আলোকিত বাংলাদেশ: একটি বেশব্লগ লিখেছে



পরকীয়ার ব্যাপারটি বিবাহের মতই পুরোনো। আমাদের সমাজে এমন অনেকে আছেন যারা প্রতারণা করে  পরকীয়ায় জড়ান। তারা বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করার ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। পরকীয়া সম্পর্ক তারাই জড়ান যারা বাড়তি আনন্দ পেতে চায়।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সারিকা পাইলট চৌধুরী বলেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে, একটি জরিপে ৪১ শতাংশ স্বামী স্বীকার করেছেন তারা পরকীয়ায় আসক্ত। বিষয়টি একেবারেই নতুন কিছু নয়। তবে দিন দিন এর পরিমাণ বাড়ছে।   

রাহুল খান ও তার স্ত্রী খুবই সুখী দম্পতি ছিল। তাদের বোঝাপড়া চমৎকার ছিল এবং ভাবা হতো তাদের সম্পর্ক কখনো চিড় ধরবে না। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, নির্জনা নামে অন্য শহরের এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে রাহুল।

কারণ হিসেবে রাহুল বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি। কিন্তু বিয়ে হয়েছে অনেকদিন। আমাদের সম্পর্কে একঘেয়েমিতা চলে এসেছে। তাই একটু নতুনত্ব দরকার ছিল। নির্জনাও বিবাহিত। ফলে কোনো সমস্যা নেই। যখন অফিসের কাজে দূরে কোথাও যাই, তখন নির্জনা আমাকে সঙ্গ দেয়। তখন আমরা দু’জনে একান্তে সময় পার করি। ওই সময়টা আমরা খুবই উপভোগ করি।

বিশেষজ্ঞের মতামত: মনোচিকিৎসক ডা: হিমাংশু সাক্সেনা বিশ্বাস করেন, পুরুষরা প্রকৃতিগতভাবেই বহুগামী। তিনি স্বীকার করেন, এখনকার মানুষ খুব সহজেই সেক্স বিষয়ে আলাপ করতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, বৈবাহিক বিরোধ বা অমিল স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে নষ্ট করে পরকীয়ার দিকে নিয়ে যায়। পারাবারিকভাবে অনুষ্ঠিত বিয়েতে স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা একটু কম হয়। তাই তারা অনেক সময় বিকল্প খোঁজে। সাধারণত মানুষ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। যা মানুষকে আবেগ ও যৌনতার কারণে কাছে টানে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন একসাথে থাকার কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে একঘেয়েমিতা চলে আসে। তখন নতুন একজনের সঙ্গ পেলে ভালোলাগার অনুভূতি তৈরি হয়।    

অপরাধবোধ না হওয়া: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো কিছুতে ঘাটতি থাকলে অন্য কেউ তা পূরণ করে। সেটা যৌন বা মানসিক উদ্দীপনা হতে পারে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রাতুল কর্মকার। ১২ বছর হলো বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছেন। রাতুল পরকীয়ায় আসক্ত।

রাতুল তার পরকীয়া সম্পর্কের ব্যাপারে বলেন, আমি নিজেকে অপরাধী ভাবি না। আমার স্ত্রীর অভিযোগের কোনো কারণ নেই। স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য যা দরকার স্বামী হিসেবে সব দিচ্ছি। আমার ‘মেয়েবন্ধু’ আদর্শ সঙ্গী এবং প্রেয়সী। একজন মানুষ অনেককেই ভালোবাসে কিন্তু প্রত্যেককেই বিয়ে করতে পারে না। ঠিক বললাম কী না?

সুস্মিতা নামে এক নারী বলেন, এটা শুধুই শারীরিক সম্পর্কের জন্য। আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালোবাসি এবং তাকে ছাড়া আমার জীবনে অন্য কাউকে ভাবতে পারি না। দুর্ভাগ্যবশত, আমার স্বামীর যৌন ক্ষমতা কমে গেছে। আমার বয়স অনেক কম। শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া বেঁচে থাকাটা আমার জন্য অনেক কষ্টকর। তাই কেউ যদি আমার অভাব পূরণে আগহী হয়, তাহলে অবশ্যই তার সঙ্গ ভোগ করা উচিত।

যৌন আসক্ত কিছু ব্যক্তি ভাবেন, নতুন কারো সাথে যৌন সম্পর্ক মানেই হলো আরও উপভোগ্য আরও মজার।

পরিণাম কী ভাল হয়: সনু ওয়াসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, বৈবাহিক সম্পর্কে স্পন্দন আনার জন্য অন্য একটি সম্পর্ক অণুঘটক হিসেবে কাজ করে।

গণসংযোগ কর্মকর্তা অর্জুন সাহানি বলেন, মানুষ একগামী নয়। আপনি যদি মনে করেন পরকীয়ার ব্যাপারটি ঠিক আছে এবং আপনার সঙ্গীও চাচ্ছে তাহলে চালিয়ে যান। ভিন্নতা সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। সুত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ 


*পরকীয়া* *সম্পর্ক* *প্রতারণা* *মেয়েবন্ধু* *বহুগামী* *একঘেয়েমিতা*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত