অভিভাবক

অভিভাবক নিয়ে কি ভাবছো?

পূজা: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর সময় কোন কোন দিকে খেয়াল রাখা উচিত অভিভাবক হিসেবে?

উত্তর দাও (৩ টি উত্তর আছে )

.
*স্কুলেভর্তি* *অভিভাবক* *সন্তানেরভবিষ্যত* *প্যারেন্টিং*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

৫/৫

সন্তানের প্রতি পিতা মাতার করণীয়

ক্রেডিটঃ সালাফি

*অভিভাবক* *পিতা-মাতা*

অনি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রিয় নগর অভিভাবকবৃন্দ,

আসসালামুয়ালাইকুম।

অভিনন্দন! সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ‘মেয়র’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য। যা লোকমুখে বা পত্রিকায় ‘নগর পিতা’ নামে পরিচিত। নির্বাচনের পূর্বে যেমন আপনারা বলেছিলেন ‘নগর পিতা’ হতে চান না, ‘অভিভাবক’ হতে চান, সে ধারণা মাথায় রেখে আপনাদের অভিভাবক হিসেবেই সম্বোধন করলাম। যদি ও নির্বাচন নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে, যার সাথে আপনারা দায়ী না থাকলে ও কিছুক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যায়িত পাওয়া গেলে ও বলা যায় এখন আপনারাই এই ৩টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং অবশ্যই এই অঞ্চলের সার্বিক দেখভাল করার ভার আপনাদের হাতে।

আবার আপনাদের ধন্যবাদ দিতে চায় এই ভেবে, নির্বাচনের পর ও আপনাদের কথায় কোন দম্ভোক্তি প্রকাশ না পেয়ে, পূর্বের প্রতিশ্রুতির প্রকাশ পাওয়ায়।

একজন অভিভাবক পরিবারের সকল চাহিদা পূরণে চেষ্টা করবেন এটা জানা কথা, এতে সামর্থ্যে এবং সকল দিক বিবেচনায় তিনি কতটুকু পেরেছেন সেটা বিবেচিত না হয়ে, তিনি এ চাহিদা পূরণে কতটুকু চেষ্টা করেছেন সেটাই বিবেচ্য।  

আপনাদের নিজ গুণেই আপনারা এই পদে আসীন। তাই এক্ষেত্রে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ আপনাদেরকে জরুরী কোন বিষয়ে পরামর্শ দেয়াটা সমুচিত বলে মনে করি না। তারপর ও অভ্যেশবশত কিছু কথা মাথায় চলে আসে, আর সেটা ভেবেই আপনাদেরই দেয়া কয়েকটি প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেয়া।

১. পরিচ্ছন্ন নগরী

২. যানজট মুক্ত নগরী

৩. জলাবদ্ধতা

৪. সন্ত্রাসমুক্ত নগরী

আপনাদের ইশতেহারে আর ও অনেক কিছু থাকলে ও প্রধানত উপরোক্ত ৪টি বিষয়ে আপনারা অত্যাধিক গুরুত্ব দিলে, দিন শেষে তার কতটুকু পেরেছেন তারচেয়ে বেশী, আপনাদের সদবিচ্ছা এবং সামর্থ্যে অনুযায়ী চেষ্টাকেই নগরবাসী সবাগত জানাবে বলে আশা রাখি।

নব জীবনে, নব পথে স্বাগত এবং শুভাচ্ছা রইলো।

ধন্যবাদ।

*সিটি-মেয়র* *অভিভাবক* *পরিচ্ছন্ন* *সন্তাস্মুক্ত* *যানজটমুক্ত* *জলাবদ্ধতা*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

গরমের সময় বড়দের যে পরিমানে কষ্ট হয় তার চেয়ে অনেক অনেক অনেক বেশি কষ্ট হয় শিশুদের। কিন্তু অনেকসময় তারা তাদের অসুবিধার কথা বলতেও পারে না। ফলে গরম থেকে নানা সমস্যা তৈরী হয়। শিশুদের অভিভাবক হিসেবেই তাই গরম থেকে তাদের রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের উপর বর্তায়। এসময় বাড়তি কিছু বিষয় খেয়াল রাখাটা জরুরী। তাই দেখে নিন এরকম কয়েকটি বিষয়।

১) বারবার পানি পান করান। ডাবের পানি, ফলের রস খাওয়ান।
২) শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে গা মুছে দিন।
৩) শিশুকে এ সময় অবশ্যই সুতির নরম ও পাতলা পোশাক পরান।
৪) সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার শিশুর কোমল ত্বক রক্ষা পাবে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে।
৫) গরমের সময় মশা, মাছি, পিঁপড়ে অথবা বিভিন্ন পোকামাকড়ের প্রকোপ দেখা যায়, যা আপনার শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। আপনার ঘরকে এগুলো থেকে মুক্ত রাখতে অ্যারোসল বা অন্য কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার শিশু যেন কোনোভাবেই এগুলোর নাগাল না পায়। এছাড়া ঘরকে পোকামাকড়মুক্ত রাখতে ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। ফুলের টবে বা অন্য কোথাও এমনকি বালতিতেও পানি জমতে দেবেন না।
৬) শিশুকে সরাসরি ফ্যান কিংবা এসির কাছে শোয়াবেন না। প্রয়োজনে ঘরের জানালা খুলে দিন।
৭) কোনও ভাবেই যেন ঘাম শরীরে না শুকায়, এতে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। এজন্য বারবার ঘাম মুছে দিন।
৮) শিশুর ত্বকে যেন ঘামাচি না ওঠে এজন্য গোসলের পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘামাচি পাউডার লাগিয়ে দিন।
৯) আপনার শিশুর পোশাকের দিকে লক্ষ রাখুন। ঘেমে ভিজে গেলে বা নোংরা হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করে দিন।

(সংকলিত) 
*শিশুরযত্ন* *প্যারেন্টিং* *অভিভাবক* *গরম*

দীপ্তি বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

সন্তানকে ছোটবেলা থেকে সততা, সত্যবাদিতা শেখানো বাবা-মায়ের একান্ত কর্তব্যের মধ্যে একটি। এই অভ্যাসগুলো ছোটবেলা থেকে শিশুর মাঝে তৈরি করতে না পারলে ছোট ছোট ভুলগুলোই শিশুর পরবর্তী জীবনে বড় কোন ভুলের কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিন/চার বছর বয়সে শিশুরা খাওয়া নিয়ে, নিয়মভঙ্গ করা নিয়ে, পড়ায় ফাঁকি দিতে কিংবা শুধুমাত্র কল্পনাপ্রসূত ভাবনার ফলেই মিথ্যে বলতে পারে। শিশুদের মিথ্যা বলার অনেকাংশ নির্ভর করে পারিবারিক কালচারের ওপর। সামাজিক ব্যবস্থা, শিশুর পারিপার্শিক পরিবেশ ও বন্ধুদের দ্বারাও প্রভাবিত হতে পারে। তবে শিশুদের মিথ্যা বলার প্রবণতা কোনো রোগ নয়। পিতা-মাতাকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।


শক্তিশালী সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনই পারে এ সমস্যা দূর করতে। কল্পনা ও বাস্তবতার জগৎ সম্পর্কে শিশুকে গল্পচ্ছলে বুঝিয়ে বলুন। কল্পনা করুক। তবে বাস্তবতা ভুলে গিয়ে নয়! অনেক সময় কল্পনাপ্রবণতায় মিথ্যা বলার অভ্যাস শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায়। তাই খুব বেশি চিন্তিত হওয়ারও কিছু নেই। শিশুদের মিথ্যা বলার প্রবণতা কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক কারণে হয়ে থাকে। অনেক শিশু কৃতিত্বের জন্য মিথ্যা বলে। কেউ বা অন্যের অনুকরণে বলে মিথ্যা। এর প্রতিকার হিসেবে শিশুদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে রাখতে হবে। তারা যেন হতাশা বা হীনম্মন্যতায় না ভোগে। রাগ বা বকাঝকায় উল্টা ফল হতে পারে। সব সময় কাজে খুঁত ধরা, খিটমিট করা, ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া_ এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

বরং চেষ্টা করুন এসব করতে:
  • শিশুকে কখনো সরাসরি এ কথাটি বলবেন না যে “তুমি মিথ্যেবাদী”। এতে করে সে অপমানিত বোধ করে জেদের বশে বারবার একই ভুল করতে পারে। তাকে খুব শান্তভাবে আদর করে বুঝিয়ে বলুন যে সে যা করছে তা ঠিক করছে না কিংবা তাকে সত্য বলার পরিবেশ তৈরি করে দিন যাতে সে নির্ভয়ে সত্য বলতে পারে।
  • যখনই টের পাবেন কোনো কারণে আপনার শিশু মিথ্যা কথা বলছে, প্রথমেই চেষ্টা করুন তার কারণ খুঁজে বের করতে। ও কি নিজেকে কোনো অসুবিধা থেকে বাঁচাতে মিথ্যা কথা বলছে? ও কি ভেবেছে সত্যি কথা বললে শাস্তি পাবে? না কি অভ্যাসবশত অসত্য বলেছে? কারণটা খুঁজে পেলে কিন্তু ওর ব্যবহার সংশোধন করতে সুবিধা হবে।
  • অনেক সময় বাচ্চারা অনেক কথা বাড়িয়ে বলে। হয়তো ছুটিতে বাড়িতেই ছিল, কিন্তু বন্ধুদের কাছে বলল- কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল। এটা ঠিক মিথ্যা নয়, বরং নিজেকে জাহির করা। বন্ধুদের বা বড়দের অ্যাটেনশন পাবে বলে ওরা এটা করে। এই বানানো গল্প নিয়ে বকাবকি না করে বাচ্চার কল্পনাশক্তিকে ঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করুন।
  • যখন বুঝতে পারবেন যে আপনার শিশু কোনো ব্যাপারে মিথ্যা বলছে, তখন জোর করে মেরেধরে তাকে দিয়ে সত্যি কথা বলানোর চেষ্টা করবেন না। এতে তার আরও জেদ চেপে যাবে। ব্যাপারটা থিঁতিয়ে গেলে নরম গলায় তার কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। সত্যি কথা বলার জন্য তাকে একটা ছোট্ট গিফটও দিতে পারেন।
  • সত্য বলাকে সবসময়ই ভালো চোখে দেখুন, উৎসাহিত করুন। এতে শিশু মিথ্যা বলতে আগ্রহী হবে না। আদর ভালোবাসা প্রিয় হয় বলে সহজেই তাদের সত্য বলার দিকে আকৃষ্ট করা যেতে পারে।
  • সন্তানকে বুঝিয়ে দিন মিথ্যা কখনো কাউকে কোন বিপদ থেকে বাঁচাতে পারেনা। বরং বড় কোন বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। তাই বারবার যখনই সুযোগ পান শিশুকে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দিন।
  • মিথ্যে ছোট আর বড় হোক তা মিথ্যেই থেকে যায়। ছোট ভুল ভেবে সন্তানের কোন রকমের মিথ্যাকেই প্রশ্রয় দেবেন না। এতে সে ভাববে মিথ্যা বলা এমন কোন দোষের কিছু নয় আর ভবিষ্যতে আরও বড় মিথ্যা বলতে সাহস পাবে।
  • বাচ্চার মধ্যে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বাবা-মা দু’জন মিলে মজার সব অ্যাক্টিভিটি করতে পারেন। বাচ্চাকে কোনো একটা রূপকথা বা শিক্ষামূলক গল্প পড়ে শুনিয়ে জানতে চান যে, এই গল্পটা থেকে সে কী শিখল। দু’জন মিলে গল্পের চরিত্রগুলোর ভূমিকা নিয়ে অভিনয়ও করতে পারেন। এভাবেই সে বুঝতে পারবে কোনটা ভুল আর কোনটা ঠিক। অবসর সময়ে রঙ-বেরঙের পোস্টার বানাতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন। প্রতিটি পোস্টারে কোনো একটি কার্টুন চরিত্রের সঙ্গে মরাল (যা ওকে ভালো হয়ে উঠতে সাহায্য করবে) লিখুন। পোস্টারটা তার পড়ার টেবিলের সামনে ঝুলিয়ে দিতে পারেন, যাতে তার চোখের সামনেই থাকে। বাচ্চাকে ডায়েরি লেখার উৎসাহ দিন যাতে সে রোজ কী ভালো কাজ করেছে তা লিখে রাখতে পারে। সপ্তাহ শেষে ভালো কাজের জন্য তাকে পুরস্কৃত করতে পারেন।
  • নিজেদের ব্যবহারে পরিবর্তন আনুন। বাচ্চার সামনে কখনও মিথ্যা বলবেন না। যদি বলেও ফেলেন, তাহলে সঠিক ভাষায় তাকে বুঝিয়ে বলুন কেন আপনি সত্যিটা বললেন না।

নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন যাতে আপনার সন্তান আপনাকে আদর্শ ভাবতে পারে। এই আদর্শেই আপনার শিশু উৎসাহ পাবে আর নিজেকে সেইভাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করবে। তাই সবার আগে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিন। 
(সংকলিত)
*সন্তানেরভবিষ্যত* *শিশুরযত্ন* *অভিবাবক* *প্যারেন্টিং* *অভিভাবক*
খবর

যারিন তাসনিম: একটি খবর জানাচ্ছে

যেভাবে আপনি আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করছেন না বুঝেই!
http://www.priyo.com/2015/02/15/133535.html
পরিবারই একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার সবচাইতে নির্ভরযোগ্য স্থান। শিশুর আত্মবিশ্বাস তার ন্যায়-অন্যায় জ্ঞান এমনকি আত্মসম্মান বোধের মতো মানসিক সকল ব্যাপার পরিবারের লোকজনের মাধ্যমেই গড়ে উঠে। কিন্তু অভিভাবকের না জানার কারণেই সন্তানের মানসিকতা হয়ে যায় পুরোপুরি উল্টো। হয়তো অভিভাবকেরা বুঝতেই পারেন না তাদের করা কিছু কাজেই সন্তানের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। ...বিস্তারিত
*সন্তান* *অভিভাবক* *প্যারেন্টিং*
২১২ বার দেখা হয়েছে

মেঘবালক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আপনার সন্তানটি কিছুতেই কোনো কথা শোনে না। যাই বলেন না কেন, সব সময়েই যেন সেটার উল্টোটাই করবে। আর তাই 'মারের উপর ঔষধ নাই’ এই ফর্মূলায় চলছেন আপনি। কথা না শুনলেই হয় তাকে বাথরুমে আটকে রাখেন অথবা বেদম মার দেন। প্রতিদিনের টুকটাক চড় থাপ্পড় তো আছেই।

১। মানসিক ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে যায়ঃ-
ক্রমাগত নির্যাতিত হলে আপনার সন্তানের মানসিক ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে যায়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে ভুগতে এক পর্যায়ে সে প্রচন্ড মানসিক চাপে ভোগে। এভাবে মানসিক চাপে থাকতে থাকতে সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে নিয়মিত মারধোর করলে আপনার সন্তান সারা জীবনের জন্য মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে।

২। মা বাবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে যায়ঃ-
সন্তানকে নিয়মিত মারধোর করলে বাবা মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে যায়। কথায় কথায় মার দিলে বাবা মা কে নিজের অনেক দূরের কেউ ভাবতে আরম্ভ করে সন্তানরা। বাবা মায়ের প্রতি মানসিক টান একেবারেই থাকে না এধরনের নির্যাতিত শিশুদের।

৩। নিজেকে একলা ভাবে ও বিষণ্ণতায় ভোগেঃ-
যেসব শিশুরা নিয়মিত বাবা মায়ের কাছে শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয় তাঁরা সাধারণত নিজেদেরকে একা ভাবে এবং প্রচন্ড বিষন্নতায় ভোগে। বাবা-মাকে আপন করে না পাওয়া ও নির্যাতনের ভয়ে কুঁকড়ে থাকে এসব শিশুরা।
৪। লেখাপড়ায় খারাপ হয়ে যায়ঃ-
যেসব শিশুরা খুব ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের অতিরিক্ত কড়া শাসন ও নির্যাতনের মধ্যে বেড়ে উঠেছে তাঁরা সাধারণত লেখাপড়ায় খারাপ হয়। আর এর পেছনের কারণ হলো কিছুতেই লেখাপড়ায় মন বসাতে পারে না এই শিশুরা। সারাক্ষণ আতঙ্ক ও হতাশার কারণে পড়ার টেবিলে বসে সারাদিন পড়লেও কিছু মনে রাখতে পারে না তাঁরা। আর আত্মবিশ্বাস কমে যায় বলে পরীক্ষার খাতাতেও ঠিক মত লিখতে পারে না এসব শিশু।

৫। কেউ খুব হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে, কেউ খুব ভীতুঃ-
ছোট বেলা থেকেই বাবা মায়ের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার শিশুরা অধিকাংশই হিংস্র হয়ে বেড়ে ওঠে। আবার কিছু সংখ্যক শিশু হয় খুব ভীতু। জীবনের চলার পথে প্রতিটি পা এগুতেও খুব বেশি ভয় পায় তাঁরা। ফলে সব সময়েই সবার পেছনে পড়ে থাকে।

৬। মা বাবার প্রতি প্রতিশোধ নেয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়ঃ-
আজকে আপনি সন্তানকে নির্যাতন করছেন। কিন্তু মনে রাখবেন একদিন সন্তানও আপনার ওপরে এটার শোধ নেবে। কারণ আপনার সন্তানের কচি মনে আপনিই এই বীজ বুনে দিচ্ছেন। যেসব শিশুদেরকে ছোট বেলাতে বাবা মায়েরা অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে তাঁরা সাধারণত বড় হয়ে বাবা মাকে ঘৃণা করতে শেখে এবং একপর্যায়ে বাবা মায়ের সাথে হিংস্র আচরণ করে।

৭। পৃথিবী সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্মে যায়ঃ-
আপনার শিশুটি এই সুন্দর পৃথিবীতে জন্মেছে। সে যত বড় হবে পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা ও জ্ঞান তত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আপনি যদি তাকে ছোট বেলা থেকেই মারধোর করেন এবং মানসিক নির্যাতন করেন তাহলে তার শৈশব কৈশোর নষ্ট হবে। ধীরে ধীরে পৃথিবী সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্মে যাবে তার মনে।

--পত্রিকা থেকে সংগৃহিত।
*প্যারেন্টিং* *অভিভাবক* *আচরণ* *শিশুরযত্ন*

রাতুল মিনহাজ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এটা খুবই স্বাভাবিক যে কেউ আপনার সমালোচনা করলে আপনি স্বভাবতই তার সাথে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করবেন। সে সমালোচনা গঠনমূলক হোক আর অহেতুক, সেটা বিষয় না। কেউ আপনার মতকে, আপনার অস্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলে তার সাথে মিশতে বিব্রত বোধ করা খুবই মানবিক একটি ব্যাপার।

আপনি চান যে আপনার সন্তান আপনার সাথে তার সব কথা শেয়ার করুক। খুবই উত্তম চাওয়া :) কিন্তু আপনি তাকে তার পড়ালেখা, তার জীবনযাপনের ধারা, খাদ্যাভ্যাস সহ মোটামুটি তার ব্যক্তিত্ব যেসব জিনিশ দিয়ে তৈরী সবকিছুকেই প্রতিনিয়ত কটাক্ষ করতে থাকেন, সমালোচনা করতে থাকেন।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় অবশ্যই তাকে বলতে ইচ্ছা করে আপনার দেরীতে ঘুম থেকে ওঠার কুফলগুলো।
সারাদিন ফোনে কথা বললে যে কান, মাথা সব নানাধরণের শারীরিক সমস্যা হয় তা আপনাস সন্তানের চেয়ে অবশ্যই আপনি ভাল জানেন।
ঠিক মত সবজি এবং মাছ-মাংসসে না খেলে শরীরের কি ভঙ্গুর দশা হয় সেটাও আপনার চেয়ে ভাল ভাবে কেউ তাকে বুঝাতে পারবে না।

কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠার পর, যখন মানুষ নতুন একটা দিনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকে তখন যদি তাকে আপনি বলেন যে শুধু আরও সকালে উঠার অভ্যাস না থাকার কারণে তার ভবিষ্যতে অ-নে-ক সমস্যা হবে, তখন আসলে আশাও করা যায় না তার সামনে অপেক্ষমান দিনটা ভাল যাবে।
কিংবা ফোনে কথা বলার সময় আপনি যখন বিরক্ত হয়ে ফোন রেখে দিতে বলেন, এমন কি মাঝে মাঝে বলেন ফোনের জন্য আর টাকা দিবেন না, তখন আপনার কি ভাবা উচিত না সে আপনার সাথে কথা না বলে কেন অন্য একজন মানুষের সাথে তার মনের কথা ফোনে শেয়ার করতে বাধ্য হচ্ছে?
অথবা ভেবে দেখুন তো, সে খেতে বসার সময়-ই মাংসের কেজি প্রতি মূল্য বেশি বিধায় তার না খাওয়ার কারণে আপনার টাকার অপচয় হবার দোষ চাপানো কি আদৌ জরুরী?

এই উদাহরণগুলো সরাসরি আমার জীবন থেকে নেয়া যে তা কিন্তু না। আমাদের সবাই-ই কম বেশি এধরণের আচরণের শিকার হয়েছি নিজের বাসায়ই। হ্যাঁ, এই এত বড় হয়ে যাবার পর হয়ত বা মনে হতে পারে এরকম আচরণ করা তো বাবা-মা-দের জন্য খুবই স্বাভাবিক, বাবা-মা-রা এরকমই হয়ে থাকেন। কিন্তু একটু যদি আপনার স্মৃতির খাতায় চোখ বুলিয়ে যান তাহলে হয়ত খেয়াল করবেন তাঁদের এরকম আচরণের ফলে আসলে কোন পরিবর্তনই হয় নি আপনার অভ্যাসের, কিংবা হলেও খুবই সামান্য, নগন্য। এর অর্থ অবশ্যই তাঁরা যে প্রথা অবলম্বন করে আসছেন এত যুগ ধরে, তার চেয়েও ভাল কোন উপায় আছে সন্তানকে তার জীবনে ছোট ছোট ভুলগুলো শুধরে দেবার।

আমি জানি না আমি কেমন বাবা হব। আমি এও জানি না বাবা হবার সৌভাগ্য হবে কী না, কারণ ভবিষ্যতের কথা আসলেই কেউ বলতে পারেন না। তবে একটা ব্যাপার আমি হলপ করে বলতে পারি, আমি এমন বাবা হব না যে তার সন্তানকে নিজের ঘরে, নিজের একমাত্র অভয়ারণ্যে কোণঠাসা করে ফেলবে। না, আমি আমার সন্তানের সবচেয়ে ভাল বন্ধু হতে চাই না, সেটা অসম্ভবের কাছাকাছি। আমি আমার সন্তানের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হতে চাই।
*অভিভাবক* *সন্তান* *বাবা* *মা* *সম্পর্ক* *প্যারেন্টিং* *অভিবাবক*

নিমীলিত নীলা: একটি বেশব্লগ লিখেছে


বেশিরভাগ অভিভাবকদের প্রত্যাশা গগনচুম্বী। নিজেদের সফলতার উত্তরাধিকার অথবা বিফলতার ক্ষত ভরাট করতে প্রত্যাশা নামক চাপটা সন্তানদের মাথাতে চাপিয়ে দেন। তাঁরা একটা বারও চিন্তা করেন না, সন্তানের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কতটুকু, মেধার কতটুকু সে ব্যবহার করতে পারে। বাবা অথবা মা ডাক্তার তাই সন্তানকেও ডাক্তার হতে হবে। বাবা অথবা মা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন নি, তাই সন্তানকে যে কোনো মূল্যে ইঞ্জিনিয়ার বানাতেই হবে!! (চিন্তাকরি) (ব্যাপকটেনশনেআসি)

সন্তান কী চাচ্ছে?? ডাক্তার হওয়ার জন্য রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানে তার আগ্রহ কেমন? অথবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য গণিত অথবা পদার্থে সে কেমন পারদর্শী? এই প্রাথমিক বিষয় গুলি অভিভাবকগণ পাত্তাই দিতে চান না। (না) (মাইরালা)

হ্যাঁ, এটা ঠিক যে একটি ১৬/১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীর পক্ষে ক্যারিয়ার এবং পরবর্তী জীবন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে পড়াশুনার বিভাগ পছন্দ করা সম্ভব নয়। কারণ তখনও তারা অভিভাবকদের মত বাস্তব জীবন যুদ্ধ সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিবহাল না। কিন্তু যে ছেলেটা হিসাববিজ্ঞান বোঝে না তাকে কমার্স পড়ানো অথবা যে মেয়েটা গণিত বোঝে না তাকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোর চিন্তা ভাবনা সম্ভবত সেই ছেলে/মেয়ের জন্য আত্মঘাতী! (চুপ)

ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রত্যাশাকে মস্তিষ্ক সবসময় চাপ হিসাবেই নেয়। সেই চাপ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিতে পারে!! (হাইতুলি)
*প্রত্যাশা* *চাপ* *অভিভাবক* *সন্তান* *পড়াশুনা* *সফলতা* *বিফলতা*

পাগলী: ‘আমাদের অভিভাবকেরা একেকজন প্রতিভার ঘাতক, যে ছেলেমেয়ের আইনস্টাইন হওয়ার কথা, বাবা-মা তাকে বানাতে চান ইঞ্জিনিয়ার, যার রবীন্দ্রনাথ হওয়ার কথা, অভিভাবকেরা তাকে বানিয়ে ফেলেন ডাক্তার।’ (অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ)

*সেরামবচন* *অভিভাবক* *ঘাতক* *ডাক্তার* *ইঞ্জিনিয়ার*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★