রাঙামাটি

রাঙামাটি নিয়ে কি ভাবছো?

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সাজেক ভ্যালী ঘুরে ফেরার পথে স্নিগ্ধ হওয়ার মত এক জায়গা হাজাছড়া ঝর্ণা । এটা রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় অবস্থিত। বাঘাইছড়ি উপজেলার ১০ নম্বর রাস্তার পাশে এই ঝরনা পযর্টকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। রাস্তা থেকে ১৫ মিনিট ঝিরিপথ ধরে হেঁটে পৌঁছানো যায় ঝর্ণার পাদদেশে। অপূর্ব অসাধারন আর নয়নাভিরাম এ ঝর্না। ঝর্ণার নীচে দাড়িয়ে অনায়েসেই ক্লান্তি দূর করা যায়, পায়ের নিচের ঠান্ডা জল ও ঝর্ণার ছিটেফোঁটা জলের স্পর্শে। দীর্ঘ ক্লান্তিকর হাটার কষ্ট মুহুর্তেই ধুয়ে গিয়েছিলো ঝর্ণার জলে, আসলে আমি যাত্রাটি এতটাই উপভোগ করেছিলাম যে, আমার মোটেও ক্লান্ত লাগে নি। আর তাছাড়া ঝর্ণার জলের শীতল পরশ আপনাকে ক্ষনিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে আবার কতটা পথ আবার হাটতে হবে ফেরার জন্য। সম্মোহনী কলকল শব্দ দূর থেকেই ঘোরের সৃ্ষ্টি করে।

অবস্থানগত ভাবে হাজাছড়া ঝর্ণা রাঙামাটির অন্তর্গত হলেও এটি ভ্রমণ করার জন্যে খাগড়াছড়ি হয়ে যাওয়াটাই উত্তম। এটি শুকনাছড়া ঝর্ণা নামেও পরিচিত। এই ঝর্ণাটির স্থানীয় পাহাড়ীদের দেয়া নাম হল চিত জুরানি থাংঝাং ঝর্ণা (মন প্রশান্তি ঝর্ণা)। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে হাজাছড়া রওনা দিতেই আপনার চোখে পড়বে প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা দৃশ্যপট। তীর ছুঁয়ে যাওয়া মাইনী নদীর জলের স্রোত। পাহাড়ি ঢলে নদীর দুতীর জুড়ে উপচে পড়া জলের স্রোত। রাস্তার দুপাশ জুড়ে আদিবাসীদের বসবাস। পথের ধারেই নানান শস্যের জুমের ক্ষেত। সবুজে ঘেরা ঝিরি পথ পেরোলেই স্বাগতম জানাবে হাজাছড়া বিশালকায় ঝর্ণা। আমি গিয়েছি শীতে তবে শুনেছি পুরো বর্ষায় হাজাছড়ার রূপের তুলনা সে নিজেই। এখানে সারা বছরই পানি থাকে। তবে শীতে জল প্রবাহ কমে যায়। আর বর্ষার হয়ে উঠে পূর্ণ যৌবনা। তবে শীতের আগে ও বর্ষার শেষে এখানে ঘুরতে যাওয়া উত্তম সময় বলে আমার মনে হয়েছে কারণ ভরা বর্ষার সময় কিছুটা ঝুঁকি তো থেকেই । ঝর্নার আশে পাশে কেবল যেন সবুজেরই সমারোহ।  ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ঝর্ণায় চোখে পড়তেই আটকে যেতে হয়। এমন বিশালাকৃতির ঝরনা! তীব্রগতিতে বয়ে পড়ছে জলের ধারা। কাছে যেতেই জল নিংড়ানো হালকা হালকা শিশির ভিজিয়ে দিল সবাইকে। ঝরনার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ আমরা কিছু তরুণ অভিযাত্রীর দল। ঝর্ণাটির মায়াময় সৌন্দর্য দেখে আপনারও মন চাইতে পারে এর পানিতে নিজেকে ভিজিয়ে দিতে।

কিভাবে যাবেনঃ

হাজাছড়া ঝর্ণায় যেতে হলে অপনাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। খাগড়াছড়ি নেমে বাস, মাহেন্দ্র জীপ , মোটরসাইকেল বা চান্দের গাড়িতে প্রথমে যেতে হবে দিঘীনালা। অথবা ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহনে করে সরাসরি আপনি দীঘিনালা পৌছে যেতে পারেন। আপনার যদি কখনো সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, সময় করে যাত্রাপথেই ঘুরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা থেকে কারণ আপনার সাজেক যাত্রাপথেই বাঘাইহাট পড়বে। বাঘাইহাট নেমে আপনাকে আরো ২০ মিনিটের মতো হেঁটে যেতে হবে ঝরনাটি দেখতে। বেশি দূরে নয়, তবে এখনো চলাচলের কোনো রাস্তা তৈরি না হওয়ায় উঁচু-নিচু স্থান পার হয়ে যেতে হয় বলে একটু সময় লাগে। হাঁটার সুবিধার জন্য চাইলে পাঁচ টাকা মূল্য দিয়ে বাঁশের লাঠি কিনে নিতে পারেন। এরপর সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে ঝরনা থেকে নেমে আসা শীতল পানিতে পা ডুবিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আপনাকে। চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। শহরের কোলাহলমুক্ত এমন সবুজ সুন্দর পরিবেশ আপনার মনে এনে দিতে পারে প্রশান্তির ছোঁয়া।

কোথায় খাবেনঃ

হাজাছড়া ঝর্ণার আশেপাশে থাকা বা খাওয়া কোন ব্যবস্থা নেই। ঝর্ণায় যাওয়ার সময় সাথে কিছু শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যেতে পারেন। অথবা খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্তোরার (System Restaurant) অবস্থান। এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন। খাং ময় রেস্টুরেন্টে আমরা খেয়েছিলাম। পর্যটকদের জন্য খাগড়াছড়িতে রয়েছে অনেক আবাসিক হোটেল । রয়েছে জেলা সদরের মিলনপুরে হোটেল গাইরিং ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হোটেল ইকোছড়ি ইন। সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। খাগড়াছড়ি বাজার এলাকার হোটেল আল-মাসুদ, হোটেল লবিয়ত, হোটেল ফোর স্টারসহ অনেকগুলো হোটেলে থাকতে পারবেন সুলভে। হোটেল গাইরিং বেশ উন্নত, আমাদের বেশ ভালো লেগেছে। 

যা মনে রাখবেন

একটা অনুরোধ আছে, ঝর্ণা দেখতে গিয়ে এর আশপাশে কোনো প্ল্যাস্টিক, বোতল, প্যাকেট ফেলে ঝর্ণাকে নোংরা করবেন না। প্রকৃতিকে তার নিজের মতো করে থাকতে দিন। শুধু তার কাছে গিয়ে উপভোগ করুন তার অনাবিল সৌন্দর্য্য।

 কিছু কিছু জায়গা খুব পিচ্ছিল থাকে, তাই সাবধানে হাঁটবেন।

•কোনো কোনো জায়গায় কাঁটাজাতীয় একধরনের উদ্ভিদ দেখা যায়, তাই দেখে দেখে হাঁটবেন।

• হাঁটার রাস্তাটি উঁচু-নিচু এবং বেশ সুবিধাজনক নয়, তাই সঙ্গে কোনো ভারী বস্তু নেওয়া উচিত নয়। এতে আপনারই কষ্ট হবে।

• এখানকার আনারস, আখ, পেঁপে ও কলা বেশ মিষ্টি। অবশ্যই খেয়ে দেখবেন, নইলে কিন্তু পস্তাবেন।

 

*ঝর্ণা* *হাজাছড়াঝর্ণা* *রাঙামাটি* *খাগড়াছড়ি* *দীঘিনালা* *বাঘাইহাট* *শীতেভ্রমণ*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

খুব ভোরে রাঙামাটি থেকে রওয়ানা দিয়েচুলাম সাজেকের উদ্দেশ্যে।  ডিসেম্বরের শুরুতে কুয়াশার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালের ঘন কুয়াশায় নিজেকে ঢেকে রওনা হলাম পাহাড়ের পথ ধরে। কেবল আমরা নই, পুরোটা পথ জুড়ে সবুজ পাহাড়, তারা যেন নিজেকে আবৃত করেছিল কুয়াশার নরম চাদরে। পথিমধ্যে ক্রমেই শীতের কুয়াশা কেটে বেরিয়ে এল সূর্য। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। তবে, রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক আসা যায়। তাই সকালবেলা খাগড়াছড়িতে পৌঁছে প্রাতরাশ সেরে আবারোও যাত্রা শুরু করলাম মাহেন্দ্র খোলা জিপে।ঝলমলে রোদেলা আবহাওয়ায় কখন জানি দীঘিনালা, বাঘাইহাট, মাসালাং বাজার, কাসালাং নদীকে পেছনে ফেলে পৌঁছে গেলাম সাজেকের রুই লুই পাড়ায়।  

জানিয়ে রাখি, সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন । যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল । সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা , দক্ষিনে রাঙামাটির লংগদু , পূর্বে ভারতের মিজোরাম , পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার । আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার । বাঘাইহাট থেকে ৩৪ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে মোটামোটি সাড়ে চারঘন্টা সময় লেগে যাই। আর্মি স্কটের জন্য প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় দীঘিনালাতে। দুটা স্কট আছে, সকাল সাড়ে দশটা আর বিকেল সাড়ে তিনটা। আমরা সকালের স্কটটা ধরেছিলাম। পরেরদিন ফেরার সময়ও ওই একই স্কট ধরেছিলাম।

দীঘিনালা, আমাদের যাত্রা বিরতির দ্বিতীয় স্থল। অসাধারণ স্বাদ এখানকার পাকা পেঁপের। সুস্বাদু কলাও পাওয়া যায় এখানে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা আর্মি ক্যাম্প হয়ে সাজেক যেতে হয়। পরে পরবে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প। যেখান থেকে আপনাকে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে। তারপর কাসালং ব্রিজ, ২টি নদী মিলে কাসালং নদী হয়েছে। পরে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার। বাজার পার হলে পরবে সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এর প্রবীণ জনগোষ্ঠী লুসাই। এছাড়া পাংকুয়া ও ত্রিপুরারাও বাস করে। 

যাত্রাপথে আমাদের তৃতীয়  বিরতি বাঘাইহাট বাজারে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এই পাহাড়ি বাজারের পাশ দিয়ে চলে গেছে কাসালং নদী। বাজারে নেমেই এককাপ গরম চায়ে চুমুক, কুয়াশা আর শীতের সকালে কিছুটা উষ্ণতা। কিছুক্ষণের বিরতি শেষ করে আবার চলা শুরু। রাস্তার দুপাশের বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঘর, বিস্তীর্ণ পাহাড় আর এঁকে বেঁকে চলা পাহাড়ি রাস্তা। পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া সর্পিল নদী চলে গেছে দূরের পথ ধরে। মুক্ত আকাশের নিচে বিশাল সমৃদ্ধ বনভূমির সন্ধান পাবেন কেবল সাজেক ভ্যালির পথে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জুম চাষ, এই মৌসুমে আনারসের জুম চাষে ভরপুর পাহাড়। পাশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারত থেকে আসা মাসালং নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে ছোটখাট বাজার। এই এলাকা সাজেক ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল। আদিবাসী আর বাঙালি— মিলেমিশে এই বাজারে ব্যবসা করে। জুমের ফসল বিক্রি করার আর্দশ স্থান এই মাসালং বাজার।

বন্ধুর পথ— দুপাশেই আকাশচুম্বী পাহাড়ের বুকে উদ্ধত শিখর তুলে দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষরাজি। দীর্ঘজীবি বৃক্ষের দেখা মেলে এই পথে, মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন বসতি। দূরের পাহাড়ে মেঘের গড়াগড়ি দেখতে না দেখতেই আমরা পৌঁছে যাই সেই মেঘের রাজ্যে। এক সময় উঁচু পথের সমাপ্তি হয়, পা রাখি রুইলুই পাড়ায়। এটা সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। সাজেকের মূল ফটকে ঢুকেই আমরা পুরো বিস্মিত ! এখানে এসে বিস্ময়ের মাত্রা খালি বেড়েই চলছিল। প্রায় দুই হাজার ফুট পাহাড়ের ওপর ঝকমকে প্রশস্ত পথ। শহরের আদলে তৈরি ফুটপাত একেবারে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। পথের পাশে পাহাড়িদের বাড়িঘর নান্দনিকভাবে সাজানো। মনে হলো, বিদেশি কোনো উপত্যকায় পাহাড়ের বুকে সাজানো-গোছানো আদিবাসী-অধ্যুষিত ছোট্ট কোনো শহরে এসে উপস্থিত হলাম।

প্রায় মূল ফটকের পাশেই পাহাড়ের কোল-ঘেঁষে বেশ কিছু কটেজ প্রস্তুত যেখানে আমাদের রাত যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, বেশ অল্পই খরচ। থাকার ব্যবস্থা হলো হাপাং টং  রিসোর্টে। কাঠের তৈরি ছোট অথচ পরিপাটি একটা রিসোর্ট। পর্যটন উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে দুর্গম সাজেকের উঁচু পাহাড়ের বুক চিরে। সাজেকে গড়ে উঠেছে রুনময় ও সাজেক নামে দুটো আকর্ষণীয় রিসোর্ট। তবে আদিবাসীদের তৈরী কাঠের কটেজই আমার কাছে প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য দারুন ব্যবস্থা বলে মনে হয়েছে।  রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা— জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল–সবুজ। রুইলুই পাড়ার নিচ থেকে প্রধান উপত্যকার অংশ শুরু। দীর্ঘ পথ শেষ করে বহুদূরে দাঁড়িয়ে আছে মিজোরামের প্রাচীন সুউচ্চ পাহাড়ের শ্রেণি। 

সাজেক এর রুইলুই পাড়া থেকে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন সুন্দর কমলক ঝর্ণাটি। কমলক ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা অথবা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামে পরিচিত। সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া। রুইলুই পাড়া থেকে ২০ মিনিটের হাঁটা পথ কংলাক পাড়া। পাংখোয়াদের বসবাস এখানে। সব মিলিয়ে ১৫ পরিবারের বসবাস হবে। বিশাল পাথরখণ্ডের পাদদেশেই কংলাক পাড়ার অবস্থান।কংলাকের পাথরচূড়ায় দাঁড়িয়ে পুরো সাজেক উপত্যকা চমৎকারভাবে এক নজরে দেখা যায়। প্রথমে উঠতে মনে মনে একটু ভয় পেলেও, উঠার পর পুরো সাজেকের সৌন্দর্য্য ভয়কে জয় করে দিয়েছিলো।  

পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে এখানে আকাশ ঘুমায়, পাহাড়ের বন্ধনহীন মিলন দেখা যায়। কোথাও কোথাও তুলার মতো দলছুট মেঘের স্তুপ ভেসে বেড়ায় পাহাড়ের চূড়ায়, যেন স্বপ্নরাজ্য। রুই রুই পাড়ার শেষ প্রান্তে হেলিপ্যাড। তার পাশেই পাহাড়ের কোলজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে অবকাশ কেন্দ্র। এখানে বসলে মিজোরামের পাহাড়গুলো চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে অন্যরকম এক রূপ নিয়ে। সাজেক পাহাড় আর ভারতের পাহাড়ের মাঝখানে বিশাল এক উপত্যকাঞ্চল। এটাকে মেঘপুরীর উপত্যকাও বলা যেতে পারে। বর্ষাকালে এখানে থাকে মেঘমালার অবাধ বিচরণ। সূর্যাস্ত দেখে, কংলাক পাড়া থেকে রওনা হলাম সাজেক ভ্যালির পথে, রাতযাপন হবে রুইলুই পাড়ায় ওই রিসোর্টে। 

পূর্ণিমায় আলোয় আলোকিত  ছিল সেদিনের রুই লুই পাড়া। সহস্র নক্ষত্রে ঢাকা সাজেকের বিস্তৃত আকাশ আর নক্ষত্রের আলোয় নিচের পৃথিবী, ধবধবে জোছনার আলোয় আলোকিত উপত্যকা সাজেকের রাজ্য। অদ্ভুদ যে, জ্যোৎস্না রাতের আলোয় কাছে দূরের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জেগে উঠছে ঘন সাদা কুয়াশা। এমনই ঘন যে, কুয়াশাকে মনে হয় মেঘের ভেলা, মনে হয় সমুদ্রে বরফ জমেছে। এরকমই মেঘের ভেলায় ডুবে যাওয়া পাহাড়ের চূড়াকে মনে হচ্ছিল সমুদ্রের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। হেড ম্যানের বাড়ির সামনে গোল বৈঠক আর গরম কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে আমার মনে শুধু বিভ্রম জাগে, এ কি আমার চেনা পৃথিবী, এই কি আমার দেশ, আমার দেশ এত্ত সুন্দর ! মনে পরে রবি ঠাকুরের সেই কবিতার লাইন 

"দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু।"

আমাদের সারাদিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিল সারা লুসাইয়ের অর্ডার হোটেলে। হালকা তেল, মশলায় রান্না করা আদিবাসী খাবার খেয়ে আমি মুগ্ধ। এর মালিক রুইলুই পাড়ার কারবারী মনা দাদা। অনেক রাত অব্দি জেগে ছিলেন সেদিন, চোখে যেন নেশা ধরেছিলো। ঘোরলাগা রাত এক সময় ভোর হয়, মেঘ পায়ের কাছে হেসে লুটোপুটি খায়- নতুন দিনের অভিবাদন জানায়। আবারো খুব ভোরে উঠে আমরা হেলিপ্যাডের উপর চলে যাই সূর্যোদয় দেখতে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে পুরো তাজ্জব ! একি সবুজ বন, গেরুয়া পাহাড় সবটুকু অদৃশ্য হয়ে আছে সাদা মেঘের আড়ালে। পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাদা মেঘ আবার কোথাও কোথাও মেঘের বুকে জেগে আছে পাহাড়ের চূড়া, যেন মেঘের সমুদ্রের বুকে জেগে থাকা সবুজ দ্বীপ।

নীলচে পাহাড়ে বুকে মেঘের সমুদ্র। যতটুকু চোখ যায় কেবল দুধ সাদা ঘন মেঘ। দিগন্তব্যাপী আকাশ ছোঁয়া পাহাড়গুলো যেন ডুবে আছে মেঘের সমুদ্রে। মেঘের রং বদলায় সকালের সূর্যের আলোয়। পাহাড় আর মেঘ যেন অবিচ্ছিন বন্ধনী, সময়ে সময়ে বদলে পাহাড়ের রূপ। পাহাড়ের প্রশস্ত বুক, আদিবাসীদের ঘর-বসতি ও নির্জন প্রকৃতির সঙ্গে দারুণ এক সখ্যতা আর প্রেম আছে ভাসমান মেঘপুঞ্জের, আছে ঝগড়াও। তাই তো বেলা বাড়তে বাড়তে মেঘ কেটে কেটে যেতে লাগলো আর আমরা ফিরতে লাগলাম চেনা লোকালয়ের পথে, ফিরলাম রুইলুই পাড়ায়। সাজেক বহুরূপী, পাহাড়ের সাথে মেঘের রাগ অনুরাগ, মান অভিমানে ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায় এর রূপ মাধুরী। ভোর একসময় সকাল হলো, আমাদেরও স্কট ধরবার সময় চলে এলো তাই পেছনে সাজেককে ফেলে রেখে আমাদের ফিরতেই হলো যান্ত্রিক জীবনে। ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার দেখে আসতে পারেন। যেকোনো মৌসুমে সাজেক ভ্রমণ অনন্য। বর্ষাকালে শুনেছি এর সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে আমার মতে, শীতকালই ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

যেভাবে যাবেন : প্রথমে যেতে হবে খাগড়াছড়ি অথবা দীঘিনালা। ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহন, বিআরটিসি (এসি বাস), সেন্ট মার্টিন (এসি বাস), শ্যামলী, সৌদিয়া, ঈগল, এস.আলম পরিবহনে খাগড়াছড়ি এবং দীঘিনালায় সরাসরি যাওয়া যায়। আমরা অবশ্য রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি এসে দীঘিনালা হয়ে গেছিলাম। দলবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ভালো, খাগড়াছড়ি বা দীঘিনালা থেকে মাহেন্দ্র জিপ বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে। সাজেক যাওয়ার পথে বাঘাইহাট জোনে আপনার নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর এট্রি করতে হবে। আপনার লাগেজ সার্চ করে হবে। 

যেখানে থাকবেন : সাজেক এলাকায় হুট্ করে গেলে কিন্তু থাকার জায়গা নাও পেতে পারেন। তাই রাতে থাকার জায়গা আগে থেকেই ঠিক করতে হবে। দল বড় হলে প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই। থাকার জন্য আছে, রূনময় রির্সোট (বিজিবি পরিচালিত), সাজেক রির্সোট (সেনাবাহিনী পরিচালিত) আলোর রির্সোট এবং ক্লাব হাউস। রয়েছে আদিবাসীদের কটেজও। 

প্রয়োজনীয় তথ্য : সাজেক অনেক দুর্গম জায়গা। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। যাও আছে তা মূলত সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর। উঁচু জায়গা বলে পানীয় জলের সংকট আছে, তবে সেটা গ্রীষ্মে। খাওয়ার জল কিন্তু ঝর্ণার জল, বেশ ঠান্ডা। সাজেক  প্রকৃতির সৌন্দর্য্য, সৃষ্টির অপরূপ সৃষ্টি, তাই এই সৃষ্টি যাতে তার মতো করে সুন্দর থাকে সেই দায়িত্বটাও আমাদেরই হাতে। আপনার ব্যবহার কোন প্রকার পলিথিন, পানির বোতল, প্যাকেট, ময়লা ইত্যাদি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন। না হলে সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। আর আমাদের স্বভাব থাকে, আদিবাসীদের জীবন যাপন, তাদের চেহারা, তাদের খাবার দাবার নিয়ে টিপ্পনি কাটার, সেটা মোটেও করবেন না। তারা প্রকৃতির সন্তান, তারা অতন্ত্য সহজ, অতন্ত্য সরল, অতন্ত্য ভালো। তারাও কিন্তু বাংলাদেশী, এটা ভুলে যাবেন না। 

"মেঘ পাহাড়ের মিতালী যার আরেক নাম সাজেক ভ্যালি"

*সাজেক* *মেঘেররাজ্য* *সাজেকভ্যালি* *রাঙামাটি* *খাগড়াছড়ি* *ভ্রমণটিপস* *মেঘ* *পাহাড়*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 রাঙামাটির লেকভিউ আইল্যান্ড নামের রিসোর্ট ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য কেউ দিতে পারেন কি?

উত্তর দাও (০ টি উত্তর আছে )

*রাঙামাটি* *লেকভিউ* *আইল্যান্ড* *লেকভিউআইল্যান্ড* *রিসোর্ট* *ভ্রমণটিপস*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রূপবৈচিত্র-হ্রদের জল-পাহাড় আর অরণ্যের অপার সৌন্দর্যের কোল ঘেঁষে রয়েছে প্রকৃতির রূপসী কন্যা রাঙামাটি। চট্টগ্রাম বিভাগের পার্তব্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার মধ্যে অন্যতম এই রাঙামাটি জেলা। আকা-বাকা পথ আর উঁচু-নিচু পাহাড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাঙামাটি। রাঙামাটিতে রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান উল্লেখযোগ্য।

অপরূপ দৃশ্যে মন রাঙ্গাতে এবারের ঈদে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি থেকে। আপনার ঈদ হয়ে উঠবে আনন্দময়ী। একবার ঘুরে আসলেই যাত্রাপথ, কাপ্তাই, রাঙামাটি, রাজবন বিহার, জাফলং ঝরনা, কালিট্যাং-এর ছবি আঁকা হয়ে যাবে আপনার মানসপটে। বার বার স্মৃতি হয়ে খেলা করবে হৃদয় মাঝে।




কিভাবে যাবেন:

রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বেশ কয়েকটি গাড়ি প্রতিদিন রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চট্টগ্রামের বিআরটিসি, অক্সিজেন মোড় ও বিভিন্ন বাসস্টেশন থেকেও রাঙামাটির গাড়ি পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি। সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন অভিজ্ঞ চালক।

হোটেল ও গেস্ট হাউজ:

রাঙামাটিতে রাত যাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনেকগুলো হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে; রয়েছে বোডিংও। বোডিংয়ের খরচ কম হলেও খুব ভালো ব্যবস্থা নেই।

কয়েকটি হোটেলের বর্ণনা:

(১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স: ১২টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষসহ বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল ও ডাবল রুম রয়েছে এই হোটেলে।

(২) হোটেল সুফিয়া: এতে রয়েছে ২৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া ছোট-বড় সাধারণ কক্ষ রয়েছে আরও ৩৫টি।

(৩) হোটেল নিডস হিল ভিউ: ১৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ১০টি সাদারণ রুম রয়েছে এতে।

(৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেল: এই হোটেলে রয়েছে ৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া সিঙ্গেল ও ডাবল রুমতো রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি, হোটেল সাফিয়া, হোটেল ড্রিমল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি মধ্যম মানের হোটেল।

এর সবকটি হোটেল-ই রাঙামাটি জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। তাই এখানে অবস্থান করেই খুব সহজেই ঘুরে বেড়াতে পারেন জেলার সবকটি দর্শনীয় স্থানে।

*রাঙামাটি* *ঈদেবেড়ানো* *ছুটিতেভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *অল্পতেভ্রমন*
ছবি

অসামাজিক কবি: ফটো পোস্ট করেছে

৫/৫

রাঙ্গামাটি

*রাঙ্গামাটি* *রাঙামাটি*
ছবি

অসামাজিক কবি: ফটো পোস্ট করেছে

৫/৫

(রাঙ্গামাটি)

*ফটোগ্রাফি* *ছবিতেপ্রকৃতি* *রাঙামাটি* *রাঙ্গামাটি*
৫/৫

দীপ্তি: [ফুলকি-আমিলক্ষ্মী] লাল পাহাড়ের দেশে যা রাঙ্গামটির দেশে যা ইত্থাক তুকে মানাইছে (না) রে ইক্কেবারে মানাইছে (না) রে (গ্যাংনাম)(চুম্মা) (খুশীতেআউলা) পাহাড়ে যেতে মন চাইছে (মাইরালা) পাহাড়ের ডাক এসেছে (এদিকেআসো) বৈসাবি আমাকে টানছে (চিৎকার) ইথাক মুকে মানাইছে (না) রে (আম্মুউউউ) ইক্কেবারে মানাইছে (না) রে (কান্না) (কিলক্ষ্মী) (লজ্জা২)

*বৈসাবি* *রাঙামাটি* *পাহাড়*
ছবি

তৌহিদ রিদোয়ান: ফটো পোস্ট করেছে

৫/৫

রাগামাটি

*রাঙামাটি* *রাঙ্গামাটি* *ছবিতেপ্রকৃতি*
ছবি

অনি: ফটো পোস্ট করেছে

৫/৫

বরকল উপজেলা, রাঙামাটি..

*ছবিতেবাংলারপ্রকৃতি* *ভ্রমন* *রাঙামাটি* *ট্রাভেল*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

লোকালয় ছেড়ে, দূর পাহাড়ের দেশে হারিয়ে যেতে কার না মন চায়! নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি রাঙ্গামাটি জেলায় ঘুরে বেড়াতে তোমারও নিশ্চয় মন চাইছে? প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ঘেরা রাঙ্গামাটি জেলায় রয়েছে, পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। যেখানে সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ মিতালী করে হ্রদের সাথে, চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। সারাক্ষণ চলতে থাকে পাহাড়, নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা। রাঙ্গামাটির প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন যেখান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়ানাভিরাম দৃশ্যপট। রাঙ্গামাটির এই দৃশ্যপটে মুগ্ধ হয়ে দূর পাহাড়ের দেশে ভ্রমনে গেলে যে ৬টি দর্শনীয় স্থান মিস করা একদম ঠিক হবে না সেসব স্থান নিয়েই আজকের আলোচনা।

১. কাপ্তাই হ্রদ
রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমন অন্যতম। কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মানের ফলে সৃষ্টি হয় সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ। মূলত পানি বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য এই বাঁধ নির্মিত হয়। অসংখ্য পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা বিশাল কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে অনুভূতি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। দেশীয় ইঞ্জিন নৌকা,লঞ্চ, স্পিডবোটে দিনভর নৌবিহার করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হলো আপনি চাইলে এই হ্রদ ঘুরতে ঘুরতেই দেখে ফেলতে পারবেন রাঙ্গামাটির অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো।

২.  সুবলং ঝরনা
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে যে কয়েকটি পাহাড়ি ঝর্ণা বা ঝিরি রয়েছে তার মধ্যে রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত সুবলং ঝর্ণা অন্যতম। মূলত পাহাড়ী সবুজের মাঝে বিস্ময় হয়ে থাকা এই ঝর্ণাটি তার উচ্চতা ও অবিরাম জলস্রোতের কারণেই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও একথা সত্য যে, বাংলাদেশের অন্য অনেক ঝর্ণার মতো সুবলংয়ের এই ঝর্ণাটিও তার প্রকৃত রূপের পসরা সাজায় বর্ষার সময়টাতেই। এ সময় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে সশব্দে পাহাড়ি এই জলধারা নেমে আসে সমতলে।

৩. ঝুলন্ত সেতু
রাঙ্গামাটি শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই হ্রদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত সরকরি পর্যটন মোটেল। পর্যটকদের জন্য খুবই দৃষ্টিকাড়া ও আকর্ষনীয় স্থান এটি। পর্যটন মোটেলেই অবস্থিত ঝুলন্ত ব্রিজটি, যা পর্যটন এলাকাকে আরও বেশি সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দিত করেছে। সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে এটি। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষনের কারনে এবং এর নির্মানশৈলির কারনে ঝুলন্ত ব্রিজ আজ রাঙ্গামাটির নিদর্শন হয়ে দাড়িয়ে আছে। পর্যটকরা সাধারণত প্রথমেই এই পর্যটন মোটেল এবং ঝুলন্ত ব্রিজে আসে। এখান থেকে শুরু হয় রাঙামাটি ভ্রমণ।

. পেদা টিং টিং + চাং পাং
কাপ্তাই হ্রদের চারিদিকে কেবল পাহাড় আর হ্রদ, যেন প্রকৃতির মাঝে আপিন এক আগন্তুক মাত্র। বুনো প্রকৃতি ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায় না এখানে। কিন্তু আপনি অবাক হবেন যখন চলতি পথে কোন একটি টিলার উপর দেখবেন পেদা টিং টিং এবং চাং পাং। এমন এক পরিবেশে যেখানে আপনি এক গ্লাস খাবার পানি পাবেন না, সেখানে এই দুইটি রেষ্টুরেন্ট আপনার জন্য চা, কফি আর চিকেন ফ্রাই নিয়ে অপেক্ষা করছে। সত্যিই হতবাক করার মত ব্যাপার। এছাড়াও এখানে পাবেন স্থানীয় খাবার "বিগল বিচি", "কচি বাঁশের তরকারী", "কেবাং"। পেদা টিং টিং একটা চাকমা শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান। অর্থাৎ মারাত্মকভাবে খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা থাকে, সেটাকেই বলা হয় পেদা টিং টিং। রাঙ্গামাটি শহর থেকে মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই হ্রদের ভসমান একটি পাহাড়ে অবসথিত এই পর্যটন সংস্থা। এখানে রেস্তোরা, কটেজ, নৌবিহার ব্যবস্থা, সেগুন বাগান ও অসংখ্য বানর রয়েছে।

৫.রাজবন বিহার
রাজবন বিহার বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম বিহার রাঙামাটি শহরের অদূরেই অবস্থিত। ১৯৭৭ সালে বনভান্তে লংদু এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাঙামাটি আসেন। বনভান্ত এবং তাঁর শিষ্যদের বসবাসের জন্য ভক্তকূল এই বিহারটি নির্মান করে দেন। চাকমা রাজা দেবাশিষ রায়ের তত্ত্বাবধানে রাজবন বিহার রক্ষণাবেক্ষনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে আপনি যা যা দেখতে পাবেন...

৬. চাকমা রাজার বাড়ি
রাজবন বিহারের পাশেই রয়েছে চাকমা রাজার বাড়ি। চারপশে হ্রদ দ্বারা বেষ্টিত এই রাজবাড়িতে রয়েছে কাচারি, রাজ কার্যালয়, রাজার বাসভবন, চাকমা রাজা কর্তৃক উদ্ধারকৃত মোঘল আমলের ফঁতে খার সজ্জিত কামান, সবুজ ঘন বাঁশঝাড় ও আরও অনেককিছু। 

ট্রাভেল প্রিয় বন্ধুরা, তাহলে আজকেই বেরিয়ে পড় পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে আর তোমার দুঃসসাহসিক ভ্রমনের ভাললাগা আমাদের সাথে শেয়ার কর। শুভ হোক তোমার ভ্রমনের দিন গুলি.. এই শুভ কামনা রইল। 
*ভ্রমন* *রাঙ্গামাটি* *রাঙামাটি* *ভ্রমনটিপস* *ট্রাভেল* *ঘুরেএলাম* *ছুটিতেভ্রমন* *ভ্রমনগাইড*
ছবি

তোফায়েল আহমদ: ফটো পোস্ট করেছে

কমলাকান্তের দপ্তরী : সবই তো হইলো- কেবল রাঙ্গামাটির খোঁজখব নিয়া কোনো সংবাদ দেখতেছি না- এই যা একখানা জটিল সমিস্যা।

*রাঙামাটি* *রাঙ্গামাটি*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রাঙামাটির দেশে যা, দূর পাহাড়ের দেশে যা, হেথাক তোকে মানাইছেনা রে.. এই গানটির সাথে তাল মিলিয়ে আমারও মন চাইছে রাঙামাটির দেশে যেতে। অনেকেই হয়তবা ভাবছেন কোথায় কোথায় যাওয়া যায় এই শীতে? নো চিন্তা চলুন লোকালয় ছেড়ে, দূর পাহাড়ে- রাঙামাটির পথে হারিয়ে যাই।

কি কি আছে রাঙামাটিতেঃ
লেক, ঝরনা, বিস্তির্ন নীল আকাশ, পাহাড় সর্বপরি আদিবাসি মানুষের সাধারন সহজ-সরল জীবন ,যা আপনাকে বিমহিত করবে। এখানে যেদিকে তাকাবেন চোখে পড়বে শুধু পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের পানি। বিশাল কাপ্তাই লেকের পুরোটাই যেন অপার মমতায় দুহাত দিয়ে ধরে রেখেছে পাহাড়গুলি।

কোথায় কোথায় যাবেনঃ
রাজবন বিহার - যেতে সময় লাগবে ৪৫ মিনিটের মত। যাবার পথে সুন্দর নয়না ভিরাম দৃশ্যাবলীতে আপনার মন ভরে যাবে। 
এখানে দেখতে পাবেনঃ
    >পহাড় ও পানি
    >কাপ্তাই লেকে জীবন যাত্রা
    >লেকের ধার ঘেসে অনেকগুলি হোটেল ও বাজার রয়েছে
    >স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা
    >চারপাশে পানিতে ঘেরা একটি গ্রাম
    >মন্দির
    >তাবতিংস স্বর্গ (৭ টি স্বর্গ)
    >নীথর কাপ্তাইলেক

চাকমা রাজার বাড়ি- রাজবন বিহারের পাশেই রয়েছে চাকমা রাজার বাড়ি। চারপশে হ্রদ দ্বারা বেষ্টিত এই রাজবাড়িতে রয়েছে কাচারি, রাজ কার্যালয়, রাজার বাসভবন, চাকমা রাজা কর্তৃক উদ্ধারকৃত মোঘল আমলের ফঁতে খার সজ্জিত কামান, সবুজ ঘন বাঁশঝাড় ও আরও অনেককিছু।

এখানে দেখতে পাবেনঃ
    >রাজ বিহারের ফলক
    >সন্যাসীদের বাসভবন
    >চাকমা রাজার কার্যালয়
    >চাকমা রাজার ভবন
    >পাহাড়ী মরিচ (ভীষন ঝাল টেষ্ট করতে পারেন
    >ফতে খার কামান

 সুবলং ঝরনা- সময লাগবে ২:৩০ মিনিটের মত। পখে লেকের পাশে কিছু বাজার চোখে পড়বে। হালকা নাস্তা ও পানি নিয়ে নিবেন সাথে।

এখানে দেখতে পাবেনঃ
    >লেকের তীর ঘেষে এরকম অনেকগুলো বাজার
    >দুপুরের খাবার (ব্যাঙ, কুচি মাছ, বাশ কুড়ুল, চ্চরি, মুরগি)
    >সুবলং যাবার পথে একটি রেস্তোরা
    >শিলামাটি
    >মাছ ধরায় ব্যাস্ত কতিপয় জেলে
    >সুবলং ঝরনা
    >কাঠের সেতু (সুবলং)।

 “পেদা টিং টিং”- এটি একটি রেষ্টুরেন্ট যার অর্ হল, পেট পুরে খাওয়া। তবে এর জন্য বেশ খরচ করতে হবে। এটি বেশ দামি খাবারের দোকান।

রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতু- নৌকার আকারের উপর ভাড়া নিভর করে।৭০-১০০ টাকা। এবার জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে উপভোগ করুন ঝুলন্ত ব্রীজের সৌন্দর্য।

আরও যেখানে যেতে পারেন - শান্ত কাপ্তাই লেক- রাঙ্গামাটি শহরের শেষ প্রান্তে এবং কাপ্তাই লেকের ধার ঘেষে ঝুলন্ত সেতুর অবস্থান। পাশে রয়েছে পর্যটন মোটেল।অপূর্ব নির্মান শৈলীর কারনে সেতুটি নজর কাড়ে।

এছাড়াও দর্শনীয় স্থান সমূহঃ উল্লেখিত জায়গাগুলো ছাড়াও আর কিছু সুন্দর দেখার মত জায়গা রয়েছে রাঙ্গামাটিতে। এখানে প্রতি বুধ ও শনি বার থবলাছড়ি চাকমা বাজার বলে একটা বাজার তথা হাট বসে। এটা রঙ্গামাটি শহরে উপজাতীয় প্রধান বাজার। নানা রকমের উপজাতীয় পন্যের সমাহার ঘটে এখানে। তাছাড়া সময় থাকলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও জাতীয় উদ্যান ঘুরে আসতে পারেন।

রাঙামাটিতে কীভাবে যাবেন,কেমন খরচ? 
ঢাকা টু রাঙ্গামাটি অনেক গুলো পরিবহন আছে যেমন: সোহাগ, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল ইত্যাদি।আপনি কল্যানপুর, কলাবাগান বা সায়দাবাদ থেকে রওনা হতে পারেন। ভাড়া ননএসি ৬০০-৬৫০ টাকা, এসি ৮০০-১০০০ টাকা।
    ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে রাঙ্গামাটি দিকে অনেকগুলো গাড়ী যায়।
    চট্টগ্রাম বিআরটিসি বাস ও অক্সিজেন মোড় থেকে বাসে রাঙ্গামাটি যেতে পারেন।
    ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির ভাড়া ৫৫০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি বাস ভাড়া ১০০ টাকা।
    ঢাকা থেকে সরাসরি রাঙ্গমাটি যায় শ্যামলী পরিবহনের এসি বাস। ভাড়া সাড়ে ৮শ’ টাকা।
    এছাড়া ডলফিন পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, ইউনিক সার্ভিস ইত্যাদি নন এসি বাসও যায় রাঙ্গামটি। ভাড়া জনপ্রতি সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা।
    এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের সিনেমা প্যালেস এবং বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতি বিশ মিনিট পর পর রাঙ্গামাটির উদ্দেশে বাস চলে। ভাড়া জনপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা।
    নৌ ভ্রমণের জন্য এখানেই পেয়ে যাবেন নানা রকম বাহন। দশ জনের চড়ার উপযোগি ইঞ্জিন নৌকা প্রতি ঘণ্টার জন্য ভাড়া ৫৫০ টাকা, ১৫-২০ জনের নৌকা প্রতি ঘণ্টা ৭৫০ টাকা, স্পিড বোট প্রতি ঘণ্টার জন্য ১৪০০ টাকা আর আধা ঘণ্টার জন্য ৭৫০ টাকা। এখান থেকে ইঞ্জিন নৌকায় চড়ে যেতে পারেন প্যাদা টিং টিং টুক টুকি কিংবা শুভলং।

রাঙামাটিতে থাকার জায়গাঃ

(১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স
১২ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ২০০০ টাকা
৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ১০০০ টাকা
যোগযোগ ফোনঃ ০৩৫১-৬৩১২৬ (অফিস)
ঢাকা থেকে এ হোটেলেরও বুকিং দিতে পারেন। যোগাযোগ- বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ফোন- ৮১১৭৮৫৫-৯, ৮১১৯১৯২।


(২) হোটেল সুফিয়া
২৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ১২০০ টাকা (একক), ১৮০০ (দ্বৈত)
৩৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৮০০ টাকা
যোগাযোগ
০৩৫১-৬২১৪৫, ৬১১৭৪, ০১৫৫৩৪০৯১৪৯
ঢাকা থেকেও বুকিং দিতে পারেন এ হোটেলের। যোগাযোগ- এম আর সেন্টার, ৭ম তলা, বাড়ি # ৪৯, সড়ক # ১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। ফোন- ৮৮২৬৭৫৯।

(৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেল
৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ১১৫০ হতে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত
১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৭৫০ হতে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত
যোগাযোগঃ
০৩৫১-৭১২১৪, ৬১২০০, ০১৭২৬-৫১১৫৩২, ০১৮১৫-৪৫৯১৪৬
কার মহাখালীতে পর্যটন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় থেকেও এ মোটেলের বুকিং দেওয়া যায়।

কী খাবেন
রাঙামাটি এর বিখ্যাত পিঠা,আনারস,কাঠাল, কলা,স্ট্রবেরী খেতে ভুলবেন না। এছাড়া শুটকি, রূপচাঁদা মাছ ইত্যাদি খুব জনপ্রিয় খাবার।

সঙ্গে যা রাখবেন 
হাড়ে চলার সময় আপনার এনার্জী প্রচুর খরচ হবে। তাই পানি ও নাস্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফ্লাক্সে করে চা অথবা কফি নিতে পারেন, গোসলের জন্য আলাদা জামা কাপড়, কেইডস ও স্পন্জ এর স্যোন্ডেল, ফাষ্ট এইড বক্স ও টর্চ লাইট। (কারন পাহাড়ে কখন হুট করে সন্ধ্যা লাগবে টের ও পাবেন না)।

সতর্ককতা
আর মাঝি বেচারা কে খাওয়াবেন। বেচারা সারাদিন আপনাদের সাথে ঘুরবে কিছু খাওয়ার সময় পাবে না।যদিও পর্যটন এলাকা তবুও বেশি রাত পর্যন্ত বাইরে থাকবেন না। কোনও রকম ময়লা আবর্জনা সৈকতে ফেলবেন না।
(সংকলিত)

*ক্যাম্পিং* *রাঙামাটি* *ভ্রমন* *ভ্রমনটিপস*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★