Preview
প্রশ্ন করুন
রিলেটেড কিছু বিষয়

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

( ১২ টি উত্তর আছে )

( ৯,৬৫৭ বার দেখা হয়েছে)

alapi  

পন্ডিত

খাগড়াছড়ি বা বান্দরবান যেতে পারেন। খুব সুন্দর একই সাথে শান্ত জায়গা! সিলেটের নাজিমগর রিসোর্ট খুব সুন্দর বিশেষ করে হানিমুন এর জন্য এক কথায় দারুন। যোগাযোগ করুন (0)821 2870338 শ্রীমঙ্গলের টি রিসোর্টে থাকতে পারেন। অথবা নিসর্গ এর ইকো রিসোর্ট অথবা আমতলি রিসোর্ট! দারুন জায়গা। তবে হানিমুনের ফাঁকে জঙ্গলে ঘুরে আসতে ভুলবেন না। আচ্ছা,হানিমুনের জন্য সেন্ট মার্টিন বা কুয়াকাটা কেমন হয়?

জামান  অন্তর-দৃষ্টির-সন্ধানে

গুরু

হানিমুনের জন্য সেন্ট মার্টিন বা কুয়াকাটা বেশ ভালো হয়! আবার শ্রীমঙ্গলের টি-বোর্ড রিসোর্ট শান্ত নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য বেশ। সেখানে আলোচনা করার আন্তর্জাতিক মান-সম্পন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। তাই হানিমুন পরবর্তী "লেমন-সান" জীবনের বিশাল পরিকল্পনাটিও সেখানে সেরে আসতে পারেন! বান্দরবানের পাহাড়ের ওপর রিসোর্টটি হানিমুনের চমৎকার জায়গা।

রন  

গুণী

নীলগিরি যেতে পারেন| হানিমুন এর জন্য একদম পারফেক্ট| একদম ভোর এ নীলগিরি'র সোন্দর্য যখন অবলোকন করবেন মনে হবে মেঘের উপর ভাসছেন| বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্ক এ : http://www.travel-bangladesh.net/nilgiri-on-the-to-of-world

সামির কবির  পারি শুধু ত্বত্ত কথা বলতে আর ওয়েব সাইট ডিজাইন করতে :)

জ্ঞানী

প্যাঁচার দ্বীপ যেতে পারেন। আমার মনে হয় কক্সবাজার হলেও আপনার ভালো লাগবে। দেখেন একবার www.http://mermaidecoresort.com/ হানিমুনের জন্য বাংলাদেশের মধ্যে একদম পারফেক্ট আমি বলবো। একটু ব্যয় বহুল হওয়ায় তেমন ভীড় থাকে না, অনেক নিরিবিলি। সুন্দর সুন্দর কটেজ রয়েছে, যাহোক নিজেই দেখে নিন ওয়েব সাইটে। alapi অলরেডি বলেছেন, নাজিমগর রিসোর্ট - যেতে পারেন। দেখে নিন আগে http://www.nazimgarh.com/ এছাড়া সেন্টমাটির্ন এ কিছু রিসোর্ট আছে। ওখানেও যেতে পারেন।

Zahirul islam chowdhury (zahir)  সততাই শক্তি

গুণী

আর কিছু বলার আছ ভাই আমি যেটা বলব ভাবছি সেটা ওনারা বলে দিয়েছেন । এখন টছ করেন ছলে জান । শুভ হোক আপনার হানিমুন।

কাঁচা মরিচ  বন্ধু শত্রু মিত্র সকলের শুভ বু্দ্ধির উদয় হোক।

জ্ঞানী

ন্যাশনাল পার্ক - ১)রামসাগর ন্যাশনাল পার্ক - দিনাজপুর ২) হিমছড়ি ন্যাশনাল পার্ক - কক্সবাজার ৩) ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক - গাজীপুর ৪) মধুপুর ন্যাশনাল পার্ক - টাঙ্গাইল ৫) লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক - মৌলভীবাজার ৬) কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক - রাঙ্গামাটি ৭) নিঝুম দ্বীপ ন্যাশনাল পার্ক - হাতিয়া ৮) মেদা কচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক - কক্সবাজার ৯) সাতছড়ি ন্যাশনাল পার্ক - হবিগঞ্জ ১০) খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ক - সিলেট ১১) রাজকান্দি ন্যাশনাল পার্ক – মৌলভীবাজার ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি (বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রম) ১) চর কুকরি মুকরি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - বরগুনা ২) পাবলাখালি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - খাগড়াছড়ি ৩) চুনাতি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - চট্টগ্রাম ৪) সুন্দরবন (পূর্ব) ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - বাগেরহাট ৫) সুন্দরবন (দক্ষিণ) ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - খুলনা ৬) সুন্দরবন (পশ্চিম) ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - সাতক্ষিরা ৭) রেমা ক্যালেঙ্গা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - হবিগঞ্জ ৮) ফসিয়াখালী ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - চকোরিয়া ৯) হাজারিখিল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি - সীতাকুন্ড

দীপ্তি  আমি শান্ত, সাম্য, আহ্লাদী, মিশুক, পরিপাটি, গোছালো, খুব নরম মনের একজন সাধারণ মানুষ :)

মহাগুরু

নির্দ্বিধায় চোখ বন্ধ করে যেতে পারেন সাজেক ভ্যালিতে। আমি আমার হানিমুন সেখানে করেছি, এককথায় অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সাজেকের বর্ণনা আমার অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরছি :

খুব ভোরে রাঙামাটি থেকে রওয়ানা দিয়েচুলাম সাজেকের উদ্দেশ্যে।  ডিসেম্বরের শুরুতে কুয়াশার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালের ঘন কুয়াশায় নিজেকে ঢেকে রওনা হলাম পাহাড়ের পথ ধরে। কেবল আমরা নই, পুরোটা পথ জুড়ে সবুজ পাহাড়, তারা যেন নিজেকে আবৃত করেছিল কুয়াশার নরম চাদরে। পথিমধ্যে ক্রমেই শীতের কুয়াশা কেটে বেরিয়ে এল সূর্য। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। তবে, রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক আসা যায়। তাই সকালবেলা খাগড়াছড়িতে পৌঁছে প্রাতরাশ সেরে আবারোও যাত্রা শুরু করলাম মাহেন্দ্র খোলা জিপে।ঝলমলে রোদেলা আবহাওয়ায় কখন জানি দীঘিনালা, বাঘাইহাট, মাসালাং বাজার, কাসালাং নদীকে পেছনে ফেলে পৌঁছে গেলাম সাজেকের রুই লুই পাড়ায়।  

জানিয়ে রাখি, সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন । যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল । সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা , দক্ষিনে রাঙামাটির লংগদু , পূর্বে ভারতের মিজোরাম , পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার । আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার । বাঘাইহাট থেকে ৩৪ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে মোটামোটি সাড়ে চারঘন্টা সময় লেগে যাই। আর্মি স্কটের জন্য প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় দীঘিনালাতে। দুটা স্কট আছে, সকাল সাড়ে দশটা আর বিকেল সাড়ে তিনটা। আমরা সকালের স্কটটা ধরেছিলাম। পরেরদিন ফেরার সময়ও ওই একই স্কট ধরেছিলাম।

দীঘিনালা, আমাদের যাত্রা বিরতির দ্বিতীয় স্থল। অসাধারণ স্বাদ এখানকার পাকা পেঁপের। সুস্বাদু কলাও পাওয়া যায় এখানে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা আর্মি ক্যাম্প হয়ে সাজেক যেতে হয়। পরে পরবে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প। যেখান থেকে আপনাকে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে। তারপর কাসালং ব্রিজ, ২টি নদী মিলে কাসালং নদী হয়েছে। পরে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার। বাজার পার হলে পরবে সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এর প্রবীণ জনগোষ্ঠী লুসাই। এছাড়া পাংকুয়া ও ত্রিপুরারাও বাস করে। 

যাত্রাপথে আমাদের তৃতীয়  বিরতি বাঘাইহাট বাজারে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এই পাহাড়ি বাজারের পাশ দিয়ে চলে গেছে কাসালং নদী। বাজারে নেমেই এককাপ গরম চায়ে চুমুক, কুয়াশা আর শীতের সকালে কিছুটা উষ্ণতা। কিছুক্ষণের বিরতি শেষ করে আবার চলা শুরু। রাস্তার দুপাশের বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঘর, বিস্তীর্ণ পাহাড় আর এঁকে বেঁকে চলা পাহাড়ি রাস্তা। পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া সর্পিল নদী চলে গেছে দূরের পথ ধরে। মুক্ত আকাশের নিচে বিশাল সমৃদ্ধ বনভূমির সন্ধান পাবেন কেবল সাজেক ভ্যালির পথে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জুম চাষ, এই মৌসুমে আনারসের জুম চাষে ভরপুর পাহাড়। পাশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারত থেকে আসা মাসালং নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে ছোটখাট বাজার। এই এলাকা সাজেক ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল। আদিবাসী আর বাঙালি— মিলেমিশে এই বাজারে ব্যবসা করে। জুমের ফসল বিক্রি করার আর্দশ স্থান এই মাসালং বাজার।

বন্ধুর পথ— দুপাশেই আকাশচুম্বী পাহাড়ের বুকে উদ্ধত শিখর তুলে দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষরাজি। দীর্ঘজীবি বৃক্ষের দেখা মেলে এই পথে, মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন বসতি। দূরের পাহাড়ে মেঘের গড়াগড়ি দেখতে না দেখতেই আমরা পৌঁছে যাই সেই মেঘের রাজ্যে। এক সময় উঁচু পথের সমাপ্তি হয়, পা রাখি রুইলুই পাড়ায়। এটা সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। সাজেকের মূল ফটকে ঢুকেই আমরা পুরো বিস্মিত ! এখানে এসে বিস্ময়ের মাত্রা খালি বেড়েই চলছিল। প্রায় দুই হাজার ফুট পাহাড়ের ওপর ঝকমকে প্রশস্ত পথ। শহরের আদলে তৈরি ফুটপাত একেবারে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। পথের পাশে পাহাড়িদের বাড়িঘর নান্দনিকভাবে সাজানো। মনে হলো, বিদেশি কোনো উপত্যকায় পাহাড়ের বুকে সাজানো-গোছানো আদিবাসী-অধ্যুষিত ছোট্ট কোনো শহরে এসে উপস্থিত হলাম।

প্রায় মূল ফটকের পাশেই পাহাড়ের কোল-ঘেঁষে বেশ কিছু কটেজ প্রস্তুত যেখানে আমাদের রাত যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, বেশ অল্পই খরচ। থাকার ব্যবস্থা হলো হাপাং টং  রিসোর্টে। কাঠের তৈরি ছোট অথচ পরিপাটি একটা রিসোর্ট। পর্যটন উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে দুর্গম সাজেকের উঁচু পাহাড়ের বুক চিরে। সাজেকে গড়ে উঠেছে রুনময় ও সাজেক নামে দুটো আকর্ষণীয় রিসোর্ট। তবে আদিবাসীদের তৈরী কাঠের কটেজই আমার কাছে প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য দারুন ব্যবস্থা বলে মনে হয়েছে।  রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা— জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল–সবুজ। রুইলুই পাড়ার নিচ থেকে প্রধান উপত্যকার অংশ শুরু। দীর্ঘ পথ শেষ করে বহুদূরে দাঁড়িয়ে আছে মিজোরামের প্রাচীন সুউচ্চ পাহাড়ের শ্রেণি। 

সাজেক এর রুইলুই পাড়া থেকে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন সুন্দর কমলক ঝর্ণাটি। কমলক ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা অথবা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামে পরিচিত। সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া।রুইলুই পাড়া থেকে ২০ মিনিটের হাঁটা পথ কংলাক পাড়া। পাংখোয়াদের বসবাস এখানে। সব মিলিয়ে ১৫ পরিবারের বসবাস হবে। বিশাল পাথরখণ্ডের পাদদেশেই কংলাক পাড়ার অবস্থান।কংলাকের পাথরচূড়ায় দাঁড়িয়ে পুরো সাজেক উপত্যকা চমৎকারভাবে এক নজরে দেখা যায়। প্রথমে উঠতে মনে মনে একটু ভয় পেলেও, উঠার পর পুরো সাজেকের সৌন্দর্য্য ভয়কে জয় করে দিয়েছিলো।  

পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে এখানে আকাশ ঘুমায়, পাহাড়ের বন্ধনহীন মিলন দেখা যায়। কোথাও কোথাও তুলার মতো দলছুট মেঘের স্তুপ ভেসে বেড়ায় পাহাড়ের চূড়ায়, যেন স্বপ্নরাজ্য। রুই রুই পাড়ার শেষ প্রান্তে হেলিপ্যাড। তার পাশেই পাহাড়ের কোলজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে অবকাশ কেন্দ্র। এখানে বসলে মিজোরামের পাহাড়গুলো চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে অন্যরকম এক রূপ নিয়ে। সাজেক পাহাড় আর ভারতের পাহাড়ের মাঝখানে বিশাল এক উপত্যকাঞ্চল। এটাকে মেঘপুরীর উপত্যকাও বলা যেতে পারে। বর্ষাকালে এখানে থাকে মেঘমালার অবাধ বিচরণ। সূর্যাস্ত দেখে, কংলাক পাড়া থেকে রওনা হলাম সাজেক ভ্যালির পথে, রাতযাপন হবে রুইলুই পাড়ায় ওই রিসোর্টে। 

পূর্ণিমায় আলোয় আলোকিত  ছিল সেদিনের রুই লুই পাড়া। সহস্র নক্ষত্রে ঢাকা সাজেকের বিস্তৃত আকাশ আর নক্ষত্রের আলোয় নিচের পৃথিবী, ধবধবে জোছনার আলোয় আলোকিত উপত্যকা সাজেকের রাজ্য। অদ্ভুদ যে, জ্যোৎস্না রাতের আলোয় কাছে দূরের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জেগে উঠছে ঘন সাদা কুয়াশা। এমনই ঘন যে, কুয়াশাকে মনে হয় মেঘের ভেলা, মনে হয় সমুদ্রে বরফ জমেছে। এরকমই মেঘের ভেলায় ডুবে যাওয়া পাহাড়ের চূড়াকে মনে হচ্ছিল সমুদ্রের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। হেড ম্যানের বাড়ির সামনে গোল বৈঠক আর গরম কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে আমার মনে শুধু বিভ্রম জাগে, এ কি আমার চেনা পৃথিবী, এই কি আমার দেশ, আমার দেশ এত্ত সুন্দর ! মনে পরে রবি ঠাকুরের সেই কবিতার লাইন 

"দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু।"

আমাদের সারাদিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিল সারা লুসাইয়ের অর্ডার হোটেলে। হালকা তেল, মশলায় রান্না করা আদিবাসী খাবার খেয়ে আমি মুগ্ধ। এর মালিক রুইলুই পাড়ার কারবারী মনা দাদা। অনেক রাত অব্দি জেগে ছিলেন সেদিন, চোখে যেন নেশা ধরেছিলো। ঘোরলাগা রাত এক সময় ভোর হয়, মেঘ পায়ের কাছে হেসে লুটোপুটি খায়- নতুন দিনের অভিবাদন জানায়। আবারো খুব ভোরে উঠে আমরা হেলিপ্যাডের উপর চলে যাই সূর্যোদয় দেখতে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে পুরো তাজ্জব ! একি সবুজ বন, গেরুয়া পাহাড় সবটুকু অদৃশ্য হয়ে আছে সাদা মেঘের আড়ালে। পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাদা মেঘ আবার কোথাও কোথাও মেঘের বুকে জেগে আছে পাহাড়ের চূড়া, যেন মেঘের সমুদ্রের বুকে জেগে থাকা সবুজ দ্বীপ।

নীলচে পাহাড়ে বুকে মেঘের সমুদ্র। যতটুকু চোখ যায় কেবল দুধ সাদা ঘন মেঘ। দিগন্তব্যাপী আকাশ ছোঁয়া পাহাড়গুলো যেন ডুবে আছে মেঘের সমুদ্রে। মেঘের রং বদলায় সকালের সূর্যের আলোয়। পাহাড় আর মেঘ যেন অবিচ্ছিন বন্ধনী, সময়ে সময়ে বদলে পাহাড়ের রূপ। পাহাড়ের প্রশস্ত বুক, আদিবাসীদের ঘর-বসতি ও নির্জন প্রকৃতির সঙ্গে দারুণ এক সখ্যতা আর প্রেম আছে ভাসমান মেঘপুঞ্জের, আছে ঝগড়াও। তাই তো বেলা বাড়তে বাড়তে মেঘ কেটে কেটে যেতে লাগলো আর আমরা ফিরতে লাগলাম চেনা লোকালয়ের পথে, ফিরলামরুইলুই পাড়ায়। সাজেক বহুরূপী, পাহাড়ের সাথে মেঘের রাগ অনুরাগ, মান অভিমানে ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায় এর রূপ মাধুরী। ভোর একসময় সকাল হলো, আমাদেরও স্কট ধরবার সময় চলে এলো তাই পেছনে সাজেককে ফেলে রেখে আমাদের ফিরতেই হলো যান্ত্রিক জীবনে। ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার দেখে আসতে পারেন। যেকোনো মৌসুমে সাজেক ভ্রমণ অনন্য। বর্ষাকালে শুনেছি এর সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে আমার মতে, শীতকালই ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

যেভাবে যাবেন : প্রথমে যেতে হবে খাগড়াছড়ি অথবা দীঘিনালা। ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহন, বিআরটিসি (এসি বাস), সেন্ট মার্টিন (এসি বাস), শ্যামলী, সৌদিয়া, ঈগল, এস.আলম পরিবহনে খাগড়াছড়ি এবং দীঘিনালায় সরাসরি যাওয়া যায়। আমরা অবশ্য রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি এসে দীঘিনালা হয়ে গেছিলাম। দলবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ভালো, খাগড়াছড়ি বা দীঘিনালা থেকে মাহেন্দ্র জিপ বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে। সাজেক যাওয়ার পথে বাঘাইহাট জোনে আপনার নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর এট্রি করতে হবে। আপনার লাগেজ সার্চ করে হবে। 

যেখানে থাকবেন : সাজেক এলাকায় হুট্ করে গেলে কিন্তু থাকার জায়গা নাও পেতে পারেন। তাই রাতে থাকার জায়গা আগে থেকেই ঠিক করতে হবে। দল বড় হলে প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই। থাকার জন্য আছে, রূনময় রির্সোট (বিজিবি পরিচালিত), সাজেক রির্সোট (সেনাবাহিনী পরিচালিত) আলোর রির্সোট এবং ক্লাব হাউস। রয়েছে আদিবাসীদের কটেজও। 

প্রয়োজনীয় তথ্য : সাজেক অনেক দুর্গম জায়গা। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। যাও আছে তা মূলত সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর। উঁচু জায়গা বলে পানীয় জলের সংকট আছে, তবে সেটা গ্রীষ্মে। খাওয়ার জল কিন্তু ঝর্ণার জল, বেশ ঠান্ডা। সাজেক  প্রকৃতির সৌন্দর্য্য, সৃষ্টির অপরূপ সৃষ্টি, তাই এই সৃষ্টি যাতে তার মতো করে সুন্দর থাকে সেই দায়িত্বটাও আমাদেরই হাতে। আপনার ব্যবহার কোন প্রকার পলিথিন, পানির বোতল, প্যাকেট, ময়লা ইত্যাদি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন। না হলে সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। আর আমাদের স্বভাব থাকে, আদিবাসীদের জীবন যাপন, তাদের চেহারা, তাদের খাবার দাবার নিয়ে টিপ্পনি কাটার, সেটা মোটেও করবেন না। তারা প্রকৃতির সন্তান, তারা অতন্ত্য সহজ, অতন্ত্য সরল, অতন্ত্য ভালো। তারাও কিন্তু বাংলাদেশী, এটা ভুলে যাবেন না। 

"মেঘ পাহাড়ের মিতালী যার আরেক নাম সাজেক ভ্যালি"

বশির আহমেদ  পর্যটন বিশ্লেষক

গুণী

চা কন্যা খ্যাত শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় চায়ের রাজধানী, প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে আপনার হানিমুনটি করতে পারেন। শ্রীমঙ্গলের বৈচিত্রময় প্রকৃতির রূপ লাবণ্যকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে আমার আসচ্ছি Discover Sreemongal নাম নিয়ে। Please like us on www.facebook.com/discoversreemongal

জি আছে আপনি চাইলে সেনম্রারটিন,মিনি কক্সবাজার,রাংগামাটি,তে জেতে পারেন 

Neelav Neel  হারতে জানি বলেই শিখি প্রতিদিন

গুণী

যদি পাহাড়, নদী, জল ভালোবাসেন তবে হানিমুনের জন্য ভাটিবাংলা খ্যাত সুনামগঞ্জে যেতে পারেন ।

Mostafizar Rahman Raju  আমি মোঃ মোস্তাফিজার রহমান রাজু । বর্তমানে আমি ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছি ।

গুণী

আপনি কক্সবাজার অথবা সুন্দরবন যেতে পারেন ।

তোফায়েল আহমদ  প্রতিনিয়তই নিজেকে পরিবর্তনের অদম্য ইচ্ছে লালন করি। কিন্তু,পরিবর্তন! সেতো আকাশচুম্বী; ধরা দিয়েও ধরা দিচ্ছে না ...

মহাগুরু

পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে পারেন। বিশেষ করে বান্দরবন। আমার মতে বাংলাদেশের মধ্যে সবচে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হল বান্দরবন। বান্দরবন জেলার আশেপাশেই আপনি দেখতে পাবেন মেঘলা,নীলাচল,মিলন ছড়ি,নীলগিরি,চিম্বুক ও চুড়া ৬৯,স্বর্ণ-মন্দির ও শৈল-প্রবাত এর মত আকর্ষণীয় স্থানগুলো। এছাড়া বান্দরবন থেকে চাইলে আপনি রাঙামাটি ও ঘুরে আসতে পারবেন। এছাড়া......... সিলেট, কক্সবাজার,সেন্ট-মারটিন এ জায়গাগুলোও খারাপ হবে না ...... বাংলাদেশ ছাড়া --- ইন্ডিয়া থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

৩ টি উত্তর লুকিয়ে রাখা হয়েছে

মনপুরা

পন্ডিত

আমি সহজ সরল মনে নেইকো কোন গরল

কুয়াকাটায় যাওয়া যেতে পারে, মনপুরা, চর পাতিলীয়া, নিঝুম দ্বীপ যেতে পারেন।

Md. Ashiqur Rahman

জ্ঞানী

আমি বন্ধুমনা/ আঘাত পাওয়া বা দেওয়া পছন্দ করি না/

অবশ্যই সিলেট।
শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া যায়।

অথবা,