ল্যাম্প শেড

ল্যাম্পশেড নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঘরের সৌন্দর্য তুলে ধরতে চাই পরিপূর্ণ সজ্জা। নানা ধরনের আসবাবের সঙ্গে টেবিলবাতিতে আলো-অাঁধারির খেলা অন্দরে নিয়ে আসতে পারে আলাদা ভালোলাগা। আজকাল অনেকেই নিজের ঘরকে মনের মতো করে সাজাতে চান। আর ভিন্নধর্মী আলোকসজ্জা ঘরের ভেতরে ভিন্নতা নিয়ে আসে। তাই ঘরে আলোকসজ্জার জন্য নানা ধরনের টেবিলবাতি ব্যবহার করতে পারেন। বাজারেও এখন আছে নানা ধরনের টেবিল-ল্যাম্প। তবে ঘরে টেবিল-ল্যাম্প ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। কারণ, কোন বাতি কোথায় ব্যবহার করবেন তা জেনেশুনে কিনুন। 
বাসার ড্রয়িংরুমে লম্বা স্ট্যান্ডের টেবিল-ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়। তিন থেকে চার ফুট লম্বা হতে পারে এসব ল্যাম্পের স্ট্যান্ড। রুমের তিন পাশে তিন সাইজের ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়। তবে আলোর ক্ষেত্রে অবশ্যই ঘরের অন্য আসবাব, পর্দা বা দেয়ালের রংটা মাথায় রাখা জরুরি। শোবার ঘরে একটু কম আলোই ভালো। অনেকে ঝুলন্ত ডিমলাইট ব্যবহার করেন বেডরুমে। এখানে ভিন্নতা আনতে শেড দিতে পারেন। বেডরুমের এক কোনায় রাখতে পারেন স্ট্যান্ড লাইট। রুমে শুয়ে বই পড়ার অভ্যাস থাকলে টেবিলের ওপর রাখতে পারেন নরম রঙের বাতি। 
 
 
বাজারে নানা ধরনের টেবিল-লাইট আসছে নিয়মিত। কাগজ বা কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের শেড পাওয়া যায়, যা লাইটের ওপর বসিয়ে দিতেই ঘরের রং পাল্টে যাবে। নানা ধরনের সিরামিকস বা মাটির তৈরি পাত্রের টেবিলল্যাম্প আছে। তা ছাড়া কাঠের গুঁড়ির আদলে তৈরি বাতি আছে বিভিন্ন দোকানে। অনেকেই পিতলের বাতিগুলো পছন্দ করে। তা ছাড়া ঝুলন্ত ল্যাম্প শেডও ভালো চলছে এখন। এসবের বাইরেও বাঁশ বা বেতের তৈরি টেবিল-ল্যাম্পও বাজারে আছে।
 
 
ঝাড়বাতি বসার ঘরেই মানায় ভালো। তাই বলে অন্য ঘরই বা কেন বাদ যাবে। ঝাড়বাতি না হোক, ফ্যাশনেবল বাতি দিয়ে সাজাতে পারেন ঘর। ঘরের বাহারি বাতির সাজ নিয়েই আজকের আয়োজন। চলুন জেনে নেই কোন ঘরের বাতির সাজ কেমন হবে ঃ
 
♦ খাবার টেবিলের ওপর শেড দেওয়া বাতিতে উজ্জ্বলতা বাড়াতে পারেন। বাচ্চাদের ঘরে তাদের পছন্দের কোনো চরিত্র বা খেলনার আদলে তৈরি বাতি দিতে পারেন। স্ট্যান্ড লাইটের পাশে রাখতে পারেন পটারি, ফুলদানি বা কোনো খেলনা হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি। আবার খাবার টেবিল বরাবর সিলিং থেকে ছোট-বড় কয়েকটি হ্যাংগিং লাইটও ঘরে আনবে ভিন্ন মাত্রা।
 
 
 
 
♦ বসার ঘর হলেই হবে না, ঝাড়বাতির জন্য চাই বড় আয়তনের বসার ঘর। ছোট ঘরে বেমানান লাগে ঝাড়বাতি। মাঝারি ধরনের বসার ঘরের জন্য সিলিং লাগোয়া ছোট আকারের ঝাড়বাতি বেছে নিতে পারেন। বিভিন্ন ফুলের নকশা বা চার কোনাকৃতির ঝাড়বাতি মাঝারি ধরনের বসার ঘরে ভালো মানায়। বড় বসার ঘরের ঝাড়বাতি নির্বাচনে ডিজাইন ও নকশায় পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন। ডুপ্লেক্স বাড়ি হলে দোতলায় উঠার পেঁচানো সিঁড়ি বরাবর ঝাড়বাতি লাগালে ভালো দেখাবে। মডার্ন সাজের সঙ্গে লাগাতে পারেন ক্রিস্টালের ঝলমলে ঝাড়বাতি।
 
 
♦ ঝাড়বাতি ছাড়াও ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে এখন নানা রকম ফ্যাশনেবল বাতি পাবেন। প্যাসেজ থেকে শোবার ঘর এমনকি শিশুর ঘরের জন্যও পাবেন বিভিন্ন রকমের মানানসই বাতি। ঘরের ইন্টেরিয়র পরিকল্পনার শুরুতেই লাইটিং প্ল্যান করে নিন। অন্দরসজ্জায় সাধারণত তিন ধরনের বাতির ব্যবহার হয়। জেনারেল, টাস্ক এবং একসেন্ট লাইটিং। এ তিন ধরনের লাইটিংয়ের পরিকল্পনামাফিক ব্যবহার সব ঘরেই জমকালো আমেজ দিতে যথেষ্ট। আলোর সাধারণ ব্যবহারের জন্য জরুরি জেনারেল লাইটিং। ঘরের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত আলো পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হয় এটি। সিলিং লাইট, টেবিল এবং ফ্লোর ল্যাম্প, আপ অ্যান্ড ডাউন ওয়াল লাইট ইত্যাদি জেনারেল লাইটিংয়ের মধ্যে পড়ে। টাস্ক লাইটিংয়ের কাজ হচ্ছে জরুরি কাজের জায়গাগুলো আলোকিত করা। শোবার ঘরের স্টাডি টেবিলই হোক বা রান্নাঘরের কাউন্টারটপ। ট্র্যাক লাইটিং, বিভিন্ন ধরনের পেনডেন্ট ল্যাম্প, আন্ডার কেবিনেট লাইট স্ট্রিপ ব্যবহৃত হয় ঘরের টাস্ক লাইটিংয়ের জন্য। একসেন্ট লাইটিং ব্যবহৃত হয় ঘরের কোণ কিংবা একটি নির্দিষ্ট জিনিসকে হাইলাইট করার জন্য। দেয়ালের পেইন্টিং, স্কাল্পচার, গাছ অথবা কোনো বিশেষ শোপিস। হ্যালোজেনসহ বিভিন্ন ধরনের স্পটলাইট ব্যবহার হয় একসেন্ট লাইটিংয়ে।
 
 
 
 
♦ বসার ঘরে লাগাতে পারেন রকমারি ওয়াল ব্রাকেট। স্টিল, পিতল ইত্যাদি ফ্রেমের ওপর একটি বা দুটি আলোর সেট। ঝাড়বাতির সঙ্গে ম্যাচিং করে ওয়াল ব্রাকেট পাওয়া যায়। ব্রাকেট ব্যবহার করতে চাইলে বসার ঘরের জানালার ওপর সেট করুন। বড় বসার ঘরে অথবা ফলস সিলিং বসানো থাকলে সোফার এক পাশে রাখতে পারেন গাছের আদলের স্ট্যান্ডিং লাইট। অ্যালুমিনিয়াম স্ট্যান্ডে ক্রিস্টাল আর কাচের তৈরি এই লাইট বেশ জমকালো ভাব আনবে ঘরে।
 
♦ শোবার ঘরে ওয়াল লাইটের সঙ্গে ঘরের এক কোণে পেনডেন্ট লাইটও লাগিয়ে নিন। বিছানার পাশে ওয়াল ব্রাকেট লাগালে বইপড়ার কাজে লাগবে। শোবার ঘরে ডিমার লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রাখুন। আবার ড্রেসিং টেবিলের ওপর লাগানোর জন্য স্পটলাইটই উপযুক্ত।
 
♦ ঘরের প্যাসেজ বা প্রবেশপথে দরকার পর্যাপ্ত আলো। সিলিং লাইট কিংবা আপ অ্যান্ড ডাউন লাইটের ব্যবহার এখানে বেশি মানানসই। আর দেয়ালে কোনো পেইন্টিং, আয়না বা শিল্পকর্ম থাকলে তার ওপর ব্যবহার করুন স্পটলাইটের মতো একসেন্ট লাইটিং।
 
♦ ছোটদের ঘরেও ব্যবহার করুন বিভিন্ন ডেকোরেটিভ লাইট। যেমন- খেলার ঘর সাজাতে পারেন রিকশা, সাইকেল, জিপ, ফুটবল ইত্যাদির আদলে তৈরি সিলিং হ্যাংগিং দিয়ে। অথবা লাগানো যেতে পারে বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন বা মিকি মাউসের আদলে তৈরি ওয়াল ব্রাকেটও। পড়ার টেবিলে রাখার জন্য মজার কবিতা লেখা ল্যাম্পশেড পাবেন ।
 
 
 
 
 
দরদাম
বিভিন্ন ধরনের টেবিল-ল্যাম্পের ভেতরে কাপড়ের তৈরি ল্যাম্প শেড পাওয়া যাবে ২৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। মাটি বা সিরামিকের তৈরি পটারি আকারের লাইট পাবেন ৩০০ থেকে ৯০০ টাকায়, কাঠের তৈরি লাইট পাবেন দুই হাজার টাকার ভেতর। পিতলের নানা ধরনের লাইটের দাম পড়বে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। 
 
যেখানে পাবেন
রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে মিলবে টেবিল-ল্যাম্প। আড়ং, যাত্রা, আইডিয়াস, লাইট স্টোরসহ নিউমার্কেট, গুলশান, বনানী, রামপুরা, মালিবাগ, উত্তরা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন দোকানে পাবেন টেবিল-ল্যাম্প। অনলাইন শপ আজকের ডিলেও পাওয়া যাচ্ছে বাহারি ডিজাইনের ল্যাম্পশেড l চলুন আজকের ডিলে ঢু মেরে আসা যাক l 
 
(সংকলিত) 

 

*ল্যাম্পশেড* *বাতিরসাজ* *গৃহসজ্জা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★