জন্ম নিয়ন্ত্রণ

জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে কি ভাবছো?

শান্তা: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খেতে ভুলে গেলে কী করণীয়?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*জন্মনিয়ন্ত্রণ* *হেলথটিপস*

খুশি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি সমূহ কি কি? কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে ভাল হবে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*পরিবারপরিকল্পনা* *হেলথটিপস* *জন্মনিয়ন্ত্রণ*

Dipti: একটি বেশব্লগ লিখেছে

জন্মনিয়ন্ত্রণের অনেক রকমের পদ্ধতি আছে। এক এক জন এক একটা বেছে নেন। সাধারণত ছেলেরা যদি কনডম ব্যবহার না করে তাহলে প্রথম বাচ্চা হওয়ার আগে মেয়েদের কখনই ডাক্তার কোনো দীর্ঘ জন্মনিয়ন্ত্র পদ্ধতি, ইমপ্লান্ট পদ্ধতি গ্রহণে নিষেধ করেন | তখন অন্য যেকোনো কন্ট্রাসেপশন পদ্ধতির চেয়ে মেয়েদের প্রথমেই মনে আসে পিলের কথা। কিন্তু পিল নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। তাঁরা মূলত পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে চিন্তায় পড়ে যান। পিল খেলেই যে সমস্যা হবে না, তা কিন্তু নয়। আবার পিল থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না, এটা ভাবাও অমূলক। কী ধরনের পিল আপনার জন্য উপযুক্ত, তা আপনার ডাক্তারই বলতে পারবেন। অনেকে আবার পিল খেতে ভুলে যান। সেটাও সমস্যা। মোট কথা, কী ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেছে নেবেন, তা স্থির করতেই অনেকে সমস্যায় পড়ে যান। কাছের কোনও বন্ধুর পরামর্শই তখন শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তা সব সময় ফলপ্রসূ হয় না। অথচ জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্বন্ধে জানার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে অনেকেই চান না। সব মিলিয়ে সদা সর্বদা আতঙ্ক ঘিরে থাকে। কিন্তু কন্ট্রাসেপশনের পদ্ধতিগুলো সম্বন্ধে বিশদে জানা থাকলে, আর সঙ্গে নিজের শরীর সম্বন্ধে ধারণা থাকলে আপনি নিজেই আপনার কন্ট্রাসেপশন পদ্ধতিটি বেছে নিতে পারবেন। কন্ট্রাসেপশনের জন্য শারীরিক দিক দিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ ন্যাচারাল কন্ট্রাসেপশন। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যেমন কোনও ঝামেলা নেই, তেমনই পরবর্তীতে গর্ভসঞ্চার স্বাভাবিকভাবে হওয়ার হারও বাড়ে। বাড়তি পাওনা হিসেবে এটি নিবিড় ভাবে অনুশীলন করতে করতে দম্পতি নিজের শরীর ও গর্ভসঞ্চার সম্পর্কেও জেনে যান।

ক্যালেন্ডার পদ্ধতি

পরবর্তী পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১২ থেকে ১৬ দিন আগে ওভ্যুলেশন হয়। ঠিক এই সময়টা সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। কবে মাসের ওই নির্দিষ্ট দিন ক’টা আসছে, তা ক্যালেন্ডারের সাহায্যে হিসেব রাখতে হবে। এই পদ্ধতি তাঁরাই অবলম্বন করতে পারেন, যাঁদের পিরিয়ড নিয়মিত হয়। তবে খুব নিঁখুত ভাবে হিসেব রাখতে না পারলে কিন্তু এই পদ্ধতি কাজ করবে না।

টেম্পারেচার মেথড

এতে এক জন মহিলাকে রোজ নিজের তাপমাত্রা মাপতে হবে। তাতে ধরা পড়বে বেজাল বডি টেম্পারেচর। ওভ্যুলেশন হলে এই তাপমাত্রা সামান্য কমে। পরবর্তী পিরিয়ড শুরু হওয়া পর্যন্ত এটি ০.২ থেকে ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়বে।

এতে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় শরীরের তাপমাত্রা নিতে হবে। সেটা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হলে সবচেয়ে ভাল। তা হলে ব্যাপারটি নিয়মিত হতে থাকে। যাঁরা আইটি সেক্টরের মতো জায়গায় বা অন্য কোথাও নাইট ডিউটি করেন, তাঁরা সন্ধেবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর পরই মাপবেন। তাপমাত্রা মাপার আগে কিছু খাওয়া বা পান করা যাবে না। তাতে তাপমাত্রার হেরফের হবে। এর জন্য বিশেষ ধরনের ওভ্যুলেশন থার্মোমিটার ব্যবহার করতে হয়। কোথায় পাবেন তা আপনার চিকিৎসকই বলে দেবেন। আর ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার করলে ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে ফল জানা যাবে। মুখে মাপলে ৫ মিনিট সময় লাগে। যোনিদ্বার বা পায়ুদ্বারে মাপলে ৩ মিনিট। পিরিয়ড শুরু হওয়ার দিন থেকে তাপমাত্রার রেকর্ড রাখতে হয়। যে দিন দেখবেন তাপমাত্রা বাড়ছে আর পরবর্তী ৩ দিনও বর্ধিত অবস্থায় রয়ে গেছে, তবে বুঝবেন ভয় কাটল। অর্থাৎ ওভ্যুলেশন পর্ব সে মাসের মতো শেষ। তখন দম্পতি পরবর্তী পিরিয়ড শুরুর আগে পর্যন্ত কোনও সুরক্ষা ছাড়াই যৌনমিলন করতে পারেন।

অসুবিধে
বেজাল বডি টেম্পারেচার কিন্তু অন্য নানা কারণেও বাড়তে পারে। যেমন অসুস্থতা, ঘুমের ব্যাঘাত, স্ট্রেস কোহল সেবন ও অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ খেলে।

আর এই পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় সহবাস থেকে বিরত থাকতে হয়। কারণ এই পদ্ধতি কেবল ওভ্যুলেশন পরবর্তী সময়কেই নির্দেশ করে। সে সময়ই কোনও রকম সুরক্ষা না নিয়ে নিশ্চিন্তে সহবাস করতে পারবেন।

সুবিধে
যে সব মহিলার পিরিয়ড অনিয়মিত, তাঁদের ওভ্যুলেশনের সময় নির্ণয় করা যায়। এটা সম্পূর্ণ এক জন মহিলার নিয়ন্ত্রণাধীন, এই পদ্ধতি এক দিকে যেমন কন্ট্রাসেপশনে সাহায্য করে তেমনই এর সাহায্যে গর্ভসঞ্চারেও সুবিধে হয়।

সার্ভাইকাল মিউকাস পদ্ধতি

সার্ভাইকাল মিউকাস মেথড যাঁরা অনুসরণ করেন তাঁদের প্রতি দিন নিজের জরায়ুমুখের মিউকাস বা আঠালো পদার্থ নিরীক্ষণ করতে হয়। চটচটে এই তরল পিরিয়ডের নানা পর্বে চরিত্র বদলায়।

পিরিয়ডের ঠিক পরেই এর মাত্রা থাকে অল্প। একে বলে ড্রাই। প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কম থাকায় এমন হয়। এ বার ডিম্বাণু যত পরিপক্ক হতে থাকে, হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, মিউকাসের পরিমাণও বাড়ে। তা থেকেই বোঝা যায় ফার্টাইল বা গর্ভসঞ্চারের সময়। সে সময় দুই আঙুলে অনুভব করলে দেখবেন মিউকাস এতটাই আঠালো যে ছিন্ন হচ্ছে না। অনেকটা কাঁচা ডিমের সাদা অংশের মতো। এমন মিউকাস পাওয়ার শেষ দিনকে বলে পিক মিউকাস ডে। এর ৪ দিন পর থেকে মিউকাসের চরিত্র বদলায়। তখন তা প্রচণ্ড চটচটে, ঘন ও অস্বচ্ছ হয়ে ওঠে। এটা ইনফার্টাইল মিউকাস। ডিম্বাণু নিঃসরণের সঙ্গে সঙ্গে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে বলেই এমন হয়।

কী ভাবে মাপবেন?
দিনের বিভিন্ন সময়ে টয়লেট পেপারে এটি সংগ্রহ করতে হবে। নয়তো যোনিপথে আঙুল ঢুকিয়ে এর চরিত্র বুঝতে হবে। এই পদ্ধতির অসুবিধে হল এটি শিখতেই অনেক সময় লেগে যায়। যোনিপথে সংক্রমণও হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তর ছুঁতেও কারও কারও অস্বস্তি হয় I  


*জন্মনিয়ন্ত্রণ* *নারীস্বাস্থ্য*

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফ্যামিলি প্ল্যানিং করা বেশ সুবিধাজনক। তিনভাবে ন্যাচারাল ফ্যামিলি প্ল্যানিং করা যায়। তার মধ্যে সেফ পিরিয়ড গণনা করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কাপলের জন্য বেশ আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। এ পদ্ধতিতে মহিলাদের পিরিয়ডের নিরাপদ সময় গণনা করা হয়।

সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার আগের নয়দিন, মাসিকের দিনগুলো এবং মাসিক পরবর্তী চারদিন নিরাপদ সময়ের অন্তর্গত। এ সময়ে দৈহিক মিলন হলেও গর্ভপাত সঞ্চারণের কোনো ঝুঁকি থাকে না। উল্লেখ্য, পিরিয়ডের সময় দৈহিক মিলন ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও এটা গ্রহণযোগ্য নয়। সে কারণে মাসিক শুরুর আগের নয়দিন এবং মাসিক পরবর্তী চারদিনেই সেফ পিরিয়ড বা নিরাপদ সময় হিসেবে গণ্য করতে হবে। অঙ্কের হিসেবেও নিরাপদ সময় বের করা যায়। ধরুন ২৮ দিন পরপর আপনার নিয়মিত মাসিক হয়। ২৮ থেকে প্রথমে ১৮ এবং পরে ১০ বাদ দিন (২৮-১৮=১০ এবং ২৮-১০=১৮)। অর্থাৎ মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকে নবম দিন পর্যন্ত আপনি নিরাপদ, দশম দিন থেকে ১৮তম দিন পর্যন্ত আপনি ঝুঁকিপূর্ণ এবং আবার ১৯তম দিন থেকে ২৮তম দিন পর্যন্ত আপনি নিরাপদ। অনেকের অনিয়মিত মাসিক হয়। ধরুন কোনো মাসে ৪৫ দিন পর এবং অন্য মাসে ২৬ দিন পর হয়। সে ক্ষেত্রে ৪৫ থেকে ১০ বাদ দিন (৪৫-১০=৩৫) এবং ২৬ থেকে ১৮ বাদ দিন (২৬-১৮=৮) অর্থাৎ মাসিক চক্রের অষ্টম দিন থেকে ৩৫তম দিন পর্যন্ত আপনি ঝঁকির মধ্যে থাকবেন। বাকি সময় মোটামুটি নিরাপদ।

ন্যাচারাল ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে মহিলাদের দৈহিক তাপমাত্রা মেপে নিরাপদ সময় বের করা। এ ক্ষেত্রে ভোরবেলা বিছানা ত্যাগের আগ মুহূর্তে মহিলাদের দৈহিক তাপমাত্রা (দথঢ়থল দসনী য়পশহপড়থয়ৎড়প) রেকর্ড করা হয়। মাসিক চক্রের প্রথমার্ধে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। পরে আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ০.২ থেকে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। ডিম্বাণু পরিস্ফুটনের সময় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পায়। এ সময়টা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধির তিনদিন পর আবার দৈহিক মিলন শুরু করতে পারেন।

ন্যাচারাল ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের সর্বশেষ পদ্ধতি হচ্ছে জরায়ু মুখের মিউকাস পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বের করা। এ পদ্ধতিতে একজন মহিলা আঙুলের সাহায্যে তার জরায়ু মুখের মিউকাস বা নিঃসৃত রস পরীক্ষা করবে। ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে মিউকাসের পরিমাণ ও ঘনত্ব বাড়তে থাকে। সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছানোর পর আস্তে আস্তে মিউকাসের পরিমাণ ও ঘনত্ব কমে যায়। প্রজেস্টেরন হরমোনের প্রভাব এমনটা হয়ে থাকে এবং মাসিক শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করে। মিউকাসের ঘনত্ব ও পরিমাণ সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছানোর চারদিন পর থেকে দৈহিক সম্পর্ক শুরু করা যেতে পারে।

ন্যাচারাল ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের উপকারিতা
এ পদ্ধতিতে হরমোন ট্যাবলেট বা কোনো ডিভাইস ব্যবহার করতে হয় না। কোনো কোনো ধর্মে এ জাতীয় জিনিস ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। তাই তাদের ক্ষেত্রে ন্যাচারাল ফ্যামিলি প্ল্যানিংই একমাত্র পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাছাড়া যারা সন্তান নিতে চান তাদেরও নিরাপদ সময় ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কেননা একমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের দৈহিক সম্পর্ক আপনাকে পিতৃত্ব কিংবা মাতৃত্বের স্বাদ এনে দিতে পারে।

ন্যাচারালফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের অসুবিধাঃ
প্রায় ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যর্থ।
যাদের অনিয়মিত মাসিক হয় তাদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

-মূল: স্বাস্থ্য বাংলা

*ফ্যামিলিপ্ল্যানিং* *জানুন* *জন্মনিয়ন্ত্রণ*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 পিল ব্যবহারের ফলে জ্বর আসলে কি সারভাইক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে ?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*পিল* *জন্মনিয়ন্ত্রণ* *প্রেগন্যান্সি* *নারীস্বাস্থ্য* *স্বাস্থ্যঝুঁকি*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★