রশিদা আফরোজ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

একটা কৌতুক বলি। এক বাচ্চা ছেলে কিছুতেই ট্যাবলেট খেতে চায় না। বাবা-মা মহাচিন্তিত। তারা একটা বুদ্ধি বের করলেন। বাচ্চাটি মিষ্টি খেতে খুবই পছন্দ করে। মিষ্টির ভেতর ট্যাবলেট ঢুকিয়ে বাচ্চাকে খেতে দেয়া হলো।
 কিছুক্ষণ পর মা বললেন, বাবু, মিষ্টি খেয়েছো?

‘খেয়েছি মা, তবে ভেতরে একটা বিচি ছিল, ওটা ফেলে দিয়েছি। ’ বাচ্চার চটপট জবাব।

আমার ধারণা আমি চায়ে পরিমাণমতো চিনি খাই, কিন্তু বান্ধবীদের মতে, আমার চায়ের কাপে নাকি তরকারির চামচে করে চিনি ঢালতে হয়। পত্রিকা অফিসে যোগ দেয়ার পরই আমি বাসার বাইরে বানানো চা খেতে শিখলাম। সেটা প্রায় চার বছর আগের কথা। ছিলাম অন্য কাগজে। ওই অফিসে চা দিতো সবাইকে একসঙ্গে, ২ বার। অতিরিক্ত চিনি দেয়া সেই চায়ে তেমন স্বাদ পেতাম না কিন্তু কয়েকজন মানুষ একসঙ্গে কিছু খেলে অখাদ্যও সুখাদ্য মনে হয়, তাই কেউ কিছু বলেও না, অভ্যাসে সেই চা খেয়ে নিতো। তবে কারো অতিথি এলে কেউ অফিসের চা খাওয়ায় না, পাশের রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। কিন্তু ট্রাজেডি হলো যেদিন ডে অফ থাকতো সেদিন অতিরিক্ত মিষ্টি চা খুব মিস করতাম।

তখন অফিস ছিল মৌচাকে, পাশের রেস্টুরেন্টে প্রায় চা খেতে যেতাম, একদিন ভাগ্নি এসেছে ওর হোস্টেল থেকে, বাসায় যাবে না, হাতে অল্প সময় নিয়ে এসেছে, ওকে নিয়ে দুপুরে খেতে হবে, খেতে গেলাম সেই রেস্টুরেন্টে, খাওয়া শেষে হোটেল মালিক বললেন, আপা, পায়েস খান, খাঁটি গরুর দুধে বানানো পায়েস। বাসায় বানানো খাবারে আমার ব্যাপক ভক্তি আছে, নেহায়েত ঠেকায় না পড়লে আমি বাইরে খাই না, কিন্তু সমস্যা হলো অনুরোধে লোকে ঢেঁকি গিলে ফেলে আর এতো সামান্য পায়েস। খেয়ে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আসলে মিষ্টি জাতীয় সুস্বাদু খাবার খেয়ে তৃপ্তি পেলে সেটা ভুলতে পারি না।

আমাদের বাসায় মা, ভাই-বোন সবাই মিষ্টি এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে খুব পছন্দ করেন। রোজার ঈদে পোলাও-এর সাথে নারকেলের দুধ দিয়ে রান্না মুরগির মিষ্টি কোরমা থাকবেই। তবে আজকাল লোকে ঝাল-ঝাল মুরগিটা বেশি পছন্দ করে বলে মিষ্টি কোরমাটা মিস করি খুব। মাঝে মাঝে রাতে ছোটখাটো কিংবা বড়সড় উপলক্ষ তৈরি করে পার্টি দেই। নিজে নিজে পার্টি, রান্না শেষে মাটির প্লেট-বাটি-মগ বের করে সাজাই, নিজেকে সাজাই, খাবারের মেনু যাই হোক অবশ্যই মিষ্টি আইটেম কিছু না কিছু রাখি, সেটা হতে পারে বাসায় বানানো ফুড কাস্টার্ড, পায়েস কিংবা দোকান থেকে আনা মিষ্টি দই।

কলেজে পড়ার সময় দৈনিক ভোরের কাগজে তুমুল লেখালেখি করতাম, বইমেলায় বাচ্চাদের জন্য লেখা ‘পিকু’ নামে একটা বই বের হয়, সেসময় অনেক চিঠি পেতাম, ঢাবিতে পড়ুয়া টাঙ্গাইলের এক ছেলে চিঠি লিখতেন, কত কত কত যে চিঠি বিনিময় হতো, ৩০৩, জিয়া হলের ঠিকানায় পাঠাতাম হলুদ খাম আর রানা খাকি খামে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমাদের সওদাগর পাড়ার ঠিকানায় পাঠাতেন নানারকম কথায় সাজানো পত্রাবলি। টাঙ্গাইলের চমচমের কথা লিখতেন, ‌'জানেন, কী স্বাদ এই চমচমের, খেলে বলবেন, ওয়াও ওয়েস্ট! তো একদিন সেই চমচম খাওয়ার ভাগ্য হলো, মুখে দিতেই প্রাণ জুড়িয়ে গেল, কিন্তু তারপরই বলে ফেললাম, খাইছে আমারে! কারণ চমচমের ভেতর পাওয়া গেল একটা মরচে ধরা আলপিন!

(পুনশ্চ: আগের অফিসে আমরা মাঝে মাঝে এর-ওর বার্থডে, ম্যারেজ ডে উপলক্ষ্যে খাওয়া-দাওয়া করতাম। সেই সময়কার একটা ছবি দিলাম।)
*চা* *চিনি* *মিষ্টি* *গল্প* *জোকস* *কৌতুক*
কমেন্ট

সৌ র ভী: ‘খেয়েছি মা, তবে ভেতরে একটা বিচি ছিল, ওটা ফেলে দিয়েছি। ' (হাসি২)(হাসি২)

1421313365000 ভালো ১

আমানুল্লাহ সরকার: *চা* *চিনি* *মিষ্টি* র *গল্প* গুলি ভালভাবেই *জোকস* ও *কৌতুক* এর মাধ্যেমে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আফসোস খাওয়ার দাওয়াত পেলাম না এক দিনও...(মনখারাপ)

1421314625000 ভালো ১

রশিদা আফরোজ: বাসায় নিমন্ত্রণে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

1421474310000 ভালো ১

......: আপনার লেখাগুলো পড়তে বেশ ভাল লাগে, যাকে বলে কিনা সুখপাঠ্য... (খুকখুকহাসি)

1421738742000 ভালো ১

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত