shahnaz chaudhury: একটি বেশব্লগ লিখেছে

স্কুল লাইফে একবার ঠিক করলাম নিজের টাকায় আব্বাকে স্যু কিনে দেব। ঘটনা হল ক্রিকেট খেলতাম, কেডস লাগবে। বাটায় তখন পাওয়ারের এক জোড়া কেডস এসেছিল দাম পনেরশ টাকা। আবদার করে বসলাম আব্বার কাছে
- আব্বা কেডস কিনে দাও।
আমার বাবার সেদিন কেডস কিনে দেবার সামর্থ্য ছিলনা। অনেক রাগারাগি করলাম। না খেয়ে থাকলাম। আম্মা এসে বলল
- তুই জানিস তোর আব্বা গত পাচ বছরে একই জুতা পরে চালিয়ে যাচ্ছে
.
প্রচন্ড ধাক্কা লাগল কথাটা শুনে। আব্বা পাচ বছর ধরে একই স্যু পরে অফিসে যাওয়া আসা করছে। কালের বিবর্তনে যে জুতোর মিউজিয়ামে জায়গা হওয়ার কথা চার কোণা জলছাপ কাগজের দৈন্যে সে জুতা লাইফ টাইম সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে আব্বাকে।
.
আমি তখন ক্রিকেটের খেপ খেলতাম টুকটাক। ঠিক করলাম খেপ খেলে টাকা জমিয়ে আব্বা কে স্যু কিনে দেব। এক খেপে তখন বেশী না ৫০ টাকা দিত কোনটাতে খাওয়াত টাকা দিতনা। তো আমি প্রবল আগ্রহে আব্বাকে জুতা কিনে দিব বলে স্কুল ফাকি দিয়ে খেপ খেলতে লাগলাম। বয়সে কম ছিলাম বলে নিতে চাইতোনা।
.
অনেক কষ্টে খেপ খেইলা জমালাম ৬০০ টাকা। মনে তখন আনন্দ। আব্বারে ঢাকায় ফোন দিয়া বললাম
- আপনি আগামী সপ্তাহে ফেনী আসেন দরকার আছে
.
বাবারে জুতা কিনে দিবে আজ তাই খেপ খেলে জমান ৬০০ টাকা নিয়ে গর্বিত ছেলে গেল বাটার শো রুমে। জানতাম না কি অপেক্ষা করছে। ছয়শ টাকার মধ্যে জুতা পাওয়া যাবে এক জোড়াই। এদিকে আমার আবার যেগুলা পছন্দ হইছে সেগুলার দাম হাজারের উপরে। প্রচন্ড অক্ষমতায় আমি কাদতে লাগলাম। একবার মন চাইল শো রুমের ম্যানেজার কে বলি
- আঙ্কেল বাকি দিবেন মাসে মাসে কিস্তিতে শোধ করে দিব।
.
সেদিন আব্বার জন্য নিজের টাকায় জুতো কেনার স্বপ্ন আমার পূরণ হয়নি। কঠিন বাস্তবতা সেই স্কুল পড়ুয়া কিশোর কে শিখিয়ে দিয়েছিল , সাধ আর সাধ্যের মধ্যে তফাত কতটুকু।
.
.
আপনজনের জন্য মন ভরে কিছু একটা করতে পারার অক্ষমতার কষ্ট সেবারই প্রথম পেয়েছিলাম
.
বাবার ধমকে দিন শুরু করা ছেলেটারও খুব ইচ্ছা করে নিজের টাকায় এক জোড়া জুতো কিনে বাবার পায়ের কাছে বসে প্রাগৈতিহাসিক জুতোজোড়া খুলে নিজ হাতে নতুন জোড়া পরিয়ে দিয়ে বলতে
- এইবার এই জোড়াকে মুক্তি দাও
.
টানাটানির সংসারে শহরে পড়তে আসা ছেলেটারও ইচ্ছা করে এবার ঈদে বাড়ি ফেরার সময় মায়ের জন্য ভালো একটা দামী শাড়ি কিনে নিয়ে যেতে। কলিংবেল বাজানোর পর মা দরজা খুলে দেখবে তার পাগল ছেলেটা শাড়ির জমিন খুলে হাসিমুখে বলছে
- জমিন টা আমার মায়ের সরল মুখটার মত
.
বোনের আবদার মেটাতে অক্ষম ভাইটারও ইচ্ছা করে এবারের ছুটিতে একটা এন্ড্রোয়েড মোবাইল কিনে বোনের কলেজের ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখে সাথে একটা চিরকুট লিখে দিতে
- এবার থেকে দেখব হোয়াটস এপে ভাইকে কত জ্বালাতে পারিস
.
মানিব্যাগের খুচরো টাকা দিয়ে কেনা রক্তগোলাপ ছাড়া প্রেমিকাকে আর কিছু দিতে অক্ষম প্রেমিক ছেলেটারও ইচ্ছা করে এক গুচ্ছ চুড়ি না ,চকবাজার থেকে হোলসেলে চুড়ির পুরো গাট্টিটা এনে সেটাকে প্রেমিকার সামনে রেখে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলতে,
- নে পাগলী। এবার দেখব কত চুড়ি পড়তে পারিস ,আর কত চুড়ি অভিমানে ভাংতে পারিস
.
এই অক্ষম মানুষগুলোর দেয়ার ক্ষমতা হয়ত নেই ,কিন্তু পৃথিবী জেনে রাখুক তাদের ভালোবাসায় এতটুকু খাদ নেই।
.
এ পৃথিবীতে নানান রঙ্গের কষ্ট আছে। কিন্তু আপন জন কে মন ভরে না দিতে পারার মত কষ্ট কিছুতে নেই|

Written by Warish Azad Nafi

কমেন্ট

মেঘলা -মেয়ে: (জোস)

1456586893000 ভালো ০

সমুদ্র তীর: [বসন্ত-একতোড়াফুল] আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ

1456648004000 ভালো ০

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত