হালুয়া রুটি

হালুয়ারুটি নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবিতে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পালন করে সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে। আজ রোববার দিবাগত রাতটিই পবিত্র শবে বরাত। এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এই রাতে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকবেন। দিনে রোজা রাখবেন অনেকে। দান-খয়রাত করবেন। বিগত জীবনের পাপ মার্জনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবেন।


ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করা হবে। এসব খাবার বিতরণ করা হবে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। ব্যস্ত নগর জীবনে এখন অনেকেই বাসায় হালুয়া-রুটি বানানোর ঝক্কি নিতে চান না। আবার খাবার টেবিলে একটু ভিন্নরকম আয়োজন করতে শবেবরাতে অনেকেই ভিন্ন পদের খোঁজ করেন। তাই পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন সুপার শপ এবং মিষ্টির দোকানগুলোতে থাকছে বিভিন্ন রকম হালুয়া-রুটির আয়োজন। 

  • রাজধানীর অ্যাগোরা, মীনা বাজার, নন্দন ইত্যাদি দোকানগুলোতে বসানো হয়েছে হালুয়া কর্নার। বিভিন্ন ধরনের হালুয়ার প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে এই হালুয়া কর্নারে।
  • পরিমাণ ভেদে গাজরের হালুয়ার দাম পড়বে ১৩০ থেকে ১৬৮ টাকা। বুটের হালুয়ার দাম ১৬৮ থেকে ৩২৮ টাকা। হাবশি হালুয়া ১৯৯৮ থেকে ৪শ’ টাকা। শাহি পেঁপের হালুয়া ১৬০ টাকা। বাদামের হালুয়া সাড়ে ৩শ’ টাকা। নেশেস্তা হালুয়া ১৬৫ টাকা। ডিমের হালুয়া আড়াইশ টাকা। পেশোয়ারি হালুয়া ১৫৮ টাকা।
  • এছাড়াও নারিকেল ও গাজরের লাড্ডুর প্যাকেট পাবেন ২১৫ টাকায়।
    প্রিমিয়াম সুইটসে আছে ১৪ ধরনের হালুয়া, দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেজি হিসেবে।
  • আনজির হালুয়া ১ হাজার ৭৯৫ টাকা। কাঠবাদামের হালুয়া ১ হাজার ৫৯৫ টাকা। পেস্তাবাদামের হালুয়া ১ হাজার ৫৯৫ টাকা। কাজুবাদামের হালুয়া ১ হাজার ৪২৫ টাকা। প্রিমিয়াম স্পেশাল হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। মাসকট হালুয়া ৮শ’ টাকা। ফলের হালুয়া ৯৯৫ টাকা। ব্রাউনি হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। নারিকেলের হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। গাজরের হালুয়া ১ হাজার ১৯৫ টাকা। এছাড়াও কয়েক ধরনের হালুয়ার প্যাকেজ পাওয়া যাবে সাড়ে ৯শ’ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়।
  • এছাড়াও রস, বনফুল, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মুসলিম সুইটস, আলিবাবা সুইটস ইত্যাদি মিষ্টির দোকানগুলোতেও থাকছে হালুয়ার আয়োজন।
  • পুরান ঢাকার চানখারপুল, নাজিরা বাজার, লালবাগ, শাখারি বাজার এলাকায় শবেবরাতের দিনে বসে হালুয়া-রুটির পসরা। শুধু মিষ্টির দোকানগুলোই নয় পুরান ঢাকার চায়ের দোকান, মুদি দোকানগুলোর সামনে টেবিল পেতে হালুয়া বিক্রি করেন অনেকেই।
  • গাজর, সুজি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, কুমড়া, বাদাম, পেঁপে, তিলের হালুয়া পাওয়া যাবে এই দোকানগুলোতে।
  • এই এলাকার হালুয়া-রুটির আয়োজনের একটি ব্যতিক্রমী বিষয় হল মাছ, ফুল ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতিতে তৈরি রুটি। রুটিগুলো আবার বিক্রি হয় কেজি হিসেবে, দাম ১শ’ থেকে দেড়শ টাকা।
  • এছাড়া সাত রওজার আনন্দ বেকারি, চকবাজারের বোম্বে বেকারি, কোর্ট-কাচারি এলাকার ইউসুফ বেকারির রুটির নামডাক রয়েছে।

  • এগুলো ছাড়া ঠাঁটারি বাজারের স্টার হোটেল, চকবাজারের আলাউদ্দিন সুইটমিট, নর্থ-সাউথ রোডের হোটেল আল রাজ্জাক ও এলিফ্যান্টরোডের গ্রামীন কনফেকশনারিতে শবেবরাতের হালুয়া-রুটি পাওয়া যাবে।

*শবেবরাত* *হালুয়ারুটি*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★