হুমায়নআহমেদ

হুমায়নআহমেদ নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অসাধারণ রসবোধ সম্পন্ন মানুষ ছিলেন হুমায়ুন আহমেদ। উনার জীবনেও ঘটেছে নানা রসময় ঘটনা।

নিজের জবানীতে ও অন্যের লিখনিতে তাঁর জীবনের কিছু মজার ঘটনা নিন্মে উদৃত হল।

১। আমার প্রথম স্কুলে যাওয়া উপলক্ষে একটা নতুন খাকি প্যান্ট কিনে দেয়া হল। সেই প্যান্টের কোন জিপার নেই, সারাক্ষণ হাঁ হয়ে থাকে। অবশ্যি তা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন হলাম না। নতুন প্যান্ট পরছি, এই আনন্দেই আমি আত্মহারা। মেজো চাচা আমাকে কিশোরীমোহন পাঠশালায় ভর্তি করিয়ে দিয়ে এলেন এবং হেডমাস্টার সাহেবকে বললেন, চোখে চোখে রাখতে হবে। বড়ই দুষ্ট। আমি অতি সুবোধ বালকের মত ক্লাসে গিয়ে বসলাম। মেঝেতে পাটি পাতা। সেই পাটির উপর বসে পড়াশোনা। মেয়েরা বসে প্রথম দিকে, পেছনে ছেলেরা।

আমি খানিকক্ষণ বিচার বিবেচনা করে সবচেয়ে রূপবতী বালিকার পাশে ঠেলেঠুলে জায়গা করে বসে পড়লাম। রূপবতী বালিকা অত্যন্ত হৃদয়হীন ভঙ্গিতে সিলেটি ভাষায় বলল, এই তোর প্যান্টের ভেতরের সবকিছু দেখা যায়। ক্লাসের সব ক’টা ছেলেমেয়ে একসঙ্গে হেসে উঠল। সবচেয়ে উচ্চস্বরে যে ছেলেটি হেসেছে, তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। হাতের কনুইয়ের প্রবল আঘাতে রক্তারক্তি ঘটে গেল। দেখা গেল ছেলেটির সামনের একটি দাঁত ভেঙ্গে গেছে। হেডমাস্টার সাহেব আমাকে কান ধরে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দিলেন।

ছাত্রছাত্রীদের উপদেশ দিলেন, এ মহাগুণ্ডা, তোমরা সাবধানে থাকবে। খুব সাবধান। পুলিশের ছেলে গুণ্ডা হওয়াই স্বাভাবিক। ক্লাস ওয়ান বারোটার মধ্যে ছুটি হয়ে যায়। এ দুই ঘণ্টা আমি কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমার সময়টা যে খুব খারাপ কাটল তা নয়। স্কুলের পাশেই আনসার ট্রেনিং ক্যাম্প। তাদের ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। লেফট রাইট। লেফট রাইট। দেখতে বড়ই ভাল লাগছে। মনে মনে ঠিক করে ফেললাম বড় হয়ে আনসার হবো।

২। ক্লাস টুতে উঠে আমি আরেকটি অপকর্ম করি। যে রূপবতী বালিকা আমার হৃদয় হরণ করেছিল, তাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেলি। প্রকৃতির কোন এক অদ্ভুত নিয়মে রূপবতীরা শুধু যে হৃদয়হীন হয় তাই না, খানিকটা হিংস্র স্বভাবেরও হয়। সে আমার প্রস্তাবে খুশী হবার বদলে বাঘিনীর মত আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। খামচি দিয়ে হাতের দুতিন জায়গার চামড়া তুলে ফেলে। সে-ই স্যারের কাছে নালিশ করে। শাস্তি হিসেবে দুই হাতে দুটি ইট নিয়ে আমাকে দু’ঘণ্টা নিলডাউন হয়ে বসে থাকতে হয়।

৩। থ্রি থেকে ফোরে উঠব। বার্ষিক পরীক্ষা এসে গেছে। বাড়িতে বাড়িতে পড়াশোনার ধুম। আমি নির্বিকার। বই নিয়ে বসতে ভাল লাগে না। যদিও পড়তে বসতে হয়। সেই বসাটা পুরোপুরি ভান। সবাই দেখল আমি বই নিয়ে বসে আছি এই পর্যন্তই। এমন এক সুখের সময়ে ক্লাসের বন্ধু ‘মাথা মোটা’ শংকর খুব উত্তেজিত ভঙ্গিতে জানাল, তার মা তাকে বলেছেন সে যদি ক্লাস থ্রি থেকে পাশ করে ফোর-এ উঠতে পারে তাহলে তাকে ফুটবল কিনে দেবেন। সে আমার কাছে এসেছে সাহায্যের জন্যে। কি করে এক ধাক্কায় পরের ক্লাশে ওঠা যায়। একটা চামড়ার ফুটবলের আমাদের খুবই শখ।

সেই দিনই পরম উৎসাহে শংকরকে পড়াতে বসলাম। যে করেই হোক তাকে পাশ করাতে হবে। দু’জন একই ক্লাসে পড়ি। এখন সে ছাত্র, আমি শিক্ষক। ওকে পড়ানোর জন্যে নিজেকে প্রথম পড়তে হয়, বুঝতে হয়। যা পড়াই কিছুই শংকরের মাথায় ঢোকে না। যাই হোক প্রাণপণ পরিশ্রমে ছাত্র তৈরি হল। দু’জন পরীক্ষা দিলাম। ফল বের হলে দেখা গেল আমার ছাত্র ফেল করেছে এবং আমি স্কুলের সমস্ত শিক্ষকদের স্তম্ভিত করে প্রথম হয়ে গেছি। ফুটবল পাওয়া যাবে না এই দুঃখে রিপোর্ট কার্ড হাতে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরলাম।

৪। পঁচাগড় থেকে বাবা বদলি হলেন রাঙামাটিতে। রাঙামাটিতে আমরা ছিলাম পাঁচ মাসের মতো। বাবা আবার বদলি হলেন বান্দরবান। বান্দরবানের সবই ভালো, শুধু মন্দ দিকটা হলো এখানে একটা স্কুল আছে। স্কুলে আমার একমাত্র আনন্দের ব্যাপার হলো মুরং রাজার এক মেয়ে পড়ে আমাদের সঙ্গে। গায়ের রং শঙ্খের মতো সাদা। চুল হাঁটু ছাড়িয়েও অনেক দূর নেমে গেছে। আমরা ক্লাস সিক্সে পড়ি, কিন্তু তাকে দেখায় তরুণীর মতো। তার চোখ দুটি ছোট ছোট, গালের হনু খানিকটা উঁচু। আমার মনে হলো চোখ দুটি আরেকটু বড় হলে তাকে মানাত না। গালের হনু উঁচু হওয়ায় যেন তার রূপ আরো খুলেছে।

ক্লাসে আমি স্যারদের দিকেও তাকাই না। বোর্ডে কী লেখা হচ্ছে তাও পড়তে চেষ্টা করি না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি রাজকন্যার দিকে। সত্যিকার রাজকন্যা। আমার এই অস্বাভাবিক আচরণ রাজকন্যার চোখে পড়ল কি না জানি না, তবে একজন স্যারের চোখে পড়ল। তিনি আমাকে বিষদৃষ্টিতে দেখতে লাগলেন। প্রতিটি ক্লাসেই তিনি আমাকে প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জরিত করেন, কিন্তু আটকাতে পারেন না; কারণ ইতিমধ্যে আমি একটা জিনিস বুঝে ফেলেছি, আমার স্মৃতিশক্তি অসম্ভব ভালো। যেকোনো পড়া একবার পড়লেই মনে থাকে। সব পড়াই একবার অন্তত পড়ে আসি।

স্যার ঠিকই একদিন আমাকে আটকে ফেললেন। সমকোণ কাকে বলে জিজ্ঞেস করলেন, আমি বলতে পারলাম না। শাস্তির ব্যবস্থা হলো। বিচিত্র শাস্তি। বড় একটা কাগজে লেখা ‘আমি পড়া পারি নাই। আমি গাধা’ সেই কাগজ গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। স্যার একজন দপ্তরিকে ডেকে আনলেন এবং কঠিন গলায় বললেন, ‘এই ছেলেকে সব কটা ক্লাসে নিয়ে যাও। ছাত্ররা দেখুক।’ আমি অপমানে নীল হয়ে গেলাম। টান দিয়ে গলার কাগজ ছিঁড়ে স্যারের দিকে তাকিয়ে তীব্র গলায় বললাম, ‘আপনি গাধা।’ তারপর এক দৌড় দিয়ে স্কুল থেকে বের হয়ে গেলাম। সন্ধ্যাবেলা লোক পাঠিয়ে শঙ্খ নদীর তীর থেকে বাবা আমাকে ধরিয়ে আনলেন। আমি আতঙ্কে কাঁপছি। না জানি কী শাস্তি অপেক্ষা করছে আমার জন্য। বাবা শান্ত গলায় বললেন, ‘স্যাররা তোমাকে পড়ান। শাস্তি দেওয়ার অধিকার তাঁদের আছে। তুমি আমার সঙ্গে চলো। স্যারের কাছে ক্ষমা চাইবে।'

বাবার সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে রওনা হলাম। স্যারের কাছে ক্ষমা চাইলাম। এর পর বাবা বললেন, ‘মাস্টার সাহেব, আমার এই ছেলেটা খুব অভিমানী। সে বড় ধরনের কষ্ট পেয়েছে। অপমানিত বোধ করেছে। তাকে আমি কোনো দিন এই স্কুলে পাঠাব না। সে বাসায় থাকবে।’

বাবা আমাকে কোলে নিয়ে বাসায় ফিরলেন। পরদিনই স্কুলের সব শিক্ষক বাসায় উপস্থিত। তাঁরা বাবাকে রাজি করাতে এসেছেন, যাতে আমি আবার স্কুলে যাই। বাবা রাজি হলেন না।

৫। হুমায়ূন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। হঠাৎ এক ছাত্র প্রশ্ন করলো, ‘স্যার, আপনি নাকি গরুর কথাও বুঝতে পারেন?’ হুমায়ুন আহমেদের ‘ছেলেবেলা’ বইটি পড়ে হয়তো এমন ধারণা হয়েছিলো ছাত্রটির। ক্লাসের মাঝখানে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় চলে আসায় হুমায়ুন আহমেদ বিরক্ত হলেন। বললেন, ‘হ্যাঁ, পারি। নইলে তোমাদের ক্লাস নিচ্ছি কীভাবে?’

৬। এক সাংবাদিক টেলিফোনে হুমায়ূন আহমেদের কাছে তার অবসর সময় কীভাবে কাটে জানতে চাইলেন। উত্তরে হুমায়ুন আহমেদ বললেন, ‘অবসর সময়ে আমি একটা কাঁচি নিয়ে বসি। কাঁচি দিয়ে কেটে সময় কাটাই!’

৭।গভীর রাতে হুমায়ূন আহমেদকে এক বিখ্যাত অভিনেতা ফোন করল। এত রাতে ফোন পেয়ে তিনি কিছুটা বিরক্ত।

অভিনেতা ফোন দিয়ে বললেন, হুমায়ূন ভাই আমার অবস্থা খুব খারাপ।

হুমায়ুন আহমেদ বললেন, কেন কী হয়েছে?

অভিনেতা বললেন, পেটে প্রচুর গ্যাস হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ আরও বিরক্ত হয়ে বললেন, পেটে গ্যাস হয়েছে তো আমাকে কেন? তিতাস গ্যাসকে ফোন দেন।

৮।হুমায়ূন আহমেদ প্লেনে করে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। ওনার সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস সম্পর্কে তো কম বেশি সবারই জানা আছে। প্লেনের মধ্যে হঠাৎ তাঁর সিগারেট খাওয়ার নেশা চেপে বসলো।

হুমায়ূন আহমেদ এয়ার হোস্টেসকে ডেকে বললেন, ‘সিগারেট খাওয়া যাবে?’

এয়ার হোস্টেজ উত্তরে বললেন, ‘না। প্লেনের ভিতর ধুমপান করলে দুইশত ডলার ফাইন।'

হুমায়ূন আহমেদ চারশো ডলার দিয়ে বললেন, ‘আমি এখন দুইটা সিগারেট খাব।'

এয়ার হোস্টেস ছুটে গেল পাইলটের কাছে। পরে পাইলট হুমায়ূন আহমেদকে ডেকে পাঠালেন ককপিটে। তারপর বললেন, ‘ডলার দিতে হবে না। তুমি এখানে বসে সিগারেট খাও।’

৯। হুমায়ূন আহমেদের ৫২তম জন্মদিনের কথা। শাহবাগ থেকে তাজা দেখে ৫২টা গোলাপ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি গেলেন একজন। গিয়ে দেখলেন বগুড়া থেকে এক লোক এসেছেন। উনি হুমায়ূন আহমেদকে বলছেন, 'স্যার, আপনি চাইলে আমি আমার জান দিয়ে দিবো! আপনি আপনার নাটকে আমাকে একটা চান্স দেন।' হুমায়ূন আহমেদ তার সহকারীকে ডেকে বললেন, 'তুমি এর নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার লিখে রাখো তো। এ আমার জন্য জীবন দিতেও রাজি।' সহকারী সব টুকে নিলে চলে গেল।

এরপর হুমায়ূন আহমেদ ওই লোককে বললেন, 'তুমি বাড়ি ফিরে যাও। যদি কখনো কিডনি লাগে তো তোমাকে ফোন দিবো। চলে এসো।’

১০। হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র বানাবেন। আগুনের পরশমণির প্রধান চরিত্র বদিউল আলমকে খুঁজছেন। একদিন শিল্পী ধ্রুব এষকে দেখে তিনি সেই চরিত্রের জন্য পছন্দ করে ফেললেন। কারণ, বদিউল আলমের নির্লিপ্ত ভঙ্গি ধ্রুব এষের মধ্যে পুরোপুরিই আছে। প্রস্তাব শুনে ধ্রুব এষ বললেন, ‘অসম্ভব! আমি জীবনে অভিনয় করিনি’। হুমায়ূন আহমেদ মুচকি হেসে বললেন, ‘তাতে কী? আমিও তো জীবনে সিনেমা বানাই নি!’

১১। ভীষণ গান ভালবাসতেন হুমায়ূন আহমেদ। বিভিন্ন সময় চমৎকার কিছু গান লিখেছেন। এর মধ্যে ‘যদি মন কাঁদে’ গানটি নিয়ে একটি মজার ঘটনা রয়েছে। নিউইয়র্কে একবার এই গানটি গেয়েছিলেন শাওন। সেখানে কয়েকজন দর্শক-শ্রোতা মন্তব্য করলেন ‘এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটা তো আগে শুনিনি। এটা তো চমৎকার।’

এরপর হুমায়ূন আহমেদ মঞ্চে বক্তব্যের সময় বললেন, ‘যাক, এবার তবে রবীন্দ্রসঙ্গীতও লিখলাম।’

১২। একবার এক ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদকে বললেন, অমুক তো আপনাকে একেবারে ধুয়ে দিয়েছে। আপনার লেখায় নাকি শিক্ষামূলক কিছু নাই। শুনে হুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘ঠিকই তো বলেছে, আমি তো পাঠ্যবই লেখি না!’

১৩। সিনেমা তৈরির প্রয়োজনে হুমায়ূন আহমেদ একবার সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর অফিসে গেছেন। কথা শেষ করে চলে আসার সময় হুমায়ূন আহমেদ হঠাৎ জানতে চাইলেন, ‘আপনাদের কোনো পুরোনো ট্যাংক আছে?’

: কেন বলুন তো?

: আমার একটা কেনার ইচ্ছা।

: ট্যাংক দিয়ে কী করবেন?

: ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিতে হয়। ট্যাংকে করে গেলে অনেক সুবিধা, তাই...।

---আজ এই কিংবদন্তী লিখকের জন্ম দিন। এই দিনে তাঁর পারলৌকিক মঙ্গল কামনা করছি।

সুত্র-

http://www.earki.com/humor/article/

*হুমায়নআহমেদ* *রসিকতা* *রসবোধ* *জন্মদিন* *প্রেম* *ভালোবাসা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

১৩ নভেম্বর ২০১৭ বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপুরুষ হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তিনি আজ ৬৯তম বর্ষে পা দিতেন। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তাঁকে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কি সত্যিই চলে গেছেন? না, চলে যান নি। তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে আমাদের মাঝে জীবিত আছেন। অবশ্য এই লেখার মাধ্যমে বেঁচে থাকা নিয়ে তাঁর মনোভাব ভিন্ন ছিলো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমি মারা গেলে আমার লেখা মানুষ পড়লো কি পড়লো না তা দিয়ে আমার কী যাবে আসবে? আমিই তো নেই!

হুমায়ূন আহমেদ রসিক মানুষ ছিলেন। তাই তাঁর এই মন্তব্যকে আমরা তাঁর রসিকতা হিসেবে ধরে নিতে পারি। কিন্তু এই কথাকে রসিকতা মনে করলেও এর ভেতর যে কঠিন বাস্তবতা আছে তাকে অস্বীকার করতে পারি না। লেখক হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ নিঃসন্দেহে উপকৃত হচ্ছে কিন্তু তা দিয়ে ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদের সত্যিই কিছু যাচ্ছে আসছে কিনা তা চিন্তার দাবি রাখে। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, তাঁর লেখায় ধর্মের কোনো উপকার হয়নি, কাজেই মৃত্যুর পর তাঁর এই লেখা তাঁর কোনো কাজে আসছে না। আমি এই কথার সঙ্গে দুইটি কারণে একমত না। প্রথম কারণ হচ্ছে, কোনো শিল্পকেই ধর্ম দিয়ে বিচার করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর লেখার মাধ্যমে ব্যাপাকভাবে ধর্মপ্রচার না করলেও তাঁর লেখা পড়ে লাখ লাখ পাঠক মনের খোরাক পেয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তাঁর লেখা পড়ে ব্যক্তিজীবনেও উপকৃত হয়েছেন এবং অনেক মানুষ তাঁর লেখা পড়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা পেয়েছেন। এক কথায় তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে মানবতার কথা প্রচার করেছেন। কাজেই আমার বিশ্বাস, পরকাল বলে কিছু থাকলে নিশ্চয়ই তিনি এর জন্যে পুরস্কৃত হয়েছেন।

আরেকটা কথা এখানে বলে রাখি। আমাদের মধ্যে একটা ভুল ধারণার প্রচলন হচ্ছে, আমরা মনে করি ধর্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব ঈশ্বর মওলানাদেরকে দিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ধর্ম অনেক বড় ব্যাপার। এতোই বড় ব্যাপার যে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব কোনো মানুষের পক্ষে নেওয়া সম্ভব না। একমাত্র ঈশ্বরই তার রক্ষাকারী হতে পারেন। মওলানাদের সংকীর্ণ চিন্তা দিয়ে আর কিছু হোক বা না হোক— বিভ্রান্তি বাড়ে। মওলানাদের সংকীর্ণ চিন্তা দিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ে তা এইজন্যে বললাম যে, তারা মনে করে ঈশ্বর তাদেরকে ইসলাম ধর্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব দিয়েছেন। অথচ এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। ইসলাম ধর্ম হচ্ছে ঈশ্বরের প্রেরিত বিধান। একজন সামান্য সৃষ্টি তার মহান স্রষ্টার বিধানকে পালন করতে পারে কিন্তু তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব বা যোগ্যতা তার নেই। তাছাড়া ঈশ্বর নিজেই পবিত্র কুরানে বলেছেন, ‘ইন্না নাহনু নাযযালনায যিকরা ওয়া ইন্না লাহু লা হাফিযুন। অর্থাৎ আমিই ইসলাম ধর্মকে অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এই ধর্মের রক্ষাকারী।’ ঈশ্বর নিজে যেখানে ঘোষণা করেছেন যে তিনি ইসলাম ধর্মের রক্ষাকারী সেখানে মওলানারা এই ধর্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেওয়ার কে? এই দায়িত্বই বা কে তাদেরকে দিলো?

এই কথাগুলো তেমনভাবে প্রাসঙ্গিক না হলেও বলার প্রয়োজন ছিলো তাই বললাম। এবার প্রিয় কথাসাহিত্যিকের প্রসঙ্গে আসি। আমার জীবনে হুমায়ুন আহমেদের প্রভাব অনেক বেশি। অবশ্য আমাদের বয়সের পাঠক যারা আছেন তাদের সবার জীবনেই হুমায়ূন আহমদের প্রভাব অনেক বেশি। কারণ, আমরা হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়েই বইপড়া শিখেছি। হুমায়ূন আহমেদের যুগ শুরু হওয়ার আগের সময়টায় বাংলাদেশের পাঠকসমাজে কলকাতার লেখকদের প্রভাব অনেক বেশি ছিলো। আর পাঠকদের একটা বড় অংশ তখন ফুটপাতের সস্তা লেখকদের দিকে ঝুঁকে গিয়েছিলো। হুমায়ূন আহমেদ এসে ইতিহাস বদলে দিলেন। তাঁর লেখনীর টানে পাঠকসমাজ আবার মৌলিক সাহিত্যের দিকে ফিরে আসলো। শুধু সাহিত্যের ইতিহাস নয়, তিনি আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসও বদলে দিলেন। সিনেমা হল বিমুখ দর্শকরা আবার সিনেমা হল মুখী হলো। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মতো মানসম্মত চলচ্চিত্র এখনো খুব একটা তৈরি হয় নি।

সাড়ে পাঁচ বছর আগে হুমায়ূন আহমেদ প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের পরেও একুশের বইমেলায় হুমায়ূন-শূন্যতা এখনো প্রকট হয়ে ওঠে। একজন লেখক হিসেবে এটা হুমায়ূনের জন্যে অনেক বড় পাওয়া। বাংলা ভাষার লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আজ পর্যন্ত যতোটা উচ্ছ্বাস পাঠকসমাজের মধ্যে দেখা গেছে তা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে বিরল। নাট্যকার হিসেবে দর্শকদের তিনি যতোটা নাড়া দিয়েছেন তার নজির কোথাও নেই। নন্দিত নরকে থেকে দেয়াল পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি বই বিক্রির দিক থেকে রেকর্ড সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। কলকাতায় কোনো লেখকের বই বিশ হাজার কপি বিক্রি হলে যথেষ্ট মনে করা হয়। অথচ বাংলাদেশে তাঁর বই বিক্রি হয়েছে প্রায় কয়েক লাখ কপি।

হুমায়ূন আহমেদের লেখার প্রধান গুণ হচ্ছে তিনি সরল ভাষায় লিখেন। সরল সংলাপের কারণে মনে হয় গল্পের চরিত্ররা সামনে বসে কথা বলছে। আগে একটা উপন্যাস পড়তে গিয়ে অসংখ্যবার অভিধান খুলতে হতো। অথচ হুমায়ূনের লেখা পড়তে গেলে অভিধান কোলে নিয়ে বসতে হয় না। তাঁর লেখায় দুর্বোধ্য বৈচিত্র্য নেই আবার গল্পের গভীরতাও কম নয়। প্রতিটি বই পড়ার সময় পাঠক উপলব্ধি করে গল্পের কোনো জাদুকর যেন তার সামনে বসে গল্প করছে। একই বই কয়েকবার পড়ার পরেও মনের আশ মিটে না। অদ্ভুত এক জাদুময় ভাষার কারণে বারবার পড়তে ইচ্ছে করে। নিজের কাছে নিজের যে দূরত্ব এবং একাকীত্ব তা অনেকাংশে ঘুচে যায়। আমার মতে, হুমায়ূনের জনপ্রিয়তার কারণ শুধু তাঁর সাবলীল গদ্যভঙ্গিই না, সাবলীল গদ্যভঙ্গিতে খুবই দক্ষতার সঙ্গে তিনি জীবনের যেই গল্প বলতেন সেটাই সবচেয়ে বড় কারণ। হুমায়ূনের প্রতিটি গল্প পড়লে মনে হয় পৃথিবীর কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই এই ঘটনা ঘটেছে। হুমায়ূনের মতে, লেখককে সত্যের মতো করে মিথ্যা বলতে জানতে হয়। তিনি তাঁর কাল্পনিক গল্পগুলি সত্যের মতো করে লিখেছেন। এখানেই তিনি সার্বজনীন এবং সফল। এই বোধ তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে গেছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, হুমায়ূনের এই সাফল্য এবং জনপ্রিয়তায় বড় বড় অনেক লেখক আহত হলেন। আমরা যেটা পারিনি হুমায়ূন আহমেদ কেন সেটা পারলেন এই পীড়া তাঁরা প্রকাশ করলেন না কিন্তু হুমায়ূনকে সাহিত্যসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন। বললেন, হুমায়ূন আহমেদ সস্তা শ্রেণির লেখক। এই কথা বলে তাঁরা কিন্তু সাহিত্য এবং শিল্প সম্পর্কে নিজেদের অদূরদর্শিতা এবং অপরিণত ধারণার কথাই প্রকাশ করলেন। সাহিত্য এবং ভাষা যে নদীর স্রোতের মতো পরিবর্তনশীল এটা তাঁরা পরোক্ষভাবে অস্বীকার করলেন। কথাসাহিত্যিক, গবেষক এবং কবি হুমায়ূন আজাদ বললেন, হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসিকই না— তিনি অপন্যাসিক। কিছুদিন পরে তিনি হুমায়ূন আহমেদ এবং ইমদাদুল হক মিলনকে একটা বই উৎসর্গ করলেন। উৎসর্গপত্রে লিখলেন, সব নষ্টদের অধিকারে গেলো। হুমায়ূন আজাদ অনেক বড়মাপের মানুষ। আমি তাঁকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাঁর এহেন মন্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারি না। তিনি হুমায়ূনকে চিনতে ভুল করেছেন।

হুমায়ূন আহমেদ আসলে কী এবং তিনি আমদেরকে কী দিয়েছেন? হুমায়ূন আহমেদ সেই শ্রেণির লেখক যাঁরা কয়েক শতাব্দীর সাধনায় জন্ম নেন এবং কয়েক শতাব্দীকাল ধরে চলে আসা একঘেঁয়ে গদ্যরীতি ভেঙ্গে সহজবোধ্য নতুনত্বের জন্ম দেন। সাহিত্যকে নতুন এবং আধুনিক করার মাধ্যমে আরো মর্মস্পর্শী করে তোলেন। আমাদের অনেক শ্রদ্ধাভাজন লেখকই হুমায়ূনকে এভাবে বিচার করতে পারেন নি। হুমায়ূনের মৃত্যুর পর সৈয়দ শামসুল হক বললেন, হুমায়ূনের লেখা ছোটগল্প কালজয়ী হলেও উপন্যাস তা নয়। তিনি ভুলে গেলেন, হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসের মাধ্যমেই পাঠকদের মনোজয় করেছেন। যে লেখা বাধাহীনভাবে পাঠকের হৃদয় জয় করে সেই লেখা যদি কালজয়ী না হয় তাহলে আর কোন লেখা কালজয়ী? একবার তিনি হুমায়ূনকে বললেন, আপনি সাহিত্যের মানুষ, টিভিতে নাটক লিখে প্রতিভা নষ্ট করছেন কেন? হুমায়ূন আহমেদ তার উত্তরে এক লেখায় বললেন, সৈয়দ হক মঞ্চনাটক লিখেন। মঞ্চনাটক লিখলে সাহিত্য হয় আর টিভি নাটক লিখলে সাহিত্য হয় না এই অদ্ভুত ধারণা তিনি কোথায় পেলেন আমি জানি না। মঞ্চনাটক হোক, টিভিনাটক হোক কিংবা কোনো ফিল্মের গল্প হোক, সাহিত্যের বিচরণক্ষেত্র সর্বত্রই অবাধ। সাহিত্য সাহিত্যই। সেটা যেখানেই করা হোক এবং যেভাবেই করা হোক। শিল্প-সাহিত্যের নীল আকাশের নিচে কোনো সীমানা নেই। অনেকেই বলেন, হুমায়ূন আহমেদ এন্টারট্রেইনার লেখক ছিলেন। তারা ভুলে যান, হুমায়ূন আহমেদ প্রবীণ এবং তরুণ প্রজন্মকে একইসঙ্গে আনন্দ দিয়েছেন। এটা মোটেই সহজ কাজ না। যে লেখক একইসঙ্গে এই দুই প্রজন্মকে হাসাতে পারেন, কাঁদাতে পারেন এবং সর্বোপরি নিজের লেখায় মজাতে পারেন তিনি সত্যিকার অর্থেই বড়মাপের লেখক। তাছাড়া একজন লেখকের কাল্পনিক চরিত্র পড়ে পাঠকসমাজ সেই চরিত্র বাস্তব জীবনে ধারণ করে, এমন অসম্ভব ক্ষমতাধর লেখক বিশ্বসাহিত্যে বিরল। হুমায়ূন আহমেদ নিঃসন্দেহে সেই পর্যায়ের অসম্ভব ক্ষমতাধর এবং বিরল লেখক। সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের দেশের অনেক বিখ্যাত লেখকের লেখাও আমাকে কষ্ট করে পড়তে হয়। তাঁদের লেখায় আর যাই থাক, গতিময়তা নেই, যেটা হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্যের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই গতিময়তার অভাবে আমি তাঁদের অনেক বিখ্যাত লেখাই পড়ি নি। শিল্প জিনিসটা দুর্বোধ্য হলে চলে না। শিল্প যখন সাবলীল এবং গতিময় হয় তখন তা কালোত্তীর্ণ হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের যুগে বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন গুরু পর্যায়ের লেখক। তাঁর গদ্যভঙ্গি অত্যন্ত জটিল ছিলো। সেইযুগে রবীন্দ্রনাথ যে ভঙ্গিতে লিখেছেন তা এক কথায় সরল এবং সাবলীল গদ্য। ফলে রবীন্দ্রনাথ জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে গেলেন। আজ পর্যন্ত বাংলাসাহিত্য তাঁকে অসীম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে এবং গুরু বলে স্বীকার করে। অবশ্য সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গদ্যভাষাও এখন কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তাঁর আবেদন কোনো অংশেই কমে নি। হুমায়ূনও তাই করেছেন। কলকাতার দুর্বোধ্য ভাষা থেকে তিনি আমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। লেখা হতে হবে এমন যেটা সমাজের উচ্চশ্রেণী থেকে নিম্নশ্রেণী পর্যন্ত সবাই অভিধান হাতে না নিয়ে পড়তে পারে এবং খুব সহজে বুঝতে পারে। যে লেখা পড়তে গিয়ে বারবার অভিধান হাতে নিতে হয় সেই লেখা সাহিত্য হলেও মহৎ এবং কালজয়ী সাহিত্য না। আবার যে লেখা পড়তে বসে অভিধান হাতে নিতে হয় না কিন্তু কিছু বোঝাও যায় না সেই লেখা সাহিত্যের কোনো পর্যায়েই পড়ে না। দুর্বোধ্যতা তৈরি করাও এক ধরনের নির্বুদ্ধিতা। রবীন্দ্রনাথ সবসময় সহজ করে লেখার পক্ষে ছিলেন। সহজ করে লেখা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। বরং এটা জটিল করে লেখার চেয়েও অনেক কঠিন কাজ। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, সহজ করে লিখতে আমায় কহ যে/সহজ করে যায় না লেখা সহজে। হুমায়ূনকে অনেক রথী-মহারথী লেখক চিনতে পারেন নি তার কারণ, তিনি চেয়েছেন বাংলা সাহিত্য আরো সাবলীল, সহজবোধ্য এবং মর্মস্পর্শী হোক। এজন্যে অনেকেই তাঁকে সস্তাশ্রেণির লেখক আখ্যা দিয়েছেন। আবার অনেক দূরদর্শী এবং বড়মাপের লেখক তাঁকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছেন। হুমায়ূনকে তারা চিনতে পেরেছেন এবং হিরেকে তাঁরা কাঁচ ভেবে ভুল করেন নি। সময়ই তা বলে দিয়েছে। স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান বলেছেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সস্তা চতুর্থশ্রেণির লেখকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ কথা বলতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে, তিনি আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে কিংবদন্তির মর্যাদা পাবেন’। প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘হুমায়ূনের লেখা অনেক সাবলীল। বাংলা ভাষাটার আদ্যোপান্ত জানা না থাকলে এতোটা সাবলীল করে লেখা যায় না। জনপ্রিয়তার দিক থেকে হুমায়ূন শরৎচন্দ্রকেও ছাড়িয়ে গেছেন।’

সাহিত্যে দুর্বোধ্যতার কারণে পাঠকসমাজ সাহিত্যবিমুখ হতে চলেছিলো। হুমায়ূন আহমেদ একক প্রচেষ্টায় তাদেরকে ফিরিয়ে এনেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতো তিনি সহজের পথে চলেছেন। হুমায়ূনের ভাষায় তাঁর লেখা হচ্ছে ‘সহজিয়া ধাঁচের’ লেখা। তিনি লিখেছেন, দেখেছেন, দেখিয়েছেন, আপ্লুত করেছেন, সবাইকে জয় করেছেন এবং সর্বোপরি বাংলাসাহিত্যের রাজমুকুটটি নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছেন। তিনি আমাদের হুমায়ূন আহমেদ এবং আমরা তাঁর পাঠকসমাজ। এমন একদিন আসবে যেদিন আমরা গর্ব করে বলবো, আমরা হুমায়ূন আহমেদের যুগের পাঠক এবং আমরা তাঁকে দেখেছি। সেইদিন প্রায় সমাগত।

( কপি পেষ্ট )

*হুমায়নআহমেদ* *সাহিত্য* *জন্মদিন*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

স্যার আমার ও সেইম অবস্থা !!! কি বলে গেলেন স্যার
গার্লফ্রেন্ড বিহীন তরুনের পৃথিবীতে বেঁচে থাকা, ঘাসবিহীন মাঠে গরুর পায়চারির মত... ---------------------------------------------------------------- হুমায়ুন আহমেদ
*প্রেম* *হুমায়নআহমেদ* *তরুনী*

★ছায়াবতী★: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

বিনয়কে এদেশে দুর্বলতা মনে করা হয়, বদমেজাজকে ব্যক্তিত্ব ভাবা হয়।
*হুমায়নআহমেদ*

শাকিল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

‘কোথাও কেউ নেই’ সম্ভবত বাংলাদেশের ছোটপর্দার নাটকের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় হওয়ার খেতাব পাবে। বাকের ভাই চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান আসাদুজ্জামান নূর। মুনা চরিত্রে সুবর্ণা মুস্তাফা ছিলেন অতুলনীয়। ধারাবাহিকটির শেষে নির্দোষ বাকের ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ হয়। ফাঁসি বন্ধের দাবীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করে দর্শক। কোনো নাটকের ঘটনা নিয়ে জনজীবনে এমন উত্তেজনা ও আবেগ বাংলাদেশে কখনও কখনও দেখা যায়নি।
*প্রিয়লেখক* *হুমায়নআহমেদ*

কবি: কষ্টের প্রয়োজন আছে । আনন্দ কে তীব্র করার জন্যই কষ্টের প্রয়োজন । ___ হুমায়ন আহমেদ

*হুমায়নআহমেদ*

কবি: সৌন্দর্য কোন ধ্রুব ব্যাপার না । ক্ষণে ক্ষণে বদলায় । আজ তোমাকে অপূর্ব লাগছে তার মানে এই না যে কালও লাগবে। -হুমায়ন আহমেদ

*হুমায়নআহমেদ*

কবি: ভালোবাসা আর ঘৃণা আসলে একই জিনিস। একটি মুদ্রার এক পিঠে "ভালোবাসা" আরেক পিঠে লেখা ঘৃণা। প্রেমিক প্রেমিকার সামনে এই মুদ্রা মেঝেতে ঘুরতে থাকে। যাদের প্রেম যতো গভীর তাদের মুদ্রার ঘূর্ণন ততো বেশি। এক সময় ঘূর্ণন থেমে যায় মুদ্রা ধপ করে পড়ে যায়। তখন কারো কারোর ক্ষেত্রে দেখা যায় "ভালোবাসা" লেখা পিঠটা বের হয়েছে, কারো কারো ক্ষেত্রে ঘৃণা বের হয়েছে!

*উক্তি* *হুমায়নআহমেদ* *দাঁড়কাকের_সংসার_কিংবা_মাঝে_মাঝে_তব_দেখা_পাই*

কবি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

{চমক হাসানের গানটা আজকে সারাদিন ধরে শুনছি। নিচে ডাউনলোড লিঙ্ক + সাউন্ড ক্লাউড লিঙ্ক দিলাম}

এই ব্যস্ত নগরের অলিগলি ধরে কোন এক জোছনা রাতে
হাঁটছিল সে নিয়ন আলোতে ক’টি নীলপদ্ম হাতে
 হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল ময়ূরাক্ষীর তীরে যেই
হঠাৎ দেখে শূন্য সবই কোথাও কেউ নেই

রুপা একা জানালায় এখনও জানে না সে হায়
হিমু আর কোনদিন, কোনদিন আসবে না
সব যুক্তির মায়াজাল রহস্যের সব দেয়াল
মিসির আলী আর কোনদিন, কোনদিন ভাঙবে না
 পেয়ে গেছে খবর সে, তাই প্রার্থনা নিরন্তর
 তুমি শান্তিতে ঘুমাও গল্পের জাদুকর!

আর কোন ট্রেনে হবে না ফেরা তার গৌরীপুর জংশনে
বিশুদ্ধ মানুষ হতে পারবে কি শুভ্র প্রশ্ন রয়েই যাবে মনে
গৃহত্যাগী জোছনায় দরদী গলায় গাতক মতি মিয়া গাইবে না
হাওরের মাঝি আর করবে না পারাপার, ভাটির দেশের নাও বাইবে না
চিত্রা, বাদল, জরী, পারুল হারালো অচিনপুরেই শেষে,
অনন্ত নক্ষত্রবীথি ছাড়া আর কোথাও কেউ নেই

রুপা একা জানালায় এখনও জানে না সে হায়---

গল্পের জাদুকর বিতর্কের জাল জানি রবে চিরকাল ঘিরে তোমারই চারিদিকে
 তবু তুমি রবে বেঁচে তোমার সৃষ্টির মাঝে তোমারই এ নন্দিত নরকে
 তোমারই সাথে কত অদ্ভুত পথে যে পথিক হেঁটে গেছে আলো আঁধারে
 তুমি রবে বেঁচে সেই পথিকের বুকে ভালোবাসার শঙ্খনীল কারাগারে...

https://soundcloud.com/chamokhasan/golper-jadukor-by-chamok-rabbi
*হুমায়নআহমেদ* *চমকহাসান* *প্রিয়গান*

মন্টি মনি: পৃথিবীতে অনেক ধরনের অত্যাচার আছে ভালবাসার অত্যাচার হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর অত্যাচার । কারণ, এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে কখনোই কিছু বলা যায় না সহ্য করে নিতে হয় । .... হুমায়ন আহমেদ!

*হুমায়নআহমেদ* *উক্তি* *সেরামবচন* *কথাসত্য* *অত্যাচার* *ইমোশনালঅত্যাচার* *হুমায়ন* *ভালবাসারঅত্যাচার*

ই বন: কেন জানিনা খুব মনে পড়ছে *হুমায়নআহমেদ* কে .....রাতজেগে আর সাদা কাগজে-কালোতে ছাপানো কিছু পড়া হয় না ...

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★