ফাহিম মাশরুর: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমরা যারা মানবতাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও সংখ্যালঘু নির্মূলীকরণ (Ethnic cleansing) ক্রাইসিস হিসাবে দেখছি তারা কি এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কৌশলগত ভাবে কোনো চিন্তাশীল উদ্যোগ নিচ্ছি? শুধু ফেসবুকে নির্মমতার নিউজ শেয়ার করলেই কি কোনো কিছু পাল্টাবে?

দুটি চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে এই নির্মমতা থামানোর জন্য আদৌ কোনো ধরণের অবদান রাখার জন্যI 

১/ প্রথমটি অভ্যন্তরীণ - আমাদের দেশে এখনো অনেক লোক মনে করে রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বোঝা, শুধু বোঝা না- এরা মূলধারা সমাজের সাথে মিশে অনেক ধরণের ক্ষতি করছেI এই ধারণার পিছনে অনেক ফ্যাক্টও আছেI কিন্তু তাদেরকে বোঝাতে হবে যে কোনো কোনো রোহিঙ্গার খারাপ কাজের জন্য সব রোহিঙ্গাদের ঢালাওভাবে সন্ত্রাসী বলা অমানবিকI ৭১-এ বাংলাদেশের অনেক শরণার্থী কলকাতায় অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছিল, তার পরেও মানবিক কারণে পশ্চিম বাংলার জনগোষ্ঠী আমাদের শরণার্থীদের গ্রহণ করেছিল, ফিরিয়ে দেয় নিI ইউরোপে সন্ত্রাসী আক্রমণের হুমকির মুখেও জার্মানি লাখ লাখ সিরিয়ার শরণার্থীকে গ্রহণ করেছে মানবিক কারণেI আমরা যদি নিজেদের মানবিক বলে দাবি করি, তাহলে এই অসহায় মানুষগুলিকে (যার বেশির ভাগই নারী ও শিশু) ফিরিয়ে দিতে পারি নাI 

২/ দ্বিতীয়টি আন্তর্জাতিক- যদিও গত কয়েকদিনে পশ্চিমা মিডিয়ায় রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের খবর আসছে (অনেক দেরিতে হলেও), তারপরেও আন্তর্জাতিক মহলে একটি ধারণা আছে যে রোহিঙ্গারা একটি সন্ত্রাসী ও বিছন্নতাবাদী গোষ্ঠী- এবং এই সমস্যা মায়ানমার সরকারের একটি অভ্যন্তরীন ব্যাপারI আমরা সবাই জানি এই ধরণের 'পার্সেপশনের'-এর পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও কূটনৈতিক প্রভাবI সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রতিবেশী দুটি বৃহৎ রাষ্ট্র (চীন ও ভারত) নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে মায়ানমার সরকারের এই নির্মমতার বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থেকে এর বৈধতা তৈরী করে দিচ্ছে (দুটি প্রাসঙ্গিক লিংক দিলাম শেষে)I 

যদিও এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা নেবার কথা (জাতিসংঘ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাবহার করে, বা ভারত- চীনের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে), তারপরেও আমরা দেখছি আমার কাছে মনে হয় সরকার এই ব্যাপারে কি ভূমিকা নিবে তার সম্পর্কে নিশ্চিত নাI 

এই প্রেক্ষিতে আমাদের সমাজের মানবতাবাদীদের কি করার আছে? প্রথমত দেশের ভিতরে এবং বাহিরে জনমত তৈরী করাI দেশের ভিতরে হয়তো হয়েছে, কিন্তু বাহিরে যথেষ্ট হয়েছে বলে মনে হয় নাI আমার কাছে মনে হয় আমাদের দেশের যে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী পশ্চিমা বিশ্বে অবস্থান করছে, তাদের প্রগতিশীল অংশের (ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী) একটি বড় ভূমিকা নেবার সময় এসেছেI দেশের ভিতরের থেকে বাহিরের লোকেরা সেই সমাজের এবং সেই সকল দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সাথে বেশি সংযুক্তI তাদের প্রধান কাজ হবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাI 

পরিশেষে বলতে চাই - রোহিঙ্গা সমস্যা একটি মানবিক সমস্যাI এটিকে শুধু ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে আসুন মানবিক দৃষ্টিতে দেখিI 

http://www.prothom-alo.com/…/ar…/1311996/রোহিঙ্গা-নিয়ে-দুই-‘বড়-ভাইয়ের’-ভাবনা-কী

http://www.ndtv.com/…/exclusive-government-s-doublespeak-on…

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত