সাকরাইন

সাকরাইন নিয়ে কি ভাবছো?

বিম্ববতী: *সাকরাইন* কখনো দেখিনি বলে বলেছিল সে নিয়ে যাবে সেবার,,তার ভীষণ ভালবাসার একটা কৃষ্ণচূড়া গাছও দেখাবে,,,আজ আমাদের মধ্যকার ব্যবধান ভালবাসার নিয়মেই,,,আকাশে হাজার ঘুড়ি আমার আর দেখা হয়নি,,,ভালো থেকো,,,,,বৈশাখী ঝড়ে রুমালটা উড়িয়ে দিও ঘুড়ির মতো,,,,,,(বৃষ্টি),,,

*খোলা-চিঠি*
ছবি

খেলাধুলা: ফটো পোস্ট করেছে

আজ পুরান ঢাকায় হবে জমকালো 'সাকরাইন উৎসব'

পুরান ঢাকায় চলছে ঐতিহ্যবাহী ‘সাকরাইন’ উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি ও মাঘ মাসের শুরুর এ দিনটিতে আগুন নিয়ে খেলা ও আতশবাজির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে প্রথম প্রহর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গান বাজনার তালে তালে শুরু হয়েছে ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে মুখরিত হচ্ছে প্রতিটি বাড়ির ছাদ, চলছে ঘুড়ির সাম্যবাদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উৎসবের মুখরতা। বাড়ছে আকাশে ঘুড়ির সংখ্যাও। এদিনে পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার, রায়সাহেব বাজার, বংশাল, সূত্রাপুর, বাংলাবাজার, সদরঘাট এলাকার মানুষ সারাদিন ঘুড়ি ওড়ান। আয়োজন করা হয় পুরান ঢাকার নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের। এদিনটিতে পুরান ঢাকার আকাশে শোভা পায় নানা রং আর বাহারি আকৃতির ঘুড়ি। এছাড়াও আগুন নিয়ে খেলা, আতশবাজি ফোটানো এ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ। তবে সকালের তুলনায় বিকালে এ উৎসব বেশি মুখরিত হয়। সাকরাইন উৎসবকে পৌষ সংক্রান্তি বা ঘুড়ি উৎসবও বলা হয়। এ উৎসবে অংশ নেন সব ধর্ম, পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

*সাকরাইন* *উৎসব*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে, আয় রে চলে,   আ য় আ য় আয়।
ডালা যে তার ভরেছে আজ পাকা ফসলে,   মরি   হায়   হায়   হায়॥
          হাওয়ার নেশায় উঠল মেতে   দিগ্‌বধূরা ধানের ক্ষেতে--
রোদের সোনা ছড়িয়ে পড়ে মাটির আঁচলে,   মরি   হা য়   হা য়   হায়॥

আজ পৌষ পার্বণ, পৌষ সংক্রান্তি। বাংলার আরো একটি উৎসবের দিন। পৌষ মাসের শেষ দিনে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। একে আবার অনেকে 'মকর সংক্রান্তি'ও বলে থাকে। মকর সংক্রান্তি শব্দটি দিয়ে নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশকে বোঝানো হয়ে থাকে। ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী ‘সংক্রান্তি’ একটি সংস্কৃত শব্দ, এর দ্বারা সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। ১২টি রাশি অনুযায়ী এরকম সর্বমোট ১২টি সংক্রান্তি রয়েছে।


মহাভারতেও এই দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। তাই সামাজিক এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব ছাড়াও এই দিনটি ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য বিভিন্ন স্থানে দিবসটিতে কীর্তন, পালা গানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তিতে মূলত নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ উদযাপিত হয়। নতুন ধান, খেজুরের গুড় এবং পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় চালের গুঁড়া, নারিকেল, দুধ আর খেজুরের গুড়। পৌষ সংক্রান্তির মাধ্যমে আমরা পৌষ মাসকে বিদায় জানাই ও মাঘ মাসকে আলিঙ্গন করি। সংক্রান্তির দিনে বাংলার বধূরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন নকশা ও সুস্বাদু পিঠা তৈরী করে।


পৌষ সংক্রান্তিতে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি বাড়িতে পিঠা-পুলি তৈরী ও খাওয়ার ধুম পড়ে। সংক্রান্তির দিনে সকালে পিঠা-পুলি, পায়েস, দই-চিড়া, তিলু-কদমা আর নকূল-বাতাসার পাশাপাশি বিভিন্ন ফলমূলের আয়োজন হয়ে থাকে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও আত্মীয়সহ প্রতিবেশীর বাড়ি যান। আর কিশোররা ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। সংক্রান্তি উপলক্ষে বুধবার বাজারে গুড়-মুড়ি-চিড়া, দই, নারকেল, তিলু, কদমা ও ফলমূলের বিক্রি হয় দেদারসে। পৌষ পার্বণ হলো বাঙালির ঐতিহ্য।


আবহমান কাল ধরে ও গ্রামীণ লোকসমাজ এর চর্চা করে বলে এখনও তার কিছু নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়। শহরে এখন পিঠা উৎসব পালন করা হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। মকর সংক্রান্তি নতুন ফসলের উৎসব ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বিদের কাছে ‘উত্তরায়ণের সূচনা’ হিসেবে পরিচিত। একে অশুভ সময়ের শেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, পঞ্জিকা মতে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় এই দিন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত বাংলা দিনপঞ্জির সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের পঞ্জিকার ব্যবধান দু’দিনের। তাই তাদের পৌষ সংক্রান্তি হয় দেশের প্রচলিত বাংলা দিনপঞ্জির মাঘ মাসের ২ তারিখ। পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠা উত্সব, পৌষ মেলা এবং বিভিন্ন লোকজ ধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়ে থাকে l 


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় এই দিবস বা ক্ষণকে ঘিরে উদযাপিত হয় উৎসব। নেপালে এই দিবসটি মাঘি নামে, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান এবং কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান নামে উদযাপিত হয়। অবশ্যিকভাবে দেশ ভেদে এর নামের মতোই উৎসবের ধরণে থাকে পার্থক্য।

 মাঠের বাঁশি শুনে শুনে আকাশ খুশি হল।
          ঘরেতে আজ কে রবে গো,   খোলো   খোলো দুয়ার খোলো।
          আলোর হাসি উঠল জেগে   ধানের শিষে শিশির লেগে--
ধরার খুশি ধরে না গো, ওই-যে উথলে,   মরি     হা য়   হা য়   হায়॥


এছাড়া পৌষ সংক্রান্তির অন্যতম আকর্ষণ হলো সাকরাইন বা ঘুড়ি উৎসব l পৌষ সংক্রান্তির দিন বাঙালির সারাদিনব্যাপি ঘুড়ি উড়ানোর প্রথা ছিল। হাল্কা খেলনা যা সুতা টেনে আকাশে ওড়ানো হয়। পাতলা কাগজের সাথে চিকন কঞ্চি লাগিয়ে সাধারণ ঘুড়ি তৈরি করা হয়। ঘুড়ি ওড়ানো একটি মজার খেলা। বহু দেশে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে বিশেষ করে পুরনো ঢাকায় পৌষ মাসের শেষ দিন পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব পালন করা হয়। এইদিন ঘুড়ি উড়ানোর জন্য তারা আগে থেকে ঘুড়ি বানিয়ে এবং সুতায় মাঞ্জা দিয়ে প্রস্তুতি নেয়। মাঞ্জা হল ঘুড়ি সূতা প্রস্তুত প্রণালী যা ঘুড়ি উড়াতে এবং কাটাকাটি খেলতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ ভারতবর্ষের আশেপাশের দেশে ব্যবহৃত হয়। সুতায় আঠা, রঙ এবং কাচের গুড়ার (চূর) প্রলেপ দিয়ে আকাশে ঘুড়ি কাটাকাটির জন্য তৈরি করা হয়। ঘুড়ি কাটাকাটির লড়াই সাড়া বছর ধরে চললেও এ অঞ্চলগুলো ঘুড়ি উড়ানোর উৎসবে বিশেষভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দুইজন লড়াকু মাঞ্জা দেওয়া সূতা দিয়ে ঘুড়ি উড়িয়ে একজন আরেকজনকে টানে অথবা ছোড়ে (ঢিল) পদ্ধতিতে কাটার চেষ্টা করেন। বিজয়ী ঘুড়ি আকাশে উড়তে থাকে আর হেরে যাওয়া অর্থ্যাৎ কেটে যাওয়া ঘুড়ি বাতাসে দুলতে দুলতে দুরে মিলিয়ে যায়। কিশোর যুবক বৃদ্ধ সেই কেটে যাওয়া ঘুড়ি ধরার চেষ্টা করেন। ঘুড়ি উৎসব বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। এই উৎসবে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে। 
*পৌষসংক্রান্তি* *মকরসংক্রান্তি* *সাকরাইন* *বাংলারঐতিহ্য*
ছবি

নিউজ ফ্ল্যাশ: ফটো পোস্ট করেছে

পুরান ঢাকায় শুরু হয়েছে সাকরাইন উৎসব

পুরান ঢাকায় চলছে ‘সাকরাইন’ উৎসব। দিনটি পুরান ঢাকার জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী দিন। পৌষ সংক্রান্তি ও মাঘ মাসের শুরুর এ দিনটিতে আগুন নিয়ে খেলা ও আতশবাজীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে প্রথম প্রহর। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে গান বাজনার তালে তালে শুরু হয়েছে ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে মুখরিত হচ্ছে প্রতিটি বাড়ির ছাদ, চলছে ঘুড়ির সাম্যবাদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উৎসবের মুখরতা। বাড়ছে আকাশে ঘুড়ির সংখ্যাও।-বাংলানিউজ

*সাকরাইন* *উৎসব* *পৌষসংক্রান্তি*

উদয়: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আগামী চৌদ্দ জানুয়ারী পুরান ঢাকার আকাশ থাকবে ঘুড়িদের দখলে। আকাশ জুড়ে নানান রং আর বাহারের ঘুড়িদের সাম্যবাদ। গত এক সপ্তাহ ধরে পুরান ঢাকার বাহান্ন রাস্তা তেপান্ন গলির অধিকাংশ গলিতে আর খোলা ছাদে চলছে সুতা মাঞ্জা দেওয়ার ধুম। শীতের উদাস দুপুর আর নরম বিকালে আকাশে উড়বে নানান রঙের ঘুড়ি। এদিন আকাশে উড়ে চোখদ্বার, মালাদ্বার, পঙ্খীরাজ, চশমাদ্বার, কাউঠাদ্বার, চাপালিশ, চানদ্বার, এক রঙা ইত্যাদি ঘুড়ি। এমনকি জাতীয় পতাকার রঙেও ঘুড়ি তৈরি করা হয়। তবে ঘুড়ির চেয়েও সুন্দর হয় এর লেজ। লেজ অনেক আকৃতির ও রঙ বেরঙ এর হয়ে থাকে। ঘুড়ির সঙ্গে সঙ্গে নাটাইগুলোর নামও বেশ মজাদার। বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, মুখছাড়া ইত্যাদি। পাতলা ঘুড়ি ভালো হলেও নাটাই যত ভারী হবে ঘুড়ি উড়াতে তত ভালো হয়।


পৌষ সংক্রান্তি পুরনো ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী দিন। এ দিন পুরনো ঢাকার দয়াগঞ্জ, মুরগীটোলা, কাগজিটোলা, গেন্ডারিয়া, বাংলাবাজার, ধূপখোলা মাঠ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সদরঘাট, কোটকাচারী এলাকার মানুষ সারাদিন ব্যাপি ঘুড়ি উড়ায়, খাবার এর আয়োজন করে, সন্ধ্যা আগুন নিয়ে খেলে আর ফায়ারওয়ার্ক্স তো থাকেই । সন্ধ্যা থেকে ফায়ারওয়ার্ক্সের লাল নীল আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরানো ঢাকা। তারা তাদের এলাকার সবচেয়ে বড় ভবনকে বেছে নেয় ঘুড়ি উড়ানোর জন্য। সেখানে বন্ধু ও আত্মীদয়রা মিলে ১২-১৫ জন ঘুড়ি উড়ায়, কিন্তু বাড়ীর নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ সবাই ছাদে উঠে তাদেরকে উৎসাহ দেয়। 


চৌদ্দ জানুয়ারী পৌষ মাসের শেষ দিন। পৌষ সংক্রান্তির দিনই পালিত হয় পুরান ঢাকার এবং আদি ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের সাকরাইন উৎসব। প্রতিবছর ১৪ বা ১৫ই জানুয়ারী পৌষের শেষ দিনে পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে লোকজন ঘুড়ি উৎসবে মেতে ওঠে। ঢাকায় এই উৎসব হচ্ছে প্রায় ৪০০ বছর ধরে। বাংলাদেশের পুরানো ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানো বিনোদন শুরু হয়েছিল মুঘল আমলে। কথিত আছে, ১৭৪০ সালে নবাব নাজিম মহম্মদ খাঁ এই ঘুড়ি উৎসবের সূচনা করেন। সেই থেকে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এই ঘুড়ি উৎসব পশ্চিম ভারতের গুজরাটেও পালিত হয়। সেখানে মানুষ সুন্দর সুন্দর ঘুড়ির মাধ্যমে সূর্যদেবতার কাছে নিজেদের ইচ্ছা ও আকুতি প্রেরণ করেন। উত্তর ভারতীয় এ ঘুড়ি উৎসবটিকে স্থানীয়রা 'সাকরাইন' নামে অভিহিত করে। 


পুর্বে এই উৎসব হতো খোলা মাঠে এবং এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মাঠে প্রচুর লোক সমাগম ঘটত। বর্তমানে মানুষ বাসাবাড়ীর ছাদে উঠে ঘুড়ি উড়ায়। এ উৎসবে তারা চিকন সূতা দিয়ে পাতলা কাগজের ঘুড়ি উড়ায়। এ উৎসবে সাধারণত ঘুড়ি উড়ানোর চাইতে অন্যের ঘুড়ির সাথে প্রতিযোগিতা করা হয় বেশী। এ প্রতিযোগিতা হয় মূলত সূতায় সূতায় প্যাচ লাগিয়ে। স্থানীয় ভাষায় একে বলে কাটাকাটি। কাটাকাটির পর বিজয়ী ঘুড়ি আকাশে উড়তে থাকে আর হেরে যাওয়া অর্থাৎ কেটে যাওয়া ঘুড়ি বাতাসে দুলতে দুলতে দুরে মিলিয়ে যায়। আর ভাগেটটা হওয়া ঘুড়ি পেতে এলাকার অপেক্ষাকৃত ছোটরা লগি নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায়। তারা চিকন মুলিবাঁশ দিয়ে ঘুড়ির সূতা পেঁচিয়ে ঘুড়ি নিচে নামিয়ে আনে। এই চিকন বাঁশকে লগি বা লগগি বলে। তারা প্রথম দিন ঘুড়ি ধরে জমায় এবং দ্বিতীয় দিন এ ঘুড়িগুলো উড়ায়।


এ প্রতিযোগিতায় সুতাটাই প্রধান। এ সুতাকে মজবুত ও ধারাল করার জন্য যে ব্যবস্থা করা হয় তাকে মাঞ্জা বলে। সুতা ২-৩ ঘণ্টা লেইতে ভিজিয়ে রাখা হয়। লেই বা ল্যাদ্দি তৈরী করা হয় শিরিষ (যা ল্যাদ্দি কে আঠালো করে), রঙ (সুতা কি রঙ এর হবে সেই গুড়া রঙ), বার্লি, ডিম, বিভিন্ন ডালের কষ, ভাতের মাড় ইত্যাদির সংমিশ্রন ঘটিয়ে। ২-৩ ঘণ্টা পর রিল থেকে সুতা নাটাইয়ে প্যাচিয়ে রাখা হয়। শিরিষের আঠার জন্য সুতার সঙ্গে সুতা যেন না লেগে যায় তার জন্য রিল থেকে নাটাইয়ে সুতা যাওয়ার মধ্যপথে দুই জন সুতায় চূর লাগিয়ে দেয়। এ চূর তৈরী করা হয় কাচের গুরা দিয়ে। মাঞ্জা দেয়া শেষ হলে এ সুতা শুকানোর জন্য সমস্ত সুতা ছেড়ে দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। এ সময় তারা কারো সঙ্গে কাটাকাটি খেলে না। তাই তারা সাকরাইনের ৩-৪ দিন পূর্বে মাঞ্জা দেয়। মাঞ্জার গুনাগুনের উপর নির্ভর করে প্রতিযোগিরা একজন আরেকজনকে টানে অথবা ছোড়ে (ঢিল), কোন পদ্ধতিতে পরাজিত করবে।


ঘুড়ি তৈরী করা হয় পাতলা কাগজ বা পলিথিন দিয়ে। ছোটরা পলিথিনের ব্যাগ কেটে নারকেল পাতার শলা দিয়ে ঘুড়ি তৈরী করে। আর বড়দের জন্য দোকানিরা পাতলা কাগজ দিয়ে ঘুড়ি তৈরী করে এবং এর আকৃতি দেয়া হয় বাঁশের পাতলা চটি দিয়ে। পুরান ঢাকার ঘুড়ি প্রেমীরা সারাদিন ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় সকল ঘুড়ি, নাটাই, সুতা, লগি সকল উপকরণ দিয়ে আগুন জ্বালায়। এসময় তারা আতশ বাজী পোড়ায় ও মুখে কেরোসিন তেল নিয়ে আগুন দিয়ে চমৎকার এক ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরী করে, যা গোল হয়ে আকাশের দিকে উড়ে যায়। 


অতীতে সাকরাইনে পুরান ঢাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো ছিলো অবশ্য পালনীয় অংগ। ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হতো আত্নীয়-স্বজন এবং পাড়ার লোকদের মধ্যে। নীরব প্রতিযোগিতা চলতো কার শ্বশুরবাড়ি হতে কত বড় ডালা এসেছে। আজ এই সব চমৎকার আচারগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে। স্বপ্ন দেখি এই সকল প্রাণময় ঐতিহ্যগুলো আবার নতুন করে পুনরুজ্জীবিত হবে। 


*সাকরাইন* *ঐতিহ্যবাহীউৎসব* *ঘুড়িউৎসব*

মারিয়া আক্তার অর্পিতা: *ঘুড়িউড়ানো* অনেক দেখেছি....কিন্তু নিজে কখনো ঘুড়ি উড়িয়ে দেখিনি ...আমাদের পুরান ঢাকার একটা ঐতিহ্য ঘুরিউড়ানো...সামনে আসছে *চৈত্রসংক্রান্তি* ঘুড়ি উড়ানো কে আমাদের পুরান ঢাকায় *সাকরাইন* বলে...তখন যেই *আতশবাজি*টা হয় তা একবাক্যে অসাধারণ...(জোস)(আতশবাজি)(আতশবাজি)(গ্যাংনাম)(গ্যাংনাম)(গ্যাংনাম)

রনি রহমান: ১৪ই জানুয়ারী পৌষ মাসের শেষ দিন। পৌষ সংক্রান্তির দিনই পালিত হয় পুরান ঢাকার এবং আদি ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের *সাকরাইন* উৎসব। ভোরবেলা থেকে সন্ধা অব্ধি ছাদে ছাদে শুরু হবে ঘুড়ি ওড়ানো, স্পিকারে জোরে বাজবে গান, সন্ধায় আতশবাজি, আরো কত কিছু নিয়ে একটি উত্সবমুখর দিন

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★