রবীঠাকুর

রবীঠাকুর নিয়ে কি ভাবছো?

মকসুদা হালিম: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রবীন্দ্রনাথের প্রেম

সৈয়দা মকসুদা হালিম

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এতো মানুষ লেখালেখি আর গবেষণা করেছে যে তাঁর সম্পর্কে নতুন করে কিছু লেখার বিষয় --আমার মতো অলেখকের জন্যে
বাকি রাখা হয়নি! তার পরেও রবীন্দ্র মৃত্যুবার্ষিকীতে কিছু লিখতে মন চাইলো। তাঁকে যতই জানা যায়, বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। আজ পর্যন্ত কোন কবিই তাঁকে অতিক্রম করে এগিয়ে
যেতে পারেনি। যুদ্ধোত্তর পৃথিবী, মানুষের চিন্তাধারা ও জীবনাচরণের আমূল পরিবর্তন ঘটালেও আজ পর্যন্ত কোন কবিই রবীন্দ্রপ্রভাব এড়াতে পারেননি । সজ্ঞানে হোক বা অজ্ঞানে মানুষ
তাঁরই পদরেখা অনুসরণ করে চলেছে। অনেকের মতে নজরুল, জীবনানন্দ--এরা রবীন্দ্রপ্রভাব মুক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যকে যে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন,
রবীন্দ্রনাথের জন্ম না হলে তারা কি লিখতেন ? ভারতচন্দ্রের মতো কাব্য নাকি পাঁচালি ?
আমি নিতান্তই অজ্ঞ এবং অসাহিত্যিক ! আমার এতো যোগ্যতা নাই যে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নতুন কিছু লিখবো। তাঁর সম্পর্কে জানতে গিয়ে জানলাম এক চিরদুঃখী অপরিসীম
নিঃসঙ্গ এক রবীন্দ্রনাথকে। বেঁচে থাকতে তাঁকে এ দেশের মানুষ যোগ্য সম্মান দেয়নি। পদেপদে অপমান, অবহেলা, কর্মে বিঘ্নতা--তাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল। সুহৃদ বন্ধু ছিলনা কেউ। মাত্র ষোলটা
বছর তিনি সুখি ছিলেন ৭ থেকে ২৩। তার জীবনে বসন্ত বলতে এই ক'টা দিন, কাদম্বরী মরে গিয়ে তাঁকে একদিকে যেমন নিঃস্ব রিক্ত করে গেছেন তেমনি অন্যদিকে বিধাতা তাঁকে পূর্ণ করে
দিয়েছিলেন তাঁর বহুমুখী প্রতিভা আলোয় ! কাদম্বরী বেঁচে থাকলে আমরা হয়তো আজকের এই রবীন্দ্রনাথকে পেতাম না ।
কাদম্বরীর সাথে রবীন্দ্রনাথ কতোখানি জড়িয়ে ছিলেন ? কেমন করে এতোখানি জড়ালেন ? দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া একটা মানুষ সামান্য আশ্রয়ের জন্য সামনে কোন অবলম্বন
পেলেই যেমন আকড়ে ধরে---ঠিক তেমনি ভাবেই জীবনযুদ্ধে বিপর্যস্ত শিশু রবি কাদম্বরীর বাড়িয়ে দেওয়া হাত ধরেছিলেন। একসাথেই তাঁদের জীবনে বসন্ত এসেছে। অনেক রবীন্দ্র-ভক্ত তাঁর চরিত্রে কলংকের
ছোঁয়া যাতে না লাগে-- তারজন্যেই কাদম্বরী-রবীন্দ্রনাথের প্রেমকে ' নিকষিত হেম, কামগন্ধ নাহি তায় '---বলে তাদের সম্পর্ককে এড়িয়ে গেছেন। কাদম্বরীর আত্মঘাতিনী হওয়ার কারন হিসেবে
স্বামীর পকেট থেকে পাওয়া নটী বিনোদিনীর আবেগঘণ প্রেম পত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু শান্তিনিকেতনের তরুণ লেখক কল্পনা বসাকের গবেষণা গ্রন্থ " রবীন্দ্রনাথের কল্পলোক ও
সমাজ বাস্তবতা " থেকে জানা যায়-- 'এ কথা তাঁর আগে থেকেই জানা ছিল', যেমন জ্যোতিরিন্দ্রনাথেরও জানা ছিল, কাদম্বরী-রবীন্দ্রনাথের প্রেম সম্পর্ক ! রবীন্দ্রনাথের বিবাহটা কাদম্বরীকে মর্মান্তিকভাবে আঘাত করেছিল। 'রবি একান্তই আমার, রবি কেন বিবাহ করবে ? রবির বিবাহকে তিনই কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি।
জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতেই বরীন্দ্রনাথ- মৃণালিনীর বিবাহ হয়। সমস্ত ঠাকুরবাড়ির লোকজন বিবাহ সভায় উপস্থিত থাকলেও কাদম্বরী উপস্থিত ছিলেন না। তেতলার নির্জন ঘরে
তিনি তখন অশ্রুজলে বুকের আগুনকে নেভাতে চেষ্টা করছিলেন। কাদম্বরী রবীন্দ্রনাথের বিবাহের পর পরই কেন আত্মঘাতিনী হলেন না ? কেন তিনি আরও চার মাস অপেক্ষা করেছিলেন ?
কদম্বরীকে এককভাবে পছন্দ করে এনেছিলেন দেবেন্দ্রনাথ। সম্ভবত শ্বশুরের অবর্তমানে তিনি বিদায় নিতে চান নি।
রবীন্দ্রনাথকে যারা 'ক্যারেক্টার লেস' বলে অবজ্ঞা করেন তাদের জানা উচিত, রবীন্দ্রনাথ এতোটা স্থূল রুচির মানুষ ছিলেন না। এক ধনাঢ্য সংস্কৃতিমনা ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মেছিলেন । লম্বায় ছিলেন ছয়ফুট দুই ইঞ্চি , গায়ের রঙ ছিলো সাহেবদের মতো ধবধবে , ঢেউ খেলানো রোমান্টিক বাবরীচুল , তীক্ষ্ণ নাসিকা , আয়তচোখে হীরের দ্যুতি ! এ হেন রূপবান পুরুষকে পাওয়ার জন্য কিশোরী রানু অধিকারী থেকে শুরু করে পৃথিবীর যাবতীয় নারীরা তপস্যা করেছে । তিনি চাইলে কোন নারীর অভাব হতো না। ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো রূপে, গুণে, বিদ্যা বুদ্ধি--কোন কিছুতে কম ছিলেন না। উচ্চ শিক্ষিতা, লেখক, কোন একটা পত্রিকার সম্পাদিকা। রবীন্দ্রনাথেকে তিনি দেহে-মনে-প্রাণে পেতে চেয়েছিলেন ! আর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা ও তাঁর ভাই সুরেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথকে শিশুকাল থেকেই চিনতে চিনতে বড় হয়েছিলেন। তাদের কাছে তিনি ছিলেন অকপট। তাঁরা তাঁকে বুঝতেন। কোন বস্তুকে পরিমাপ করতে হলে , তার সম উচ্চতা সম্পন্ন হতে হয় । চারা গাছের পক্ষে মহীরুহের উচ্চতা পরিমাপ করা সম্ভন না ! রবীন্দ্রনাথ মানুষকে ভালবাসতেন, কিন্তু প্রেম বলতে যা বোঝায়, তিনি সেটা করেছিলেন একজনের সাথেই আমৃত্যু ! কৃষ্ণকলি কাদম্বরীর কালো হরিণ চোখের কাছেই তিনি আত্মবিসর্জন দিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ-কাদম্বরীর প্রেমকে যারা 'নিকষিত হেম' বলে তাঁকে দেবতার আসনে বসাতে চেস্টা করেছে, তাদেরও জানা উচিৎ রবীন্দ্রনাথ একজন মানুষ ছিলেন। মানুষের মধ্যে যে সকল চাহিদা থাকে, তাঁর মধ্যেও তার সবকিছুই ছিল। কাদম্বরীর সঙ্গে তিনি কতোটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন ? লেখক-কবি যা কিছু সৃষ্টি করেন তা তারই আত্মপ্রতিকৃতি ! রবীন্দ্রনাথ তাঁর "স্তন," "প্রথম চুম্বন" ইত্যাদিতে যে আবহচিত্র এঁকেছেন তা একান্তভাবের নিজস্ব উপলব্ধি থেকেই লেখা সম্ভব। তারপর তিনি যখন বলেন,
" মকরচূড় মুকুটখানি পরি ললাট পরে,
ধনুকবাণ ধরি দখিন করে,
কহিনু, " আমি এসেছি পরদেশী !"
চমকি ত্রাসে দাঁড়ালে উঠি শিলা আসন ফেলে,
শুধালে, "কেন এলে ?"
কহিনু আমি , " রেখোনা ভয় মনে ,
পূজার ফুল তুলিতে চাহি তোমার ফুলবনে !"
চলিলে সাথে, হাসিলে অনুকূল,
তুলিনু যূথী, তুলিনু জাতী, তুলিনু চাঁপাফুল ! --------

এরপরেও কি রবীন্দ্রনাথ-কাদম্বরীর প্রেমকে ' নিকষিত হেম, কাম-গন্ধ নাহি তায়' বলা যাবে ?

*রবীন্দ্রনাথ* *রবিঠাকুর* *প্রেম* *রবীঠাকুর*

বিম্ববতী: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুব তারা,,,,(প্রদীপ),, ,,,,,,,(বৃষ্টি),,,,এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথ হারা,,,(বৃষ্টি),,,,, ,,,(দেবী),,,wonderfully u became my strength,,,(দেবী),, ,,,,,,,,,(বৃষ্টি),,,,তোমারেই করিয়াছি জীবনের,,,,, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,ধ্রুব তারা,,,,,(বৃষ্টি),,,,,,,,,,,,,,,,,, http://gaana.com/song/tomare-koriyachi
*জল-ডুব* *ঈশ্বর* *রবিঠাকুর* *রবীঠাকুর*

দস্যু বনহুর: [একুশে-আমারবর্ণমালা১] দক্ষিণমেরুর ঊর্ধ্বে যে অজ্ঞাত তারা মহাজনশূন্যতায় রাত্রি তার করিতেছে সারা, সে আমার অর্ধরাত্রে অনিমেষ চোখে অনিদ্রা করেছে স্পর্শ অপূর্ব আলোকে।

*রবীঠাকুর*

nazmul ahsan: আবৃ্ত্তি আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আবৃ্ত্তি : নাজমুল আহসান https://youtu.be/_zNgWuPHV_M?list=PLBcvvM2IGTRetUMY_-nkSZ_P_Nn-iUm22

*রবীন্দ্রনাথ* *রবিঠাকুর* *রবীন্দ্রনাথ-ঠাকুর* *রবীঠাকুর* *কবিতা*

বিম্ববতী: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

বোলো তারে আজ অন্তরে পেয়েছি বড়ো লাজ কিছু হয় নাই বলা বেঁধে গিয়েছিল গলা,,,,,, ছিল না দিনের যোগ্য সাজ আমার বক্ষের কাছে পূর্ণিমা লুকানো আছে সেদিন দেখেছ শুধু অমা,,,,, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,দিনে দিনে অর্ঘ্য মম,,,, ,,,(বৃষ্টি),,,,,,পূর্ণ হবে প্রিয়তম,,,,,,,,,,(বৃষ্টি),,,,,,, ,,,,,,,আজি মোর দৈন্য কোরো ক্ষমা,,,,,,,(বৃষ্টি),,,,
*জল-ডুব* *রবীন্দ্রনাথ* *রবিঠাকুর* *রবীঠাকুর*

nazmul ahsan: নতুন বছরে সবাই ভালো থাকুন, ভালো থাকুন, ভালো থাকুন..আলোয় আলোয় ভরে উঠুক চারিদিক। অনন্ত শুভেচ্ছা সবাইকে। আবৃত্তি: অনন্ত প্রেম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর https://youtu.be/G47ZslFilqU

*রবীন্দ্রনাথ* *রবিঠাকুর* *রবীন্দ্রনাথ-ঠাকুর* *রবীঠাকুর* *কবিতা*

দস্যু বনহুর: [ক্রিকেট-সাবাসবোলিং] "ক্ষুদ্র যখনই মহান পদ পায়, তখনই সে চোখ রাঙিয়ে, বুক ফুলিয়ে, মহত্বের একটা আড়ম্বর, আস্ফালন করতে থাকে। এর অর্থ আর কিছুই নয়, তারা মহত্বর শিক্ষা পায়নাই।"

*রবীঠাকুর*

বিম্ববতী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

- নন্দিনী,,,,,,,,,,,,,,নন্দিনী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,নন্দিনী,,,,,,,,,,,,,(বৃষ্টি),,,,,

- আমাকে এত করে ডাকিস কেন, কিশোর? আমি কি শুনতে পাই নে,,,

- শুনতে পাস জানি,,কিন্তু আমার-যে ডাকতে ভালো লাগে,,,আর ফুল চাই তোমার ? তা হলে আনতে যাই,,

- যা যা, এখনই কাজে ফিরে যা, দেরি করিস নে,,,

- সমস্তদিন তো কেবল সোনার তাল খুঁড়ে আনি,,,,তার মধ্যে একটু সময় চুরি করে তোর জন্যে ফুল খুঁজে আনতে পারলে বেঁচে যাই,,,

- ওরে কিশোর, জানতে পারলে-যে ওরা শাস্তি দেবে,,,

- তুমি-যে বলেছিলে, রক্তকরবী তোমার চাই-ই চাই,,,,,আমার আনন্দ এই যে, রক্তকরবী এখানে সহজে মেলে না,,,অনেক খুঁজেপেতে একজায়গায় জঞ্জালের পিছনে একটিমাত্র গাছ পেয়েছি,,,,

- আমাকে দেখিয়ে দে,,,আমি নিজে গিয়ে ফুল তুলে আনব,,,,,

- অমন কথা বোলো না নন্দিনী,,,,নিষ্ঠুর হোয়ো না,,,,ঐ গাছটি থাক্‌ আমার একটিমাত্র গোপন কথার মতো,,,বিশু তোমাকে গান শোনায়, সে তার নিজের গান,,,,এখন থেকে তোমাকে আমি ফুল জোগাব, এ আমারই নিজের ফুল,,,,,,,,,,,,,,

- কিন্তু এখানকার জানোয়াররা তোকে শাস্তি দেয়,,,আমার-যে বুক ফেটে যায়,,,,,

- সেই ব্যথায় আমার ফুল আরো বেশি করে আমারই হয়ে ফোটে,,,ওরা হয় আমার দুঃখের ধন,,,,

- কিন্তু তোদের এ দুঃখ আমি সইব কী করে,,,,,,,

- কিসের দুঃখ,,,,(বৃষ্টি),,,,একদিন তোর জন্যে প্রাণ দেব নন্দিনী,,,,,(বৃষ্টি),,,,,,এই কথা কতবার মনে-মনে ভাবি,,,,,(বৃষ্টি),,,,,,,

- তুই তো আমাকে এত দিলি,,,,,,তোকে আমি কী ফিরিয়ে দেব বল্‌ তো কিশোর,,,,,,,

- এই সত্যটি কর্ নন্দিনী,,,,,আমার হাত থেকেই রোজ সকালে ফুল নিবি,,,,,,

- আচ্ছা,,,,তাই সই,,,,,কিন্তু তুই একটু সামলে চলিস,,,,,

- না,,,,আমি সামলে চলব না,,,, চলব না,,,ওদের মারের মুখের উপর দিয়েই রোজ তোমাকে ফুল এনে দেব,,,,,,(বৃষ্টি),,,,,,


--------------------------------------------------------------------------------------------------"রক্তকরবী"


*সমুদ্দুর* *ভালোবাসিতো* *রবীঠাকুর*

বিম্ববতী: ,,,,যা আমার ভালো লাগে তাই আর একজনের ভালো লাগে না,,,, ,,,,,,,(বৃষ্টি),,,,,,,,,,এই নিয়েই পৃথিবীতে যত রক্তপাত,,,,,,,,,,,,,(বৃষ্টি),,,,,,,,,,,,

*রবীঠাকুর*

বিম্ববতী: ,,,অমরাবতীর কেউ যদি প্রশ্ন করে 'ভবে এসে করলে কী' তখন কোন লজ্জায় বলব, 'ঘড়ির কাঁটার দিকে চোখ রেখে কাজ করতে করতে জীবনের যা কিছু সকল সময়ের অতীত তার দিকে চোখ তোলবার সময় পাইনি',,,,'(বৃষ্টি)

*রবীঠাকুর*

দস্যু বনহুর: [বাঘমামা-ঘুমেকাত] কিছু পলাশের নেশা, কিছু বা চাঁপায় মেশা। তাই নিয়ে সুরে সুরে, রঙে রসে জাল বুনি। রচি মম ফাল্গুনী। একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি।

*প্রিয়গান* *রবীঠাকুর*

আড়াল থেকেই বলছি: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

''নারীর হৃদয়ের রহস্য জানিবার মত অভিজ্ঞতা আমার হইলো না নিতান্তই উপর হইতে,বাহির হইতে যেটুকু দেখিলাম তাহাতে আমার এই বিশ্বাস জন্মিয়েছে যে,যেখানে মেয়েরা দুঃখ পাইবে সেখানেই তারা হৃদয় দিতে প্রস্তুত''
*রবীঠাকুর*

দস্যু বনহুর: [রাজামশাই-তুইশেষ] -- কহ সত্য করে ধরামাঝে সব চেয়ে কে আজি রূপসী। দর্পণে উঠিল ফুটে সেই মুখশশী। কাঁপিয়া কহিল রানী, অগ্নিসম জ্বালা-- পরালেম তারে আমি বিষফুলমালা, তবু মরিল না জ্বলে সতিনের মেয়ে, ধরাতলে রূপসী সে সকলের চেয়ে!

*রবীঠাকুর* *লন্ঠন*

রং নাম্বার: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

রবী ঠাকুর আমার সকাল বেলার ভাললাগা। মন চাইলো গান শুনলাম। মনে হয় রবী ঠাকুরের সাথে নিয়ে চলছি।
ওগো নদী আপন বেগে পাগল পারা.... আমি স্তব্ধ চাপার তরু গন্ধ ভরে, তন্দ্রা হারা। আমি সদা অচল থাকি গভীর চলা গোপন রাখি... ............................ http://youtu.be/eEmjzBMBR-k
*প্রিয়গান* *রবীঠাকুর*

কেয়া _নাহিদা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমি অন্তঃপুরের মেয়ে,

            চিনবে না আমাকে।

তোমার শেষ গল্পের বইটি পড়েছি, শরৎবাবু,

               ‘বাসি ফুলের মালা'।

তোমার নায়িকা এলোকেশীর মরণ-দশা ধরেছিল

               পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে।

পঁচিশ বছর বয়সের সঙ্গে ছিল তার রেষারেষি,

        দেখলেম তুমি মহদাশয় বটে —

               জিতিয়ে দিলে তাকে।

  

 

     নিজের কথা বলি।

বয়স আমার অল্প।

      একজনের মন ছুঁয়েছিল

                 আমার এই কাঁচা বয়সের মায়া।

           তাই জেনে পুলক লাগত আমার দেহে —

    ভুলে গিয়েছিলেম, অত্যন্ত সাধারণ মেয়ে আমি।

আমার মতো এমন আছে হাজার হাজার মেয়ে,

        অল্পবয়সের মন্ত্র তাদের যৌবনে।

      

 

        তোমাকে দোহাই দিই,

একটি সাধারণ মেয়ের গল্প লেখো তুমি।

           বড়ো দুঃখ তার।

        তারও স্বভাবের গভীরে

অসাধারণ যদি কিছু তলিয়ে থাকে কোথাও

           কেমন করে প্রমাণ করবে সে,

        এমন কজন মেলে যারা তা ধরতে পারে।

কথাটা কেন উঠল তা বলি।

        মনে করো তার নাম নরেশ।

সে বলেছিল কেউ তার চোখে পড়ে নি আমার মতো।

    এতবড়ো কথাটা বিশ্বাস করব যে সাহস হয় না,

           না করব যে এমন জোর কই।

   

 

একদিন সে গেল বিলেতে।

           চিঠিপত্র পাই কখনো বা।

    মনে মনে ভাবি, রাম রাম! এত মেয়েও আছে সে দেশে,

           এত তাদের ঠেলাঠেলি ভিড়!

        আর তারা কি সবাই অসামান্য —

               এত বুদ্ধি, এত উজ্জ্বলতা।

    আর তারা সবাই কি আবিষ্কার করেছে এক নরেশ সেনকে

           স্বদেশে যার পরিচয় চাপা ছিল দশের মধ্যে।

  

 

  গেল মেলের চিঠিতে লিখেছে

           লিজির সঙ্গে গিয়েছিল সমুদ্রে নাইতে —

        বাঙালি কবির কবিতা ক' লাইন দিয়েছে তুলে

           সেই যেখানে উর্বশী উঠছে সমুদ্র থেকে —

                তার পরে বালির ‘পরে বসল পাশাপাশি —

    সামনে দুলছে নীল সমুদ্রের ঢেউ,

               আকাশে ছড়ানো নির্মল সূর্যালোক।

        লিজি তাকে খুব আস্তে আস্তে বললে,

    ‘এই সেদিন তুমি এসেছ, দুদিন পরে যাবে চলে;

           ঝিনুকের দুটি খোলা,

               মাঝখানটুকু ভরা থাক্‌

        একটি নিরেট অশ্রুবিন্দু দিয়ে —

           দুর্লভ , মূল্যহীন। '

        কথা বলবার কী অসামান্য ভঙ্গি।

সেইসঙ্গে নরেশ লিখেছে,

কাঁচা বয়সের জাদু লাগে ওদের চোখে,

        মন যায় না সত্যের খোঁজে,

    আমরা বিকিয়ে যাই মরীচিকার দামে। ‘কথাগুলি যদি বানানো হয় দোষ কী,

           কিন্তু চমৎকার —

হীরে-বসানো সোনার ফুল কি সত্য, তবুও কি সত্য নয়। '

            বুঝতেই পারছ

একটা তুলনার সংকেত ওর চিঠিতে অদৃশ্য কাঁটার মতো

     আমার বুকের কাছে বিঁধিয়ে দিয়ে জানায় —

           আমি অত্যন্ত সাধারণ মেয়ে।

    মূল্যবানকে পুরো মূল্য চুকিয়ে দিই

        এমন ধন নেই আমার হাতে।

    ওগো, নাহয় তাই হল,

        নাহয় ঋণীই রইলেম চিরজীবন।

 

 

পায়ে পড়ি তোমার, একটা গল্প লেখো তুমি শরৎবাবু,

        নিতান্তই সাধারণ মেয়ের গল্প —

যে দুর্ভাগিনীকে দূরের থেকে পাল্লা দিতে হয়

        অন্তত পাঁচ-সাতজন অসামান্যার সঙ্গে —

           অর্থাৎ, সপ্তরথিনীর মার।

বুঝে নিয়েছি আমার কপাল ভেঙেছে,

        হার হয়েছে আমার।

কিন্তু তুমি যার কথা লিখবে

        তাকে জিতিয়ে দিয়ো আমার হয়ে,

           পড়তে পড়তে বুক যেন ওঠে ফুলে।

    ফুলচন্দন পড়ুক তোমার কলমের মুখে।

     

 

  তাকে নাম দিয়ো মালতী।

           ওই নামটা আমার।

           ধরা পড়বার ভয় নেই।

    এমন অনেক মালতী আছে বাংলাদেশে,

তারা ফরাসি জর্মান জানে না,

                   কাঁদতে জানে।

           তারা সবাই সামান্য মেয়ে। কী করে জিতিয়ে দেবে।

    উচ্চ তোমার মন, তোমার লেখনী মহীয়সী।

        তুমি হয়তো ওকে নিয়ে যাবে ত্যাগের পথে,

            দুঃখের চরমে, শকুন্তলার মতো।

               দয়া কোরো আমাকে।

           নেমে এসো আমার সমতলে।

        বিছানায় শুয়ে শুয়ে রাত্রির অন্ধকারে

দেবতার কাছে যে অসম্ভব বর মাগি —

            সে বর আমি পাব না,

কিন্তু পায় যেন তোমার নায়িকা।

    রাখো-না কেন নরেশকে সাত বছর লণ্ডনে,

        বারে বারে ফেল করুক তার পরীক্ষায়,

           আদরে থাক্‌ আপন উপাসিকামণ্ডলীতে।

        ইতিমধ্যে মালতী পাস করুক এম . এ .

               কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে,

        গণিতে হোক প্রথম তোমার কলমের এক আঁচড়ে।

           কিন্তু ওইখানেই যদি থাম

তোমার সাহিত্যসম্রাট নামে পড়বে কলঙ্ক।

    আমার দশা যাই হোক

        খাটো কোরো না তোমার কল্পনা।

    তুমি তো কৃপণ নও বিধাতার মতো।

মেয়েটাকে দাও পাঠিয়ে য়ুরোপে।

    সেখানে যারা জ্ঞানী, যারা বিদ্বান, যারা বীর,

           যারা কবি, যারা শিল্পী, যারা রাজা,

            দল বেঁধে আসুক ওর চার দিকে।

জ্যোতির্বিদের মতো আবিষ্কার করুক ওকে —

           শুধু বিদুষী ব'লে নয়, নারী ব'লে।

ওর মধ্যে যে বিশ্ববিজয়ী জাদু আছে

    ধরা পড়ুক তার রহস্য, মূঢ়ের দেশে নয় —

        যে দেশে আছে সমজদার, আছে দরদি,

               আছে ইংরেজ জর্মান ফরাসি।

মালতীর সম্মানের জন্য সভা ডাকা হোক-না,  বড়ো বড়ো নামজাদার সভা।

মনে করা যাক সেখানে বর্ষণ হচ্ছে মুষলধারে চাটুবাক্য,

        মাঝখান দিয়ে সে চলেছে অবহেলায় —

               ঢেউয়ের উপর দিয়ে যেন পালের নৌকো।

        ওর চোখ দেখে ওরা করছে কানাকানি,

সবাই বলছে ভারতবর্ষের সজল মেঘ আর উজ্জ্বল রৌদ্র

           মিলেছে ওর মোহিনী দৃষ্টিতে।

( এইখানে জনান্তিকে বলে রাখি

           সৃষ্টিকর্তার প্রসাদ সত্যই আছে আমার চোখে।

               বলতে হল নিজের মুখেই,

        এখনো কোনো য়ুরোপীয় রসজ্ঞের

                সাক্ষাৎ ঘটে নি কপালে। )

        নরেশ এসে দাঁড়াক সেই কোণে,

    আর তার সেই অসামান্য মেয়ের দল।

         

 

            আর তার পরে?

তার পরে আমার নটেশাকটি মুড়োল,

        স্বপ্ন আমার ফুরোল।

           হায় রে সামান্য মেয়ে!

               হায় রে বিধাতার শক্তির অপব্যয়!

*প্রিয়কবিতা* *রবীঠাকুর*

রিংকু: যাহার যোগ্যতা যত অল্প, তাহার আড়ম্বর তত বেশী | ___ *রবীঠাকুর*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★