আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অফিস, বাড়ি, হাসপাতাল, শপিং মল সর্বত্রই আমাদের লিফট বা এস্কেলেটর ব্যবহার করতে হয়। লিফটে ওঠানামার কিছু আদব-কায়দা আছে। চলুন জেনে নেই লিফট ব্যবহারের আদব-কায়দা।

দুই-তিন কিংবা চারতলায় ওঠার জন্য লিফট ব্যবহার না করাটাই শ্রেয়। এটা যেমন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তেমনি লিফটে আরোহণকারী অন্যদের জন্যও এটা ভালো। এক বা দোতলায় যেতে লিফট ব্যবহার না করাই ভালো। অবশ্য শারীরিকভাবে অক্ষম, মালপত্র বা সঙ্গে বাচ্চা থাকলে আলাদা কথা। তাছাড়া লিফট ব্যবহার করলে তা অন্যদের বিরক্তির কারণ হতে পারে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজা দেখে দৌড়ে যাওয়ার প্রবণতা আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু লিফট ম্যানারে এমনটা ঠিক নয়। খুব বেশি জরুরি না হলে পরের লিফটের অপেক্ষা করুন। হুট করে দৌড়ে এসে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজা পুনরায় খুললে লিফটের ভেতরের মানুষগুলোর সমস্যা হতে পারে। একেবারে লোডেড লিফটে খুব বেশি মালপত্র নিয়ে উঠবেন না; অপেক্ষা করুন। লিফটে চাপ যখন কম থাকবে তখন মালপত্র ওঠানামার কাজ সেরে ফেলুন।

লিফটে কথা কম বলুন। আপনার জন্য কথা বলা খুব জরুরি হলে পাশের ব্যক্তিটির জন্য এটা বিব্রতকর হতে পারে। তাই লিফটে আরোহণকারী অন্যদের কথা ভেবে নীরবতা পালন করুন। এতে আপনার মার্জিত ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটবে। কোনো পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে লিফটে দেখা হয়ে গেলে তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাসি কিংবা কুশল বিনিময় সারতে পারেন লিফটে। তবে খেয়াল রাখবেন সেটা যেন কোনো আড্ডায় রূপ না নেয়। সব ইমেজ কনসালট্যান্টরাই বলেন 'বি কমফোরটেবল'। কিন্তু তারা লিফট ম্যানারের ক্ষেত্রে বলেন ভিন্ন কথা।

লিফটে নিজেকে কিছুটা সংকুচিত করে রাখুন। যেন লাইনে দাঁড়ানো অন্য ব্যক্তিটিও লিফটে সহজে উঠতে পারে। লিফটে গুনগুনিয়ে গান করা, তালি দেওয়া, আড়মোড়া ভাঙা, আঙুল ফোটানো এসব মোটেও করবেন না। লাইনে দাঁড়ান, ধীরে-সুস্থে লিফটে উঠুন ও নামুন। লিফটে চিপস, পপকর্ন, পানি, সফট ড্রিংকস খাবেন না। লিফটে উঠে সেলফোন, প্যাড কিংবা ট্যাবে জোরে গান বাজাবেন না। শিশু, মহিলা এবং বয়স্কদের আগে যেতে দিন। হুইল চেয়ার কিংবা স্ট্রেচারে অসুস্থ মানুষকে পথ করে দিন। তবে 'লেডিস ফার্স্ট'-এ প্রথা লিফটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। লিফটে লাইনে যে যেভাবে দাঁড়াবে, তাকে সেভাবেই উঠতে দিন। অতিরিক্ত সৌজন্যবোধে আবার হিতে-বিপরীত হতে পারে।

লিফটে উঠে ধীরে-সুস্থে নিজের ফ্লোর-বাটনে প্রেস করুন। আপনি যদি লিফট বাটন থেকে দূরে থাকেন, তাহলে সামনের জনকে অনুরোধ করুন। কাউকে ধাক্কা দিয়ে, কারো মাথা ডিঙিয়ে বাটন প্রেস করতে যাবেন না। এটা খুবই বাজে লিফট ম্যানার। আর লিফটম্যান থাকলে কখনোই আগ বাড়িয়ে নিজে লিফট বাটন চাপবেন না। লিফটের মধ্যে জোরে হাঁচি কিংবা কাশি দেবেন না। হাঁচি-কাশি এলে মুখে রুমাল চাপা দিন। অন্যের জন্য বিরক্তি কিংবা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবেন না।

লিফট পরিচালনাকারী লিফটম্যানদের সঙ্গে যথাসম্ভব ভালো ব্যবহার করুন। নিজেকে জাহির করতে অযথা ধমক দেবেন না। অহেতুক নির্দেশ দেবেন না। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন না। যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা লোডশেডিং অথবা অন্য কোনো কারণে লিফট মাঝপথে আটকে গেলে ভয় পেয়ে অযথা সিনক্রিয়েট করবেন না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। অহেতুক আতঙ্ক ছড়াতে যাবেন না। বরং অন্যদের মনে সাহস যুগিয়ে চলুন।

লিফটের আরও সামান্য কিছু আদবকেতা বহুতল ভবন যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে লিফটের ব্যবহার। লিফটে চড়ার আগে নামতে দিন পরে উঠুন। নিজে ঢোকার পর অন্যদের ঢোকা ও দাঁড়ানোর জন্য জায়গা করে দিন। ঢোকার সময় কার (এলিভেটর চেম্বারকে কার বলা হয়) ধরে উঠবেন না। কল বাটন চেপে থাকলে এলিভেটর না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। কারণ এলিভেটর আপনার তলায় আসার পর আপনাকে না পেলে অবস্থানরতরা বিরক্ত হবেন। যিনি বাটন চাপবেন তিনি সবার পক্ষেই বাটন চাপুন। অন্যরা কাঙ্ক্ষিত তলার সংখ্যা বলুন। অন্যকে ধাক্কা দিয়ে বাটন চাপবেন না। কেউ না চাপলে নিজে চাপুন। (সূত্রঃ ফেসবুক)

*অফিসঅ্যাটিকেট* *লিফট*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত