সাহারা মরুভূমি

সাহারা-মরুভূমি নিয়ে কি ভাবছো?

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সাহারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মরুভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর উঁচু নিচু ছোট ছোট বালুকাময় পাহাড়ের সমন্বয়ে সাহারা মরুভূমি গড়ে উঠেছে। ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের ইচ্ছা এই মরুভূমিটি খুব কাছ থেকে ঘুরে দেখার কিন্তু  আগ্রহ থাকলেও অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হয়ে উঠে না। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে মরুভূমি ভ্রমন খুবই কষ্টকর। আর বিশেষ করে, অন্যান্য মরুভূমির চাইতে সাহারা মরুভূমিটি নিঃসন্দেহে দুর্গম। তাই নির্দিষ্ট শ্রেণীর পর্যটকরাই কেবল সাহারায় বেড়াতে আসেন।


সাহারা মরুভূমির সংক্ষিপ্ত তথ্যঃ
সাহারা মরুভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। এই মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৯০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। এখানকার লোকসংখ্যা ২০ লক্ষের বেশী হবে না। পাহাড়, মালভূমি, বালি ও অনূর্বর ভূমি দ্বারা সাহারা মালভূমি গঠিত। বেশ কিছু মরূদ্যানও আছে। কূপ ও প্রস্রবণ থেকেই কিছু জল পাওয়া যায়। মিশর, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, চাদ, সুদান, নাইজার, মালি প্রভৃতি দেশ পর্যন্ত সাহারা মরুভূমি বিস্তৃত। সাহারার লিবিয়া ও আলজেরিয়া অংশে প্রচুর তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে। তা ছাড়া এই মরুভূমিতে তামা, লোহা, ফসফেট ইত্যাদি অনেক খনিজ দ্রব্যও আছে। জায়গাটি অত্যন্ত গরম ও শুকনো। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০ সেমি-র বেশী হয় না। দিনে প্রচন্ড গরম ও রাতে ঠান্ডা। কখনো কখনো পাহাড়ের চূড়ায় বরফও জমে থাকতে দেখা যায়। শীতকাল থেকে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সে থেকে ৪৩ ডিগ্রী সে পর্যন্ত ওঠানামা করে।

সাহারা মরুভূমির জীবন প্রকৃতিঃ
এখানকার মানুষ অধিকাংশই যাযাবর। তারা ছাগল, ভেড়া, ও উট পালন করে এবং জলের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। খেজুর, গম, বার্লি ইত্যাদি চাষ করে ।মরুভূমির কোনো কোনো জায়গায় ঘাস, গুল্ম ও ছোট গাছ জন্মে।জলের সন্ধানে গাছ গুলোর মূল মাটির খুব গভীরে পৌঁছায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই বাতাস থেকে পাতার মাধ্যমে জল গ্রহণ করে।সাপ, গিরগিটি ও খেঁকশিয়ালের মত প্রাণী বাস করে। যাযাবর ও পণ্যবাহকেরা যাতায়াতের জন্য উট ব্যবহার করে। ১০,০০০ বছর আগে সাহারার আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত আর্দ্র ও শীতল ছিল, বেশ কিছু হ্রদ ও ছোট নদীর অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে শুষ্ক মরুভূমি,এমন কিছু অঞ্চলের পাহাড়ের গুহায় আদিম মানুষের বসবাসের চিহ্ন (গুহাচিত্র ও পাথরের যন্ত্রপাতি)পাওয়া গেছে যা থেকে বোঝা যায় ঐ এলাকা থেকে এক সময়ে সহজে জলের নাগাল পাওয়া যেত। এই এলাকায় হাতি জিরাফ ও অন্যান্য প্রাণী বাস করত। জায়গাটি নিঃসন্দেহে দুর্গম। তাই নির্দিষ্ট শ্রেণীর পর্যটকরাই কেবল সাহারায় বেড়াতে আসেন।

বন্ধুরা, নতুন জায়গা ভ্রমন করা নিঃসন্দেহে খুবই আনন্দের। তবে নতুন জায়গা ও নতুন আবহাওয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা? সে দিকে লক্ষ্য রেখেই ভ্রমনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। মনে রাখবেন, মরুভূমি ভ্রমন খুব কষ্টকর তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।
*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *আফ্রিকা* *সাহারা-মরুভূমি* *মরুভূমি* *ভ্রমনটিপস*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★