লিপিস্টিক

লিপিস্টিক নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি মেয়েরা মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঠোঁট রাঙিয়ে আসছে। প্রাচীনকালে এজন্য বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করলেও আধুনিক সময়ে নারীদের ঠোঁটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রয়েছে লিপস্টিক। লিপস্টিক এমন এক প্রসাধনী যা যেকোনো বয়সেরই নারীরই ভীষণ পছন্দের। মেকআপও পূর্ণতা পায় না লিপস্টিক ছাড়া। কোন রংয়ের লিপস্টিকে নিজেকে ভালো দেখাবে, ব্যক্তিত্বের সাথে যাবে, কিভাবে দিলে ভালো দেখাবে – এসব নিয়ে মাঝে মাঝেই দোটানায় পড়ে যান? আপনার জন্যই রইলো লিপস্টিক লাগানোর কিছু খুঁটিনাটি টিপস।
 
 
(কনটেন্টটির ছবিগুলোতে ক্লিক করে প্রোডাক্ট গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন)
 
লিপস্টিক নিয়ে কিছু পরামর্শ:
লিপস্টিকের রং বাছাই
রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ত্বকের রঙের দিকে খেয়াল রাখুন। আপনি যদি খুব ফরসা হন তাহলে হালকা গোলাপি টোনের ন্যুড লিপস্টিক বেছে নিন। আপনার ত্বকের বর্ণ হলুদাভ হলে উষ্ণ বাদািম, কোরাল ও পিচ শেডগুলো খুব সহজে মানিয়ে যাবে। জলপাই আর গাঢ় বণের্র ত্বকের জন্য ব্রোনজ অথবা ক্যারামেল শেডের লিপস্টিকগুলো মানানসই। একই রংয়ের লিপস্টিক একেক ত্বকে দেখতে ভিন্ন লাগতে পারে। তাই পছন্দের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি রং বাছাই করে তবেই মানানসই লিপস্টিক বাছাই করতে হবে। রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স ও স্থানকে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ। কর্মক্ষেত্রে হালকা রঙের লিপস্টিক দেয়া ভালো। পার্টিতে গাঢ় রঙের লিপস্টিক সাঁজের জমকালো ভাব এনে দেয়। 
 
ক্রিমি না ম্যাট
ক্রিমি বা ম্যাট কেমন লিপস্টিক ব্যবহার করবেন তা নির্ভর করে নিজের পছন্দের ওপর। তবে ন্যুড লিপস্টিকের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হতে হবে। ক্রিমি টেক্সচারের লিপস্টিক ব্যবহারই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ। অনেক সময় ম্যাট ন্যুড লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁট বেশ শুষ্ক দেখায়, ঠোঁটের ত্বকের ভাঁজগুলো দেখা যায়। আপনার ঠোঁট যদি পাতলা হয় তবে ফ্রস্ট টেক্সচার এড়িয়ে যান নয়তো আপনার ঠোঁট আরও ছোট ও পাতলা দেখাবে। 
 
 
সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা
মেইকআপের ক্ষেত্রে চেহারার যে কোনো একটি অংশকে ফুটিয়ে তোলা উচিত। তাই যদি ঠোঁটে গাঢ় রংয়ের লিপস্টিক লাগাতে চান হবে অবশ্যই মুখ এবং চোখের মেইকআপ হালকা করতে হবে। অন্যদিকে চোখে গাঢ় মেইকআপ করলে ঠোঁটে হালকা রংয়ের লিপস্টিক ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁটের রঙে অসামঞ্জস্যতা থাকলে লিপস্টিক দেওয়ার আগে এক পরত ফাউন্ডেশন অথবা কনসিলার দিয়ে অসামঞ্জস্যতাটুকু ঢেকে ফেলুন।
 
বাড়তি চকচকে ভাব এড়িয়ে চলুন
ঠোঁটে আলগা চকচকে উপাদানের ব্যবহার দেখতে বেশ বাজে লাগে। লিপস্টিকের ময়েশ্চারাইজার এবং এতে ব্যবহৃত উপাদানের কারণে ঠোঁটে বাড়তি চকচকেভাব থাকলে তা দেখতে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু ঠোঁটে মেটালিক বা জরির মতো ‘‍শিমার’ ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
 
প্রাইমার ব্যবহার
লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে। মেইকআপের শুরুতে যেমন ত্বকে প্রাইমার ব্যবহার করতে হয় একইভাবে ঠোঁটেও প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। এতে লিপস্টিকের রং ফুটে উঠবে এবং অনেকক্ষণ স্থায়ী হবে।
 
লিপ লাইনার ব্যবহার
ঠোঁটের গঠন নিখুঁত করে তুলতে লিপ লাইনার ব্যবহার বেশ জরুরি। ঠোঁট মোটা বা চিকন দেখানোর জন্য লিপ লাইনার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে লিপস্টিকের রংয়ের সঙ্গে লিপ লাইনারের রং না মিললে দেখতে উল্টা বাজে দেখাবে। ঠোঁটের রঙের সঙ্গে অথবা লিপস্টিকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপ লাইনার পরুন, তারপর পছন্দের লিপস্টিকটি দিন। এতে যেমন লিপস্টিকের স্থায়িত্ব বাড়বে তেমনি আপনার ঠোঁটের রং আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
 
 
 
ঠোঁটের মাঝামাঝি থেকে শুরু করতে হবে
ঠোঁটের মাঝখান থেকে লিপস্টিক লাগানো শুরু করতে হবে। এতে লিপস্টিক ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে। তাছাড়া গাঢ় লিপস্টিকের ক্ষেত্রে একটি ব্রাশ দিয়ে ঠোঁটে লাগালে তা আরও নিখুঁত হবে।
 
ঠোঁটের চারপাশ হালকা করে নিন
ঠোঁটের চারপাশের রেখা বেশি নিখুঁত হলে দেখতে অস্বাভাবিক লাগতে পারে। এক্ষেত্রে চারপাশে খানিকটা হালকা স্মাজ করে নিলে দেখতে ভালো দেখাবে। ন্যুড লিপস্টিকের সঙ্গে স্বচ্ছ ক্লিয়ার অথবা একই শেডের লিপগ্লস আপনার ঠোঁটের সাজে আনতে পারে ভিন্ন মাত্রা। লিপগ্লসের ব্যবহারে একেবারে অনভ্যস্ত না হলে একটু গ্লসের ছোঁয়া লাগিয়ে নিতে ভুলবেন না। 
 
লিপস্টিক যেন দাঁতে না ছড়ায়
লিপস্টিক যেন দাঁতে লেগে না যায় সেজন্য একটি আঙ্গুল ঠোঁটের সামনে রেখে মুখটি “O” আকৃতি করে ফু ফু শব্দ করে বাতাস বের করুন তাহলে অতিরিক্ত লিপস্টিক আঙ্গুলে এসে পড়বে এবং দাঁতে আর লাগবেনা।
 
হাল ফ্যাশনের লিপস্টিক
গত বছর লিপস্টিকের চল ছিল লাল, কমলা আর গোলাপির মতো উজ্জ্বল রংগুলো। আর এখন দেখা যায় বেরি শেডের লিপস্টিক। অর্থাৎ বেরি-জাতীয় ফলগুলোর রং যেমন বেগুনি, গাঢ় লাল ইত্যাদি রঙের নানা শেড। পশ্চিমা মডেল কাইলি জেনার ও কেনডেল জেনারের ন্যুড লিপ বর্তমানে আলোচিত লিপস্টিক ট্রেন্ড। গাঢ় রংগুলো তো চলছেই, তবে সাজতে পছন্দ করেন এমন সবাই সংগ্রহে রাখছেন ত্বকের সঙ্গে মানানসই ন্যুড রঙের লিপস্টিক। 
 
 
লিপস্টিক কেনার সতর্কতা
মার্কেটে নানা রঙের লিপস্টিক পাওয়া যায়। লিপস্টিক মানে কিন্তু একটা রং নয়, এর মধ্যেই রয়েছে রঙের ভিন্নতা। গোলাপি, লালচে, বাদামি, পিচ ইত্যাদি নানা রঙের আভায় ন্যুড লিপস্টিকের শেড অগণিত। লিপস্টিক কেনার সময় অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ড, ভালো দোকান, বিশ্বস্ত শপিং সাইট এবং মেয়াদ দেখে কেনা উচিত। অনেকদিনের পুরনো এবং মান সন্মত লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটের ক্ষতিহবার আশংকা থাকে। অনলাইন শপিং সাইট আজকের ডিলে রয়েছে বিশ্বের নামী দামী ব্র্যান্ডের নামকরা সব লিপস্টিক, যেমন: জর্ডানা, নিওর, গোল্ডেন রোজ, লরিয়েল, ম্যাক, ক্লিনিক, ল্যাকমে প্রভৃতি। এখান থেকে কেনার একটাই সুবিধা হলো, এখানে অনেক টাকা গুনে নকল লিপস্টিক পাওয়ার চান্স একদমই নেই l 
 
লিপিস্টিক ছাড়াও সবধরনের কসমেটিক্স থেকে আপনার পছন্দের পন্যটি বেছে নিতে এখানে ক্লিক করুন
*লিপিস্টিক* *সৌন্দর্য্যচর্চা* *বিউটিটিপস* *স্মার্টশপিং*

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

নারীর সৌন্দর্য্যে অন্যতম হল ঠোঁট। আর এই ঠোঁটকে রাঙাতে লিপিস্টিকের জুড়ি নেই। কিন্তু শীতের রুক্ষতায় ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এই সময় কি লিপস্টিক ব্যবহার করা যাবে? অবশ্যই শীতেও লিপিস্টিকস ব্যবহার করা যাবে। চুলন শীতে ব্যবহার উপযোগী ৪টি লিপিস্টিক সম্পর্কে জেনে নেই। যে গুলো ঠোঁটে কয়েকবার লাগালেই এর সফট,বাটারি টেক্সচার অনুভব করতে পারবেন। ক্রিমের ন্যায় এই লিপস্টিক গুলো শীতের সময় ব্যবহারে ঠোঁটের রুক্ষতা কমানোর সাথে সাথে ঠোঁটকে কোমল করে তুলবে।

ELF ময়শ্চারাইজিং লিপস্টিক
এটি ময়শ্চারাইজিং লিপস্টিক। শীতের সময় যাদের ঠোঁট ফেঁটে যায় তারা অনায়াসে এই লিপিস্টিক ব্যবহার কেরতে পারেন। এটি শীতের হাত থেকে আপনার ঠোঁটকে রক্ষা করবে।  বাজারের অন্যান্য লিপিস্টিকের চেয়ে এটি হাই-কোয়ালিটির। এই ধরনের লিপিস্টিকের রয়েছে ক্রিমি ফরমুলা যা আপনার ঠোঁটকে রাখবে সবসময় সজীব। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন A, C, ও  E এর সংমিশ্রন। এই ধরনের তিন পিস লিপিস্টিকের দাম  ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা।

MAYBELLINE সেনসেশনাল লিপস্টিক
লিপিস্টিক দিয়ে মহময়ী রুপে সাজতে যাদের ভাল লাগে তারা বেছে নিতে পারেন মেবিলাইন সেনসেশনাল লিপিস্টিক। এই লিপস্টিকটি গ্লসি ধাঁচের। ঠোটের আবেদন বাড়িয়ে দেয় বলে এই লিপস্টিকের চাহিদা প্রচুর। শীতে যারা ঠোঁট সাজাতে ভয় করেন তাদের জন্য এই লিপিস্টিকটি অন্যতম প্রসাধনী হতে পারে। এই ধরনের তিন পিস লিপিস্টিকের দাম একটু বেশি। ভালমানেরটা কিনতে গেলে আপনাকে  ৮০০ থেকে ১৫০০  টাকা পর্যন্ত গুনতে হতে পারে। 


3 MUA MATTE লিপস্টিকস
মুউয়া ম্যাট লিপিস্টিকস বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এই লিপিস্টিক গুলোর বেশ কয়েকটি কালার কম্বিনেশন রয়েছ। এই লিপস্টিকটি লাগানোর সময় বেশ ক্রিমি মনে হলেও কিছুক্ষণ পরে একদম ম্যাট হয়ে যায়। ঠোটে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয় এটি। শীতের এই সময়টাতে যারা ঠোঁট ফাটা নিয়ে চিন্তা করেন তারা নির্দ্বিধায় এই প্যাক বেছে নিতে পারেন। এটি আপনার ঠোটের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শীতের শুষ্কতাও কিছুটা কমাবে। 

REVLON BURST লিপ গ্লস
যারা লিপিস্টিকের বদলে একই ধাচের লিপ গ্লাস ব্যবহার করেন তাদের জন্য REVLON BURST লিপ গ্লসটি খুব কার্যকরী হবে। এটি আপনাকে আকর্ষণীয় লুক দেবার পাশাপাশি ঠোঁটকে রাখবে কোমল ও মসৃন। এই লিপ গ্লাসটি ঠোঁটে লিপস্টিকের মতো ভারী আবরণের বদলে হালকা লালচে শেড দিবে। যারা বেশি গাঢ় লাল পছন্দ করেন না তারা এখনি এই লিপ গ্লাসটি কিনে নিতে পারেন।
*লিপিস্টিক* *ঠোটেরযত্ন* *সৌন্দর্য্যচর্চা* *শীতেত্বকেরযত্ন* *শপিং* *স্মার্টশপিং*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঠোঁট রাঙাতে লিপিস্টিকের জুড়ি নেই। তবে কোন রঙের লিপিস্টিকের কি আবেদন কখন কোন রঙ আপনার জন্য পারফেক্ট তা কিন্তু আপনাকে জানতেই হবে। লিপিস্টিকের রঙের কম্বিনেশন না বুঝলে নারীর আবেদন ও আকর্ষণ ধরে রাখা খুবই কষ্টকর।
একটি পুরুষের চোখে নারীর মুখমন্ডলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে ঠোঁট আর রঙিন ঠোঁট জোড়া থেকে পুরুষের চোখ স্বভাবতই সরানো মুশকিল। কেন নানান রঙে রাঙানো ঠোঁটের প্রতি পুরুষের এতো আকর্ষন? এর কারন হল ভিন্ন ভিন্ন রঙের লিপস্টিক প্রকাশ করে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সেটার আছে আলাদা আকর্ষন করার ক্ষমতা। লিপস্টিকের রঙ দিয়েই আপনি প্রকাশ করতে পারবেন আপনার ব্যক্তিত্ব ও মনের ভাব। চলুন তাহলে জেনে নেই লিপিস্টিকের রঙ বিচিত্রা।

লাল লিপস্টিক :
লাল হলো আবেদনময় একটি রঙ। লাল রঙের লিপস্টিক সাধারণত ঠোঁট জোড়াকে আবেদনময় দেখানো ও বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার জন্যই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে তা যদি হয় গ্লসি লাল লিপস্টিক তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে যৌন আবেদন প্রকাশ করে। ম্যাট লাল লিপস্টিক চেহারায় একটি নাটকীয় সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। চেহারায় কিছুটা আবেদন ও কিছুটা রহস্যের সংমিশ্রন তৈরী করে ম্যাট লাল লিপস্টিক। লাল লিপস্টিক হলো ড্রামা, যৌন আবেদন, প্যাশন, উত্তেজনা ও আনন্দের প্রতীক। বিজ্ঞানীরা বলেন, তীব্র যৌন উত্তেজনার সময়ে নারীর ঠোঁট রক্তিম হয়ে ওঠে। লাল লিপস্টিক সেই রক্তিমতার প্রতীক।

গোলাপি লিপস্টিক :
গোলাপি, ম্যাজেন্টা, হট পিঙ্ক কিংবা হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক সমগ্র বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয়। বেশ প্রাচীনকাল থেকেই ঠোঁট জোড়াতে গোলাপি আভা নিয়ে আসতে নারীরা গোলাপি লিপস্টিক লাগাতে ভালোবাসেন। গোলাপি রঙটি নারীত্ব, কমনীয়তা ও রোমান্সের প্রতীক। নিজের নারীত্বকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে গোলাপি লিপস্টিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ত্বকের রঙের সাথে মিলিয়ে হালকা কিংবা গাঢ় গোলাপি রঙ ব্যবহৃত হয়।

কমলা বা কোরাল লিপস্টিক :
যৌবনের উচ্ছাস, আনন্দ, খুশি ও প্রানশক্তি প্রকাশের জন্য কমলা লিপস্টিককে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। নিজের মনের ভেতরের উচ্ছাস প্রকাশের ভাষা হতে পারে কমলা কিংবা কোরাল লিপস্টিক। মানুষের সাথে কথা বলার সময় তাদের মনযোগ আকর্ষণ এবং নিজেকে প্রানবন্ত দেখানোর জন্য ঠোঁট জোড়াকে রাঙিয়ে নিতে পারেন কমলা কিংবা কোরাল রঙের লিপস্টিকে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ত্বকের সঙ্গে মানানসই রঙ বেছে নিতে হবে।

বার্গেন্ডি বা পার্পল লিপস্টিক :
বার্গেন্ডি কিংবা পার্পল লিপস্টিক ম্যাজিক, ক্ষমতা, মর্যাদা, আভিজাত্য ও গভীরতা প্রকাশ করে। আপনার গায়ের রঙ যদি শ্যামলা হয় তাহলে পার্পল ও বার্গেন্ডি লিপস্টিক আপনার নারীত্বকে বেশ মর্যাদার সাথে প্রকাশ করবে। যাদের গায়ের রঙ ফর্সা তারা এই রঙ ২টার হালকা শেড গুলো ব্যবহার করে প্রকাশ করুন নিজের মর্যাদা, নারীত্ব ও আভিজাত্য।

ন্যুড ও ব্রাউন লিপস্টিক :
ন্যুড ও ব্রাউন লিপস্টিকের প্রচলন সব সময়েই থাকে। এ রঙ গুলো ব্যবহার করে প্রায় সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ন্যুড ও ব্রাউন লিপস্টিক প্রকৃতি ও নিরপেক্ষতার প্রতীক। ন্যুড ও ব্রাউন রঙের লিপস্টিক প্রায় সব ধরনের ত্বকেই মানিয়ে যায়। তবে এ দুটি রঙের লিপস্টিক লাগালে দাঁত কিছুটা হলুদ দেখানোর সম্ভাবনা থাকে।
*প্রশাধনী* *লিপিস্টিক* *ঠোটেরযত্ন* *সৌন্দর্য্যচর্চা*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রাকৃতিক কারনে মেয়রা এমনিতেই সুন্দর হয়। তারপরেও বেশির ভাগ সময় সাজগোজ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটান ফ্যাশন প্রিয় নারীরা। সৌন্দর্য্যের বিকাশ ঘটানো এবং নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে অন্যান্য অনুসঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম উপাদান প্রসাধনী।  নারীর সৌন্দর্য্যে অন্যতম হল ঠোঁট। আর এই ঠোঁটকে রাঙাতেই ব্যবহৃত নানারকম ঠোঁট পালিশ বা রঙ যাকে কিনা লিপস্টিক বলে। কোথায় এবং কিভাবে এই লিপস্টিকের উদ্ভব তা বের করতে ইতিহাসের পাতায় ডুব দিতে হল।

আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে ব্যবিলনের কাছে ঐতিহাসিক উর শহরে মেসপটেমিয়ান নারীদের ঠোঁটে লিপস্টিকের ব্যবহার প্রথম দেখা যায়। সেসময় লিপস্টিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় মূল্যবান পাথর গুড়া। পাথর চূর্ণ করে একেবারে মিহি গুড়ার প্রলেপ লাগানো হত ঠোঁটের উপর। ইন্দাস ভেলি সভ্যতায় নারীরা লাল রং তাদের ঠোঁটে প্রয়োগ করত।

ঐতিহাসিক মিশরীয় নারীরা আয়োডিন এবং ব্রোমিন থেকে রক্ত বর্ণ রং নিংড়ে বের করত ঠোঁট পালিশ হিসেবে ব্যবহার করার নিমিত্তে। সময়ের আবর্তনে এর নাম হয় মৃত্যু চুম্বন (The kiss of death)। রানী ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করতেন। ক্লিওপেট্রার লিপস্টিক তৈরী হত মেরুন রঙের বিটল পোকা থেকে। যা একটি গাঢ় লাল রঙের আভা তৈরী করত। তাছাড়া লিপস্টিকের বেজ হিসেবে ব্যবহার করতেন পিঁপড়া। ১৬০০ শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথ এর শাসনকাল লিপস্টিক বেশ জনপ্রিয় প্রসাধনী ছিল। চক সাদা মুখে গাঢ় রঙের পালিশের প্রকাশ ঘটান। তখন এই ঠোঁট পালিশ তৈরি করা হত মোম আর গাছ-গাছড়া থেকে।

লিপস্টিক একটি আকর্ষনীয় এবং জনপ্রিয় প্রসাধনী হলেও এর বিরুদ্ধে রয়েছে বহু সমালোচনা। প্রথমদিকে ইংল্যান্ডের এক ধর্মযাজক থমাস হল লিপস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেন। তার মতে, মুখে রং ব্যবহার করা শয়তানের কাজ।

১৭৭০ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট একটি আইন পাশ করে লিপস্টিকের বিরুদ্ধে। সেখানে বলা হয়, কোন নারী সৌন্দর্য্য চর্চার মাধ্যমে কোন পুরুষকে বিবাহের জন্য বিমোহিত করলে তা ডাইনির মত কাজ বলে বিবেচিত হবে।১৮০০ সালে রানী ভিক্টোরিয়া প্রকাশ্যে এই লিপস্টিকের বিরোধিতা করেন। এত সমালোচনার পরও চলচ্চিত্রের কল্যাণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর লিপস্টিক আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। (তথ্য-ইন্টারনেট)

লিপস্টিকের আকার হয় মোম দন্ডের ন্যায়। এটা তৈরীতে বিশেষ উপাদান হল জলপাই, খনিজ, রেড়ির তৈল, কোকোয়া বাটার, পেট্রোলিয়াম এবং ভেড়ার চর্বি। এছাড়াও ভিটামিন-ই, এ্যলোভেরা, এমাইনো এসিড, সানস্ক্রিন, কোলাজেন এর সাথে বিভিন্ন রঙ মিশিয়ে আকার প্রদান করা হয়। বর্তমানে বহু রকম লিপস্টিক পাওয়া যায়। সময়ের আবর্তনে লিপস্টিক ধারণ করে আধুনিক রূপ। ১৯৯০ সালে লিপ লাইনার এর আগমন ঘটে।

বর্তমানে লিপিস্টিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠোঁট রাঙাতে নানা রঙের লিপিস্টিক সব সময় ব্যবহার করে থাকেন নারীরা। তাইতো ফ্যাশনের অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে লিপিস্টিকের জুড়ি নেই।
*লিপিস্টিক* *প্রশাধনী* *ঠোটেরযত্ন* *সৌন্দর্য্যচর্চা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★