর হতে পারে বিশাল কোন পর্বতের সমান। অন্য এক ধরনের ব্ল্যাকহোল কে বলা হয় ‘স্টেলার’ বা ‘নাক্ষত্রিক’; এর ভর আমাদের সূর্যের ভর এর চেয়েও ২০ গুণ বেশি হতে পারে । খুব সম্ভবত অনেক অনেক বেশি ভরের ও নক্ষত্র রয়েছে পৃথিবীর  ছায়াপথে।  আর পৃথিবীর এই ছায়াপথ কে বলা হয় ‘মিল্কি ওয়ে’। সব চেয়ে বৃহৎ ব্ল্যাকহোল কে বলা হয় ‘সুপারমেসিভ’; এই জাতিয় ব্ল্যাকহোলের ভর হয় ১ বিলিয়ন সূর্যের ভর এর ও অধিক।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে প্রতিটি বৃহৎ গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের কেন্দ্রে এই রকম একটি সুপারমেসিভ ব্ল্যাকহোল থাকে। আর যে সব ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে এই ব্ল্যাকহোল থাকে তাকে বলা হয় ‘Sagittarius A’ । এর ভর প্রায় ৪ বিলিয়ন সূর্যের ভরের সমান এবং একে একটি সুবিশাল বল এর ভিতর সেট করা যাবে, এমন বল যা প্রায় আমাদের পৃথিবীর মতো কয়েক মিলিয়ন পৃথিবী ধারণ করতে সক্ষম।

স্বাভাবিকভাবে কোনো একটি নক্ষত্র চুপসে গেলে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়। তবে নক্ষত্রগুলোর ভর হয় অনেক। আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র সূর্যের বিস্তৃতি প্রায় 1300000000 km এবং এর ভর প্রায় 2000000000000000000000000000000kg অথবা 2×10^30kg এর কাছাকাছি। নক্ষত্রগুলোর অস্বাভাবিক ভরের জন্য এদের মধ্যাকর্ষণও অনেক। 

ত্রিশের দশকে পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট ওপেন হাইম তার এক প্রবন্ধের উপসংহারে লেখেন, যখন কোন নত্রের পারমাণবিক জ্বালানির ভাণ্ডার ফুরিয়ে যায়, নিজের মাধ্যাকর্ষণের চাপে তা চুপসে যাবে, তখন এর উপাদানের ঘনত্ব হবে অবিশ্বাস্য রকম বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিজ্ঞানীরা জানতে পারলেন, বিশালাকৃতি নত্রের পারমাণবিক জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে সুপার নোভার বিস্ফোরণ ঘটে। নত্রের গভীরে পারমাণবিক প্রক্রিয়া এই বিস্ফোরণের সূচনা করে, প্রথমত বাইরের চাপে নত্রের অন্তঃস্ফোরণ (ইমপ্লোশন) ঘটে। এই প্রক্রিয়াটিই নত্রের বাইরের স্তরকে বিস্ফোরিত করে।

জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের দুটি দল অস্ট্রেলিয়া ও চিলিতে ভূমি ভিত্তিক টেলিস্কোপ ও হাবল মহাকাশ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে পৃথিবীর মহাজাগতিক পরিমণ্ডলের কাছাকাছি তিনটি বিশাল আকৃতির ‘ ব্ল্যাকহোল ’ বা কৃষ্ণ গহ্বরের সন্ধান পেয়েছেন। এর ফলে বিজ্ঞানীদের সামনে যে প্রশ্নটি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে তা হলো গ্যালাক্সি সমূহের আগেই ব্ল্যাকহোলগুলোর জন্ম হয়েছে কিনা, যদিও গ্যালাক্সির মধ্যেই ব্ল্যাকহোলের অবস্থান। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভার্গো ও অ্যারিম নত্র পুঞ্জে এ নতুন তিনটি ব্ল্যাকহোলের অবস্থান জানা গেছে।

*ব্ল্যাকহোল* *বিজ্ঞান*

জিসান জাকারিয়া: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 মহাবিশ্বের আরেক সমার্থক শব্দ কসমস। অনেকেই জানেন না এই কসমস সম্পর্কে। আমাদের অস্তিত্ত্ব, পৃথিবী, সকল গ্রহ, গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, নেবুলা, মহাজাগতিক সমস্ত কণা, ব্ল্যাক হোল বলতে গেলে পুরো মহাবিশ্ব এই কসমসের অধীনে। কসমস নিয়ে কেউ বিস্তারিত জানাতে পারবেন কি?
জিসান জাকারিয়া: বিজ্ঞানী কার্ল সেগানের কসমস নামে একটা বই পড়তে পারেন । এইটা খুবই বিখ্যাত বই । পরে কার্ল সেগান কসমস নামে একটা সিরিজ ডকুমেন্টারীও তৈরি করেন । কার্ল সেগান আপনাকে জানাবে সেই উত্তরগুলো যা আপনি জানতে চান । ব...বিস্তারিত

২ টি উত্তর আছে

*কসমস* *পৃথিবী* *গ্রহ* *নক্ষত্র* *নেবুলা* *ব্ল্যাকহোল* *পালসার* *মিল্কিওয়ে* *ছায়াপথ* *আকাশগঙ্গা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★