বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

বছর বছর বাড়ছে অনলাইনে পশু কেনাবেচা। এ প্রক্রিয়ায় নির্ভেজাল উপায়ে পশু কিনতে পেরে ক্রেতারা যেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তেমনি হাটে না নিয়েই পশু বিক্রি করে বিক্রেতারাও বাড়তি সুবিধা পান। আর তাই দিন দিন ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা কেনাবেচার সাইটে পশু বিক্রি জমে উঠছে ঈদকে সামনে রেখে। এসব ভার্চুয়াল হাটের অ্যাডমিনরা গরু কেনা-বেচা, হাট বা এগ্রো ফার্ম থেকে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজের দায়িত্বও নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে এসব অনলাইনের হাট ঢাকাবাসীর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। কোনো রকম ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই গরু কেনার জন্য অনেকে এসব ভার্চুয়াল হাটের দারস্থ হচ্ছেন। এরকমই একজন মিরপুর-১ নম্বরের শরীফুল ইসলাম। প্রবাসী বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাসার সব কেনাকাটার দায়িত্ব তার। তাই কোরবানির গরু কেনার দায়িত্বও তারই। তিনি মানবজমিনকে বলেন, গরুর হাটে গিয়ে কাদা আর গোবরের মধ্যে হেঁটে হেঁটে গরু কেনা খুবই কষ্টকর। তাই গত দুই বছর ধরে গরু কেনার জন্য ‘অনলাইনে গরুর হাট’র আশ্রয় নিয়েছি। তিনি বলেন, গত বছর ফেসবুকের কয়েকটি গরু বেচাকেনার পেজ ঘাঁটাঘাঁটি করে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত একটি গরু পেয়ে যাই ‘ফেসবুকে গরুর হাট’ নামক পেজটিতে। সঙ্গে সঙ্গে পেজটির গ্রুপ মেম্বারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সরাসরি ব্যাপারির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। একপর্যায়ে ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে গত বছর গরু কিনি। এবারও ফেসবুকের মাধ্যমে গরু কিনেছি। তবে সেটা বাসায় পৌঁছে দেবে আরও কয়েক দিন পরে। আল আমিন নামের অপর একজন ক্রেতা বলেন, ফেসবুকে গরু পছন্দ করে পেজটির গ্রুপ মেম্বারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে একটি বাসায় দেখা করতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে দরদাম ঠিক করলে তারা গরুর মালিককে জানান আপনার গরু বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে আমার ঠিকানা তাদের দিয়ে ওই ঠিকানায় গরু পৌঁছে দিতে বলে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা গরু পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন। গরু পৌঁছে দেয়ার পর বাসা থেকে তাদের টাকা দিতে হবে। মো. জাগ্রত নামের অপর এক ক্রেতা জানান, ‘ফেসবুকে গরুর হাট’ নামক পেজের অনেকগুলো গরুর ছবি দেখে একটা পছন্দ করি। পরে দরদাম ঠিক করে অর্ডার করলে গরুর মালিক আমাদের বাসায় গরু পৌঁছে দেবেন বলে কথা দিয়েছেন। তাদের মতো অনলাইনে গরু কেনার অর্ডার দিয়েছেন মিরপুরের মোরাদ, মোহাম্মদপুরের মুস্তাকিম, মগবাজারের আদনান ও শফিউল্লাহসহ অনেকেই। প্রত্যেকে জানান, হাটে গিয়ে গরু কিনতে গেলে পকেট মার ও ছিনতাইয়ের কবলে পড়ার ভয় রয়েছে। কিন্তু অনলাইনে গরু কিনলে গরুর বেপারিরা বাসায় পৌঁছে দিয়ে যান। গরু বুঝে পাওয়ার পর দাম পরিশোধ করতে হয়। এটা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত। অনলাইনে গরুর হাট, গাবতলী গরুর হাট, নয়বাজারের গরুর হাট, গাবতলী কাউ ক্যাটেল মার্কেট, ঢাকা গরুর হাট, আফতাব নগর গরুর হাটসহ আরও অনেক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এসব ভার্চুয়াল হাটের আয়োজন করা হয়েছে। কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আবার কেউ শখের বসে পেজ খুলে মানুষের সেবা করছেন। এসব ফেসবুক পেজের মধ্যে কোনোটা গরু ছাগল বিক্রির জন্য চলতি বছরই খোলা হয়েছে। আবার কোনো পেজ খোলা হয়েছে কয়েক বছর আগে। শুধু ফেসবুক পেজই না। কুরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বিক্রয়ডটকম, আমারদেশ ই-শপ, এখানেই ডটকম, সাশ্রয় এগ্রো’র মতো সাইটগুলোতেও। এসব পেজ বা ওয়েব সাইটের মাধ্যমে ক্রেতারাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে দিচ্ছেন পেজের মালিকরা। গরু-ছাগলের ছবি, পশুর দাম, বয়স, দাঁতের সংখ্যা, ওজন, চামড়ার রং, জাত, জন্মস্থান এবং প্রাপ্তিস্থানও তারা উল্লেখ করছেন। এক্ষেত্রে ক্রেতারা চাইলে স্বচক্ষে পশু দেখতে যেতে পারেন। আবার কেউ ছবি দেখেই কিনতে চাইলে বিক্রেতা সেই পশু পৌঁছে দিচ্ছেন ক্রেতার ঘরে। ‘ফেসবুকে গরুর হাট’ নামক পেজটি পরিচালনা করেন মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় বসবাসকারী রাইসুল ইসলামসহ ৫ যুবক। রাইসুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ৫ বছর আগে গ্রুপটি খুলেছিলাম। এখন ৩০ হাজারের ওপরে সদস্য। প্রথম দিকে শুধু ভালো ভালো গরুর ছবি তুলে পেজে শেয়ার করতাম। লাইক কমেন্ট পেতাম। কিন্তু ২০১৫ সালে আমরা গ্রুপ মেম্বাররা গরু বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই। প্রথম বছরই আমাদের পেজ থেকে ১০০ গরু বিক্রি হয়। তিনি বলেন, আমারা গরু কেনাবেচার করে দেয়ার জন্য কোন পারিশ্রমিক বা কমিশন নিই না। সম্পূর্ণ শখের বসে এই পেজ চালাই। আমাদের মাধ্যমে কেউ নিরাপদে কোরবানির গরু কিনতে পারলে নিজেদের কাছে খুব ভালো লাগে। ‘গাবতলী কাউ হাট’ নামের ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা হাসানসহ ৬ জন। ৪ বছর আগে কোরবানির ১০ দিন আগে পেজটি খুলে ফেসবুকের মাধ্যমে গরু বিক্রি শুরু করেন তিনিসহ ৬ উদ্যোক্তা। এই পেজের মাধ্যমে গত বছর ৭৬টি এবং চলতি বছর প্রায় ১০০টির অর্ডার পেয়েছেন। ‘মেঘডুবি এগ্রো’ নামের অপর এক খামারের মালিক আলী শাহীন বলেন, গুলশান নতুন বাজার থেকে দক্ষিণে বোরাইদ কবর স্থানের পাশেই আমাদের গরুর খামার। খামারের গরুগুলো প্রতি বছর কোরবানির সময় ফেসবুক পেজের মাধ্যমেই বিক্রি করি। অনলাইনে প্রত্যেকটি গরুর ছবি ও দাম দেয়া থাকে। সেখান থেকে ছবি দেখে অথবা সরাসরি খামারে এসে গরু পছন্দ করে কিনতে পারেন ক্রেতারা। তিনি বলেন, গত বছর অনলাইনে ২০০টি গরু আমাদের ফার্ম থেকে বিক্রি হয়েছে। এ বছর আরও বেশি বিক্রি হবে বলে আশাবাদী।

*হাটেরঅভিজ্ঞতা*