অলিন আরজু

@allinarzoo

বোকা মানুষ অথবা রোদে পোড়া বৃষ্টিতে ভেজা একা কাক
business_center প্রফেশনাল তথ্য নেই
school এডুকেশনাল তথ্য নেই
location_on লোকেশন পাওয়া যায়নি
1374430682000  থেকে আমাদের সাথে আছে

অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

আমাদের চিন্তা ভাবনা গুলো মাছের টুকরো আর পারিপার্শিকতা কড়াইয়ের মত | অন্যের কাছে উপস্থাপন মানেই এপাশ ওপাশ তেলে ভেজে নেয়া, নিজের মতাদর্শকে ভিন্ন আঙ্গিকে যাচাই করে নেয়া, নতুন ভাবে চিন্তা করার উপাদান সৃষ্টি করা | আত্মদর্শন উপস্থাপন করা আর প্রতিষ্টিত করার মাঝে রাত দিন তফাত, ইদানিং আমরা উপস্থাপনের সাথে সাথেই সেটাকে প্রতিষ্টিত করতে ব্যস্ত হয়ে পরি এবং ভিন্ন আঙ্গিক গুলো কে বর্জন ও কটাক্ষ করি |

এদিকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এতটাই বদলে গেছে যে আমরা সবাই হয়ে গেছি ডিমের মত | সমাজের সর্বদিক থেকে উত্তাপ উত্তাপ, ফাটে না ফোটে না গলে না ভাঙ্গে না , আমরা কেবলই সেদ্ধ হই, সিদ্ধ আর হই না ! সুক্ষ অনুভুতি গুলো এখন স্থুল আর স্থুল অনুভুতি গুলো নোংরা | আমিও সমাজ ব্যবস্থার অংশ কিন্তু যুদ্ধ করি, অঘোষিত | প্রত্যেকটা ঘটনার পর হিসাব করি কি শিখলাম, কি বুঝলাম, কতটুকু বদলালাম !  শীতবস্ত্র দেয়ার জন্য দুধকুমার নদ পার হবার সময় নৌকায় বসে ভাবছিলাম কেন যাচ্ছি? কি হচ্ছে ? আমার উদ্দেশ্য কি ?

নিজেকে প্রাধান্য দিয়ে প্রথম দৃষ্টি ভঙ্গি :
নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, ভ্রমন, আড্ডা, ছুটি, আত্মতৃপ্তি = আমি স্বার্থপর
নিজেকে প্রাধান্য না দিয়ে দ্বিতীয় দৃষ্টি ভঙ্গি:
সহমর্মিতা, মানবিকতা, মানবকল্যাণ, আত্মতৃপ্তি = আমি স্বার্থপর

অবশেষে শিখলাম , বুঝলাম , নিজের যুক্তি নিজেই খন্ডন করলাম:
মনুষ মাত্রই স্বার্থপর, যেটা বিবেচ্য সেটা হলো স্বার্থপরতার ব্যপ্তি | স্বার্থপর না হলে তার ব্যপ্তি বাড়াব কি করে? আমার নিজেরই অক্ষর জ্ঞান না থাকে, কি করে আরেকজনকে শেখাবো ! নিজের স্বার্থপরতার ব্যপ্তি বাড়ানোর আগে দরকার শিক্ষা, নিজেকে শিক্ষিত করা , নিজের আত্মার উন্নতি সাধন | নিজের আত্মার উন্নয়নের সাথে সাথে অন্যের আত্মিক উন্নতি সাধনে সহায়তা করা | যে কোনো উন্নয়ন কে একটা একক ধরে অনেক গুলো উন্নয়ন হবার পর যা দাঁড়ায় সেটা উন্নতি | এই উন্নয়ন ধাপে ধাপে না হয়ে সামগ্রিক এবং সমসাময়িক ভাবে হতে হবে | খুব অবাক হলাম ভেবে যে এ কারণেই আমাদেরকে স্কুলে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক সমসাময়িক ভাবে পড়ানো হয় | বাংলা বই শেষ করে ইংরেজি বা ইংরেজি বই শেষ করে অঙ্ক নয়!

এর পাশাপাশি কিছু মানুষকে জানলাম, দেখলাম তারা কত অদ্ভুত সহনশীল !
কোন আচরণ অন্য মানুষকে আঘাত করে |
কি "না" করা উচিত এর লিস্ট একটু বড় হলো !
যুক্তিহীন স্নেহশীলতা দেখলাম, অনাকাংখিত সম্মান পেলাম !
একটা ছোট্ট ক্লাসরুম কে মনে হলো "এখানেই শুরু হতে পারে, এখানেই !"

একটা জানালা দিয়ে উকি দিতে গিয়ে , বিস্তৃত প্রান্তরের মুখোমুখি হলাম !

বি: দ্র: সমূহ জটিল রচনা |

অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

৩১ অক্টোবর  বিকাল ৪ঃ৩০ টার সময় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে আমরা বেশতো পরিবারের কিছু সদস্য মিলিত হয়।শীতবস্ত্র বিতরন কার্যক্রম কিভাবে করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করবো বলে।

মিটিং এ গৃহিত কিছু প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়......

১।আমরা সবাই একমত হয়েছি যে এবার গতবারের থেকেও ব্যাপক আকারে এই শীতবস্ত্র বিতরন কার্যক্রম চালাবো।

২। আমরা সবাই মিলে অনলাইনে এবং অফলাইনে এই প্রজেক্টের প্রমোশনের জন্য কাজ করবো। যত বেশী মানুষকে আমাদের এই কাজে সম্পৃক্ত করা যাবে ততোই আমাদের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

৩। কন্ট্রিবিউশনের ব্যাপারে কোন বাধা ধরা লিমিট নেই। সবাই যার যার ইচ্ছে মত কন্ট্রিবিউশন করবে।

৪। আমরা এবার ফান্ড কালেকশনের জন্য দুটি বিকাশ এ্যাকাউন্ট আর দুটি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যাবহার করবো এবং সবার সুবিধার্থে একটা হটলাইন নম্বরও থাকবে যা আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।

৫। আমরা পুরো নভেম্বর জুড়ে ফান্ড কালেকশন করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমাদের বিতরণ কার্যক্রম শেষ করবো। কোথায় বিতরণ করবো সেটা আরো পরে ঠিক করা হবে পারিপার্শ্বিক সব কিছু বিবেচনা করে।

আমাদের কাজের জন্য ২ টা বিকাশ,একটা ডিবিবিএল ও একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়।

আমরা ওই দিন থেকে আমাদের কাজ শুরু করলাম.........১৮ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ফান্ডে জমা হয়েছে ৪০০০০ এর একটু বেশি।

পরবর্তীতে ১৮ তারিখে নর্থ এন্ড কফি সপে আবার আমরা মিটিং এর আয়োজন করি।উক্ত মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,যে ভাবেই সম্ভব ফান্ড বাড়েতে হবে। শাহ্ আরাফাত হোসাইন ভাই আমাদের কিছু সুন্দর দিক নির্দেশনা দেয়।

 ২৭শে নভেম্বর রোজ শুক্রবার বিকেল ৪ ঘটিকায় আমরা সবাই খিলগাঁও ( আপন কফি শপ) এর সামনে মিলিত হব সর্ব মোট কত ফান্ডে জমা হল......আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমাদের ফান্ডে ১১৫০০০ জমা হবে যায়।

২৮ তারিখ কেনাকাটা ৩৫০ কম্বল কেনা হয়।এবং ৩ ডিসেম্বর  তারিখে 336 পিস কান টুপি,206 পিস মাফলার কেনা হয়।

৫ তারিখে আমরা ৮ জনের একটা গ্রুপ কুড়িগ্রামের পথে যাত্রা শুরু করি।

কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর ইউনিয়ন, ব্রহ্মপুত্র নদের উপনদ দুধকুমার পার হয়ে ৩০ মিনিট পায়ে হেঁটে পৌছালাম চরের মধ্যে অবস্থিত একটি স্কুলের মাঠে |

ওখানকার স্বেচ্ছা সেবকদের সাহায্যে সুশৃংখল ভাবে হয়ে গেল আমাদের এবারের শীতবস্ত্র বিতরণ |
প্রাপ্ত বয়স্কদের দেয়া হলো ৩৫০ টি কম্বল,৩৩৬ কান টুপি আর ২০৬ মাফলার  বিতরণ করি।

ফিরে এসে সেদিন রাতে আমরা সবাই অনেক ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়েছি | ঘুম ভেঙ্গে মনে হলো, ৩৫০ টা কম্বলের নিচে অনেক গুলো মানুষ ঘুমিয়েছে শান্তিতে , উষ্ণতায় ! যে যেখান থেকে, যে অবস্থায়, যতটুকু সম্পৃক্ত ছিলেন সবাইকে সেই উষ্ণতা ছুয়ে যাক! 


অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

আমাদের চিন্তা ভাবনা গুলো মাছের টুকরো আর পারিপার্শিকতা কড়াইয়ের মত | অন্যের কাছে উপস্থাপন মানেই এপাশ ওপাশ তেলে ভেজে নেয়া, নিজের মতাদর্শকে ভিন্ন আঙ্গিকে যাচাই করে নেয়া, নতুন ভাবে চিন্তা করার উপাদান সৃষ্টি করা | আত্মদর্শন উপস্থাপন করা আর প্রতিষ্টিত করার মাঝে রাত দিন তফাত, ইদানিং আমরা উপস্থাপনের সাথে সাথেই সেটাকে প্রতিষ্টিত করতে ব্যস্ত হয়ে পরি এবং ভিন্ন আঙ্গিক গুলো কে বর্জন ও কটাক্ষ করি |

এদিকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এতটাই বদলে গেছে যে আমরা সবাই হয়ে গেছি ডিমের মত | সমাজের সর্বদিক থেকে উত্তাপ উত্তাপ, ফাটে না ফোটে না গলে না ভাঙ্গে না , আমরা কেবলই সেদ্ধ হই, সিদ্ধ আর হই না ! সুক্ষ অনুভুতি গুলো এখন স্থুল আর স্থুল অনুভুতি গুলো নোংরা | আমিও সমাজ ব্যবস্থার অংশ কিন্তু যুদ্ধ করি, অঘোষিত | প্রত্যেকটা ঘটনার পর হিসাব করি কি শিখলাম, কি বুঝলাম, কতটুকু বদলালাম !  শীতবস্ত্র দেয়ার জন্য দুধকুমার নদ পার হবার সময় নৌকায় বসে ভাবছিলাম কেন যাচ্ছি? কি হচ্ছে ? আমার উদ্দেশ্য কি ?

নিজেকে প্রাধান্য দিয়ে প্রথম দৃষ্টি ভঙ্গি :
নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, ভ্রমন, আড্ডা, ছুটি, আত্মতৃপ্তি = আমি স্বার্থপর
নিজেকে প্রাধান্য না দিয়ে দ্বিতীয় দৃষ্টি ভঙ্গি:
সহমর্মিতা, মানবিকতা, মানবকল্যাণ, আত্মতৃপ্তি = আমি স্বার্থপর

অবশেষে শিখলাম , বুঝলাম , নিজের যুক্তি নিজেই খন্ডন করলাম:
মনুষ মাত্রই স্বার্থপর, যেটা বিবেচ্য সেটা হলো স্বার্থপরতার ব্যপ্তি | স্বার্থপর না হলে তার ব্যপ্তি বাড়াব কি করে? আমার নিজেরই অক্ষর জ্ঞান না থাকে, কি করে আরেকজনকে শেখাবো ! নিজের স্বার্থপরতার ব্যপ্তি বাড়ানোর আগে দরকার শিক্ষা, নিজেকে শিক্ষিত করা , নিজের আত্মার উন্নতি সাধন | নিজের আত্মার উন্নয়নের সাথে সাথে অন্যের আত্মিক উন্নতি সাধনে সহায়তা করা | যে কোনো উন্নয়ন কে একটা একক ধরে অনেক গুলো উন্নয়ন হবার পর যা দাঁড়ায় সেটা উন্নতি | এই উন্নয়ন ধাপে ধাপে না হয়ে সামগ্রিক এবং সমসাময়িক ভাবে হতে হবে | খুব অবাক হলাম ভেবে যে এ কারণেই আমাদেরকে স্কুলে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক সমসাময়িক ভাবে পড়ানো হয় | বাংলা বই শেষ করে ইংরেজি বা ইংরেজি বই শেষ করে অঙ্ক নয়!

এর পাশাপাশি কিছু মানুষকে জানলাম, দেখলাম তারা কত অদ্ভুত সহনশীল !
কোন আচরণ অন্য মানুষকে আঘাত করে |
কি "না" করা উচিত এর লিস্ট একটু বড় হলো !
যুক্তিহীন স্নেহশীলতা দেখলাম, অনাকাংখিত সম্মান পেলাম !
একটা ছোট্ট ক্লাসরুম কে মনে হলো "এখানেই শুরু হতে পারে, এখানেই !"

একটা জানালা দিয়ে উকি দিতে গিয়ে , বিস্তৃত প্রান্তরের মুখোমুখি হলাম !

বি: দ্র: সমূহ জটিল রচনা |

অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে



গত বারের মত এই বারও আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়েছি কিছু মানুষকে   এই শীতে একটু উষ্ণতা দিতে - বলতেই হচ্ছে আমাদের, আপনাদের সকালের চেষ্টায় আমরা পেরেছি কিছু মানুষের হাতে গরম কাপড় তুলে দিতে !
আমাদের এই বারের গন্তব্য ছিলো কুড়িগ্রামের এক প্রত্যন্ত চরে - কুড়িগ্রাম সদর থেকে প্রথমে কম্বল সহ পিকাপে যাত্রা তার পর নৌকা পার হয়ে বালির ওপর দিয়ে হেটে চলা - স্থানীয় স্কুল মাঠে বৃদ্ধ, বাচ্চা কে ছিলো না ! কম্বলের পাশাপাশি মাফলার আর কানটুপি তুলে দেয়া হয় অপেক্ষারত মানুষগুলোর মাঝে, বাচ্চাগুলোর মুখের হাসি এখনো চোখে লেগে আছে ! অনেক কষ্টের পর তৃপ্তি পেয়েছি - চরে হাটতে গিয়ে ছবির শোলার বেড়ায় দেখলাম জীর্ণ কথা আর জোড়া তালি দেয়া আর একটি তোষক, অবাক হয়ে ভাবলাম এই কাথা দিয়ে কি শীত দূর হয় !!! ভেবে ভালো লাগলো আজ রাতে এই ঘরের মানুষ গুলো নতুন কম্বলের নিচে শান্তির ঘুম দিবে - এই মানুষ গুলোর দোয়া আমাদের সবার ওপর ঝরে পরুক এবং আগামী বার যদি আমরা আবার এই এলাকায় যাই তবে এই শোলার বেড়ায় যেন আমাদের কম্বল রোদে দেয়া থাকে (খুকখুকহাসি)

আরো একটি প্রাপ্তি আছে আমি আমার শৈশব দেখতে পেয়েছি এক পিচ্চির চাহনি আর চেহারায় - মনে হয়েছে
ছোট্ট আমি স্কুলএর বেঞ্চএ বসে আছি !
সব শেষে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি ভালো কিছু করার - আপনাদের আমদের সবার প্রচেষ্টায়ই আমরা আরো ভালো কাজ করতে পারি - যা আমাদের দিতে পারে তৃপ্তি আর কিছু সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে দিতে পারে একটু আরাম আর সচ্ছলতা ! এগিয়ে আসুন আপনার চারপাশের মানুষগুলোর অভাব, না পাওয়া আর কষ্ট গুলো দূর করার জন্যে-  আপনার আমার আইডিয়া আর শ্রম দিয়েই আমরা পারবো ভালো কিছু করতে   !
 

অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে



গত বারের মত এই বারও আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়েছি কিছু মানুষকে   এই শীতে একটু উষ্ণতা দিতে - বলতেই হচ্ছে আমাদের, আপনাদের সকালের চেষ্টায় আমরা পেরেছি কিছু মানুষের হাতে গরম কাপড় তুলে দিতে !
আমাদের এই বারের গন্তব্য ছিলো কুড়িগ্রামের এক প্রত্যন্ত চরে - কুড়িগ্রাম সদর থেকে প্রথমে কম্বল সহ পিকাপে যাত্রা তার পর নৌকা পার হয়ে বালির ওপর দিয়ে হেটে চলা - স্থানীয় স্কুল মাঠে বৃদ্ধ, বাচ্চা কে ছিলো না ! কম্বলের পাশাপাশি মাফলার আর কানটুপি তুলে দেয়া হয় অপেক্ষারত মানুষগুলোর মাঝে, বাচ্চাগুলোর মুখের হাসি এখনো চোখে লেগে আছে ! অনেক কষ্টের পর তৃপ্তি পেয়েছি - চরে হাটতে গিয়ে ছবির শোলার বেড়ায় দেখলাম জীর্ণ কথা আর জোড়া তালি দেয়া আর একটি তোষক, অবাক হয়ে ভাবলাম এই কাথা দিয়ে কি শীত দূর হয় !!! ভেবে ভালো লাগলো আজ রাতে এই ঘরের মানুষ গুলো নতুন কম্বলের নিচে শান্তির ঘুম দিবে - এই মানুষ গুলোর দোয়া আমাদের সবার ওপর ঝরে পরুক এবং আগামী বার যদি আমরা আবার এই এলাকায় যাই তবে এই শোলার বেড়ায় যেন আমাদের কম্বল রোদে দেয়া থাকে (খুকখুকহাসি)

আরো একটি প্রাপ্তি আছে আমি আমার শৈশব দেখতে পেয়েছি এক পিচ্চির চাহনি আর চেহারায় - মনে হয়েছে
ছোট্ট আমি স্কুলএর বেঞ্চএ বসে আছি !
সব শেষে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি ভালো কিছু করার - আপনাদের আমদের সবার প্রচেষ্টায়ই আমরা আরো ভালো কাজ করতে পারি - যা আমাদের দিতে পারে তৃপ্তি আর কিছু সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে দিতে পারে একটু আরাম আর সচ্ছলতা ! এগিয়ে আসুন আপনার চারপাশের মানুষগুলোর অভাব, না পাওয়া আর কষ্ট গুলো দূর করার জন্যে-  আপনার আমার আইডিয়া আর শ্রম দিয়েই আমরা পারবো ভালো কিছু করতে   !
 

অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

৬ ডিসেম্বর ২০১৫, রবিবার |

কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর ইউনিয়ন, ব্রহ্মপুত্র নদের উপনদ দুধকুমার পার হয়ে ৩০ মিনিট পায়ে হেঁটে পৌছালাম চরের মধ্যে অবস্থিত একটি স্কুলের মাঠে |



ওখানকার স্বেচ্ছা সেবকদের সাহায্যে সুশৃংখল ভাবে হয়ে গেল আমাদের এবারের শীতবস্ত্র বিতরণ |
প্রাপ্ত বয়স্কদের দেয়া হলো ৩৫০ টি কম্বল, ২০০ কান টুপি আর ২০০ মাফলার |



ক্লাস ভর্তি প্রথম আর দ্বিতীয় শ্রেনীর কিচিরমিচির করা বাচ্চা গুলোকে দেয়া হলো ১০০ রঙিন কান টুপি |



ফিরে এসে সেদিন রাতে আমরা সবাই অনেক ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়েছি | ঘুম ভেঙ্গে মনে হলো, ৩৫০ টা কম্বলের নিচে অনেক গুলো মানুষ ঘুমিয়েছে শান্তিতে , উষ্ণতায় ! যে যেখান থেকে, যে অবস্থায়, যতটুকু সম্পৃক্ত ছিলেন সবাইকে সেই উষ্ণতা ছুয়ে যাক!

অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

সন ২০১৪, নভেম্বর মাসে বেশতোতে শীতবস্ত্র প্রদান নিয়ে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বেশতো পরিবারের সকলের সতুস্ফুর্ত অংশগ্রহন এবং বেশতোর বাহিরের অনেকের সহযোগিতায় আমরা সবাই মিলে ছোট পরিসরে হলেও কিছু মানুষের পাশে থাকতে পেরেছি। ঢাকার বাহিরে রাজশাহীর গোদাগারী গ্রামে ( সবধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট পাবার কারণে) এবং ঢাকাতে শক্তি বিদ্যালয়ের পাঁচটি শাখায় আমরা কিছু মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

বিকাশ ও ব্যাংক এ্যাকাউন্ট মিলিয়ে আমাদের সর্বমোট সংগ্রহ দাড়িয়েছিল ৯০ হাজার টাকা।

আমাদের কার্যক্রমের প্রথম অংশে আমরা ৫ই ডিসেম্বর রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪০ কিমিঃ দূরে গোদাগাড়ী থানার জগপুর নামের একটি গ্রামে।   ১২০ পিস কম্বল, ১২০ পিস কানটুপি আর ১২০ পিস মাফলার বিতরন করি। আমাদের এই ত্রান ওই গ্রামের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে বিতরন করা হয় যার মধ্যে বেশ কিছু সাওতাল পরিবারও ছিল।

পরবর্তিতে ১৩ই ডিসেম্বর ঢাকার “শক্তি বিদ্যালয়” এর ৫টি (কড়াইল বস্তি, মিরপুর-১, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও দয়াগঞ্জ) শাখার ২৩৫ জন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আরো ১৫০টি সোয়েটার ২৪০টি কানটুপি ও ১২০ জোড়া মোজা বিতরন করা হয়। উল্লেখ্য এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বয়স ৬ থেকে ১১ বছরের মধ্যে এবং সবাই বস্তিবাসি ও ছিন্নমূল পরিবারের সন্তান।

কম্বলগুলো আমরা অর্ডার দিয়ে বানানো হয়েছিল, আর বাকিগুলো মার্কেট থেকে কেনা হয়েছিল।  

রাজশাহীতে যেখানে আমরা বিতরণ করেছি, সেখানে পুর্নাজ্ঞ সহযোগিতা করেছেন আতিক ভাই, উনার পুরোপরিবার, সাদিয়া আপু। সাথে ছিলেন আতিক ভাইয়ের বন্ধু, রিঙ্কু। আতিক ভাইয়ের সাথে এখনও কথা হয় আমার, উনি এখনো আমাদের সবাইকে ধন্যবাদ দেন আমাদের এই পাশে থাকার জন্য, ধন্যবাদ দেয় গ্রামের সেই সাধারণ মানুষগুলো, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে যে কম্বল দিয়েছেন আমরা ৫-৬ বছর এমনিতেই ব্যবহার করতে পারব। আমাদের ইচ্ছেটাই ছিল কম মানুষকে দিলেও আমরা ভালো কিছু দেবার চেষ্টা করব যেন উনারা অনেক বছর সেগুলো ব্যবহার করতে পারে।

ঢাকাতে শক্তি বিদ্যালয়ের যে বাচ্চাগুলোর পাশে আমরা থাকার চেষ্টা করেছি, আমাদের প্রধান ইচ্ছেটাই ছিল তাদের শিক্ষার প্রতি আরো আগ্রহ তৈরী করার ও নিয়মিত স্কুলে যাবার প্রতি আগ্রহ তৈরী করার।  

প্রথমবারের সকলের সহযোগিতায় সফলভাবে শীতবস্ত্র কার্যক্রম সম্পন্ন হবার কারণে বেশতো পরিবারের সবাই আমরা উদ্যোগ নেই আম বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার, ২০১৫ সালে আমরা শক্তি বিদ্যালয়ের বাচ্চাদেরকে সফলভাবে আম বিতরণ করতে সক্ষম হই।

সেই আত্মবিশ্বাসেই এবারেও শীতবস্ত্র কার্যক্রম শুরু করা আমাদের সবার। এবারের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের শীতবস্ত্র কার্যক্রমের বেঁচে যাওয়া ৩৫ টাকা ও আম বিতরণ কার্যক্রমের ২৫০০ টাকা দিয়ে। গতবারের মত না হলেও যারা সত্যিকার ভাবে মন থেকে অর্থ, পোশাক, প্রদানের মাধ্যমে নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবে অনলাইন ও অফলাইনে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, এই কার্যক্রম কে সফল করতে সাপোর্ট করে যাচ্ছেন  তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমি আমার অবস্থান থেকে (একজন মানুষ হিসেবে)। 

গতদুবারের কার্যক্রমের একজন সাধারণ ভলেন্টিয়ার হিসেবে থেকে আমি দেখেছি কার্যক্রমগুলোর সবকিছুই ওপেন ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে সবক্ষেত্রে, কোনো লুকোচুরির বিষয় ছিলনা। যারা পাশে ছিলেন তাদের প্রত্যেকের পাশাপাশি যারা সরাসরি কার্যক্রমে কাজ করেছেন  তাদের প্রত্যেকের নিয়ত সৎ ছিল বলেই কার্যক্রমগুলো সফল হয়েছে এবং এটুকু বলতে পারি আল্লাহ সহায় থাকলে ইনশা আল্লাহ এবারও সফল হবে।

আরেকটি বিষয় শেয়ার না করলেই নয়, কোনো পরিবার কে গড়ে তোলা, ( অন্তত সেই পরিবারের একজন বা দুজন, যিনি আগামীতে সেই পরিবারকে গড়ে তুলবেন)  কাওকে পুর্নাজ্ঞভাবে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব নেয়া, কোনো ভালো কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অন্যান্য সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থ ও সরাসরি কাজ করে যাওয়ার বিষয়টিও খুব জরুরি। প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য নিয়মিত ফান্ডের সংগ্রহ করারও অনেক প্রয়োজনীয়তা আছে। ইনশা আল্লাহ ধীরে ধীরে এগুলোও সম্ভব হয়ে উঠবে যদি সবাই মন থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ও পাশে থাকেন। সম্মিলিত চেষ্টার ফল হিসেবে দেশে ও বাহিরে অনেক নিদর্শন রয়েছে, তাদের মত করে আমরাও পারব সবাই মিলে যদি মন থেকে একসাথে মিলেমিশে এই যাত্রাকে ধরে রাখতে পারি এবং সামনে এগিয়ে নিতে পারি।   

ভালো থাকবেন সবাই, ভালো কাটুক সবসময়।   

 



             

      

ছবি

অলিন আরজু ফটোটি শেয়ার করেছে

সকল বেশতো বন্ধুদের উদ্দেশ্যে একটি মানবিক আবেদন

(ভাষণ) বেশতো পরিবারের সকল বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলছি..(ভাষণ) গত বছরের ন্যায় এবারো *শীতার্তদের-জন্য* শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী নিয়ে বেশতো ইউজাররা কাজ করছে । তোমরা কেন চুপ করে থাকবে ? তোমরাও তোমাদের স্থান থেকে যতদূর সম্ভব কাজ কর। তোমরা চাইলেই পারো কিছু শীতার্ত মানুষের কষ্ট নিবারন করতে। বেশতো পরিবার অনেক বড়, সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু সহায়তা করো আমরা এবারো অনেক মানুষকে উষ্ণতা দিতে পারবো (খুকখুকহাসি) তোমাদের যেকোন ধরনের সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- (নিচেদেখ) #বিকাশ নম্বর: ০১৯১২৫৬২০৭২ (পার্সোনাল) #বিকাশ নম্বর: ০১৮২০৫৮২৬৩৬ (পার্সোনাল) #ডাচ বাংলা মোবাইল একাউন্ট ০১৬৭৪৫৬৫৮৯৮০ #ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নং- Name of the Account: MD. YASEEN KHAN Account No: 105 -101 -70249 Dutch-Bangla Bank Ltd Foreign Exchange Br. Motijheel, Dhaka. ##হটলাইন -০১৯১২৫৬২০৭২ (যেকোন প্রয়োজনে) বি: দ্র: তোমরা আর্থিক সাহায্য ছাড়াও ব্যবহার উপযোগী শীতের কাপড় হটলাইনে ফোন করে পাঠিয়ে দিতে পারো । তোমাদের আশেপাশের মানুষদেরকেও আমাদের কাজের কথা বলবে..তারাও যেন তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় । (খুকখুকহাসি)

অলিন আরজু: মাঝ রাতে জোছনা হয়ে চাদটা খোজার চেস্টা করি

অলিন আরজু: দিন দিন একটু একটু করে শীত বাড়ছে, বাড়বে। সাথে সাথেই বেড়ে যাবে শীতার্ত মানুষের কষ্ট । শীত বেশি বেড়ে যাবার আগেই চেষ্টা করি না তাদের জন্য সামান্য কিছু করতে, অন্তত একজন মানুষের শীতের কষ্ট একটু কমানোর চেষ্টা করতে, খুব তো কঠিন না, চাইলেই তো পারি হয়ত খুব সামান্য করি, অল্প অল্প করেই তো বড় কিছু হয়।

*শীতার্তদের-জন্য*

অলিন আরজু: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শীত আসছে, বিভিন্ন দোকানে শীতের নতুন নতুন কাপড়, নতুন নতুন ডিজাইন। আমার জনৈক বন্ধু আজই কয়েকটা শীতের কাপড় কিনলো যদিও ওর অনেক গুলো আছে কিন্তু নতুন ডিজাইন বলে কথা!
আমার জ্যাকেটের ডিজাইন বেশ পুরোনো হয়ে গ্যাছে, ভাবছি নতুন ডিজাইনের একটা জ্যাকেট কিনবো।
হঠাৎ মনে হলো আমরা নতুন জামা কিনতে চাইছি কারণ আমাদের কাছে থাকা জামা গুলোর ডিজাইন পুরোনো হয়ে গেছে কিন্তু আমাদের আশেপাশেই এমন অনেকে আছে যাদের কাছে আমাদের পুরোনো ডিজাইনের জামা গুলোই স্বর্গ হাতে পাওয়ার মতো। এমন অনেকেই আছে যাদের এবারের শীতও কাটবে ছেড়া জামা পরে।
আচ্ছা আশেপাশে এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের রেখে শীতের নতুন জামা পরতে আমাদের বিবেকে কি একটুও বাধবে না?
আমি জানি আমাদের অনেকেরই বিবেকে বাধবে তাই আমরা চেষ্টা করছি শীতার্তের জন্য কিছু করার ।
আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় যদি একটা মানুষেরও শীতের কষ্ট কমে তাহলেই আমরা সার্থক। আর এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে অনেকের সামান্য সহযোগিতা অনেক বড় করে তুলতে পারে। যত সমান্যই হোক আমরা সবার সাহায্য চাইছি।

আমাদের কে আর্থিক সাহায্য পাঠানোর বিস্তারিত --
বিকাশ নম্বর: ০১৯১২৫৬২০৭২ (পার্সোনাল)
বিকাশ নম্বর: ০১৮২০৫৮২৬৩৬ (পার্সোনাল)
ডাচ বাংলা মোবাইল একাউন্ট নম্বর: ০১৬৭৪৫৬৫৮৯৮০

ব্যাংক এ্যাকাউন্ট ডিটেইলসঃ
Name of the Account: MD. YASEEN KHAN
Account No: 105 - 101 - 70249
Dutch-Bangla Bank Ltd
Foreign Exchange Br.
Motijheel, Dhaka.
যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৯১২৫৬২০৭২
*শীতার্তদের-জন্য*
ছবি

অলিন আরজু ফটোটি শেয়ার করেছে

সকল বেশতো বন্ধুদের উদ্দেশ্যে একটি মানবিক আবেদন

(ভাষণ) বেশতো পরিবারের সকল বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলছি..(ভাষণ) গত বছরের ন্যায় এবারো *শীতার্তদের-জন্য* শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী নিয়ে বেশতো ইউজাররা কাজ করছে । তোমরা কেন চুপ করে থাকবে ? তোমরাও তোমাদের স্থান থেকে যতদূর সম্ভব কাজ কর। তোমরা চাইলেই পারো কিছু শীতার্ত মানুষের কষ্ট নিবারন করতে। বেশতো পরিবার অনেক বড়, সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু সহায়তা করো আমরা এবারো অনেক মানুষকে উষ্ণতা দিতে পারবো (খুকখুকহাসি) তোমাদের যেকোন ধরনের সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- (নিচেদেখ) #বিকাশ নম্বর: ০১৯১২৫৬২০৭২ (পার্সোনাল) #বিকাশ নম্বর: ০১৮২০৫৮২৬৩৬ (পার্সোনাল) #ডাচ বাংলা মোবাইল একাউন্ট ০১৬৭৪৫৬৫৮৯৮০ #ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নং- Name of the Account: MD. YASEEN KHAN Account No: 105 -101 -70249 Dutch-Bangla Bank Ltd Foreign Exchange Br. Motijheel, Dhaka. ##হটলাইন -০১৯১২৫৬২০৭২ (যেকোন প্রয়োজনে) বি: দ্র: তোমরা আর্থিক সাহায্য ছাড়াও ব্যবহার উপযোগী শীতের কাপড় হটলাইনে ফোন করে পাঠিয়ে দিতে পারো । তোমাদের আশেপাশের মানুষদেরকেও আমাদের কাজের কথা বলবে..তারাও যেন তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় । (খুকখুকহাসি)

অলিন আরজু: একটি বেশব্লগ লিখেছে

হঠাৎ শীতটা বেশ জাকিয়ে আসলো আর আমার পা পড়লো চট্টগ্রামে। শহরটা আমার বেশ পছন্দ, মাঝে মাঝেই অফিসের কাজে আসতে হয় এখানে । অবশ্য এবার আসার ইচ্ছে ছিলোনা একদমই। মানিব্যাগের স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাচ্ছে না আজকাল, তারপর আবার মাসের শেষ। বাস থেকে নেমে কিছুদূর যেতেই আবিষ্কার করলাম, খারাপ স্বাস্থ্য নিয়ে বহুদিন আমার সাথে থাকা মানিব্যাগটা নেই! সামান্য কিছু টাকা কাঁধের ব্যাগে ছিলো বলে রক্ষা কিন্তু তা দিয়ে কিভাবে চলবো সেটা ভেবে কিছুক্ষণ চুল ছিঁড়লাম। তারপর ভাবলাম সস্তা হোটেলে উঠবো, খাবো সস্তা খাবার। রাগ ও দুঃখে অনেক ক্ষণ মন খারাপ করে থেকে রাতের খাবার খেতে গেলাম। খাবার খেয়ে স্বভাবমত ভুঁড়ি উচু করে রাস্তায় হাঁটছি এমন সময় খেয়াল করলাম ফুটপাথের পাশে এক বৃদ্ধা পাতলা কাঁথা নিয়ে শোবার আয়োজন করছে। এত ঠাণ্ডার ভেতর বৃদ্ধা ছেড়া একটা কাথা নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছে ব্যাপারটা খুব করুণ। ব্যাপারটা অসম্ভব করুণ হয়ে যায় যখন দেখি বৃদ্ধা শীতে কাঁপছেন । ব্যাপারটা ঠিক হজম করতে পারলাম না। খালি সেই বৃদ্ধার কথা মনে হতে লাগলো। রাতে কম্বল নিয়ে ঘুমাতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিলো ঐ বৃদ্ধার ফুটপাথে ছেড়া কাঁথা নিয়ে ঘুমাবার কথা। প্রচন্ড অপরাধবোধ কাজ করছিলো কোনো অপরাধ না করেই। পরদিন বিকেলে দিনের কাজ শেষে মনে হলো আমার এই কয়েকদিন কিভাবে যাবে সেটা জানিনা কিন্তু এই অপরাধবোধ থেকে আগে বাঁচতে হবে। যে অল্পকিছু টাকা ছিলো তার প্রায় পুরোটা দিয়েই একটা কম্বল কিনলাম সেই বৃদ্ধার জন্য। মনে হচ্ছিলো তার শীতের যন্ত্রনা একটু কমলে হয়তো আমার এই অপরাধবোধও কিছুটা কমবে।

রাতেরবেলা সেই ফুটপাথের পাশে অপেক্ষা করতে থাকলাম বৃদ্ধার জন্য। ভেবে বেশ ভালো লাগছিলো কম্বলটা পাওয়ার পর বৃদ্ধার অনুভূতি কেমন হবে। হঠাৎ খেয়াল করলাম বেশ কিছু সময় কেটে গেলেও বৃদ্ধা আসছেননা। অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করেও বৃদ্ধার দেখা পেলামনা। পুরো রাস্তার ঘুরলাম, আসে পাশের রাস্তা গুলোতেও খুঁজলাম কিন্তু তাকে কোথাও পেলাম না। অনেকক্ষণ খোঁজার পর একসময় ব্যার্থ মনে হোটেল রুমে ফিরে গেলাম। খুব বেশি মন-খারাপ লাগছিলো।

পরের দিন রাতে আবার বের হলাম সেই বৃদ্ধার সন্ধানে, কিন্তু কোথাও পেলামনা তাকে। অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করলাম, অনেক ক্ষণ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরলাম কিন্তু কোঁথায় সে? আমি চট্টগ্রামে আরো পাঁচ দিন ছিলাম, প্রতি রাতেই কম্বল নিয়ে বৃদ্ধাকে খুঁজতে বের হতাম, যদি তাকে পাই।

কাউকে মন থেকে কিছু দিতে চেয়েও দিতে না পারার কষ্টটা খুব গভীর। সেই কষ্ট নিয়েই ঢাকা ফিরে আসলাম।

(শীতরাতের অপরাধবোধ নামে এই গল্পটা আগেও পোষ্ট করেছিলাম যা আমার জীবনের এক সত্য ঘটনা । আজও প্রায়ই আমি সেই অপরাধবোধে ভুগি। আসলে আমাদের সবার ভেতরেই এমন কিছু অপরাধবোধ বা ব্যাথা থাকে । সেই সাথে আমাদের ভেতর কিছু দ্বায়িত্ববোধ থাকে । সেই দ্বায়িত্ববোধ থেকে আমরা দাড়াতে চাই শীতার্তদের পাশে, আর সাথে চাই আপনাকে, তোমাকে ও তোকে ।
আমাদের আর্থিক সাহায্য পাঠানোর জন্য
--বিকাশ নম্বর: ০১৯১২৫৬২০৭২ (পার্সোনাল)
বিকাশ নম্বর: ০১৮২০৫৮২৬৩৬ (পার্সোনাল)
ডাচ বাংলা মোবাইল একাউন্ট নম্বর: ০১৬৭৪৫৬৫৮৯৮০
ব্যাংক এ্যাকাউন্ট ডিটেইলসঃ
Name of the Account: MD. YASEEN KHAN
Account No: 105 - 101 - 70249
Dutch-Bangla Bank Ltd
Foreign Exchange Br.
Motijheel, Dhaka.
যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৯১২৫৬২০৭২।
আশা করি আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টা বড় কিছুতে রূপান্তরিত হবে।

*শীতার্তদের-জন্য*

অলিন আরজু বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

 সাহায্য নয় দায়িত্ব পালুন করুন
একটি পথশিশু, শুয়ে আছে ফুটপাথে।
ছেলেটি রাস্তার পাশে হাজারো কোলাহলের
মাঝেই দিব্যি ঘুম দিচ্ছে। মাথার নিচে বালিশের কাজ করছে নিজের ছোট্ট হাতটি। আমি তো টানা ৫ মিনিট  হাতের ওপর মাথা রেখে শুতে গেলেই হাত
ব্যাথা করে,ঝিরঝির করে। ও কিভাবে পারে?

এইসব না খেয়ে না পড়ে থাকা পথশিশুগুলি দিনে-রাতে আমাদের সামনে এসে যখন হাত পেতে দাঁড়ায়, কিংবা জামা-কাপড় ধরে টানাটানি করে,ওদেরও নিশ্চয়ই ভালো লাগে না। ভালো লাগে না ওদের ফিরিয়ে দিতেও। কিন্তু, বাস্তবতা হল, এরাই একদিন
খিদের জ্বালা সইতে না পেরে একসময় সমাজের বোঝা থেকে শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। এদের এই পরিণতির জন্য আমরা নিজেরাও দায়ী।

কেননা...
আমরা ওদের মানুষ করতে পারিনি।
শীতের আগমনী বার্তা চলে এসেছে, কিন্তু আমরা কি কিছু করেছি তাদের জন্য? আমাদের কি কোনই দায়বদ্ধতা নেই? ওরা ত আমরাই আজকে ওর জায়গায় আমি নিজেও থাকতে পারতাম। শীতের কনকনে কষ্টে যখন রুম হিটারে বসে থাকেন তখন তারা এক টুকরা কাপড়ের অভাবে শীতের সাথে যুদ্ধে রত থাকে। আসুননা এবার একটা চাদর/জ্যাকেট/বাহারি কোরট না কম কিনে ওদের কে গিফট করি। বেশতো তে কত্ত ইউজার সবাই যদি একটু করেও সাহায্য করেন তাহলে অনেক শিশুর একটি শীত একটু ভাল কাটবে।

 আপনাদের নিজেরদের দায়িত্ব ওদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবার। আর বেশি সময় নেই নিজের বিবেক টাকে একটু জাগ্রত করুন। যে যেভাবেই পারবেন কাপড় বা আর্থিকভভাবে সহায়তা করুন। মানুষ কে খুশি করার মত এহেন করম / তৃপ্তি ইহজগতে নেই। আসুন আমরা বেশতো পরিবার এক প্ল্যাটফর্ম থেকে সুবিধা বঞ্চিতদের একটু সুবিধা দেই। মনে রাখবেন ওরাই আমরা। 

মনে রাখবেন একদিন বার্গার না খেলে একদিন মোবাইল রিচার্জ না করলে একদিন বিলাসিতা কম করলে একদম মানুষ সানন্দ্যে থাকতে পারবে।  আমাদের দেশ,আমাদের শিশু আগামির ভবিষ্যৎ,  এদের দেখভাল করার দায়িত্ব আপনার উপরেও বর্তায়। আপনারা  উপরের নিয়মে সাহায্য করতে পারেন। 
সাহায্য নয় দায়িত্ব পালুন করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
২,৬২১

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

+ আরও