সংগৃহীত

সংগৃহীত নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

১. আমাদের দেশে ধর্মীয়, রাজনীতি কিংবা অন্য বিষয়ে চেতনা খুবই উচ্চমানের। যেমন -

* বই মেলায় লাইন ধরে টিকেট কেটে বই কিনতে যাওয়া (সারা বছর বই না পড়লেও)

* ২১ শে ফেব্রুয়ারীতে প্রভাত ফেরী এবং শহীদ মিনারে খালি পায়ে গিয়ে ফুল দেয়া (সারা বছর ঐসব মিনারে গরু ছাগল হাঁটলেও)

* জুমার নামাজ আর ঈদের নামাজে ব্যপক মানুষের অংশগ্রহণ (সারা বছর নামাজ না পড়লেও)

* ১লা বৈশাখে আড়ম্বরভাবে নতুন বছর শুরু করা (সারা বছর বাংলা সন ব্যবহার না করলেও)

* ক্রিকেটে একটা জয় পেলেই সব অন্যায়, অনাচার ভুলে যাওয়া (সারা বছর কষ্টে থাকলেও)

২. তাহলে দেখা যাচ্ছে, সব ক্ষেত্রেই আমাদের চেতনার লেভেল উপরেই থাকে। কিন্তু -

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক বই পড়ে সে দেশ দুর্নীতিতে উপরের দিকে থাকে!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস, বিজয় দিবস পালন করে সে দেশের পুলিশ, মন্ত্রী, এম পি রা(বেশীরভাগ) দুর্নীতিবাজ হয়!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক নামাজ পড়ে সে দেশে ঘুষ ছাড়া(৯৯%) কোন কাজ হয় না!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক বৈশাখ পালন করে সে দেশের মানুষই আবার পশ্চিমাদের মত ভ্যালেন্টাইনস ডে, থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করে!

* এটা কীভাবে সম্ভব যে দেশের এত লোক খেলার জন্য এত পাগল, সে দেশের মানুষ খুন, ধর্ষণ করে অবলীলায়!

৩. আসলে সব কিছুই সম্ভব যদি আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকে, যদি আইন সবার জন্য সমান না হয়, যদি সরকার সবাইকে সমান ভাবে না দেখে, যদি একটা দল আরেকটা দলের পেছনে লেগে থাকে, যদি সবাই যার যার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করে। স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেহেতু এখন ব্যবসা হয়ে গিয়েছে সেহেতু এখন দেশপ্রেমের চেতনাতেই উদ্ধুদ্ধ হতে হবে। ঐসব ১ দিনের চেতনা বাদ দিয়ে সৎ ও সুনীতি'র চেতনা জাগ্রত করতে হবে।

*দেশপ্রেম* *চেতনা* *বাস্তবতা* *সমাজ* *সংগৃহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: তুমি ছাড়া বিকেলটা বড় ক্লান্ত লাগে তুমি ছাড়া সময় কাটে শ্রান্ত বেগে তুমি ছাড়া ভোরের আলো আর ফোটেনা তুমি ছাড়া একমুঠো ফুল আর জোটেনা তুমি আছ বলেই রাত্রি এত মধুর তুমি আছ বলে কষ্ট রয় সুদূর তুমি আছ বলেই রাত কেটে যায় ভোরে তুমি আছ বলেই হারাই রোজ তোমার হাসির তোড়ে তুমি ছিলেনা কায়া ছিলোনা তুমি ছিলেনা মায়া ছিলোনা তুমি ছিলেনা মানুষটা মানুষ ছিল না তুমি ছিলেনা ফানুসটা হাওয়ায় ভাসেনি

*তুমি* *কবিতা* *ভালোবাসা* *সংগৃহীত* *আবেগ*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমার মৃত্যুর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। নিকটাত্মীয় কিংবা কাছের কোন মানুষের মধ্যা দিয়ে সবাই কম বেশ জানতে পারবে আমার মৃত্যু হয়েছে।

খুব কাছের একদল মানুষ আমাকে নিয়ে হইচই ফেলে দিবে। কেউ কেউ ট্যাগ পোস্ট দিয়ে দুই চারটা কান্নার ইমোজি দিয়ে টাইমলাইন শুনশান করে রাখবে।

আমি কখনো শুনশান কোন কিছু পছন্দ করিনা।

মানুষকে কথার ফুলঝুরি দিয়ে হাসাতে পারিনা,শব্দ দিয়ে হাসাতে পারিনা। মানুষ হাসানো যেনতেন কাজ না,শব্দ দিয়ে সবাই হাসাতে পারেনা। শব্দের খেলায় আমি পারদর্শী কখনো হয়ে উঠতে পারিনি।

হুট করে নিজেকে যে কোন চরিত্রের মাঝে ডুকিয়ে ফেলা আমার অভ্যাস। মাঝ রাতে যখন বের হই তখন নিজেকে হিমু বানিয়ে ফেলি। দুই চারটা সিগারেট পকেটে রেখে হাটার সময় হিমু ভাবটা খুব জটিল ভাবেই আমাকে গ্রাস করে।

রেললাইনে বসলে অনাথ বাচ্ছাগুলোকে দেখে মায়া হয়,নিজেকে এক মুহূর্তের জন্য অনাথ ভাবতে ইচ্ছে করে,কিন্তু সহ্য হবেনা বলে ভাবা হয়না। মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হই।

আনন্দের সময় গুলো আমি সবার সাথে ভাগ করে নিতে পারিনা,কিন্তু কিভাবে যেন সবাই ভাগটা পেয়ে যায়। এই ব্যাপারটা আমার কাছে জঘন্য লাগে।

আমার মৃত্যু কখন হবে,কোথায় হবে, কিভাবে হবে তা আমি জানিনা। যেহেতু জন্মেছি সেহেতু মৃত্যুর স্বাদ অবশ্যই নিতে হবে আমাকে।

আচ্ছা একটা মানুষের মৃত্যুর পূর্বাভাস কি হতে পারে? যারা মারা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের কিভাবে চিহ্নিত করা যাবে?

এস এস সি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে গোরফান আলীর শেষ নিঃশ্বাস যাওয়াটা মাগরিবের নামাজের পর তার পাশে বসেই উপলব্ধি করেছি। দুটো খোলা চোখ নিজের হাত দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

*আবেগ* *মৃত্যু* *সংগৃহীত* *শুনশান*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

যেদিন আমার রাত ফুরাবে- ভোর
হবে না আর সেদিন আমায় দেখে যেও,অন্তত একবার। দেখে যেও বেঁচে থাকার ইচ্ছে ভরা বুক
কেমন করে ঘুমিয়ে আছে কাফন খোলা মুখ।একটু খানি ছুঁয়ে যেও শেষ গোসলের জল কাছে এসে বুঝে নিও মৃত্যু অবিচল,বুক ফাটিয়ে কাঁদবে যখন
আমার পরিবার,সেদিন আমায় দেখে যেও
অন্তত একবার। পাশে বসে করে যেও পবিত্র নাম পাঠ সহজ করে দিও আমার পরকালে মাঠ।
মাটির সাথে মিশে গেলে চোখের বন্ধ পাতা...
পাশে যেনো থাকে আমার প্রিয় জন্মদাতা।
প্রকাশ করে দিও আমার ব্যবহার
সেদিন আমায় দেখে যেও,অন্তত একবার...!!!

*মৃত্যু* *আবেগ* *ভালোবাসা* *ইচ্ছা* *সংগৃহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কয়েকজন নারী দার্শনিকের নাম বলুনতো ? পারবেন না ।এমনকি গুগল করেও খুব একটা লাভ হবে না । এরিস্টটল ,প্লেটো অথবা এদের বন্ধু বান্দব প্রায় সবাই পুরুষ । দর্শন আর নারী খুব একটা যায় না । উকিপেডিয়ার এডিট প্যানেলের একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায় শতের মাঝে মাত্র ৯ ভাগ নারী উকিপেডিয়ার এডিট করেন । মজার ব্যাপার হলো এডিটের ক্ষেত্রে দর্শন , ইতিহাস বা জিওগ্রাফি এই সব মোটেই নারীর আগ্রহের বিষয় নয় । বরং ব্যাক্তিগত প্রোফাইল এডিট নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে । এতে অবাক আবার কিছু নেই । নারী পুরুষের আগ্রহ ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক । তবে দর্শনের এই ভিন্নতা কিভাবে ধর্ষণকে প্রভাবিত করছে আসুন দেখা যাক ।

 

দর্শনের মতো আপেক্ষিক ব্যাপার স্যাপার পুরুষরা বেশ ভালো পায় । নারীর ক্ষেত্রে এভিডেন্স বা প্রমান হলো আসল জিনিস । যেমন ধরুন যে কোন নারী সবসময় অন্যের উদাহরণ দিতে পছন্দ করে । অমুক ভাবীর হাসব্যান্ড ঐটা করছে । অথবা অমুক ভাবি ওই জিনিসটা করছে । নারীদের বেশির ভাগ কথার মাঝে দেখবেন উদাহরণ থাকবেই । পুরুষদের ক্ষেত্রে যেটা আপেক্ষিকতায় পরিপূর্ণ । বেশির ভাগ পুরুষ অন্যকে বা অন্য কিছুকে উদাহরণ হিসাবে নেয় না । পুরুষদের এই ব্যাপারটা অনেকটা তত্ত্ব আর সত্যের মাঝামাঝি একটা জায়গায় অবস্থান করে । নারীর ক্ষেত্রে যা সত্য আর বাস্তব উদাহরণের মাঝখানের কোনো একটা অংশ । একটু জটিল মনে হলেও ছবি দেখলে বুজতে পারবেন কেন আপনি এতো খুঁজেও একটা নারী দার্শনিকের নাম মনে করতে পারেননি একটু আগে ।

এবার আসুন ধর্ষণের দর্শন তত্ত্ব কি বলে তা জানা যাক । ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের একটা সাইকেল বা জীবন চক্র আছে । এই জীবন চক্র অনেকটা ছোটবেলায় বায়লোজি বইতে পড়া প্রাণীর হাইয়ারেরকি পিরামিডের মতো । যার শুরুটা হয় নারীর প্রতি ছোট খাটো তাচ্ছিল্ল বা "ম্যান উইল বি ম্যান " এই ধরণের রসাত্ববোধক টিভি কমার্শিয়াল দিয়ে । যেখানে সবাইকে বুজতে দেয়া হয় পুরুষ পুরুষই । এর পরের ধাপে দেখতে পাবেন সোশ্যাল মিডিয়া বা মোবাইল এ ছোট খাটো বুলিং বা মেয়েদের ছবি পোস্ট বা প্রতিশোধ মুলুক ভিডিও আপলোড এই সব । এবং সর্ব শেষ ধাপ পরিপূর্ণ ধর্ষণ বা নির্যাতন দিয়ে শেষ হয় । ভালো করে খেয়াল করে দেখুন আজকের আমাদের দেশে এই সব কয়টি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত ধর্ষণের মতো একটা নির্যাতনের ধাপ আমরা পেয়েছি । হয়তো আমরা আগে জানতাম না বলে প্রথম দিকের ধাপ গুলোকে অতো গুরুত্ব দেইনি । সে যাই হোক আজকের দিনে এসেও যদি বুজতে পারি তাহলে হয়তো প্রতিকার সম্ভব ।

এই অবস্থার প্রতিকার কি ? বা কিভাবে সব আবার আগের মতো অবস্থায় অথবা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যাবে ? যেহেতু আমরা জানি ধর্ষণের মতো নির্যাতন বেশ কয়েকটি ধাপের পর সমাজে মহামারী আকারে সংগঠিত হয় । সেহেতু এই ধাপ গুলুকে ভেঙে দিতে পারলে হয়তো কিছু সময় পর আবার সব কিছু সহনীয় হতেও পারে । ধর্ষণের দর্শন পিরামিডের ধাপ ভাঙা খুবই সহজ । যেমন ধরুন প্রথম ধাপে যদি আমরা "ম্যান উইল বি ম্যান " ধরণের টিভি কমার্শিয়াল বানাতে বাধা দেই তাহলে কেও ধর্ষণের প্রথম ধাপে পা রাখতে পারবে না । পুরুষ মানেই পুরুষের মতো কিছুটা অহংকার জনিত কণ্ঠ বন্ধ করে দিতে হতে পারে এর জন্য । কিভাবে এই অসাধ্য সাধন করা যাবে সেটা আমার ভাববার বিষয় নয় । সরকার আছে মিডিয়া আছে উনারা চাইলেই পারেন ধর্ষণের পিরামিড ভেঙে দিতে ।

মানলাম সবাই উদ্যোগী হয়ে ধর্ষণের সাইকেল বা পিরামিড ভেঙে দিলাম । কিন্তু যারা বর্তমানে পিরামিডের শেষ ধাপে এবং প্রায় পরিপূর্ণ ধর্ষক তাদের কিভাবে ঠেকানো যাবে ? এটাও খুবই সহজ একটা কাজ । আবার একটু কষ্ট করে খেয়াল করে দেখুন নারী পুরুষের দার্শনিক ভিন্নতা । যেহেতু পুরুষরা অন্য কোনো পুরুষের বা অন্য কারো সাথে নিজেকে উদাহরণ হিসেবে খুব একটা নেয় না । এক্ষত্রে সপাং সপাং করে ধর্ষকদের ফাঁসি দিয়ে দিলেও প্রকৃত ধর্ষকরা তাদের মনোকাম পূরণে একটুও চিন্তা করবে না । কারণ ফাঁসির বা ন্যায় বিচারের এই উদাহরণ টুকু শুধু নারীরই পছন্দ হবে ।

সরকার জঙ্গি দমনে প্রথম থেকে কোনো ছাড় দেয়নি । উদাহরণ স্বরূপ প্রত্যেক জঙ্গিকে মৃত্যুর সাধ নিতে হয়েছে । সেই সাথে সরকার সবচেয়ে ভালো যে জিনিসটি করেছে তা হলো একটা ভালো ক্যাম্পাইন । টিভি মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গায় জঙ্গি বিরোধী প্রচার । ফলাফল ছেলে জঙ্গি কমে গেলো । আর উদয় হলো নারী জঙ্গির । এর কারণ, সূত্র মতে পুরুষরা সরকারের জঙ্গি বিরোধী তত্ত্ব আর সত্য মেনে নিয়েছে । কিন্তু যেহেতু জঙ্গিদের উদাহরণ আছে তাই নারীরা খুব সহজে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হয়ে পড়লো । কারণ এই ক্ষেত্রে নারী হিসেবে সত্য হিসাবে ইসলাম আর উধাহরন হিসাবে মৃত জঙ্গিদের মতবাদকে মূল্যায়ন করছে ।

সুতারং বুজতেই পারছেন কি করা উচিত । সরকার ঠিক যেভাবে জঙ্গি দমনে ব্র্যান্ডিং বা ক্যাম্পেইন করছে ধর্ষণের মতো নির্যাতন রোধেও একই রকম কর্মপন্থা বের করা উচিত । পুরুষদের ক্যাম্পাইনে তাদের বোঝাতে হবে নারীর দর্শন ভিন্ন । নারীরা এই ভিন্ন দর্শনে শীর্ষে । আর পুরুষ নিজের দর্শনে । এক করে ফেলা যাবে না কিছুতেই । সামাজিক মাধ্যম বা অন্য মিডিয়াতে আমরা যত বার এই সব নিয়ে লিখছি ততবার ধর্ষণের প্রথম ধাপের সবাইকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিচ্ছি চূড়ান্ত ধর্ষকের পথে । যতবার আমরা নারীর চুল ছোট করে ফেলার বিজ্ঞাপন দেখবো ততবার আমাদের মনে হবে " ম্যান উইল বি ম্যান " এই কথাটাই আমাদের ধর্ষণ পিরামিডের প্রথম ধাপে পা রাখতে সাহায্য করছে ।

ইউরোপের অনেক দেশে ৭ বছরের কম বয়েসের কাওকে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন নির্মাণ বন্ধ । এর কারণ এই বয়েসের একটা বাচ্চা অনেক সহজে যেকোনো চটকদাড় বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয় । আমাদের হয়তো শারীরিক বয়স হয়েছে । কিন্তু মানসিকতা যদি ৭ বছরের বাচ্চার মতো হয় তবে আমরাও এই রকম আকৃষ্ট হয়ে পুরুষ ও নারীর মাঝে দর্শনের বারোটা বাজিয়ে ধর্ষনিক হয়ে উঠবো । সরকারের কাছে একটা পরিপূর্ণ মিডিয়া প্ল্যান চাই জঙ্গি দমনের মতো করে । যেখানে নারী পুরুষ দুটি আলাদা দর্শনের মানুষের জন্য আলাদা আলাদা করে ক্যাম্পাইন থাকবে । কারণ দেখতে একই রকম হলেও আমরা কোনো ভাবেই একই দর্শনের মানুষ না । আমাদের বুজবার ক্ষমতাও ভিন্ন । আশা করি সরকার আমাদের মানে নারী পুরুষ সবাইকে বুজতে পারবেন । আলাদা আলাদা করে ।

*ধর্ষন* *দর্শন* *তত্ব* *সংগৃহীত* *নারী* *পুরুষ*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রেম কি, মানুষ কেন প্রেম করে, কার সাথে কার প্রেম হয়, কেমনে প্রেমে পড়ে, প্রেম কেমনে হয় এসব প্রশ্নের ধরাবাঁধা কোনো উত্তর নেই। উত্তর কেউ খুঁজে পান না, যিনি প্রেমে পড়েন তিনিও নন, যিনি প্রেম বোঝার চেষ্টা করেন তিনিও নন। প্রেম সে এক আজব জিনিস। দিল্লীকা লাড্ডু বললেও নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা কিংবা ব্যাখ্যা নেই, আছে কিছু উপলব্ধি, আর কিছু সূক্ষ্ম অনুভূতি। জেমস-এর গানে সুর মিলিয়ে বলতে পারি - প্রেম আমার প্রথম দিনের আলো, শেষ বিকেলের পথ, প্রেম আমার স্বপ্নে দেখা রাজকুমারী, তেপান্তরের মাঠ, প্রেম যেন স্বপ্নে পাওয়া তুমি, প্রেম যেন স্বপ্নে দেখা তুমি, প্রেম ও প্রেম..

প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা উভয়ের মনের মধ্যে সবসময় বাজতে থাকে – যেখানেই থাকো তুমি যাও যত দূর, সেখানে পৌঁছে আমার এ সুর, এই গান পাড়ি দেবে প্রয়োজনে, তেরো নদী, সাত সমুদ্দুর! আর একে অন্যকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় সবাইকে চিৎকার করে জানিয়ে দিতে চান, জগতের সবকিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে বসেন, বিশেষ করে প্রেমিক তাঁর প্রিয়তমার জন্য গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠেন- সুন্দরীতমা আমার, তুমি নিলীমার দিকে তাকিয়ে বলতে পারো, এই আকাশ আমার, নীলাকাশ রবে নিরুত্তর, মানুষ আমি চেয়ে দেখো, নীলাকাশ রবে নিরুত্তর, যদি তুমি বলো আমি একান্ত তোমার, আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেবো তুমি আমার...

প্রেমিক-প্রেমিকা দীর্ঘ সময় ধরে কোথাও কোন নির্জনে গাছের নিচে বা পার্কের বেঞ্জে বসে থাকেন, তাঁরা নিজেরাও জানেন না তাঁদের মধ্যে কি কথা হয়, তবুও কথা চলতেই থাকে, কারনে অকারনে তাঁদের হাজারো বার বলা হয়ে যায় – ভালবাসি, আর একটু পর পর হাসি- মুক্ত ছড়ানো হাসি, কিংবা ভুবনডাঙ্গার হাসি! একসময় প্রেমিকার বাসায় ফেরার সময় হয়ে যায়, কিংবা বিশেষ কাজে উভয়কেই উঠতে হয়, কিংবা নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ায় কর্তৃপক্ষের বাঁশির শব্দে আর সেখানে বসে থাকা সম্ভব নয় – তখনও উভয়ের মনে বাজতে থাকে – আরো কিছুক্ষণ কি রবে বন্ধু? আর কিছু কথা কি হবে? বলবে কি শুধু ভালবাসি তোমায়? বলবে কি শুধু তুমি যে আমার, মুছে ফেলে সব জড়তা...

স্কুলে থাকতে মনের অজান্তেই কখনও কাউকে ভাল লাগেনি এমন ছেলে পাওয়া দুস্কর। সেসময়টা প্রেমের বয়সও নয়, বাবা-মা বা পরিবারের চাপে ভদ্রতা বজায় রাখতে মনের কথা কখনই ব্যক্ত করা হয়না, কিন্তু নচিকেতার নীলাঞ্জনা গানটা মন দিয়ে শুনেনি এমনটা পাওয়া যায় না। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে যখন তিনি অনেক বড়, কিংবা পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করে সংসার জীবনও শুরু করেন, তখনও সেই গানের কয়েকটা লাইন তাঁর প্রথম প্রিয়তমার জন্য মনের মধ্যে বাজতে থাকে- যখন খোলা চুলে হয়তো মনের ভুলে, তাকাতো সে অবহেলে দু'চোখ মেলে, হাজার কবিতা বেকার সবই তা, তার কথা কেউ বলে না, সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা...

চশমা পড়ুক আর না পড়ুক, পাড়ার দাদাদের হাতে ধরা খাক আর না খাক, সাইকেলে চড়ে প্রেমিকার বাসার সামনে কোন প্রেমিক ঘুরঘুর করেনি, আর লেখাপড়া শেষে প্রেম যখন পরিণয়ের দিকে গড়াবে তখন কোন প্রেমিককে বেকারত্ব বা আর্থিক অস্বচ্ছলতা গ্রাস করেনি, আর শেষ রক্ষা হিসেবে মাত্র এগারশো টাকার চাকরি পেয়েও প্রেমিকাকে নিয়ে লাল-নীল সংসার করার তীব্র বাসনায় প্রেমিক পাগল-প্রায় হয়ে টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন নাম্বারে কল করা বেলা বোসকে নিয়ে গানটি অঞ্জন দত্তের চেয়েও গভীর সুরে কোন প্রেমিকটি গায়নি তা খুঁজে পাওয়া মুশকিল!

প্রেম ও বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রেম ও রোমান্টিকতার মাত্রা যিনি বুঝতে চেয়েছেন তিনি যেন আরও গভীরে ডুবে গেছেন, একটা গানেই তার কিছুটা আভাস দেয়া যেতে পারে - আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন, দিল ওহি মেরা ফাস গ্যেয়ি, বিনোদ বেণীর জরীণ ফিতায়, আন্ধা ইশক মেরা কাছ গ্যেয়ি। সকল বয়সের লাখোলাখো প্রেমিক এই গানে তাঁর প্রেমিকাকে কল্পনায় বা বাস্তবে পেয়ে মশগুল হয়েছেন তা বলাই বাহুল্য, আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা রাখি। কারন কবি প্রেমিকাকে বিজয়িনী ভাবতেন, প্রকাশ করেছেন এভাবে – হে মোর রানী! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে, বিজয়-কেতন লুটায় তোমার চরণ-তলে এসে।

যিনি হলেন প্রেমের ও মানব মনের অন্যতম দার্শনিক, যাকে ছাড়া বাংলা ভাষায় প্রেমের কিরন উদিত হয়না, বলা যায় সম্পূর্ণতা পায়না, তিনি হলেন আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রেমিক-প্রেমিকার দুটি হৃদয় একই ছন্দে চলার জন্যই হয়ত তিনি একসময় গেয়েছেন - ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে, আমার নামটি লিখো – তোমার, মনের মন্দিরে, আমার পরানে যে গান বাজিছে, তাহার তালটি শিখো- তোমার, চরণমঞ্জীর।

আবার অন্যসময় ভালবাসাকে ভাবনা ও যাতনাও উল্লেখ করেছেন - সখী, ভাবনা কাহারে বলে? সখী, যাতনা কাহারে বলে? তোমরা যে বলো দিবস-রজনী ‘ভালোবাসা’ ‘ভালোবাসা’, সখী, ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়? কোনো এক মহা প্রলয়ে যদি কখনও প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কে মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে সেই স্মৃতিটুকু যে হাতের নয় পরানের রাখী হয়ে থাকে, সেটাকে কবি গেয়েছেন - সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে, ফুলডোরে বাঁধা ঝুলনা, সেই স্মৃতিটুকু কভু খনে খনে, যেন জাগে মনে, ভুলো না...

সম্প্রতি দূর দেশ থেকে ছেলেদের প্রেমে পড়ে এবং ভালবেসে বাংলাদেশে চলে আসছে অনেক বিদেশী নারী। তাঁদের সেকি প্রেম! একসময় কিংবা এখনও এদেশের ছেলেরা পড়াশুনার জন্য বিদেশে গিয়ে বিদেশিনীদের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করে সেখানেই সংসার গড়েন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন – তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষিত, কম স্বচ্ছল এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বয়েসেও ছোট এমন ছেলেদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে প্রেম করে সেই প্রেমের টানে এসে বাংলাদেশী ছেলেকে বিয়ে করেছেন।

থাইল্যান্ডের সুপুত্তো ওম (৩৬), যুক্তরাষ্ট্রের এলিজাবেথ (২১), ব্রাজিলের সেওমা বিজেরা (৪৭), অস্ট্রেলিয়ার আসান ক্যাথরিনা, ব্রাজিল জেইসা সিলভা (২৯), মালয়েশিয়ার ফাতেমা-সহ অস্ট্রেলিয়ার এমিলি রেবেকা যথাক্রমে নাটোরের অনিক খান (২২), ঝিনাইদহের মিঠুন বিশ্বাস (২২), হবিগঞ্জের আবদুর রকিব (২৬), মাগুরার চন্দন, রাজবাড়ীর সঞ্জয় (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশিকুর এবং বরিশালের সাইদুল আলমকে বিয়ে করে সংসার পাতেন।

ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে অতি সহজে এদেশের ছেলেরা – আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী, তুমি থাক সিন্ধুপারে ওগো বিদেশিনী – বলে বিদেশিনীকে মন সঁপে দিলেও দুজনকে দুদেশের সীমানা পেরিয়ে পরিবার ও সমাজের সকল বাধা উপেক্ষা করে বিয়ে পর্যন্ত সেই তাঁদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সহজ ছিলনা। ভবিষ্যতে সংসার জীবনে চলার পথে তাঁদের সম্পর্কে কোনো বাধা আসতে পারে, তাই তাঁদের পবিত্র প্রেম ও স্নিগ্ধ ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস রাখতে অনুরোধ জানিয়ে জেমস-এর আর একটি গান মনে করিয়ে দিতে চাই – আরও দুঃখের পথ পাড়ি দিতে হবে, যেতে হবে বহুদুর, পুরনো বাঁশিটা সুরে বেধে নাও, তুলতে হবে নতুন সুর! আরও দুঃখের পথ.. যেন দুঃখেই মুক্তি, দুঃখেই ঈশ্বর, বিশ্বাস রেখো বন্ধু সারাটি জীবনভর...

*সংগৃহীত* *প্রেম* *ভালোবাসা* *বিদেশী*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সেদিন বাসে উঠেছি, পাশের দুটি মেয়ের কথোপকথন কানে এলো, দুজনেই বুরকা পরিহিতা নিকাবি বোন।

১ম জন- “এই তুই কালকের কনসার্টে যাবি?”
২য় জন- “যাব না মানে!! অবশ্যই যাব”
১ম জন- “বাসায় বলসিশ? রাত হবে কিন্তু অনেক। কোন জামাটা পড়বি তুই?”
২য় জন- “আরে পাগল! বাসায় বললে যেতে দিবে নাকি?বলব পরীক্ষার কাজে যেতে দেরী হবে। আর কি পড়ব মানে? ঐ যে জিন্স আর টি শার্ট কিনলাম আমরা ওগুলোই পড়ব। ওপর দিয়ে বুরকা পড়ে নিব ওখানে যেয়েই খুলে ফেলব”
১ম জন-“দারুন মজা হবে রে! শোন ছবিগুলা কিন্তু ভুলেও আমার আগের অ্যাকাউন্ট টে দিবি না! ওখানে সব আত্নীয় আর পুরানো দিনের লোকজন! নতুন এফবি অ্যাকাউন্ট এ পোস্ট করবি, বুজছোস?”
২য়- “হ ভালা বলছিস। তুইও মনে রাখিস, আমারগুলাও ফেক অ্যাকাউন্টেই দিস দোস্ত, আগেরটা তে তো সবাই আমারে অন্য রকম মনে করে...হিহিহিহি”

বোন দুজনের কথাবার্তা শুনে ছোটবেলায় পড়া একটা শব্দই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল আর আর তা হল-“মুনাফিক”

সংজ্ঞাটা বেশ সহজ -যার ভিতরের অবস্থা প্রকাশ্যের বিপরীত তাকে নিফাক বলে আর যার মধ্যে নিফাক রয়েছে সে ব্যক্তিই মুনাফিক।
তবে এর ব্যাখ্যাখানা মোটেও সহজ নয়।

প্রথমেই মুনাফিকদের সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার জানা থাকা দরকার। এনারা দুই ধরণের হয় – ১) যারা নিজেরা জানে যে তারা মুসলিম নয় এবং তারা মুসলিম সেজে গুপ্তচরের কাজ করে, ২) যারা মুসলিম, কিন্তু তারা নিজেরা বোঝে না যে তারা আসলে মুনাফিক।

দ্বিতীয় ধরণের মুনাফিকদের ব্যাপারে আপনি-আমি কখনই বলতে পারবো না তারা মুনাফিক কিনা। ইসলাম কাউকে অধিকার দেয় না অন্য কাউকে মুনাফিক ঘোষণা দেওয়ার। শুধুমাত্র গুপ্তচর ধরণের মুনাফিকরা যদি কখনও ধরা পড়ে যায়, শুধু তাদেরকেই তখন মুনাফিক ঘোষণা দেওয়া যাবে। কিন্তু যারা মুসলিম, যারা এই ধরণের গুপ্তচর নয়, তাদেরকে কখনই মুনাফিক বলার অধিকার ইসলাম আমাদেরকে দেয় না। কারণ এই দ্বিতীয় প্রকারের মুনাফিক কারা, সেটা কেউ বলতে পারে না। আমিও এই দ্বিতীয় প্রকারের মুনাফিক হতে পারি, আপনিও হতে পারেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে আমাদের মধ্যে কে এই দ্বিতীয় ধরণের মুনাফিক সেটা জানার ক্ষমতা আমাদের কারো নেই। শুধুমাত্র আমাদের আল্লাহ্ যিনি আমাদের মনের ভিতরে কি আছে তা ঠিকভাবে জানেন, শুধু তিনিই বলতে পারেন কারা এই দ্বিতীয় ধরণের মুনাফিক। তবে কিনা যারাই মনে করেন যে তাদের পক্ষে মুনাফিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না, তারা একজন পাক্কা মুসল্লি, তারাই আসলে এক ধরণের মুনাফিক।

এধরণের মানুষ নিজেদেরকে সবসময় বোঝায় যে – তারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করে যাচ্ছে – কিন্তু আসলে তাদের কাজের আসল উদ্দেশ্য থাকে অন্য কিছু। এধরণের মানুষরা প্রায়ই নিজেদের মনে মনে বলে, “আল্লাহ, আপনার জন্যই এটা করলাম কিন্তু। আমাকে আখিরাতে এর প্রতিদান দিয়েন।” শুধু তাই না, তারা মানুষকেও এধরণের কথা বলে বেড়ায়, “ভাই, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি, নামাজ পড়েছি, হজ্জে যাচ্ছি কিংবা আল্লাহর ওয়াস্তে মসজিদে টাকা দান করলাম, আমার জন্য বেশি বেশি করে দোয়া করবেন, যেন আপনাদের আরও উপকার করতে পারি।”

এদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ
“তাদের অন্তরে আছে এক অসুখ, তাই আল্লাহ তাদের অসুখকে বাড়তে দেন। এক অবিরাম কষ্টকর শাস্তি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য, কারণ তারা এক নাগাড়ে মিথ্যা [অস্বীকার, প্রতারণা] বলতো”। [বাকারাহ-১০]

মুনাফেকি হচ্ছে এক কঠিন অন্তরের অসুখ। খুব সাবধানে লক্ষ করে দেখতে হবে আমার আপনার ভেতরেও এই অসুখের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কীনা।
মুনাফেকি একজন মানুষের মধ্যে তখনি আসে, যখন সে কোনো কাজের জন্য আল্লাহ্‌র পাশাপাশি অন্য কারো কাছ থেকে প্রশংসা, সন্মান, বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করে তথাপি সে লুকিয়ে বা গোপনে কিংবা অন্য কোন স্থানে প্রকাশ্যে আল্লাহ বিরোধী কাজকর্ম করে। সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, সে কাজটা করছে আসলে আল্লাহরই উদ্দেশ্যে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা শুধুই লোকদেখানো, আড়ালে সে অন্যকাজেই মশগুল।অথচ সে মনে মনে ভাবছে সে আদর্শ মুসলমান!
হায়রে! আপনি আমি একজন মুসলিম হওয়া তো অনেক দূরের ব্যাপার আগে একজন প্রতারক হওয়া থেকেই বিরত হই, একজন ভালো, সৎ মানুষ হয়েই দেখাইনা তারপর চিন্তা করি নাহয় আমরা মুসলিম কিনা!
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকেই এই Self Delusion থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করুন। আমীন।

*মেয়ে* *কনসার্ট* *মুনাফিক* *সংগৃহীত* *পরিবার* *ফেসবুক*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মনে আছে?
সেই ৯ এর ক্লাসের স্মৃতি,
নন্দিনী ম্যামের পড়ানো জ্যামিতি ।

নীল শাড়ি পরে আট টার ক্লাসে দেওয়া সরলরেখার লেকচার
ঘুম চোখে বসেছিলাম তোমার পিছে, একজন ব্যাকবেঞ্চার।

সেই ২২ নাম্বার অঙ্ক কষতে কষতে ম্যাম গেলেন ভুলে,
ভুল ধরিয়ে দিতে তুমি হাত ধরলে তুলে।

মাথায় বসলো দুষ্টুমির আসর
তোমার পিঠে মেরে দিলাম কলমের আঁচড়।

তোমার ছিল অল্প বয়স, ম্যামকে দিলে বিচার
ম্যাম আমাকে ঠিক করতে বললেন আমার আচারব্যবহার ।
সাথে কিছু বেত্রাঘাত, ম্যামের হাতে চড়
আপন বন্ধুদের সবাইকে মনে হল পর।

এতে করেই ক্লাস শেষ, ম্যাম গেলেন চলে
তুমি, তোমরা মিলে হাসতে হাসতে পড়লে ঢলে
ভেবছিলাম নেব প্রতিশোধ , কিন্তু
তুমি হাসি দিয়েই করলে শোধ ।

তারপর, অনেকদিন গেছে পেরিয়ে
পরীক্ষার আগে শেষ ক্লাস
নন্দিনী ম্যাম আঁকছেন সাইন এর গ্রাফ
অঙ্কে করতে হবে পাশ

হঠাত তোমায় দেখে হারিয়ে ফেললাম মনোযোগ
এঁকে ফেললাম তোমার স্কেচ পরিয়ে দিলাম নীল শাড়ি , পাশে আমি সাদা পাঞ্জাবিতে
ছবির নিচে নিচে নাম লিখে মাঝে বসিয়ে দিলাম যোগ
দেখে ফেলল তোমার ক্রাশ, জানিয়ে দিল তোমায়
তুমি দিলে ম্যামের কাছে অভিযোগ
ম্যাম দাড় করাল আমায়।

তারপর সে অনেক কথা,পরীক্ষা ঘনালো
২২ নম্বর অঙ্ক আর সাইন এর গ্রাফ এলো
পাশ করে তুমি হলে সিনিয়র
আমি সেই হয়ে গেলাম জুনিয়র।

আজ আর ম্যাথের ক্লাসে নন্দিনী ম্যাম আসেনা
শুনেছি তিনি চাকরি ছেড়েছেন, জানো কি?
জানবে কি করে?
তুমি তো আজ কলেজের ছাত্রী
তোমার প্রেমিকের বিয়ের পাত্রী।

আমি আছি সেই ক্লাসে আদু ভাই হয়ে,
ব্যাকবেঞ্চার হয়ে,
প্রেমিকাবিহীন ক্লাসের প্রেমিক হয়ে।

*সংগৃহীত* *প্রেমিক* *ক্লাস* *আবেগ*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

একটা জাতী কবে সভ্য হবে??? কবে তাদের উন্নতী হবে ??? এদের জ্বালায় ভার্চুয়াল জগতে টীকে থাকা দায় ।।

শিরোনাম দেখে ডাক্তাররা চটে যেতে পারেন। তবে ভিতরে পড়ার পর হয়তো তাদের মাথা কিছুটা হলেও ঠাণ্ডা হবে। আজ আমি কয়েকজন ডাক্তারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব। যাদের সুনাম সুখ্যাতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে ব্যাপক। এদের সম্পর্কে না জানলে আপনি বুঝবেনই না ডাক্তাররা শুধু লিঙ্গ নিয়েই পড়াশোনা করে।

 


১। ডাক্তারদের অধিকাংশই হয় মেয়ে ডাক্তার। ছেলেরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে পার্কের চিপাচাপায় আড্ডা দেয়। ফলে বিশাল অংশ ফেল করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুড়িগঙ্গা তীরে ভাসিয়ে দেয়। আপনি যদি আপনার বিশেষ অঙ্গ বড় করতে চান তবে ডাক্তার ফারজানা আক্তারের কাছে যান। তিনি হাতুড়ি দিয়ে বড় করে দিবেন।

 


২। মেয়েদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ যার নাই তিনি মুড়ি খেতে পারেন। ডাক্তার ফারহানা কবির একজন মেয়ে হয়ে জানাচ্ছেন মেয়েদের মাসিক কেন হয়? যেহেতু সে মেয়ে সুতরাং মেয়ের সম্পর্কে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবে।

 


৩। যেহেতু আপনি ওষুধ খাইতে চান না। টাকা খরচ হবে। আবার অপারেশনের ভয়ে হার্ট অ্যাটাক করতে পারেন। কিন্তু পুরুষাঙ্গতো বড় করতেই হবে। সুতরাং ডাক্তার শারমিন সুলতানার কাছে যান। তিনি আপনার পুরুষাঙ্গের আকৃতি বড় করার দায়িত্ব নিয়েছেন।

 


৪। শুধু লিঙ্গের আকৃতি বড় করলেই আপনি যে আসল পুরুষ হবেন তা কিন্তু নয়। আপনার গোপন ক্ষমতাওতো থাকতে হবে। কিন্তু গোপন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সঠিক জায়গা না পেয়ে কবিরাজী পানি পড়া, তাবিজ-কবজ দিয়েতো উপকার পাননি। চলে যান আবারো ডাক্তার ফারজানা আক্তারের কাছে।

 


৫। ডাক্তার তানিয়া সুলতানা কয়েকদিন আগে মেডিকেল সায়েন্সের একটা ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে সুপার ফ্লপ খেয়েছিলেন। আসল ডাক্তাররা চটেছিলেন। তবে তার পেনিস ছোট। ছোট পেনিসের ডাক্তার নিয়ে আর কোনো কথা নাই।

 


৬। আপনারা এতক্ষণে আমার উপর বিরক্ত হয়েছেন। ভদ্রতা দেখাতে হয়তো মনে মনে গালি দিয়েছেন। ভাবছেন এই বিখাউজ ব্লগিং করে কেন? ডাক্তার মুক্তি চৌধুরী ওরফে বিখাউজ আপাও আমাকে মুক্তি দিয়েছে।

এদের নাম ও ছবিসহ দিলাম। কারণ বিলিভ ইট অর নট এরা একটাও ডাক্তার নয়। তবুও আসল ডাক্তারের চেয়ে আমজনতা এদের পরামর্শই বেশি নিচ্ছে! এদের বিরুদ্ধে কি প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না?*

*ডাক্তার* *রোগী* *লুল* *অভদ্র* *বাস্তবতা* *যৌন* *ঔষধ* *ক্ষমতা* *ভার্চুয়াল* *সংগৃহীত* *সমাজ* *লজ্জ্বা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমরা তিন ভাই। সব চেয়ে ছোটজন আকাইদকে এবছর মডেল স্কুল বাসাবো শাখায় ভর্তি করাই। সে এই প্রথম জেনারেল লাইনে আসলো, এর আগে মাদ্রাসায় ছিলো। স্কুলে পড়াশোনা তার কাছে একদমই নতুন। বাসায় আম্মু অসুস্থ, আব্বু সারাদিন অফিসে। আমরা দুই ভাইয়ের একজন রাজশাহী ও আরেকজন খুলনাতে। তাই তাকে কাছেই "কেয়ার" নামক একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত স্কুল, বিকাল থেকে রাত ৯পর্যন্ত কোচিং, সব সাব্জেক্ট। আব্বু আম্মুতো নিশ্চিন্ত। গত সপ্তাহে বাসায় গিয়ে আকাইদের পড়াশুনার খবর নিয়ে চমকে উঠি। অবস্থা ভয়াবহ।
.
সে ইংলিশ গ্রামারে সবচেয়ে দুর্বল। বসলাম সেটা নিয়ে। একদম গোড়া থেকে শুরু করতে যাবো, বলে- ভাইয়া এই Fill in the blanks with verbs গুলো করে দাও। পরদিন পরীক্ষা। কোচিং থেকে একটা নির্দিষ্ট বই দিয়ে দিয়েছে, সেটার নির্দিষ্ট কিছু এক্সারসাইজ মুখস্ত করে গেলেই কমন! গ্রামার শিখার কি দরকার! কি ভয়ংকর!
.
তারপর খোঁজ নিয়ে দেখি বাকি সাবজেক্টেরও এমনই অবস্থা! বর্তমানে সৃজনশীল পদ্ধতি চলছে- এটার উদ্দেশ্য ছিলো- ছাত্র ছাত্রীরা মেইন বইটা বুঝে পড়বে- সেখান থেকে ক্রিয়েটিভ প্রশ্ন করা হবে- তারা যা বুঝেছে তা থেকে বানিয়ে আন্সার করবে। আর এই কোচিং গুলো কি করছে জানেন? ছাত্র ছাত্রীদের নিন্মমানের একটা গাইড কিনতে বাধ্য করছে। তারপর সেখানে করে দেওয়া সৃজনশীল গুলো মুখস্ত করতে দিচ্ছে, সেখান থেকেই তারা প্রশ্ন দিচ্ছে পরীক্ষায়! মেইন টেক্সট বুক পড়ার বা বোঝার কোন পাত্তাই নাই! এইসব গাইড বই থেকে খাবলিয়ে খাবলিয়ে অন্ধের মত প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করে কোচিং-স্কুলের পরীক্ষায় নাম্বার পাওয়া সম্ভব কিন্তু কোন টপিকের উপর স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া একেবারেই অসম্ভব! এবং অনেক স্কুলেও নির্দিষ্ট গাইড কে কেন্দ্র করেই পড়াশুনা, পরীক্ষা হয়। স্কুল-কোচিং-গাইড কোম্পানি লালে লাল... পোলাপানের ব্রেইন শুকনা খাল!
.
তো কি হলো ব্যাপারটা? আমাদের সময় আমরা তো তবুও মেইন বই পুরাটা পড়তাম, সেটার ভেতর থেকে প্রশ্ন আসতো, তাও কিছু শেখা হতো। আর এখন যদি ঢাকার একদম কেন্দ্রস্থলে, বাসাবো মডেল-মুগদা আইডিয়ালের ছেলেমেয়েরা যে কোচিং এ পড়ে সেখানে যদি এরকম গাইড বাণিজ্য হয় তাহলে সারা দেশে পড়াশোনার নামে কি হচ্ছে তা বুঝাই যাচ্ছে। নিন্ম মানের গাইড কোম্পানির সাথে চুক্তি করে সেগুলো পড়তে বাধ্য করা, কোন কিছু না শিখতে শিখতে পড়ে বোর্ড পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পেয়ে এবং মুক্তহস্তে অঢেলে দান করা নাম্বারের বদৌলতে এপ্লাসের বন্যায় ভেসে যাওয়া এই নতুন ব্যাচ গুলো কেন ভর্তি পরীক্ষায় গিয়ে খাবি খায় সেটা কি এখনও আশ্চর্য লাগে কারো কাছে?

*শিক্ষা* *কোচিং* *সৃজনশীল* *সংগৃহীত* *বাস্তবতা* *ভয়ংকর*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমরা যারা "90's Kid [ মোটামুটি যাদের জন্ম ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ এর মধ্যে] আমরা হচ্ছি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম। আমি প্রায়ই অবশ্য আমাদেরকে 'গত প্রজন্মের শেষ বংশধর' বলে থাকি। পৃথিবীর বিশাল বিশাল অগ্রগতিগুলোর চাক্ষুস সাক্ষী আমরা।
আমাদের ঘরে মায়ের হাতে বানানো হাতপাখা ছিলো। মেলা থেকে কেনা রঙ্গিন তালপাতার পাখাও ছিলো। আমাদের প্রিয় চকলেটের নাম -মিমি চকলেট। লজেন্স বলতে নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো নাবিস্কো লজেন্স। ১ টাকায় চারটি পাওয়া যেত। পঞ্চাশ পয়সা করে যেগুলোর দাম ছিলো সেগুলোর স্বাদ ছিলো ঝাল। ডোরাকাটা কালো পলিথিনে মোড়ানো থাকতো।

 


ছবিঃ গোল্লাছুট খেলার একটি দৃশ্য

আমাদের শৈশবে আমাদের প্রিয় খেলা ছিলো গোল্লাছুট, দায়রাবন্দে আর কাঁনামাছি। আমাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে বড় হয়েছে টেকনোলজি। পৃথিবীতে 'Technology revolution'-এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী আমাদের প্রজন্ম। তখনো কম্পিউটার গেমস আসেনি... জন্মদিনে আমাদের সবচেয়ে উপহার হতো ভিডিও গেমস। প্রিন্স হয়ে ড্রাগনকে মারতে পারাই তখন জীবনের ব্রত হয়ে দাড়াতো।
আমাদের শৈশবটা সাদাকালো নিপপন টিভি'র সাথে এন্টেনা ঘুরিয়ে কেটেছে। অনুষ্ঠান যাইহোক টিভি পেলেই সামনে বসে পরতাম। লুকাস ব্যাটারি তখন শুধু গাড়ির ব্যাটারি ছিলোনা। রাত আটটার বাংলা সংবাদ দেখার জন্যে আব্বার জন্যে ব্যাটারীতে চার্জ রাখতে হতো। তারপর বিটিভি'র সাথে ইটিভি পেয়ে যেন মনে হলো - পরিবারে নতুন কোন সদস্য এসেছে! শুক্রবার তিনটা বিশে দেখানো বাংলা মুভির জন্যে কত শুক্রবার যে দুপুরের ঘুমকে হারাম করে বকা শুনেছি হিসেব নেই। ছবির প্রেম রোমান্স না বুঝলেও শেষ দৃশ্যে যে একটা 'লাস্ট মাইর' থাকতো এটার জন্যেই ছিলোই অধির আগ্রহে বসে থাকা। সব সময় নায়কের পক্ষে থাকতাম। আর নায়কেরাও হতাশ করতো না...সকল মুভিতেই 'তামা পাহাড়ে চলে আয়' টাইপের একটা দৃশ্য থাকতো এবং নায়কই জিততো।

 


ছবিঃ নায়ক আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন ছিলেন তখনকার একমাত্র একশন হিরো

পুরো এলাকা জুড়ে তখন শুধু একটা রঙ্গিন টিভি থাকতো- যাদেরকে আমরা বনিয়াদি ঘর বলতাম! তাদের পরিবারের একজন সদস্য নিশ্চিত ভাবে বিদেশে থাকবে।
আমাদের প্রত্যেকের বাসায় টেলিভিশন থাকুক আর না থাকুক প্রতেকের বাসায় অন্তত একটা করে রেডিও থাকতো। ঢাকা ক বা খ'র তিব্বত ঘামাচি পাউডার অনুরোধের আসরের দ্বরাজ গলার উপস্থাপকের কণ্ঠ শুনার জন্যে প্রতিদিন অপেক্ষা করতাম। 'হক ব্যাটারি হক ব্যাটারি- সাতশ ছিয়াশি' কিংবা 'আলো আলো বেশী আলো, শব্দে শব্দে মন মাতালো'র বিজ্ঞাপন শুনে আমাদের মন মাততো। আমাদের স্কুল ব্যাগে কাঠের রংপেন্সিলের সাথে সানলাইটের নষ্ট ব্যাটারিগুলোও থাকতো।

 

 

আমাদের শৈশবের নায়ক বলতে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান কিংবা হাসিবুল হোসাইন শান্ত। ৯৯ এর বিশ্বকাপে পত্রিকায় ছাপানো ১৮ জনের স্কোয়াডকে পত্রিকা থেকে কেটে পড়ার টিবেলি আঠা দিয়ে লাগিয়ে রেখেছিলাম। ওনাদেরকে একদিন বাস্তবে দেখার স্বপ্ন দেখতাম প্রতিনিয়ত। হারলে কেঁদে দিতাম... পাকিস্তানের সাথে জিতার পর না বুঝেই কেঁদে দিছিলাম।


ছবিঃ বিশ্বকাপ স্কোয়াড ১৯৯৯ইংরেজি

দু'হাজারের দিকে গ্রামীন ফোন আসলো। বাসায় একটা মোবাইল আসলো। জিরো ওয়ান সেভেন সিরিজের। তখন একঘরের মধ্যে পাঁচটা মোবাইল ছিলোনা...বরং পাঁচ ঘর মিলে ছিলো একটা টেলিফোন নাম্বার। বাবা-মা'রা নিজের ঘরে টিএন্ডটি নাম্বার না থাকলে বাচ্চাদেরকে আশে-পাশের কারো বাড়ির নাম্বার মুখস্ত করাতো। যেন বাচ্চা হারিয়ে গেলে খুঁজে পাওয়া যায় সহজেই।
তখনো কোন প্রিয়ার সাথে দেখা না পেলেও আসিফের 'ও প্রিয়া তুমি কোথায়' এলবামের সবগুলা গান মুখস্ত ছিলো। ঘরে ঘরে ক্যাসেট প্লেয়ার ছিলো। আঙ্গুল কিংবা পেন্সিল দিয়ে এলবামের ফিতা ঘুরিয়ে একই গান বারবার শোনার প্রচলন ছিলো। বিদেশীর বউ'রা জামাইয়ের কাছে ফিতাওয়ালা ক্যাসেডের রেকর্ড করে পাঠাতো।

 


ছবিঃ ক্যাসেড প্লেয়ার

২০০২ সালের দিক ঘরে কম্পিউটার আসলো। বন্ধুরা বিকেলে বাসায় চলে আসতো গেইম খেলতে। Dx Ball 2 , Road Rash কিংবা হাউজ অব ডেড ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয় গেইম। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ভিডিও গেইমের দোকানে খেলার কথা আর নাই'বা বলি। ভিডিও গেইমসের দোকানে ধরা পরে বাসায় বকুনি খাইনি এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া প্রায় দুষ্কর।


ছবিঃ রোডর‍্যাশ গেইমসের এই ছবি আপনাকে নস্টালজিক হবেন নিশ্চিত

তারপর আমরা আরেকটু বড় হলাম! হটাৎ করে পৃথিবীর যেন কি হলো। সবকিছু দ্রুত বদলাতে থাকলো। এতো দ্রুত বদলালো যে আমাদের আবেগের জায়গা বলে কিছু আছে এমনটা খুঁজে পেতেই কষ্ট হয়ে যায়। তারপরও আমরা ভাগ্যবান যে আমরা দুইটা প্রজন্মকেই একসাথে দেখেছি। সাদাকালো পাঞ্জাবি পরা প্রজন্ম এবং 'ইয়ো ইয়ো' টাইপের মাল্টিকালারের প্রজন্ম।
আমরা "90's kid...আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম and we proud to be a 90's kid।

*প্রজন্ম* *৯০* *বাচ্চা* *বাস্তবতা* *ভাগ্যবান* *গর্বিত* *সংগৃহীত*
ছবি

সাদাত সাদ: ফটো পোস্ট করেছে

♥♥♥♥♥♥♥♥

*সংগৃহীত*
ছবি

আড়াল থেকেই বলছি: ফটো পোস্ট করেছে

সময় হলে একবার পরে দেখুন .. আশা করি ভালো লাগবে

*সংগৃহীত*
ছবি

অনি: ফটো পোস্ট করেছে

শুভ সকাল

*শুভসকাল* *অপূর্ববাংলা* *সংগৃহীত*
ছবি

আড়াল থেকেই বলছি: ফটো পোস্ট করেছে

ইসলামের কোথাই অাছে এই ভাবে ছবি তোলার কথা...? অাপনি শিক্ষক হয়ে কেন এই ভাবে ছবি ফেসবুকে দিলেন.

*সংগৃহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পুরুষ মশা কিন্তু কামড়ায় না। এরা সাধক শ্রেণীর। থাকে বনে জঙ্গলে। কানের কাছে পেনপেনানী, হুল ফুটায়ে রক্ত খাওয়া, সমস্ত কাজ স্ত্রী মশার।

মানুষ্যকূলেতো ন্যয্য কথাটাও স্ত্রী লোকের সাথে বলা যায় না। বুদ্ধি কইরা একটা মশা মাড়ার ব্যাট কিনলাম।

আয়েশ কইরা বসলাম স্ত্রী মশা মারতে। কানের কাছে প্যানপ্যান করতে আসে আর ঠাসসস। কামড় দিতে আসে আর ঠাসসস।

স্ত্রী মশা মারার আনন্দ স্থায়ী হইলো না। তিনি হুঙ্কারর দিয়া বললেন
- ঠাসঠুসানী বন্ধ কইরা মশারীর ভিতরে আসো।

বিড়বিড় করে বললেন, আসছেন আমার মশামারা* ***

সুরসুর কইরা মশারীর ভিতর ঠুইকা গেলাম। মনে মনে বললাম - যাহ বাঁইচা থাক, ছাইড়া দিলাম।

*রসিকতা* *মশা* *স্ত্রী* *বেশম্ভব* *সংগৃহীত*
*মশা* *স্ত্রী* *বেশম্ভব* *সংগৃহীত*
ছবি

আড়াল থেকেই বলছি: ফটো পোস্ট করেছে

এখন কি বলবে আই ছিঃ ছিঃ ???

*সংগৃহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইসলাম আল্লাহ পাকের মনোনীত দ্বীন। জীবনের এমন কোনো অঙ্গন নেই, যেখানে ইসলামের বিধান ও শিক্ষা নেই। সেই শিক্ষা ও বিধান যখন আমরা ভুলে যাই তখনই আমাদের উপর বিপর্যয় নেমে আসে। আখেরাতের ভয়াবহ শাস্তি তো আছেই, দুনিয়ার জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে যায়।

সম্প্রতি নারীনির্যাতন খুব বেড়ে গেছে, বিশেষত উঠতি বয়েসী মেয়েরা চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার। এটা এ সমাজের চরম ব্যর্থতা যে, নিজেদের মা-বোনকেও নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এ অবস্থায় মা-বোনদেরকে গভীরভাবে ভাবতে হবে নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন প্রয়োজন অনেক বেশি সতর্কতা ও সচেতনতার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য এই যে, বিপর্যয়ের সাথে পাল্লা দিয়েই যেন বেড়ে চলেছে আমাদের অবহেলা ও অসচেতনতা।

পোশাক-পরিচ্ছদ মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, পোশাক যেমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঢেকে রাখা ও সৌন্দর্যের উপকরণ, তেমনি শরীয়তের দিক-নির্দেশনা মেনে তা ব্যবহার আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম,

পর্দা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কুরআন মজীদের কয়েকটি সূরায় পর্দা-সংক্রান্ত বিধান দেওয়া হয়েছে। পর্দার বিষয়ে আল্লাহ তাআলা সকল শ্রেণীর ঈমানদার নারী-পুরুষকে সম্বোধন করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদেশ করেছেন তিনি যেন তাঁর স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে এবং মুমিনদের নারীদেরকে চাদর দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত রাখার আদেশ দেন। কিছু আয়াতে উম্মুল মুমিনীনদেরকেও সম্বোধন করেছেন, কোনো কোনো আয়াতে সাহাবায়ে কেরামকেও সম্বোধন করা হয়েছে। মোটকথা, কুরআন মজীদ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য পর্দার বিধান দান করেছে। এটি শরীয়তের একটি ফরয বিধান। এ বিধানের প্রতি সমর্পিত থাকা ঈমানের দাবি।

পর্দা-বিধান ইসলামী শরীয়তের পক্ষ থেকে সাধারণভাবে সমাজ-ব্যবস্থার এবং বিশেষভাবে উম্মতের মায়েদের জন্য অনেক বড় ইহসান। এই বিধানটি মূলত ইসলামী শরীয়তের যথার্থতা, পূর্ণাঙ্গতা ও সর্বকালের জন্য অমোঘ বিধান হওয়ার এক প্রচ্ছন্ন দলিল। পর্দা নারীর মর্যাদার প্রতীক এবং ইফফাত ও পবিত্রতার একমাত্র উপায়।

অনেকে মনে করেন, পর্দা-বিধান শুধু নারীর জন্য। এ ধারণা ঠিক নয়। পুরুষের জন্যও পর্দা অপরিহার্য। তবে উভয়ের পর্দার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। যে শ্রেণীর জন্য যে পর্দা উপযোগী তাকে সেভাবে পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিই কুরআন-সুন্নাহর পর্দা সম্পর্কিত আয়াত গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে এই বাস্তবতা স্বীকার করবেন যে, ইসলামে পর্দার বিধানটি অন্যান্য হিকমতের পাশাপাশি নারীর সম্মান ও সমাজের পবিত্রতা রক্ষার জন্যই দেওয়া হয়েছে। এজন্য এই বিধানের কারণে প্রত্যেককে ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।

আমরা নারীর পর্দা নিয়ে আলোচনা করার সময় নিচের প্রশ্ন সমুহের উত্তর খোজার চেস্টা করবো:
-হিজাব কি সবসময় মুসলীম নারীর জন্যপীড়াকর জবরদস্তি করে পড়তে হয় ?
- হিজাব কি নারীকে মুক্তিদান করে ?
- হিজাব কি কোরআনে বাধ্যতামুলক ?
- শুধু কি নারীর জন্য হিজাব ?
-পাশ্চাত্যে কি হিজাবের কোন ঐতিহ্য বা পড়ার উদাহরন আছে?

"নিকাব হচ্ছে ইউরোপ, আমারিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ইসলাম প্রচারে সবচেয়ে বড় বাধা/অন্তরায়" - মুরাদ হফম্যন Click This Link

প্রচলিত পর্দার বিপরীতপক্ষে বিভিন্ন ধরনের পর্দার প্রকার দেখা যায়. ঘোমটা পর্দার সুনিদ্দিস্ট কোন আরবি শব্দ নেই ইংলিশ ডিকশনারীতে veil এর চারটা ভিন্ন অর্থ দেখায় বস্তুগত, স্থান গত , বার্তা/যোগাযোগ গত এবং ধর্মের দিক হতে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে।

ইসলামিক কালচারে হিজাব বা পর্দা সবচেয়ে ভালো ভাবে বলতে গেলে বোঝায় কাপড় পরিধানের একটি পদ্ধতি, যেমন কাপড়ের অন্যন্য উপাদানের মত এটা সময় ও স্থানে পরির্বতন হয়, নীচে কিছু কমন টাইপ উদাহরন"

১। হিজাব- মাথার স্কার্ফ যা সাধারনত ধর্মীয় কারনে পড়া হয়। হিজাব হল একখণ্ড কাপড় যার সাহায্যে মাথা ও বুক ঢাকা হয়।আমাদের দেশে মেয়েরা ওড়না অনেক সময় হিজাবের মতো করে ব্যবহার করে।

২। চাদর- লম্বা কাপর শাওয়াল যা বুকের উপর জরিয়ে রাখা হয় অথবা এটা পুরু শরীর আবৃত করতে পারে এত বড়ও হতে পারে।

৩। নেকাব- নেকাব হল একখণ্ড কাপড় যারা সাহায্যে মুখমণ্ডল ঢাকা হয়। এটা অনেক মুখোশের মতো পরা হয়। কেবল চোখ খোলা থাকে বা নাও থাকতে পারে। পর্দা ছাড়াও আরব দেশে অনেক আগে থেকে নেকাব প্রচলিত।

৪। ভেইলবোরকা- দুই পিস কাপর একসাতে সেলাই করা শুধু মাত্র চোখের দিকে খোলা যা সাধারনত কাপরের উপরে পড়া হয়।পুরো শরীর ঢাকা যায় এমন বড় লম্বা পোশাক যার অংশ হিসেবে হিজাব থাকে। কোন কোন বোরকা দুই অংশে বিভক্ত থাকে। কোন কোন বোরকা মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটি অংশ থাকে।



কোরআনে কোন আদেশ নাই যে নারীদেরকে তাদের মাথা ও মুখ ঢাকতে হবে। আমি হয়তো কিছু মিস করছি কিন্তু আমি কোন কোরআনের আয়াত বা হাদীস পাইনি যা এ বিষয়ে সরাসরি অলোকপাত করেছে।

প্রথমত সধারন নিয়মে দেখুন কোরআনে সুরা ৯ আয়াত ৭১: "আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।"

দেখুন এই আয়াতে ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একসাথে কাজ করছে একে অপরকে সহায়তা করছে , এটা কোন খালি লেকচার/বক্তব্য নয়। তারা একে অপরকে পুন্য কাজে সহায়তা করে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে ব্যক্তিগত উদাহরণ দেয়ার মাধ্যমে বা নিজে ভালো কাজ করে দেখানোর মাধ্যম, কারন তারা জানে যে কোরআন হচ্ছে ভালো ও খারাপের মধ্যে পার্থক্য নির্নয় কারী।

আর কোনটা ভালো কোনা খারাপ সে কোন অস্পস্ট বিষয় নয় দেখুন কোরআনে বলা আছে সুরা বাকারা সুরা নং ২ আয়াত ১৮৫ : রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।

নিকাব কি ঠিক? নারীর ড্রেস কোডের জন্য তিনটি নিয়ম
১। সুরা নং৭) সূরা আল আ’রাফ , আয়াত নং ২৬: হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

২। সুরা নং ২৪) সূরা আন-নূর , আয়াত ৩১: ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
(সোজা কথায় অপরিচিত/অনাত্বীয় মানুষের সামনে বুক ঢেকে রাখা আর স্টাইল করে হাটা চলা বন্ধ )

৩। সুরা নং ৩৩) সূরা আল আহযাব আয়াত নং ৫৯: হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

কোরআনে হিজাব শব্দ সর্ম্পকে : হিজাব শব্দটি অনেক মুসলমান ব্যবহার করেন মাথায় কাপড় দিয়ে ঢাকা যা হতে পারে চেহারা সহ বা চেহারা ছারা ঢাকা, শুধু মাত্র চোখ ছারা আবার কখনো কখনো একচোখও ঢাকাআবৃত করে রাখা। আরবি শব্দে হিজাবকে অনুবাদ করা হয় ঘোমটাপর্দা আবৃত করে রাখা ঢেকে রাখা অন্য অর্থে হিজাব বোঝায় পর্দা ঘেরা, বিভাগ বিভক্ত অবস্থা বিভাজক ইত্যাদি।

হিজাব শব্দটি কোরআনে সাত বার এসেছে, এর মধ্যে ৫ বার হিজাব এবং ২ বার হিজাবান দেখুন সুরা: আয়াত( হিজাব অর্থ) 7:46 (প্রাচীর ), 17:45(প্রচ্ছন্ন পর্দা ), 19:17 (নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো), 33:53(পর্দার আড়াল থেকে চাইবে), 38:32(সূর্য ডুবে গেছে সূর্য আড়ালে গেছে), 41:5(আমাদের ও আপনার মাঝখানে আছে অন্তরাল), 42:51(কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে).

এই আয়াত সমুহের হিজাব শব্দটি কোরআনে একবারও সেই অর্থে ব্যবহার হয়নি যা আমরা সাধারন/বর্তমান মুসলমানরা হিজাব বলে থাকি মানে হিজাব শব্দটি নারীদের ড্রেস কোড হিসেবে বলা হয়নি। হিজাব শব্দটি কোরআনে যেভাবে বলা আছে সেটি যে নারীর ড্রেস কোড বিষয়ে নয় সেটা স্পস্ট।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পটভূমি: যখন অনেক মুসলিম হিজাব/ নিকাব কে ইসলামিক ড্রেস কোড বলছেন তারাই কম্পিলটি ভুলে যাচ্ছেন বা এড়িয়ে যাচ্ছেন যে হিজাব ড্রেস কোড হিসেবে ইসলামের সাথে কোন সর্ম্পকই নেই এবং কোরআনেই নেই যা উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

সত্যি বলতে "হিজাব" হলো একটি পুরাতন জিউইশ ট্রেডিশন যা আমাদের হাদিসের বইয়ে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। জুইশ ট্রেডিশনের যে কোন লোকই আপনাকে কনফার্ম বলবে যে জিউস নারীদেরকে উৎসাহ দেয়া হয় মাথায় কাপড় পড়তে তাদের রাব্বাই বা ধর্মের লিডাররা সেটাই মানেন। ধর্মভিরু জিউস নারীরা এখনো মাথায় কাপড় দেয় তাদের ধার্মিক উৎসব বা বিয়ের সময়। এই জিউস ট্রেডিশন কিন্তু কালচারাল নয় এটা তাদের ধর্মের ট্রেডিশন।ইসরায়ীলের নারীরা তাদের ধর্মের হিজাব প্রথাকে হাজার বছর ধরে পালন করে তাদের ঐতিহ্যের অংশ করে নিয়েছে।

খ্রিস্টান নারীরাও তাদের মাথা কভার করে রাখেন তাদের বিভিন্ন উপলক্ষে আর নান রাতো সবসময়েই মাথায় কাপড় দিয়ে রাখেন। এই খ্রিস্টান দের ধর্মে মাথায় কাপড় দেয়ার প্রচলন হয় যখন থেকে মুসলমান স্কলাররা দাবি করছেন যে হিজাব ইসলামে নারীদের ড্রেস কোডের অংশ তার হাজার বছর পুর্বে ।

ট্রেডিশনাল আরব ধর্ম সমুহে জিউ, খ্রিস্টান এবং মুসলিমরা হিজাব পরিধান করতো ইসলামেনর জন্য নয় বরং ট্রেডিশনের জন্য. সৈদি আরবে আজো/ বর্তমানেও বেশিরভাগ পুরুষ মানুষ তাদের মাথা ঢেকে চলে সেটাও ইসলামের জন্য নয় তাদের ট্রেডিশনের জণ্য। আল্লহকে অশেষ ধন্যবাদ যে হিজাবের পক্ষের লোকেরা পুরুষের এই মাথায় কাপর দেয়া ইসলামের ড্রেসকোড বলে বাধ্যতামুলক করা হয়নি যেমন নারীদের জন্য করেছে।

উত্তর আফ্রিকাতে কিছু মুসলিম পুরুষ হিজাব পরে। যেমন ধরুন ,টিউরেগ গোত্রের মানুষের জন্য হিজাব হলো তাদের স্টেটাস, যে যত আবৃত থাকবে তার স্টেটাস তত উপরে।



জানা যায় হজরত মুহাম্মদ (সঃ) ও পড়তেন ওনার মাথায় পাগরী বা কখনো মুখ আবৃত রাখতেন ইন্টারেস্টিং ব্যপার দেখুন কাবা শরীফ সেটাও কিন্তু আবৃত মানে হিজাব তাবে সেটাও কিন্তু কাবার চারদিকে উপরে কিন্তু নয় . আরো দেখুন হজ্জের সময় সকলেই সাদা কাপড় পরিধান করে যা মানুষের মধ্যে ঐক্য বোঝায় কিন্তু কত জনকে দেখেছেন একবারে মাথা মুখ সব আবৃত. হজ্জের সময় পুরোটা আবৃত নয় এটা এজন্য যে কোরআন অনুযায়ী মুসলমান ও তার প্রভু আল্লাহর মাঝে কোন কিছুই লুকানো থাকেনা কোন কিছুই পর্দার আড়ালে থাকে না তখন বান্দার সাথে আল্লাহর সরাসরী কানেকশন হয়।

হিজাব করা যদি শুধুমাত্র ধার্মিক, সচ্চরিত্র, ন্যায়পরায়ণ লক্ষন হয়ে থাকে তবে কেন আমরা দেখি অনেক হিজাব কারী নারী অন্যন্য শালীনতা রক্ষা করেন না , যেমন টাইট শাট, জিন্স, টাইট বোরকা যাতে দেহের আকার বোঝা যায় অথবা আশালীন আচরন বা অশালীন কথা বার্তা। মাথায় কাপড় দেয়া থেকে শালীন কাপর পড়া , শালীন কথা কি বেশি গুরুত্বপুর্ন নয়?
.
ধর্মকে ট্রাডিশন বা ঐতিয্যর সাথে মিলানো অনেকটা মুর্তি পুজার মত পুর্বপুরুষ যা করে গেছে সেটা ফলো করা , কারন আল্লাহ কোরআনে আমাদের কি আদেশ দিয়েছেন সেটা না জানা অথবা জানার চেস্টা না করা এটা আল্লাহ ও তার নবীকে অবমাননার নির্দশন। যখন ট্রাডিশন বা ঐতিয্য খোদার আদেশকে অবমাননা করে তখন দীন বা সত্য পথ সেকেন্ড প্লেসে চলে যায়। কিন্তু খোদা/আল্লহ তো সবসময়ে সবার আগে থাকার কথা কখনোই সেকেন্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে নয় ।

কোরআনে খিমার শব্দ বলতে কি বুঝিয়েছে: খিমার এবং নারীর জন্য ড্রেসকোর বিষয়ে পাওয়া যাবে কোরআনে সুরা ২৪ আয়াত ৩১ এ. কিছু মুসলিম বলেন যে এই আয়াতে হিজাবের (মাথা ও মুখ ঢাকার) জন্য বলা হয়েছে এজন্য তারা খুমুরিহিনা শব্দকে নির্দেশ করে (তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে) ,অথচ তারা ভুলে যায় যে আল্লাহ কোরআনে হিজাব শব্দটা অনেকবার ব্যবহার করেছেন. যারা আল্লাহর নেয়ামত প্রপ্ত তারা বুজতে পারেন যে খিমার শব্দটি হিজাবের মুখ বা মাথা ঢাকার জন্য ব্যাবহার হয়নি। যারা হিজাবের আয়াত হিসেবে এটা প্রমান দেখায় তারা সাধারনত খামিরুনা শব্দের পরে অর্থ হিসেবে মাথার কভারমাথার ওরনা ইত্যাদি যোগ করে আর সেটা সাধারনত ব্যাকেটের ভিতরে কারন এটা তাদের যোগ করা শব্দ আল্লাহর নয়।

চলুন এবার সেই আয়াত সুরা ২৪ সুরা আন নুরের আয়াত ৩১ দেখি:
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে .....

বেশিরভাগ অনুবাদক, যারা হাদিসে এবং পুরাতন কালচারে অনুপ্রেরনা প্রাপ্ত তারা অনুবাদ করেছেন মাথার কাপড় বা ওরনা ইত্যাদি হিসেবে এবং এজন্যই আমদের ভুল ভাবে বোঝাচ্ছে যে এই আয়াত আমাদের মাথা ও মুখ ঢাকতে বলা হয়েছে।

অথচ এখানে আল্লাহ আমাদের বলেন যে নারীরা তাদের কভার খিমির যা হতে পারে জামা কোট চাদর স্কার্ফ ব্লাউজ যা তাদের বুক ঢেকে রাখে যাতে সেটা স্পস্টত দেখা না যায়, তাদের মাথা বা চুল ঢাকা নয়। যদি আল্লাহ চাইতেন নারীরা মাথা ঢেকে রাখুক তবে তিনি সিম্পলি বলতেন "তোমাদের মাথা ,চুল ও মুখ ঢেকে রাখ " আল্লাহ কখনো অস্পষ্ট বলেন না বা ভুলে যান না। তিনি কখনো শব্দ ভাষা হারিয়ে ফেলেন না, তিনি চাইলে বলতে পারতেন মাথা ঢাকার কথা। আল্লাহর কোন দরকার নাই যে ইসলামী স্কলাররা ওনার আয়াতের ঠিক অর্থ বলবেন! কারন আল্লাহই সবাধিক জ্ঞান রাখেন।

বুকের আরবি শব্দ জায়ব পাওয়া যাবে সুরা নং ২৪ আয়াত ৩১ এ কিন্তু মাথার আরবি শব্দ (رئيس)রা বা চুল (شعرة)শার সেই আয়াতে নেই। এই আয়াতের নির্দেশনা একেবারে পরিস্কার - নারীর বুকের অংশ ঢাকা। আরো দেখুন মহানবী (সঃ) সময় নারীরা যুদ্ধে বা ওনার সাথে কাফেলাতে যেত তারা কি মাথা মুখ সবকিছু ঢেকে রাখতো ? যদি তাই হয় তবে হজরত আয়েশা (রঃ) যখন হজরত আলী (রঃ) বিরুদ্ধে জামালউটের যুদ্ধ করেন সেখানে কি নিকাব পরে যুদ্ধ করেন নাকি মুখ খোলা রেখে যুদ্ধ করেন ?

এই আয়াতের শেষ অংশে আছে " তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে" অর্থাৎ তাদের শরীরের গোপন সাজ-সজ্জা দেখা যাবে কি না সেটা নির্ভর করে কোন ধরনের ড্রেস নারী পরিধান করে তার উপর মাথার কাপড়ের জন্য নয়। এই আয়াতে "জিনাতাহুননা" শব্দটি নারীর (সোন্দর্য)বডির অংশ নির্দেশ করে। শেষের দিকে আল্লাহ বলেন নারী যেন জোরে পদচারনা না করে তাদের সৈন্দর্য (জিনাত) প্রকাশের জন্য। নারীর সোন্দর্য (গহনা বা অন্যকিছু )প্রকাশের জন্য তার জোরে হাটার দরকার নেই কিন্তু যে ভাবে সে হাটবে বা জোরে হাটলে নারী তার প্রভাবে নারী শরীরের কিছু অংশ বোঝা যায় ঠিক যেমন দেখেন মডেলশোতে নারীরা জোরে পদচারনা করে ।

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানদার নারীর কর্তব্য। কারণ পরপুরুষকে নুপুরের আওয়াজ শোনানোর উদ্দেশ্যে সজোরে পদনিক্ষেপ হাটা যখন নিষেধ করা হয়েছে তখন যে সকল কাজ, ভঙ্গি ও আচরণ এর চেয়েও বেশি আকৃষ্ট করে তা নিষিদ্ধ হওয়া তো সহজেই বোঝা যায়। মুসলিম নারীদের জন্য এটি আল্লাহ রাববুল আলামীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

আল্লাহ ছারা অন্য কারো অর্ডার মানা কি মুর্তি পুজার সমান নয়। হ্য এটা এত বড় সিরিয়াস ব্যপার হিজাবের ক্ষেত্রেও তাই। এটা সম্ভব হতে পারে যে নারী হিজাব (মাথায় কাপর দিয়ে মুখ ঢেকে রাখছে )ধর্মের নামে বিস্বাস করে যে আল্লাহ তাকে এই কাজের আদেশ দিয়েছেন বা অন্যকে পড়তে আদেশ করছে সে কি একই অপরাধ করছেনা কারন আল্লাহ তো সেই বিষয়ে আদেশই করেন নি তাদের এই কাজের আদেশ করেছে সেই মোল্লারা বা ঈমামরা যারা কোরআনের চেয়ে ঐতিহ্যের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই নারীরা তাদের সেই আদেশ কারীকে ফলো করছে আল্লাহ প্রদত্ব কোরআন যা কমপ্লিট, পারফেক্ট এবং পরিপুর্ন ভাবে বর্ননা করা আছে।

কোরআনে জালবাব শব্দ : চাদর দিয়ে আবৃত করা: মুসলিম নারীদের জন্য ড্রেসকোডের প্রথম নিয়ম হলো সুরা ৭ আয়াত ২৬ এ, দ্বিতীয় নিয়ম সুরা নং ২৪ আয়াত ৩১ এবং তৃতীয় নিয়ম সুরা ৩৩ আয়াত ৫৯ এ চলুন তবে দেখা যাক

সুরা ৩৩ আল আহযাব আয়াত ৫৯ " হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

এখানে আল্লাহ নারীর ড্রেস কোডের আরেকটি নিয়ম পরিস্কার বলেদেন রাসুল (সঃ) এর জীবদ্বশায় যা পালন করা হয় । আর এটা শুধুমাত্র রাসুল (সঃ) এর স্ত্রী গনের জন্য নয় দেখুন এই আয়াতে সকল মুমিনদের স্ত্রীদের জন্যও বলা হয়েছে মানে সকল বিশ্বাসী নারীর প্রতি এই নিয়ম প্রযজ্য।

সাধারন একটি জরিপ করুন দেখুন ছেলেরা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছা কৃত মেয়েদের কোথায় প্রথম তাকায় ? নিস্চই চুলে নয় তাই পর্দাটা কোথায় হলে সঠিক হয় আপনিই বলুন? সেজন্যই কোরআনে আগে ছেলেদের ছোখার দৃস্টি নত রাখতে বলা হয়েছে তার পর মেয়েদের পর্দার জন্য বলা হয়েছে।

ধর্মে কস্ট /তকলিফ বিষয়ে: আল্লাহ আদেশ করেন যে যারা কোরআন না মেনে অন্য কোথাও তাদের পথপ্রর্দশক খুজবে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে কস্ট ভোগ করবে তাদের নিজেদের চয়েজের কারনে। এবং আমরা আরো দেখি কোরআনে আল্লাহ আমাদের বলেছেন সুরা হাজ্জ সুরা নং ২২ আয়াত ৭৮ এ ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা ( কষ্ট/ সহ্য করা যায়না এমন কিছু) রাখেননি। কিন্তু আমাদের ফতোয়া প্রদানকারী মুসলিমরা এবং তাদের অহংকারী মনোভাব নিজেদের আইন করেছে এবং ইসলাম কে পালন করার জন্য কঠিন করেছে।. তারা মুসলমানদের জীবনকে ছকে বেধে দিয়েছে যেমন কিছু উদাহরন হলো কোন পাশে ঘুমাবেন, কোন পা দিয়ে ঘরে ঢুকবেন, বা বের হবেন, টয়লেটে যাবার আগে ও পরে কি দোয়া পড়বেন, খাবারে মাছি পরলে কি করবেন ইত্যাদি!

- পর্দা শালীন পোশাক কি নারীকে মুক্তিদান করে ? বা নারীর উন্নতিতে পর্দা কি অন্তরায়?


ছবিটি হচ্ছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার উপদেষ্টা ড. ডালিয়া মুজাহিদ এর। শালীন পোশাক পরিধান করার কারণে সাংবাদিকগণ তাকে গভীর বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করেছিলো, আপনার বেশ-ভূষা ও পোশাক- পরিচ্ছদের মধ্যে আপনার উচ্চ শিক্ষা ও জ্ঞানের গভীরতা প্রকাশ পাচ্ছেনা। তাদের ধারণা ছিলো, হিজাব অনগ্রসরতা, মূর্খতা ও সেকেলে ধ্যান-ধারণার প্রতীক। উত্তরে তিনি বললেন, আদিম যুগে মানুষ ছিল প্রায় নগ্ন। শিক্ষা ও জ্ঞান চর্চার উন্নতির সাথে সাথে পোশাক পরিধান করে সভ্যতার উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে থাকে। আমি যে পোশাক পরিধান করেছি, তা শিক্ষা ও চিন্তাশীলতায় উন্নতি ও সভ্যতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। নগ্নতা ও উলঙ্গপ্নাই যদি উন্নত শিক্ষা ও সভ্যতার চিহ্ন হতো, তাহলে বনের পশুরাই হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুসভ্য ও সুশিক্ষিত। https://en.wikipedia.org/wiki/Dalia_Mogahed

যারা বিশ্বাস করেন কোরআন হলো কম্পিলিট, পারফেক্ট এবং পরিপুর্ন ভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিশদ ভাবে বর্ননা কৃত , তারা তাদের কাছে সবকিছু কে সহজ মনে হবে যেমনটি আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর যারা কোরআন ছারা অন্য কিছুকে মানুষের ফতোয়াকে আইন বলে মেনেছে তাদের জন্য এই দুনিয়া ও আখিরাত হবে কস্টদায়ক। পরকালে তারা আল্লাহর কাছে কমপ্লেইন করবে যে তারা মুশরিক ছিল না দেখুন আল্লাহ বলেন সুরা ৬ সুরা আল আন আম আয়াত ২২ " আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, অতঃপর যারা শিরক করেছিল, তাদের বলবঃ যাদেরকে তোমরা অংশীদার বলে ধারণা করতে, তারা কোথায়? "

হিজাব নিয়ে বাড়াবাড়ি জন্য দুটি উদাহরন:
১। ১৯৩৯ সালে রেজা শাহ পালভি ইরানের শাসনকর্তা, মর্ডানাইজেশনের জন্য বোরকা /নিকাব ব্যান করেন- সরকারী আদেশ দেয়া হয় নিকাব ও বোরকা দেখলে ছিরে ফেলার। নারীরা যারা পর্দা করতো তাদের প্রাইভেসি রক্ষার জন্য , গর্ব ও তাদের স্বাধীনতা প্রকাশের জন্য তাদের জোর করে বাসায় থাকতে হয় এই সরকারী আদেশের জন্য কারন রাস্তার এসব পরলে হেনেস্তা হবায় ভয় ছিল।

২। আফগানিস্তান ১৯৯৪ সালের পুর্বে নারীদের হিজাব/বোরকা / পুরো শরীর ঢাকার জন্য কোন আইন ছিল না। কিন্তু বেশির ভাগ নারীরা পর্দা করতো স্বইচ্ছায়। তখন অর্ধেক নারী কর্মী জনসংখা ছিল এবং নারীরা শিক্ষা অর্জন করতে পারতো।

১৯৯৪ সালের পরে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের পর যখন রাশিয়া চলে যায় তখন আফগানিস্তানে কোন সরকার ছিল না। এই সময়ে তালেবান ক্ষমতা দখল করে এবং মোল্লা মোহাম্মদ ওমর ছিল সেই সময়ের নেতা এবং তালিবানরা প্লান করে যে আফগানিস্তানকে তারা আদর্শ ইসলামী রাস্ট্র বানাবে এবং শান্তি প্রতিস্ঠা করবে।

১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল অবরোধ করে এবং ক্ষমতা দখলের পর তারা জোরকরে কঠিনতম শরিয়া ইসলাম আইন চালু করে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। নারীদের স্কুলে কলেজে যাওয়া নিষেধ করা হয় পুরো শরীর ঢেকে পর্দা প্রথা বাধ্যতামুলক এবং পুরুষদের বাধ্যতামুলাক দাড়ী রাখতে বলা হয় এমনকি ঘরের জানালা ও সাদা রং কারা হয় যাতে বাহিরের কেহ ভিতরে না দেখে। সে সময়ে যারা কোনদিন পুরো কভার করা বোরকা পরেনি তাদের এ সকল পরিবতনের সাথে খাপ খেতে অনেক কস্ট করতে হয়।


উপসংহার: আল্লাহ আমাদের নারীদের জন্য তিনটি সাধারন নিয়ম বলেছেন কাপর পরিধান করার জন্য:

১। ভালো ব্যবহার ,পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম (৭:২৬)
২। তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে, আনাত্বীয় মানুষের সামনে সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে (২৪:৩১)
৩। তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।(৩৩:৫৯)


এই সাধারন নিয়ম যারা আল্লাহ ও কোরআনে পরিপুর্ন বিশ্বাস করেনা তাদের জন্য যথেস্ট নয় বা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে হয়। কিন্তু সত্য বিশ্বাসীরা ঈমানদাররা জানে যে আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট। উপরোক্ত এই তিনটি সাধারন নিয়মের পর প্রত্যেক নারী তার ড্রেস এডজাস্ট করতে পারেন সময় ও স্থানের উপর নির্ভর করে। যেমন শীত কালে একস্ট্রা চাদর বা মরুভুমির দেশে মাথায় কাপর যাতে বালু না লাগে ইত্যদি। আল্লাহর আদেশ ছারা অন্য কিছু মানাতে আমাদের বাধ্যবাধকতা নেই। যেমন মেনে চলেছেন আল্লাহর রাসুল। এই সাধারন নিয়মের পরিমার্জন বা পরিবর্তন এবং নারী কি পরবে সে বিষয়ে বিভিন্ন নিয়ম যোগ করা আল্লাহর আদেশ আমান্য তথা শিরক করার শামিল এবং সচেতন মুসলমানদের কর্তব্য তা সবাইকে জানানো যে বাধ্য করে নিকাব পড়া ইসলাম সম্মত নয়। আল্লাহর সাথে থাকুন বিজয়ীরা সেই কাজটি করেছেন তারা আল্লাহর আদেশের বাইরে যাননি এবং সেটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেননি।

ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো যে যারা পর্দা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে আর ছেলেদের পোশাক আরবদের মত হতে হবে বলে মতামত দেয় তারা হয়তো জানেনা না ট্রাউজারপ্যন্ট এবং লং ও শর্ট জ্যকেট এর নির্মাতা/ উদ্ভাবনকারী হলেন স্পেনের একজন মুসলিম আর্কিটেক্ট এবং ডিজাইনার নাম হলো যারইয়াব ইবনে যাইয়াব.https://en.wikipedia.org/wiki/Ziryab (Ref: Aik Islam by Dr. G.J. Barq).


ইসলামে কতটুকু ঢেকে রাখার বিধান :
পুরুষদের ক্ষেত্রে নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত ।নারীদের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি এবং পায়ের কব্জি থেকে হাত ও পা বাদে বাকি পুরো শরীর রাখাটাই হল পর্দা।

অনেক মহিলা হাতে পায়ে মোজা পরে, মুখমণ্ডল পুরো বন্ধ করে নেকাব পরে। এটা বাধ্যতামুলক দরকার নাই তবে সময় কাল ও স্থান ভেদে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে যেমন শীতে হাত ঢাকা। বরং ইসলামে ছদ্মবেশ ধারণ করা নিষিদ্ধ। এমন কোন পোশাক পরা নিষিদ্ধ যাতে করে মানুষ তাকে চিনতে না পারে। পর্দা প্রথা নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি ও পায়ের কব্জি থেকে খোলা রাখার বিধান থাকলে অনেক মেয়ে নেকাব পরে। নেকাব পরার কোন বিধান ইসলামে নাই। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে এটা ব্যবহার করে। এটা পর্দার বিধান নয়।

নারী তার মুখ, হাত, মাথা , পা গোড়ালী পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবেন কারন দেখুন সুটা নং ৫ সুরা আল মায়েদাহ আয়াত ৬ এ বলা আছে "হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ।"
এসকল অংশ খোলা থাকে বিধায় ধোয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ইবনে ওমর বলেন : "রাসুল (সঃ) সময় নারী এবং পুরুষ একসাথে ওযু করতেন " শিহ বুখারি ভলিউম ১ কিতাবুল উজু অনুবাদক মাওলানা আবদুল হাকীম খান শাহজাহানপুরী

পুরুষের উচিৎ হিজাব পড়া: কারন অনেক উগ্র নামধারী মুসলিম চান নারীকে পুরো আবৃত রাখতে বোরখার ভিতরে , শিক্ষার অধিকার না দিতে ও সমাজের উন্নয়নে নারীর অবদান নস্ট করতে তারা আমাদের বিস্বাস করাতে যায় যে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রঃ)এবং অন্যন্য মহিলা সাহাবী নিজেকে পুরো আবৃত রাখতেন এমন কি অন্ধ লোক থেকে বাচার জন্যও তারা ভুল হাদীস দেখায় যে আয়েশা (রঃ) অন্ধ লোকের ব্যপারে বলেন "সে আমাকে না দেখলে কি হয়েছে আমি তো তাকে দেখছি " কেমন লজিক দেখেছেন? তিনি অন্ধ লোককে দেখছেন বলে তার নিজের পর্দা করতে হবে। এই যদি হয় তাদের লজিক যে নারীরা দেখলেই তাদের পর্দা করা উচিৎ তবে এটা কি যুক্তিযুক্ত নয় না পুরুষরাই পর্দা করবে হিজাব পড়বে না হলে নারীরা তাদের দেখে কামনার উদ্রেক হতে পারে। এই উগ্র নামধারী মুসলিমরা যুক্তি অগ্রয্য করে কমনসেন্স কে মেরে ফেলে। এরা এটা করে আসছে হাজার বছর ধরে আর করছে ইসলামকে কুলষিত। আর আরবরা যে পাগরী পড়ে বা মাথায় কাপরদেয় সেটা ইসলামের জন্য নয় সেটা তাদের ঐতিয্য এবং ধুলি ঝর হতে বাচবার জণ্য।

পুরুষের জন্য বলা আছে সুরা আন-নুর এ আয়াত ৩০ "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। "

এবার ডিসিশন আপনিই নিন কার কথা মানবেন মহান আল্লাহর কথা না মানুষের কথা।

_________________

সুত্র:
১।http://www.irfi.org/articles2/articles_2851_2900/HIJAB%20-ONCE%20AND%20FOR%20ALL.HTM
২। http://www.ipernity.com/blog/246699/411890
৩।: http://www.alkawsar.com/article/442

এর মাঝে যদি কিছু ভূল থেকে থাকে আপনারা অবশ্যই আমাকে জানাবেন ।। মানুষ ভূলের উর্ধে নয় ।।

*ইসলাম* *পর্দা* *হীজাব* *নিয়ম* *নারী* *সংগৃহীত*
*পর্দা* *হীজাব* *নিয়ম* *নারী* *সংগৃহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রাইত বাজে বারোটা আব্বা ঘরে আইছে
খেতাখুতা টাইনা আমি মনে মনে কই খাইছে!
আব্বা কয় হারামির পো নালিশ আইছে তোর নামে
বাড়িঅলার মাইয়াডার তুই হাত ধরসস কোন কামে?
আমি কইলাম, হৈছে কাম, বুইড়া নিজেই আইছিল?
আমার নামে নিশ্চিত হ্যাতে বহুত গুণগান গাইছিল?
আপ্নের পোলা খাঁটি সোনা আব্বা, এইগুলা সব রটনা
চিনিই না ওই মাইয়ারে তো ক্যাম্নে ঘটবো ঘটনা?
আব্বায় কয় শাটাপ বান্দর, মাইয়া নিজেই আইছিল
ভাগছিলি তুই, নৈলে তরে নিয়াই কইতে চাইছিল।

এখন ক শালার ব্যাটা তরে লইয়া কই যাই?
এক্কেরে কুইট্টালবাম যদি মিছা কথার হদিস পাই।

কৈলাম, আব্বা, আপ্নের পোলা সুপুরুষ, বিশাল বীর
তবে কিনা মাইয়াডাও সেইরাম, মানে অস্থির;
রাইগেন না পিলিজ, জানেনই তো আপ্নেরে খুব ভয় পাই
তবে কিনা, মানে আব্বা, অরেই বিয়া করবাম চাই।।

*র‍্যাপ* *রসিকতা* *সংগৃহীত* *গান*
*রসিকতা* *সংগৃহীত* *গান*

আড়াল থেকেই বলছি: [বাঘমামা-উশটাখাইসি]জনৈক বিস্কুটবাবা বলেছেন, " বালক, সে যদি তোমার কান্নার একমাত্র কারণ হয় , তাহলে সে মানুষ নাহ, সে একটা " পিঁয়াজ "

*সংগৃহীত*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★