স্বাধীনতা

স্বাধীনতা নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পৃথিবীতে এমন অনেক জাতি আছে যারা বৈদেশিক আগ্রাসনের ফলে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি সব হারিয়ে অন্যের ভাষা, সংস্কৃতির উপর ভর করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। ঔপনিবেশিক যুগে যখন ইউরোপিয়ানরা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে শাসন, শোষণ আর আগ্রাসন চালিয়েছিল তখন অনেক জাতি নিজেদের ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য সব ভুলে পুরোদস্তুর দাসে পরিণত হয়েছিল। সামরিক আগ্রাসনের ফলে জাতি বিলুপ্তির ঘটনাও আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই।

কিন্তু যারা একবার জীবন দেওয়া শিখেছে তাদেরকে আর পদানত করে রাখা যায়নি। আমরা সেই গর্বিত জাতি যারা ভাষার জন্য, মাতৃভূমির জন্য, সংস্কৃতির জন্য জীবন দেওয়া শিখেছিলাম। এ কারণেই আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের স্বাধীনতা কেউ চিরতরে কেড়ে নিতে পারেনি। পৃথিবীতে ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার গৌরবোজ্জল ইতিহাস একমাত্র বাঙালি জাতিরই রয়েছে। এদেশের সূর্যসন্তানেরা সেদিন যদি ভাষার জন্য জীবন না দিতেন তবে আমরাও হয়ত আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলতাম। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি আমাদের মাতৃভাষার সেই গৌরবকে পূর্ণরূপে ধরে রাখতে পেরেছি নাকি কেবল দিবসের মধ্যে ভাষাশহীদদের সম্মানকে, বাংলা ভাষার গৌরবকে আবদ্ধ করে রেখেছি?

নিজ বাসভূমে সেই ভাষা এখন পরবাসী, তার অঙ্গে এখন বহুবিধ লজ্জার স্পর্শ। আমরা অধিকাংশই শুদ্ধরূপে বাংলা বলতে ও লিখতে পারি না কিন্তু সেটা সেখার জন্য ন্যুনতম চেষ্টাও করি না অথচ ইংরেজিতে এক লাইন শুদ্ধ বলতে পারাকে খুব গর্বের মনে করি। বাংলা বলার মধ্যেও ইংরেজি শব্দ ব্যবহারকে আধুনিকতা মনে করি। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তি একথা বলার চেষ্টা করেছিল যে বাংলা সাহিত্যের ভাষা, কিন্তু কাজের ভাষা নয়, উচ্চশিক্ষার বাহন নয়-সে কথাই আজ স্বাধীন দেশে যেন কার্যত সত্যে প্রমাণিত হচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কী থাকতে পারে? ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা ভাষার জন্য মায়া কান্না অঝোরে ঝরতে থাকে, কিন্তু এই দিবসেই কেবল আমরা ভাষার কথা স্মরণ করি, সারা বছর পড়ি ইংরেজি মাধ্যমে। উচ্চশিক্ষা, অফিস-আদালত, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারি এক কথায় উচ্চপর্যায়ের প্রায় সব অঙ্গনেই এখন রাজত্ব করছে বিদেশি ভাষা।

*ভাষা* *সংস্কৃতি* *আবেগ* *বাংলা* *স্বাধীনতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: আমাদের বাড়ির বোবা চাকরটা হঠাৎ কথা বলে উঠলো। মা বললেন, -কথা বলতে পারছো বলে সাপের পাঁচ পা দেখোনি। কথা কম বলবে। না বলাই শ্রেয়। বাবা বললেন, -আগামী মাস থেকে তোর আর আসা লাগবে না। আমাদের কথা বলা চাকর দরকার নেই। পাশের বাসার মাসি বললেন, -ছ্যা। ছ্যা। ছ্যা। চাকর কথা বলে বাপের জন্মে শুনিনি কো। পরেরদিন থেকে চাকরটা আর আমাদের বাড়ি আসেনি। অনেক পরে জেনে ছিলাম কথা গলায় আটকে মারা গ্যাছে চাকরটা। আমি ভেবে পাইনা, চাকরদের আবার কথা বলার কি দরকার?

*সমাজ* *বাস্তবতা* *চাকর* *কথা* *স্বাধীনতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

স্বাধীনতার সাজ। রাজধানী বিজয় সরণি সিগনালের রূপ যেন জ্বলজ্বল করছে। রূপ ফুটেছে ওপারের সিগনালেও। লাল-নীল রঙের ঝাড়বাতিগুলো যেন এ আনন্দের রাতের অতন্ত্র প্রহরী হয়ে আছে। সড়কের দু’ধারে সারি সারি লাল-সবুজের পতাকা পতপত করে উড়ছে।
মধ্য রাতের সড়ক। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে খানিকটা বিশ্রাম নেয়ার ভঙ্গিতে নিঃশাস ফেলছে। তবে সে নিঃশ্বাস ফের লেপ্টে দিয়ে যাচ্ছে রাতের যন্ত্রগুলো। তেমনি একটি যন্ত্র থেকে (প্রাইভেটকার) উচ্চস্বরে ভেসে এলো ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা’ শিরোনামের গানের সুর।

এদিকে এমন গান আর সুরেও ‘ওদের’ মন গললো না। সন্ধ্যার পর থেকেই নাকি পুলিশ তাড়া করছে। এ বেলায় যে ওরা ভারি বিরক্ত, ক্লান্ত তা চোখের তির্যক চাহনিতেই প্রকাশ পাচ্ছিল। পুলিশের তাড়া খেয়ে অন্যেরা চলে গেছে। তবে রঙিন বাতিগুলোর সঙ্গ নিয়ে ‘ওরা’ তিনজন দাঁড়িয়ে আছে।
ওদের একজন লিমা। কড়া মেকআপ আর ছলনাময়ী অঙ্গ সাজের কারসাজিতে বয়সের সঠিক সীমা দেয়া যাচ্ছিল না। কোন বেলায় পান খেয়েছিল, তা কে জানে? তবে পানরস শুকিয়ে গেলেও ঠোঁট খানিকটা লাল রয়েছে এ বেলাতেও। পাশ দিয়ে ছুটে চলা গাড়িগুলোর হেডলাইটের আলো যখন ওর মুখে গিয়ে পড়ছে, তখন পানমাখা ঠোঁট দুটো বেশ রক্তিম হয়ে উঠছে। ঠোঁটের নিচে লেগে থাকা এক চিমটি শুকনো চুনও সুভ্রতা ছড়াচ্ছিল অমন আলোতে।
গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। খানিকটা আনমনা বটে, তবে পথচারী পুরুষেরা ওর দৃষ্টি এড়াতে পারছে না। চোখ ঢুলুঢুলু। কিছুটা লালচেও। যে গাছে ভর করে দাঁড়িয়ে লিমা, তা যে একেবারেই সরু এমনটিও নয়। তবুও আড়াল করতে পারছে না লিমা নিজেকে। শরীর থেকে তার পেট যেন বেরিয়ে আসছে।
কাছে গিয়ে পরিচয় দিয়ে কথা বলতেই ওড়না দিয়ে পেট আড়াল করার চেষ্টা। কিছুটা সংযতও বটে। কিন্তু পুরো পেট ঢাকার চেষ্টা বৃথাই রইল। ওড়নার বাকি অংশ দিয়ে মাথা ঢেকে নেয় লিমা।
কথা বলায় প্রথমে অস্বস্তি ছিল, তবে আলাপের সৌজন্যে মুহূর্তেই জড়তা কেটে যার ওর। এ পথে আসা আরও দশজন যৌনকর্মীর মতোই লিমার জীবন কথা। সমাজ, পরিবার থেকে নিজেকে বাঁচাতে অনেক সময় ওদের কথায় অসচ্ছতা থাকে, থাকে সত্যের সঙ্গে মিথ্যার সংমিশ্রণও। হয়ত লিমাও তার ব্যতিক্রম নয়।
সত্য-মিথ্যার মাপকাঠিতে ওর জীবনকথা মূল্যায়ন করা না গেলেও জীবনযুদ্ধে যে এক পরাজিত সৈনিক তা সহজেই বোঝা যাচ্ছিল। না হলে মধ্যরাতে খদ্দেরের আশায় এমন শরীরে কেউ রাস্তায় দাঁড়ায়!
বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকায়। কৈশোরের সীমা না পেরুতেই এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ঢাকায় আসেন অন্যের বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে। ভালোই কাটছিল সে সময়। কিন্তু ভাগ্য বিড়ম্বনায় সে সুখ স্থায়ী হয়নি তার। বাসার মালিক বিদেশ চলে যাওয়ার পরে ছন্দ পতন ঘটে লিমার জীবনে।
পাশের বাসার আরেক বুয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়েই জীবনের স্রোত বিপরীত মুখে প্রবাহিত হয় তার। ১৪ বছর বয়স থেকেই ফার্মগেটের হোটেলে দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এ কিশোরী। প্রায় ১৩ বছর ধরে রয়েছেন এ পেশায়। আলোর পথে ফেরার চেষ্টা ছিল। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি।
রূপ আর গতরে ভাটা পড়ার পর ছাড়তে হয়েছে হোটেল আঙ্গিনা। এখন রোজ রাস্তায় দাঁড়িয়েই পুরুষের সঙ্গী হয় লিমা। দিনে ঘুমান ফামর্গেট পার্কে। আর নিশি কাটে বিজয় সরণীর সড়কে খদ্দেরের পথ চেয়ে।
সুখ টানে নয়, সিগারেটের ধোয়ার সঙ্গে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেন লিমা। বলেন, ‘স্বাধীনতা নাকি কিসের দিন আইজ! আগ রাইত থেহে (থেকে) পুলিশে জ্বালাতন করতাছে। ভোরে ভিআইপি যাইব বলে আমাগো আর দাঁড়াইতে দিচ্ছে না। দৌড়ানি খায়া অনেকেই চলে গেছে।’
পেটের উপর অসহায়ত্বের হাত বুলিয়ে বলেন, ‘আমি আছিই। দুটি কাজ করেছি। কন (বলেন) তো এমন ড্যাবড্যাবা (টানটান) প্যাট (গর্ভবতী) নিয়া কেউ রাস্তায় খাড়ায়! কি করুম? সবই কপাল। নইলে ভাতারের (স্বামী) নেশার ট্যাকা (টাকা) পামু কই? দুঃখ ভুলতে নিজেও তো খাই।’
উৎসঃ জাগো নিউজ

*যৌনকর্মী* *টাকা* *পতিতা* *গর্ভবতি* *দেশ* *স্বাধীনতা* *বাস্তবতা* *নেশা*

উদয়: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পরাধীনতার গ্লানি মুছে স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজস্ব ভূখণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা অর্জনের আনন্দে যখন গোটা দেশ ভাসছে তখনো পরাধীন কিশোরগঞ্জবাসী। রেসকোর্স ময়দানে পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমপর্ণের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলায় উড়ে স্বাধীন দেশের পতাকা। ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের পূর্ব দিক দিয়ে কিশোরগঞ্জে প্রবেশ করে একদল মুক্তিযোদ্ধা। এতে নেতৃত্ব দেন কবীর উদ্দিন আহমদ। শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আরেকটি দল আলবদরদের বাধা অতিক্রম করে কিশোরগঞ্জে প্রবেশ করে। এতে নেতৃত্ব দেন হান্নান মোল্লা, ছাব্বির আহমেদ মানিক ও আনোয়ার কামাল।

মিত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন চৌহানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের আরেকটি দল কিশোরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। এর পরই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। পুরান থানা শহীদী মসজিদ সংলগ্ন ইসলামিয়া ছাত্রাবাস মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ করে পাকিস্তানি দোসররা। কিশোরগঞ্জের আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। একই দিনে মুনিগঞ্জ এলাকা দিয়ে বাগেরহাট শহরে প্রবেশ করে মুক্তি ‘রফিক বাহিনী’। এতে নেতৃত্ব দেন রফিকুল ইসলাম খোকন।  শহরের উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে প্রবেশ করে ‘তাজুল বাহিনী’। যার নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাগেরহাট শহরে প্রবেশ করে মেজর জিয়া উদ্দিনের নেতৃত্বে আরেকদল মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিবাহিনীর অসামান্য প্রতিরোধে ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে বাগেরহাট শত্রু মুক্ত হলে স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র সত্তা অর্জনের আনন্দে মেতে উঠেন বাগেরহাটবাসী। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে মুখরিত হয় বাগেরহাটের আকাশ বাতাস।

সূত্র : ইন্টারনেট

*বাগেরহাট* *বিজয়* *স্বাধীনতা* *১৬ডিসেম্বর*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

ত্রিশ লক্ষ মানুষকে যদি একের উপর এক শোয়ানো হয় তবে তার উচ্চতা হবে ৭২০ কিলোমিটার, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতার ৮০ গুণ! ত্রিশ লক্ষ মানুষ যদি হাতে হাত ধরে দাঁড়ায় তবে তার দৈর্ঘ্য হবে ১১০০ কিলোমিটার, যা টেকনাফ হতে তেঁতুলিয়ার দূরত্বের চেয়েও বেশি!
ত্রিশ লক্ষ মানুষের শরীরে মোট রক্তের পরিমাণ ১.৫ কোটিলিটার, যা শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীতে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত পানির সমান! (সংগৃহীত) এতটা মূল্য দিয়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা নিয়ে এখনো চলছে ছেলেখেলা। এখনও নানা ষড়যন্ত্র। সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্তটা শুধুই কি বৃত্ত?
*বাংলাদেশ* *বিজয়* *স্বাধীনতা*

সাইফুল ইসলাম: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা কে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*স্বাধীনতা*

সাইফুল ইসলাম: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 চীনের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা কে?

উত্তর দাও (২ টি উত্তর আছে )

.
*স্বাধীনতা*

প্যাঁচা : "অপচর্চা" এই শব্দটি আগে মনে করতাম কেবল যারা শিক্ষিত নন বা কোন কঠিন সময়ের মাঝে আছেন,তাদের মাঝেই বর্তমান।কিন্তু আজকাল তা আর মনে হয় না।কারণ আজকাল সবাই কেবল অন্যদের জন্যই নিয়ম,আইন,নীতি,ধারা,উপধারা ইত্যাদি সব বলেন বা নির্ধারণ করেন।কেউই নিজে শক্তহাতে মেনে চলেন না।প্রত্যেকের নিজের ক্ষেত্রে,যথেষ্ট যুক্তি বা কারণ আছেন আপাতত না মানার আর এর পেছনেও যুক্তি বা কার্যকারণ থাকে। আর এই শব্দের ভয়ংকরতম প্রয়োগ দেখা যায় "স্বাধীনতা"-র ক্ষেত্রে।(হাসি২)হাহাহাহাহা...

*স্বাধীনতা* *অপচর্চা*

অন্তু: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

অনেক কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব সবার রাজাকার রা এখনো আমাদের আশেপাশে বসবাস করে তাদের থেকে দেশ কে রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকে
*স্বাধীনতা* *রক্ত*

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে

দু’জন খসখসে সবুজ উর্দিপরা সিপাহী
কবিকে নিয়ে গেল টানতে টানতে
কবি প্রশ্ন করলেন : আমার হাতে শিকল বেঁধেছ কেন?
সিপাহী দু’জন উত্তর দিল না;
সিপাহী দু’জনেরই জিভ কাটা।
অস্পষ্ট গোধুলি আলোয় তাদের পায়ে ভারী বুটের শব্দ
তাদের মুখে কঠোর বিষণ্নতা
তাদের চোখে বিজ্ঞাপনের আলোর লাল আভা।
মেটে রঙের রাস্তা চলে গেছে পুকুরের পাড় দিয়ে
ফ্লোরেসেন্ট বাঁশঝাড় ঘুরে-
ফসল কাটা মাঠে এখন
সদ্যকৃত বধ্যভূমি।
.
সেখানে আরও চারজন সিপাহী রাইফেল হাতে প্রস্তুত
তাদের ঘিরে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ
কেউ এসেছে বহু দূরের অড়হর ক্ষেত থেকে পায়ে হেঁটে
কেউ এসেছে পাটকলে ছুটির বাঁশি আগে বাজিয়ে
কেউ এসেছে ঘড়ির দোকানে ঝাঁপ ফেলে
কেউ এসেছে ক্যামেরায় নতুন ফিল্ম ভরে
কেউ এসেছে অন্ধের লাঠি ছুঁয়ে ছুঁয়ে
জননী শিশুকে বাড়িতে রেখে আসেননি
যুবক এনেছে তার যুবতীকে
বৃদ্ধ ধরে আছে বৃদ্ধতরর কাঁধ
সবাই এসেছে একজন কবির
হত্যাদৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে।
খুঁটির সঙ্গে বাঁধা হলো কবিকে,
তিনি দেখতে লাগলেন
তাঁর ডান হাতের আঙুলগুলো-
কনিষ্ঠায় একটি তিল, অনামিকা অলঙ্কারহীন
মধ্যমায় ঈষৎ টনটনে ব্যথা, তর্জনী সঙ্কেতময়
বৃদ্ধাঙ্গুলি বীভৎস, বিকৃত-
কবি সামান্য হাসলেন,
একজন সিপাহীকে বললেন, আঙুলে
রক্ত জমে যাচ্ছে হে,
হাতের শিকল খুলে দাও!
সহস্র জনতার চিৎকারে সিপাহীর কান
সেই মুহূর্তে বধির হয়ে গেল।
.
জনতার মধ্য থেখে একজন বৈজ্ঞানিক বললেন একজন কসাইকে,
পৃথিবীতে মানুষ যত বাড়ছে, ততই মুর্গী কমে যাচ্ছে।
একজন আদার ব্যাপারী জাহাজ মার্কা বিড়ি ধরিয়ে বললেন,
কাঁচা লঙ্কাতেও আজকাল তেমন ঝাল নেই!
একজন সংশয়বাদী উচ্চারণ করলোন আপন মনে,
বাপের জন্মেও এক সঙ্গে এত বেজম্মা দেখিনি, শালা!
পরাজিত এম এল এ বললেন একজন ব্যায়ামবীরকে,
কুঁচকিতে বড় আমবাত হচ্ছে হে আজকাল!
বাদামওয়ালাকে
একজন পকেটমারের হাত আকস্মাৎ অবশ হয়ে যায়
একজন ঘাটোয়াল বন্যার চিন্তায় আকুল হয়ে পড়ে
একজন প্রধানা শিক্ষয়িত্রী তাঁর ছাত্রীদের জানালেন
প্লেটো বলেছিলেন…
একজন ছাত্র একটি লম্বা লোককে বললো,
মাথাটা পকেটে পুরুন দাদা!
এক নারী অপর নারীকে বললো,
এখানে একটা গ্যালারি বানিয়ে দিলে পারতো…
একজন চাষী একজন জনমজুরকে পরামর্শ দেয়,
বৌটার মুখে ফোলিডল ঢেলে দিতে পারো না?
একজন মানুষ আর একজন মানুষকে বলে,
রক্তপাত ছাড়া পৃথিবী উর্বর হবে না।
তবু একজন সম্বরে চেঁচিয়ে উঠলো, এ তো ভুল লোককে
এনেছে। ভুল মানুষ, ভুল মানুষ।
.
রক্ত গোধূলির পশ্চিমে জ্যোৎস্না, দক্ষিণে মেঘ
বাঁশবনে ডেকে উঠলো বিপন্ন শেয়াল
নারীর অভিমানের মতন পাতলা ছায়া ভাসে
পুকুরের জলে
ঝমঝুমির মতন একটা বকুল গাছের কয়েকশো পাখির ডাক
কবি তাঁর হাতের আঙুল থেকে চোখ তুলে তাকালেন,
জনতার কেন্দ্রবিন্দুতে
রেখা ও অক্ষর থেকে রক্তমাংসের সমাহার
তাঁকে নিয়ে গেল অরণ্যের দিকে
ছেলেবেলার বাতাবি লেবু গাছের সঙ্গে মিশে গেল
হেমন্ত দিনের শেষ আলো
তিনি দেখলেন সেতুর নিচে ঘনায়মান অন্ধকারে
একগুচ্ছ জোনাকি
দমকা হাওয়ায় এলোমেলো হলো চুল, তিনি বুঝতে পারলেন
সমুদ্র থেকে আসছে বৃষ্টিময় মেঘ
তিনি বৃষ্টির জন্য চোখ তুলে আবার
দেখতে পেলেন অরণ্য
অরণের প্রতিটি বৃক্ষির স্বাধীনতা-
গাব গাছ বেয়ে মন্থরভাবে নেমে এলো একটি তক্ষক
ঠিক ঘড়ির মতন সে সাত বার ডাকলো :
গঙ্গে সঙ্গে ছয় রিপুর মতন ছ’জন
বোবা কালা সিপাহী
উঁচিয়ে ধরলো রাইফেল-
যেন মাঝখানে রয়েছে একজন ছেলেধরা
এমন ভাবে জনতা ক্রুদ্ধস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
কবির স্বতঃপ্রবৃত্ত ঠোঁট নড়ে উঠলো
তিনি অস্ফুট হৃষ্টতায় বললেন :
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক!
মানুষের মুক্তি আসুক!
আমার শিকল খুলে দাও!
.
কবি অত মানুষের মুখের দিকে চেয়ে খুঁজলেন একটি মানুষ
নারীদের মুখের দিকে চেয়ে খুঁজলেন একটি নারী
তিনি দু’জনকেই পেয়ে গেলেন
কবি আবার তাদের উদ্দেশ্যে মনে মনে বললেন,
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক! মিলিত মানুষ ও
প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব বিপ্লব!
প্রথম গুলিটি তাঁর কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল-
যেমন যায়,
কবি নিঃশব্দে হাসলেন
দ্বিতীয় গুলিতেই তাঁর বুক ফুটো হয়ে গেল
কবি তবু অপরাজিতের মতন হাসলেন হা-হা শব্দে
তৃতীয় গুলি ভেদ করে গেল তাঁর কন্ঠ
কবি শান্ত ভাবে বললেন,
আমি মরবো না!
মিথ্যে কথা, কবিরা সব সময় সত্যদ্রষ্টা হয় না।
চতুর্থ গুলিতে বিদীর্ণ হয়ে গেল তাঁর কপাল
পঞ্চম গুলিতে মড় মড় করে উঠলো কাঠের খুঁটি
ষষ্ঠ গুলিতে কবির বুকের ওপর রাখা ডান হাত
ছিন্নভিন্ন হয়ে উড়ে গেল
কবি হুমড়ি খেয়ে পড়তে লাগলেন মাটিতে
জনতা ছুটে এলো কবির রক্ত গায়ে মাথায় মাখতে-
কবি কোনো উল্লাস-ধ্বনি বা হাহাকার কিছুই শুনতে পেলেন না
কবির রক্ত ঘিলু মজ্জা মাটিতে ছিট্‌কে পড়া মাত্রই
আকাশ থেকে বৃষ্টি নামলো দারুণ তোড়ে
শেষে নিশ্বাস পড়ার আগে কবির ঠোঁট একবার
নড়ে উঠলো কি উঠলো না
কেউ সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করেনি।
আসলে, কবির শেষ মুহূর্তটি মোটামুটি আনন্দেই কাটলো
মাটিতে পড়ে থাকা ছিন্ন হাতের দিকে তাকিয়ে তিনি বলতে চাইলেন,
বলেছিলুম কিনা, আমার হাত শিকলে বাঁধা থাকবে না!
*বিপ্লব* *স্বাধীনতা*

Risingbd.com: গোপন বৈঠকে চূড়ান্ত হলো গণহত্যার নীলনকশা একাত্তরের এই দিন সকালেই বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে পঞ্চম দফা বৈঠক করেন। আজও রাজধানীর সকল সরকারি-বেসরকারি বাসভবন এবং যানবাহনসমূহে কালো পতাকা উত্তোলিত ছিল। পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি ...বিস্তারিত- http://bit.ly/1U0edL5

*গোপন_বৈঠক* *নীলনকশা* *একাত্তর* *স্বাধীনতা* *আড্ডা* *ইতিহাস*

Mahi Rudro: একটি বেশব্লগ লিখেছে

লক্ষি বউটিকে
আমি আজ আর কোথাও দেখিনা,
হাটি হাটি শিশুটিকে
কোথাও দেখিনা,
কতগুলি রাজহাঁস দেখি
নরম শরীর ভরা রাজহাঁস দেখি,
কতগুলি মুখস্থ মানুষ দেখি

.

বউটিকে কোথাও দেখিনা
শিশুটিকে কোথাও দেখিনা !
.
তবে কি বউটি রাজহাঁস ?
তবে কি শিশুটি আজ
সবুজ মাঠের সূর্য, সবুজ আকাশ ?
.
অনেক রক্ত যুদ্ধ গেলো,
অনেক রক্ত গেলো,
শিমুল তুলোর মতো
সোনারূপো ছড়ালো বাতাস
.
ছোটো ভাইটিকে আমি
কোথাও দেখিনা,
নরোম নোলক পরা বোনটিকে
আজ আর কোথাও দেখিনা !
.
কেবল পতাকা দেখি,
কেল উসব দেখি ,
স্বাধীনতা দেখি,
.
তবে কি আমার ভাই আজ
ঐ স্বাধীন পাতাকা ?
তবে কি আমার বোন, তিমিরের বেদীতে উসব ?

*মুক্তিযুদ্ধ* *স্বাধীনতা*

বিডি আইডল: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব কতটুকু বলে মনে করেন ?

উত্তর দাও (২ টি উত্তর আছে )

.
*স্বাধীনতা* *৭ইমার্চ* *ভাষণেরগুরুত্ব* *বঙ্গবন্ধুরভাষণ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★