আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আজকে বঙ্গবাহাদুর যদি ইন্ডিয়ার হাতি না হয়ে আফ্রিকান লায়ন কিংবা এন্টার্কটিকার সাদা ভাল্লুক হতো - তাইলে দেখতেন সুশীল সমাজের কোন চুলকানি নাই।
সবাই এনিমেল রাইটস রক্ষায় ব্যস্ত -_-
লেখাগুলা তখন হইতো এইরকম - "শালার ফায়ার সার্ভিস কোন কাজই ঠিকমতো করতে পারে না। এদের বরখাস্ত করা হউক "

যেই জানা গেলো হাতির বাসস্থান ইন্ডিয়াতে - সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো উদ্ধার অভিযানে কোন কোন রিসোর্সের অপচয় হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে

 

 

একইভাবে রামপালে যদি ইন্ডিয়ার ১৩ শতাংশ বিনিয়োগ না থাকতো - তাইলে দেখতেন এইটার বিরোধিতা করার জন্য সারাদেশে ১৩ জন মানুষও খুঁজে পাওয়া যায় নাই
সবাই অন্য কোন ইস্যুতে প্রতিবাদ করতে ব্যস্ত


ব্রিটিশ আমলের ব্যান্ড মাইলসরে যখন বলা হলো, আসেন ইন্ডিয়ায়।
ট্যাকা দিবো - পারফর্ম করবেন, ব্যান্ডের সবাই এক পায়ে খাড়া
.
কিন্তু মরা ব্যান্ডের জন্য আলোচনায় আসার জন্য তো শুধু পারফর্ম করা যথেষ্ট না।
তাই ব্যান্ডের লিডার কি করলেন?
সেই ৫ বছর আগের তিস্তা ইস্যু টেনে আনলেন। ফেসবুক ওয়ালে ইন্ডিয়ারে কিছু গালি দিলেন ।
আর সবাই নাচতে নাচতে মাইলস পুজা করা শুরু করলো। দেশের নানান জায়গায় বিপ্লবী উপাধি দিয়ে তাদের কনসার্ট করতে আমন্ত্রন জানানো হইলো।
আসল বিষয়টা কারো চোখেই পড়লই না

মুটামুটি একই রকম একটা বিশৃঙ্খলা তারা তৈরি করতে চাইছিলো ১৪ সালের বিসিবি কনসার্টে। এবং সফলও হইছিলো।

সুশীল সমাজ পরবর্তীতে এইটারে ইস্যু করে স্ট্যাটাস দেওয়া শুরু করলো - যে ইন্ডিয়ান শিল্পী গান গায়, বাংলাদেশিগুলা স্টেজেই উঠতে পায় না
.
অথচ মাইসল যে আধাঘন্টা লেট করে স্টেডিয়ামে পৌছাইছে - এইটা আর কারো মাথায় ঢুকলো। শিডিউল যে ১ মাস আগে বানানো হইছে - সেটা আর কেউ চিন্তা করলো না

যাই হোক, পুরান কথা বাদ দেই।
বঙ্গবন্ধু মরছে ১৫ই আগষ্ট, বঙ্গবাহাদুর মরছে ১৬ই আগষ্ট।
হেটাররা বলবে ইন্ডিয়ার বিজয় দিবস ১৫ই আগষ্ট - তাই সব দোষ তাদের

বাট একটা বিষয় বুঝলাম না, বাংলাদেশি ফায়ার সার্ভিস তো সারাদিন বসে বসেই খায়।
তো তারা গ্রামবাসীর সহায়তায় একটা হাতি উদ্ধার করতে গেলে সবার এত জ্বলা শুরু হইলো কেন?

মানে উনারা চাচ্ছিলেন কি?
হাতি পানিতে ডুবে মারা গেলেই ভালো হতো? ইন্ডিয়ার হাতি না এসে অন্য কোন দেশ থেকে পাখি এসে আটকা পড়লে উদ্ধার অভিযান আরো জমজমাট হতো?
না ফায়ার সার্ভিস কালো পোষাক পড়ে শোক দিবস পালন করলে বেশি ভালো হতো?

 

 

এই হাতিটা কতদিন ধরে পানিতে আটকা পড়ে ছিলো, মনে আছে?
থাকার কথা না।
আমরা তো জিহাদের কথাই ভুলে গেছি।
ওইযে বাচ্চাটা পাইপের ভেতর আটকা পড়ে সারারাত ধরে মরলো। কতৃপক্ষ বললো ত্যালাপোকা
উনারা সরে যাওয়ার ১২ মিনিটের মাথায় পাবলিক ছেলেটার ডেডবডিও উদ্ধার করলো।

জ্বি ১২ মিনিটের মাথায়। বিখাউজ উনারা সাধারন পাবলিক। উনাদের কাছে ডিজিটাল আন্ডাওয়াটার ক্যামেরা নাই, যাতে মানুষের বডিকে তেলাপোকার মতো দেখায়।
উনারা ফেসবুক ছেলিব্রেটি না। জিহাদের পূর্বপুরুষ ইন্ডিয়ায় থাকতো নাকি - তা নিয়ে তারা গবেষনা করতে বসেন নাই। উনাদের মাথায় শুধু ছিলো - একটা বাচ্চা ছেলের সাহায্য দরকার।

ঠিক যেমনি একটা হাতিরও সাহায্য দরকার ছিলো।

এগুলা দেশের গৌরবাত্বক ইতিহাস বলে কথা। ভুলে যাওয়া উচিত না ব্রো


অবশ্য আমাদের আরো দরকারি কাজ আছে।
কে কার সাথে হিন্দিতে সাক্ষাৎকার দিলো - এগুলা নিয়ে ত্যানা পেচাইতেই আমাদের সময় ফুরিয়ে যায়।
ভাবটা এমন - ইংলিশে সাক্ষাৎকার দিলে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু হিন্দিতে দিলেই ভাষা শহীদদের অপমান করা হয়

অন্যান্য দেশে যেখানে দুই একটা ভাষা বেশি জানাকে প্রতিভা বলে ধরা হয়, আমাদের এখানে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

হেহেহে, সেলুকাস।।
এ জাতি বড়ই বৈচিত্রময়।

*রম্য* *রসিকতা* *হাতি* *বঙ্গবাহাদুর* *বাঙালী*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত