Preview
প্রশ্ন করুন

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

( ২ টি উত্তর আছে )

( ২,৩৩৯ বার দেখা হয়েছে)

Mahi Rudro  আমি আমার মতই।

মহাগুরু

চীনের মহাপ্রাচীর (The Great Wall of China) পাথর ও মাটি দিয়ে তৈরি দীর্ঘ প্রাচীর সারি। খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতক থেকে খ্রিস্টীয় ১৬শ শতক পর্যন্ত চীনের উত্তর সীমান্ত রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়। মহাপ্রাচীর-টির মোট দৈর্ঘ্য ২১,১৯৬ কিলোমিটার (১৩,১৭১ মাইল)। খ্রিস্টপূর্ব ২২০-২০৬ অব্দের দিকে চীনের প্রথম সম্রাট “ছিন শিহুয়াং” প্রাচীরটি নির্মাণ করেন। . খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম থেকে পঞ্চম শতাব্দী সময়কালে ছিন, ওয়েই, ঝাঁও, ছি, ইয়ান এবং জংশেন সব রাজ্যই তাদের নিজস্ব সীমানাকে রক্ষা করতে বিশাল বিশাল দুর্গ নির্মাণ করে। ওই দেয়ালগুলো মাটি ও নুড়িপাথরের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করে বোর্ড ফ্রেমের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। চীনের রাজা ঝেং (ছিন শিহুয়াং) খ্রিস্টপূর্ব ২২১ অব্দে একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার সাম্রাজ্যকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার জন্যে আগেকার সীমানা বিভক্তকারী দেয়ালগুলো ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। তিনি উত্তরদিকের দুর্গগুলো সংযোগ করতে আরও দেয়াল তৈরির নির্দেশ দেন। ধারণা করা হয় ১০ লক্ষ শ্রমিক এটি নির্মাণের জন্যে কাজ করেছে এবং প্রায় ৩ লক্ষ শ্রমিক নির্মাণের সময় জীবন দিয়েছিলো। অনেক ত্যাগের পর হান, সুই এবং উত্তরের রাজ্যগুলির দেয়াল মেরামত, পুনর্নির্মাণ বা বর্ধিত করে মহাপ্রাচীরকে উত্তরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার উপযোগী করা হয়। . চতুর্দশ শতাব্দীতে মিং-দের শাসনামলে মঙ্গোলীয়দের হাত থেকে বাঁচার জন্যে মিং-রা হোয়াংহো নদীকে বাদ রেখে দক্ষিণ প্রান্তের মরু এলাকার দিকে দেয়াল নির্মাণ করে। পানি মিশ্রিত মাটির পরিবর্তে ইট এবং পাথর ব্যবহারের কারণে দেয়ালগুলো মজবুত হয়। . বেইজিং রক্ষাকারী দেয়ালটি ৭.৮ মিটার (২৬ ফুট) উঁচু এবং ৫ মিটার (১৬ ফুট) প্রশস্ত। জিনশাংলিং-এর মহাপ্রাচীরটি ধাপ ধাপ ঢালবিশিষ্ট। এটি ১১ কিলোমিটার (৬.৮ মাইল) লম্বা, উচ্চতা ৫ থেকে ৮ মিটার (১৬ থেকে ২৬ ফুট) এবং উপরে ৫ মিটার (১৬ ফুট) জুড়ে সংকীর্ণ আর নিচের অংশটি ৬ মিটার (২০ ফুট) জুড়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে পাহাড়, গর্ত আর নদী দ্বারা আবৃত নতুন অংশ আবিষ্কৃত হয় ইনফ্রারেড ফাইন্ডার এবিং জিপিএস যন্ত্র দ্বারা। এই অংশগুলো মিং-দের শাসনামলে নির্মিত হয় বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের মার্চ এবং এপ্রিলে নয়টি অংশ আবিষ্কৃত হয় যার মোট দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটারের অধিক। . প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার পর্যটক চীনের মহাপ্রাচীর পরিদর্শনে আসেন। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

গাজী আজিজ  বাংলাদেশের বোকাসোকা একজন মানুষ। ।

মহাগুরু

রথম খ্রীষ্টপূর্ব ২২০-২০৬ এর সময়ে ছিন সাম্রাজ্যর সম্রাট ছিন শ্রি হুয়াং অল্প কিছু জায়গা জুড়ে চীনের উত্তর দিকে নির্মাণ করেন মহাপ্রাচীর । যা সাধারণত পাথর ও কাদায় তৈরী ছিল । এরপর বাকি ছয়টি চীনা উপসাম্রাজ্য তাদের নিজেদের সীমানা সম্প্রসারণ করে । চীনের ভৌগলিক সীমানার উত্তর দিকে ও ততকালীন মঙ্গোলিয়ান এর দক্ষিন দিকের সীমান্তে যাযাবর মঙ্গোলিয়ানরা প্রায় ২ হাজার বছর ধরে চীনাদের বসতবাড়িতে হানা দিত , আগুন ধরিয়ে দিত , লুট করত ফসল , খাবার , আর অর্থকড়ি । মূলত মঙ্গোলিয়ানদের বিরান ভুখন্ডতে খাদ্যের অভাব এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করে । সেপটেম্বর ১৫৫০ , ততকালীন মিং সাম্রাজ্যের রাজধানী বেইজিং । মঙ্গোলিয়ান যাযাবর জাতির নেতা চেঙ্গিস খান এর উত্তরসূরী দারাই সুং গুদেনখান। শান্ত চীনা ভূখন্ডে একদিন হুট করে আক্রমন করে বসে অস্ত্রসজ্জিত ক্ষুধার্ত মঙ্গলিয়ানরা । রাজধানীর ৭০ মাইল দূরের জনপদে চলে গণহত্যা , লুণ্ঠন , আর যুদ্ধবন্দী করার নির্মমতা । এটি ছিল মঙ্গোলিয়ানদের সবথেকে ভয়াবহ আক্রমণ । প্রায় এক মাস ধংস্বযজ্ঞ চালিয়ে অক্টোবর ১৫, ১৫৫০, মঙ্গোলীয়ানরা ফিরে যায় নিজেদের জায়গায় । বেইজিং এর যুদ্ধমন্ত্রীকে তার ব্যর্থতা ও যুদ্ধ না করে পালানোর অপরাধে শিরশ্ছেদ করা হয় রাজপ্রাসাদে সবার সামনে । সেই সময় নতুন মুখ হিসাবে দেখা যায় চৌকস সেনা অফিসারকে । ২৩ বছর বয়সী , ছি চি গুয়াং। সে এই ধংস্বজজ্ঞ দেখে মঙ্গোলীয়ানদের রুখে দাড়ানোর পরিকল্পনা শুরু করে । ২ হাজার বছর ধরে বারে বারে এই মঙ্গোলিয়ান জাতি আত্রমন করে আসছিল চায়নার মূল ভূখন্ডর উত্তর দিকের কয়েক হাজার মাইল এলাকায় , সেই এলাকাতে সে স্থায়ী সমাধানের ধারণা আনে যা সম্রাটের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না । তাকে পাঠানো হয় জাপানীজদের আক্রমণ প্রতিহত করতে । নিজের চেষ্টায় তিনি গ্রামের কৃষকদের স্বদেশ বাঁচানোর লড়াই তে সৈনিক হিসাবে দাড় করান । তার নিজস্ব সৈন্যবাহিনী আত্মপ্রকাশ করে । জাপানীজদের সাথে কয়েকটা যুদ্ধে জয়লাভ করে … এর ১৭ বছর পর, জাপানীজদের সাথে বীরত্বের জন্য ছি চি গুয়াং কে সেনাপ্রধান করা হয় । তার পদ জেনারেল । ঠিক সেই সময় আবার মঙ্গোলিয়ানদের আক্রমণের আশংকা তৈরী হয় । তখনকার সম্রাটকে দ্বিতীয়বার মঙ্গোলিয়ানদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মহাপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলা হয় । তার শত্রুদের প্রচুর বিরোধীতা সত্ত্বেও সম্রাট তাকে মহাপ্রাচীর তৈরীর অনুমতি দেন ।


অথবা,