সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ নিয়ে কি ভাবছো?

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মন্দিরটির নাম হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির। মন্দিরটি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল ইউনিয়ানে অবস্থিত। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী আর অপরূপ নকশার টেরাকোটায় সজ্জিত এই মন্দিরটি দেখার জন্য প্রতিদিন শতশত পর্যটক হাটিকুমরুলে ভিড় জমান। ধারণা করা হয় প্রায় পাঁচশ বছরের পুরানো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির। গঠন স্থাপত্যের দিক থেকে এই মন্দিরের সাথে কান্তজীর মন্দিরের অনেক মিল আছে। তবে কান্তজির মন্দিরের মতো এটি এতোটা পরিচিতি পায়নি। তবে ধ্বংশ হতে যাওয়া এই পুরাতন মন্দিরটি সংস্কার করা হয়েছে। নতুন ভাবে উপস্থাপনের জন্য এখনে পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে তাই পুরাতনের মাজে নতুন কিছু খুঁজেপেতে চাইলে ঘুরে আসুন হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির থেকে।

হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দিরঃ
একটি উঁচু বেদীর উপর নবরত্ন পরিকল্পনায় নির্মিত মন্দিরের প্রতিটি বাহু ১৫.৪ মিটার দীর্ঘ এবং বর্তমানে ১৩.২৫ মিটার উঁচু। ক্রমহ্রাসমান তিনতলা বিশিষ্ট এ মন্দিরটি স্থানীয়ভাবে ‘দোলমঞ্চ’ নামে পরিচিত। মন্দিরের উপরের রত্ন বা চূড়াগুলো অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। নীচতলায় ২টি বারান্দা বেষ্টিত একটি গর্ভগৃহ আছে। এর বারান্দার বাইরের দিকে ৭টি এবং ভিতরের দিকে ৫টি খিলান প্রবেশ পথ আছে। গর্ভগৃহের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে ২টি প্রবেশ পথ রয়েছে। মন্দিরের দ্বিতীয় তলায় বারান্দা নেই। নিচ তলা থেকে উপরের তলাতে ওঠার জন্য মন্দিরের ভেতর থেকে একটি চিকন সিঁড়ি দোতালায় উঠে গেছে।

মন্দিরটি ইট,চুন,সুরকির মসল্লা দিয়ে নির্মিত। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নবরত্ন মন্দির। মূল অবস্থায় মন্দিরটি পোড়ামাটির চিত্রফলক দ্বারা সজ্জিত ছিল। এখনও মন্দির গাত্রে সামান্য কিছু চিত্রফলকের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। মন্দিরটির ছাদ-প্রান্ত আংশিক বাঁকানো অবস্থায় আছে। এ মন্দিরে কোন শিলালিপি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু পাঠজাত বিবরণ থেকে জানা যায় যে, নবাব মুর্শিদকুলি খানের শাসনামলে রামনাথ ভাদুড়ী নামে জনৈক তহসিলদার খ্রি.১৭০৪-১৭২৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এটি নির্মাণ করেছিলেন।

মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন। এখানে কোন টিকেটের ব্যবস্থা নেই। মন্দিরের দেখাশোনার দায়িত্বে একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োজিত আছেন। চাইলে তার কাছে অনুমতি নিয়ে মন্দিরের দোতালায় উঠতে পারেন।

এই মন্দিরের আশেপাশে আরও দুটি ছোট মন্দির রয়েছে। যার একটি সংস্কার করে সুন্দর করে তোলা হয়েছে। মন্দিরটির গায়েও অনেক টেরাকোটার কারুকাজ দেখা যায়। মন্দিরটি অনেকটা ছোট কুঁড়ে ঘরের মত। এর ছাদও পোড়ামাটির তৈরি। মন্দিরটিতে প্রবেশ করার জন্য একটি ছোট দরজা রয়েছে।

যেভাবে যাবেন নবরত্ন মন্দিরেঃ
ঢাকা থেকে সরাসরি আপনাকে আসতে হবে সিরাজগঞ্জ রোডে। যমুনা সেতু পার হয়ে একটু সামনে সিরাজগঞ্জ রোড। ঢাকার গাবতলি ও মহাখালী থেকে অনেক বাস সিরাজগঞ্জ রোডের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হানিফ, শ্যামলী, এস আর ট্রাভেলস, টি আর ট্রাভেলস, নাবিল, বাবলু ইত্যাদি বিভিন্ন বাস চলাচল করে এই রুটে। ভাড়া নন এসি ২৫০ টাকা। এছাড়া সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার বাসে করেও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে নামতে হবে সিরাজগঞ্জ রোডে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা অথবা ভ্যান বা রিক্সা ভাড়া করে যেতে হবে হাটিকুমরুল মন্দির। আর ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলেতো কথাই নেই। ভ্রমণটা তাহলে আরো সহজ হয়ে যাবে। সিরাজগঞ্জ রোড থেকে হাটিকুমরুল মন্দিরের দূরত্ব ৫-৬ কিলোমিটার হবে। এর মধ্যে ১.৫ কিলোমিটার কাঁচা বা মাটির রাস্তা। মন্দিরটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ট্রেনে আসতে চাইলে আপনাকে নামতে হবে উল্লাপাড়া স্টেশনে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাতে সিরাজগঞ্জ রোড পর্যন্ত আসতে হবে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল ৮.৩০ মিনিটে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি উল্লাপাড়া স্টেশন হয়ে যায়।

জেনে নিন কোথায় থাকবেনঃ
সিরাজগঞ্জ রোডে থাকার মত ভাল হোটেল নেই। তাই থাকতে হলে আপনাকে যেতে হবে সিরাজগঞ্জ অথবা বগুড়াতে। যদি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চান তাহলে বগুড়া হবে আপনার জন্য আদর্শ। ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়, ভাসু বিহার, মোহাম্মাদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম, মহাস্থান জাদুঘর,গোবিন্দ ভিটা ইত্যাদির টানে আপনাকে বগুড়া আসতেই হবে। সিরাজগঞ্জ রোড থেকে বগুড়াতে যাবার জন্য বাস এবং সিএনজি দুটোই পাবেন। সময় লাগবে ১.৩০ মিনিট। থাকার জন্য বেছে নিতে পারেন বগুড়া শহরের হোটেলগুলি। সব ধরণের ও মানের থাকা-খাওয়ার জায়গা পাবেন এখানে। ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় রাত যাপনের ভাল ব্যবস্থা হয়ে যাবে। বেছে নিতে পারেন থ্রি স্টার হোটেল নাজ গার্ডেন, হোটেল সেফওয়ে, আকবরিয়া, সিয়াস্তা কিংবা পর্যটন মোটেল। খাবারের ব্যবস্থা আছে সবগুলিতেই।

বন্ধুরা, আপনারা যারা ভ্রমণ পছন্দ করেন, বেড়ানোর সুযোগ এলে যারা উড়িয়ে দেন সব বাধা, কাজের অংশ হিসেবে যারা ভ্রমণ করেন কিংবা যাদের খুব কমই সুযোগ হয় ভ্রমণের তারা সবাই লিখতে পারেন বেশতোতে। সবার সাথে শেয়ার করুন আপনার ভ্রমন অভিজ্ঞতা আর একটি কথা আপনার লেখার সাথে ভ্রমনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানটির ছবি দিতে ভুল করবেন না।
*ভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *সিরাজগঞ্জ* *মন্দির* *ভ্রমনগাইড* *নতুনভ্রমন*

আড়াল থেকেই বলছি: [এজে-চুপারজলিল] *পোস্ট* *নং* *তৃত্বীয়* বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত খাবার ও বস্তুর নাম:- ১৮) সিরাজগঞ্জ —পানিতোয়া,ধানসিড়িঁর দই ১৯) গাজীপুর —কাঁঠাল, পেয়ারা ২০) ময়মনসিংহ —মুক্তা-গাছার মন্ডা ২১) কিশোরগঞ্জ —বালিশ মিষ্টি ২২) জামালপুর — ছানার পোলাও,ছানার পায়েস ২৩) শেরপুর — ছানার পায়েস,ছানার চপ ২৪) মুন্সীগঞ্জ—ভাগ্যকুলের মিষ্টি ২৫) নেত্রকোনা--বালিশ মিষ্টি

*সিরাজগঞ্জ* *ময়মনসিংহ* *কিশোরগঞ্জ* *জামালপুর* *শেরপুর* *মুন্সীগঞ্জ* *নেত্রকোনা* *পোস্ট* *নং*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★