মো:আ:মোতালিব: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শিশুদের বহু ধরনের হার্টের অসুখ হয়। এর অনেক কারণ জন্মগত। কিছু আবার অসুখজনিতও। তবে বড়দের হার্টের অসুখের সঙ্গে শিশুদের হার্টের অসুখের কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

শিশুদের যে ধরনের হার্টের অসুখ হয়
শিশুরা সাধারণত জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এ ছাড়া ৫-২১ বছরের ছেলেমেয়েরা সাধারণত বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ আবার দুই ধরনের। অনীলাভ জন্মগত ও নিলাভ জন্মগত।
এর মধ্যে অনীলাভ জন্মগত রোগ আবার ২০ ধরনের রয়েছে। এর মধ্যে আছে হৃদযন্ত্রের ছিদ্র, মহাধমনিতে ছিদ্র, হার্টের ভাল্বজনিত সমস্যা ইত্যাদি।
নীলাভ জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত বাচ্চাদের সাধারণত ঠোঁট এবং হাত-পায়ের আঙুল কালচে বা নীলাভ রং ধারণ করে। নীলাভ রোগও প্রায় ২০ ধরনের আছে।

বাবা-মা যেভাবে বুঝবেন
হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুটি বুকের দুধ খেতে হাঁপিয়ে ওঠে। কান্নাকাটি করার সময় নীলচে হয়ে যায়, বুকের কাছে কান দিয়ে শুনলে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। অনেক সময় ঠোঁট বা জিহবা নীলচে রং ধারণ করে। হাত-পায়ের আঙুল ফুলে যায়। সমবয়সী বাচ্চাদের থেকে শারীরিকভাবে পিছিয়ে থাকে।

হার্টের অসুখ হলেই কি সার্জারি লাগে?
শিশুদের হার্টের অসুখ হলেই সার্জারি প্রয়োজন হয় না। বহু ক্ষেত্রেই সার্জারি ছাড়াই যথাযথ পরামর্শ মেনে চললে শিশুটি ভালো হয়ে যায়। যেমন- হৃদযন্ত্রে ছোট ছিদ্র থাকলে বেশির ভাগ সময়ই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে রোগটি সেরে যায়।
কিছু জন্মগত হৃদরোগ বিশেষ করে অনীলাভ জন্মগত রোগ ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়াই ডিভাইস পদ্ধতি এবং কয়েল ও বেলুনের সাহায্যেও চিকিৎসা করা যায়। এএসডি (অ্যাট্রিয়াল সেন্ট্রাল ডিফেক্ট বা অলিন্দের পর্দার ছিদ্র), বড় আকারের ভিএসডি (ভেন্ট্রিকুলার সেন্ট্রাল ডিফেক্ট বা নিলয়ের পর্দার ছিদ্র) হার্টের সংকোচন ভাল্বের প্রসারণ (পালমোনারি বেলুন ভালবিউলোপ্লাস্টি, অ্যাওর্টিক ভালবিউলোপ্লাস্টি) ধরনের অসুখেরও অপারেশন প্রয়োজন পড়ে না।
যখন টিওএফ (টেট্রালজি অব ফেলট), টিজিএ, বড় ও অস্বাভাবিক আকারের এএসডি, ভিএসডি, পিডিএ, টিএপিডিসি, এডি ক্যানেল ডিফেক্ট, ট্রাঙ্কাস আর্টারিওসম ধরনের জন্মগত হৃদরোগ হয় তখন সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। যদি বড় আকারে ছিদ্র বা হৃদরোগের অস্বাভাবিক গঠনের কারণে ধমনির রক্তচাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে থাকে, আশপাশের ভাল্বের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, শিশুর হৃদ প্রকোষ্ঠের আয়তন অস্বাভাবিক আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন তাৎক্ষণিকভাবে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ জন্য ইকো কালার ডপলার অথবা ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয়সংক্রান্ত বিভ্রান্তি নিরসনে কিছু ক্ষেত্রে এনজিওগ্রাম করে নিতে হতে পারে।

হার্টের অসুখ এড়াতে কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন
মনে হতে পারে জন্মগত কারণে শিশুদের যে ধরনের হার্টের অসুখ হয়, তা বোধ হয় প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বাস্তবে এর অনেকগুলোই প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন- ১৮ বছরের কম বয়সে বা ৩০ বছরের বেশি বয়সে যদি কোনো নারী সন্তান ধারণ করে, তবে সেই সন্তানের জন্মগত হার্টের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই নারীদের জন্য সন্তান ধারণ করা উচিত ১৮ থেকে ৩০-এর মধ্যে।
রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হলে জন্মগত হার্টের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থকে। যেমন- চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ে হলে শুধু হার্টের অসুখ নয়, আরো অনেক জন্মগত রোগ হতে পারে। তাই বিয়ে নিকটাত্মীয় এড়িয়ে করাই অনাগত সন্তানের জন্য মঙ্গলজনক।
গর্ভকালীন বহু নারী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের সন্তানের জন্মগত রোগ বেশি হয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আগে থেকেই নির্মূল করা সম্ভব নয়, তাই ডায়াবেটিস হলে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। মায়ের নেওয়া ইনসুলিনের প্রভাবে শিশুর হৃদযন্ত্রে এক ধরনের অস্বাভাবিক অবস্থা আলট্রাসনোগ্রাম বা ইকো মেশিনে ধরা পড়ে। শিশুর বয়স বছর পেরোতেই এ ধরনের অস্বাভাবিক অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শুধু ডায়াবেটিস নয়, অনেক সময় র্গভকালীন মায়েরা রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গর্ভজাত বাচ্চার হার্টের অসুখসহ আরো অনেক রোগ হতে পারে।
তাই রুবেলা ভ্যাকসিন আগেই নেওয়া দরকার। শিশু বয়সেই মেয়ে শিশুকে সাধারণত রুবেলা টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতেই রুবেলা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

শিশু হৃদরোগের চিকিৎসা
শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসা হয় কয়েকটি স্থানে। যেমন- জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এখানে শিশুদের জন্মগত এবং জন্মের পরবর্তী সময়ের হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি সার্জারি করা হয়। শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ শুধু হৃদযন্ত্রকে কেন্দ্র করেই হয় না, রক্তনালির অস্বাভাবিক গড়নের ফলেও দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভাসকুলার সার্জারির প্রয়োজন। সে ব্যবস্থাও রয়েছে এ সরকারি প্রতিষ্ঠানে। অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যে অপারেশন ছাড়াও, ডিভাইস বা বুক না কেটেও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে ২০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু কার্ডিওলজি এবং পৃথক শিশু কার্ডিয়াক সার্জারি ওয়ার্ডে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময় পর পর বিদেশি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ডিভাইস বা বেলুন চিকিৎসার আয়োজন করে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শিশু হাসপাতাল, আর্মড ফোর্স মিলিটারি হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশন, মিরপুর- এসব প্রতিষ্ঠানেও শিশু হৃদরোগের উন্নতমানের চিকিৎসা হয়।
*হৃদরোগ* *শিশুরোগ* *স্বাস্থ্যতথ্য* *হেলথটিপস* *হাসপাতাল*
কমেন্ট

আমানুল্লাহ সরকার: *হৃদরোগ* *শিশুরোগ* *স্বাস্থ্যতথ্য* *হেলথটিপস* *হাসপাতাল*

1416282786000 ভালো ১

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত