সোনা মসজিদ

সোনামসজিদ নিয়ে কি ভাবছো?

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি প্রাচীন স্থাপনা হচ্ছে “ছোট সোনা মসজিদ”। সুলতানি আমলে তৈরী বলে এটিকে 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন'  বলেও আখ্যায়িত করা হয়। প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর উপকন্ঠে ফিরোজপুর গ্রামে এ স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছিলো, এটি বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় অবস্থিত। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই নিদর্শনটি দেখার জন্য প্রতিদিন শতশত পর্যটক চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় ভিড় করে। আশা নয় প্রত্যাশা  'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন'  আপনার ভ্রমনের স্বপ্ন পূরণ করবে।

ছোট সোনা মসজিদের সামগ্রিক তথ্যঃ
১. বিশ টাকার নোটের উপর ছাপানো মসজিদটিই ছোট সোনা মসজিদ, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ।
২. সুলতানি আমলের অনন্য স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
৩. ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে এটি নির্মিত হয়।
৪. এ মসজিদে চৌচালা ঘরের চালের মতো তিনটি গম্বুজ এবং চার সারিতে তিনটি করে আরো ১২টি গোলাকৃতি গম্বুজ।
৫. গম্বুজের তলদেশ ফুল, ফল ও লতাপাতার নকশা।
৬. বিশাল এক দীঘির দক্ষিণ পাড়ের পশ্চিম অংশজুড়ে এর অবস্থান।
৭. মসজিদের উত্তর-পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজ পড়ার আলাদা জায়গা। কারুকার্যখচিত মিহরাব আছে একটি।
৮. মসজিদের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৮২, ৫২ ও ২০ ফুট। ইটের ইমারত হলেও এর বহির্গাত্র পাথর দিয়ে ঘেরা।
৯. মসজিদগাত্রের লতাপাতার কারুকাজও পাথরে খোদাই করা। একে গৌড়ের বড় সোনামসজিদের সঙ্গে তুলনা করে ছোট সোনামসজিদ বলা হয়।
১০. মসজিদের কিছু দূর পশ্চিমে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিপ্তর কর্তৃক কয়েক বছর পূর্বে নির্মিত একটি আধুনিক দ্বিতল গেস্টহাউস রয়েছে। গেস্টহাউস ও মসজিদের মধ্য দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে একটি আধুনিক রাস্তা চলে গেছে।
১১. মসজিদের দরজাগুলোর প্রান্তদেশ বলিষ্ঠ শোভাবর্ধক রেখা দিয়ে ঘেরা। কিন্তু খোদাই কাজটি অগভীর এবং অট্টালিকাটির খুব কাছে না পৌঁছলে এ খোদাই কাজ চোখে পড়ে না।
১২. দরজাগুলোর মধ্যবর্তী কুলঙ্গীগুলোতেও রয়েছে একই অগভীর খোদাই মসজিদটি ইট ও পাথরে নির্মিত।
১৩.মসজিদের মাঝের দরজার উপর উপর প্রাপ্ত এক শিলালিপি থেকে এ তথ্য জানা যায়। তবে লিপির তারিখের অংশটুকু ভেঙ্গে যাওয়ায় নির্মাণকাল জানা যায়নি।

কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকার কল্যাণপুর থেকে হানিফ, মডার্নসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ যাওয়া যায়। সময় লাগে সাত ঘণ্টা, ভাড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তারপর লোকাল বাসে ছোট সোনামসজিদ যেতে আরো এক ঘণ্টা লাগবে।  এছাড়াও ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজশাহী গামী ট্রেনে করে রাজশাহী স্টেশনে নেমে তারপর রাজশাহী থেকে লোকাল বাসে সোনা মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবেন। 

*ভ্রমন* *চাঁপাইনবাবগঞ্জ* *ট্রাভেল* *সোনামসজিদ* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★