Preview
প্রশ্ন করুন
রিলেটেড কিছু বিষয়

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

Preview যখন ফ্রিজ ছিল না, তখন কোরবানির মাংস কিভাবে সংরক্ষণ করা হতো?

*কোরবানিরমাংস* *মাংসসংরক্ষণ* *গৃহস্থালিটিপস*
( ৭ টি উত্তর আছে )

( ১,৫৯০ বার দেখা হয়েছে)

Lutfun Nessa  সবই অনিশ্চিত, মরিব এটা নিশ্চিত:(

মহাগুরু

যখন গ্রামে ফ্রিজ ছিলোনা তখন ও দাদিকে দুইভাবে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করতে দেখেছি: 

  • হারমুক্ত মাংস সামান্য হলুদ ও গরম মসলা দিয়ে তেলে তিন চার্ দিন পর্যন্ত হালকা আঁচে ভেজে টিনের কৌটায় রেখে দিতো,,, কদিন পর পর রোদে দিতো ....... এভাবেই বেশ কিছু দিন মাংস ভালো থাকতো (জানিনা স্বাস্থসম্মত কিনা)...............
  • বাঁশের কঞ্চি  নারকেলের শলার মত চেকন করে কেটে হার ও চর্বি বিহীন  মাংস তার মধ্যে গেঁথে রোদে শুকাতো কয়েকদিন -- যতক্ষণে মাংসের রস সম্পূর্ণ না শুকিয়ে যেত ..... এরপর টিনের কৌটায় করে সংরক্ষণ করতো,,, তবে কদিন পর পর বের করে আবার রোদে দিতো ......এভাবে প্রায় কয়েকমাস সংরক্ষণ করতো ....... রান্নার দিন মাংসাং হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে যখন নরম হতো মনে হত বেশ তাঁজা ..... এর পর রান্না করতো ....তবে স্বাদের কিছুটা গরমিল হতো বৈকি ..............

সুস্থ থেকো, ভালো থেকো নিরন্তর,,,,,,,,, ধন্যবাদ দীপ্তি:)

মাংস আস্ত রেখে দিতে চাইলে অনুসরণ করা হতো ‘ভাজা মাংস’ পদ্ধতি। আদি ঢাকাবাসী অনেক দিন ধরেই এ পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করে আসছে।প্রথমে কোরবানির চর্বি এক দিন ধরে খোলা বাতাসে শুকিয়ে সেই চর্বি পরে জ্বাল দিয়ে তরল করে ফেলতে হয়। সেই চর্বিতে হাড়বিহীন মাংসকে বড় বড় টুকরা করে আদা, রসুন,দারুচিনি,এলাচ,লবণ দিয়ে হালকা আঁচে সিদ্ধ করা হয়।আর সুঘ্রাণ পাওয়ার জন্য তাতে সয়াবিন তেলে হালকা করে ভাজা পেঁয়াজের কুচি দেওয়া যায়।টানা তিন দিন ধরে ভেজে নিলেই এ মাংস তিন মাস ধরেও খাওয়া যায়। অনেকেই এ মাংস মহররম পর্যন্ত রেখে দিত।ঢাকা পঞ্চাশ বছর আগে’তে পাওয়া যায়, এক-দেড় শ বছর আগে কিভাবে ‘জাহাজি কালিয়া’ তৈরি করা হতো তার বর্ণনা। অতীতে ঢাকা থেকে হজযাত্রী বা ব্যবসায়ীরা সমুদ্রপথে আরব, ইরাক, ইরান যেতেন। তাঁরাই মূলত যাত্রাপথে খাওয়ার জন্য এভাবে মাংস সংরক্ষণ করে নিয়ে যেতেন।জাহাজে খাওয়া হতো বলে এটার নাম হয়ে যায় ‘জাহাজি কালিয়া’।চিনামাটির বিশেষ বয়ামে এই মাংস জলপাইয়ের তেলে ডুবিয়ে রাখা হতো।আর বয়াম থেকে বের করার জন্য ব্যবহার করা হতো কাঠের তৈরি শুকনো চামচ।ভেজা চামচে এই কালিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।পুরান ঢাকার লোকজনের মাংস সংরক্ষণের আরেক পদ্ধতি হচ্ছে গ্রেল।গরুর পেছনের দিকের রানের মাংসের প্রয়োজন হয়। গরুর আস্ত রান খোলা বাতাসে শুকিয়ে নেওয়া হয়।তারপর রান থেকে চর্বি বাদ দিয়ে মাংস হাড়বিহীনভাবে কাটা হয়।একেকটি টুকরা দেড় থেকে দুই কেজি হয়।তারপর ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নেওয়া হয়।সোহাগা,আদার রস,লেবুর রস,আখের গুড়,লবণ সহযোগে দু-তিন ঘণ্টা ধরে জ্বাল দিয়ে মাংসটা শুকিয়ে ফেলতে হয়। শুকনো আর খোলা জায়গায় রাখলে এই মাংসও অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।কোপ্তা করেও কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করার পদ্ধতি ছিল। কাঁচা মাংস শিলপাটায় পিষে তাতে মেশানো হতো গুঁড়া গরম মসলা,আদা,রসুন।পরে এই মিশ্রণসহ মাংসকে গোল আকৃতি করে গরুর চর্বিতে ডুবিয়ে জ্বাল দেওয়া হতো।এই কোপ্তা তিন মাসেরও বেশি সময় সংরক্ষণ করা হতো।লোকজন কোরবানির মাংস শুঁটকি দিয়েও সংরক্ষণ করে থাকে।হাড়বিহীন মাংস হলুদ দিয়ে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নেওয়া হয়।সেই মাংস পাটের দড়ি কিংবা তারের মধ্যে মালার মতো গেঁথে রোদে কিংবা চুলার ওপর দিয়ে শুকানো হয়।মাংস শুকিয়ে গেলে বায়ুনিরোধক টিনের পাত্রে রেখে দেওয়া হয়।এটা আমাদের গ্রাম গঞ্জে ভুল প্রচলিত পদ্ধতি।

ফ্রিজ আবিষ্কার হওয়ার আগে খুব বেশি মানুষ কুরবানি দিত না।আর যারা কুরবানি দিত তারা অধিকাংশ মাংস মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিত।তারপরেও যদি কখনওবা মাংস সংরক্ষণ করার দরকার হত তখন তারা আগুনে জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণ করতো।

পূজা  

গুরু

এখনো অনেকের বাড়িতেই ফ্রিজ নেই, তাদের জন্য টিপস :

যাদের ফ্রিজ নেই, তারা পানি না দিয়ে কম মসলায় মাংস কষিয়ে রাখতে পারেন। এই মাংস প্রথম দুই দিন দিনে দুবার গরম করতে হবে। এরপর দিনে একবার করে গরম করলেও চলবে। ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা দেওয়া যাবে না।

আজিজুল ইসলাম  দিনাজপুরে বেড়ে ওঠা এক গণিত প্রেমি

পন্ডিত

ফ্রিজ আবিষ্কারের পূর্বে মানুষ তেমন একটা মাংস সঙ্গরক্ষণ করত না!! কোরবানীতে যদি বেশি মাংস হত তাহলে তারা সেগুলো সিদ্ধ করে বড় পাত্রে রাখত, সেখানে সকল রান্নার মসলা ব্যবহার করত না। সেগুলো আবার মাঝে মাঝে জ্বাল দিয়ে নিত। আবার কখনও কখনও সেগুলো তেলে ভেজে রাখত। কেউবা সেগুলো সিদ্ধ করে কিংবা তেলে ভেজে রোদে শুকাত। আমাদের দেশে এভাবেই মোটামুটি সকল পরিবারে মাংস সংরক্ষণ করত।

Muha.Tanvir Husain  

গুণী

তখন মানুষ কোরবানির মাংস লবণ মরিচের গুড়ো দিয়ে সিদ্ধ করে রেখে একটু একটু করে জ্বাল দিয়ে রেখে দিত । আর যখন রান্না করতো তখন সব কিছু দিয়ে রান্না করে খেত । গ্রামে যাদের ফ্রিজ নেই তারা এখনও এভাবেই খায় ।"

মোঃআশিকুর রহমান  তবে ভালবাসা দাও,ভালবাসা নাও.

গুরু

বড় হাড়িতে অনেকক্ষণ জ্বাল দিয়ে,রোদে শুকিয়ে সংরক্ষন করা হত।ধন্যবাদ।


অথবা,