শিক্ষনীয়

শিক্ষনীয় নিয়ে কি ভাবছো?

মারুফ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক গাঁয়ে এক জমিদার ছিল।
জমিদার বলতেই যেই পাষাণ অত্যাচারি একটি লোকের অবয়ব ভেসে ওঠে আমাদের মনে, ঠিক সেরকমটি তিনি ছিলেন না। আর দশজন জমিদারের চাইতে একটু ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি ছিলেন দয়ালু। একবার দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা গেল। সারা দেশে হাহাকার, খাওয়া নাই-দাওয়া নাই, ক্ষুধা- তৃষ্ণায় মানুষ কাতর। এসময় এই দয়ালু জমিদার খাঁজনা আদায়ের চিন্তা বাদ দিয়ে, সকলকে অন্ততপক্ষে দিনে একবার খাবার দেবার ব্যবস্থা করলেন।
লাইন দিয়ে প্রজারা আসে, খাবারের ঠোঙ্গা নেয় আর সাথে নেয় একটি ছোট বাঁশ। প্রজামনে প্রশ্ন দেখা দেয়। খাবারের ব্যাপারটি ক্লিয়ার, এই দুর্দিনে প্রজাসাধারণের কষ্ট দেখে জামিদারের প্রাণ কাঁদে। তাই দয়ালু জমিদার তাদের খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখছেন। কিন্তু বাঁশ! বাঁশটি কেন? সেই আমলের কথা, জমিদারকে প্রশ্ন করার সাহস কারো হয়না।
একজন তরুণ প্রজা সাহস করে প্রশ্ন করেই ফেলল, “হুজুর খাবারের ব্যাপারটিতো বুঝলাম, বাঁশের ব্যপারটিতো বুঝলাম না। বাঁশ বিতরণ করছেন কেন?”
জমিদার উত্তর দিলেন, “বুঝলিনা? আরে এই যে আমি আজ তোদের উপকার করছি, সেই তোরাই তো একদিন এই উপকারের প্রতিদান স্বরূপ আমাকে বাঁশ দিতে আসবি, তখন যাতে আর তোদের কষ্ট করে বাঁশ খুঁজতে না হয়, তাই এই ব্যবস্থা”।
*শিক্ষনীয়*

শ্যামল মিত্র: একটি বেশব্লগ লিখেছে


ছোট্ট এক ছেলে প্রচন্ড রাগী ছিলো। ছোটখাটো বিষয়েই সে প্রচন্ড রেগে যেত।  তার রাগ কমানোর জন্য বাবা তাকে একটা পেরেক ভর্তি ব্যাগ দিল এবং বললো যে, যতবার তুমি রেগে যাবে ততবার একটা করে পেরেক আমাদের বাগানের কাঠের বেড়াতে লাগিয়ে আসবে।

প্রথমদিনেই ছেলেটিকে বাগানে গিয়ে ৩৭ টি পেরেক মারতে হলো। পরের কয়েক সপ্তাহে ছেলেটি তার রাগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো, তাই প্রতিদিন কাঠে নতুন পেরেকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে এলো।

সে বুঝতে পারলো হাতুড়ী দিয়ে কাঠের বেড়ায় পেরেক বসানোর চেয়ে তার রাগকে নিয়ন্ত্রন করা অনেক বেশি সহজ।
শেষ পর্যন্ত সেই দিনটি এলো যেদিন তাকে একটি পেরেকও মার‌তে হলো না। সে তার বাবাকে এইকথা জানালো। তার বাবা তাকে বললো এখন তুমি যেসব দিনে তোমার রাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সেসব দিনে একটি একটি করে পেরেক খুলে ফেলো।
অনেক দিন চলে গেল এবং ছেলেটি একদিন তার বাবাকে জানালো যে সব পেরেকই সে খুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

তার বাবা এবার তাকে নিয়ে বাগানে গেল এবং কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললো,’তুমি খুব ভাল ভাবে তোমার কাজ সম্পন্ন করেছো,এখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারো কিন্তু দেখো, প্রতিটা কাঠে পেরেকের গর্ত গুলো এখনো রয়ে গিয়েছে।

কাঠের বেড়াটি কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। যখন তুমি কাউকে রেগে গিয়ে কিছু বলো তখন তার মনে ঠিক এমন একটা আচড় পরে যায়। তাই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করতে শেখো। মানসিক ক্ষত অনেক সময় শারীরিক ক্ষতের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর।

: সংগৃহিত গল্প
*গল্প* *শিক্ষনীয়*

সাদাত সাদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

গল্পটি এক দাড়কাক ও ময়ুরের। এক বনে বাস করত একটি দাড়কাক। উড়ে যাবার সময় তার নজর পড়ল একদল ময়ুরের দিকে। ময়ুরের পেখম দেখে সে মুগ্ধ। তারও খুব ইচ্ছে হল ময়ুরের দলে যোগ দিতে কিন্তু সে তো দাড়কাক!
এরপর সে ময়ুরের পেখম কুড়িয়ে নিয়ে নিজের গায়ে লাগাল এবং ময়ুরের দলে ভিড়তে চাইল কিন্তু ময়ুর তাকে চিনতে পেরে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল। মনের দুঃখে সে ফিরে গেল তার দাড়কাকের দলে। কিন্তু তার শরীরে ময়ুরের পেখম দেখে তারাও তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল। মনের দুঃখে সে একাই থাকতে লাগলো, কেউ তাকে আর আপন করে নিল না।
এ গল্প থেকে আমরা এই শিক্ষা নিতে পারি যে, আল্লাহ যাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন তার সেভাবেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। অন্যের অনুকরণ করতে গেলে বিপদ হতো। 
*গল্পকথা* *গল্প* *শিক্ষনীয়*

মোজাহিদুল ইসলাম মিফতাহ: অসাধারন একটি ভিডিও! https://www.youtube.com/watch?v=5MrOA77Zjos

*শিক্ষনীয়*

শ্যামল মিত্র: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক সেমিনারে ৫০ জনের একটা গ্রুপ উপস্থিত ছিল

হঠাৎ বক্তা তার বক্তৃতা থামিয়ে সবাইকে একটা করে বেলুন দিলেন... সকলকে মার্কার দিয়ে নিজ নিজ বেলুনের উপর নাম লেখতে বললেন

তারপর সবাইকে বললেন, বেলুনগুলো ষ্টেজের সামনের মেঝেতে এনে রাখতে

৫০টা বেলুন একসাথে রইলো

এখন বক্তা সবাইকে বললেন, “৩ মিনিট সময় দিলাম... আপনি আপনার নিজের বেলুনটা খুঁজে বের করুণ”

... হুড়াহুড়ি লেগে গেল সাথে সাথে

৩ মিনিটে কেউই এই হুড়োহুড়ি ধাক্কাধাক্কির মধ্যে নিজের বেলুনটা খুঁজে পেলো না

এবার তিনি সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “এবার আপনারা ইচ্ছে মতো বেলুন হাতে নেন... সেখানে যার নাম লেখা থাকবে তার নাম ডেকে, তাকে দিয়ে দেন”

কয়েক মিনিটের মধ্যে যার যার বেলুন, সে সে পেয়ে গেল

বক্তা এবার বলা শুরু করলেন, “ঠিক এই ব্যাপারটিই আমাদের জীবনে ঘটে যাচ্ছে... আমরা প্রত্যেকেই চারপাশে নিজের সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছি... কিন্তু ঠিক কোথায় সুখ, তা কেউই জানি না

আমাদের সুখ আসলে নিহীত আছে অন্যের সুখের মধ্যে

অন্যদেরকে তাদের সুখ দিয়ে দিন... আপনি আপনার নিজের সুখটি পেয়ে যাবেন”
... উপরের লেখাটা একটা বিদেশী ম্যাগাজিন থেকে অনুদিত

মজার ব্যাপার... ঢাকায় প্রচুরর মানুষ আছে যারা হয়তো এই লেখাটা পড়েনি... কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করে আসছে

মিজান সাহেব নামের এক রিটায়ার্ড ভদ্রলোককে চিনি, যিনি তার পেনশনের টাকা দিয়ে এই পহেলা বৈশাখে ডেকচি ভরে মোরগ-পোলাউ রান্না করে নিয়ে এক সম্পূর্ণ অপরিচিত গ্রামে চলে গিয়েছিলেন

যেখানে যারা প্রতিদিনই পান্তাভাত খান, তাদের সেদিন বিরিয়ানি খাইয়েছেন

সি, তিনি অন্যের সুখ খুঁজে দিয়েছেন... এবং তাতে আমি শিওর তিনি নিজেও সুখ পেয়েছেন

এর একআনা সুখও তিনি যদি ওয়েস্টিনে যেয়ে একা ভরপেটে ডিনার করতেন, পেতেন না

তিনি ধরে ফেলেছেন সুখের থিওরি

ষাটোর্ধ মিজান সাহেবের কথা বাদ দেই... ২২ বছর বয়সী হীমি নামের একটা পিচ্চি মেয়ে, ঠিক এই কাজটাই করেছে চিটাগাং এ

সে সেদিন ২৫ জন পথ শিশুকে নিজ হাতে রান্না করে বিরিয়ানি খাইয়েছে

মুনা নামের একটা মেয়ে প্রতিমাসে তার বেতনের টাকা দিয়ে ৪০ জন পথশিশুকে, শিশু পার্কে নিয়ে যায়

প্রতিমাসের প্রথম শুক্রবার সে এটা করে... গত কয়েক বছর থেকে করেই আসছে

মাসের প্রথম শুক্রবার শিশু পার্ক চলে গেলেই দেখতে পারবেন মুনাকে

মাহবুব আঙ্কেলের বয়স ৬৭... বাড্ডায় থাকেন... তিনি তার বাসার বেজমেন্টে একটা পথ শিশুদের স্কুল চালান

আশেপাশে এতো... আই রিপিট এতো বিভিন্ন বয়সী মানুষ যে ধরে ফেলেছে সুখের মানে, এটা দেখেও সুখ পাওয়া যায়...

আমাকে অনেকেই মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে আমাকে... “ ব্রাদার, সুখ জিনিসটা কি?”

ঐ যে বললাম... ঢাকায় প্রচুরর মানুষ আছে যারা হয়তো উপরে লেখা থিওরিটা পড়েনি... কিন্তু ঠিকই কিভাবে জানি সেই অনুযায়ী কাজ করে আসছে

তাই কেউ ‘সুখ কি’ প্রশ্ন করলে তাদের এক লাইনে উত্তর দেই; ‘সুখ দেখার জন্য দৃষ্টি লাগে না, লাগে দৃষ্টিভঙ্গি’

এটা জাস্ট বদলাই

সুখ, ঠিকই সামনে এসে দাঁড়াবে

মুল পোস্ট : https://www.facebook.com/arifRhossain.TheVoices/posts/10153289807495844
*সুখ* *শিক্ষনীয়*

নাহিন: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইমাম গাজ্জালী তার শিষ্যদের গল্পচ্ছলে মানবজীবনের বাস্তবতা নিয়ে একটি কাহিনী বলছিলেন।

ঘটনাটি ছিল এমন -
এক ব্যক্তি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক সিংহ তার পিছু নিয়েছে। তিনি প্রাণভয়ে দৌড়াতে লাগলেন। কিছুদূর গিয়ে একটি পানিহীন কুয়া দেখতে পেলেন। তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন ঝাঁপ। পড়তে পড়তে তিনি একটি ঝুলন্ত দড়ি দেখে তা খপ করে ধরে ফেললেন এবং ঐ অবস্থায় ঝুলে রইলেন।

এ অবস্থায় উপরে চেয়ে দেখলেন কুয়ার মুখে সিংহটি তাকে খাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নিচে চেয়ে দেখলেন বিশাল এক সাপ তার নিচে নামার অপেক্ষায় চেয়ে আছে। বিপদের উপর আরো বিপদ হিসেবে দেখতে পেলেন একটি সাদা আর একটি কালো ইঁদুর তার দড়িটি কামড়ে ছিড়ে ফেলতে চাইছে।

এমন হিমশিম অবস্থায় কি করবেন যখন তিনি বুঝতে পারছিলেন না, তখন হঠাৎ তার সামনে কুয়ার সাথে লাগোয়া গাছে একটা মৌচাক দেখতে পেলেন। তিনি কি মনে করে সেই মৌচাকের মধুতে আঙ্গুল ডুবিয়ে তা চেটে দেখলেন। সেই মধুর মিষ্টতা এতই বেশি ছিল যে তিনি কিছু মুহূর্তের জন্য উপরের গর্জনরত সিংহ, নিচের হাঁ করে থাকা সাপ, আর দড়ি কাঁটা ইঁদুরদের কথা ভূলে গেলেন। ফলে তার বিপদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো।
 ----------------০----------------

ইমাম গাজ্জালী এই গল্পের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেনঃ .

★ණ এই সিংহটি হচ্ছে আমাদের মৃত্যু, যে সর্বক্ষণ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। .
★ණ সেই সাপটি হচ্ছে কবর। যা আমাদের অপেক্ষায় আছে। .
★ණ দড়িটি হচ্ছে আমাদের জীবন, যাকে আশ্রয় করেই বেঁচে থাকা। .
★ණ সাদা ইঁদুর হল দিন, আর কালো ইঁদুর হল রাত, যারা প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের আয়ু কমিয়ে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। .
★ණ আর সেই মৌচাক হল দুনিয়া। যার সামান্য মিষ্টতা পরখ করে দেখতে গেলেও আমাদের এই চতুর্মূখী ভয়ানক বিপদের কথা ভূলে যাওয়াটা বাধ্য।

সুত্র : ইন্টারনেট
*শিক্ষনীয়* *গল্প* *জীবনেরভাবনা*

মেঘবালক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইমাম আবু হানিফা (র)-এর একজন মুচি প্রতিবেশী ছিল। মুচি তার ঘরের দরজায় বসে সারাদিন কাজ করতো এবং সারারাত ধরে মদ খেয়ে মাতলামি করতো এবং অশ্লীল হৈচৈ ও গণ্ডগোল করে ইমামের মনোযোগ নষ্ট করতো।

এক রাতে ইমাম মুচির ঘর থেকে হৈচৈ শুনলেন না। সে রাতে তিনি নিরিবিলি ইবাদত করতে পারলেন, কিন্তু মনে শান্তি পেলেন না। পরদিন খুব সকালে ইমাম মুচির ঘরে গেলেন এবং মুচির খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারলেন যে, তার মদ খেয়ে মাতলামির জন্যে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে জেলে পুরেছে। খলীফা মানসূর তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। ইমাম আবু হানিফা (র) কোনদিন কোন ব্যাপারেই খলীফার দ্বারস্থ হননি। বরং খলীফাই মাঝে মাঝে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু আজ প্রতিবেশীর বিপদ তাকে অস্থির করে তুলল এবং তিনি দরবারে গিয়ে হাজির হলেন।

দরবারের দ্বাররক্ষকরা মহান অতিথির সম্মানে দ্বার খুলে দিলেন। ইমামকে দেখে দরবারের আমীর-উমরাদের চোখ বিস্ফোরিত হল এবং স্বয়ং খলীফা আসন থেকে উঠে তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি ইমাম কে নিয়ে তাঁর আসনে বসালেন এবং জানতে চাইলেন, কষ্ট করে তাঁর এ আগমনের কারণ কি?

ইমাম বললেন, ‘আপনার পুলিশ আমার একজন প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করে জেলে পুরেছে। আমি তার মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে এসেছি।’ খলীফা একটু চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, ‘হে সম্মানিত ইমাম, শুধু তাকে নয়, আপনার সম্মানে ঐ জেলের সবাইকে আমি মুক্তি দিলাম।’

ইমাম আবু হানিফা (র) তাঁর প্রতিবেশীকে নিয়ে ফিরে এলেন। প্রতিবেশী ঐ মুচি এরপর আর কোনদিন মদ স্পর্শ করেনি।

উৎস: অনলাইন ঢাকা্‌ 

*শিক্ষনীয়*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

গৌতম বুদ্ধের অসাধারণ একটি শিক্ষণীয় ঘটনা...

বুদ্ধ একদিন তাঁর কয়েকজন শিস্যকে নিয়ে ভ্রমণে বেড়িয়েছিলেন। ভ্রমণের পথে ওঁরা পাশে একটা
অগভীর লেক দেখতে পেয়ে থামলেন। তারপর বুদ্ধ তাঁর এক শিস্যকে বললেন, " আমি তৃষ্ণার্ত। লেক
থেকে আমার জন্য কিছু পানি নিয়ে এসো। "
শিস্যটি লেকের কাছে হেঁটে গেলো। যখন সে লেকের কাছে পৌঁছালো, সে লক্ষ্য করলো লেকের 
মধ্য দিয়ে একটা গরুর গাড়ি পার হচ্ছে। ফলে লেকের পানি খুব ঘোলাটে এবং নোংরা হয়ে গিয়েছে। 
শিস্যটি ভাবলো, এমন নোংরা পানি আমি গুরুকে কিভাবে খাওয়াই ? এমন ভাবনা থেকে পানি 
নিতে অপারগ হয়ে সে বুদ্ধের কাছে চলে এলো। বুদ্ধ পানির কথা জিজ্ঞেস করাতে সে তার ভাবনা 
খুলে বললো।        
আধাঘণ্টা পর বুদ্ধ আবারও তাকে পানি আনার জন্য বললেন। অনুগত শিস্যটি আবারও পানি আনার 
জন্য লেকের কাছে গেলো। কিন্তু কাদার কারণে তখনও পানি ঘোলাটে থাকায় সে আবারও পানি
না নিয়েই বুদ্ধের কাছে ফিরে এলো এবং একই কারণ ব্যাখা করলো। 
বুদ্ধ কিছু না বলে চুপ রইলেন। আধাঘণ্টা পর তিনি শিস্যকে আবারও পানি আনতে বলাতে সে পাত্র
নিয়ে লেকের কাছে গেলো এবং অবাক হয়ে খেয়াল করলো, লেকের পানি এখন পুরোপুরি নির্মল
এবং স্বচ্ছ ! ! বুদ্ধ পাত্র ভর্তি স্বচ্ছ পানির দিকে তাকালেন। তারপর মৃদু হেসে উপরের দিকে তাকিয়ে
শিস্যকে বললেন, " দেখেছো, পানিকে পরিষ্কার করার জন্য তুমি কি করেছো ? 
তুমি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছো যতক্ষণ না কাদাভর্তি ঘোলাটে পানি পুরোপুরি শান্ত 
হয়ে নির্মল হয়ে উঠে। তুমি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে তোমার কাজটি করেছো। 
পানিও তার নিজের মতো করে সময় নিয়ে নিজেই নিজেকে শুদ্ধ করে নিয়েছে। "

আমাদের মনটাও এই পানির মতোই। লেকের পানি কোন কারণে আন্দোলিত হলে যেমন ভেতরে
থাকা কাদামাটি উপরে উঠে এসে পানিকে ঘোলা করে ফেলে, আমাদের মনটাও তেমনি রাগ বা 
কষ্টের সময় বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে বিক্ষুব্ধ ও অশান্ত হয়ে উঠে। ফলে ভেতরে পুষে রাখা
সমস্ত রাগ অভিমান কষ্ট বের হয়ে আসে এবং আমাদের পরিস্থিতি ও চিন্তাধারাকে ঘোলাটে করে ফেলে।

মন অশান্ত হলে একে শান্ত করার চেষ্টা করতে গেলে বিফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। যখন মন 
কোন কারণে অশান্ত হয়, হতে দিন। বিক্ষুব্ধ ও অশান্ত মনটাকে শান্ত হওয়ার জন্য সময় দিন। 
এক সময় মন নিজে নিজেই শান্ত হয়ে আসবে। 

*জীবনভাবনা* *সাইকোলজি* *শিক্ষনীয়*

রাজ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক যুবক নতুন বিয়ে করল।
ভালোই কাটতেছিল তাদের দিনগুলো ।
একদিন স্ত্রী খুব ভালো খাবার রান্না করল।
স্বামী স্ত্রী যখন খেতে বসল, এমন সময় এক ভিক্ষুক হাজির হল।
ভিক্ষুক টি খুব ক্ষুধার্ত
ছিল এবং সে কিছু খাবার চাইল ।
স্বামী খুব রাগ হইলেন এবং ভিক্ষুকটিকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও অপমান
করে তাড়িয়ে দিল।
অসহায় ভিক্ষুক চলে গেল!!!
কিছুদিন পর স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হল। এক পর্যায়ে তাদের সংসার ভেঙ্গে গেল ।
স্বামী স্ত্রী কে তালাক দিয়ে দিল।
স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেল।
কয়েক বছর পর মেয়ের বাবা অন্য এক জায়গায় মেয়ের বিয়ে দিল ।
নতুন স্বামীর সাথে শুরু হল তার জীবন!
দ্বিতীয় স্বামী প্রথম স্বামীর চেয়ে অনেক ধনী ছিল।
একদিন স্বামী স্ত্রী খেতে বসল।
ইতিমধ্যে একজন ভিক্ষুক আসল।
স্ত্রী স্বামী কে বলল"আমি ভিক্ষা দিয়ে আসি"।
কারণ এমন এক মুহুর্তে আমার প্রথম স্বামী এক ভিক্ষুকের সাথে খারাপ
আচরন করেছিল, যা আমি এখনও ভুলতে পারিনা।
যখন স্ত্রী ভিক্ষা দিতে গেল তখন সে অবাক হয়ে গেল!!!
কারণ,তার সেই প্রথম স্বামীই আজ তার সামনে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!!!
স্ত্রী চোখের পানি রাখতে পারল না।
মেয়েটি তার দ্বিতীয় স্বামী কে বলল, আমি আপনাকে এক আশ্চর্য ঘটনা শুনাব।
তারপর মেয়েটি তার প্রথম স্বামীর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি বলে দিল!!
তখন দ্বিতীয় স্বামী চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল,আমি তোমাকে এর
চাইতেও আশ্চর্য ঘটনা শুনাব ।
তুমি হয়ত শুনে অবাক হবে যে ,ঐ দিনের অসহায় সেই ভিক্ষুক টি আমি, যিনি আজ তোমার সম্পদশালী স্বামী!!!
# শিক্ষাঃ আল্লাহ মুহূর্তের মধ্যেই গরীব
কে ধনী আর ধনী কে ফকির বানিয়ে দিতে পারেন ।
সূতরাং আমরা কখনও কোন অসহায় কিংবা গরীব লোকের সাথে খারাপ ব্যবহার না করি ।
যদি পারি নিজের সাধ্য মত সাহায্য করব।
কোন ভাবেই তাদের সাথে ধমকের সুরে কটু কথা বলব না !!
*শিক্ষনীয়*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★