শ্যাম্পু করার নিয়ম

শ্যাম্পুকরারনিয়ম নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

চুল স্বাস্থ্যকর, আকর্ষণীয়, আবেদনময়ী রাখতে নিঃসন্দেহে শ্যাম্পুর বিকল্প বিরল। চুল ঝরঝরে ও স্বাস্থ্যকর রাখতে অনেকেই প্রত্যহ শ্যাম্পু মাখেন। কেউ কেউ যেমন দিনে দু’তিনবারও শ্যাম্পু করেন, অনেকে আবার সপ্তাহে মাত্র একবারই করেন। ঘনঘন কিংবা দীর্ঘ বিরতি দিয়ে শ্যাম্পু করার লাভ কিংবা ক্ষতি কি? যারা শ্যাম্পু করছেন-তারাও কি পুরোপুরি জানেন?
 
 
চুল ধোয়া তো নিত্যদিনের ব্যাপার। এটা আর নতুন করে শেখার কি আছে? যদি এমন ভাবছেন তো ভুল করছেন। কারণ, এই সাধারণ কাজটিও কিছু নিয়ম মেনে করতে হয়। তাড়াহুড়ো বা আলসেমির কারণে আমরা অনেকেই কোনো রকমে চুল ধুয়ে স্নানঘর থেকে বেরিয়ে যাই। কিন্তু চুলের সঠিক যত্নে এবং চুল পরিষ্কার রাখতে শ্যাম্পু করার কিছু নিয়ম আছে। প্রথমে চোখ বুলানো যাক লাভের খাতায়। নিয়মিত শ্যাম্প‍ু করলে চুলই কেবল পরিষ্কার হবে না, মাথ‍ার খুলিকেও স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন রাখবে। 
 
কিভাবে চুল ও মাথার খুলি পরিষ্কার রাখে শ্যাম্পু? 
 
কেউ যখন চুলে শ্যাম্পু করে তখন তার মাথার খুলি থেকে তেল শোধিত হয়ে যায়, যার ফলে চুল ও খুলি স্বাস্থ্যকর থাকে। মুক্ত হয় খুশকিও। আবার যখন মাথার চুল থেকে তেল শোধিত হয়ে যায় তখন শ্যাম্পুকারীর মাথার খুলি রুক্ষ হয়ে তেল আরও বাড়াতে থাকে। তখন ব্যবহারকারীর মনে হতে পারে মাথার খুলিতে চর্বি হয়ে গেছে, যে কারণে বারবার এবং প্রতিদিন একাধিকবার চুলে শ্যাম্পু করেন তিনি, অর্থাৎ শ্যাম্পু করার কারণেই আবার শ্যাম্পু করতে বাধ্য হন।
 
চুল স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য বারবার শ্যাম্পু করলেও হিতে বিপরীত দেখা দেয় প্রায় সময়ই, অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে কী ক্ষতি হতে পারে-এবারে সে খাতায় চোখ বুলানো যাক।
 
নিয়মিত শ্যাম্প‍ু করার কারণে মাথা শুষ্ক হয়ে চুলকানি এমনকি চামড়া ফাটার উপক্রমও হতে পারে।
চুলের রং বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে, যে কারণে শ্যাম্পুকারীকে নিজের চুলে কৃত্রিম রং ব্যবহার করতে হতে পারে। শ্যাম্পু ও মাথার চুল নিয়ে অনেক বেশি দুঃশ্চিন্তার সময় কাটাতে হবে কেবল ওয়াশরুমে। অস্বাস্থ্যকর মাথার খুলি চুলকে বাড়তে দেবে না এবং স্বাস্থ্যের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে মাত্রাতিরিক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহার।
তাহলে উপায়?
যা করব:
* প্রথমেই চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার বাছাই করতে হবে।
* শ্যাম্পু করার আগে চুল আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিন।
* এরপর পুরো চুল ভালোভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে।
* একটি বাটিতে শ্যাম্পুর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে এর ঘনত্ব কমিয়ে নিতে হবে যেন তা চুলের গোড়ায় সহজে পৌঁছাতে পারে।
* ১৫ মিনিট আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে মাথার ত্বক মালিশ করতে হবে। এতে রক্ত সঞ্চালন হবে, যা চুলের গোড়া মজবুত করবে। তা ছাড়া এভাবে চুলের ময়লাও উঠে আসবে।
* ম্যাসাজের সময় মাঝে মাঝে হাতে অল্প করে পানি দিয়ে চুলে ফেনা করতে হবে।
* এবার চুল ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন।
* এরপর দ্বিতীয় দফায় শ্যাম্পু করতে হবে। এবার আর ম্যাসাজ নয়। কারণ, ম্যাসাজের ফলে চুলের গোড়া থেকে সিবাম নামের একধরনের তেল নির্গত হয়, এটি থাকলে আর শ্যাম্পু করে লাভ কী? তাই চুল শ্যাম্পু করতে হয় দুইবার।
* পানি দিয়ে ফেনা ধুয়ে ফেলার পর এবার কন্ডিশনার ব্যবহারের পালা। চুলের আগায় কন্ডিশনার লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। মোটা তোয়ালে জড়িয়ে প্রথমে চুলের পানি নিংড়ে নিতে হবে। এরপর ঠান্ডা বাতাস বের হয় এমন হেয়ার ড্রায়ার বা ফ্যানের বাতাসে চুল শুকিয়ে নিন।
যা করব না
* শ্যাম্পু করার আগে অনেকেই চুলে তেল দেন, এতে কোনো আপত্তি নেই। তবে ময়লা চুলে তেল দেওয়া যাবে না।
* চুল ভালো মতো না ভিজিয়ে সরাসরি শ্যাম্পু দেওয়া যাবে না।
* জোরে জোরে ঘষে ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা করা ঠিক পদ্ধতি নয়।
* কন্ডিশনার গোড়ায় নয়, শুধু আগায় ব্যবহার করতে হবে। এর কাজ চুলকে নরম করা। গোড়ায় এটি লাগালে চুলের গোড়া নরম হয়ে পড়ে যাবে।
* চুল ধোয়া শেষে তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে ঘষে মোছা উচিত না।
* চুলের পানি শুকানোর জন্য গামছা বা তোয়ালে দিয়ে চুল ঝাড়া ঠিক নয়।
* ভেজা চুল আঁচড়ানো উচিত না।
কার চুল ও মাথার খুলির অবস্থা কেমন এবং তার প্রয়োজনীয়তা কী সেটা বোঝা যেমন সময়ের ব্যাপার, তেমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এর পরামর্শ দেওয়াও মুশকিল।
 
তথাপি প্রাথমিক পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে যে, প্রথমত একদিন অন্তর অন্তর শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে এবং শ্যাম্পু ব্যবহারের বিরতির সময়টা বাড়াতে থাকুন, এভাবে বাড়াতে বাড়াতে একসময় ৪-৬ দিন বিরতি দিয়ে শ্যাম্পু করুন। এছাড়া, শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে যেদিন বাইরে বের হওয়া লাগবে না এমন একটি দিন বাছাই করুন। 
 
চুল পড়ার অনেক কারণই থাকে l তবে হ্যা প্রতিদিন সঠিক ভাবে শ্যাম্পু না করলে চুল পড়ার হার অনেক সময় বেড়ে যায় l এছাড়াও মানসিক চাপ,রাত জাগা,অনিদ্রা,হরমোনাল চেঞ্জ,কেমোথেরাপির পর,টিনিয়া ক্যাপাইটিস,ট্রাকশন অ্যালোপেসিয়া, হেয়ার প্রোডাক্টের জন্য,বিভিন্ন অপারেশনের পর,ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ক্যামিকাল বেস প্রোডাক্ট হুটহাট ব্যবহার করা,সুষম পুষ্টির অভাব,অযত্ন,খুসকি,প্রখর রোদে ঘোরা,ভেজা চুল বেধে রাখা বা ভেজা চুলে বাহিরে যাওয়া,বাহিরে থেকে ফিরে ঘামে ভেজা-ধুলোবালি লাগা চুল পরিস্কার না করা,বৃষ্টিতে ভেজা ও এরপর পরিস্কার পানিতে চুল না ধোয়া,চুলে নিয়মিত অয়েল ম্যাসাজ না করাও চুল পড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী l আপনার চুল যদি এসব সমস্যার মধ্যে দিয়ে যায় তবে চুল পড়বেই l
 
সবশেষ, পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে, হেয়ার স্পেশালিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের শ্যাম্পু ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি করা উচিত এবং অবশ্যই ভালো মানের শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত l 
 
শ্যাম্পু কেনার সতর্কতা
বেশির ভাগ সময়ই শ্যাম্পু কেনার সময় আমরা বিশেষ ভাবি না। নিজের চুলের ধরন, কি সমস্যা রয়েছে, তার কি প্রয়োজন তা না ভেবে কোনও ব্র্যান্ড পছন্দ বলেই কিনে নেন। অনেক সময় আবার পছন্দের তারকা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর বলেও সেই অ্যাড দেখে আমরা শ্যাম্পু কিনে নিই। এটা সবচেয়ে বড় ভুল। শ্যাম্পু কেনার আগে নিজের চুলের ধরন, প্রয়োজনীয়তা বুঝুন। বাজারে অনেক নকল ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার পাওয়া যায়। কেনার সময় অবশ্যই দেখেশুনে ভালোটা কিনতে হবে। নিউমার্কেট, বসুন্ধরা শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা সহ যে কোনো মোটামোটি ভালমানের সুপার শপে পেয়ে যাবেন দেশে-বিদেশের নামকরা সব ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার l আর অনলাইনে কিনতে হলে সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হলো আজকের ডিল l আজকের ডিলে প্রায় ১২৩ রকমের শ্যাম্পুর কালেকশন রয়েছে l দেখতে ও কিনতে চোখ রাখুন এখানে l 
 
 
 

 

*শ্যাম্পু* *শ্যাম্পুকরারনিয়ম* *বিউটিটিপস* *চুলেরযত্ন* *চুলপড়া* *কন্ডিশনার* *সৌন্দর্য্যচর্চা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★