শবেবরাত

শবেবরাত নিয়ে কি ভাবছো?

খুশি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মহান আল্লাহ তাআলা আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতদের জন্য ইবাদতের বিশেষ কিছু সুবিধা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি রাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইবাদতের এই বিশেষ পাঁচটি রাত হলো: শবে জুমা বা জুমার রাত, শবে ঈদাইন বা দুই ঈদের রাত্রিদ্বয়, শবে বরাত বা মুক্তির রাত তথা নিসফ শাবান বা শাবান মাসের মধ্য রাত, শবে কদর বা কদরের রাত অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রজনী।


শবে বরাতের নফল নামাজ ও ইবাদত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে ও দিনে রোজা পালন করবে। (ইবনে মাজাহ)। ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নামাজ। সুতরাং নফল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নফল নামাজ। প্রতিটি নফল ইবাদতের জন্য তাজা অজু বা নতুন অজু করা মোস্তাহাব। রাতের নিয়মিত নফল ইবাদতের মধ্যে রয়েছে; বাদ মাগরিব ছয় থেকে বিশ রাকাত আউওয়াবিন নামাজ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবে; এসবের মাঝে কোনো মন্দ কথা না বলে, তার এই নামাজ ১২ বছরের ইবাদতের সমতুল্য গণ্য হবে। হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাকাত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। (তিরমিজি, মিশকাত, ফয়জুল কালাম, হাদিস: ৪৪৯-৪৫০)। রাতের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। (আল কোরআনুল করিম, পারা: ১৫, সুরা-১৭ ইসরা-বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭৯)। এ ছাড়া সালাতুস তাসবিহ এবং অন্যান্য নফল নামাজ আদায় করা যায়। রজব শাবান মাসের রাতের নফল নামাজ তারাবিহ নামাজ বা কিয়ামুল লাইলের প্রস্তুতি।

মধ্য শাবানের নফল রোজা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত কর ও দিনে রোজা পালন কর। (সুনানে ইবনে মাজাহ)। এ ছাড়া প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের নফল রোজা তো রয়েছেই, যা আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পালন করেছিলেন এবং আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদও (সা.) পালন করতেন, যা মূলত সুন্নত। সুতরাং তিনটি রোজা রাখলেও শবে বরাতের রোজা এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তা ছাড়া, মাসের প্রথম তারিখ, মধ্য তারিখ ও শেষ তারিখ নফল রোজা গুরুত্বপূর্ণ; শবে কদরের রোজা এর আওতায়ও পড়ে। সওমে দাউদি বা হজরত দাউদ (আ.)-এর পদ্ধতিতে এক দিন পর এক দিন রোজা পালন করলেও সর্বোপরি প্রতিটি বিজোড় তারিখ রোজা হয়; এবং শবে কদরের রোজার শামিল হয়ে যায়। সর্বোপরি রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের পর রজব ও শাবান মাসে বেশি নফল ইবাদত তথা নফল নামাজ ও নফল রোজা পালন করতেন; শাবান মাসে কখনো ১০টি নফল রোজা, কখনো ২০টি নফল রোজা, কখনো আরও বেশি রাখতেন। রজব ও শাবান মাসের নফল রোজা রমজান মাসের রোজার প্রস্তুতি।

একটি রোজার মাসআলা
হাদিস শরিফে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনা শরিফে হিজরতের পরে দেখতে পেলেন মদিনার ইহুদিরাও আশুরার একটি রোজা পালন করেন। তখন তিনি সাহাবিদের বললেন, আগামী বছর থেকে আমরা আশুরার আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখব, ইনশা আল্লাহ! যাতে তাদের সঙ্গে মিল না হয়। তাই আশুরার রোজা অর্থাৎ মহররম মাসের দশম তারিখের রোজার সঙ্গে তার আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখা মোস্তাহাব। শবে বরাতসহ বছরের অন্য নফল রোজাগুলো একটি রাখতে বাধা নেই; বরং এক দিন পর এক দিন রোজা রাখা হজরত দাউদ (আ.)-এর সুন্নত বা তরিকা; যা নফল রোজার ক্ষেত্রে উত্তম বলে বিবেচিত এবং সওমে দাউদি নামে পরিচিত। অনুরূপভাবে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজাও আলাদা আলাদা বা একত্রেও রাখা যায়।

শবে বরাত ও হালুয়া-রুটি
শবে বরাতের সঙ্গে হালুয়া-রুটির একটি সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। হালুয়া আরবি শব্দ। অর্থ হলো মিষ্টি বা মিষ্টান্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি পছন্দ করতেন এ কথা সুবিদিত; তিনি গোশতও পছন্দ করতেন তাও অবিদিত নয়। যা-ই হোক শবে বরাত হলো ইবাদতের রাত। দান-খয়রাত করা ও মানুষকে খাওয়ানো এক প্রকার ইবাদত। তবে এই দিন ও রাতকে হালুয়া-রুটিতে পরিণত করে ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তেমনি হালুয়া-রুটির ওপর ফতোয়া প্রদান করাও উচিত নয়।

যাদের গুনাহ ক্ষমা হবে না
হাদিস শরিফে আছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন, তবে শিরককারী (অংশীবাদী) ও আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারীকে ক্ষমা করবেন না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন। তবে শিরককারী (অংশীবাদী) ও হিংসাকারীকে ক্ষমা করবেন না। অহংকার পরিত্যাগ করুন; অহংকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। (বায়হাকি, শুআবুল ইমান)।

গুনাহ মাফ পাওয়ার সহজ পথ
বান্দার হক বা সৃষ্টির পাওনা পরিশোধ করে দিন; আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করুন; মহান প্রভু আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন। পিতা-মাতার হক আদায় করুন; আল্লাহ আপনার প্রতি করুণা করবেন। সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হোন; আল্লাহ আপনার প্রতি দয়ালু হবেন। আপনি সবাইকে ক্ষমা করে দিন; নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন। খাঁটি তওবা করুন; তওবাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করুন; আল্লাহ ইস্তিগফারকারীকে পছন্দ করেন। (বুখারি ও মুসলিম)।

লেখাটি প্রথম আলোতে লিখেছিলেন:
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি;

সহকারী অধ্যাপক: আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
usmangonee9@gmail.com

*শবেবরাত* *ইবাদত* *আমল*

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবিতে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পালন করে সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে। আজ রোববার দিবাগত রাতটিই পবিত্র শবে বরাত। এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এই রাতে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকবেন। দিনে রোজা রাখবেন অনেকে। দান-খয়রাত করবেন। বিগত জীবনের পাপ মার্জনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবেন।


ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করা হবে। এসব খাবার বিতরণ করা হবে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। ব্যস্ত নগর জীবনে এখন অনেকেই বাসায় হালুয়া-রুটি বানানোর ঝক্কি নিতে চান না। আবার খাবার টেবিলে একটু ভিন্নরকম আয়োজন করতে শবেবরাতে অনেকেই ভিন্ন পদের খোঁজ করেন। তাই পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন সুপার শপ এবং মিষ্টির দোকানগুলোতে থাকছে বিভিন্ন রকম হালুয়া-রুটির আয়োজন। 

  • রাজধানীর অ্যাগোরা, মীনা বাজার, নন্দন ইত্যাদি দোকানগুলোতে বসানো হয়েছে হালুয়া কর্নার। বিভিন্ন ধরনের হালুয়ার প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে এই হালুয়া কর্নারে।
  • পরিমাণ ভেদে গাজরের হালুয়ার দাম পড়বে ১৩০ থেকে ১৬৮ টাকা। বুটের হালুয়ার দাম ১৬৮ থেকে ৩২৮ টাকা। হাবশি হালুয়া ১৯৯৮ থেকে ৪শ’ টাকা। শাহি পেঁপের হালুয়া ১৬০ টাকা। বাদামের হালুয়া সাড়ে ৩শ’ টাকা। নেশেস্তা হালুয়া ১৬৫ টাকা। ডিমের হালুয়া আড়াইশ টাকা। পেশোয়ারি হালুয়া ১৫৮ টাকা।
  • এছাড়াও নারিকেল ও গাজরের লাড্ডুর প্যাকেট পাবেন ২১৫ টাকায়।
    প্রিমিয়াম সুইটসে আছে ১৪ ধরনের হালুয়া, দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেজি হিসেবে।
  • আনজির হালুয়া ১ হাজার ৭৯৫ টাকা। কাঠবাদামের হালুয়া ১ হাজার ৫৯৫ টাকা। পেস্তাবাদামের হালুয়া ১ হাজার ৫৯৫ টাকা। কাজুবাদামের হালুয়া ১ হাজার ৪২৫ টাকা। প্রিমিয়াম স্পেশাল হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। মাসকট হালুয়া ৮শ’ টাকা। ফলের হালুয়া ৯৯৫ টাকা। ব্রাউনি হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। নারিকেলের হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। গাজরের হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। এছাড়াও কয়েক ধরনের হালুয়ার প্যাকেজ পাওয়া যাবে সাড়ে ৯শ’ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়।
  • এছাড়াও রস, বনফুল, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মুসলিম সুইটস, আলিবাবা সুইটস ইত্যাদি মিষ্টির দোকানগুলোতেও থাকছে হালুয়ার আয়োজন।
  • পুরান ঢাকার চানখারপুল, নাজিরা বাজার, লালবাগ, শাখারি বাজার এলাকায় শবেবরাতের দিনে বসে হালুয়া-রুটির পসরা। শুধু মিষ্টির দোকানগুলোই নয় পুরান ঢাকার চায়ের দোকান, মুদি দোকানগুলোর সামনে টেবিল পেতে হালুয়া বিক্রি করেন অনেকেই।
  • গাজর, সুজি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, কুমড়া, বাদাম, পেঁপে, তিলের হালুয়া পাওয়া যাবে এই দোকানগুলোতে।
  • এই এলাকার হালুয়া-রুটির আয়োজনের একটি ব্যতিক্রমী বিষয় হল মাছ, ফুল ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতিতে তৈরি রুটি। রুটিগুলো আবার বিক্রি হয় কেজি হিসেবে, দাম ১শ’ থেকে দেড়শ টাকা।
  • এছাড়া সাত রওজার আনন্দ বেকারি, চকবাজারের বোম্বে বেকারি, কোর্ট-কাচারি এলাকার ইউসুফ বেকারির রুটির নামডাক রয়েছে।

  • এগুলো ছাড়া ঠাঁটারি বাজারের স্টার হোটেল, চকবাজারের আলাউদ্দিন সুইটমিট, নর্থ-সাউথ রোডের হোটেল আল রাজ্জাক ও এলিফ্যান্টরোডের গ্রামীন কনফেকশনারিতে শবেবরাতের হালুয়া-রুটি পাওয়া যাবে।

*শবেবরাত* *হালুয়ারুটি*
৫/৫

আড়াল থেকেই বলছি: [ফুলকি-ওমাতাই]আপনি কি জানেন !!!! মক্কা-মদিনাত সহ পার্শবর্তী আরো অনেকগুলো আরব দেশে শবেবরাত পালন করা হয়না...!!! এমনকি আমি নিজেই যখন একজন আরাবিয়ান কে জিজ্ঞাসা করলাম,উত্তর দিলেন উনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না, এবং উল্টা আমাকে আরো অনেক গুলো প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুললেন..(চিন্তাকরি)(চিন্তাকরি)(চিন্তাকরি)(চিন্তাকরি)

*শবেবরাত* *লাইলাতুলবরাত*

আড়াল থেকেই বলছি: হজরত আলী রাদি আল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে,১৪ই শাবান যখন সূর্য অস্তমিত হয় তখন আল্লাহ পাকের নূর সর্বনিম্ন আকাশে অবতীর্ণ হয় এবং বলা হয়, কে আছ গুনা মাফ করাতে চাও ? কে আছ তার মনের আকাংখা পূরণ করাতে চাও? কে আছ তার রুজি বৃদ্ধি করাতে চাও? কে আছ তার রোগ শোক,দুঃখ কষ্ট দূর করাতে চাও? এইরূপ ঘোষণার সময় কোনো বান্দা হাত তুলে মোনাজাত করলে আল্লাহ তা কবুল করেন..

*লাইলাতুলবরাত* *শবেবরাত*
৫/৫

আড়াল থেকেই বলছি: লাইলাতুল বরাত ..নামাজ পড়ার নিয়ম : বরাতের নামাজ দু' দু'রাকাত করে মোট ১২ রাকাত পড়তে হয়, প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পড়ার পর কমপক্ষে ৩ বার সুরা এখলাস পড়া উত্তম.. কেউ কেউ ইচ্ছা করলে আরো বেশি ও পড়তে পারবে কিংবা আয়াতুল কুরসী দিয়ে পড়তে পারবেন তবে দু'রাকাত পর পর যে কোনো ধরনের দরুদ বা জিকির করতে পারলে অনেক বেশি ফায়েদা লাভ হবে

*লাইলাতুলবরাত* *শবেবরাত*

আমানুল্লাহ সরকার: শবে বরাত নিয়ে আলোচনায় মুফতি কাজী ইব্রাহিম। আপনারাও শুনতে পারেন... https://www.youtube.com/watch?v=Q0z4-v5dBf0&feature=youtu.be

*শবে-বরাত* *শবেবরাত*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শবে বরাত পালন নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে অনেক জড়তা রয়েছে। কেউ বলে এটি পালন করা বিদআত আবার কেউ বলে পালন জায়েয আছে। তবে যে কোন উপলক্ষ্য কে কেন্দ্র করে মুসলমানরা যদি আল্লার সন্তুষ্টি লাভের আশায় ইবাদতে শামিল হয় সেটা মোটেও বিদআত নয়। কিন্তু সেটা অবশ্যই ইসলামী বিধি বিধান অনুসারে পালন করতে হবে। নিচে কিছু হাদিস তুলে ধরছি আশা করি শবে বরাত নিয়ে মনের জড়তা দূর হবে।

সহীহ হাদিসঃ
عن مالك بن يخامر عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن، رواه ابن حبان وغيره ورجاله ثقات وإسناده متصل على مذهب مسلم الذي هو مذهب الجمهور في المعنعن ولم يجزم الذهبي بأن مكحولا لم يلق مالك بن يخامر كما زعم وإنما قاله على سبيل الحسبان، راجع : سير أعلام البلاء.

মুআয ইবনে জাবাল রা. বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে মাফ করে দেন।’’- সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ৫৬৬৫। এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ হচ্ছে যে, এ রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাতের দ্বার ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত হয়। কিন্তু শিরকী কাজকর্মে লিপ্ত ব্যক্তি এবং অন্যের ব্যাপারে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী মানুষ এই ব্যাপক রহমত ও সাধারণ ক্ষমা থেকেও বঞ্চিত থাকে।
হাদীসটির সনদ সহীহ। এজন্যই ইমাম ইবনে হিববান একে ‘কিতাবুস সহীহ’এ বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ হাদীসটিকে পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘হাসান’ বলেছেন; কিন্তু হাসান হাদীস সহীহ তথা নির্ভরযোগ্য হাদীসেরই একটি প্রকার।.

শবে বরাতের সত্যতা সম্পর্কিত আরো কিছু হাদীসঃ

عن علي بن أبي طالب قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها . فإن الله ينزل فيها لغروب الشمس إلى سماء الدنيا . فيقول ألا من مستغفر لي فأغفر له ألا من مسترزق فأرزقه ألا مبتلى فأعافيه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر )

হযরত আলী বিন আবু তালীব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে [শবে বরাত] তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন-কোন গোনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোন রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দিব। কোন বিপদগ্রস্থ মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফযর পর্যন্ত। {সূনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৮৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৮২২, }

عن عائشة : قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه و سلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نساءك فقال إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيفغر لأكثر من عدد شعر غنم كلب

অনুবাদ-হযরত আয়শা রাঃ বলেন-এক রাতে রাসূল সাঃ কে না পেয়ে খুজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে [মদীনার কবরস্থান] গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন-কি ব্যাপার আয়শা? [তুমি যে তালাশে বের হলে?] তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? [তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন?] হযরত আয়শা রাঃ বললেন- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল সাঃ তখন বললেন-যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৭৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬০২৮, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১৫০৯}

عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : ( يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن )

অনুবাদ-হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে]আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৭৬, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-২১৫, সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং-১৩৯০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২০৩, মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২০৪।
(হাদিসের তথ্যসূত্র ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত)
*শবে-বরাত* *শবেবরাত* *ইবাদত*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলিম উম্মাহর জন্য পূন্যময় একটি রাত্রি। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের বিশ্বাস এ রাতেই মহান আল্লাহ পাক তার বান্দাদের পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শবে বরাত মূলত মাহে রমজানের আগাম বার্তা নিয়ে আসে। কারন শবে বরাত আসলেই আমাদের মনের মাঝে মাহে রমজানের আগমনী সুর বেজে ওঠে। শবে বরাত থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নিজেদেরকে মাহে রমজানের জন্য  প্রস্তুত করে। বলতে গেলে সাবান মাস পুরোটাই হচ্ছে রমজানের আগমী বার্তা। রমজানের জন্য সাবান দিয়ে নিজেকে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে নিতে হয়।

শবে বরাতঃ
মধ্য-শাবান হচ্ছে আরবী শা'বান মাসের ১৫ তারিখ, যা ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে শবে বরাত বা শব-ই-বরাত (شب برات) নামে পালিত একটি পূণ্যময় রাত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুসলমানগণ বিভিন্ন কারণে এটি পালন করেন।এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। শবে বরাতের এই দিনটির পর থেকেই মাহে রমজানের ক্ষণ গণনা শুরু হয়। শবে বরাত আসলেই ধরে নিতে হবে রমজান মাসের আর দেরি নেই।

*শবেবরাত* *শবে-বরাত* *ইবাদত* *আমল* *রমজান* *মাহেরমজান*

অবশেষে আমি: ছোটবেলায় *শবেবরাত* এর পরদিন ছুটি, তাই বাদ আছর মসজিদ এ গিয়ে মাইকে হামদ নাত বলতাম " এই সুন্দর ফুল সুন্দরও ফল, মিঠা নদীর পানি , খোদা তোমার মেহেরবানী, খোদা তোমার মেহেরবানী" আরো কত ! তখনি বেশি ভালো ছিলাম, কেন যে বড় হলাম |

অবশেষে আমি: পবিত্র *শবেবরাত* উপলক্ষে পুরান ঢাকায় লালবাগ এর স্পেশাল ফেন্সি রুটি .... (ভেঙ্গানো২)

প্রথম rabbI: শবে বরাতের *হালুয়া* ! *পবিত্রশবেবরাত*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★