বিটলা + আতেল বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

আমষ্টার্ডামের শিফল এয়ারপোর্ট সাগরের মতো। ইউরোপের ফোর্থ বিজিয়েষ্ট এয়ারপোর্ট। এখান থেকে পৃথিবীর ৩০০ এর উপর গন্তব্যে যাওয়া যায়।

প্রথম ইউরোপে এসেছি। ঢাকা থেকে মুম্বাই হয়ে শিফল। এখান থেকে ষ্টকহোম। আমার শেষ গন্তব্য। তিন ঘন্টার ব্রেক পেয়ে ঘুরে ঘুরে এয়ারপোর্ট দেখছি। দেখছি না বলে ভয়ে আছি বলা ভালো। ওয়েদারের কারণে শিফলে এক ঘন্টা সব ফ্লাইট বন্ধ ছিলো। ভয়াবহ অবস্থা। সব কিছু লেঁজে গোবরে। কখন কোন ফ্লাইট ছাড়তে পারবে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। মানুষ জন পাগলের মতো দৌড়াচ্ছে। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। একটা বিরাট লাইন দেখে দাড়িয়ে গেলাম। এক ঘন্টা পরে কাউণ্টারে পৌঁছাতে পারলাম।

 আমাকে জানানো হলো আমার রেগুলার ফ্লাইট ক্যানসেল। ৭ ঘন্টা পরে নেক্স ফ্লাইট। যেহেতু ওয়েদারের কারনে ডিলে আর আমার কোনো ট্র্যাভেল ইন্সুরেন্স নেই তাই আমার ভাগ্যে হোটেল, খাবার কিছুই নেই। দশ ইউরো’র একটা কুপন ধরিয়ে দিলো। বলে দিলো যে কোনো একটা ইজিচেয়ার খুঁজে শুয়ে বসে কাটিয়ে দাও।
আমি কুপনটা রেখে দিলাম। সারা এয়ারপোর্ট ঘুরে একটা মোটামুটি নির্জন জায়গা খুঁজে নিলাম। ব্যাকপ্যাক খুলে লাঞ্চ বক্সটা বের করলাম। ঢাকনাওয়ালা মাঝারী সাইজের বক্স। ভেতরে নুড্লস। ডিম দিয়ে বানানো। সংগে ছোট্ট একটা কাঁটা চামচ। আসার সময় ছন্দ বানিয়ে দিয়েছিলো। আমি সুইডেনে যাচ্ছি এক বছরের জন্য। এই এক বছর তার সংগে আমার আর দেখা হবে না।

এই অপরিচিত বিশাল এয়ারপোর্টে, বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দুরে একা একা বসে কাঁটা চামচ দিয়ে নুডুল্স তুললাম। আমার চোখ অহেতুক ঝাঁপসা হয়ে এলো। 

সেটা ২০০১ সালের কথা।
এই ২০১৪তে এসেও প্রতিদিন দুপুরে আমি আমার লাঞ্চ বক্স খুলি। ছন্দ'র তৈরী খাবার থাকে তাতে। একা একা লাঞ্চ সেড়ে তাকে একটা ফোন দেই।
”ছন্দ, ভালো আছো?”

পনের বছর পার হয়ে গেছে। আমাদের বিয়ে হয়েছিলো ১৯৯৯ সালের ১৩ই আগষ্ট।
ধন্যবাদ ছন্দ আমার সংগে পনেরটি বছর কাটিয়ে দেয়ার জন্য। লাঞ্চ বক্সে যে শুধু খাবার থাকেনা এই কথাটি তোমাকে কখনও বলা হয়নি। আজকে বললাম (লজ্জা)

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত