ভ্রমণ সঙ্গী

ভ্রমণসঙ্গী নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাসে, বাইরে, ভ্রমণে বহনে সুবিধার জন্য এক ফিতার কাঁধের ব্যাগ বা হ্যান্ডব্যাগের চেয়ে ব্যাকপ্যাকই এখন বেশি জনপ্রিয়। আর যাঁরা বাইক চালান, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাগের চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প নেই। বেশি বাজেটের ব্যাকপ্যাকগুলো দেশের বাজারে কমই দেখা যায়। ভ্রমণে যাচ্ছেন, সঙ্গে কাপড়-চোপড়, ব্যবহারের জিনিসপত্র থাকবে; ল্যাপটপ থাকবে ; বড় ব্যাকপ্যাক হলে ল্যাপটপের সঙ্গে দু-তিনটি কাপড়, মোবাইল চার্জার, দরকারি জিনিসপত্র ভালোভাবে রাখা যাবে। সবচেয়ে ভালো হয় পানিরোধক ব্যাগ ব্যবহার করতে পারলে। বৃষ্টি কিংবা কোনোভাবে পানি ঢোকা নিয়ে আশঙ্কা করতে হবে না। ল্যাপটপ তো নিরাপদ থাকবেই, সঙ্গে অন্য জিনিসপত্রও। 
ব্যাকপ্যাকের ধরন
বিভিন্ন স্টাইল ও আকারের ব্যাকপ্যাক দেখা যায়। প্রয়োজন বুঝে বেছে নিতে হবে দরাকারিটি। ল্যাপটপ রাখার বড় বা মাঝারি আকারের ব্যাকপ্যাকগুলোতে বাড়তি সুবিধা হিসেবে ট্যাব রাখার স্লট থাকে। ল্যাপটপের আকার বুঝে ঠিক করতে হবে কোন ব্যাগটি নেবেন। শুধু নোটবুকের জন্য হলে বড় ব্যাকপ্যাক না নেওয়াই ভালো। বড় ব্যাকপ্যাকে শুধু নোটবুক নিয়ে চলতে অস্বস্তি লাগতে পারে। শুধু ট্যাব রাখারও ব্যাকপ্যাক আছে। চাইলে ট্যাবের চার্জার, ইন্টারনেট রাউটার, পাওয়ার ব্যাংক, এক্সটার্নাল কিবোর্ডও রাখা যাবে। তবে ছোট ব্যাগে স্লট কম, জায়গা থাকলে এক স্লটেই একাধিক জিনিস রাখতে হবে। আর বড় ও মাঝারি ব্যাগে বেশি স্লট। তাই একেক স্লটে একেক জিনিস ভালোভাবে রাখা যাবে। বাইরে চলতে-ফিরতে ঝাঁকুনি লাগলেও স্লটগুলোতে ডিভাইস বা জিনিসপত্র নিরাপদ থাকবে।
কাদের জন্য ব্যাকপ্যাক
ল্যাপটপ, নোটবুক, ট্যাব রাখার পাশাপাশি বই, নোট, মোবাইল চার্জার, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক বা এ ধরনের দরকারি জিনিসপত্র রাখারও ব্যবস্থা (স্লট) রাখা হচ্ছে ব্যাকগুলোতে। বাজারে পাতলা কাপড়ের কম দামি সাধারণ ব্যাগ যেমন আছে, ওয়াটারপ্রুফ (পানিরোধক) বহু সুবিধার দামিটাও আছে। কে কোনটা কিনবে-নির্ভর করছে তার প্রয়োজন বা ব্যবহারের ওপর। দরকারি আর ফ্যাশন-দুই দিক চিন্তা করেই তৈরি হচ্ছে এখনকার ব্যাকপ্যাক। ল্যাপটপের জন্য অ্যাডিডাস, টারগাস, সেইন্ট ইগল, ক্যামেল মাউন্টেন ব্র্যান্ডের ব্যাকপ্যাকই বেশি বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ ব্যাগই গ্যাবার্ডিন কাপড়ের। কোনো কোনোটির ভেতরে ওয়াটারপ্রুফ আবরণ থাকে।
 
ক্যামেরার জন্য
সাধারণ ডিজিটাল ক্যামেরা হলে ল্যাপটপ বা ট্যাব উপযোগী ব্যাকপ্যাক হলেই চলে। ল্যাপটপের পাশাপাশি ক্যামেরা অনায়াসেই রাখা যায়। তবে বড় ক্যামেরা হলে এর জন্য আলাদা ব্যাগ লাগবেই। কম্পিউটার ও ক্যামেরার দোকান ছাড়া ব্যাগের দোকানেও ক্যামেরার ব্যাগ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে দামের হেরফের হয় ব্যাগের ধরন, মান ও আকার বুঝে। দুই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেও ব্যাগ পাওয়া যায়। তবে ভালো ব্যাগের জন্য গুনতে হবে তিন থেকে ছয় হাজার টাকা। দামি ক্যামেরার ব্যাগ কেনার ক্ষেত্রে কম দামিগুলো পছন্দ করা বোকামি। ক্যামেরাই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে ্ব্যাগ কেনায় টাকা বাঁচিয়ে কী হবে!
ব্যাগ কেনার সময় খেয়াল রাখবেন ক্যামেরা, লেন্স ভালোভাবে রাখা যাবে কি না। ক্যামেরা নড়াচড়া করবে কি না, তা-ও খেয়াল রাখবেন।
দরদাম
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যাকপ্যাক পাওয়া যায়। ক্যামেল মাউন্টেনের ব্যাকপ্যাক সাধারণত এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা, উইলসন এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা, পাওয়ার এক হাজার ৭০০ টাকা, ইয়েসো দেড় হাজার টাকা। এসব ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ ও দরকারি জিনিসপত্র রাখা যাবে।
 
কম্পিউটার দোকানগুলোতে এইচপি ও টারগাস ব্র্যান্ডের ব্যাকপ্যাকগুলো বেশ চোখে পড়ে।
 
টারগাসের ১৫.৬ ইঞ্চি ও ১৬ ইঞ্চি সাইজের ল্যাপটপ রাখার ব্যাগগুলোতে আছে 'ডেডিকেটেড অ্যাডভান্সড ওয়ার্কস্টেশন'। এ অংশে একগুচ্ছ কলম ও কার্ডহোল্ডার রাখা যাবে। বাড়তি কাগজপত্র রাখার জন্য আছে আলাদা পকেট। ব্যাগটিতে সঠিক ওজন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। ব্যাগগুলো পাওয়া যাবে দেড় হাজার থেকে চার হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। এইচপি ব্র্যান্ডের কিছু ব্যাকপ্যাক আছে দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকার মধ্যে। ৭-৮ ইঞ্চি সাইজের ট্যাবের ব্যাকপ্যাক পাওয়া যাবে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়।
 
বসুন্ধরা সিটি, বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আগারগাঁও), এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেটে এসব ব্র্যান্ডের ব্যাকপ্যাক পাওয়া যাবে।
 
অনলাইনে ব্যাকপ্যাক 
চাইলে অনলাইনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যাকপ্যাক দেখে যাচাই করা যাবে। এবং কেনার অর্ডারও দেওয়া যাবে। অনলাইনে ই-কমার্স সাইটগুলোতে ব্যাকপ্যাকের সংগ্রহ ভালো। অর্ডার করার আগে জেনে নেবেন আপনার এলাকায় সাইটটির ডেলিভারি সুবিধা আছে কি না। যদি থাকে তাহলে ডেলিভারিতে কেমন সময় লাগবে, ডেলিভারি চার্জ কেমন-ইত্যাদি। পেমেন্ট কিভাবে দিতে হবে, তা-ও জেনে নিবেন। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি অনেক সাইটে মোবাইল লেনদেনের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও টাকা পরিশোধ করা যায়। আবার পণ্য ডেলিভারির সময় ক্যাশ বুঝে নেবে, এমন শর্তও থাকতে পারে।
 
তবে পণ্য বুঝে নেওয়ার সময় সব ঠিকঠাক আছে কি না, দেখে নিন।
 
বিকিকিনির সাইট বিক্রয় (www.ajkerdeal.com) থেকেও ব্যাকপ্যাক কেনা যাবে। কিনতে ক্লিক করুন এখানে l
 
*ব্যাকপ্যাক* *ভ্রমণসঙ্গী*

★ছায়াবতী★: একটি বেশব্লগ লিখেছে



আউটডোরে হাইকিং বা ক্যাম্পিংয়ে গেলে কাঁধে ঝোলা থাকবেই। হাতে থাকবে ক্যামেরা, হাইকিং স্টিক বা লাঠি। আলোটা তাহলে রাখবেন কোথায়? হ্যাঁ, মাথায়। আলোর অন্য অনেক বিকল্প থাকলেও হেড ল্যাম্পের মতো সুবিধাজনক সত্যি আর কিছু নেই। এটি থাকলে হাত ফাঁকা রেখে আলো জ্বেলে সহজে পথ চলা যায়। ক্যাম্পিংয়ে রান্না করা, খড়ি, পানি জোগার করে আনা এবং প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য হেড ল্যাম্পের ধারে-কাছে কিছু আসে না। এ সব কথা বিবেচনা করে ভ্রমণের অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে নামিদামি সব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের হেডল্যাম্প তৈরি করে আসছে। এগুলোর রঙে ও গড়নে যেমন রকমফের আছে, তেমনি আছে ব্যবহার উপযোগিতায়ও।

 কেনার আগে খেয়াল করুন:
* লাইটটি এলইডি কি না! এলইডি ল্যাম্প দীর্ঘস্থায়ী হয়। * বিম টাইপ বা আলোকধারার দৈর্ঘ-প্রস্থ ও দূরত্ব কেমন? সাধারণত ফ্লাড বা স্পট-দুই ধরনের হয়। উভয় ধরনের ব্যবস্থা থাকলে ভালো। * জরুরি সংকেত প্রদানের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। * লাইটটি কতক্ষণ ধরে জ্বলে এবং কী ধরনের ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। লিথিয়াম ব্যাটারি ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়ও কাজ করে। তবে ব্যাটারি পরিবর্তনযোগ্য হওয়া ভালো।
 * পানিনিরোধকতা এবং ওজনও বিবেচনার বিষয়। জুম বা নিম্ন-মধ্য-উচ্চ-তিন ধরনের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আছে কি না? লাইটে টিল্ট বা উঁচু-নিচুর ব্যবস্থা আছে কি না এবং সুইচের ধরন কেমন?

ব্ল্যাক ডায়মন্ড, পিটজেলসহ আরো বেশ কিছু ব্রান্ড ও নন-ব্রান্ডের হেড লেম্প এখন বাংলাদেশে পাওয়া যায়। দাম- ৬০০ থেকে ৪৫০০ টাকার মধ্যে।

কোথায় পাবেন পিক ৬৯, আজিজ সুপার মার্কেট, তৃতীয়তলা. শাহবাগ, ঢাকা, ফোন : ০১৮৩৪৭৭৭৭১৮। ভ্রমণসঙ্গী, আন্ডার গ্রাউন্ড ফ্লোর, কনকর্ড এম্পেরিয়াম, কাঁটাবন, ফোন : ০১৭১৩৩৮৯৯৩০।

 অনলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন : www.peak69.com
*ভ্রমনটিপস* *ভ্রমণসঙ্গী* *কেনাকাটা* *স্মার্টশপিং* *ভ্রমণপ্রস্তুতি*

★ছায়াবতী★: একটি বেশব্লগ লিখেছে


এ বিছানা আনা-নেওয়া করা যায় সহজে। টাঙানোও কঠিন নয়। আবার দোলনার স্বাদ পাওয়া যায়। এখন বাড়িতেও অনেকে হ্যামক লাগান।

 

হ্যামক কী?

এক কথায় দোল বিছানা। দূরবর্তী দুটি গাছ বা শক্ত খুঁটির দুই প্রান্তে দড়ি দিয়ে হ্যামক টানানো হয়। হ্যামক তৈরি হয় কাপড়, নেট অথবা দড়ি দিয়ে। গবেষণায় জানা গেছে, বিছানার চেয়ে হ্যামকের হালকা দুলুনিতে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির ঘুম গভীর হয়।

 

ইতিহাস

তাঁদের অভিযানের সময় স্প্যানিশরা প্রথম হ্যামকের ব্যবহার দেখে নেটিভ আমেরিকানদের মধ্যে। হ্যামকের অর্থ মাছের জাল। সাপ, কীটপতঙ্গ বা অন্য ক্ষতিকর প্রাণী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হ্যামকের ব্যবহার শুরু হয়। ক্রিস্টোফার কলম্বাস বাহামা থেকে কিছু হ্যামক নিয়ে এসে ইউরোপীয়দের মাঝে চালু করেন।

 

ব্যবহার

তাঁবুর বিকল্প হিসেবে বিশ্রাম ও রাত যাপনের জন্য ব্যাকপ্যাকারদের কাছে হ্যামকের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

 

হ্যামকের রকমসকম

মায়ান, ব্রাজিলিয়ান, নিকারাগুয়ান, ভেনিজুয়েলিয়ান জঙ্গল হ্যামক, নেভাল ও ট্রাভেল হ্যামকের ব্যবহার বেশি। জঙ্গল হ্যামকে মশারিসহ রেইন কভার থাকে।

কেনার আগে খেয়াল করুন

* কমফোর্ট বা আরাম

* ওজন।

* ডিউর‌্যাবিলিটি বা স্থায়িত্ব

* ভার্সেটালিটি অর্থাৎ সব পরিবেশে ব্যবহারযোগ্য

* সহজ সেটআপ

কাপড়ের হ্যামক হলে দেখতে হবে ওয়েদারপ্রুফ বা সব আবহাওয়ায় ব্যবহারোপযোগী কি না। ডাবল লেয়ার বা দুই স্তরের কাপড়ের হ্যামক বেশি টেকসই হয়। ম্যানিলা রোপ বা দড়ির হ্যামক হলে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সেটা বেশি চিকন ও শক্ত না হয়। সাধারণত একজন থেকে শুরু করে দুই-তিনজনের ব্যবহারোপযোগী হ্যামকও পাওয়া যায়। ১১০ থেকে ২৭০ কেজি পর্যন্ত ওজন ধারণক্ষমতা থাকে এগুলোর। দৈর্ঘ্যে ৬ ফুট থেকে ১১ ফুট ও প্রস্থে ৩ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। যত উঁচু স্থান থেকে হ্যামক টানানো যাবে, ততই ভালো। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, দুই প্রান্তেরই যেন সমান উচ্চতা হয়। মাটি থেকে ৩০ ডিগ্রি কোণে হ্যামক টানানো উচিত।

 

হ্যামক প্রস্তুতকারক

অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, তার মধ্যে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক, হেনসি, হ্যামক ব্লিস, ঈগলস নেস্ট ও ওয়ারবনেট উল্লেখযোগ্য।

 

বাংলাদেশে কোথায় পাবেন?

শীতপ্রধান দেশের কথা চিন্তা করে সাধারণত নামী ব্র্যান্ডগুলো হ্যামক তৈরি করে। তাই অনেক হ্যামক আমাদের দেশের উপযোগী নয়। তবে শাহবাগের আজিজ মার্কেটের পিক ৬৯ (০১৮৩৪৭৭৭৭১৮), কাঁটাবনের কনকর্ড এম্পোরিয়ামের ভ্রমণসঙ্গীতে(০১১৯১০৩৯৯৩০) বাংলাদেশের উপযোগী ভালো মানের হ্যামক পাওয়া যায়।

*গৃহস্থালিটিপস* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমণসঙ্গী* *ভ্রমণপ্রস্তুতি*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★