স্মৃতিচারণ

স্মৃতিচারণ নিয়ে কি ভাবছো?

শাকিল আহমেদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমাকে প্রথম যখন স্কুলে ভর্তি করা হয়, আমার সাথেই আমার এক বন্ধু মাসুদকেও একই ক্লাসে ভর্তি করা হয়। আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকতো। কোন এক অজানা কারনে সবাই আমাদের দুই ভাই ভাবতো, এমন কি টিচাররাও। কিন্তু মাসুদ আমার থেকে অনেক বেশি মেধাবী এবং বহুগুণে গুণান্বিত ছিল।

যতদূর মনে পরে তখন দ্বিতীয় কি তৃতীয় শ্রেনিতে আমরা। একদিন কোনো এক ক্লাসে টিচার মাসুদকে খুঁজলো ব্ল্যাকবোর্ডে ছবি আঁকার জন্য। মাসুদের আঁকাআঁকির হাতও বেশ ভালো ছিল। ব্ল্যাকবোর্ডে কোনো কিছু আঁকতে হলে টিচাররা ওকে দিয়েই আঁকিয়ে নিতো।

তো সেদিন অসুস্থতার কারনে মাসুদ স্কুলে যায়নি। টিচার অগত্যা নিজে আঁকতে উদ্যত হতেই, ক্লাসের সহপাঠীরা বলতে শুরু করল যে, মাসুদের ভাই আছে। মাসুদের ভাই বলে আমিও ভালো আঁকতে পারবো এমন মাথামোটা যুক্তিতেই কিনা জানি না, টিচার আমাকে ডাকলেন। চক হাতে ধরিয়ে দিয়ে একটি ডিমের ছবি দেখিয়ে দিয়ে বললেন আঁকো!

আমিও নিরুপায় হয়ে আঁকলাম; আঁকলাম ঠিক না, আঁকার চেষ্টা করলাম। আঁকা শেষ হতে না হতেই, কানে ভেসে আসলো একরাশ অট্টহাসি। সহপাঠীদের অস্পষ্ট কথা থেকে এতটুকু বুঝতে পারলাম যে ডিমের ছবিটা ছোট হয়ে গেছে। তো আমি নিজেই মুছে আবার আঁকলাম, আমার অতটুকন বয়সে দেখা সবচেয়ে বড় ডিম!

তারপরেও দেখলাম আবার সবাই হাসছে! ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আমার মাথায় একটা ব্যাপারই ঘুরপাক খাচ্ছিল, একটা ডিম আর কত বড় হতে পারে?

*স্মৃতিচারণ* *নস্টালজিক* *অলসআঁকিবুঁকি* *ড্রয়িং*

সাদাত সাদ: ছোটবেলা ঔষধ খেতে চাইতাম না, মা অনেক জোর করে খাওয়াতো। টাকা না দিলে খেতাম না, তাই মা দশ টাকা দিত (খুশী২)... ১৯৯৯ সালে সেই রোজগার একটু দিগুণ হল (তালি) ২০০২ এ উচ্চবিদ্যালয়ে পা রাখার পরও আমার অবস্থার অবনতি হয়নি সেই আগের মতোই রয়ে গেলাম, অত:পর মা ক্লান্ত আর জোরাজুরি করতেন না। এইবার দেশে যাবার পর জ্বরে আক্রান্ত হলাম 'মা ঔষধের সাথে কিছু টাকা ও রাখল, ঔষধের সাথে টাকা দেখে একটু অবাক হয়ে বললামঃ মা টাকা কেন? " মা বললেন,, টাকা ছাড়া কোনদিন ঔষধ খেয়েছিস তুই?

*আমারমা* *মা* *আদর* *স্মৃতিচারণ* *শৈশব* *আমারশৈশব* *ছেলেবেলা*

ঈশরাত জাহান ঈশিতা: *স্মৃতিচারণ* SSC তে খারাপ করায় বাবাকে ছেড়ে ভাল কলেজে পড়তে অন্য শহরে ,মা নিপাটগৃহিণী,রাস্তাঘাটে একা চলায় অনভ্যস্ত, এরই মধ্যে একদিন আমার ডায়রিয়া হয় মা একা আমাকে হসপিটালাইস করে সেদিন বুঝেছিলাম সন্তানের জন্য মা কিনা করতে পারে অনেককিছুশেখার স্মৃতি এটা

জল: *স্মৃতিচারণ* জীবনে প্রথম নদী দেখছি উত্তেজনায় হাত পা কাপছে। নৌকায় চড়ে বসলাম একটূ ঘুরতে এই শুরু হলো ঝড়। অবাক হয়ে দেখছি নদী কিভাবে ফুসে উঠছে।তারপর গায়ের কাদা মাখা রাস্তায় দোড়ুতে দোড়ুতে বিশাল এক পুকুরে। ঝমঝম বৃষ্টি পড়ছে তারমাঝে চুপচাপ পানিতে দাঁড়িয়ে আছি।

শামীমা নাসরীন দিবা: যখন চতুর্থ ক্লাসে পড়ি এটা তখনকার ঘটনা। তখন গ্রীষ্মের ছুটিতে খালামনিদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেবার আমি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম আমার খালাতো আর মামাতো বোনদের সাথে। গ্রামের রাস্তায় জুতা পায়ে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিলো বিধায় জুতা খুলে দৌড় দিয়েছিলাম। আর একটা গাছের ডালে খোঁচা লেগে পা কেটেও গিয়েছিলো। তারপরও ছোটবেলার সব স্মৃতি মধুর।

*স্মৃতিচারণ*

NatunSomoy : কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর শেষ ‘অ্যাকশন’! ১৮ বছর বয়সে প্রথম বক্সিংয়ে টানি হানসেকারের বিপক্ষে অভিষেক হয় মোহাম্মদ আলীর। ১৯৬১ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মোহাম্মদ আলী নামে পরিচিত হন এই বক্সার... বিস্তারিত পড়ুন এবং ভিডিও দেখুন - http://bit.ly/22O7s0d

*মোহাম্মদ_আলীর_শেষ_‘অ্যাকশন* *শেষঅ্যাকশন* *ভাগ্য* *আড্ডা* *বিনোদন* *স্মৃতিচারণ* *বক্সিং* *মোহাম্মদআলীরবক্সিং* *মোহাম্মদআলীরশেষবক্সিং*
ছবি

সাদাত সাদ: ফটো পোস্ট করেছে

ইকোনো

ইকোনো কলম ব্যবহার করেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না, এই কলম দিয়েই লেখা শুরু হয়েছিল আমার (তালি) আমি একটা কলম বড়জোর ৩-৪ দিন লিখতাম তাঁরপর সেটা দিয়ে লাঙ্গল বানিয়ে ফেলতাম যদিও সেই লাঙ্গল দিয়ে ক্ষেত চাষ করা যেতনা তবে আনন্দ পেতাম। মা প্রায়ই বলত কি কর কলম দিয়ে এক ডজন কলম এক মাসও যায়না!! আমি কি আর বলব কলম দিয়ে যে ক্ষেতের লাঙ্গল বানানো হয় সেটা কি আর মাকে বলা যায় (খিকখিক) ইকোনো কলমের কথা আজীবন মনে থাকবে, অনেক স্মৃতি আছে এই কলমে। টেবিলে অনেক জন মিলে কলম দিয়ে কি এক খেলা খেলা যেত খেলাটার নাম ভুলে গেছি, অন্য একদিন লিখব।

*ইকোনো* *স্মৃতি* *কলম* *আমারকথা* *ছোটবেলা* *স্মৃতিচারণ*

ফারহান মুক্তাদির: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমার জীবনটা বোধহয় একটু গতবাধা ধাঁচের । গতানুগতিক সাদা সিধে জীবনের খাঁজে-ভাঁজে অলি গলিতে তাই শত চেষ্টা করেও কোন বিশেষ স্মৃতি খুজে পাই না যা আমার মনকে ভাল করে দিতে পারে। আর তাছাড়া অতিমাত্রায়
রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে বলে ছেলেবেলায় মনে রাখার মত ইচড়েপাকামোও করা হয় নি। এই নিয়ম সেই নিয়ম পরিবারের সদস্যদের কড়া শাসন এসবের কারণে বিকেল বেলা মাঠে খেলতে পর্যন্ত যেতে পারতাম না।
মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমের চৌকাঠে পা দিয়েছি তখন বন্ধুবান্ধবদের শৈশব কৈশরের গল্প শুনে শুনে খুব রোমাঞ্চিত হতাম। ইচ্ছে হত নতুন একটা শৈশবে ফিরে যেতে। স্মৃতির সাদা
খাতাটা বর্ণিল আলোকচ্ছটায় ভরিয়ে দিতে খুব মন চাইত।
সেবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছি। ঈদের পরদিন ঘরভর্তি মেহমান। তাই রাতে ঘুমানোর জন্য পাশের বাড়ির এক বন্ধুর কাছে চলে গেলাম। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা বাজে। গ্রামে এ সময়টা অনেক রাত। সব বাড়ি-ঘর অন্ধকার।
বন্ধুর বাড়িতে একমাত্র আমি আর বন্ধুটি জেগে আছি। কিছুক্ষনের মধ্যে দেখলাম গ্রামের এক অনুজকে নিয়ে আমার আরেক বন্ধু হাজির হল। আমাদের আড্ডা চলছে তুলকালাম। আড্ডার একপর্যায়ে যার বাড়িতে ঘুমোতে গেছি সেই
বন্ধুটি বলল , মামা ডাব খাবি ? বললাম এত রাতে ! বন্ধুটি বলল , মাইনষের গাছের ডাব। সহজ বাংলায় ডাব চুরি। প্রথমে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। বললাম, আমারে দিয়া এই কাজ মইরা গেলেও হবে না। বন্ধু বলল, তোর
কিছু করতে হবে না। শুধু বসে বসে দেখবি আর খাবি। প্রথমে আপত্তি থাকলেও পরে রাজি হয়ে গেলাম। এই কাজটা মানুষ ছোট বেলায় করে বড় হলে এসব বাদরামো আস্তে আস্তে কমে যায়। আমি না হয় বড় বেলাতেই বাঁদরামোর
স্বাদ নিলাম। ইতোমধ্যে ডাব পাড়ার জন্য দা , রশি ইত্যাদি হাজির । গাছে ওঠবে আমার বন্ধুবর স্বয়ং নিজেই। কিন্তু কার গাছের ডাব পাড়া হবে তা নিশ্চিত হওয়া গেল না। তাছাড়া কোন গাছের ডাব একটু হৃষ্টপুস্ট তাও দেখার বিষয়। অনেক
ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত হল, আমার বন্ধুর চাচার গাছের ডাব পাড়া হবে। বলাবাহুল্য, তার চাচা আমার মাধ্যমিকের শিক্ষক ছিলেন। জীবনে প্রথম ডাব চুরি তাও আবার স্যারের গাছের। যথারীতি ডাব পাড়া হল এবং খাওয়াও হল। শেষমেষ
ফটো সেশন পর্যন্ত হল। যদিও দুই দুই বার ধরা পড়ে যাবার অবস্থা তৈরী হয়েছিল। সব মিলিয়ে আমাদের সেদিনকার ডাব পাড়ার অভিযান সফল ভাবে সম্পন্ন হয়।
পরে অবশ্য ব্যাপারটা আমার বাড়িতে জানাজানি হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম রাতে খাবার সময় খুব গুরুতর কিছু একটা ঘটবে। কিন্তু ভাগ্য ভাল কিছুই হয়নি। আম্মু শুধু শুনে একটু হেসেছিল এই যা।

স্মৃতি ডাবচুরি 

*স্মৃতিচারণ* *ডাবচুরি*

সাদাত সাদ: (২০০৭ সালের কথা) । । দৌড়াতে দৌড়াতে একটা মস্ত বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিলাম আমরা কয়েকজন যুবক। রাফসান, তন্ময়, সুজন ,হিমেল এবং আমি। এই সবাই আমার সমবয়সী বন্ধু (মিয়াও) দৌড়ের মূল কারণ হল জুলহাস চাচা, আমরা সবাই মিলে যখন সিগারেটে ব্যস্ত ঠিক তখনই ভদ্রলোক কোথা থেকে জানি এলিয়েন এর মতো উদয় হলেন কি জানি। আমাদের সুন্দর আড্ডা টা ধ্বংস করলেন (রাগী) তখনকার দিনে সিগারেট খাওয়া তো ছোটখাটো ব্যাপার ছিল না। এখন তো দেখি ছেলেরা মুরুব্বী দের সামনেই খায়। সেইদিন গুলো মনে পড়ে

*স্মৃতি* *স্মৃতিচারণ* *শৈশব* *ছোটবেলা* *শৈশবেরবন্ধু* *শৈশবেরস্মৃতি*

সাদাত সাদ: অনেক বড় খাতায় নালিশ লিখে ভদ্রলোক বাবার কাছে আসলেন তাও আবার রাতের বেলা, বাবা কয়েদীর আসামীর মতো ওনার নালিশ শুনেই যাচ্ছেন শুনেই যাচ্ছেন নিশ্চুপ হয়ে। ভদ্রলোকের গাছের হাজারো টাকার ডাব নাকি আমিই চুরি করেছি (রাগী) অথচ ডাব ছিল মাত্র ১০ থেকে ১২ টা। এই কয়েকটা ডাবে আবার ভাগ ছিল ৪ টা আমার ভাগে মাত্র ৩টে ছিল বলে। বাবা ভদ্রলোক কে ৫০০ টাকা দিয়ে বিদেয় করে আমার পড়ার টেবিলে এসে বললেন, আমাকে বললে তোমায় হাজার টাকা এমনিতেই দিতাম, যাক যা ভাল মনে করো তাই করো...

*স্মৃতিচারণ* *স্মৃতি* *বাবা* *শৈশবকাল* *আমারকথা* *শৈশবেরস্মৃতি* *মজারঘটনা* *চুরি* *শৈশব* *নালিশ* *বিচার*

Roksana Akter: *স্মৃতিচারণ* আগের মতো এক টানা গল্প বই পড়া হয়না। আহ-- সেসব কি দিন ছিল যখন- বইয়ের মধ্যে ডুবে ছিলাম।

সাদাত সাদ: [বইমেলা-প্রেমেরউপন্যাস] ছোটবেলা (১৫) তে বড়দের মুখে শুনতাম এই বয়সে উপন্যাস পড়লে ছেলেরা খারাপ হয়ে যায়। আর এখন ছেলেরা কত ভাবে যে খারাপ হচ্ছে (লজ্জা) (খিকখিক)

*উপন্যাস* *শৈশব* *স্মৃতিচারণ*

আরিফুল ইসলাম: *স্মৃতিচারণ* আমি যখন ছোট ছিলাম সবাই আমাকে আদর করে কোলে নিত ।এখন কেউ কোলে নেয়না।এটা আমি খুব মিস করি।

শামীমা নাসরীন দিবা: মাঝ নদীতে পূর্ণ চাঁদের রূপ একবারই অবলোকন করতে পেরেছি। সে দৃশ্য এখনো যেন চোখের তারায় লেপটে আছে।

*স্মৃতিচারণ*

সাদাত সাদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমি বাবার উপর খুব রেগে আছি হয়তো যতদিন বেঁচে থাকবো এই রাগ অভিমান নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। বাবার সাথে সব সময় কথা হতো, বাবা নিজেই কল করতেন মিসকল দেয়ার অভ্যাস ছিল না বলে। তখন কল করতে মিনিটে ২৭ টাকা লাগতো। সব কথায় হতো বন্ধুত্বের মতোই, কি করছি কি খাচ্ছি রাতে ঘুম হচ্ছে কিনা, আগের থেকে মোটা হয়েছি কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কত কথা হতো। কিন্তু হলো না আসল কথা। বাবা বলেছিল আমার সাথে কি জানি জরুরী কথা আছে, সেটা মোবাইলে বলা যাবেনা সরাসরি বলতে হবে।

যেহেতু বাবা সামনাসামনি বলতে চাই 'তাই আমিও তেমন জোর করিনি ভেবেছিলাম বাবার সাথে দেখা হলেই শুনব বাবার লুকানো গোপণ সেই কথা। আমার অনেক অনেক আগ্রহ ছিল বাবার সেই কথা শুনার। কি কথা হতে পারে!! এ নিয়ে রিতিমত গবেষণা ও চালিয়েছি আমি কিন্তু গবেষণায় সফল হয়নি, তাই আগ্রহ আরো বেড়ে গেল।

বাবা মরার তিন মাস আগে অচেনাক আমার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেল, অনেক অনেক চেষ্টা করে মেয়াদ বাড়ানো যায়নি। হয়ে গেলাম অবৈধ, তখন কি আর জানতাম বাবা চলে যাবে না ফেরার দেশে। বাবা মরার দুই দিন আগে আমার কাগজপত্র ঠিক হলো, বাবা তখন খুব অসুস্থ ছিলেন কিন্তু সেই খবর মা আমাকে জানায়নি যদি আমি কান্না করি সেটা ভেবে। ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৪ তে  বাবা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন, সেই সাথে আমি হারালাম আমার বন্ধু এবং বাবাকে। বাবার সেই গোপণ কথাটা বাবা সাথে করে নিয়ে গেলেন, কাউকে বলে ও যাননি।
কি কথা বলতে চেয়েছিল বাবা জানি না তবে জানার খুব ইচ্ছে ছিল।

.
i love you ''বাবা" i miss you


.
সাদাত সাদ
১৮-৪-২০১৬

 

 

*বাবা* *আমারবাবা* *স্মৃতি* *বেশব্লগ* *স্মৃতিচারণ*

পূজা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ছোটবেলায় ডিসেম্বর জানুয়ারি মাসের অপেক্ষায় থাকতাম। কবে পরীক্ষা শেষ হবে আর কবে গ্রামের বাড়ি যাবো। এই শীতেও সকাল ৭ টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠা, সকাল থেকে সন্ধ্যা গোল্লাছুট, বউছি, দাড়িয়াবান্ধা, সাতখোলা, কুমির তোর জলে নেমেছি, ইলন্টিলন্টন, কুতকুত, লাটিম, ক্রিকেট, ফুটবল আরও কত খেলা খেলতাম। সকালে খেজুরের রস, পিঠাপুলি, কখনওবা গ্রামের মেলা। বড়ই, কামরাঙা চুরি, পলোয়া দিয়ে মাছ ধরা, আলুক্ষেতে পানি দেয়ার পাম্প এ গোসল, বাঁশঝাড় এর নিচে আড্ডা। রাতে ৯ টার মধ্যেই সবাই ঘুমিয়ে পড়া। সত্যি জীবনের সবচেয়ে রঙিন সময় ছিলো ছোটবেলা (খুকখুকহাসি)
*শৈশবস্মৃতি* *রঙিনসময়* *স্মৃতিচারণ*

শামীমা নাসরীন দিবা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আজ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই সারপ্রাইজ গিফট পেলাম ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে আমার জন্মদিন উপলক্ষে। আর সেই সাথে গত বছরের ভিন্ন একটি ঘটনা মনে পড়ে গেলো।

প্রতি বছর বিশেষ করে রমজান মাসের প্রথম ১৫/২০ দিন আমাকে একা থাকতে হয়। আম্মু আর ভাই গ্রামের বাড়িতে চলে যায় রমজানের শুরুতেই স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার কারনে। আর আমি অন্য বছরের মতন গত বছরও একা, একেবারেই একা। আমার যাওয়ার কথা ছিল ২৩ রমজান, কারন আমার পরীক্ষা ছিল।  ঐ দিনের টিকেট ও কনফার্ম করে রেখেছিলাম।

১৯ রমজান, ক্যাম্পাসে গিয়ে শুনলাম আগামীদিন থেকেই আমাদের ছুটি শুরু হবে আর বাকি এক্সাম ঈদের পর। মাথায় দুষ্টুমি আইডিয়া এলো মুহূর্তেই। ভাবলাম কাউকে না জানিয়ে কালই রওনা হবো গ্রামের উদ্দেশ্যে, আর আম্মুকে চমকে দেবো ৩দিন আগে গিয়ে। এটা ভাবতেই অনেক উত্তেজিত বোধ করছিলাম।

আমার এই প্লানের একমাত্র পার্টনার ছিল আব্বু। আব্বুকে জানিয়েছিলাম আমার এমন প্লানের কথা। আব্বু রাজি হলো। কিন্তু একটা সমস্যা তখনও ছিল, এমন সময় কি টিকেট পাওয়া যাবে?? যে ভাবা সেই কাজ, টিকেট কাউন্টারের গেলাম তড়িঘড়ি করে। ঐ রাতের একটা টিকেট ছাড়া আগামী ৩ দিনে আর কোন টিকেট নেই। একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম। এতো রাতে আমি একা একটি মেয়ে, কীভাবে সব ম্যানেজ করবো? এটা ছাড়া তো কোন উপায়ও আর নেই। কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে আব্বুকে বলে ওটাই নিয়ে নিলাম।

হাতে অনেক কাজ কিন্তু সময় খুবই কম। জানিনা কীভাবে সব গুলো কাজ শেষ করলাম, এখন সেটা মনে পড়লে মনে হয় যেন তখন আমি কোন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। রাত সাড়ে ১১ টায় বাস। সময় মত পৌঁছলাম।

ভোর ৫ টা ১৫ মিনিটে বাস থেকে নামলাম। আগে থেকেই ভাড়া করে রাখা গাড়িটি ওখানেই দাঁড়িয়ে ছিল আমাকে পিক করতে। বাস স্ট্যান্ড থেকে আমাদের বাড়ি প্রায় ৬ কিলোমিটারের মতন। গাড়িতে উঠে ভাবছি পরবর্তী দৃশ্যটি কি হতে পারে। ভাবতে ভাবতেই কখন যে পৌঁছে গেলাম বুঝতেই পারলাম না। গাড়ি থেকে নেমে দেখলাম ৫ টা ৪৭ বাজে। আমি হতভম্বের মতন বাড়ির গেইটের দিকে তাকিয়ে আছি তখন। আমার নিজের কাছেই স্বপ্নের মতন লাগছিলো সবটা।

সম্বিৎ ফিরে পাওয়ার পর মেইন গেইট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলাম, জানতাম তখনও সবাই ঘুমাচ্ছে। আমি প্রথম নীচতলার গেইটে নক করলাম। কোন সাড়া নেই। অনেক জোরে জোরেই নক করছিলাম আর আম্মুকে ডাকছিলাম, তাও কোন সাড়া শব্দ নেই। এবার আম্মুকে ফোন দিলাম, দু’বার রিং হয়ে কেটে গেলো। তৃতীয় বারে ওপাশ থেকে আম্মুর ঘুমে জড়ানো কণ্ঠ শুনতে পেলাম, আমি আম্মুকে বললাম ‘আম্মু আমি আর কতক্ষণ নীচে দাঁড়িয়ে থাকবো? সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি, পা ব্যথা করছে তো”। ওপাশ থেকে আম্মুর কণ্ঠ শুনে বুঝলাম আম্মুর ঘুম কেটে গেছে এটা শুনে, আমি নীচ থেকেই শুনতে পেলাম আম্মু দৌড় দিয়ে আসছে। আম্মু বারান্দায় দাঁড়িয়ে নীচে আমার দিকে তাকিয়ে আছে; মুখে কোন কথা নেই, চোখের পলক ও পড়ছে না। দেখলাম অপূর্ব (আমার একমাত্র ভাই) চোখ ডলতে ডলতে আম্মুর পিছনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করছে, “কি হয়েছে আম্মু?”। ওর চোখটাও আমার দিকে পড়তেই থমকে গেছে। আমি হাসছি, ওদের দুজনের হতভম্ব অবস্থা দেখে। আমিই কথা বললাম, “আমি কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো সারাদিন?”। ততোক্ষণে অপূর্বর অবাক ভাবটা কেটে গেছে, সে আম্মুকে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, “আম্মু, সত্যিই ভাইয়া এসেছে (অপূর্ব আমাকে ছোটবেলা থেকেই ভাইয়া ডাকে, ওর মুখে আপু ডাক কখনো শুনিনি আমি)। গেইটের চাবি কোথায়?”।

আম্মু সম্বিৎ ফিরে পেতেই সিঁড়ি দিয়ে দুড়দাড় করে নীচে নেমে এলো, গেইটের চাবি ছাড়াই। অপূর্ব আম্মুর পিছু পিছু এসে তালা খুলে দিলো। আম্মুর যেন তর আর সইছিলো না, গেইট খুলতেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি আম্মুর বাহু বন্ধনে এটা উপলব্ধি করতে পারছিলাম যে এই আলিঙ্গন যতটা না আদরের আতিশয্যের, তার থেকেও বেশি এটা যে স্বপ্ন নয় সত্যি সেটা পরখের জন্য।

আম্মু অনেকক্ষণ ধরে কথা বলতে পারেনি সেদিন। যখন একটু থিতু হলো তখন তাঁর ঠোঁটের কোণে লেপটে থাকা হাসিটা বলে দিচ্ছিলো সবটা অনুভূতি। কিন্তু সে হাসিকে সংজ্ঞায়িত করার সামর্থ্য আমার নেই, হয়তো কারোরই নেই। 

*স্মৃতিচারণ* *সারপ্রাইজ* *মা*

আল ইমরান: শত সাবধানতা সত্তেও বৃষ্টি শুরু হওয়ার প্রথম মিনিটেই প্রথম আছাড় খেলাম, উঠতে গিয়ে আবার। এর পর আবার। প্রথম ধাক্কা কাঁটিয়ে ১০ কদম সামনে যাওয়ার পর পা হড়কে একেবারে কর্দমাক্ত জমিতে। সারা শরীরের কোথাও কাঁদা লাগা বাকি রইল না। ঝড়ে, জলে, কাঁদায় মাখামাখি হয়ে যখন বাড়ি পৌঁছুলাম, দরজা খুলে মা তখন প্রথমে আমাকে চিনতে পারেননি। ১০ সেকেন্ড পর যখন চিনলেন, তখন উনার চিৎকার দেখে কে। গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে মাথায় ভালো করে খাঁটি সরিষার তেল মেখে, এক কাপ চা নিয়ে যখন আমার রুমের জানালার পাশে বসলাম.... একটু দৃশ্যটি কল্পনা করুন, টিনের চালে কখনও ঝমঝম কখনও টাপুর টাপুর করে বৃষ্টির ঝরে পড়া। আপনি জানালার পাশে গরম চা এর কাপ হাতে এক নিবিষ্ট মনে দেখছেন রাতের ভিজে যাওয়া। সামনে কেরোসিন বাতির টিমটিমে আলো হালকা শীত শীত আমেজ। একটা পাতলা কাঁথা গায়ে জড়িয়ে আয়েশ করে হেলান দিয়ে চা খাচ্ছেন, আর সামনে কাগজ কলম। বলুন, এমন পরিবেশে কি দু’লাইন কবিতা বের হয়ে আসে না......... আমি জানি, আসে.........

*বৃষ্টি* *স্মৃতিচারণ* *গল্প*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★