শীতের খেলা

শীতেরখেলা নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

নভেম্বর প্রায় শেষ, আসছে ডিসেম্বর আর ডিসেম্বর মানেই শীতের আনাগোনা। বিকেল হলেই কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। শীতের হাওয়া গায়ে লাগতে শুরু করে। এছাড়া আমাদের দেশে শীতের আগমন টের পাওয়ার আরেকটি প্রচলিত চিত্র হচ্ছে সন্ধ্যারাতে ব্যাডমিন্টন খেলা। গ্রামগঞ্জে বাড়ির আঙিনায়, শহরের আনাচে কানাচে ফাঁকা জায়গায় ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট দেখলেই বোঝা যায় শীত চলে এসেছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয় ! শীতের শুরু থেকেই শুরু হয়ে গেছে শীতের খেলা ব্যাডমিন্টন। ব্যাডমিন্টন এ দেশে 'মৌসুমি' খেলা। ব্যাডমিন্টন খেলার গায়ে ‘শীতকালীন খেলা’র তকমাটা বেশ ভালোভাবেই লেগে আছে। শীত এলেই আমাদের দেশে ব্যাডমিন্টন খেলার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট কেটে ছেলে-মেয়ে, তরুণ, বৃদ্ধ সবাই নেমে পড়ে খেলায়।

সাধারণত পাড়ার তরুণরাই এই খেলার আয়োজকের ভূমিকায় থাকে । নিজেরা চাঁদা দিয়ে, চাঁদা উঠিয়ে খুব আয়োজন করে এই ব্যাডমিন্টন খেলার প্রাথমিক কাজগুলো শুরু হয়। চাঁদা ওঠেও ভালো। কারণ প্রত্যেকেরই এই ব্যাডমিন্টন খেলাটির প্রতি রয়েছে অপার ভালোবাসা। খেলতে পছন্দ করেন সবাইই। ফলে সন্ধ্যা হলেই ভিড় জমে খেলার কোর্টের সামনে। ব্যাডমিন্টন খেলার খরচ খুব বেশি একটা না হলেও কমও নয়। পুরো টাকাটাই এলাকার তরুণ ছেলেরা কোনো একভাবে ব্যবস্থা করে ফেলে। 

এবারও হালকা শীত পড়তেই পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়ে গেছে ব্যাডমিন্টন খেলার ধুম। মাঠ-ফাঁকা জায়গাগুলোয় কাটা হয়েছে ব্যাডমিন্টনের কোর্ট। তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সীরাও যোগ দিচ্ছেন ব্যাডমিন্টন উৎসবে। পিছিয়ে নেই নারীরাও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য কাটা হয়েছে কোর্ট। আজিমপুর, মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, মণিপুর, ইন্দিরা রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মাঠেই একাধিক কোর্ট কাটা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের প্রায় সব হলেই কাটা হয়েছে ব্যাডমিন্টন কোর্ট। হলের ভেতরের এসব কোর্টে খেলা চলেও তুলনামূলক বেশি রাত পর্যন্ত।

খেলার কোর্ট কাটতে বাঁশসহ খরচ পড়বে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। লাইটের জন্য খরচ হবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মতো। কোর্টে টানানোর জন্য পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে নেট পাওয়া যাবে বাজারে। আর ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেটের দাম শুরু হবে তিনশ’ টাকা থেকে। তবে তিন হাজার টাকার মধ্যে অনেক ভালো ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট পাওয়া যায়। আর প্রতিদিন খেলার জন্য একটা ফেদার বা কক তো লাগবেই। প্রতিটি ফেদারের দাম পড়বে ষাট থেকে একশ’ বিশ টাকা। আজকের ডিলে রয়েছে ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেটের বিশাল কালেকশন। পাওয়া যাচ্ছে নানান দামে নানান ব্র্যান্ড অনুযায়ী। আজকের ডিল থেকে কিনতে ক্লিক করুন ছবিগুলোতে এবং এখানে ব্যাডমিন্টন ।

ব্যাডমিন্টন শীতের সন্ধ্যায় একটু ঘাম ঝরানোর অন্যতম একটি উপায়। তাই শারীরিক উপকারের কথা আর না-ই বা উল্লেখ করা হলো। প্রতিদিন অন্তত এক গেম ব্যাডমিন্টন খেলুন, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকুন। তবে শুধু শারীরিক উপকারী নয়, ব্যাডমিন্টন খেলতে মেলে মানসিক প্রশান্তিও, জানতে চান কিভাবে ! ব্যাডমিন্টন খেলার পাশাপাশি আড্ডা দেওয়া যায়। সারা দিন কাজের পরে বেশ ভালোই সময় কাটে। শীতের রাতে খেলা চলবে আর গরম-গরম ভাপা-চিতই পিঠা খাওয়া হবে না তা কি হয়। পিঠা ছাড়াও চা, চটপটি-ফুচকা, কখনো চানাচুর-মুড়ি মাখানো এসব তো আছেই, কোনো উপলক্ষ পেলে কোর্টেই আয়োজন করা হয় বিশেষ ভোজের।

তাহলে আর দেরি কেন, শীত তো চলেই এলো, র‌্যাকেট হাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে ওয়ার্ম আপ হচ্ছেন তো !

*শীতেরখেলা* *ব্যাডমিন্টন* *র‌্যাকেট*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ব্যাডমিন্টন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে শীতকালে রাতের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা হয় বলে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন আরোও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু জনপ্রিয়তার দিক থেকে নয় শারিরীক দিক থেকেও ব্যাডমিন্টন খেলার বেশ উপকারিতা রয়েছে। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না হৃদস্পন্দন বাড়ে অথবা মৃদু শ্বাসকষ্ট হয় ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাডমিন্টন খেলা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে তা অবশ্যই হতে হবে মধ্যবয়সে এবং প্রতিদিন। তাহলে পরবর্তী ২০ বছরের জন্য মৃত্যুঝুঁকি কমে যায় প্রায় ২৩%। এমনকি এতে আয়ুও বাড়ে প্রায় দুই বছর।

ব্যাডমিন্টন খেরার উপকারী দিক সমূহঃ

ব্যাডমিন্টন খেলা থেকে আমরা সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে পারি, যদি দিনে ৩০ মিনিট ব্যাডমিন্টন খেলি তবেই তার উপকারিতা বুঝতে পারব। শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো দিক হলো, ব্যাডমিন্টন খেলার মাধ্যমে খারাপ কলেস্টেরল রক্তে কমে যায় ও ভালো কলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে। আমাদের শরীরে পুরো কলেস্টেরল, ট্রাইগি্লসারাইড, এলডিএল (খউখ), ভেরি লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (ঠখউখ), এরা সবাই খারাপ কলেস্টেরল এবং হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (ঐউখ) হলো একমাত্র ভালো কলেস্টেরল।

যেহেতু খারাপ কলেস্টেরল রক্তবাহিকার আকার কমায়, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়; সেহেতু তাদের পরিমাণ যদি রক্তে কমে তবে তা একজন মানুষের জন্য অনেক শারীরিক সুফলতার কারণ হয়।
দৈনিক ব্যাডমিন্টন খেলায় শরীরের রক্তচাপও কমে যা উচ্চ রক্তচাপ/হাইপারটেশানের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এমনকি এ খেলা কোনো ধরনের ওষুধ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ সারানোর জন্য যথেষ্ট। যদি ওষুধের প্রয়োজনও হয়, তবে তার পরিমাণ কম লাগে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারী দিক হলো, দৈনিক ব্যাডমিন্টন খেলা হৃদরোগের জন্য ভালো একটি প্রতিরোধব্যবস্থা, বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক। এ ছাড়াও এতে হৃদপেশীয় শক্তি বাড়ে এবং রক্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা কমে যায়। এমনকি যেসব মানুষের বেশ আগে থেকেই হৃদরোগ আছে, তারাও সুফল পেতে পারে ব্যাডমিন্টন খেলে, তবে তা অবশ্যই হতে হবে তাদের সহ্যশক্তি অনুযায়ী এবং মেডিকেল তত্ত্বাবধানে, উপদেশ ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।

খেলার পর ভালো বোধহয়, নিজেকে বেশ শক্তিশালী, অত্যন্ত আগ্রহান্বিত ও প্রাণবন্ত মনে হয়। অবসাদ, দুশ্চিন্তা, চাপ এগুলো দূর হয়ে যায় এবং নিজের ওপর আত্দবিশ্বাস বাড়ে। রাতে ভালো ঘুম উপভোগ করতেও সাহায্য করে, এতে আগের শারীরিক সমস্যাগুলোও কমে যায়, যেগুলোর প্রধান কারণ ছিল ঘুম না হওয়া। তাই বলছি, প্রিয় বন্ধুরা, আর কেন দেরি? নিজের শরীর, মন সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে আজ থেকেই ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু করে দিন প্রাণবন্ত জীবন গড়ুন।
*ব্যাডমিন্টন* *খেলাধুলা* *হেলথটিপস* *শীতেরখেলা* *শীতকালীনখেলা* *মৌসুমীখেলা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★