রং নাম্বার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ছোটবেলা থেকেই মায়েরা কন্ন্যা সন্তানকে  শেখানমেয়েদের জোরে হাসতে বা কথা বলতে হয় না, মেয়েদের সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঘরে ফিরতে হয়, এই কাজ মেয়েদের না ছেলেরা করে, এতো খেলাধূলা করে কি হবে, মেয়েরা যতো যাই করুক স্বামীর সংসারই একমাত্র পথ, একজন সঠিক জীবনসঙ্গী পাওয়া অনেক জরুরী, বিয়ে না করতে সমাজ উল্টে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি

মূল কথা হচ্ছে, যদি মেয়েটিকে শিক্ষা দেয়া হয় স্বামীর ঘরই তোমার অবলম্বন তাহলে মেয়েটি নিজের আত্মপরিচয় গড়ে লাভ কোথায় হচ্ছে। আর এই ধরণের শিক্ষা দিয়ে কি মেয়েটিকে একেবারেই নিজের আত্মমর্যাদা সম্পর্কে ভুল জ্ঞান দেয়া হচ্ছে না? ‘আমি যতো যাই করি না কেন আমার ঠিকানা শুধুই আমার স্বামীর ঘর’- এমন চিন্তাধারার মেয়েটির কাছ থেকে আসলেই কি কিছু আশা করা সম্ভব? যে নারীটি ছোটবেলা থেকেই জেনে আসবেন, সমাজে তার মূল্যায়ন হবে তার স্বামীর পরিচয়ে তখন তিনি নিজের ইচ্ছায় আদৌ কি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করতে পারবেন?

মর্যাদা কেউ কাওকে ধরে এসে দিয়ে যায় না, নিজের মর্যাদার স্থান নিজেকেই গড়ে নিতে হয়। আর নারীর মর্যাদা যতোই চাওয়া হোক না কেন যদি ঘর থেকেই না দেয়া যায় তাহলে অন্য পরিবারের আরেকজন এসে মর্যাদা দেবে না। ঘরের পুত্র সন্তানটি যদি দেখতে থাকেন তার বোন অনেক কিছু থেকেই পিছিয়ে রয়েছে তখন বাইরের নারী সম্পর্কে তার ভুল ধারণা জন্মাতেই পারে। সুতরাং শুরুটা ঘরেই হওয়া উচিত।

এর জন্য মায়েদেরকেই উদ্যোগী হতে হবে। অন্তত এখনকার নারী যদি নিজের মেয়েকে ছোটো থেকেই কিছু জিনিস শিখিয়ে বড় করতে পারেন তাহলে মেয়েটিকে একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, স্বাবলম্বী পূর্ণাঙ্গ নারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

১) ‘একজন সঠিক জীবনসঙ্গী এবং স্বামীর সংসারই শেষ অবলম্বন নয় মেয়েদের জন্য, নিজে স্বাবলম্বী হওয়া জীবনের অনেক বড় একটি সফলতা’- মানুষ অন্তত বুঝবে মেয়েরাও সবকিছু করতে পারে।

২) ‘সুন্দরী হওয়ার চাইতে বুদ্ধিমতী হওয়া বেশি জরুরী’- এতে অন্তত সুন্দর হওয়ার জন্য মেয়েরা আজকাল যা শুরু করছেন ভবিষ্যতে তা আরও খারাপ অবস্থা ধারণ করবে না।

৩) ‘নারীর লজ্জা থাকা যেমন জরুরী, তেমনই জরুরী নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা’- নিজের মর্যাদা নিজে বুঝলে এবং নিজের ক্ষমতার ব্যাপারও না জানলে নারীরা নিজের জন্য ভালো মন্দ দুটোই বিচার করতে পারবেন না।

৪) ‘প্রয়োজনে গলার আওয়াজ ওঠানো নারীদের জন্য জরুরী’- মুখ বুঝে অন্যায় সহ্য করাও একধরণের পাপের পর্যায়ে পড়ে। নিজের কথা বলতে জানলে অন্তত এটা প্রকাশ পেতে থাকবে, মেয়েরাও মানুষ।

৫) ‘তুমি যা ইচ্ছা হতে পারো জীবনে’- নারীকে বলাই হয় শিক্ষিকা, ডাক্তার ও ব্যাংক কর্মকর্তা নারীর জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু একজন নারী ক্রিকেটার, ফুটবলারও হতে পারেন তা ভুলে গেলে চলবে না।

আর কেউ শেখাক বা না শেখাক আপনি অন্তত  মেয়েটিকে শিখিয়ে যান  ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল না দেখে ফুটবল খেলে আসো এবং একটি ছেলের চোখে সুন্দর হওয়ার জন্য আটা-ময়দা মেখে সেলফি না তুলে নিজের মর্যাদা বাড়ানোর জন্য নিজেকে চেনো, বুঝতে শেখো মেয়েরা মানুষ কোনো বস্তুপিণ্ড নয় যে স্বামীর ঘরের শোভা বাড়াবে।

সংগৃহীত --

লিখেছেন Kaniz DIya 


*নারী* *জীবনের-ভাবনা* *নারীমঞ্চ* *মা-মেয়ে* *প্যারেন্টিংটিপস*
কমেন্ট

দীপ্তি: *নারীমঞ্চ* *মা-মেয়ে* *প্যারেন্টিংটিপস*

1488955342000 ভালো ০

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত