বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে

পৃথিবীর সব মানুষই ভালো আবার সব মানুষই খারাপ। একজন মানুষকে তার জীবনে অনেক role play বা ভুমিকা পালন করতে হয়।  তাই তার ভূমিকা অনুযায়ী একেক জায়গায় মানুষের ভালো-খারাপের বিচার একেরকম হয়, এটাই স্বাভাবিক। কেউ সব জায়গায় এক সাথে ভালো হতে পারে না। এটা সম্ভব না। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে সে শুধু মানুষ নয়, তাকে মহামানব বলাই শ্রেয়। তবে বাস্তবিকভাবে আমার চোখে এখন পর্যন্ত এমন নজিরবিহীন মানুষ দেখি নি। একজন মানুষ একইসাথে যদি সব জায়গায় সমানভাবে ভালো, মহান, উদার হতে পারত তাহলে সেই মানুষটির মত করে এত আনন্দ আর কেউ পেতো না। আর একই মানুষকে যখন কোথাও শুনতে হয় "তুমি মহান, তুমি বড় ভালো" আবার কোথাও শুনতে হয় "তুমি আত্মকেন্দ্রিক, তুমি বড় স্বার্থপর" তখন মানুষটির উপর দিয়ে কি যায় বলুন তো! হ্যাঁ, ঠিক এমন অবস্থার মুখোমুখি হলেই মানুষ identity crisis-এ ভোগে।  শুরু হয়ে যায় অন্তর্দ্বন্দ্ব এই ভেবে কি আসলে সে? কি তার আসল পরিচয়? সে হয়ত পরিবারের কাছে খুব ভালো, কিন্তু হয়ত সমাজে তার অবস্থান খুড়ো, আবার হয়ত সে বন্ধুসমাজের মধ্যমনি, বন্ধুদের দুঃখে সে যথেষ্ট তত্পর কিন্তু একই মানুষ হতে পারে পরিবারের প্রতি উদাসীন। বন্ধুর জ্বর হলে সে অস্থির কিন্তু পরিবারের কারো জ্বর হলে সামান্য নাপা নিয়ে তার সামনে তুলে ধরা তো দূরে থাক, কপালে হাত দিয়ে জ্বর দেখারও ভ্রুক্ষেপ করে না। তাহলে বন্ধুটি তাকে ভালো বলে সুখের অশ্রু ফেললেও পরিবারের মানুষটি তো দুঃখের অশ্রু ফেলবে। তাহলে সে কি খারাপ নাকি সে ভালো? সে দুটোই, তবে দুই তরফে দুই রকম।

আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ধুমসে আমরা করি আমাদের কদর, হুম, শুধুই নিজের প্রশংসা, নিজের কথা, নিজের স্টেটাস, নিজের সুখস্মৃতি, নিজের দুঃখ স্মৃতি, আড়ালে আবডালে ঢং রং নানা ভনিতার মাধ্যমে অন্যের প্রতি তীর ছোরাও মত কর্মকান্ড। এতে করে হয়ত ভার্চুয়াল জগতে হয়ত হা হা, হু হু, এহে, তাই না কি! স্যাডনেস, সহমর্মিতা, দারুন তো ইত্যাদি বিভিন্ন এক্সপ্রেশনের মাধ্যমে সাপোর্ট পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু আসলে সেই এক্সপ্রেশন ধোয়া জল দিয়ে প্রকৃত সুখ পাওয়া যায়? আমি তো মনে করি যায় না, রিয়েল লাইফের রিলে যার জীবন যত জড়িয়ে তার জীবন ততই সুখের। মিথ্যে মিথ্যে সাপোর্ট পেয়ে নার্সিসিজমকে আরও এক ধাপ উস্কে নিয়ে যাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু তাতে তীর ছোরা ব্যক্তিটিকে পাল্টানো যায় কি? যায় না, বরং সে আরো এক ধাপ কষ্ট পায় আমাদের আচরণে। ঝিকে মেরে বৌকে  শেখানোর বিষয়টা বুঝতে পারার ক্ষমতা কম বেশি সবারই থাকে। তাই আমার মতে, হুটহাট কাউকে এতটা সহজে আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর বলায় কোনো বীরত্ব নেই, বোকামি ছাড়া। 

সম্পর্ক জিনিসটা না কাঁচের মত, খালি একটা টোকা লাগার অপেক্ষা করে। আর যে যাই বলুক, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে যেকোনো সম্পর্কে প্রকাশ, সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন, সম্পর্কের প্রতি রিয়েল লাইফে সহমর্মিতা সম্পর্কগুলোকে আর এক ধাপ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সম্পর্ক মধুর করে।  পৃথিবী সদা ঘুর্নায়মান, আর পৃথিবীর চেয়েও দ্রুত বদলে যায় মানুষের মন। বিনিময় ছাড়া জগত চলে না, চলে না সম্পর্ক।  এগিয়ে যায় না কোনো কিছুই। মানুষ চায়, মানুষ দেখতে চায়, মানুষ পেতে চায়। আর এই চাওয়াতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু আমরা মানুষরা সব জায়গায় সমানভাবে সবসময় দিতে পারি না বলেই সম্পর্কে ভাটা পরে। চাওয়ারও যে একটা লিমিট থাকে তা আমরা ভুলে যাই।  আর এই চাওয়া যখন পাওয়া না হয় তখনই জমতে শুরু করে অসন্তুষ্টি আর অসন্তুষ্টির পাহাড় এতই উচ্চ উঁচু হয় যে, সেই পাহাড় ছুঁতে পারা পারতপক্ষে কারো পক্ষেই সম্ভব হয় না। আর মৃত্যু ঘটে একেকটি সম্পর্কের। জানি আমরা সব জায়গায় সমানভাবে ভালো হতে পারি না, তবে নিজের কর্তব্যের কথা তাই বলে তো অস্বীকার করতে পারি না। পারি না কাছের মানুষগুলোকে কাছের মানুষ ভেবেই সবসময় কম গুরত্ব দেবার। 


একটা মানুষ যখন দিনের ১৮ ঘণ্টা কাজ, সংসার, পরিবারের জন্য ছোটে বেড়ায় অবিরাম তখন তার ফেরার পর তার হাতে এক গ্লাস পানি তুলে দেয়ার নামই ভালোবাসা, আর এই ভালোবাসা যে কেউ দেখাতে পারে। সে হোক মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী-স্ত্রী যে কেউ। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা টাইপের ভালোবাসাগুলো না টিভির পর্দাতেই দেখা যায়। এই অসম্ভবকে সম্ভব করা বোধয় সত্যি অনন্তদের মত মহানায়কদের কাজ, আমাদের না। স্বাভাবিক মানুষের স্বাভাবিক জীবনে স্বার্থের জন্যই থাকে ভালোবাসা। 
স্বার্থ শব্দটিকে সবসময়ই কিন্তু খারাপ ভাবার অবকাশ নেই। আমরা কথায় কথায় একে অন্যকে স্বার্থপর তকমা দিয়ে থাকি। কিন্তু কে না স্বার্থপর? আমার তো মনে হয়, স্বার্থপররাই স্বার্থপরদের খুব তাড়াতাড়ি চিনে ফেলে, আত্মকেন্দ্রিরাই আত্মকেন্দ্রিকদের ছায়া দেখেই চিনতে পারে। তাই কাউকে আত্মকেন্দ্রিক আখ্যায়িত করার আগে নিজের কার্যকলাপ সমন্ধে একবার ভেবে নিয়ে বোধয় এই ধরনের দুঃসাহস দেখানোর অসম্ভবতাকে সম্ভব করার প্রচেষ্টা করা উচিত। না হলে মান হানির আশংকা কিন্তু থেকেই যায়। 


একটা পরিবারের ছেলে বা মেয়ে তার উচ্চ শিক্ষার জন্য যখন স্ত্রী নিয়ে বা স্বামী নিয়ে যখন বিদেশে পারি জমায় তখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকেও স্বার্থপরতার তকমা  হয়। আর মেয়ে হলে তো কথাই নেই। একটা ছেলের সকল অর্জন যতটা স্মুথ হয় একটা নারীর ক্ষেত্রে তা হয় না। শুনেছি গবেষণা বলে, পুরুষদের চেয়ে মেয়েদের কর্মদক্ষতা বা পরিশ্রম করার হার দুটিই বেশি। আমার ব্যক্তিগত জীবন থেকেও আমি একটা মানতে পারি। আমার সকাল শুরু হয় সাড়ে ছটা-পোনে সাতটায় আর  একেবারে বিশ্রামের জন্য যাই রাত ১২:৩০ টায়। এই ১৮ থেকে ১৯ ঘন্টাতে আমি অনেকগুলো ভূমিকা পালন করে থাকি। আর ৬ থেকে সাড়ে ৬ ঘন্টা পরিশ্রান্ত আমি শুধু নিজের জন্য পাই। এই ১৮ ঘন্টায় কখনো আমি স্ত্রী, কখনো আমি মেয়ে, কখনো আমি বোন, কখনো আমি রিক্সা, বাসের যাত্রী, অফিসে কখনো আমি কাউকে নিয়ন্ত্রণ করি বা কখনো কেউ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে, অফিস শেষে আমি ছাত্রী, কখনো কারো সহপাঠি, ভার্সিটি শেষে আবারও কখনো আমি স্ত্রী, কখনো আমি মেয়ে, কখনো আমি বোন, কখনো আমি পুত্রবধু, কখনো আমি ভাতৃবধু, কখনো আমি ভাইঝি, কখনো আমি নাতনী, কখনো আমি বোনঝি, কখনো আমি বৌদি । আমি অনেক কিন্তু যার যার কাছে এক, এক ও  অভিন্ন ভেবে সকলে সকলের মত করে আমাকে চায়। তাদের জন্য অস্বাভাবিক নয় মোটেও তবুও আমার জন্য কিছুটা সমানভাবে সমানতালে সমানহারে সকলের মনোনিবেশ করা যথেষ্ট কঠিন। অনুপাত priority অনুযায়ী ভাগ করা তাই আমি কতটা ভালো আর কতটা খারাপ তার ভালো-মন্দ অনুপাত অনুযায়ীই ভাগ হয়ে থাকে। তাই আমি হয়ত কারো কাছে স্বার্থপর, কারো কাছে উদার, 

"কেউ কেউ আমাকে বলে তুমি এতদিক কিভাবে সামলাতে পারো?" "কেউ কেউ বলে তুমি কি মানুষ নাকি অমানুষ (রোবট)?" "কেউ কেউ বলে তুমি একটু বেশি ক্যারিয়ার কম্সাস" "কেউ কেউ বলে তুমি আমার প্রেরণা" "কেউ কেউ বলে তুমি টাকার পেছনে ছুট্ছ, পরিবারকে আরো  উচিত" "কেউ কেউ বলে বয়স হলে টের পাবা" " কেউ কেউ বলে আর কত" আরো কত কত কথা। তবে ইনিয়ে বিনিয়ে সবার কথার মাঝে যে শব্দটি দৌড়ায় তা হচ্ছে "আত্মকেন্দ্রিক" । 

আত্মকেন্দ্রিক! শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কেমন হতে পারে আত্মা + কেন্দ্রিক = আত্মকেন্দ্রিক। আত্মাকে কেন্দ্র করে যে চলে সেই আত্মকেন্দ্রিক। তাহলে এই আত্মকেন্দ্রিক তকমাটি কার কার নেই সেটিই ভাবার বিষয়। মানুষ জন্ম থেকে আত্মকেন্দ্রিক হয় না, পরিবেশ, সম্পর্ক, পরিস্থিতি, আচরণ, স্বভাব মানুষকে একটু একটু করে অন্যের প্রতি  অভিমানের জন্ম দেয়।  আর সবাই বোধয় অভিমানের বিস্তৃতি ঠাওর করে উঠতে পারে না কারণ মানুষ তো আমরা তাই হামবড়া বা নার্সিসিজম আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাই কারো গায়ে আত্মকেন্দ্রিক তকমা লেপ্টে দেয়ার আগে খানিক ভেবে দেখুন, আর তা যদি হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাহলে তো ব্যাপারটি একটু তলিয়ে দেখার মতই। 
দীপ্তি:

ধন্যবাদ আপু (খুকখুকহাসি)

Eshita:

(খুকখুকহাসি)

Md.Ashraf Uddin Khan.:

পোস্ট কপি করা।