দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

জীবন্ত ইতিহাস ও গর্বিত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করা রংপুর কারমাইকেল কলেজ শতবর্ষে পা দিতে যাচ্ছে। ‘শতবর্ষে শত প্রাণ, ঐতিহ্যের জয়গান’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বরে দুই দিনব্যাপী জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটির শতবর্ষ উদ্যাপন করা হবে। এ জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত ৪ মে সকালে কলেজ মিলনায়তনে শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিনতে হুসাইন নাসরিন বানু।

রংপুরের জীবন্ত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর কারমাইকেল কলেজ। অবিভক্ত বাংলার যে কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপুল খ্যাতি অর্জন করেছিল তাদের মধ্যে কারমাইকেল কলেজের স্থান প্রথম সারীতে। ১৯১৬ সালে স্থাপিত এই কলেজের রয়েছে সমৃদ্ধ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। স্থাপিত হওয়ার সময় থেকেই এই কলেজ রংপুর অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক অবদান রেখে আসছে । এই কলেজ জন্ম দিয়েছে অনেক জ্ঞানী গুণী ব্যক্তির যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে রেখেছেন উজ্জ্বল ভূমিকা। এই কলেজ থেকে শিক্ষালাভ করে বহু ছাত্র পরে বিখ্যাত চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রশাসক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ রূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

কারমাইকেল কলেজে পড়েছেন সাহিত্যিক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেত্রী জাহানারা ইমাম; রাজনীতিক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ; সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, কলাম লেখক আনিসুল হক; সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বর্তমানে সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ এ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে নামকরা আরো অনেকে। অনেক ভালো ভালো শিক্ষক এ কলেজে শিক্ষাদান করতেন। কারমাইকেলের সুখ্যাতি বিস্তৃত হয়েছে বাংলার সীমানা পেরিয়ে আসাম, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ পর্যন্ত। কলেজে অনেকগুলো হোস্টেল থাকায় বৃহত্তর দিনাজপুর ও বৃহত্তর রংপুর জেলা থেকে বহু ছাত্র আসত এ কলেজে লেখাপড়া করতে।

অবিভক্ত বাংলার যে কটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিপুল খ্যাতি অর্জন করেছিল এর মধ্যে কারমাইকেল কলেজ রয়েছে প্রথম সারিতে। ইংরেজ আমলের অবিভক্ত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার ও প্রচারের জন্য অসামান্য খ্যাতির অধিকারী এই কারমাইকেল কলেজ। তত্কালীন রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চলসহ অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়ি, আসাম ও সংলগ্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। তত্কালীন সময়ে রংপুরে উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও কলেজ পর্যায়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না।

কারমাইকেল কলেজের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মনোরম। ৭০০ বিঘা জমির ওপর কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত। নিভৃত নিরালায় কারমাইকেল কলেজের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ ও সবুজ-শ্যামল মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অভিভূত করে যেকোনো মানুষকে। এই কলেজের মূল ভবন ইন্দোস্যারাসেনিক আদলে নির্মিত স্থাপত্য শিল্পের এক অপূর্ব নিদর্শন। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রিসহ ২১টি বিষয়ে সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার। দৃষ্টিনন্দন এই কলেজের দেয়াল মাটি আর প্রকৃতির সঙ্গে মিশে আছে কত শত ইতিহাস।

১৯১৬ সালের ১০ নভেম্বর তত্কালীন অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল এই ঐতিহাসিক কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আর তাঁর নামানুসারেই কলেজের নামকরণ করা হয় কারমাইকেল কলেজ। ১৯১৭ সালের জুলাই মাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই কলেজে আইএ ও বিএ ক্লাস খোলার অনুমতি দেয়। সেই থেকে প্রায় দুই বছরের জন্য কলেজটির পঠনপাঠনের কাজ চলে রংপুরের বর্তমান জেলা পরিষদ ভবনে। ১৯১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কলেজের মূল ভবনের উদ্বোধন করা হয়।

কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস ঘেঁটে পাওয়া যায় ১৯১৩ সালে তত্কালীন অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল রংপুর এলে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই এ অঞ্চলে একটি প্রথম শ্রেণির কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হয় গভর্নরকে। তিনি রংপুরের সেই নাগরিক সংবর্ধনায় সবার অনুরোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং জানিয়ে দেন এই কাজে অর্থাৎ একটি প্রথম শ্রেণির কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। তাঁর অভিমত অনুযায়ী ১৯১৩-১৪ সালে তত্কালীন রংপুর জেলা কালেক্টর জে এন গুপ্ত কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী হয়ে ওঠেন।

কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি রংপুর অঞ্চলের রাজা, জমিদার, বিত্তবান ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে সভা ডাকেন। তাঁর এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে অর্থ প্রদান করেন শীর্ষস্থানীয় জমিদাররা। অর্থ সংগ্রহের জন্য ডাকা সভায় একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল। সভায় তত্কালীন দানশীল জমিদার ও বিত্তবান ব্যক্তিরা কলেজ প্রতিষ্ঠায় কে কত টাকা দেবেন, তা মুখে বলে অঙ্গীকার এবং কাগজে লিপিবদ্ধ করেন। এ ক্ষেত্রে টেপার জমিদার তাঁর মুখে উচ্চারিত ১০ হাজার টাকা লিখতে গিয়ে টাকার অঙ্কের জায়গায় ভুল করে ডান পাশে একটি শূন্য বেশি বসিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ টাকা।

সভা শেষে সবার লিখিত টাকার অঙ্ক যখন পড়ে শোনানো হচ্ছিল তখন টেপার জমিদার অন্নদা মোহন রায় চৌধুরী বাহাদুর তাঁর অঙ্গীকারকৃত টাকার অঙ্ক শুনে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। কারো কারো মতে, তিনি মূর্ছা গিয়েছিলেন। তবে তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারকৃত টাকার অঙ্কই দান করেছিলেন। তাঁর এই দানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই কারমাইকেল কলেজে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন দর্শনীয় মূল ভবনের ঠিক মাঝের হলটি তাঁর নামানুসারে ‘অন্নদা মোহন হল’ নামকরণ করা হয়। সেখানেই কলেজ প্রতিষ্ঠায় যাঁরা অর্থ ও জমি দান করেছিলেন তাঁদের সবার নাম পাথরে খোদাই করে লেখা আছে।

২৮ জন দাতার মধ্যে সর্বপ্রথম নামটিই হলো অন্নদা মোহন রায় চৌধুরী বাহাদুর। আরো উদারহস্তে এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় দান করেন কুন্তি, কাশিমবাজার, রাধাবল্লভ, ধর্মপুর, মন্থনা, তুষভাণ্ডার, মহীপুরের পাঙ্গা, কুড়িগ্রাম, খোলাহাটি, রসুলপুর অঞ্চলের জমিদার, জোতদারসহ বিত্তবান ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিরা। কেউ নগদ অর্থ দান করেন আবার কেউবা দান করেন জমি। তবে জমি দান করার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন কুন্তির প্রসিদ্ধ জমিদার ও রংপুরের তত্কালীন সবচেয়ে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সুরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরী। তাঁরা দুই ভাইয়ের পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা নিষ্কণ্টক জমি দান করেন। ১৯১৩ সালে রংপুরে গণসংবর্ধনায় গভর্নর লর্ড কারমাইকেল তিন লাখ টাকা সংগ্রহের কথা বলেছিলেন। কিন্তু ১৯১৬ সালের মধ্যেই সংগৃহীত হয় চার লক্ষাধিক টাকা। এরপর ১৯১৬ সালের ১০ নভেম্বর অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল রংপুরে এসে কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধিভুক্ত হয়। ১৯১৭ সালে এটি আই.এ ও বি.এ শ্রেণি এবং ১৯২২ ও ১৯২৫ সালে আই.এসসি ও বি.এসসি খোলার অনুমতি লাভ করে। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলেজে ১৩টি বিষয় পড়ানো হতো। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পূর্বপর্যন্ত এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত ছিল। ১ জুলাই ১৯৬৩ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে থাকে। অতঃপর কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর আওতাভুক্ত হয়।

তখন থেকেই চারিদিকে সবুজের সমারোহের মধ্যে যেন গর্বিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্য কীর্তি কারমাইকেলে কলেজের শ্বেত শুভ্র মূল ভবন। প্রকৃতির অপরূপ শোভা, পাখ পাখালীর ডাক এবং শান্ত একটি পরিবেশ যেন অন্তরে শান্তির প্রলেপ বুলিয়ে দেয়। লালবাগ হাট থেকে একটি গেট পেরিয়ে চুন সুরকি ও সিমেন্টের সড়ক চলে গেছে কলেজের মুল ভবনে। এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে অজস্র গাছ পালা। রয়েছে কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের বিরল প্রজাতির দুটি গাছ যার বৈজ্ঞানিক নাম 'কাইজালীয়া'। জানা যায়, বিরল প্রজাতির এই গাছ পুরো উপমহাদেশে মাত্র গুটিকয়েক রয়েছে। এই সবুজ শ্যামল বিশাল প্রান্তরের বড় একটি অংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজের চারপাশে সীমানা দেওয়াল দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের দক্ষিণে রংপুর ক্যাডেট কলেজ, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজের ভূমিতে। উত্তরে ঐতিহ্যবাহী লালবাগ হাট এবং চারপাশ ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছাত্রাবাস।

লালবাগ থেকে কলেজের প্রবেশ পথে একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে কয়েক বছর আগে। আগে একই স্থানে ছিল প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের একটি গেট যা বড় লোহার চেইন দিয়ে বন্ধ করা হতো। কলেজে ঢুকতেই হাতের বামে পড়বে শিক্ষকদের আবাসিক ভবন, একটু এগিয়ে গেলে শিক্ষকদের ডরমিটরি যা হোয়াইট হাউস নামে পরিচিত। পাশেই স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কিউএ মেমোরিয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয় (কলেজ প্রাইমারী স্কুল)। এই স্কুলের পশ্চিমে রয়েছে বিরল প্রজাতির সেই গাছ। সামনের দিকে এগোলে চৌরাস্তা বা জিরো পয়েন্ট। এছাড়াও রয়েছে একটি সুদৃশ্য মসজিদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, দ্বিতল ছাত্রী বিশ্রামাগার, বিভিন্ন বিভাগীয় ভবন, ক্যান্টিন, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, শিক্ষক ডরমিটরি, সাব পোস্ট অফিস, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম (নির্মাণাধীন), একটি টালি ভবন (বিএনসিসি ও স্কাউট), ছাত্র বিশ্রামাগার, পুলিশ ফাঁড়ি,প্রশাসনিক ভবন, বিশাল দুটি খেলার মাঠ এবং বৃন্দাবন।

মূল ভবনের পূর্বে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মারক ভাস্কর্য, যা নতুন মাত্র যোগ করেছে মূল ভবনের নান্দনিকতার। দক্ষিণে শহীদ মিনার, তিন তলা বিজ্ঞান ভবন (সেকেন্ড বিল্ডিং), তিন তলা কলা ও বাণিজ্য ভবন (থার্ড বিল্ডিং), দ্বিতল রসায়ন ভবন, নানান ফুলে সুসজ্জিত একটি বাগান। রয়েছে প্রায় সত্তর হাজার বইয়ের এক বিশাল ভাণ্ডার একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। যা কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন রংপুর জেলা গ্রন্থাগার থেকে ২৫০টি বই নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। সেই সময় বাংলার বাহিরে থেকেও শিক্ষার্থীরা এই কলেজে পড়তে আসতো। এই লাইব্রেরীতে রয়েছে অসমীয় ভাষার গ্রন্থ। মূল ভবনের ঠিক মাঝে রয়েছে "আনন্দ মোহন হল"। উত্তর পশ্চিম কোনে রয়েছে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ যা বাংলা মঞ্চ নামে পরিচিত। কলেজের সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণ কেন্দ্র।

এছাড়াও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল ও কলেজ এবং কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নির্মিত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন নিয়ে সুবিশাল কলেজ ক্যাম্পাস। বাংলাদেশের কেন উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা নিকেতন এই কারমাইকেল কলেজ। কলেজের বিভিন্ন ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থান নিশ্চিত করে ধীরের ধীরে কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী তারিখে কলেজের মূল ভবনের উদ্বোধন করেন বাংলার তৎকালীন গভর্নর আর্ল অব রোনাল্ডস। ১৯৬৩ সালের ১লা জানুয়ারী কলেজটি সরকারীকরণ করা হলে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ বাড়তে থাকে। কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মূল ভবন ছাড়া তিনটি আবাসিক হল ছিল। জিএল হল (গোবিন্দ লাল হল), সিএম হল (কারমাইকেল মুসলিম হল), কেবি হল (কাশিম বাজার হল)। ছিল এক সারী টালি ঘর। পরে ১৯৬৩-৬৪ সালে ত্রিতল সেকেন্ড বিল্ডিং বা বিজ্ঞান ভবন এবং ১৯৬৭ সালে তৃতীয় ভবন নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পরে শহীদ মিনার নির্মিত হয়।

রসায়ন বিভাগ ভবনের কাজ শুরু হয় '৭৪ সালে। এম এ জি ওসমানী হল ১৯৭৭ সালে, কলেজ মসজিদ ১৯৭৮ সালে, প্রথম ছাত্রী হল বেগম রোকেয়া ছাত্রী নিবাসের কাজ শুরু হয় '৮৫-৮৬ সালে। অত্যাধুনিক মহিলা বিশ্রামাগার ৮৯-৯০ সালে, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল নির্মিত হয় ৯৬-৯৭ সালে। অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনসহ বেশ কিছু বাসা যা ইম্প্রোভাইজড বাসা হিসেবে বিবেচিত। নির্মিত হয়েছে একটি নতুন শিক্ষক ডরমেটরীসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

বর্তমানে এটি একটি স্নাতকোত্তর কলেজ যেখানে ১৫টি বিষয়ে অনার্স ও স্নাতকোত্তর (শেষপর্ব) পড়ানো হয় এবং প্রাইভেট স্নাতক (পাশ) পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। কলেজের গ্রন্থাগারটি সমৃদ্ধ। এতে লক্ষাধিক গ্রন্থ রয়েছে। প্রতিটি বিভাগের জন্য সেমিনার লাইব্রেরি (বিভাগীয় লাইব্রেরি) আছে। কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ১৫০ জন। কলেজে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ২০,০০০। বিস্তৃত পরিসর নিয়ে কলেজের অফিস রুম, কনফারেন্স রুম, শিক্ষক ক্লাব, কর্মচারীদের ক্লাব, ছাত্রছাত্রীদের পৃথক বিশ্রামাগার, ক্যান্টিন, শিক্ষকদের বাসভবন, অধ্যক্ষের বাসভবন, ৪টি একাডেমিক ভবন, শহীদ মিনার ও মসজিদ প্রতিষ্ঠিত। 

এ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার পাশাপাশি রোভার স্কাউট ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর কর্মসূচি এবং খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য সাতটি আবাসিক হলে আসনের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র এক হাজার। ছাত্রীদের জন্য তিনটি ও ছাত্রদের জন্য রয়েছে চারটি আবাসিক হল।

আবাসিক হল (ছাত্রী) : ১) তাপসী রাবেয়া হল ২) বেগম রোকেয়া হল ৩) জাহানারা ইমাম হল।

আবাসিক হল (ছাত্র) : ১) জি এল ছাত্রাবাস ২) ওসমানী ছাত্রাবাস ৩) সিএম ছাত্রাবাস ৪) কে বি ছাত্রাবাস (শুধু মাত্র হিন্দু ছাত্রদের জন্য)। সিএম হল পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তথ্যসূত্র :

বাংলাপিডিয়া
রংপুর জেলার ইতিহাস : প্রকাশক, জেলা প্রশাসন
রংপুর সংবর্তিকা : লেখক, অধ্যাপক আলীম উদ্দিন
৭৫ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা
২০০৮ সালে প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা।

*উত্তরবঙ্গ* *রংপুর* *কারমাইকেলকলেজ* *শতবর্ষ* *শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত